নট ইন আওয়ার নেম

প্রতিভা সরকার

অল্পের জন্য দু দুবার মব লিঞ্চিং বা গণধোলাইয়ের হাত থেকে বেঁচেছি। মানে দেখার হাত থেকে। একটি গতকাল ট্রেণের কামরায়, আর একটি দূর শৈশবে।

আমার মফস্বলে মদনমোহন বাড়ির সামনে এক উদোম পাগলি আপনমনে থাকতো। নাম মনে আছে পানিয়াল পাগলি। কাউকে দেখলে আঁধলা ইট নিয়ে তেড়ে যেত। সঙ্গে অকথ্য গালাগাল। একবার সেই ইট কারো কপাল ফাটালে পানিয়ালকে ঘিরে ধরে শুরু হল কিলচড়লাথি। এত কষ্ট তা দেখা যে ছোট্ট আমি বাবার হাত টেনে টেনে ঝুলছিলাম,

-বাবা,ওদের থামতে বল না।

এগিয়ে যাচ্ছিলাম, ও কাকু, কাকু, ও তো পাগলি, কিছু বোঝে না।

পাগলিদেরও যে রেহাই মেলে না সেটা ভিডিও ভাইরাল না হলে এখনো বিশ্বাস করতাম না হয়তো। যাইহোক জনতা জনার্দনের জঙ্গী মনস্তত্ত্ব তখনও এতো জান্তব হয়নি, নাকি পাড়ার মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপেই, ঠিক মনে নেই, ভিড়টা দ্রুত পাতলা হতে শুরু করল। 

বাবা আমায় সরিয়ে নিয়ে যাবার আগে একবার পানিয়ালকে দেখেছিলাম,পা ছড়িয়ে থেবড়ে আছে মাটিতে। পুরো মুখ ফোলা আর লাল। ডান হাতটা মোচড়ান কিনা কে জানে, তবে খসা আঁচলের ওপর বেজায় বেকায়দায় পড়ে ছিল সেটা।

সদ্য রেহাইটা সব খাঁজখোঁজ নিয়ে টাটকা গেঁথে আছে মনের ভেতর, যেন শূকরীমাংসে ঢোকানো গরম শিকের ছ্যাঁতছোঁত আওয়াজের আক্রোশ।

পর্শু থেকে ট্রেনে ছিলাম। আমি আর আমার সঙ্গিনী বছর পনের ষোলোর এক মেয়ে। রাত আটটা নাগাদ একজন উঠলেন অন্ধ্রপ্রদেশের কোন স্টেশন থেকে। অনেক বাক্সপ্যাঁটরা আর অল্পবয়সী চিবুকে লম্বা কালো দাড়ি। ফোনে খুব কথা বলছিলেন, তাই জেনে গেলাম উনি কোন মাদ্রাসাশিক্ষক। ধর্মপ্রাণ। কোন কারণে কাজের জায়গায় অশান্তি হওয়ায় ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। বিহারের কাটিহারে।

ওখানকার আটজন সহযাত্রীর বাকিরা পুরুষ। কোন ধর্মের আমি জানি না। শুধু যিনি পরিত্রাতা রূপে আবির্ভূত হবেন তার পাঁচ আঙুলে পাঁচটা আংটি আছে দেখেছিলাম। দুটো ছেলে, ত্রিশের এপারে, নিজেদের মধ্যে হিন্দিতে কথা বলছিল, শুনে মনে হচ্ছিল শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষাফেরত। প্রত্যেককেই তো ঠিকঠাক লেগেছিল, ভদ্র, সাহায্য করায় আগ্রহী।

এইখানে একটু নিজের কথাও বলি। ফেসবুকে আমার জাগতিক কিছু পাবার নেই। যারা মেসেঞ্জারে জিগায় তাদের জানাই বই লিখিনি, কখনও লিখবো কিনা সন্দেহ। সমাজকল্যাণের টুকটাকের সুবাদে আদালতেও ডাক পাই বটে, তবে একেবারেই বলার মতো নয়। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে শর্তই আছে সেসব কেউ জানবে না। আমার বন্ধুতালিকা থেকে তারা মিটিমিটি হাসি ছুঁড়ছেন হয়ত, তা হাসুন, কিন্তু তারাও জানেন আমি এক্কেবারে নামহীন, মানে যশহীন, রূপহীন, সাদামাটা এক মহিলা,যার লড়াইগুলি একেবারেই নিজস্ব, ফলাও করে বলবার মতো নয় একেবারেই। লক্ষের মধ্যে একজন বললেও বেশি বলা হবে।

একথাগুলো বলা দরকার ছিলো, কারণ তা না হলে এখন যা বলবো তাতে রজ্জুতে সর্পভ্রম হতে পারে।

গোল বাঁধলো যখন এই শিক্ষক এক বিশাল হাতব্যাগ থেকে ততোধিক বিশাল এক এলুমিনিয়াম ফয়েল বার করে খেতে বসলেন।

তার আগে অবশ্য আমাদের অনেক আলাপ হয়ে গেছে। ফোনে নামাজের আজান আসছে, আর এতো ঘুপচিতে উনি নামাজ পড়তে পারছেন না, এই নিয়ে দুঃখ করলে আমি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে বলেছি, ঠিক আছে, মনে মনে পড়ে ফেলুন না। 

মা আর ঠাকুরঘরে যেতে পারেনা বলে দুঃখ করলে আমি তাকেও এইরকমই বলি। 

অন্তত সাতবার সহযাত্রীটি আমায় জিগিয়েছেন ট্রেনটা কত লেট করবে।কারণ হাওড়া থেকে শেয়ালদা গিয়ে তবে ওকে হাটেবাজারে এক্সপ্রেস ধরতে হবে। আমায় গ্রাম্য সরল ভঙ্গীতে বোঝাচ্ছিলেন কেন এসি কামরাই ভালো। গরম নেই, ভিড় না, সিট নিয়ে দখলদারিও না। আরামসে চলে যানা।

আমারও মজা লাগছিল ওর কথা শুনতে। কারণ ধার্মিকে আমার কোন এলার্জি নেই, যতক্ষণ না ধার্মিক হয়ে উঠছে সন্ত্রাসী আর গণহত্যাকারী। অতি ধার্মিক এবং বকধার্মিকের সঙ্গ পরিহার করি বটে তবে সেটা মতের অমিল এবং ঝগড়ার ভয়ে। এই বিশাল দেশের কোণে কোণে ঘুরে দেখেছি ধর্মের অমোচনীয় ছাপ। সত্তর শতাংশ বা তারও বেশি মানুষকে ত্যজ্য ভাবার দুঃসাহস আমার নেই। ফলে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এই বিশ্বাসেই স্থির আছি। আর সমান নিস্পৃহ নজরে দেখি সব জাতের ধার্মিকদের। একজন টিকিওয়ালা, কাষায়বস্ত্র পরিধান করে উঠলেও আমি এইভাবেই তার সঙ্গে গল্প করতাম।

তো গোল বাঁধলো ঐ এলুমিনিয়াম ফয়েলের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই। চারপাশ ভরে গেল গোলাপজলের সুবাসে আর ভাই আমার খেতে শুরু করলেন। এরপর পেটমোটা ব্যাগটি থেকে ঘন জাফরানরঙা ছোট ছোট মাংসের টুকরো ছড়িয়ে দিতেই আবার গন্ধের হুল্লোড়। 

অল্পবয়সী ছেলেদুটো নড়েচড়ে বসল, চোখ হয়ে গেল ছুরির মতো ধারালো,

- ক্যায়া খা রহা হ্যায় আপ ?

শিক্ষকটির মুখে ফুটে উঠল একটা বোকা, ভ্যাবলা হাসি। সত্যি তো, আমার টিফিন বক্সে উঁকি মেরে কেউ যদি ধমকায়, কী খাচ্ছেন, আমি কি ভোম্বল হয়ে যাবো না ! আরো দু'জন আতিশয্যে উঠে পড়েছেন। এরা বাঙালী। চোখ হাসিতে ঝিকমিক, রগচটাদের প্রশ্রয় দিয়ে বললেন,

--গোস্ত খাচ্ছে দাদা। কোন সন্দেহ নেই তায়। আরে পাবলিকমে কিঁউ খাতা হ্যায় রে ?

এই ছেলেদুটোর আরো বন্ধুবান্ধব আছে ভেতরে। ওদের মুখের শক্ত রেখা আমাকে মনে করিয়ে দিল পানিয়াল পাগলির কথা। মাংসে লেগে ফিরে আসা দুমদাম প্রহারের আওয়াজ।

কী করছি নিজে বোঝবার আগেই একটুকরো মাংস উঠে এলো আমার কাঁপা হাতে। কোন স্বাদ পাইনি, তবু দাঁতে কেটে কড়া গলায় বললাম,

-চিকেন, অনলি চিকেন।

এবার এগিয়ে এলেন সেই আংটিধারী ব্যবসায়ী,

--আরে কে কী খাবে তোমাদের কৈফিয়ত দিতে হবে ! দেখছ তো ভদ্রমহিলা টেস্ট করে বললেন মুরগি। বস সব নিজের জায়গায়।

বিশাল ছ' ফুটের ওপর দেহটা একটা আড়াল হয়ে দাঁড়ালো শিক্ষক আর ছেলেদুটোর মাঝখানে।

সারারাত ঘুম এলো না। নড়াচড়ায় বুঝলাম শিক্ষকও ঘুমোননি। এই গ্রামীণ মানুষটি কাগজ পড়েন কিনা জানি না। নেট ব্যবহার করেন না। জানেনও না বোধহয় যে রাষ্ট্রের নজর এখন তার খাবার প্লেটে। অজান্তেই তিনি এখন গণধোলাইয়ের আদর্শ শিকার।

ছেলেগুলো ভোররাতে নেমে গেল উড়িষ্যায়। পরদিন দুপুরে উনি শুকনো মুখে খেলেন কেবল গোলাপ-গন্ধী রাইস। সেই জাফরানি মাংসখন্ডগুলিশুদ্ধ ব্যাগটাকেই বিসর্জন দিয়ে এলেন টয়লেটের সামনের ডাস্টবিনে।

আড়াইঘন্টা লেটে ট্রেন এলো হাওড়াতে। সন্ধে সাড়ে ছটা। দৃশ্যত বিহবল মানুষটাকে বললাম,

-চলুন, শেয়ালদার পাশ দিয়েই যাব আমি।

ভরসা করে এলেন। নামবার সময় হাজার সুক্রিয়া আর হলুদ আলোয় চোখের কোণ যেন চিকচিক।

ওঁর অনুমতি নিইনি বলে ইচ্ছে করেই মাথাকাটা ছবি দিলাম।

এবার একটু হুঁশিয়ারি। ছোট্ট ---

নট ইন আওয়ার নেম। নেভার।

 




Avatar: অভিষেক

Re: নট ইন আওয়ার নেম

এই কিছুদিন আগে কলকাতায় গায়ত্রী চক্রবর্তী এক সভায়, সবার জীবনে সাহিত্যমর্ম ডেকে আনার কথা বলেছিলেন। গণতন্ত্রের এ এক অনিবার্য প্রয়োজন।
সাহিত্য মানে কিন্তু লিটারেচার নয়।একদম ব্যুৎপত্তি মানা অর্থ। ঠিক যেখান থেকে সহিত/সাথে শব্দ এসেছে।
জীবনের অন্দরে সবাই এই মর্মকে ডেকে আনলে তবেই যাওয়া যায় আর এক জনের একদম ঠিক পাশে। সেই আর এক জনের ভিন্নতা,উচ্চতা কিম্বা নিম্নতা ছাপিয়েও তার পাশে চলে যাওয়ার ক্ষমতা না থাকলে গণতন্ত্রের রূপরেখার প্রসব এবং ডাগর উপস্থিতির চিন্তাও কল্পনা মাত্র।এমন কথা বলেই গায়ত্রী কিন্তু এও জানান যে পুঁথিগত বিদ্যে ছাপিয়ে এই সাহিত্যমর্ম অনুধাবন করা সহজ নয়। দীর্ঘ দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে তবে এ লক্ষ পরিস্ফুট হয়।ধারণ তো তারপরে।
প্রতিভাদিরা সেই পথের দিশারী। মহাজনদের সব কথা সব সময় সাধারণ মানুষ বুঝিনা। উদাহরণ লাগে। ওপরে যা পড়লাম তার চেয়ে সরল উদাহরণ এই মুহূর্তে আশপাশে খুব বেশী দেখিনা। নিছক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিভাদিকে ছোটো করা হয়। তাই সেটা আলাদা করে জানালাম না।
Avatar: kihobejene

Re: নট ইন আওয়ার নেম

ghotona gulo janano ebong jana dorkar. dhonyobad apnaake. ebong apanar shahosikotai - onner plate theke tuk kore tule taste korlen? ami to bodhoi bondhu -r plate theke tultei 10 bar bhabbo :-) katha ta moja kore bollam bote, kintu apnar instant action -er prosonghsha korte hoi ... prothom-e bhebechilam apni darun ekta boktita toktita diye unmatto jonota ke thamiyechen .. pore dekhlam a very smalle gesture went far .. bhalo thakun r erokom aron ghotona janan
Avatar: aranya

Re: নট ইন আওয়ার নেম

নট ইন মাই নেম, নট ইন আওয়ার নেম - হক কথা। প্রতিভা-কে প্রশংসা করে ছোট করব না। ওর মত মানুষ এখনও দেশে আছেন বলেই, আজও আশা করতে ভাল লাগে
Avatar: amit

Re: নট ইন আওয়ার নেম

দিনকাল এমন হয়ে যাচ্ছে, প্রতিবাদ করতেও ভয় হয়। নিজের একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা বলি ছ মাস আগে। আগেই বলে রাখি আমি নিজে একেবারে ভীতু মানুষ ।
বেশ কয়েক বছর পর দেশে বেড়াতে গেছি এই December এ। দঙ্গল মুভি গমগম করে চলছে তখন সিনেমা হল এ। বাড়ির সবাইকে নিয়ে দেখতে গেলাম। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য, যে ওদের ভালো লাগবে। ওখানে হলে হিন্দি ছবি দেখার সুযোগ জোটে না একদম। যাই হোক , শুরুতে জনগমন শুরু হলো , সবাই উঠে দাঁড়ালাম, জানি না এতো দেশ ভক্তির প্রমান কেন প্রত্যেক কে দিতে হয়। যে দেশের নাগরিক আমরা এখন, দিব্যি তো ক্রিকেট মাঠে ইন্ডিয়া কে সাপোর্ট করি , কেও তো কিছু বলে না । রেসিজম কি নেই , খুব আছে , কিন্তু সেসব অন্য কথা , দেশ ভক্তির প্রমান দিতে হয়না অন্তত।
যাই হোক , শুরুর জনগমন এর পালা চুকলে দেখা শুরু হলো । গোল বাঁধলো শেষের দিকে , যখন (যারা দেখেছেন তারা বুঝবেন) মেয়েটি মেডেল জেতার পরে মুভিতে জনগমন বাজানো হলো । আশে পাশে দু একজন উঠেছিল , বাকি বেশির ভাগই বসে ছিলুম , হটাৎ করে একটা বিস্রী চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হলো যে কেন সবাই উঠে দাঁড়াচ্ছে না । গোলমাল শুরু হতে সব তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ালাম , কিন্তু একটা বিরক্তিকর অনুভূতি এলো । ছবি শেষ এর পরে আর ঝামেলায় জড়ানোর ইচ্ছে ছিল না , বিশেষ করে টিন এইজ মেয়েদের নিয়ে । তাই সোজা বাড়ি ।
Avatar: amit

Re: নট ইন আওয়ার নেম

একটা অদ্ভুত কনফুসিওন লাগে আজকাল । এমন নয় যে আমি পুরোপুরি মোদী বিরোধী রাজনৈতিক, যা বলবে সেটাকেই বিরোধিতা করতে হবে মমতার মতো। আমার মনে হয় ডিমনি হোক বা GST , এগুলোর বেশ কিছু ভালো দিক আছে এবং যথারীতি কিছু সমস্যাও আছে। ইমপ্লিমেন্ট করার সমস্যা বিশাল, কিন্তু হয়তো ধীরে ধীরে সেগুলো উন্নতি করবে। বহু দেশেই GST দেখেছি আর মনে হয়েছে মাল্টিপল ট্যাক্স রেজিম এর থেকে সেটা হয়তো ভালো। এসব নিয়ে টেকনিকাল আলোচনা করতে ভালো লাগে , হয়তো কিছু জানার সুযোগ হবে এই আশায় ।

কিন্তু এখন যেটা চিন্তা হয়, কোনো কিছু নিয়ে টেকনিক্যালি আলোচনা করতে গেলেই সেটা আর টেকনিকাল থাকে না, রাজনৈতিক হয়ে দাঁড়ায়। সোজাসুজি হয় মোদী ভক্ত বা মোদী বিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া হয় , এই করতে গিয়ে বেশ কিছু বন্ধু বিচ্ছেদ হয়ে গেছে । অন্তত যাদের সাথে আমার যোগাযোগ বেশি ঘটে , তারা নিজের বিষয়ে ভালো পারদর্শী আর অভিজ্ঞ (আমার মতো দু একটা অযোগ্যকে বাদ দিলে ) । কিন্তু তারা যখন বিষয় ছেড়ে রাজনৈতিক ভাট এর আশ্রয় নেন , কেমন যেন ইতিহাসের পাতায় পড়া 30-s Germany এর দিনগুলো মনে পড়ে ।

আর এই গরু খাওয়া নিয়ে আলোচনা একটা অদ্ভুত রকমের প্যানিক রিঅ্যাকশন হয়ে যাচ্ছে বিদেশে বাসিন্দাদের মধ্যে , বিষয়টা বলতেই ভয় লাগে আজকাল ।
Avatar: b

Re: নট ইন আওয়ার নেম

অমিতবাবু, আসলে তো সবটাই পলিসি। পলিসি হলে সেটা পলিটিক্যাল হতে বাধ্য।

আর ধন্যবাদ। ঐ ছ ফুটের না দেখা মানুষটাকেও। ওনাকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। আর ঐ দুটো রবীন্দ্রনাথ মারানো বাঙালীকেও।

Avatar: তির্যক

Re: নট ইন আওয়ার নেম

আক্ষরিক অর্থে গায়ে কাঁটা দিল। ভয়ে না বিস্ময়ে না আনন্দে জানি না। চিরসাথী আলসেমিকে বাদ দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে পারলাম না। প্রতিভাদির মুখ আমার চেনা। উনি আমাকে চেনেন না তাই এই আবেগটা প্রকাশ করা আরও সহজ হল।

মনে পড়ে গেল কয়েক বছর আগের কথা। স্থান যাদবপুর এইট বি মোড়। সময় সন্ধে ছ'টা। একটি ছেলেকে অটো ওআলারা ধরে মারছিলেন। ব্যস্ত পথচারীরা নির্বিকার মুখে চলে যাচ্ছিলেন, যেমন যান। একেবারে ক্ষীণ চেহারার একজন ভদ্রমহিলা, ৬৫ র কাছাকাছি বয়স, কি হচ্ছে কি হচ্ছে বলে সেই ভীড় ভেদ করে গিয়ে ছেলেটির ওপর জাস্ট শুয়ে পড়েছিলন। দু-চার ঘা মার ওঁর ওপরেও পড়েছিল কিন্তু ভীড়টা হালকা হয়ে যায়। রাস্তার ওপার থেকে ততক্ষণে কেউ পুলিশ ভ্যানও ডেকে আনে। উনি ধুলো ঝেড়ে শাড়ি গুছিয়ে নিজের কাজে চলে যান। ঘটনার সময় আমি ছিলাম না, পরে শুনেছি। ভদ্রমহিলা একজন বিজ্ঞানী, নাম ড্ক্টর মঞ্জু রায়।
সেদিনও এইরকম গায়ে কাঁটা দিয়েছিল।
Avatar: Du

Re: নট ইন আওয়ার নেম

ভগবান ! Kই করে দিলো দেশটাকে। #notinmyname.never>
Avatar: PT

Re: নট ইন আওয়ার নেম

রবীন্দ্রনাথ সঠিক বলে গিয়েছিলেন রামের জন্মস্থান কোথায়
যারা তা মানতে চায় না
তদের কবিতা ও গানে, শিল্পে ও মনোসুষমায় কোনো অধিকার নেই
যারা পুতুল দেবতা মানে না, তারা ভুলে যায়
মসজিদ গীর্জা গুরুদোয়ারাগুলিও আসলে পুতুল
তারা আত্মছলনাময় পুতুল খেলা খেলতে চায় তো খেলুক
তারা বিশ্ব নিখিলের মধুরে মধুর চিনবে না কোনদিন!
এতগুলো শতাব্দী গড়িয়ে গেল, মানুষ তবু ছেলেমানুষ থেকে গেল
কিছুতেই বড় হতে চায় না
এখনো বুঝল না যে “আকাশ” শব্দটার মানে
চট্টগ্রাম বা বাঁকুড়া জেলার আকাশ নয়
মানুষ শব্দটাতে কোন কাঁটাতারের বেড়া নেই
ঈশ্বর নামে কোন বড়বাবু এই বিশ্বসংসার চালাচ্ছেন না
ধর্মগুলো সব রূপকথা
যারা সেই রূপকথায় বিভোর হয়ে থাকে
তারা প্রতিবেশীর উঠোনের ধুলোমাখা শিশুটির কান্না শুনতে পয় না
তারা গর্জনবিলাসী, অনুভব করতে পরে না ঐকতান
কিছু কিছু মানুষ আমাদের সাবালক করার জন্যে মাথা খুঁড়ে গেলেন
তাদের বড় বড় ছবি ঝোলানো হয়, তাদের গ্রাহ্য করেনা কেউ
আয় কানাই, আয় কামাল, তোরা আয়
পৃথিবী ভর্তি বুড়ো খোকাদের পাগলামি দেখে
আমরা একটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করি!!

একটা গাছতলায় দাঁড়িয়েঃ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন