গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

ডায়রি নয়, লিখিত এজহার! -পর্ব ১

অভিজিত কুণ্ডু

পরবর্ত্তী সময় “জেন্ডার কনস্ট্রাক্ট” নিয়ে তো অনেক পড়াশোনা করেছি, কিন্তু তখন তো বয়স মাত্র'চার'। কিন্তু ওই বয়সেই এই বোধটুকু তৈরী হয়েছিল যে ছেলেদের এত কোমল হ'তে নেই - এত মায়ামমতা, এত' দয়া দাক্ষিণ্য কি 'ছেলে'দের হ'লে চলে? তাদের ত' হ'তে হবে খাপছাড়া, বেমানান, ডানপিটে, মিটিমিটি, বদমাইশ। তবেই না ছেলে, ব্যাটাচ্ছেলে!! আর এ দেখ - সবকিছুই কেমন মানানসই, বড় সুন্দর, বড় নরম, "ভালো' এবং আদুরে টাইপ!! পাল্টে দাও, পাল্টে দাও একে- !! 

 

আরও পড়ুন...

কারমাইকেল থেকে - প্রথম পর্ব

পার্থপ্রতিম মৈত্র

আমার ওয়ার্ডের সামনের টানা বারান্দা দিয়ে নিচে দেখা যায় স্কুল অব ট্রপিকাল মেডিসিন এর আউটডোর। কারমাইকেল হাসপাতাল। কাতারে কাতারে লোক লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমার ওয়ার্ডের পিছনের টানা বারান্দা দিয়ে একটু দূরে দেখা যায় কলকাতা মেডিকাল কলেজ এর আউটডোর। কাতারে কাতারে লোক লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে। কত লোক? তিন হাজার বা পাঁচ হাজার, বা দশ হাজার? আমার কোনও আন্দাজ নেই। “এখানে স্কিনের দিন সবচেয়ে বড় লাইন পড়ে। এইডস আর থ্যালাসেমিয়ার দিন কম। ডেঙ্গুর সময় তো দাঁড়াবার জায়গা পাবেন না।” সব ইনফরমেশন আমাকে জোগায় রুগীর আত্মীয়েরা, ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্টরা এমনকি নার্সেরাও। দু টাকার টিকিট, ডাক্তার লিখে দিলে ওষুধও ফ্রী। সারাটা দিন হয়তো এখানেই কাটবে, কিন্তু তাতে কী? পাড়ার ডাক্তারও ভিজিট একশো টাকা করে দিয়েছে। ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া। চুলকুনি হলেও খরচ আছে তিনশো টাকা। জ্বরজারি হলেতো কথাই নেই। টেস্টের খরচ আছে কম করে পাঁচশো টাকা। তার চেয়ে একটা দিন নষ্ট হলে কী আর লোকসান।


আরও পড়ুন...

চণ্ডালিনী বৃত্তান্ত :- পর্ব ৪

আলপনা মন্ডল

 রাত হোয়ে গেল অথচ মেয়ে ভেড়ার পাল নিয়ে এখনো বাড়ি ফিরলোনা দেখে আমার বাবা মা কাকা কাকি এদিক ওদিক হ্যারিকেন নিয়ে খুঁজে বেড়াতে থাকলো – আমি তো তখন অনেক দুরে, অন্য এলাকার গম্ভীর মাঠের মাঝে নূতন কাটানো খালের একদম নিচের ঠাণ্ডা মাটিতে অঘোরে ঘুমাচ্ছি। ঘন অন্ধকারে, খালের ভেতরে মানুষ দেখবে কি করে? ওই খালের আসে পাশে নাকি মড়া বাচ্চাদের পুঁতে দেওয়া হত তাদেরই কেউ আমায় নিয়ে গেল নাতো? আমাদের এলাকার পেছন দিকে সেই গম্ভীর মাঠ, মাঠের এক কোনায় সেই নূতন কাটানো খাল, আর খালের ওপারে অন্য পাড়া। এপাড়া থেকে হাঁক পাড়া হচ্ছে কেউকি আমার মেয়ে, ভেড়ার পাল দেখেছো নাকি? মাঠ পেরিয়ে ও পাড়া থেকে উত্তর আসছে কই তেমন তো কিছু দেখিনি। আমি তখন অঘোর ঘুমে, আর আমাকে ঘিরে রয়েছে বড়মা আর বাকি সব ভেড়াদের পাল। সন্ধে হলে পোষা গরু ভেড়া ছাগলের দল নিজেরাই পথ চিনে ঘরে ফেরে, আমার ভেড়ার পাল’ও ফিরে যেতে পারত, আমি তো তাদের খোটায় বেঁধে ঘুমাতে যাইনি – কিন্তু ওই, বড়মার তো তার সন্তানের প্রতি দায়িত্ব আছে। তারা সবাই শেয়ালের ভয় ভেঙ্গে আমাকে গোল করে ঘিরে ধরে পাহারা দিচ্ছে ওই যে আমি বলেছিলাম ‘আমি একটু শুলাম তোমরা আমাকে ছেড়ে যেওনা’।

আরও পড়ুন...