মিত্রর পত্র

অভিজিত মজুমদার - অনুবাদ সায়ন কর ভৌমিক

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র মোদী মহাশয় সমীপেষু,

গত আটই নভেম্বর ২০১৬তে ডিমনিটাইজেশন ঘোষণা করতে গিয়ে আপনি এই কথা গুলো বলেছিলেন-

  • আজ এই ৮ই নভেম্বর রাত বারোটার পর থেকে দেশবিরোধী ও অসামাজিক কাজকর্মে যুক্ত ব্যক্তিদের জমিয়ে রাখা সমস্ত পাঁচশো আর হাজার টাকার নোট বাতিল কাগজের টুকরোয় পরিণত হবে।
***************************

তা, আজ প্রায় তিনশোদিন পরে দেখা যাচ্ছে ঐ ৯৯% 'মূল্যহীন কাগজের টুকরো' আবার মহামূল্য টাকাতে বদলে গেছে। এই উপলক্ষ্যে আপনার সেই সময়ে দেওয়া কয়েকটি মর্মস্পর্শী বক্তৃতা ফিরে পড়া যাক।

নীচে গোয়াতে ১৪ই নভেম্বর আপনার দেওয়া ভাষণের অংশবিশেষ।

  • প্রিয় দেশবাসী, আমাকে মাত্র ৫০ দিন সময় দিন। আমি এর বেশি আর কিছু চাই না। যদি এরপরও আপনাদের কোন অসুবিধে থেকে যায়, তাহলে যে কোনো ভাবে, যে কোনো পাড়ার মোড়ে ধরে আমাকে শাস্তি দেবেন।
  • এই পঞ্চাশ দিনের সাফাই অভিযানের পর কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত মশাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
  • আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না কি ধরণের তথ্য আমাদের সামনে আসছে। যারা এতদিন একটি আধুলিও গঙ্গায় উৎসর্গ করেনি, তারাই এখন টাকার তোড়া নদীতে ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
  • আমি নির্দেশ দিয়েছি দু'লাখ টাকার বেশি দামের গয়না কিনতে গেলে প্যন কার্ড দেখাতে হবে। অর্ধেকের বেশি সাংসদ এতে আপত্তি করেছিলেন। অনেকে লিখিত আপত্তিও জানিয়েছেন। যেদিন সেই লিখিত আপত্তিগুলি আমি জনসমক্ষে আনবো, সেইদিনের পর থেকে ঐ সাংসদরা হয়তো তাদের নির্বাচনী ক্ষেত্রে আর ঢুকতে পারবেননা।
  • দরিদ্র দেশবাসীর জন্যে আমি রূপদান করবো উন্নততর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও বয়স্কদের জন্যে বিনামূল্যে ওষুধ বিষয়ক প্রকল্প সমূহের।
***********

৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৬, ডিমনিটাইজেশনের ৫৩ দিন পরে আপনার ভাষণের অংশবিশেষ

  • ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিকে ফিরিয়ে আনাই আমার লক্ষ্য। (অর্থাৎ পঞ্চাশ দিন কেটে যাওয়ার পরেও অসুবিধে রয়ে গেছে)
  • মিত্রোঁ, আজ সারা পৃথিবী মেনে নিয়েছে যে সন্ত্রাসবাদ, নকশালপন্থা, মাওবাদ, জাল টাকার কারবার, ড্রাগ ব্যবসা,মানব পাচার - এই সব নির্ভর করে কালো টাকার ওপর। ডিমনিটাইজেশন এইসব কালো ধান্দার মূলে জোরদার আঘাত করেছে।
  • গত কিছুদিনের ঘটনাক্রম প্রমা্ণ করেছে যে দুর্নীতিগ্রস্তদের পালাবার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
****************

আজ সেই বহুপ্রতীক্ষিত ও বহুপ্রতিশ্রুত ৫০ (x ৬) দিন পর আমাদের দেশ দুর্নীতিগ্রস্ত মশা থেকে মুক্ত, গঙ্গা নদীতে বইছে পবিত্র টাকা, বয়স্কদের ওষুধের জোগান নিশ্চিত, সন্ত্রাসবাদ, নক্শালপন্থা, মাওবাদ, জালটাকার বাণিজ্য, ড্রাগ ব্যবসা, মানব পাচার সব কিছু উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, এখন দয়া করে সেই 'অর্ধেকের বেশি সাংসদ', যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার যুদ্ধকে বাধা দিয়েছিলেন, তাদের নাম গুলো প্রকাশ্যে আনুন। দুই তৃতীয়াংশের বেশী সাংসদ তো আপনারই জোটের। দয়া করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন তাদের ওপর। অন্তত আপনার ঘরের সাংসদদের ওপর তো বটেই। ইংরেজীতে কথাই আছে, চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম, তাই না?

ইতি
আপনার পরম মিত্র




Avatar: প্রতিভা

Re: মিত্রর পত্র

হ্যাঁ, তাদের নাম প্রকাশ করা হোক। এই জোরালো পত্রটির সঙ্গে একমত।
Avatar: রৌহিন

Re: মিত্রর পত্র

কালো টাকার ওপরে নাকি সার্জিকাল স্ট্রাইক হয়েছিল। ঠিক যে দক্ষতায় আমাদের সেনা ডোকলামে সার্জিকাল স্ট্রাইক করে এসেছে


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন