গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

সন্তানহীনতার অধিকার

শুচিস্মিতা

 অনেকেই প্রশ্ন করেন, কেন সন্তান চাই না। আমরা বর্তমান পৃথিবীকে একটা শিশুর জন্য যথেষ্ট সুস্থ ও নিরাপদ মনে করি না। তাই আমরা সন্তান চাই না। আমরা যখন জন্মেছিলাম তখনও পৃথিবী সুস্থ ছিল না, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে আমাদের কোন হাত ছিল না। যেটা আমাদের হাতে আছে আমরা বড়জোর সেটুকু করতে পারি। আমরা না জন্মালেও পৃথিবীর কোন ক্ষতি ছিল না। পৃথিবী তার মত চলত, অথবা চলত না। আরো অজস্র পৃথিবীর মত গ্রহ আছে ব্রহ্মাণ্ডে যাতে প্রাণ নেই। তারাও সুন্দর। অবশ্য চেতনা না থাকলে আর সুন্দরই বা কি! এসব দার্শনিক কথা থাক। নিতান্ত বস্তুতান্ত্রিক ভাবনাতেও দেখতে পাই মানুষজন্ম কেমন একটা অনর্থক ব্যাপার। এত বেশি মানুষ হয়ে গেছে পৃথিবীতে, না আছে পর্যাপ্ত খাবার, না আছে পর্যাপ্ত জমানো সম্পদ। সোজা কথা সোজা ভাবেই বলি। ছোট থেকেই শিখেছি খুব ভালো রেজাল্ট করতে হবে, ভালো চাকরি করতে হবে, তারপর একটা ভালো বিয়ে, সন্তান এবং তাদের প্রতিপালন। এই জিনিসগুলোর একটাও এমন লোভনীয় নয় যে তার জন্য জীবনভোর প্রাণপাত পরিশ্রম করা যায়। যারা পারেন তারা করেন। আমরা আরো একটা মানুষকে তার মতামত ছাড়াই নিয়ে এসে এই বোঝা চাপিয়ে দিতে চাই না। আর মতামত নেওয়ার তো কোন উপায়ই নেই। একটি শিশুকে জন্ম দিয়ে তাকে তো আর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করা সম্ভব নয়, তুমি কিভাবে বড় হতে চাও জানাও। নিজেদের মত তার ওপর চাপাতেই হবে, এমনকি তার মধ্যে এমন কিছু মতও থাকবে যা নিজেদেরই নীতিবিরুদ্ধ। যেমন ধরা যাক, বন্ধুস্থানীয় ভারতীয় বাবা-মায়েরা যেভাবে গেটেড কমিউনিটিতে বাসা বেঁধে গেটেড স্কুলে পড়শোনা করিয়ে যতখানি সম্ভব নোংরা পৃথিবীর ছোঁয়া বাঁচিয়ে বাচ্চা মানুষ করেন, সেটা আমাদের একান্তই অপছন্দ। একটু সমালোচনাই করলাম। তবে এটাও জানি, নিজেদের বাচ্চা থাকলে আমরাও এই পথই নিতাম। আরেকটি মানুষের জীবন নিয়ে বাজি লড়ার সাহস আমাদেরও হত না। আমরা জানি, আপনারা নিরুপায়। 

আরও পড়ুন...

মাতৃত্ব যখন ফাঁস

দময়ন্তী

আমাদের দেশে এখনও তেমন পর্যাপ্ত সমীক্ষা হয় নি এই নিয়ে। সন্তানের প্রতি অত্যধিক কেয়ার ও  অত্যধিক প্রত্যাশা যে সন্তানের গলায়ই ফাঁস হয়ে চেপে বসে এর বেশ কটি উদাহরণ আমার কাছের পরিচিত ও  আত্মীয়মহলেই দেখা।এঁদের কেউ কেউ নিজের পড়াশোনা, গান, কেরিয়ার সব ছেড়ে সন্তানের সাথে সর্বদা লেগে থাকেন, প্রতিটি ক্রিয়াকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব নেন এবং প্রত্যাশামাফিক না হলেই অনর্থ বাধান। কেউ বা আবার তেমন কিছু ছাড়েন নি, মানে প্রথম থেকেই নিজের জন্য তেমন কোনও ভুবন গড়ার চেষ্টাই করেন নি, সন্তান ও তার/তাদের ভবিষ্যতই তাঁর নিজস্ব ভুবন ধরে নিয়েছেন। এইবার সন্তান যত বড় হতে থাকে ততই তার ওপরে এই আকাশচুম্বী প্রত্যাশার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে থাকে। 

আরও পড়ুন...

মায়ের কর্তব্য ভিন্ন কিছু নাই

যশোধরা রায়চৌধুরী

স্বামী তো অদ্ভুত আচরণ করছে, সে দেখল।  অপারেশনের দিন দেখতে এল,  তারপর কেমন বিচ্ছিন্ন হয়ে, অন্যমনস্ক হয়ে, কেমন যেন উদাসীন, বাড়ি চলে গেল, একটু মিষ্টি কথাও না বলে। গলা আটকে এল কান্নায়, মেয়েটির। বাচ্চাটা আমাদের দুজনের তো। তাহলে কেন আমাকেই শুধু থাকতে হবে ঠান্ডা সাদা এই নার্সিং হোমটায়। আর তুমি ভিতু আত্মীয়ের মত, অসুস্থা গিন্নিকে দেখে কাষ্ঠ হাসি হেসে চলে যাবে, তারপর পরদিন বলবে, সারা সন্ধে ছেলে বন্ধুরা তোমাকে ঘিরে রেখেছিল মালের আড্ডায়, কেননা, বাচ্চা হলেই গিন্নির প্রেম চলে যাবে, সব অ্যাটেনশন কেন্দ্রীভূত হবে বাচ্চার দিকে, তাই একলা হয়ে যাবে স্বামী, এই ভয়ে সে পারছিল না একা একা সন্ধেটা কাটাতে।

আরও পড়ুন...

হিসেবনিকেশের মাতৃত্ব যুদ্ধ

শিঞ্জিনী সেনগুপ্ত

 কিন্তু শুধু এইভাবেই কি অপ্রমাণ করা যায় যে তোমার শরীর এইসময় অনেকগুলো অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তনের চক্করে পড়ে, এখন তার বিশেষ বিশ্রাম চাই, বিশেষত ঐ সকালের গা গুলিয়ে ওঠা আর হরমনের উথালপাতালের সময়গুলোতে। এইসময় দাঁতে দাঁত চেপে প্রমাণ করতেই হবে নাকি যে নারীর সশক্তিকরণের একমাত্র রাস্তা হল নিজেকে প্রচন্ড সাহসী বলে প্রমাণ করা আর এমন ভাব দেখানো যে চারপাশে সব ঠিকঠাক চলছে, যেন এক্কেবারে আগের মতোই।

আরও পড়ুন...

কারমাইকেল থেকে - দ্বিতীয় পর্ব

পার্থপ্রতিম মৈত্র

 আলোচনায় ফিরি। মধ্যবিত্ত মানুষ এত সুযোগ সুবিধা থাকা সত্বেও সরকারি হাসপাতালের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলেন কেন? আমি কেন এড়িয়ে চলতাম? আমার কারণগুলিকে এইভাবে চিহ্নিত করতে পারি।

 
১. আমাদের চিকিৎসা অভ্যাস। প্রাথমিকভাবে পাড়ার পরিচিত ডাক্তারের কাছে যাওয়া। তিনি সারাতে না পারলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের খোঁজ করা। মানে নিজস্ব পরিচিতি সুত্রে যিনি বিশেষজ্ঞ। এবার তিনি কোথায় কোথায় বসেন খোঁজ করা। নিজের সুবিধা এবং সামর্থ অনুযায়ী অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে তাঁকে দেখানো। সরকারি সিস্টেমে এটা সম্ভব নয়। ওপিডিতে যে ডাক্তার থাকে তাকেই দেখাতে হয়। তাঁর মনে হলে তবে সেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ছাড়পত্র পেলেন।
২. সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবিশ্বাস। সাধারণ ধারণায় দু টাকায় যে চিকিৎসা হয়না তাও চালু করা হয়েছে শুধু মাত্র ভোটের অংক মেলানোর জন্য। শুধু জেলা নয় অন্য রাজ্য থেকেও লোক চলে আসছে। বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড থেকে। ফলে অপরিচ্ছন্নতার ভয়। সংক্রমনের ভয়।
৩. যে অর্থনেতিক শ্রেণী-অসাম্যের অবস্থান থেকে উচ্চবিত্তেরা পোকামাকড়সম দৃষ্টিতে দেখে মধ্যবিত্তকে, আমরাও সেই একই দর্শন ও অবস্থান-লালসা বুকের গভীরে লালন করে চলি। নিম্নবিত্তদের সঙ্গে একই সারিতে দীর্ঘ কিউ, তাদের গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ডাক্তার দেখানোর জন্য অপেক্ষা, এসবই একটা মেন্টাল বেরিয়ার তেরী করে। সরকারি হাসপাতালকে আমাদের প্রাথমিক চয়েসের বাইরে রাখে।
৪. প্রিভিলেজড ক্লাস সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল ছাড়া অন্য কিছু ধর্তব্যের মধ্যেই আনেনা। ভাবতে পারেন কোনও মন্ত্রী-সান্ত্রী-উজির-নাজির আর.জি.কর. বা এন.আর.এস বা মেডিকাল কলেজে ভর্তি হচ্ছেন। আমি প্রথম যেবার সল্টলেক আমরি তে অ্যাডমিশন নিই তখন আমার মাথার ওপর ডিলাক্স স্যুইটে অধিষ্ঠান করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। আর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর তো কোনদিনই বেলভিউ ছাড়া কিছু পছন্দ নয়। মধ্যবিত্ত সমাজের চিরকালীন স্বভাব হচ্ছে উচ্চবিত্তকে অনুসরণ ও অনুকরণ করা। তাই কুঁজোর চিৎ হয়ে শুতে সাধ জাগে। এভাবেই তারা গণ্ডি পেরিয়ে যায়, পেরোতেই থাকে, যতক্ষণ না উলঙ্গ জীবন বা মৃত্যু তাকে নির্বাচন করছে।
৫. হাসপাতালের নিচু তলার কর্মীদের দোর্দণ্ড প্রতাপ। কোন কাজ করতেই টাকা ছাড়া এদের নড়ানো যায় না। প্রফেশ্যনাল অ্যাটিটিউড নেই বলে, কর্মদক্ষতা-কর্মসংস্কৃতি নেই বলে, সেই কাজগুলোও এরা সঠিক ভাবে করেনা। টয়লেটগুলি ব্যবহার অযোগ্য। ঘরগুলি নোংরা, ইত্যাদি প্রভৃতি....
 

আরও পড়ুন...

চণ্ডালিনী বৃত্তান্ত :- পর্ব ৫

আলপনা মন্ডল

 আমার চণ্ডাল রাগ খপ করে চেপে ধরলো সেই হাত -কিন্তু শক্তিতে দুর্বল ধরে রাখতে পারলোনা বেশিক্ষণ । আমার নিজের ওপরই রাগ হতে থাকলো ,নিজের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা হল । কিন্তু এইভাবে হেরে যেতে আমি পারবোনা । একটা ঘিনঘিনে ভাব ,অদ্ভুত ভয় নিয়ে কি করে কাটাবো সারাদিন ?  এর একটা বিচার  দরকার । আমার মনের একদিকে তখন ভয় আমি যদি চ্যাঁচামেচি করি আমার ১৫০টাকার চাকরি তক্ষুনি যাবে । আবার সেই সুন্দরবনের খুদ কুড়োর পান্তা  খাওয়া ,আবার বোনের স্কুলের মাইনে বন্ধ হওয়া ,মাঠে মাঠে গোবর কুড়ানো । কিন্তু আমার মনের অন্যদিক তখন চণ্ডাল রাগে ফুটছে,'সাটার পাটা’ যদি না ফেলে দিয়েছি আমি শালা বড় মাতব্বরের মেয়ে নই । কিন্তু কী করি -ফাঁদ তো পাততে পারি ? দিদিমা নাতি বিষয়ে অন্ধ ,সে যে একটি লোভী ,ভীতু ,শুয়োরের বাচ্চা সে বিষয়ে দিদিমা আমার মত এক কাজের মেয়ের কথা বিশ্বাস করবে কেন ? দাদুকে গিয়ে ধরলাম । 

আরও পড়ুন...

আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস আর লোক আদালতে পুতুল

প্রতিভা সরকার

 আগেই বলেছি মানবীর সংখ্যা লোক আদালতে নগণ্য। পিতৃতান্ত্রিকতা,অবরোধ, অশিক্ষা, গার্হস্থ্য হিংসার বাধা টপকে বাইরের পৃথিবীটা দেখা এখনো শহরের চৌহদ্দির বাইরে গ্রামেগঞ্জের বেশিরভাগ মেয়েদের কাছে স্বপ্ন। লড়াই করতে শিখবে কি ! নিজের ব্যবসা তো দূরস্থান। তাই হঠাৎ কাউকে তেমন দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। যেমন গেল এবারে। আর কাকতালীয়ভাবে সেদিনটা ছিল ৮ই মার্চ।

আরও পড়ুন...

৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন নারীর সম্মান নষ্ট হয়নি ...

ফড়িং ক্যামেলিয়া

 ৭১ এ যে নারীরা ধর্ষিত হয়েছিল তারা তো সম্মান হারায় নি বরং তারাই সম্মানিত, তারাই আমাদের গর্বের প্রতীক। তারা বীর। এই বীরদের ইজ্জৎ হারানো নারী উপস্থাপন করে তাদের কি অসম্মানিত করা হচ্ছে না? ইজ্জৎ তৈরি হয়, মেধায় শ্রমে, মানুষের কর্মে। শরীরে কিংবা মনে আঘাত লাগলে কারও ইজ্জৎ যায় না । বরং ইজ্জৎ যাবে আঘাতকারীর । তার জঘন্য কর্মের জন্য সে সমাজে বেইজ্জত হবে। তাই প্রতিটা পাকি ধর্ষকদের ইজ্জৎ গেছে। এইগুলাই ইজ্জৎ হারানো নষ্ট, ভ্রষ্ট অমানুষ।

আরও পড়ুন...

কেমন আছেন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মেয়েরা?

শ্যামলী শীল

 ১,১০০ জনে্র মৃত্যুর মিছিল, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংস স্তুপের মধ্যে চাপা পড়া হাজার হাজার মানুষের বাঁচার হাহাকার, এরই মধ্যে নতুন দুটি প্রাণের জন্ম-মৃত্যু, হাজার নিখোঁজ আপন জনদের খোঁজে স্বজনদের আহাজারি, টানা সাত-আট দিন ধরে জীবন মৃত্যুর মধ্যখানে পতিত এইসব মানুষের প্রাণ বাঁচাতে শত শত মানুষের প্রাণান্তকর লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত আড়াই হাজার মানুষকে প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার মানবিক জয় বাংলাদশে এক দুঃসহ-মর্মান্তিক স্মৃতি হিসেবে জিয়ে থাকবে বহুদিন।

আরও পড়ুন...

বাংলাদেশে উইমেন মার্চ -- ইতিহাসের সাক্ষী হলাম?

মারজিয়া প্রভা

 “মেয়ে প্রতিবাদ করো”, “মেয়ে তোমার শরীর ট্যাবু নয়”, “সাহস করে ঘুরে দাঁড়াও” এরকম অসংখ্য ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়েছিল মেয়েরা। আর পাঁচ বছর আগেও এটা দেখা যেত না। 

সম্প্রতি বাংলাদেশে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে বিশেষ আইনে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। এতে নারীর উন্নতি আরও কয়েক ধাপ পিছিয়ে যাবে, সঙ্গে অল্প বয়সে মা হওয়া মেয়ের সংখ্যা বাড়বে। নারীর জরায়ু বরাবরের মতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ফেস্টুনে ছিল এই নিয়েও প্রতিবাদ।
আর পাঁচ বছর আগে  একত্রে এত মেয়ে নিজের প্রতিবাদের কথা বলছে এটা ভাবা যেত না। 
তাই পত্রিকায় আসুক আর না আসুক, টিভিতে কেউ দেখুক না দেখুক, সেলিব্রেটি সমাগম হোক আর না হোক বাংলাদেশের প্রথম এই উইমেন মার্চ ইতিহাস হয়ে  থাকবে। 
 

আরও পড়ুন...