গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

রেজাউল করিম

 অমর্ত্য সেন বলেছেন "monumental blunder", আমাদের দেশের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে হতাশ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের এই দীর্ঘশ্বাসে আমরা শঙ্কিত হয়ে উঠি। হাসপাতালের সামনে  মুমূর্ষু রোগীর অন্তহীন প্রতীক্ষা, জরুরি বিভাগে মৃতপ্রায় মানুষের শয্যার জন্য হাহাকার, সম্ভ্রমহীন চিকিৎসা পরিষেবা ও সর্বোপরি রোগী-চিকিৎসক সম্পর্কের পারস্পরিক আস্থাহীনতা - এই নিয়ে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা। পীড়িত মানুষ হাসপাতালের কাছে একটি সংখ্যামাত্র, যা  ভিক্টর হুগোর কয়েদী চরিত্রটি মনে করিয়ে দেয় "I am not a man. I am a number"। চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ তাই সর্বত্র। চিকিৎসকের তথাকথিত অমানবিকতার কাহিনিও তাই যে মানুষের মুখে মুখে ফিরবে তা কোন অত্যাশ্চর্য রূপকথা নয়, এ চূড়ান্ত বাস্তব। এই "অমানবিকতা ও স্বার্থপরতা" কি চিকিৎসাব্যবস্থার ত্রুটি নাকি স্বাস্থ্যকর্মীদের এ সহজাত অভ্যাস ? তারা কি মানবিক মূল্যবোধের উচ্চতর আদর্শ থেকে  পতিত হয়েছে, তারা কি উচ্চবর্গের প্রাণী? নাকী তারা এক অলীক স্বপ্নরাজ্যের অধিবাসী, যেখানে মূল্যবোধের অভাবই শাশ্বত সত্য!! সংবাদপত্র চিকিৎসার ময়না তদন্ত করে - কী করলে একটি মানুষ বাঁচতে পারতেন কিন্তু হৃদয়হীন চিকিৎসকের নিষ্ঠুরতার বলি হয়ে অকালে চলে গেলেন, তার মর্মস্পর্শী উপাখ্যানে নিজের অজান্তে চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। বিচারক-মন ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ব্যাকুল হয়ে ওঠে। প্রয়োজনীয় কিন্তু ব্রতচ্যুত এই ক্রুর চিকিৎসক-নামক প্রাণীটিকে একাঘ্নী বাণে বিদ্ধ করবার জন্য নিজেকেই অর্জুন বলে ভাবতে ইচ্ছে করে!  তাৎক্ষণিক বিচারে দোষী সাব্যস্ত এই পাপীদের শাস্তি মনে  আনে অদ্ভুত প্রশান্তি, বিপন্নতাবোধও কি একটু কমে! দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা আদতে একটি ব্যবসা, ধনী আর দরিদ্রের ব্যবধান সেখানে দৃষ্টিকটুভাবে প্রকট। চিকিৎসকরাও সেই ব্যবস্থার অঙ্গ। যে দেশে সংবাদপত্র ভরে কোন স্বাস্থ্যকর বাণী শোনা যায় না, যেখানে লুটপাট, ধর্ষণ, উচ্চপদাধিকারীদের নৈতিক পতনের রসালো বর্ণনায় আমরা অভ্যস্ত, সেখানে চিকিৎসককুল কী করে নিষ্কলঙ্ক থাকবেন তা ভাবা দুষ্কর। তবু যখন প্রিয়জন বিয়োগ-ব্যথা মেনে নিতে পারি না, ব্যবস্থার ত্রুটির চেয়ে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত বিচ্যুতি বড় হয়ে দেখা দেয়। মনে মনে ভাবি, চিকিৎসা-ব্যবস্থায় যেন এই বৈশ্য মনোভাব না থাকলেই সব নিখুঁত হত - নিষ্কলঙ্ক আয়েশার ভ্রুযুগলের একতিল খামতি হল এই ভণ্ড চিকিৎসকের উপস্থিতি।

আরও পড়ুন...

মনের টান থাকলেই ফোনে পেয়ে যাবি

সুব্রত ঘোষ

 হঠাৎই অফিসের কাজে জাপান চলে গেলাম। গৌতমদা বলল – এই যে তুই জাপান চলে যাচ্ছিস ... আমিও ইউরোপ চলে যাবো ভাবছি। খুব ভালোবাসতো আমাকে, আর আমিও। জাপানে পৌঁছে একদিন ফোন করলাম। গৌতমদা প্রচণ্ড এক্সাইটেড আমার ফোন পেয়ে, বলল –  সুব্রত, উফফ তুই কীভাবে বরফের মধ্যে ঘুরছিস ভাবতে পারছিনা! আচ্ছা শোন, এপ্রিলের ১৭ তারিখে যাদবপুর এ কনসার্ট আছে। চলে আসিস”। আমার যাওয়ারও কথা ছিল সেই সময় দেশে, তা কোনও কারণে পিছিয়ে গেলো। মিস করলাম কনসার্টটা। একটু খটকা লেগেছিলো, কী ব্যপার, ছন্দপতন হচ্ছে নাকি! আগে গৌতমদা বললে শত বাধা সত্ত্বেও অফিস কাটিয়ে ঠিক হাজির হয়ে যেতাম। শুধু যেতাম বললে ভুল হবে, এরকম হতো যে, হঠাৎই খেয়াল করতাম গৌতমদার সাথে ট্যাক্সি করে কনসার্ট করতে যাচ্ছি,আর, ফিরতাম এক সপ্তাহ পর। যাই হোক, সেবার দেশে ফেরার পর, সল্ট লেকে BE park এ গান আড্ডা হল আবার।আমি জাপান থেকে গৌতমদার জন্য একটা Pan flute কিনে এনেছিলাম (সেটা আজ ও আছে গৌতমদার ঘরে সাজানো), বলল যে নেক্সট অ্যালবামে ওটা ইউজ করবে। গৌতমদা was gifted in such a way যে কোন মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট প্রথম বার তুলে নিয়েই বাজাতে পারত। আর একসেট বিদেশি গিটারের স্ট্রিং। তা গৌতমদার তখন কোন গিটারই নেই! আসলে একটা করে গিটার কিনত আর গিটার শিখতে সদ্যআগ্রহী কাউকে দিয়ে দিত, তো বলল ঠিক আছে আরেকটা গিটার কিনবে কয়েকদিনের মধ্যেই, তারপর স্ট্রিংগুলো লাগাবে। সেই দিন আমাদের গান স্বাভাবিক ভাবেই চলল প্রায় রাত দুটো অবধি। যেমন চলত আর কী! তারপর আমরা আমদের এক বন্ধুর গাড়ি করে ট্যাক্সি ধরিয়ে দিলাম ফুলবাগান থেকে। বিদায় জানানোর আগে আমরা সেই প্রথম দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলাম। বোধ হয় আমি পরের দিনই জাপান চলে যাবো সেই জন্যেই হয়তো। বসন্তকালের সেই রাতে হুল্লোড় করতে করতে আমরা ফিরে এলাম, আর গৌতমদার ট্যাক্সি আস্তে আস্তে সেই ধূসর রাত্রে মিলিয়ে গেলো...

আরও পড়ুন...

নয়েজ আওয়ার

ন্যাশনালিস্ট 'গো'স্বামী

 গান্ধিজিকে অন স্ক্রিন এক হাত নিলেন ন্যাশনালিস্ট 'গো'স্বামী। 

আরও পড়ুন...

বেদবিরোধী গীতার বৈদিকায়ন এবং রামায়ণের অতীতযাত্রা

মাহবুব লীলেন

 তো কেদারনাথ মজুমদার পুরা রামায়ণখান দুর্ধর্ষভাবে বিশ্লেষণ কইরা সাইরা একটু মিন মিন কইরা যুক্তি দেখান যে রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে রামের গোসব যজ্ঞের কথা আছে কিন্তু গরু খাওয়ার কথা তো পাই নাই। মনে হয় এইটা বঙ্কিমের সেই বিশ্লেষণের ধাচেই পড়ে। আমরা বুঝতে পারি কেদারনাথ কেন সেইটা পাশ কাইটা যান বা কমজোর গলায় কন- না তো। নাই তো। গোসব যজ্ঞের কথা আছে কিন্তু গরুর মাংস দিয়া মাখাইয়া ভাত খাইবার কথা তো নাই। যাউকগা। রামায়ণ সমাজে গরু খাওয়ার প্রচলন তো আছিলই উল্টা গরুর মাংসটাই আছিল শ্রেষ্ঠ মাংস বইলা গণ্য। গরু খাওয়া বন্ধ হয় মূলত বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে…

রামায়ণ সমাজে গরু খাওয়া হইত না; গোসব যজ্ঞ কইরা মূলত মধু দিয়া রান্না করা গরুর মাংস গাঙে ফালায় দেয়া হইত দেবতাগো খাইবার লাইগা; এইসব কথা কেউ কইলে অন্যদিকে ধইরা নিতে হইব যে তিনি বা তিনারা রামের বয়স বুদ্ধদেবের থাইকা কমাইয়া নিয়া আসছেন। আর রামায়ণরেও কইরা দিতে চাইছেন বৌদ্ধ উত্তর সাহিত্য...

আরও পড়ুন...