গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

হ্যাপি মাদারস ডে

স্বাতী রায়

Mother’s Day.  দিনটাকে ভোলার কোন উপায় নেই। সর্বত্র মাতৃত্বের জয়গান। আর মাতৃবন্দনা। আমার কিন্তু এই দিনটাতে মাকে মনে কম পড়ে। তার থেকে বেশি মনে পড়ে নিজের সন্তানটিকে। মাতৃত্বের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না প্রথম সন্তান-জন্মের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। তবু সে এল। মেয়ে জন্মানর ঘণ্টাখানেক পরে যখন প্রথম কোলে দিল শিশুটিকে, আর আমার পরম ল্যাদখোর কন্যা একবার একটু অ্যাঁ করে মৃদু শব্দ করেই নির্ভয়ে চোখ বন্ধ করে আমার বুকে মাথা রাখলেন, একটা অনুভূতি এল মন ছেয়ে। এই শিশুটি তার আগামী কয়েক মাসের জীবন ধারণের জন্য পুরোপুরি আমার উপর নির্ভরশীল। একে দেখভাল করে টিকিয়ে রাখা আমার দায়িত্ব। এ আমার। এই ‘আমার’ বোধ থেকে জন্ম নিল ভালোবাসা। এই কি মাতৃত্ব?

বেশ মেতে উঠলাম শিশুপালন-পুতুলখেলা নিয়ে। অবশ্য মেয়াদ বেশি দিনের নয়। মোটে তো তিনমাস মাতৃত্ব ছুটি তখন। অফিসে যেতে হবে। এবার খোঁজ শুরু হল ধাত্রী-মার। এবং ভাবনাটা মাথায় এল তখনই। তাহলে এই যে শিশুটির খাওয়া-দাওয়া-ওষুধ-ভ্যাকসিনেশন বা মাঝরাতে কেঁদে উঠলে নিজের ঘুমের মায়া ত্যাগ করে তাকে দুলিয়ে দুলিয়ে ঘুম পাড়ান এগুলো দায়িত্ব হতে পারে, কিন্তু এর সঙ্গে সত্যিই কি মাতৃত্ব জড়িয়ে আছে? নাকি এই দায়িত্ব অন্য যে কেউ নিতে পারে? 

পরবর্তী সময়ে প্রমাণিত হল, মা ছাড়াও অন্যরা এ দায়িত্ব বেশ নিতে পারে। কোলের শিশুটিকে নামিয়ে রেখে যখন দেশান্তরে যেতে হয়, তখনও মায়ের কোল ছেড়ে মাসির আদরে শিশুটি ভালোই থাকে। এরপরে স্কুলে ভরতির পালা। এদিক-ওদিক স্কুলে স্কুলে ঘুরে যে জ্ঞানটা পেলাম, সেটা হল মায়েরা চাকরী করলে সেই সন্তানেরা মানুষ হয় না। অতএব কোন কোন স্কুল চাকরী করা মায়েদের সন্তান ভর্তি করে না। কেউ বা ইন্টারভ্যুতে মায়ের ডিউটি-আওয়ারস শুনলে সেই যে চোখ মাথায় তোলে, শিশুটি দরজা দিয়ে বেরনর আগে আর সে চোখ নিচে নামে না।  প্রশ্ন শুনলাম, how do you expect your daughter to grow up, if you do not give her time?  উত্তরটা জানা ছিল। কারণ আমি নিজে চাকরী-করা মায়ের মেয়ে। যদিও সত্যির খাতিরে বলতেই হয় আমার মায়ের অফিসিয়াল ডিউটি আওয়ারস আমার থেকে অনেক কম ছিল, কিন্তু সাংসারিক কাজের ঘণ্টা যে মায়ের অন্তহীন ছিল! সে খবরে কারোর প্রয়োজন নেই।  কিন্তু মোদ্দা কথা বুঝলাম, আমার মত ট্যাঁরা মা, যে সন্তানের স্কুলে ভর্তির মত মহান কাজের জন্য নিজের তুশ্চু চাকরী ছাড়তে রাজি না, সে রকম মা থাকাটাই স্কুলে ভর্তির জন্যে বিপদ। 

সব বাধা বিঘ্ন কাটিয়ে শিশুটি স্কুলে ভর্তি হল। এই বার পড়াশুনার পর্ব। দেখা গেল, ইস্কুলে মজার নিয়ম। বাড়িতে বই-খাতা দেয় না। কার বেশি মজা হল শিশুটির না শিশুটির মার তা বোঝা গেল না। বাড়িতে পড়াশুনার পাট নেই। শিশুটি নিজের মনে খেলা করে, গল্পের বই পড়ে। ব্যস মায়ের যে সর্বসম্মত দায়িত্ব, হোমটাস্ক করান, তার থেকে মায়ের ছুটি। আর একটু বড় হতে দেখা গেল, মায়ের থেকে মেয়ে বেশি জানে। পুত্র ( পুত্রীও নিশ্চয় হিসেবে ধরা যাবে) –এর কাছে পরাজয় সব সময় কাম্য বলে আমি তাকে শেখানর দায়িয়্ব থেকে রিটায়ার করলাম।  একটু চেষ্টা করেছিলাম তার extra-curricular activity র দায়িত্ব নিয়ে তার আত্মিক উন্নতি করানর। কিন্তু কাজের বেলায় দেখা গেল, কন্যার একটু বড় হয়েই আমার দুনিয়া থেকে সরে পড়ছেন। তার আর আমার জীবন-দর্শন অনেকটা রেল-লাইনের মতই  - পুরো সমান্তরাল, কোথাও কোন বিন্দুতে মেলে না। সেটা যে আমার বিশেষ খারাপ লাগলো তাও না। কে বলেছে আমার মেয়েকে আমার মতোই হতে হবে? কিন্ত আসল কথা যেটা, মায়ের ছাঁচে সন্তান তৈরি করাটা যদি মাতৃত্বের অনুসঙ্গ হয়, তাহলে আমার জীবনে আমি সেও দেখি নি। 

যাই হোক, শিশুটির স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খাওয়া, নাচের স্কুল, গানের ক্লাস, রাত্তিরের ঘুম - সবই বেশ মায়ের অনুপস্থিতিতে চলতে থাকল। এবং সেজন্য মায়ের মনে বিন্দুমাত্র অপরাধবোধও হল না। সন্তানের হোমটাস্কের খবর রাখার থেকে নিজের নতুন কি কি শিখতে হবে সেটার খবর রাখাটা আমার কাছে জরুরী মনে হয় চিরকালই। এই সব দেখেশুনে শিশুটি কেমন নিজের মনেই দায়িত্বশীল হয়ে গেল।   

শুধু একটা মাত্র জায়গায় আমি মা হিসেবে চোখ রেখেছিলাম। সেটা হল সন্তানের শৈশবটি abuse-free রাখতে। তবে এটাও ভাবি এটা তো বাড়ির যে কোন দায়িত্বশীল মানুষ-ই ভাবেন। তার জন্যে বিশেষ করে মা-কেই লাগবে কেন? আমি কি আমার পরিবাব্রের অন্য শিশুদের সম্বন্ধেও ঠিক একই রকম ভাবি না? তাহলে মাতৃত্ব অতিরিক্ত কি?

তাহলে বাবা বা মা’র সম্পর্ক পুরোটাই একটা সামাজিক- গঠন যাতে করে এক বা দু জন  মানুষের উপর পুরো দায়িত্ব দিয়ে তাদের বলা যে  তোমাদের জন্যে যে শিশুটির আজ জন্ম হল, তার ভাল-মন্দ সব কিছুর জন্য তোমরাই accountable? পিঠে খেলে পিঠের ফোঁড়ও গুনতে হবে, এটাই নিয়ম। এখানেই আমার সব গুলিয়ে যায়। দায়িত্ব বুঝি, “আমার বাড়ি”, “আমার গাড়ি” এদের মত “আমার সন্তান” এর মধ্যে যে অহংবোধ আছে তাও বুঝি, এবং সেই অহংবোধসঞ্জাত ভালবাসাও বুঝি, নিজের প্রোজেক্টটিকে তিল তিল করে সবার থেকে সেরা করে গড়ে তোলার মধ্যে যে প্রতিযোগিতা মুলক মনোভাব থাকে তাও বুঝি। যদি সফলতা আসে, তাহলে যে অসীম মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, সেটাও বুঝি।  শুধু বুঝি না, এই যে আনন্দ, এতো  আরও অনেক অন্য কাজেও মেলে। অন্তত যে সব কাজের সঙ্গে আমার নিজের মনের যোগ আছে, সেখানেই মেলে। তাহলে এই সর্বস্তরে গৌরবান্বিত মাতৃত্ব “আমিত্ব আর দায়িত্বের” বাইরে কি? 

প্রশ্নটার উত্তর খুঁজছি সারা জীবন ধরে। অফিসেরর টয়লেটে যখন মেয়েরা জ্বলজ্বলে মুখে তার ক্ষুদে  সন্তানটি কত দুষ্টু হয়েছে তার গল্প করে, তখন মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করি সেই দীপ্ত মুখের সঙ্গে ব্যাচেলার বন্ধুটির নতুন কেনা গাড়ির গল্প বলার মুখের কোন তফাত আছে কিনা। ক্যান্টিনে যখন মায়েরা সন্তানের পড়াশোনার সমস্যার আলোচনায় মগ্ন থাকেন, তখন দেখি, ওমা! এতো পুরো একটু আগের প্রোজেক্ট মিটিং-এর টুকরো ছবি। 

ফিরে আসি ওই শিশুটির কথায়। আজ সে পুরো লেডি। মায়ের থেকে অনেক দূরে হোস্টেলে তার বাস। আঠারো বছর ধরে বাধ্যতামূলক একত্র বাসের পরে সে আমার নাড়িনক্ষত্র চেনে হাড়ে হাড়ে। জানে কিসে আমার আনন্দ, কিসে বেদনা। আমিও তারটা কিছুটা জানি বৈকি! তাই যে কোন ছোটবড় হর্ষে-বিষাদে এক তরফ থেকে অন্য তরফে ফোন যায়, শুনছিস / শুনছো ...  মতামত বিনিময় হয়। এই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা সখ্যতা, এই বুঝি মাতৃত্ব! 

 



কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 1 -- 20
Avatar: avi

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

দারুণ।
Avatar: Kakali Sinha Roy

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

দুর্দান্ত !
Avatar: Prativa Sarker

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

ঠিক তাই। আর এই সখ্যটুকুই পরম নির্ভর ও নির্ভার করা ও হবার জায়গাও বটে। এইটুকু থাকলেই মাদার্স ডে সার্থক।
Avatar: গৌতম সাহা

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

ঝকঝকে। পেপারলেস ডেস্কের মতো। সবটাই আছে।
Avatar: পুপে

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

ভাল লাগলো। প্রোজেক্ট সাকসেসফুল করার চক্করে অনেক মা এবং বাবা নিজের ইচ্ছে অনিচ্ছে আশা সব সন্তানের কাঁধে চাপিয়ে দিতে চান। তখন সখ্যতা গড়ে তোলার অবসরটুকু আর থাকে না, শুনতে খারাপ লাগলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটা প্রভু - ভৃত্যের পর্যায়ে চলে যায়। রাগারাগি - হুমকি - মানসিক চাপ একে একে চলে আসে সবকিছুই। "তোর জন্যে এত কিছু করলাম, তুই তার এই প্রতিদান দিলি!" কিম্বা " তোর জন্যে এত কিছু করলাম, আমার কথা তোকে শুনতেই হবে" ইত্যাদি।

আপনি যে নিজের মেয়েকে তার মত করে বেড়ে ওঠার অবকাশ দিয়েছেন, তার বন্ধু হয়ে উঠেছেন, তার জন্য আপনাকে কুডোস। ঃ)
Avatar: AP

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

নাহ, বিষয়টা সকল ক্ষেত্রে মোটেই এতটা সহজ নয়। একটা শিশুকে বড় করে তোলা এবং কিছু কিছু বিষয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য বেশীর ভাগ সময়েই কাউকে না কাউকে দরকার হয়। লেখকের ক্ষেত্রে এই 'কেউ' বা 'বাড়ির অন্যরা' ঠিক কারা সেটা পরিস্কার করে লেখা নেই। কিন্তু ব্যাপারটা যে এমনি এমনি হয়নি বা হয়না, সেটা উনিও প্রকারান্তরে স্বীকারই করেছেন। যে মায়েরা এই ঠিক ঠাক 'অন্য'দের ব্যবস্থা করতে পারেন না, তাঁদের নিজের সন্তানের ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হয়। আর সেজন্য দরকার মত আত্মত্যাগও করতে হয়। সেটা, মানে এই দায়িত্বটা মা-বাবা ভাগ করে নিতে পারেন কিন্তু অস্বীকার করতে পারেন না। মানে এমনি এমনি সন্তান বড় হয়ে জীবনে ভালোভাবে দাঁড়িয়ে যাবে, ব্যাপারটা এত সহজ না ভাবাই ভালো। ছেলে / মেয়ের মা / বাবার মত হতে হবে তার কোনো মানে নেই কিন্তু কিছুই হবার / পারার দরকার নেই, এমনও তো নয় ! ঐ 'কিছু' টুকুর মাপ এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম আর তার জন্য মা-বাবার মনোযোগের মাপও আলাদা। কিন্তু তাকে উঋয়ে দেওয়া যায় না।
Avatar: swati

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

প্রথমেই পড়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই. একটি শিশুর বড় হওয়ার জন্য , তার বেসিক নিড মেটানর জন্য অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে কাউকে না কাউকে লাগে. এই কাউকে লাগা টা আমি একদম অস্বীকার করি নি. আমার মনে হয়েছে সেটা মা না হয়ে অন্য কেউ হতেই পারেন. হতে পারেন পরিবারের অন্য কেউ বা পরিবারের বাইরে অন্য কেউ. কিন্তু যেখানে ইভন মাই এই দায়িত্ব নেন, শুধু দায়িত্বটাই কি মাতৃত্ব? সেটারই খোঁজ করছি.
Avatar: pi

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

'যে মায়েরা এই ঠিক ঠাক 'অন্য'দের ব্যবস্থা করতে পারেন না, তাঁদের নিজের সন্তানের ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হয়।'

ব্যব্স্থা করতে পারেন না হয়তো কেউ কেউ, আবার কেউ কেউ অন্য কিছুকেই 'ঠিক' বলে ভাবতেই পারেন না, নিজে না করলে হবেইনা, এরকমও ভাবেন। আর কতটা করলে 'কিছু' করা হবে, তার পরিমাপও তো আবসলিউট নয়। কিন্তু অনেকেই কিছু মানে সবটাই মনে করেন।

আরো একটা কথা। একটা বয়সের পর বাচ্চাদের একটা নিজের একার জগতও তৈরি হয়ে যেতে পারে কিন্তু। অবশ্যই সম্পূর্ণ একা ছেড়ে দেওয়া নয়, কিন্তু অনেক কিছু ছাড়লে, সেখানে বাচ্চা নিজেদের মত করে অনেক কিছু করার উপাদান খুঁজে নিতে পারে, নেয়। সেটা খারাপ ব্যাপার, এমনটা নাও হতে পারে, এমনকি ভালও হতে পারে। মা বাবার মত কাউকে সঙ্গ দিয়ে যেতেই হবে, এমনটাও না হতে পারে।
আর মা বাবা কাজকর্ম করার কারণে সঙ্গ দিতে পারলেন না মানেই বাচ্চাটাকে অবহেলা করা হল, বঞ্চিত করে নিজেদের কাজকম্ম কেরিয়ার করা হল, এমনটাও না হতে পারে। মা বাবাকে কাজ করতে দেখলে, অন্য নানা কিছুতে সময় দিতে দেখলে, সেটাও পরোক্ষভাবে অনেক সময়ই বাচ্চাদের ইন্স্পায়ার করে। এরকম কিছু করতে, এরকম কিছু হবার চেষ্টা করতে। আর সে ছাপ অবেতনেই পড়ে যায়, চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে আপনা থেকেই চলে আসে। সরাসরি কোরিলেট করতে না পারলেও।
মা সারাদিন বাড়িতে থেকে সমানে সাথে সাথে পড়াশুনা খেলাধূলা গল্পগুজব নীতিশিক্ষা ভালমন্দ রান্নাবান্না করে খাওয়ানো যত্ন-আত্তির প্রভাব, শিক্ষা যেমন হয়, কোন মা ( কি বাবা) এসব প্রায় না করে যদি নিজের অফিস কি সেমিনার কি বই লেখা কি এদিক সেদিন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তার প্রভাবও অন্য কোন ভাবে পড়তেই পারে, ভালোর দিকেও।

আর একটা প্রশ্ন আছে।
অগেকার দিনে অনেক সন্তান হত, বাবারা অনেক সময় খুবই রাশভারি, গম্ভীর হতেন, মানে বাচ্চাদের সাথে সে অর্থে সময় দিতেন না ছোটবেলায়, মাদেরও সংসার আর এই সন্তানকে সামলানোর হ্যাপা থাকত, অনেক সন্তান না হওয়ায় ইন্ডিভিজ্যুআল আটেনশনও এত আসতো না অনেক সময়, এর ফলে কি সন্তান অনেক খারাপ ভাবে বড় হত ? যা করতে পারত, হতে পারত , তা হত না ? ইন্ডিভিজ্যুয়াল আটেনশনে অনেক বেশি ভাল ফল ? যত আটেনশন, তত বেশি ফল ?
অভি কোথাও এই নিয়ে কিছু স্টাডির কথা বলেছিলি। লিখবি কি ?






Avatar: dc

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

দায়িত্ব অনেক রকম আছে। সন্তানের দায়িত্ব, মা বাবার দায়িত্ব। আমার সন্তানকে বড়ো করে তোলার বা মোটামুটি একটা জায়গা পর্যন্ত পৌঁছে দেবার দায়িত্ব যেমন আমার, তেমনি আমার মা বাবা যারা আমাকে বড়ো করল তাদেরও দায়িত্ব আমার। এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কারন বা দরকার আছে বলে তো মনে হয়না। এমনকি "দায়িত্ব" বলে একটা গুরুগম্ভীর নাম দেওয়ারও বোধায় দরকার হয়না। এগুলো আমার কাজ, এই কাজ করার জন্য আমাকে কেউ ঠেলবে তা তো নয়, এ তো আমার নিজের ভেতর থেকেই আসার কথা।
Avatar: Mani

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

পুপে ঠিক ঠাক জায়্গায় ঘা দিয়ে্ছেন।আমার অভিন্জ্গতা প্রায় এক রকম। আমার মা কোনোদিন বাইরের দুনিয়ার পা দিতে চান নি। বহু সুযোগ বহু বার পেয়েছিলেন ভালোভাবে কেরিয়ার করতে পারতেন, যদি চাইতেন। না চাইলে কিছু অপরাধ ও সেটা নয়। সেটা ওনার চয়েস।মুসকিল টা হোলো সারা জীবন ধরে আমাকে আর ভাই কে বলা " তোমাদের জন্য সারা জীবন পাত করে দিলাম!"। বাবা মা কিভাবে তাদের কেরিয়ার কোরোবেন তা সন্তান রা তো নিয়্ণ্ত্রণ করে না।
Avatar: swati

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

ওই যে স্টাডিটার কথা পাই বলেছিলেন সেটার সম্বন্ধে কি একটু বিশদে জানা যাবে?
Avatar: পৃথা

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

এক্কেবারে মনের কথা। আমিও ভাবি যে মাতৃত্বি ক এবং এতোদিনে একেবারে বুঝেছি যে আমার মধ্যে ও বস্তু বিশেষ নেই। আর আধুনিক সমাজের চিন্তাভাবনায় আরো জটিলতা তৈরী হয়।যদি মেয়েদের মন লাগিয়ে চাকরি করা এতই বাচ্ছাদের ক্ষতি করে তবে তো শিশুকন্যাদের লেখাপড়া এখনি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।এক শ্রেণীর মেয়েরা আবার এই ভাবনাটার সুবিধে নেয়।বহু কোনক্রমে পাশ করা মেয়ে, যাদের জীবনের উদ্দেশ্যই ছিল কোনমতে একটা বিয়ে হয়ে যাওয়া, বিনা আয়াসে, তারাও অনেকসময় বলেন যে বাচ্ছার জন্য নাকি চাকরী করা হয়নি এবং যথেষ্ট হাততালিও পান।মোদ্দা কথা হল মেয়েদের মা হতেই হবে।মায়ের হাতের রান্না, মা খাইয়ে দিলে বেশী পুষ্টি ইত্যাদি।তো মাতৃত্ব ও একরকম সামাজিক নির্মাণ।তবে বাচ্ছা বড়ো হতে গেলে কাউকে তো মনযোগী হতে লাগে। সেক্ষেত্রে মা বা বাবার মধ্যে একজন হওয়া ভাল। কাজের মাশীদের কাছে শিক্ষার উপকরণ বিশেষ নেই।মাতৃত্বের মত পিতৃত্বের গুরুত্ব ও বাড়িয়ে দিতে হবে। দু বছর বয়সের পর বাচ্ছাদের জন্য বাবা আর মা সমান ঈ হয়। অতএব সারাজীবন ধরে বাচ্ছা মায়ের ওপর চাপিয়ে বাচ্ছার পরবর্তী জীবনে মায়েদের "আমি তোমার জন্য এই এই এই স্যাক্রিফাইস করেছি" এহেন লিস্টি ধরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তুলে না দেওয়াই ভালো।
Avatar: Mani

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

এটাও ঠিক ক্থা। আমার মা ও এই সাধারণ মেধার দলেই। কিছু অসুবিধা নেই তাতে। তবে আজ থেকে তিরিশ ব্ছর আগে সাধারণ স্কুলের চাকরী পাওয়া আর সেটা ধরে রাখা বেশী শক্ত ও কিছু ছিলো না। মা চাইলেই পারতেন।চান নি ।কিন্তু দাদা জীবন ধরে আক্ষেপ ছিলো " আমি গ্রাজুয়েশনে হাই সেকেন্ড ডিভিশন পেয়ে ছিলাম, তাও তোমাদের জন্য সব ত্যাগ করলাম!" মা মানতে পারতেন না সেকেন্ড ডিভিশন পাওয়া কিছু লজ্জার বিষয় নয়, একই ভাবে হাই সেকেন্ড ডিভিশন বলে ফালতু জাহির করাও অর্থহীন হীনমন্যতা। আমরা স্কুলে ভালো ফল করলাম, খুব খুশী হবার সাথে সাথে নিজে শুধু দাদু দিদিমা র অমনযোগের জন্য এরকম রেজাল্ট করেন নি তাও বলতেন। অথচ স্নেহ মমতার কোনো ত্রূটী কোনোদিন দেখি নি। কাছের মানুষের এতো বৈপরীত্র অবাক করে দেবার মতো।
Avatar: Swati

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

আমার অফিসে এক কোলিগের মুখে একদা শুনেছি যে মেয়েদের ছেলেদের সঙ্গে এক সিলেবাস পড়ান উচিত নয়. তাতে নাকি মেয়েদের সংসার করার মানসিকতার কমতি হয়. মেয়েদের জন্য আলাদা সিলেবাস হওয়া উচিত. তাহলে তাদের বধূত্ব তথা মাতৃত্ব ভালভাবে বিকাশ পাবে. কথাটা কেমন মনে হল?
Avatar: দ

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

বাব্বাহ আপনার কলিগ একেবারে বামাবোধিনী পত্রিকার পাতা থেকে উঠে এসেছেন।

লেখাটা আগেই পড়েছি, বলা হয় নি বেশ ঠিকঠাক লেগেছে।
Avatar: AP

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

বিষয়টা আবার আলোচনায় উঠে এসেছে, এটা ভালো কথা। তাই আবার দুকথা লেখার সুযোগ হল। কারণ মূল লেখা এবং পাই-পৃথা-পুপে-দ-ইত্যাদির কথা শুনে মনে হচ্ছে শুধু মাতৃত্বের গৌরবায়ন নয় সন্তানের দায়িত্ব ব্যাপারটা গোটাটাই সামাজিক নির্মান। আর শিশু মনস্তত্ব, শিশুর একাকীত্ব ইত্যাদি নিয়ে চারদিকে এত আলোচনাও নেহাৎই কিছু অলস মস্তিস্কের কাজ।

প্রথমে পাই-কে বলি। একটি শিশু বড় হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কি হতে পারে আর কি হতে পারে না তার কোনো ফর্মূলা নেই। তাই মা-বাবার মনোযোগ (লক্ষ্য করবেন আমি কিন্তু মা-বাবা দুজনের কথাই বলছি) না পেলে একটি শিশুর ওপর তার ঠিক কি প্রভাব পড়বে সেটা কেউ বলতে পারে না। ইস্কুল থেকে ফিরে কেউ একা একা পাশের বড়িতে খেলতে চলে যেতে পারে, কেউ দাদু-ঠাম্মা-দিম্মার কাছে গল্প শুনতে পারে, কারুর এই সব কোনো অপশনই নেই বা থাকলেও, সে ক্লাসে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে মা-এর (এখানে শুধু মা-এর কথাই বলছি) ওপর চূড়ান্ত অভিমানী হয়ে উঠতেও পারে। কার ক্ষেত্রে কি হবে সেটা জানা নেই বলে এবং পদ্ধতিটা irreversible বলেই এত ঝামেলা। মায়েদের এত মাথাব্যথা, তার সবটাই বানানো বলে ধরাটা ঠিক নয়। স্বাতীর ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, মানে মাকে ছড়াই বাচ্চার পড়াশোনা-নাচ-গান 'দিব্যি' চলেছে, সেটাই কোনও ধ্রুব সত্য নয়।

আর স্বাতীর লেখা থেকে বলি, সন্তান পালনের আনন্দ যদি নতুন বাড়ি-গাড়ি ইত্যাদির সঙ্গে তুলনীয়ই হয়, বা কেউ ভেবেই থাকেন যে তুলনীয় আনন্দের আরো অনেক অপশন তাঁর আছে তাহলে তিনি সন্তানের জন্ম দেবেন কেন ? ব্যাপারটা তো তিনমাসের (বা ছ'মাসের) পুতুলখেলা নয় ! নিজের সন্তানের দায়িত্ব 'নিজেদেরই' (দ্বি-বচন লক্ষ্যনীয়) নিতে হবে আর এই বিষয়ে প্রস্তুত হয়েই সন্তান নেওয়া উচিত। পরিবারের বা বাইরের অন্য কেউ সাহায্য করতেই পারেন কিন্তু সেটাই স্ট্যান্ডার্ড ব্যবস্থা বলে দাবী করার মধ্যে কিছু কৃতিত্ব দেখি না। ঘটনা চক্রে স্বাতীর ক্ষেত্রে সেটা 'দিব্যি' চলেছে বলে উনি সাড়ম্বরে সেটা লিখতে পারছেন, না চলতেও পারত, আর সে ক্ষেত্রে ওঁকেও ভাবতে হত নতুন ফ্ল্যাট বা নতুন গাড়ি কেনার আনন্দের সঙ্গে সন্তান পালনের তফাৎ কোথায়।

আসলে চাকরী করা আর চাকরী ছাড়া এই দুই প্রান্তের মধ্যেও মায়ের অজস্র দায়িত্ব, কর্তব্য ইত্যাদি থাকে। আজকাল বেশির ভাগ মা-ই চাকরী রেখেই সে সব পালন করেন। আনুসাংগিক কিছু আত্মত্যাগও থাকে মায়েদের এবং বাবাদেরও। বাবারাও সেসব দায়িত্ব পালন করেই থাকেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, কিন্তু সামাজিক নির্মাণের বোঝা নেই বলে তাঁদের কাজটা সহজ ও স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। তাই সন্তানের প্রতি কর্তব্য থেকে অব্যাহতি নয় সেটা মা-বাবার সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে দেখার অভ্যাস গড়ে উঠুক, এটাই কাম্য। সন্তানহীন থাকার অধিকার স্বীকার করেও, মাতৃত্ব যদি জীবনের পূর্ণতা হয়, পিতৃত্বও একইভাবে পূর্ণতা হিসেবে দেখা হোক।

পরিশেষে স্বাতীকে বলি, বার বার আপনার লেখার সূত্র তুলতে হয়েছে বলে রাগ করবেন না যেন। আপনি নিজের অভিজ্ঞতার কথাই লিখেছেন, এতে কিছু সমস্যা নেই। যেখানে যেখানে সরলীকরণ বা জেনারালাইজেশন মনে হয়েছে, সেই জায়গাগুলো নিয়ে লিখতে হয়েছে।
Avatar: d

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

এই 'অলস মস্তিষ্কের কাজ' ইত্যাদি আমার ঠিক কোন বক্তব্য থেকে 'মনে হচ্ছে' বলবেন?
Avatar: -

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

AP আপনি লিখেছেন-
".....মাতৃত্ব যদি জীবনের পূর্ণতা হয়, পিতৃত্বও একইভাবে পূর্ণতা হিসেবে দেখা হোক......"
প্রশ্ন -'দেখা হোক' মানে? কার বা কাদের চোখ দিয়ে 'দেখা হোক'?

কিছু, খুবই কম কিছু, বা সঠিকভাবে বলতে গেলে, গুন্‌তিতেই আসে না, এরকম কিছু পিতা বাদ দিলে কজন পিতা পিতৃত্বকে তাঁর নিজের জীবনের পূর্ণতা হিসেবে দেখেন বা উপলব্ধি করেন? হ্যাঁ আজও। কিছু প্রৌঢ় পিতাকে বাদ দিয়ে অধিকাংশ যুবক পিতাকে দেখুন।যেটুকু উন্নতি বা পরিবর্তন হচ্ছে তা এতই কম এবং এতটুকু ছোটো পরিধিতে যে হিসেবে আসে না।

এর মানে এই নয় যে আমি স্বাতী রায়ের লেখা বা বক্তব্যকে একচেটিয়া মান্যতা দিলাম। কারণ আমি এনার বিপরীতের চরিত্রদেরই বেশী দেখেছি, তাও তাঁদের জীবনকে উপভোগ করতে করতেই। সেগুলিকেও জেনারালাইজ্‌ করা যায় না, স্বাতীরটিকেও নয়।

একদমই আমার মত।
Avatar: de

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

মাতৃত্ব কথাটা অনর্থক গ্লোরিফায়েড - আসল কথা পরিপূর্ণ অভিভাবকত্ব! একটি সদ্যোজাত মানুষের মানসিক ও শারীরিক ভাবে পূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার গোটা প্রসেসটাতে তাকে সাহায্য করা, পাশে থাকা আর সর্বোপরি তাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসা - কোন কিছুর প্রত্যাশা না করে।সেটা মা-বাবা-দাদু-দিদা যে কেউই করতে পারে। যার কাছ থেকে বাচ্চা এগুলো পাবে, তাকেই অভিভাবক বলা হবে।

যদিও এই আইডিয়াল প্রসিডিওর সবক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের ঘাড়ে নিজের প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে তার জীবনটাকে অসহনীয় করে তোলা হয়। বিশেষত সফল কেরিয়ার না থাকা মা-বাবারা এটা বেশী করে থাকেন। সন্তান ভালো-মানুষ হয়ে উঠচে কিনা, তার তোয়াক্কা না করেই!

স্বাতীর লেখাটা একটু হালকা চালে লেখা। বাচ্চার সমস্ত কিছু ঠিকঠাক দেখেশুনে রাখার কাজ চাকুরীরতা মায়েরাও করে থাকেন। সবসময় ফিজিক্যাল প্রেজেন্স সম্ভবপর না হলেও, রিমোট কন্ট্রোল মায়ের হাতেই থাকে। বাচ্চাকে দেখেশুনে রাখার জন্য যদি দাদু-দিদারা থাকেন, তাহলে তো খুবই ভালো, নইলে ক্রেশ বা আয়ার ভরসায় অনেক মায়েরাই বাচ্চা মানুষ করেন। এটা কোন অপরাধ নয় মোটেও। একটা সার্টেন সময়ের পর কন্টিন্যুয়াস মনিটরিং বরং বাচ্চার পক্ষে খারাপ। নিজের মতো বড়ো হয়ে ওঠার পরিসর প্রোভাইড করাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাতে ব্যক্তিত্বের বিকাশ হয়!
Avatar: de

Re: হ্যাপি মাদারস ডে

আসলে মাদারহুড নিয়ে যতো নাপানাপি, তার সিকিভাগও যদি পেরেন্টহুড নিয়ে থাকতো, তাহলে এই চাপিয়ে দেওয়া গৌরব নামিয়ে ফেলে আসল সমস্যাগুলোর দিকে তাকানো সহজ হোতো।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 1 -- 20


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন