আত্মপক্ষ

আফসার আমেদ

 সত্যি মেয়েটাকে বিপদে ফেলেছি। বেচারী যে পরিবেশে অভ্যস্ত, তা থেকে ছিন্ন করেছি। প্রথম প্রথম তো একটু অসুবিধে হবেই। এখন নাসিমার তৎপরতা দেখে মনে হচ্ছে, এখানে যে তাকে থাকতে হবে, মেনে নিয়েছে। কিছু কিছু অসুবিধের সম্মুখীন হচ্ছে। কিছু কিছু খটকার সামনে পড়ছে। সে পড়ুক। এখন ইচ্ছেমতো গোছগাছ করছে, ঘর সাজাচ্ছে। বেশ খুঁতখুঁতে, তাই সময় লাগে বেশি। আজ বোধহয় অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করবে। নাসিমাকে নিরস্ত করা যাবে না। নাসিমার এমনই স্বভাব। আমি বাধা দিই না। ও কাজ করতে থাকে। আর আমি লেখাপড়া করতে থাকি। আমার নজরে থাকে নাসিমার গতিবিধি। চলাফেরার চেনা ধরন ঠিকঠাক আছে কি না বুঝি। কোথাও ছন্দপতন হলে আগাম ধরতে পারি। ঠিকই আছে। ঠিকই চলছে। এখানে বসবাস করা যাবে। সামনের মাস থেকে বাড়ি করব। লেবার কনট্রাক্‌ট দেব। চোখের সামনে বাড়ি উঠছে। কোন্‌টা কীরকম হবে, নাসিমা ইচ্ছেমতো বানিয়ে নিতে পারবে। অফিসের লোনও স্যাংশান হয়ে গেছে। নাসিমারও স্বপ্ন নতুন একটা নিজস্ব বাড়ি। 

আরও পড়ুন...

পেন্ডুলাম

জয়ন্ত দে

 কিন্তু ওরা বোঝেনি আমরাও ভেতরে ভেতরে তৈরি ছিলাম। ন্যাকড়ার বল বানিয়ে কেরোসিনে চোবানো হল। বোমা বাঁধা হল। এমনকি টেরিটরিয়াল আর্মিতে কাজ করে এরকম কিছু লোক বন্দুকের যোগান দিল। বোমা-লাঠি-বন্দুক নিয়ে গঠিত হল প্রতিরোধ বাহিনী।

এরপর বাবা কী বলবে আমি জানি। বাবা আজ সংক্ষেপে বলছে, তবু আমি জানি বাবা কী বলবে। ছেলেটি কঠিন চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার বুকের ভেতর ছটফট করছে হাওয়া। বাবাকে থামাতেই হবে। গলা তুলে ডাকার চেষ্টা করি, বাবা, বাবা ও... ।

বাবা হুঙ্কার দিয়ে ওঠে, বন্দে মাতারম! ফিয়ার্স লেনে, সাগর দত্ত লেনে প্রচুর হিন্দু মরছে। ঠিক হল একটা হিন্দুর লাশ দেখলে দশটা মুসলমানের লাশ ফেলতে হবে। একদিকের হিন্দুদের রেসকিউ করলাম, অন্যদিকে হিন্দু হত্যার বদলা। লাশে লাশে ভরে গেল কলকাতা। আর এ সময়েই লুটে এনেছিলাম এ ঘড়ি। এক মুসলমানের অন্দরমহল থেকে। সেই ১৯৪৬! আজ কত বছর? কত বছর হল?

আরও পড়ুন...

প্রসঙ্গটি বিব্রতকর

রুমা মোদক

 পার্বতী মেয়েটি বুদ্ধিমতী, ভীষণই বুদ্ধিমতী। তবে তার এই বুদ্ধিমত্তার সাথে যুক্ত হয়েছে গ্রাম্য অশালীন কৌতূহল আর অসহ্য বাচালতা। ‘রাজলক্ষ্মী’তে আসার পর পরই তা টের পেয়েছে মোনা, আর যতটা সম্ভব সাবধান থেকেছে আচরণে-কথায়। পারতপক্ষে সমীরের সাথে একা-একা কথাই বলেনি। সবার সাথে মিলে কথা বলার সময়ও যথাসাধ্য নির্বিকার থেকেছে, কখনও সাথে আসা আরও দু-বন্ধু নিশি-দ্যুতির চেয়েও বেশি। ভরা পূর্নিমায় সমীরদের শত বছরের পুরনো দালানের ছাদে বসে বন্যার ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’ শুনতে ইচ্ছে হলেও প্রাণপণে তা দমিয়ে রেখেছে। দমিয়ে রেখেছে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ী ছড়ায় সমীরের হাতে হাত রেখে পা ভেজানোর ইচ্ছেটাও। তবু বিকেলের জলখাবারে সমীরের বৌদি টেবিলে ফুলকো লুচি আর ছানার ডালনা এনে দিলে ওরা যখন ভীষণ উচ্ছ্বসিত হয়– শোন, শোন এগুলো মোটেই তোদের আজিজ সুপারের লুচি নয়, খেয়ে দেখ কী ভীষণ মোলায়েম আর টেস্টি, আরে এগুলো হল আসল লুচি, আজিজ সুপারে যা খাই ওগুলো তো ক্লোন রে ক্লোন, লুচির ক্লোন– তখন সমীর মুখ টিপে হেসে– খাও খাও, নিজের বাড়ি মনে করে খাও– বলে যখন মোনার প্লেটে আরও দুটি লুচি তুলে দেয়, তখন আর কারো চোখে না হোক পার্বতীর চোখে সন্দেহ ছাপিয়ে ‘চোর ধরে ফেলা’র মতো সাফল্যের আনন্দ পড়তে ভুল হয় না মোনার। নিশি-দ্যুতির সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপও করে মোনা। ওরা উড়িয়ে দেয়– দুর, গৃ-হ-প-রি-চা-রি-কা এত পাত্তা দেয়ার দরকার আছে? পাত্তা তো মোনা দিনে চায়নি। কিন্তু ওর মুখে লেগে থাকা রহস্যময় হাসি, চপলা দৃষ্টি, সুযোগ পেলেই গা ঘেঁষে অযাচিত কৌতূহল কেমন যেন উদ্দেশ্যমূলক মনে হয়। পাত্তা না দিয়ে উপায় থাকে না। সমীরকে বলেও ফেলে একবার– তোমাদের কাজের মেয়েটি ভারি ইঁচড়ে পাকা তো..., সমীর সুযোগ পেয়েই টিপ্পনি কাটে– ও বাবা এরই মাঝে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে কমপ্লেন শুরু হয়ে গেল? আপাত বিষয়টা হাসিঠাট্টার মাঝে ফুরিয়ে গেলেও শেষতক তো আর শেষরক্ষা হল না, পচা শামুকে পা কাটার মতো পার্বতীর কারণেই ঘটনা ঘোট পাকিয়ে গেল।

আরও পড়ুন...

ঠাকুরের সঙ্গে

শাহাদুজ্জামান

 এরপর পিনাকীর বয়ান– দরজার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখি একতালার বারান্দায় পাঞ্জাবী পরা লম্বা সাদা দাড়ি, টুপি মাথায় এক বুড়া লোক বসে পেপার পড়ছে। সেটা দেখে তো আমার ভয় বেড়ে গেল আরও। ভাবি এই হুজুর যদি এখন দেখে এক ধুতি পরা লোক তার বাড়িতে উঁকি ঝুঁকি মারছে, তাহলে না জানি কোন ঝামেলা বাঁধায়? আমি সাহস করে লোহার গেটে ধাক্কা দিই। দাড়ি, টুপি ভদ্রলোক পেপার হাতে নিয়েই বাগান পার হয়ে লোহার গেট খোলেন। আমাদের দেখে একটু কপাল কুচকান। আমি তাকে লম্বা করে একটা সালাম দেই– ‘আসসালামালাইকুম চাচা। উনি কোলকাতা থেকে এসেছেন, একসময় এই বাড়িটা উনার বাবার ছিল, বাড়িটা জাস্ট একটু দেখতে এসেছেন।’ বলেই আমি বেশ নার্ভাস থাকি। কে জানে ভদ্রলোক এই নিউইয়র্ক কিন্ডারগার্ডেনের দীনিয়াতের টিচার কিনা। ছুটির দিনে হয়তো একটু আরাম করে বসছেন পেপার পড়তে, সেইখানে এক লোক কোলকাতা থেকে এসে যদি বলে এই বাড়ি আমার ছিল, তাহলে তার ভালো লাগার কথা না। পুরা ব্যাপারটায় একটা গ্যাঞ্জাম লেগে যাবার সম্ভাবনা আছে।

আরও পড়ুন...

বসন্ত উৎসব

শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য

 পরিত্যক্ত কবরখানার ভাঙ্গা দেওয়ালে হেলান দিয়ে গিরিরাজ বিড়ি খেতে খেতে চারপাশটা জরিপ করে নিল একবার । আগের থেকে অনেক বেশি জরাজীর্ন লাগছে জায়গাটা। অবশ্য সেটা স্বাভাবিক। রক্ষণাবেক্ষণ তো আর হয়নি গত এক বছরে! চারিপাশে ছাতামাথা বন্য গাছের দল নুয়ে পড়েছে। জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্যে গাছের দলকে আলাদা করে আর বোঝা যাচ্ছে না, বরং সবশুদ্ধ তালগোল পাকিয়ে একটা  জগাখিচুড়ি লাগছে।  পাঁচিল ফাটিয়ে উঠে এসেছে অশ্বত্থের চারা। লণ্ডভণ্ড কবরগুলোর ওপরে বুনোঝোপের আড্ডা। হাঁটতে গেলে জঙ্গুলে শেকড় পা জড়িয়ে ধরে। মেঘ কেটে  চাঁদের আলো পিছলে গেলে মনে হবে  ফ্যাটফ্যাটে সাদা জংগল সমগ্র জায়গাটার দখল নিয়ে নিচ্ছে। গিরিরাজের আচমকা মনে হল, জঙ্গল আস্তে আস্তে তাদেরও হয়ত ঘিরে ধরছে। আর এখান থেকে বেরোবার পথ নেই। দুম করে বুকটা একটু কেঁপে গেল। তারপর আত্মসচেতন হয়ে ফালতু চিন্তা ঝেড়ে ফেলবার জন্য বিড়িতে জোরে জোরে টান দিয়ে  মাথা ঝাঁকাল কয়েকবার। আজকের রাতে মগজ স্থির  রাখা  খুব জরুরী।

আরও পড়ুন...

চার ল্যাবারু খোঁজেন গোরু

জয়ন্তী অধিকারী

নেহাতই চক্ষুলজ্জা বশে নেহাম্যাডাম একটি প্ল্যান বানিয়ে আনলেন, যার মাথামুন্ডু, এবিসিডি, শুরু বা শেষ কিসুই নাই, যেটি অনায়াসে যেকোন সুস্থবুদ্ধি লোকের সেরিব্রাল অ্যাটাক ঘটানোর উপযুক্ত। হাতে সময় একেবারেই নাই, চাগরির দায় বড় বিষম, হিড়িম্বা রাত জেগে এক্ষপির প্ল্যান বানালেন, প্রত্যেকের দায়িত্ব আলাদা শীটে লিখে দিলেন। অন সেকেন্ড থট, যত সলিউশন বানাতে হবে, প্রতিটি তৈরি করার মেথডও লিখে হাতে হাতে ধরিয়ে দিলেন। (আগে একবার নেহা স্ট্যান্ডার্ড অ্যাসিড সল্যুশন বানানোর জন্য “একটু হেল্প” চেয়েছিল।)

আরও পড়ুন...

রয়েছি মামণি হয়ে

তির্যক

 কর্মরতা মহিলা গোষ্ঠীর একপ্রান্তে আছেন মহিলা শ্রমিকরা, যাঁরা চাষের কাজে, মাটি কাটায়, রাস্তা তৈরীতে, রাজমিস্ত্রির কাজে লেগে আছেন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন (ILO)-র একটা সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে এশিয়ার মধ্যে ভারত আর পাকিস্তানে মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে কম আর সেই সংখ্যাটা ক্রমাগত কমছে। ১৯৯৯-২০০০ সালে যে হারটা ২৫.৯% ছিল এখন সেটা কমে হয়েছে ২১.৯%। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে কাজের সুযোগ পেলে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েরা পিছিয়ে থাকেন না, যদি না তাঁর যাতয়াতের রাস্তাটা খুব কঠিন বা কাজের জায়গাটা খুব দুরের হয়। দুই ক্ষেত্রেই বাচ্চাকে ছেড়ে অনেকক্ষণ থাকতে হয়, এইটার সঙ্গে মেয়েরা কিছুতেই সমঝোতা করতে পারেন না। তাই যেসব জায়গায় পাকা রাস্তা হয়েছে বা বাচ্চা রাখার সুবিধে আছে এনরেগা প্রকল্পের সাফল্য সেখানে অনেক বড়, সেখানে অনেক বেশি মহিলা কাজে আসছেন। কিন্তু শহরের দিকে নিম্নবিত্ত পরিবারের মহিলারা অনেকে দূরে গিয়ে বাঁধা মজুরীর কাজের বদলে বরং বাড়ির কাছাকাছি অনেক কম মাইনের পরিচারিকার কাজ (বা সেলাইয়ের কাজ বা এই ধরণের কোনও অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ) করছেন যাতে সংসারের দেখাশোনাটাও চালানো যায়। বাঁধা মজুরীর কাজে মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ার অনেক কারণের মধ্যে একটা হল এটা। অর্থাৎ সংসার ও বাচ্চাকে দেখাশোনা করার দায়িত্বটা এই বৃত্তের মেয়েদের কাজে আসা না আসার ক্ষেত্রে একটা বড়সড় ব্যাপার।


আরও পড়ুন...

এপ্রিল ফুলের পরে

শাশ্বত রায়

 গরু আমাদের রাষ্ট্রমাতা। সে কেউ বলুন চাই না বলুন। আদি-অনন্তকাল ধরে আমরা গরুকে মাতৃস্থানীয় করে রেখেছি। তাই, গোমাতা নিয়ে কেউ আমাদের বোকা বানালে সেই নিয়ে আমাদের সরব হয়ে ওঠা দরকার। প্রসঙ্গতঃ, গত কয়েক দিন ধরে চীনের কিছু গুপ্তচর আমাদের দেশের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির মাঠে-ঘাটে গরু সেজে অবাধ বিচরণ করছিল। দেশের খবর পাচার করা তাদের মূল উদ্দেশ্য। ধরা পড়ে তারা এটা স্বীকার করেছে। এরকম ভাবে গরুর ছদ্মবেশ ধারণ করে আমাদের বোকা বানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন...

চাকুরে কন্যার কাহিনি

যশোধরা রায়চৌধুরী

 সাম্প্রতিক কিছু স্টাডিও বলছে, মেয়েদের অর্গ্যানাইজড সেক্টরে বেশি না আসার কারণ প্রথাগতভাবে বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা। এবং কিছু ক্ষেত্রে চাকরি ছেড়ে দেবে এই ভয়ে, তাদের প্রাইভেট সেক্টর ফার্মগুলি নিতে চাইছে না। অর্থাৎ একটা পঙ্কিল আবর্তের মত কাজ করছে এই ব্যাপারটি। এর সঙ্গে সঙ্গেই ওই স্টাডি থেকে আরো দেখা যাচ্ছে যে কর্মক্ষম মহিলাদের (১৫ থেকে ৫৯ বয়সী) মাত্র ৬.৫% হাই স্কুল পাশ করেছেন। সুতরাং যে সব কাজে কলেজ-পাশের বিদ্যে দরকার বা কোন বিশেষ কাজের দক্ষতার প্রশিক্ষণ দরকার এমন ভাল মাইনের চাকরি জুটবে না সেই সব মেয়েদের, যাঁরা সামান্য লেখাপড়া করেছেন। ফলত মেয়েরা অধিকাংশই কাজ করেন খুব খারাপ মাইনেতে। 

আরও পড়ুন...

সবার জন্য স্বাস্থ্যের লক্ষ্যে গঠিত উচ্চ-স্তরীয় বিশেষজ্ঞ দলের প্রধানের বক্তব্য

ডা কে শ্রীনাথ রেড্ডি

আমরা বলেছি দক্ষ স্বাস্হ্যকর্মীর যোগান বাড়াতে হবে। এরপর বলেছি যে, অত্যাবশ্যক ওষুধপত্র ও রোগ নির্ণায়ের পরীক্ষা নিরীক্ষার খরচ যদি সরকার বহন করে, যা কিনা দেশের জিডিপি-র ০.৫%, তাহলে চিকিৎসা খাতে ব্যক্তিগত ব্যয়ের অঙ্কটা যথেষ্ট পরিমাণে কমানো যাবে। এই পদক্ষেপগুলো নিলে সরকারি স্বাস্হ্য ব্যবস্হার প্রতি লোকেদের আস্হা বাড়বে। তামিলনাড়ুর মডেল অনুসরণ করে রাজস্হান সরকার যখন বিনামূল্যে অত্যাবশ্যক ওষুধপত্র সরবরাহ শুরু করল, সরকারি প্রাথমিক স্বাস্হ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসার সুযোগ নেওয়া লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তার মানে সরকারি স্বাস্হ্য ব্যবস্হার প্রতি লোকেদের আস্হা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এরপর আমরা বললাম যে বেসরকারি স্বাস্হ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর যথাযথ নজরদারি ব্যবস্হা চালু করা হোক, নানাধরণের স্বাস্হ্য বিমা প্রকল্পগুলোর বদলে সারা দেশে একটাই স্বাস্হ্য বিমা প্রকল্প চালু করা হোক, এমন একটা চুক্তি করা হোক যাতে বেসরকারি স্বাস্হ্য পরিষেবা সংস্হাগুলো দায়িত্বপূর্ণ ভাবে ও দায়বদ্ধতার সাথে সরকারি স্বাস্হ্য পরিষেবা সংস্হাগুলোর পরিপূরক হিসাবে কাজ করে। 

আরও পড়ুন...

পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর উদ্যোগঃ সবার জন্য স্বাস্থ্য কি এই ভাবে হবে?

ডাঃ পুণ্যব্রত গুণ

সমস্ত চিকিৎসা বিনামূল্যে হবে শুনে মনে হতে পারে, ‘এই তো! আমাদের সবার জন্যে স্বাস্থ্যের স্বপ্ন সত্যি হল বুঝি।’ কিন্তু আসল ছবিটা কিন্তু সেরকম দাঁড়াচ্ছে না। সব বিনামূল্যে পাওয়া যাবে ঘোষণা হয়ে গেলেও অনেক কিছুই কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না, সব ওষুধ মিলছে না, অপারেশন, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপির জন্যে রোগীদের লম্বা ডেট দেওয়া হচ্ছে, পেসমেকার, স্টেন্ট, প্রস্থেসিস যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া না যাওয়ার কারণে রোগীদের ঘোরানো হচ্ছে। পরিকাঠামো, ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা না বাড়িয়ে সব বিনামূল্যে পাওয়া যাবে ঘোষণা করে দেওয়ায় চিকিৎসার মান ক্রমশ নেমেই চলেছে, কোথাও বাচ্চা পুড়ে যাচ্ছে ওয়ার্মারে, কোথাও পেশেন্ট পার্টি ডাক্তার-নার্স পেটাচ্ছে। আসলে যেটা নেই-ই সেটা ফ্রিতে পাওয়া যাচ্ছে বলে ঘোষণা করে দেওয়ার ফল ভুগছেন রোগী ডাক্তার কর্মচারী সকলেই।

আরও পড়ুন...

স্টেন্টবাজি ও অন্যান্য ভোজবাজি

প্রবীর গঙ্গোপাধ্যায়

 আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসে, স্টেন্ট সরবরাহের প্রতিটি ধাপে অনৈতিকভাবে দাম বাড়ানো হয়; ফলে অযৌক্তিক চড়া দামে স্টেন্ট কিনতে বাধ্য হয়ে রোগীরা পড়েন চরম আর্থিক দুর্দশায়। এর সঙ্গে আছে ডাক্তার-রোগীর মধ্যে স্টেন্ট-সংক্রান্ত খবরাখবর আদান-প্রদানের মধ্যে নানারকম বিভ্রান্তিমূলক অসংগতি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—জনস্বার্থে, রোগীরা যাতে একটু হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন, তাই স্টেন্ট-এর দাম বেঁধে দেওয়া হল। বীরেন্দর সাংওয়ান দিল্লি হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন। বিষয়: স্টেন্ট-এর দাম বেঁধে দেওয়া আর স্টেন্টকে জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধ তালিকার আওতায় আনা। এইটি বিবেচনা করে করোনারি স্টেন্টকে জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধ তালিকার আওতায় আনা হয়েছে। ফরমান জারির পরে পরেই ফরমান পেয়েই তো স্টেন্ট-নির্মাতা, হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষের মাথায় হাত। তড়িঘড়ি নির্মাতারা ও পরিবেশকরা হাসপাতালগুলো থেকে সর্বাধুনিক স্টেন্টগুলো তুলে নিলেন। কী কারণ? না, স্টেন্টগুলোতে নতুন করে লেবেল সাঁটতে হবে। যেসব হাসপাতাল থেকে স্টেন্ট তুলে নেওয়া গেল না, তাদেরকে মুখে বলে দেওয়া হল দামি ও উঁচু মানের স্টেন্টগুলো যেন রোগীদের না দেওয়া হয়। অথচ এন পি পি এ (National Pharmaceutical Pricing Authority)-র স্পষ্ট নির্দেশ: নির্মাতা, আমদানিকারক ও খুচরো ব্যবসায়ীরা এই মুহূর্ত থেকে বেঁধে- দেওয়া দামে স্টেন্ট বেচবেন; কোনো কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করার চেষ্টা যেন না করা হয়। এই মর্মে এন পি পি এ সব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে: বাঁধা-দামে রোগীরা যেন সবরকমের স্টেন্ট পায়। ওদিকে হৃদ্‌রোগবিশারদরা বলছেন: বি ভি এস (bioresorbable vascular scaffold) স্টেন্ট—যা রোগগ্রস্ত ধমনিকে সারিয়ে শরীরেই শোষিত হয়ে যায়—কোথাও মিলছেই না। ‘কোম্পানি ওগুলো তুলে নিয়ে গেছে নতুন দাম সাঁটবে বলে কিন্তু আমাদের আশঙ্কা, ওগুলো আর হাসপাতালে ফিরে আসবে বলে মনে হয় না।‘—বলেছেন বম্বে হাসপাতালের এক প্রবীণ হৃদ্‌রোগবিশারদ।

আরও পড়ুন...

কারমাইকেল থেকে - তৃতীয় পর্ব

পার্থপ্রতিম মৈত্র

 ভর্তি হলাম কারমাইকেল স্কুল অব ট্রপিকাল ডিজিসেস। আর উপায়ান্তরও ছিল না। অ্যাপোলো সব টাকা খেয়ে নিল যে। অ্যাসপারজিলোসিস এর চিকিৎসার দুটো মাত্র পদ্ধতি। এক ইন্টারভেনাস লাইপোজোমাল এফ-বি, আর একটা ভোরিকনোজল। যেহেতু আমি লিভারের পেশেন্ট, ঠিক হলো যে লাইপাজোমাল দেওয়া হবে। কাজ হলো মিরাকলের মত। গত আট মাসের মধ্যে আমি প্রথম অনুভব করলাম মাথা ব্যথা ছাড়াও মানুষের ঘুম হয়। যে ঘুমের ওষুধ এবং এনার্জী বুষ্টআপের ওষুধ এতদিন কাজ করে নি তারাও কাজ করতে শুরু করেছে। 

আরও পড়ুন...

রাজারহাটের আগুনঃ ধারাবিবরণী

অভিষেক সরকার

 আগুনের আঁচে কিম্বা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে নষ্ট হল আরও অন্তত কুড়ি-তিরিশখানা ছাউনি এই উপরে বলা সম্পূর্ণ পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া দোকান ছাড়াও। সবই নানা রকমের খাওয়ার দোকান। মিষ্টি- ইডলি-দোসা- চা- আখের রস- চাওমিন- শরবৎ এই রকমেরই আর কি। দোকানিদের অধিকাংশই স্থানীয় মানুষ। হাতে গোনা কয়েকটা দোকান চালান বিহার এবং উৎকলবাসীরাও। বাঁশের এবং সরু কংক্রীটের স্তম্ভের ওপরে দরমা-পলিথিন শীট দিয়ে ঢেকে তৈরি এই দোকানগুলো ছিল বেশ কিছু চাকুরের নিত্য প্রয়োজনীয়তা এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে অন্তত দোকানপিছু একটা বা দুটো পরিবারের জীবিকাও।

আরও পড়ুন...