গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

ভারতের নোট এবং ভেতরের গোপন কাহিনী

দেব আচার্য ( মুল রচনাঃ অনিরুধ শেঠি)

 ৫০০-১০০০ এর নোট বাতিল কেন ? মোদীর এবং সরকারী যুক্তি - ফেক ভারতীয় কারেন্সির  মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী,ড্রাগ এবং আর্মস স্মাগলারদের মত সরকারবিরোধী কার্যকলাপের অর্থের স্রোত বন্ধ করে দেওয়া । ৭০ বছর ধরে চলে আসা কালো অর্থ ব্যবস্থার মাজা ভেঙ্গে দেওয়া ইত্যাদি । কিন্তু যদি ধরুন আমাদের নূতন নোট ছাপবার দ্বায়িত্ব সরকার এমন এক কোম্পানির ওপর ন্যস্ত করে যাঁদের ভারত সরকার ইতিমধ্যে পাকিস্তানে নকল  ভারতীয় টাকা  ছাপানোর কাজে সহায়তা করবার অপরাধে ব্ল্যাক লিস্টেড করে রেখেছে ? চমকে উঠবেন না ! পড়তে থাকুন, আপনার -আমার বিপদের কথা । 

আরও পড়ুন...

ডিমনিটাইজেশনঃ সরকারের ধান্দাটা কী?

সোমেন বসু

 কালো টাকা উদ্ধার করা হবে কোথা থেকে? মানে কালো টাকাদের সাকিন কোথায়?

মূলত তিন জায়গায়। এক, বিদেশে। সুইস ব্যাঙ্ক জাতীয় জায়গায়। ডলার বা ইউরোরূপেণ সংস্থিতা।

দুই, এক্ষেত্রে সোনা, ফ্ল্যাট, জমি ইত্যাদি বহুরূপেণ সংস্থিতা। মানে বেহিসেবি টাকাগুলো এইসবে কনভার্ট করে নেওয়া হয় বা হয়েছে।

তিন, বাড়িতে, বা লোকে যেমন বলছে কমোডে, বালিশের ওয়াড়ে নোট হিসেবেই। আরও সুবিধার জন্য ধরে নিই পাঁচশো-হাজারের নোটরূপে বিরাজিত।

বোঝাই যাচ্ছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য কেবলমাত্র তিন নম্বরটা। নিন্দুকেরা বলছে, শতাংশের বিচারে এই তিন নম্বরটা নেহাতই নগণ্য। কত? মাত্র ৬ শতাংশ!! আচ্ছা, ছেড়ে দিন। আমি নিন্দুকের কথা বাদই দিই। কালো টাকার এক্স্যাক্ট স্ট্যাটিস্টিক্সটা যেহেতু ধোঁয়াশাপূর্ণ। তাই বেকার কুযুক্তির অবতারণা হতে পারে।

আরও পড়ুন...

কালো টাকার ওপর সার্জিকাল স্ট্রাইক ও তারপর

দেবর্ষি দাস

 কারা নগদে কেনাবেচা করেন? একটা অংশ অবশ্যই অসাধু ব্যবসায়ীরা, কেননা বৈদ্যুতিন কেনাবেচাতে রেকর্ড থেকে যায়। তবে অনুমান করা শক্ত নয় দুর্বল আর্থিক সামর্থের ক্রেতা বিক্রেতাদের “ক্যাশলেস ইকনমিতে” উত্তরণ হয় নি। তাঁরা ওই ৮৬%-এ আছেন। কেন এতো লোক নগদে কেনাবেচা করেন? কারণ খুব কম লোক ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪%-এর ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট আছে। আবার মোট এ্যাকাউন্টের ৪৩ % সুপ্ত (ডরম্যান্ট) অবস্থায় পড়ে আছে। অর্থাৎ, মাত্র ৩০% লোক ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে একটা ছোট ভগ্নাংশের কাছে আছে প্লাস্টিক টাকা কিম্বা নেট ব্যাঙ্কিং। অর্থাৎ এক বিশাল সংখ্যাগুরু জনতা নগদ দিয়ে কাজকারবার চালাচ্ছে। যাদের কার্ড আছে তারাও অনেক কেনাবেচা নগদে করতে বাধ্য থাকেন। ক্রেডিট কার্ড থাকলেও খুব কম লোকই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পাড়ার বাজার থেকে তিন মুঠো পালং শাক কেনেন, বা রিক্সাওয়ালার ভাড়া চোকান।

আরও পড়ুন...

কালো টাকা, জাল টাকা

পুরন্দর ভাট

 প্রথমে কালো টাকা বা কালো ধন কাকে বলে তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। কালো টাকা বা কালো ধন বলতে কিন্তু আমরা অজান্তেই দুটো পৃথক জিনিসের কথা বলি। একটা হলো কালো আয় অন্যটা কালো সম্পদ। কালো আয় হলো সেই  আয় যা  আয়করের আওতায় পড়া সত্ত্বেও তার ওপর কোনো কর দেওয়া হয়নি অথবা অবৈধ কারবার থেকে করা আয়। কালো সম্পদ হলো কালো আয় জমে জমে যে ধনসম্পদ হয়েছে সেটা। একজন মানুষ কার্যক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে আয় করছে আর সেই আয়ের একটা অংশ জমে জমে হচ্ছে সম্পদ। যেমন কল থেকে যদি টিপ্ টিপ্ করে জল পড়ে সেই পড়ন্ত জল হলো আয় আর সেই কলের  নিচে যে বালতিটা রয়েছে আর তাতে যে জল জমা হচ্ছে সেটি হলো সম্পদ।

আরও পড়ুন...

ডিমনেটাইজেশন ব্লুজ

স্বাতী মৈত্র

 দেশপ্রেমীঃ সীমান্তে সেনারা মারা যাচ্ছে আর তুমি দেশের জন্য একটু লাইনে দাঁড়াতে পারবেনা? নির্লজ্জ! জেএনইউ! দেশদ্রোহী!

জেএনইউ ছাপ ২ঃ ভাই, দশ টাকা ধার হবে? চা খাবো।

যাদবপুর ছাপঃ ভাই, দশ টাকা ধার হবে? চা খাবো। পোতিবাদ করে গলা শুকিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন...

ডেসমন হাঁসদা ও তার সুসমাচার

শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য্য

বারে বারে সে নিজের মাউথ অর্গান তুলে নিয়েছে ঠোঁটে। যা যা সুর শুনছে, সেগুলোকে নকল করবার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। সবসময় পারেনি। কিন্তু কোনও কোনও মুহূর্তে তার সুর হুবহু টিলার মাথার সুরের সংগে মিলে গেছে। রোমাঞ্চিত হয়ে উঠেছে তার সারা শরীর। আর যখনই এটা হয়েছে, ডেসমন দেখেছে টিলার মাথায় লোকগুলো গান বাজনা থামিয়ে দিয়েছে। থামিয়ে দিয়ে তার দিকে যেন তাকিয়ে থেকেছে। ডেসমনের গায়ে কাঁটা দিয়েছে। আপনা হতেই চুপ হয়ে গেছে তার মাউথ অর্গানও। তারপর সে দেখেছে, লোকগুলো সকলে যেন কোমরের ওপর থেকে শরীর একটু ঝুঁকিয়েছে তার দিকে। তারপর আবার শুরু করেছে গান। লোকগুলো কি তাকে অভিবাদন জানাল? ডেসমন ঠিক বোঝে না, তবে এরকম ভংগী সিনেমাতে দেখেছে। দেখেছে মাথায় টুপি কালো কোট আর মাছি গোঁফওয়ালা একটা লোকের সিনেমাতেও। কাউকে সম্মান জানাতে হলে মানুষ এমন ভাবে নুয়ে পড়ে। ডেসমনও মাথা ঝোঁকায়। প্রণাম করে মনে মনে। তারপর আবার মাউথ অর্গান তুলে নেয়।

আরও পড়ুন...

গৃহপালিত প্রেম

আবু মুস্তাফিজ

 স্বপ্নে বন্ধু রাসেলের লগে দেখা। কী যানি কইতেছিলাম। উ কইল, কথা সংক্ষেপ কর। মেয়েরে আনতে স্কুলে যাইতে হইব। 

আমি কইলাম, চল..আমিও যামু…আমারও যাইতে হইব। 

আমরা একটা মাঠের মধ্যে দিয়া হাঁটতে ছিলাম। মাঠে পানি জমছে। বৃষ্টির পানি। আমরা একটা সরু আলপথ দিয়া হাঁটতে ছিলাম। বৃষ্টির পানিতে মাছেরা সাঁতার কাটতেছে। মাছগুলারে চিনতে পারতে ছিলাম। খইলস্যা মাছ। 

আরও পড়ুন...