গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

সেখ সাহেবুল হক

ঈদের সময় ঈদকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান টিভিতে প্রায় থাকেই না। নিদেনপক্ষে ধর্মীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরা বা ঈদের আড্ডা টিভি চ্যানেলগুলোতে বসে না। ঠিক যেমনভাবে দুর্গাপুজোয় হয়। বিভিন্ন নামী পুজোর ইতিহাস ইত্যাদি নিউজ চ্যানেলগুলো তুলে ধরে, কিন্তু নামী মসজিদের ঈদের নামাজের ইতিহাস বা হেভিওয়েট নেতা কিংবা সেলিব্রিটিরা কোথায় নামাজ পড়লেন সেভাবে প্রকাশ্যে আসে না। কোনও প্রথমশ্রেণীর দৈনিক ঈদ সংখ্যা বের করে না! দু একটি ফিচারেই দায়সারা সান্ত্বনা পুরস্কার।

চণ্ডীপাঠের সুর বাজে চারিদিকে, কিন্তু “রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” গানটাও রেডিওতে বাজে না।

ঈদের নানান রেসিপি নিয়ে রান্নার শো গুলোর খুব মাতামাতি নেই। পুজোয় ছুটি বেশি, ঈদে দুদিন ছুটি দিলেই তোষণ থিওরি চলে আসে। সরকার প্রতিমা বিসর্জন সংক্রান্ত দূষণ নিয়ে যতটা চিন্তিত, কুরবানিতে তেমন ব্যবস্থা নিলে অনেক অভিযোগের অবকাশ থাকে না। এইসব বহুকালের ব্যক্তিগত অভিযোগ স্বজাতি বাঙালীর কাছে, বাঙালী হিসেবে খানিক আত্মসমালোচনার।

ঈদ নিয়ে মিডিয়ার হইচই নেই, বিজ্ঞাপনদাতাদের দাপাদাপি নেই, এমনকি জরুরী খবর ছেড়ে উৎসব কভার হয় না। যদিও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে ভাইচারার জায়গাটা থাকে।

মুসলমানরা পুজোয় অঞ্জলি দেন না ঠিকই, মুসলিমদের সহযোগিতাপূর্ণ অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। অথচ দুঃখের বিষয় সেটিকে উপপাদ্য আকারে প্রমাণ করতে হয়। কখনো মন্ডপে টুপিওয়ালা কিশোরের ছবি, কিংবা মন্ডপের সামনে কর্মরত দাড়িওয়ালা মুসলমান বৃদ্ধের ছবি সহকারে বর্ণনা দিয়ে। নতুন করে প্রমান করার কিছু নেই! পশ্চিমবঙ্গের অনেক পুজোর কমিটিতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ বহুকাল থেকেই। সারা পশ্চিমবাংলার পাশাপাশি মুসলিম প্রধান এলাকা গাডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজ এলাকায় মুসলমানরাই পুজোর দায়িত্ব নেন।

মণ্ডপসজ্জায় জন্য শিল্পীর ইন্টার্ভিউ নেওয়ার পাশাপাশি কুটিরশিল্পীদের বাড়ি গিয়ে উঁকি মারলে দেখা যাবে গরীব মুসলমান বাড়িতে তৈরী হচ্ছে দেবীর অলংকার, কেশদাম, নকল অস্ত্রসস্ত্র ইত্যাদি। জামাকাপড়ের পাইকারি ব্যবসার অনেকটাই মুসলিমদের হাতে থাকে। মেটিয়াবুরুজের হাটে গেলে অনুধাবন করা সম্ভব। সেই জামাকাপড় ব্যবসায়ী মারফত ছড়িয়ে পড়ে হাওড়ার হাটে, কাকদ্বীপ থেকে কাঁথিতে। পুজোটাকে ধর্ম হিসেবে না দেখে উৎসব হিসেবে শামিল হওয়া মুসলমানরা বলেন - “চাঁদা দিই, উৎসবের জন্য। হইহুল্লোড় হবে, মানুষ খুশি হবে। এতে সমস্যা কোথায়। আমার নিয়েত ফিস্ট হিসেবে দেখা, মূর্তিপূজা নয়…”।

কলেজ পড়ুয়া হোন বা চাকুরিজীবি, ধর্মটাকে ধর্মের জায়গায় রেখে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ান। এই উৎসবমুখর মেলামেশার সুযোগ দুর্গাপুজো করে দেয়। পুজোর সাজসজ্জা, আলোর রোশনাই সবার। রোলে কামড়, চাউয়ে ডিমের কুচি, বন্ধুর বাড়িতে রাতে থাকার মধ্যে দারুণভাবে মিশে যাওয়া যায়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ বা মন্ডপে আশা ভোঁসলের ‘কথা হয়েছিলো’ গানের আবেগ হিন্দু মুসলমানে পৃথক হয় বলে জানা নেই। পুজোর মন্ডপে গানের জন্য সারাবছর অপেক্ষা। কৈশোরে রেডিওয় সনৎ সিংহের গান, স্কুলে ‘আয় রে ছুটে আয় পুজোর গন্ধ এসেছে…’ গানে বাচ্চাদের নাচ, তাতে ধর্ম খুঁজতে বসা সাম্প্রদায়িকতার নামান্তর।

প্রীতমের পুজোর প্ল্যান অসম্পূর্ণ থাকে সইফকে ছাড়া। পূজাবার্ষিকীতে তৈমুর খান কবিতা লেখেন, তৌসিফ হকের আঁকার জাদুতে প্রচ্ছদে জীবন্ত হন দশভুজা, নুসরাত জাহানের সিনেমা আসে, পুজো উদ্বোধন করেন উস্তাদ রশিদ খান। স্কুলে আগমনী সংখ্যা সম্পাদনা করতে গিয়ে পেয়েছি একরাশ শিউলির ছুঁয়ে যাওয়া, কাশেদের দলবদ্ধ নাচ, ঢাকের বাদ্যি...। অন্তমিলের ছড়ায় বাঙালী সংস্কৃতি।

পুজো আসলে বিপুল কর্মসংস্থান, কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার ছুতো, আড্ডা-তর্ক-গান, নতুন উপন্যাসে বুঁদ হয়ে যাওয়া। যা উটকো নাক সিঁটকানির বাইরে সব সংস্কৃতিকেই কাছে টেনেছে। দেবীর টানা চোখ বা সাজসজ্জায় মুগ্ধ হওয়া মধ্যে ধর্ম নেই, যদি থাকে এক অমোঘ সৃষ্টি। সেই সৃষ্টিতে হানাহানি নেই, বিজেপি-আর.এস.এস নেই, তোষণ-সিদ্দিকুল্লাহ নেই। মন্ডপের ভিড়ে দাঁড়িয়ে বুকের রেডিওয় বেজে ওঠে - “মাতলো রে ভুবন…”। এই শ্রদ্ধা শিল্পকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা। এখানেই দুর্গাপুজোর ব্যাপকতা আর বিস্তার।

তুলনামূলকভাবে দুর্গাপুজো এবং ঈদে গ্রহণযোগ্যতায় বৈষম্য অস্বীকার করার জায়গা নেই। ঈদুজ্জোহায় (কুরবানি ঈদ) গোমাংসের উপস্থিতি অমুসলিমদের সমস্যার কারণ। কিন্তু ঈদুল ফিতর নিয়েও হিন্দুসমাজ সহযোগিতা বা অংশগ্রহণের দিক থেকে ততোটাও স্বতঃস্ফূর্ত নয়। লাচ্ছা-সিমুইয়ের দাওয়াত ছাড়া ঈদকে শিল্পের পর্যায়ে তুলে ধরতে ব্যর্থ বাঙালী সমাজ। অনেক হিন্দুভাই রাস্তায় আধঘণ্টা ঈদের নামাজে প্রকাশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করেন, কিন্তু মুসলিমভাইরা রাস্তার ধারে প্যান্ডেল বা টানা মাইক বাজানো নিয়ে অভিযোগ করেন বলে জানা নেই। বিদ্বেষকারী বিচ্ছিন্নতা এড়াতে দুটো ধর্মের উৎসবে আরো বোঝাপড়ার রাস্তাই আসল সমাধান। গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত মুসলমানদের একটা অংশের মধ্যে ‘পুজোয় যাব না’ এমন মানসিকতা বিরল। কিছু না হলে মেলা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই মিলনসূত্র মুক্তচিন্তার মানুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। গ্রামের ফতেমা বিবির মণ্ডপে আসা হয়ে ওঠে না, আব্বাসউদ্দিন পুজোয় খেলনা বিক্রি করলেও তার কাছে পুজোটা ব্যবসার সময়, উৎসব নয়।

বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া বাঙালীয়ানা, বাঙালী জাতির নিজেস্বতার বাতি জ্বেলে রেখেছে। সিরিয়াল, বাংলা সিনেমার গানের লিরিক্সে, বিজ্ঞাপনে যখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিন্দি আগ্রাসন। দুর্গাপুজো বাঙালী উৎসব সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। সাম্প্রতিককালে পুজো নিয়েও নানান অবাঙালী ফতোয়া শুধু অবাঙালী কালচারের অনুপ্রবেশ নয়, বাঙালী কালচারে হস্তক্ষেপের অপচেষ্টা।

দুর্গা, গনেশ, কার্তিক, লক্ষ্মীরা এই বাংলায় কোনওদিনই মাটির অবয়ব হয়ে রয়ে যাননি। উৎসব ফুরিয়ে গেলে দুর্গা আমার বন্ধুর মা, কখনও লক্ষ্মী আমার পরিচিতা বোন, গণেশ আমার মেসের বন্ধু। নিজেই কতবার প্রেমিকার কাছে ক্যাবলা কার্তিক হয়েছি। বারেবারে জীবন্ত হয়ে উঠেছেন এইসব নাম। মর্তে এসে সংসার করে ধন্য হয়েছেন দেবতারা। মানবজন্ম নিয়ে আমাদেরও ধন্য করেছেন। দুর্গা আসেন আনন্দের চারটে দিন নিয়ে, ফিরে যান চারপাশ খালি করে। ঠিক যেন বাঙালী মেয়ের ছেলেপুলে নিয়ে বাপের বাড়ি ঘুরতে আসা। ব্যস্ত উড়নচণ্ডী স্বামীটি অফিসের কাজে আসতে পারেননি। এই সাংসারিক যোগসূত্র দুর্গাপুজোকে জীবনের সাথে জুড়েছে। ‘আসছে বছর আবার হবে’ কথাটিতেই অপেক্ষার প্রহর গোনা।

পুজোকেন্দ্রীক মানুষের উন্মাদনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ নেই। তবুও এই কর্মকাণ্ড কিছু অংশে পয়সাওয়ালাদের। মুর্শিদাবাদ থেকে ছুটে আসা ঢাকিরা দুটো পয়সার জন্য খুশি হতে পারেন, কিন্তু তাঁদের পুজো অন্যরকম। হতদরিদ্র পরিবার, পথশিশুদের কাছে উৎসবের সংজ্ঞা আলাদা। সমাজের দলিত এবং নিম্নবর্ণের গরিবের পুজো আজও ক্ষুধার উপাসনাতেই কাটে। সাঁওতাল শ্রেণীর মানুষের পরব নিয়ে হাতেগোনা বাঙালী আগ্রহ দেখান। দুর্গাপুজোকে পুরোপুরিভাবে সার্বজনীন হতে গেলে সর্বস্তরের মানুষকে কাছে টানা প্রয়োজন। তবেই দেবীর ত্রিশুলে বাড়তে থাকা অনাচার, দুর্নীতি, বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির ধ্বংস সম্ভব।

পুজোর সাথে মহরমকে জুড়ে যতোই সাম্প্রদায়িকতার উন্মাদনা ছড়ানো হোক বা রাজনৈতিক ফায়দার চেষ্টা হোক, উৎসবের উপচে পড়া আজও ভিড়ে মানুষের স্রোত দেখা যায়। একডালিয়া, ম্যাডক্স, মহম্মদ আলির ভিড়ে আলাদা করে যেদিন হিন্দু মুসলমান চেনা যাবে সেদিন বাঙালীর উৎসব বলে কিছু থাকবে না।

#হককথা



কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 11 -- 30
Avatar: aranya

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

abc লিখেছেন - 'ঈদের ছুটি চার দিন হওয়া প্রয়োজন। তাহলে ঈদকে কেন্দ্র করেও একটা সাংস্কৃতিক আয়োজন গড়ে উঠবে ধীরেধীরে।'

- ইসলামে তো গান বাজনা, মূর্তি গড়া, ছবি আঁকা নিষিদ্ধ। যাত্রা, নাটক ইত্যাদি-ও কি নিষিদ্ধ? তা হলে কিন্তু সাংস্কৃতিক আয়োজন গড়ে ওঠা মুসকিল।


Avatar: aranya

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

অবশ্য সাহিত্য হতে পারে
Avatar: Du

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

সেরকম নয় যদ্দুর জানি। তাহলে বাংলাদেশে হচ্ছে কি করে? টিভিতে অনুষ্ঠান শুরু করা উচিত। বহু আগে দুর্দশন কিন্তু মুশায়রা কি মুস্লিম ফ্যামিলি সিনেমা দিত টিভিতে ঐসময়।
Avatar: B

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

"ইসলামে তো গান বাজনা, মূর্তি গড়া, ছবি আঁকা নিষিদ্ধ।"
*******************
সত্যি?!?!
জলসা নামক বস্তুটি তো ইসলাম ধর্মাবলম্বীদেরই দান বলে জানতাম। এত গজল, এত এত শায়র, তাঁদের শায়রী, এত বিখ্যাত প্রখ্যাত গাইয়ে-বাজিয়ে উস্তাদেরা কি ইসলাম ধর্মবিরোধী কাজ করে এলেন এতদিন ?!?!

এই মন্তব্যের উপর কোন ইসলাম ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির মতামত পেলে ভালো হ'ত।
Avatar: B

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

অথবা ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন রীতি-রেওয়াজের বিধি-নিষেধের জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির মতামত পেলে জানা যেত।
Avatar: aranya

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

গাইয়ে-বাজিয়ে উস্তাদেরা ইসলাম ধর্মবিরোধী কাজ করে এসেছেন বলেই কট্টর মুসলিমরা মনে করেন। যে জন্য বাংলাদেশে ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ সাহেবের বাদ্যযন্ত্র রাখা ছিল তাঁর স্মৃতিধন্য যে বাড়িতে, সেই বাড়িটি পোড়ানো হয়, কিছুদিন আগে
Avatar: B

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

Sanket Haque on 29 September 2017 21:21:02 IST 113.217.228.83 (*)
"................................
এই চেতনা আসলে সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদের নরমপন্থী শাখার (Low Intensity Fascism) প্রতিনিধি।
****************************************
"নরমপন্থী ফ্যাসীবাদ" এবং Soft communalism-জাতীয় শব্দবন্ধগুলো যেন কিরকম সোনার পাথরবাটি-র মত শোনায় আমার কানে; মানে নরম, নরম করতে করতে কতদূর গেলে নরমত্বকে কঠিনত্ব বলে ঠাহর হবে? অথবা communalism-এর Softness কোন পর্যায়ে গেলে Hard communalism বলে চেনা যাবে, বোঝা যাবে?
ততদিনে দেরী হয়ে যাবে না তো?

ইদানীং আনন্দবাজার-এর মত অসাম্প্রদায়িক বলে সাধারণতঃ পরিচিত কাগজেও এক-আধজন প্রতিবেদক আসছেন, লিখছেন, যাঁরা যথেষ্ট softly সুড়্সুড়ি দিচ্ছেন, ইন্ধন জোগাচ্ছেন। দুঃখের বিষয় এরকম একটি, দুটি নিবন্ধ এখানে, গুরু-র পাতাতেও লিঙ্ক দিয়ে উদ্ধৃত হতে দেখেছি।
Avatar: aranya

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

সাহেবুল-এর মূল লেখাটা ভাল লাগল, কিছু পয়েন্টে ঠিক বিরুদ্ধ মত নয়, অন্য মত আছে, পরে লিখব। সাহেবুল-এর সব লেখাই পড়েছি, সময়ানুপযোগী এবং ভাল।

সাংস্কৃতিক বিনিময় , মেলামেশা হওয়া দরকার, তবে সেটা ধর্মের ওপরে উঠে বা ধর্মকে অগ্রাহ্য করে, ধর্মের বাইরে বেরিয়ে, মানুষকে তার ধর্মীয় পরিচয়ে আদৌ না দেখে, শুধু মানুষ হিসাবে দেখে যদি করা যায়, তাহলেই তা টেঁকসই হবে, আমার মতে। না হলে বাইরের উস্কানিতে দাঙ্গা হওয়ার বা সংখ্যালঘুর ওপর অত্যাচার হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাবে।
Avatar: B

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

"ইসলাম ধর্ম বিরোধী"বলে লেখা বক্তব্যের স্বপক্ষে লিখতে গিয়ে বাংলাদেশের কিছু লোকের কিছু গোষ্ঠীর কোন কাজের উদাহরণ, আপনার মত সাধারণতঃ যুক্তিবাদী লেখকের প্রতিবেদনে দেখে বিস্মিত হলাম। এই ধরণের ঘটনার উদাহরণকে কোন ধর্মের স্বীকৃত নিদান বা বিধান বলা যায় না বলেই মনে হয়। তাহলে ভারতে উগ্র আরএসএস-পন্থীরা, বা যে কেউ, যখন তখন যা যা ঘটনা ঘটাচ্ছে, সেই সব ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়ে হিন্দু-ধর্মের নিদান-বিধান বলে চালানো যায় কি?

অনুরোধ, এটিকে ব্যক্তিগত স্তরে বিতর্ক বলে ধরে না নিলেই বাধিত হব।
Avatar: B

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

উপরের লেখাটি 'অরণ্য'-কে সম্বোধন করা।
Avatar: aranya

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

@B, আমার দেওয়া উদাহরণ-টা ইসলামের স্বীকৃত নিদান বা বিধান অবশ্যই নয়। ধর্ম অবমাননাকারীকে শাস্তি আল্লা দেবেন, তার ঘরে অগ্নিসংযোগ ইসলাম স্বীকৃত নয়। কিন্তু যে শাস্তি আল্লার দেওয়ার কথা, তা কট্টরপন্থীরা নিজেরাই দিচ্ছে, বোধহয় আল্লার কাজে সাহায্য করার জন্য, যদিও আল্লাতালাকে সাহায্য করাটা ক্ষুদ্র মনুষ্যের পক্ষে স্পর্ধা মাত্র।

ইসলামে গান-বাজনা, মূর্তি তৈরী, ছবি আঁকা ইঃ যে বারণ, এটা মোটামুটি সকলেই জানে বলে আমার ধারণা ছিল, দেখছি তা নয়।

আমার বন্ধুর বোন ইসলাম ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করেছে, ইসলাম ধর্ম/দর্শন, ইসলামের ইতিহাস ইঃ ব্যাপারে স্কলার হিসাবে বেশ নাম আছে, কিছুদিন আগে সৌদি আরবে ইসলামিক ধর্ম সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। গান বাজনা ইঃ যে ইসলাম বিরোধী, এটা তার কাছেও শুনেছি।

এও শুনেছি যে অ-মুসলিম মানেই কাফের, নাপাক ইঃ। তাকে জিগিয়েছিলাম, আমি ধরে নাও ভাগ্যের ফেরে হিন্দু ঘরে জন্মেছি, জন্মের ওপরে তো আমার কোন হাত নেই, তাহলে আমি কাফের কেন। উত্তর ছিল - জন্মের ওপর তোমার হাত নেই, কিন্তু বড় হয়ে ইসলামিক সাহিত্য, কোরান এসব তো তুমি পড়তেই পারতে, সেটা তো তোমার ইচ্ছা ধীন। তা যদি না পড়ে থাক, বা পড়েও যদি তুমি ইসলামের মাহাত্ম্য বুঝে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না কর, তবে তুমি পাপী, মৃত্যুর পর দোজখেই তোমার স্থান।

খেয়াল করতে হবে, মৃত্যুর পর শাস্তিটা কিন্তু আল্লা দেবেন । আইসিস বা কোন কট্টর পন্থী-কেই নিজের হাতে বিধর্মী-কে কোন শাস্তি দেওয়ার অনুমতি আল্লা দেন নি।
Avatar: PP

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

"ইসলামের স্বীকৃত নিদান বা বিধান" এগুলো ঠিক কে বা কারা দেয়? পুরোটাই তো শুনি তুরস্কের খলিফাদের মস্তিক্প্রসূত। আর যারা ব্যাখা দেয় তারাও কোরানের আয়াত তুলেই দেয়। যদি বলেন ভুল ব্যাখা দেয় তো তাহলে বলব টেক্স্ট টাই দুর্বল। হাজার রকম মানে হয়। ফুল লতাপাতা আঁকা নিষিদ্ধ নয় বলেই জানি কিন্তু মূর্তি গড়া বা মূর্তির ছবি আঁকা নিষিদ্ধ। গান বাজনার ব্যাপার টা সঠিক জানি না তবে ঐ খাবারের মত হালাল হারাম এর লিস্টি আছে কিছু।

"এত গজল, এত এত শায়র, তাঁদের শায়রী' এগুল ইসলামের আগে ছিল না?

"এও শুনেছি যে অ-মুসলিম মানেই কাফের, নাপাক ইঃ। তাকে জিগিয়েছিলাম, আমি ধরে নাও ভাগ্যের ফেরে হিন্দু ঘরে জন্মেছি, জন্মের ওপরে তো আমার কোন হাত নেই, তাহলে আমি কাফের কেন। উত্তর ছিল - জন্মের ওপর তোমার হাত নেই, কিন্তু বড় হয়ে ইসলামিক সাহিত্য, কোরান এসব তো তুমি পড়তেই পারতে, সেটা তো তোমার ইচ্ছা ধীন। তা যদি না পড়ে থাক, বা পড়েও যদি তুমি ইসলামের মাহাত্ম্য বুঝে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না কর, তবে তুমি পাপী, মৃত্যুর পর দোজখেই তোমার স্থান।" মানে আমাদের মান না হলে মর।
"মৃত্যুর পর শাস্তিটা কিন্তু আল্লা দেবেন" মৃত্যু টা আইসিস বা কোন কট্টর পন্থী দেবেন ;)
Avatar: π

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?


সেকি, ঈদের এত গান আছে যে! সাহেবুলের ঈদের লেখাতেই বিস্তারিত ছিল।

আর আজ এটা পড়লাম,



The Muharram processions controversy also got me talking to some local Muslims. Almost all of them corroborated what I had been thinking. The enthusiasm about Muharram that I had seen growing up, seems much diminished now. Bear in mind that Bengal, to begin with, doesn’t have a big Shia population (the mourning procession of Muharram is, primarily, practised by Shias though some Sunni sections do participate). The average young Muslim in Bengal, slowly but steadily, is trying to move away from overt religiosity for various reasons. At least among the Sunnis, a lot of youngsters are questioning the legitimacy of such displays of faith — in part due to increase in awareness of their own text and literacy in general; leading, crucially, to the germs of a middle-class, the lack of which has historically crippled the social mobility of the community. The BJP isn’t expected to understand such socio-political nuances (or maybe they know it all too well).

http://indianexpress.com/article/opinion/columns/mamata-banerjee-west-
bengal-durga-idol-immersion-bjp-basirhat-riots-hope-in-an-egg-roll-486
6102/


পুরো লেখাটাই ইন্টারেস্টিঙ্গ।

আর নাম লেখার জায়গা আসছেনা, নিগ্ঘত সাহেবুলের নামে পোস্ট হবে।
আমি পাই।
Avatar: nilanjan sayed

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

সাহেবুলের লেখাটা খুব ভাল ।কিছু জায়গায় সামান্য আপত্তি আছে।
হিন্দু মুসমানের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে।পরস্পর ধর্মীয় উৎসবে যোগ দেওয়া সব জায়গায় সমান ভাবে নেই।কেন নেই,কি করা যেতে পারে-কাওকে এব্যাপারে দোষ দেওয়া দেওয়া যেতে পারে কিনা এব্যাপারে -আমি মনে করি এটা নিয়ে গভীর পড়াশুনো,ইতিহাস বোধ আমার নিরপেক্ষতা ইতাদির উপর এই আলোচনা চলতে পারে।এটার ব
আমার নিজস্ব মতামত দেওয়া ঠিক নয়।আমি সমাজ সংস্কারক নই।
পুরো ব্যাপার টা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এই জায়গাটুকু ছাড়া আমার খুব ভাল লেগেছে লেখাটা...

Avatar: Rabaahuta

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

আটলান্টায় দেখতাম পটেল প্লাজায় বিশাল ইদ ধমাকা ডিসকাউন্ট সেল, আলো টালো দিয়ে সাজিয়ে। খুব ভীড়ও হতো, স্বাভাবিকভাবেই সেই ভীড়ের কোন নির্দিষ্ট ধর্ম নেই। কিছু সার্ভেপত্র নিশ্চয় করেছে, কোন ইভেন্টে ব্যাবসা ভালো হবে। কি একটা টিভি চ্যানেলেও ইদ উপলক্ষে খুব অ্যাড দিচ্ছিল বিশেষ প্রোগ্রামের, রমজানের সময়। তো এরা কি আর অন্যদের থেকে বেশী সমাজসচেতন ইত্যাদি, মার্কেট সার্ভে নিশ্চয় বলেছে এই করলে ব্যাবসা ভালো হবে। যেমন দেওয়ালীর সময় হয়, শীতের ছুটিতে হয়। বাণিজ্যে বসতি নিরপেক্ষতা মনে হয়।
Avatar: সিকি

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

দুবাইতেও একই গল্প। ঈদ উপলক্ষ্যে যত বড় ধামাকা সেল মলএ মলএ, দিওয়ালি উপলক্ষ্যেও তাই।
Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

ইদ চারদিন কেন চুয়াল্লিশ দিন হলেও কোনও ব্যতিক্রম হবে না। সরস্বতী পুজো কদিন হয়? দোল? রথ? কালীপুজো? অথচ ওই দিনগুলোতে মিডিয়ার ব্যস্ততা এবং আদিখ্যেতা সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায়। আষাঢ় মাসে বেরোনো পুজোসংখ্যা দিব্যি শারদ সাহিত্য হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত ইদানীং রংধনু নিয়ে মুসলিম তোষণের অভিযোগ উঠেছে। অথচ যে ‘রংধনু’ শব্দটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে, সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে সেটি সাকুল্যে চারবারের বেশি নেই! ওই সপ্তম শ্রেণির গণিত বইয়েই কিন্তু প্রথম ৭৬ পৃষ্ঠার মধ্যে ৪৮ বার গনেশবাবু, দীপ্তার্ক, রাতুল, রুমেলার পাশাপাশি ফরিদ, নাফিসা বা সীতারা বেগম আছেন মাত্র ১৫ বার আর জোসেফ-এর উল্লেখ ঘটেছে মাত্র একবার। আমরা এতেই দীর্ঘদিন অভ্যস্ত কারণ আমরা উজ্জ্বলবাবু, সুহাসবাবু, বিনয়বাবুদের চিরকাল আমিনুর চাচাদের ওপর বাবুগিরিই দেখতে চাই। আর এর সামান্যতম ব্যত্যয় ঘটলেই ‘মৌলবাদীদের চাপ’ অনুভব করি। কিন্তু ক্লাস সেভেনের একটা বাচ্চা যদি ভাবে যে ‘উজ্জ্বল’ নামটার পরে বাবু-ই বসে আর ‘আমিনুর’-এর পরে চাচা তাহলে তাকে দোষ দেওয়া যাবে? আসলে আপত্তিটা হল যা কিছুতে আমি অনভ্যস্ত, যার সাথে আমি অপরিচিত সেসব আমার পছন্দসই হতে পারে না।

বাংলা উপসর্গ সংক্রান্ত যে কোনও ব্যাকরণ বই খুলুন। সেখানে কুড়িটা সংস্কৃত উপসর্গ জ্বলজ্বল করছে। তার পাশে 'বে' (বেইমান, বেইজ্জত, বেতাজ) উপসর্গটিকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে 'বিদেশি' উপসর্গের খোপে! তার মানে ওই উপসর্গযোগে সৃষ্ট সমস্ত শব্দ বিদেশি!!
Avatar: পাই

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

এই তর্কটা এখানে থাক। সিকির দেওয়াল থেকে শুরু হয়ে গ্রুপে।

https://www.facebook.com/groups/guruchandali/permalink/186254878709639
2/

Avatar: অ

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

সাহেবুলের পোস্ট বেশ কিছু ভাবনা এবং প্রশ্ন উস্কে দিয়েছে। একে একে নিজের মনে হওয়া কথাগুলো বলি।কিছুটা আশকথা পাশকথাও আসবে।
১) কলকাতাকেন্দ্রীক বাজার এবং রাষ্ট্র উদযাপিত বাংলা উৎসবগুলো কি প্রধানত 'হিন্দু' উৎসব?
- হ্যাঁ। কিন্তু তার ঐতিহাসিক কারণ আছে। কৃষিভিত্তিক এবং ঋতুকালিক প্রাচীন ভূমিজ সূত্রের কারণেই প্রধানত। ইসলামী কিম্বা খ্রিষ্টীয় উদযাপনের কৃষিভিত্তিক বা ঋতুকালিক সূত্র কম। কাজেই সেগুলো পপুলার হওয়ার সম্ভাবনা এমনিতেই একটু কম।

২) এতে কি সংখ্যাগুরুরা এডভান্টেজ পান?
- অতি অবশ্যই পান। প্রচুর পরিমাণেই পান। দুর্গামণ্ডপের ফিতে কাটেন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি। ঈদের সমবেত প্রার্থনায় সেইরকম কেউ গেলেই চট করে তোষণের কথা উঠে যাবে। যদিও বড়দিনে কেক কাটলে চলবে। সাহেবরা কাটতে শিখিয়েছেন কিনা।

৩) কলকাতার দিকের বাঙালিদের মধ্যে ঈদ কবে দুর্গাপূজার ইকুইভ্যালেন্সি পাবে? আদৌ পাবে কি?
- আমার মতে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। ঈদ পেতে পারে নববর্ষ কিম্বা পশ্চিমা দিওয়ালি কিম্বা হোলির ইকুইভ্যালেন্সি। এর কারণ উদযাপনের দিনগত পরিসর। রমজান+ফিতরের ঈদ মিলিয়ে প্রায় একমাস কিন্তু তার মধ্যে একটা আনম্র ত্যাগ এবং শ্রদ্ধাবান সম্বরণের পরিমণ্ডল। এইটা কখনওই ছয় সাতদিন ব্যাপী তুমুল হট্টগোলের কলকাতাইয়া দুর্গাপূজা উপলক্ষের যে উদযাপন তার কাছাকাছি আসবে না। বাজারের চোখেই বলছি কথাটা। এবং এই কারণেই কলকাতার বাজার ঈদ নিয়ে সেই আদিখ্যেতা করেনা যা করে দেবীপক্ষ নিয়ে। শবেবারাত আর মহালয়া কম্পেয়ারেবল কিন্তু মহালয়া ফুটেজ খেয়ে বসে আছে তার মর্ণিং এলার্মের কারণে। মহিষাসুরমর্দিনির প্রভাবে আপাত শোকের দিন ক্যামোন ঝলমলে হয়ে পড়েছে দেখুন! তবে এটাকে এক্সেপশনই ধরতে হবে।
যেখানে দুর্গাপুজো নেই সেখানে কিন্তু দিওয়ালি, ধন্তেরাস বা ঈদকে সমমান্যতা পেতেই হবে। তা হয়েছেও।

৪) দুর্গাপুজো বা দোল কি বাঙালি অ'হিন্দু'দের উৎসব হতে পারেনা? এগুলোতে অংশীদার হতে গেলে কি সংখ্যাগুরুর ক্ষমতাকেন্দ্রীকতা কুর্ণিশ করা হয়?
- অবশ্যই এইগুলো সমস্ত বাঙালিদেরই উৎসব। নিরীশ্বরবাদীদেরও। তবে উদযাপনের মাত্রা এবং ভেদ অতি অবশ্যই ব্যক্তি মানুষের ওপর নির্ভরশীল। আমি য্যামোন আস্তিক দেবীভক্ত হয়েও দেবীপক্ষ পড়লেই হাঁস্ফাঁস করে উঠি।কলকাতা ছেড়ে পালাই।দশমী পার না হয়ে এমুখো হইনা। উদযাপন চলে মনে মনে :-)
ঠিক ত্যামোনই সব বাঙালিরই উৎসব হতে পারে শবেবারাত কিম্বা ফিতরের ঈদও। ঈদ মানেই গাণ্ডেপিণ্ডে বিরিয়ানি সাঁটা নয় ঈদিতে গিয়ে। রমজানব্যাপি অর্ধদিবসের অরন্ধন কিম্বা শবেবারাতে পিতৃপুরুষের প্রতি নমনকেও 'হিন্দু' বাঙালি গ্রহণ করতেই পারেন।হ্যাঁ এখানে বাজারের পুশ নেই।প্রতিবেশীর প্রতি সন্দেহ আর 'ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না' ভাব কমালেই এগুলো গ্রহণ করা যায়। মুসলিম বাড়িতেও কোজাগরী কিম্বা পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে আলপনা কিম্বা পিঠে বানানো ঢুকে পড়তে পারে।দ্বিতীয়টা গ্রামেগঞ্জে আমার মনে হয় ঢুকে পড়েছে স্বাভাবিক ভাবেই।
এই সমগ্র দেওয়ানেওয়াতে বাজার সাহায্য করছে নিজের অজান্তেই। দুর্গাপুজো কিম্বা বলিউডি ছবির হোলি কিম্বা ঈদ উদযাপনের বিজ্ঞাপন ভোগবাদের পতাকা ফড়ফড়ালেও ছুত্মার্গ ভাঙতে এসব দিব্যি কাজের।

৫)শরীয়তি ইসলাম মতে গানবাজনা বা আলঙ্কারিক উৎসব উদযাপন কি বাধা?

- এর উত্তরে সবার আগে বলতে হয় যে দুনিয়াব্যাপী মুসলমানচরিত্র মোটেই একমাত্রিক নয়। আরবী দীন মেনে সমস্ত মুসলমান দৈনন্দিন জীবন চালান না। ইন্দোনেশিয়া,পাকিস্তান,কলকাতা কিম্বা কানাডার মুসলমান গতকাল খেজুর খেতে খেতে উটে চড়ে মদীনা থেকে আসেননি। কাজেই উপাসনা পদ্ধতিতে ইসলাম মানলেও নিজের আঞ্চলিক চরিত্র সবাই আলাদা আলাদা করেই ফলো করেন। এটাই স্বাভাবিক।
দ্বিতীয় কথা হোলো কোরাণের নানারকমের ভাষ্য প্রচলিত। মূল শব্দের প্রয়োগ ভাষ্য এবং রূচি অনুযায়ী পৃথিবী জুড়েই ভিন্নতর। কাজেই মোটেই বলা যায়না কোরাণে সঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক চর্চা নিষিদ্ধ।
কোরাণে সঙ্গীতের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে বলে চিহ্নিত চারটে আয়াতের উদাহরণ এখানে দেবো। আরবী স্কলার নই অতএব তথ্যসূত্র নানারকমের অনলাইন অভিধান।

ক) সুরা হজ, তিরিশ নম্বর আয়াত(২২.৩০)
Such (is the Pilgrimage): whoever honours the sacred rites of Allah, for him it is good in the Sight of his Lord. Lawful to you (for food in Pilgrimage) are cattle, except those mentioned to you (as exception): but shun the abomination of idols, and shun the 'word that is false'( Zoor)..


খ) সুরা মুমিনুন, তিন নম্বর আয়াত(২৩.৩)
And they who turn away from 'ill speech'(Laghwi)


গ) সুরা ফুরকান, বাহাত্তর নম্বর আয়াত(২৫.৭২)
And [they are] those who do not testify to falsehood, and when they pass near 'ill speech'(Laghwi), they pass by with dignity.

ঘ) সুরা লুখমান, ছয় নম্বর আয়াত(৩১.৬)
But among men there is many a one that prefers a 'mere play with words' (Lahw)to divine guidance so as to lead those without knowledge astray from the path of God, and to turn it to ridicule: for such there is shameful suffering in store.

প্রতিটা আয়াতেই দেখুন যে বিশেষ শব্দের এক ভাষ্য হচ্ছে সঙ্গীত সেইগুলো যথাক্রমে হচ্ছে-
Zoor
Laghwi
Laghwi
Lahwa

অনলাইন আরবী-ইংরাজি অভিধানে এগুলোর মানে পাচ্ছি - ভ্রান্ত, মিথ্যা,বানানো- এইসব। গানবাজনা অর্থে এই শব্দ বুঝেছেন কোনো কোনো ভাষ্যকার।আর কেউ কেউ বোঝেননি।
অতএব এ নিয়ে জলঘোলার মানেই হয়না। গীতার সাংখ্যযোগে মনে করুন পুষ্পের মতন কথার সমাহার দিয়ে সাজানো গোজানো বিশাল বিকট যজ্ঞীয় কর্মকান্ডের নিন্দা যে করা হয়েছে তাতে গীতাভক্তদের পুষ্পপ্রীতি কিছু কম হয়েছে কী! হওয়ার তো কথাও নয়।
যদি ঝাপসা ভাব কাটিয়ে ধরেও নিই কোরাণে এইসব শব্দ আলঙ্কারিক শিল্পকলা নিয়েই বলা হয়েছে তবেও তৎকালীন আরব সমাজের দাসদাসী নফরচাকর নিয়ে দিবারাত্র গানবাজনা, জুয়ো,মদ সম্বলিত বিলাসের ক্রিটিক টেক্সটকেও আজকে পড়তে হয় সমসাময়িক চোখ দিয়েই।বিশ্বজুড়েই মুসলমানরা মোটের ওপর তা পড়েনও।
কাজেই শেষকথা হোলো উৎসবের রঙ যাই হোক তা সবার জন্যেই। বাধা নয় কোনো কিছুই।অবশ্যই আরও নানা উৎসব আসুক এই মিলনে। এবং সাথে সাথে লুকিয়ে এবং দেখিয়ে সংখ্যাগুরুর সুবিধে পাওয়াগুলোও চিহ্নিত হতে থাকুক।


Avatar: পাই

Re: সাংস্কৃতিক বিনিময়, নাকি আগ্রাসন?

২ ৫ এ একমত।

বাকিগুলো নিয়ে বলছি।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 11 -- 30


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন