গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

আমার নবারুণ সহজিয়া

সোনালী সেনগুপ্ত

 এমনভাবে দুহাতের অঞ্জলি ভরে দেবার ক্ষমতা যাঁর করায়ত্ত তিনি কেন মুঠি কৃপণ করে রাখলেন? আর এও মনে হয়, যে জন্য রাখলেন, তা কি সফল হয়েছে কোথাও? তিনি যাঁদের হয়ে সওয়াল করে গেলেন, অ্যাকাডেমিক আলোচনার বাইরে তাঁদের কোনো কাজে কি আসবে নবারুণের লেখা?  কোনো কবি বা কোনো কবিতা তো শেষ কথা বলে না! কোনো প্রতিক্রিয়াও কি আনে? শেষ অব্দি আকাশের বোমারু বিমানকে পরম বিশ্বাসে পাখির ঝাঁক ভেবে নেওয়া মানুষরাই তো আমরা।


আরও পড়ুন...

‘প্রেম ও পাগল’ : অ্যাভয়েডেড এরিয়া

মৌপিয়া মুখোপাধ্যায়

 নবারুণ ভট্টাচার্যের লেখার সঙ্গে সহবাস আমার কাছে সাধারণত খুব স্বস্তিদায়ক হয় না। ঠিক যেরকম চ্যাপলিনের ছবি দেখাটা – মানে ঐ মজা, হাসি, ব্যঙ্গ, কৌতুক, খিস্তি খাস্তার আড়ালে থাকা যে বাস্তবের চাবুকটা আছড়ান এঁরা, সেটার শব্দ যাঁরা শুনতে পান… তাদের পক্ষে এই পাঠগুলো খুব সহজ হয় কিনা জানিনা… কিন্তু আমার অস্বস্তি হয়। তারপরে অনেকক্ষণ বা অনেকদিন নানা ভাবে এই আখ্যানগুলোর চরিত্ররা তাদের নানা ঘটনা নিয়ে ঘুরে ফিরে যাতায়াত করে মগজে, মনে… অস্বস্তি হয়।


আরও পড়ুন...

কবি নবারুণ থেকে পুরন্দর ভাট – একটি যাত্রা, ভিন্ন মাত্রা

জয়তী বড়াল

 বিস্ফোরণ ঘটছিল, আর তা নবারুণের মধ্যেই। বদলাচ্ছিলেন কবি। কবি নবারুণ ভটাচার্যের পরিচয় বদলে যাচ্ছিল কবি পুরন্দর ভাটের মধ্যে। যেমন সাহিত্যসম্রাট ঔপন্যাসিক বঙ্কিম মন খুলতেন আফিংখোর কমলাকান্তের মুখোশের আড়ালে – হয়তো তেমনিভাবেই পুরন্দর ভাট ছদ্মনামটাই আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল সময়দীর্ণ নবারুণের। কবি নবারুণ সিরিয়াস – তার থেকে শতযোজন দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ছ্যাবলামোভরা গদ্যকার নবারুণ। কিন্তু ধীরে ধীরে দুইধারা মিলেমিশে গেছে। তাই ২০১২ সালে ‘ভাষাবন্ধন প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত ‘পুরন্দর ভাটের কবিতা’-তে কোথাও নেই নবারুণ ভট্টাচার্য! সেখানে ফিক্‌ফিক্‌ হেসে কপিরাইটের দাবি করেন ফ্যাতাড়ু ও চোক্তারেরা! সেখানে উৎসর্গ পত্রে লেখা থাকে – ‘সব খচ্চর ও হারামিদের’!


আরও পড়ুন...

আমার নবারুণপাঠ, ব্যক্তিগত

প্রজ্ঞাদীপা হালদার

বহুদিন আগে বইমেলায় নবারুণের প্রেম ও পাগল নামের একটি বই কিনেছিলাম। সেখানে সম্ভবতঃ ‘জনৈক নৈরাজ্যবাদীর সংবাদ’ (বইটি কোনো বন্ধুজনে চক্ষুদান করেছেন, তাই একটু সন্দেহ রয়েই গেলো) নামের একটি আখ্যান ছিলো। একটি নৈরাজ্যবাদী পিওন গোপনে তার নাশকতা ছড়াচ্ছে বিড়ির টুকরো (কারণ বিড়ির কোনো স্টাম্প বা বাট হয় না।) পোস্টবক্সের মধ্যে ফেলে। পরেরদিন চিঠির গায়ে ছোট্ট ছোট্ট পোড়া দাগ। এবং আমার ধারণা হয় যদি আমরা একাধিকজনে বিড়ির টুকরোগুলো পোস্টবক্সে ফেলি, হয়তো একদিন তা সর্বগ্রাসী অগ্নিকান্ড হবে। পুড়ে যাবে গোপন সংকেতবার্তা। পুড়ে যাবে সামরিক তথ্য। কে জানে এই সব ছোট ছোট বিড়ির আগুনের মতো ব্যক্তিগত বিপ্লব একদিন সমষ্টিগত রূপ নেবে।


আরও পড়ুন...

অথ নবারুণ-কথা

সঞ্চারী গোস্বামী

 থাপ্পড় মেরেছেন নবারুণ। হ্যাঁ, একদম কষে সপাটে থাপ্পড় মেরেছেন। বাঙ্গালির চিরকালের শুয়ে বসে আরাম করে প্রেম-থ্রিল-কমেডির কাহিনি ও কবিতা পড়ার অভ্যাসের মূলে আঘাত করেছেন তিনি। এবং একদম ঠিক করেছেন।

প্রথমেই একটা স্বীকারোক্তি আছে। আমি জানিনা মহিলা পাঠক বলে কোনো আলাদা বিভাগ আছে কিনা, তাই স্বভাবতই মহিলা পাঠকের বিচারে নবারুণের লেখার বিশ্লেষণ করতে আমি অক্ষম। আমি বরং একজন সাধারণ পাঠক হিসাবে নবারুণকে দেখব। মানে তার এই থাপ্পড় আমার কেমন লেগেছে আর কি!

আরও পড়ুন...

নবারুণ ভট্টাচার্যের কবিতা

শাশ্বতী মিত্র

 অথচ সেই মুহূর্তে বাস্তব তার ‘ইন্টারোগেশন’ নিয়ে তাঁর সমস্ত ইচ্ছেকে ধূসরিত করছে, না মানলেও রাষ্ট্রদ্রোহিতার কলঙ্ক লাগানো শহীদদের প্রতি বর্বরোচিত আক্রমণের নগ্নতায় বিপন্নতা দেখা দিচ্ছে। কবিতাকে সশস্ত্র করছেন আদিবাসীর বল্লম, চর দখলের সড়কি, বর্শা, তীক্ষ শর, বন্দুক ও কুরকি দিয়ে। আবার কয়লাখনির মিথেন অন্ধকারে হিরের মতো জুলন্ত চোখের শাসানির যে ভয় শাসককে দেখালেন তা দেশকালের সীমানার বাইরে চির প্রতিস্পর্ধী এক কবির। নবারুণ স্থির থাকবেন কী করে, তিনি যে দেখেছেন তরাই থেকে সুন্দরবনের সীমা সারা রাত্রি কান্নার পর শুষ্ক দাহ্য হয়ে আছে। (এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না)


আরও পড়ুন...

সিঙ্গুর মামলা ও আমাদের প্রাপ্তি

সরসিজ দাশগুপ্ত

 কিন্তু, অধিগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটাই যে বেআইনি ছিল, এই ব্যাপারে উনি কোনো সন্দেহ রাখেননি। ওনার মতে, যেহেতু আগেই জমি চিহ্নিত হয়েছিল, ও ক্যাবিনেট মিটিঙে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছিল, সেহেতু চাষিদের অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে থাকা অসন্তোষ, অভিযোগের বা আপত্তির, তৎকালীন ল্যান্ড-কালেক্টর কোনো বিচার করেননি, আর, মেকানিকালি উপেক্ষা করেছেন, বা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আগে থেকেই নিয়ে ফেলা সিদ্ধান্তের ওপর সিলমোহর ফেলতে একটা আই-ওয়াশ বা ছলনার মাধ্যমে চাষিদের ও জমির মালিকদের অভিযোগের বিবেচনা করা হয়েছিল, যার অন্তিম পরিণতি, সেই অভিযোগগুলির উচিত বিবেচনা না হওয়া। কমপেনসেশন বা ক্ষতিপূরণের পরিমাণ যেভাবে ঠিক হয়েছে সে নিয়েও উনি প্রশ্ন তুলেছেন। অতএব, ওনার মতে, জমি অধিগ্রহণ জনস্বার্থে হয়ে থাকলেও, অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি।

 

আরও পড়ুন...