বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কাজের মেয়েরা

মুনমুন বিশ্বাস

“আমায় ওরা খুব মেরেছে দিদি, দেওয়ালে মাথা ঠুকে দিয়েছে। চারটে পাঁচটা লঙ্কার জল খাইয়ে বুকের ওপর পা তুলে দিয়ে বলেছে- বল চুরি করেছিস। স্বীকার কর। আমার ভালো লাগতো না ও বাড়িতে কাজ করতে। খুব কথা শোনাত, সারাক্ষণ বকাবকি করত.....” 

বন্দনা মহাকুর, বয়েস ১৫ বছর। বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন। হতদরিদ্র বাবা মার ৫ মেয়ে, অথচ গায়ে কাজ নেই। তাই কলকাতায় সব মেয়েকেই কাজে পাঠানো। ছোট মেয়ে বন্দনাকে দমদম শেঠবাগান এর শ্রাবণী সাহা সঞ্জয় সাহার বাড়িতে ২৪ ঘণ্টার বাচ্চা দেখার কাজে দেয় মাস ছয়েক আগে। মাইনে পাওয়ার কথা ছিল পনেরো’শ। কাজে ঢোকার দেড় মাসের মাথায় একবারই কলকাতার বাসন্তি কলোনিতে মেজোদিদির বাড়ি এসেছিল বন্দনা। দিদির সাড়ে চার বছরের ছেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে- একদিনের জন্য। মাইনেও মিলেছে মাত্র একমাসের। একটা মেয়ের পেটের চিন্তা করতে হচ্ছে না তাতেই খুশি ছিল গরীব বাবা মা। কিন্তু গত মাসে হঠাত ফোন, বাবা-মা-দিদিকে ডেকে শ্রাবণী সাহা জানায়, তোমাদের মেয়ে দেড় লাখ টাকার সোনার গয়না চুরি করে তোমাদের দিয়ে এসেছে। মাস দুই আগে যখন বাড়ি গিয়েছিল তখন। তারপর তাদের সামনেই শুরু হয় মেয়েকে মারধর। আমরা গয়না নিইনি, আর আমার বোন যদি গয়না নিয়ে থাকে তো ওকে পুলিশে দাও, তোমরা আটকে রেখে মারধর করছ কেন? একথা বলায় দিদি পূজাকেও মারধর করে আটকে রাখে একরাত একদিন, সঙ্গে সাড়ে চার বছরের ছোটছেলে। বলেছে বেশী কথা বললে তোর ছেলেকে দুলাখ টাকায় বেচে দেব। চুপচাপ দেড়লাখ টাকা এনে দিবি, নাহলে তোর বোনকে ছাড়বো না। কোন যোগাযোগ রাখতে পারবি না। পাড়ার দশ বারো জন লোক মিলে কোনমতে পরের দিন প্রথমে পূজার ছেলে ও পরে পূজাকে ছাড়িয়ে আনতে পারে পরের দিন রাতে। বোনকে বাঁচাতে পূজারা এরপর অভিযোগ দায়ের করতে যায় দমদম পুলিশ ফাড়িতে। পুলিশ সব শুনে বন্দনার জামাইবাবুকে নিয়ে সোজা চলে যায় ওই বাড়ি। ফিরে এসে বলে তোমাদের মেয়ে চুরির দোষ মেনে নিয়েছে, এখন বাচতে চাও তো এরা যা বলছে সব মেনে নাও। দেড়লাখ টাকা এনে দাও আর মেয়েকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাও। না হলে মেয়েকে এদের হাতে তুলে দাও, কোন যোগাযোগ করতে আর যেওনা। আর এর পর থানায় বিরক্ত করতে আসলে এখানেও মার খাবে।

পূজারা এরপর পাড়ার ক্লাব, পার্টির মহিলা সমিতি, এলাকার ছোটবড় দাদা দিদি সবার কাছে গেছিল সাহায্যের জন্য। কিন্তু ভোটের মরশুমে লাভের আশা না থাকায় পাত্তা দেয় নি কেউই। স্থানীয় এক সংগঠনের সুত্রে আমরা বিষয়টা জানতে পারি গত ১৭ই মে। ঘটনার মাস খানেক বাদে। তারপর থেকে ছোটাছুটি শুরু। প্রথমে CWC (Child Welfare Committee)-র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয় মেয়েটিকে উদ্ধার করার আর্জি নিয়ে। CWC দশ দিনেও কোন পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। এরপর শ্রমিক মেয়েদের নিয়ে কাজ করা ‘অহল্যা’ পত্রিকার পক্ষ থেকে ব্যরাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। দুতিন দিন যাতায়াত করে শেষে গত আঠাশে মে কমিশনারেটের চিঠি নিয়ে দমদম থানায় অভিযান করেছিলাম আমরা। সঙ্গে বাসন্তী কলোনির জনা চল্লিশেক কাজের মেয়ে সহ আরো অনেক বন্ধুরা। পুলিশের সমস্ত গড়িমশি টালবাহানার পর বন্দনা তার মায়ের কাছে ফিরেছে। কিন্তু শুধু তো বন্দনা নয়, ওই বাড়িতে কাজ করে আরো তিনটি মেয়ে, নানা বয়েসের। বন্দনার মুখেই শুনলাম আর আমাদের বন্ধুরা সেদিন বন্দনাকে আনতে গিয়ে চাক্ষুষ দেখেও এসেছে বন্দনার থেকেও ছোট একটি মেয়ের আরো করুণ অবস্থা। পাড়ার লোকেদের দাবী এর আগেও একটি পরিচারিকা মেয়েকে প্রেশার কুকারের বাঁট দিয়ে মারতে মারতে বাড়ির বাইরে বের করেছিল ওই পরিবার।

কথোপথনটি ব্যক্তিগত হলেও বন্দনা কিন্তু  কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত ঘটনা নয়।  কেউ নথি না রাখলেও এরকম আরো অনেক ঘটনা যে ঘটছে তা ‘কাজের মেয়েদের’ সাথে খানিক যোগাযোগ থাকলেই জানা যায়। ছোটবড় মানসিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এখনও এ পেশার প্রতিদিনকার বাস্তবতা। যেমন জোর করে বা মিষ্টি কথায় বাড়তি কাজ করিয়ে নেওয়া, না করতে চাইলেই অশান্তি বা কাজ খারাপ বা ভুল হওয়ার অজুহাতে চেঁচামিচি। কিছু বন্ধুদের উদ্যোগে গড়া মেট্রোপলিটনের সংগ্রামী গৃহকর্মী ইউনিয়ন (প্রস্তুতি কমিটি)র এক সদস্য সালমাদি (যিনি বাঙালি ভদ্রলোকদের বাড়িতে রান্নার কাজ করার জন্য অণিমা নাম নিতে বাধ্য হন!) কিছুদিন আগে যখন তাঁর কর্মক্ষেত্রে রান্না করছিলেন তখন তাঁকে বাসন মাজার বাড়তি কাজ করতে বলা হয়। তিনি জানান যে তাঁর পরপর কয়েকটি কাজ রয়েছে ফলে তিনি বাড়তি কাজ ওই মুহূর্তে করতে পারবেন না। পরে এসে করে দেবেন। গৃহকর্ত্রী জেদ ধরে যে না, তক্ষুণি করতে হবে। সালমাদি রাজি হন না। তখন এক কড়াই গরম তরকারি সালমাদির গায়ে ঢেলে দেওয়া হয়। তাদেরই আর একজন মিনতিদিকে গয়না চুরির ভুঁয়ো অভিযোগ দিয়ে একরাত্তির জেলখাটানো হয়েছিল। যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার উদাহরণতো আছেই। জয়নগরের সার্র্কাস মাঠে এক বাড়িতে গৃহশ্রমিকের কাজ করত ইয়াসমিনা গাজী, বয়েস ১২। মাস তিনেক আগে একদিন সকালবেলায় তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ইয়াসমিনার মৃতদেহ নিয়ে থানায় আসা হয়েছিল। তার দাদার কাছ থেকে জয়্নগরের পত্রিকা সংগঠক কিছু বন্ধু জানতে পেরেছিল যে তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঐ বাড়িরই এক যুবক। শোনা যায় তাকে পুলিশ এরেস্ট করতে বাধ্য হলেও পরে ছেড়ে দিয়েছে। এই ঘটনাতেও প্রথম থেকেই থানার ভয়ানক উদাসীনতা ছিল প্রথম থেকেই।  গতবছর সেপ্টেম্বারের আরো একটি ঘটনা - দুটি নেপালি মেয়ের গুরগাওয়ের এক সৌদি পরিবারে কাজ করতে গিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা অনেকেরই মনে থাকবে। এরকম ঘটনা তলায় তলায় ঘটছে অনেক। খবরের কাগজেও তার সামান্ন দুএকটারই দেখা মেলে। এই ঠিকে কাজে নেওয়ার সাথেই যুক্ত হওয়ার থেকে পাচার হয়ে যাওয়ার উদাহরণও মেলে বহু। 

কলকাতা ও তার আশেপাশের বেশীরভাগ কাজের মেয়েরা এখনো ঘণ্টায় ২০ টাকা মজুরির নিচে মধ্যবিত্ত/উচ্চবিত্ত বাড়িগুলোতে কাজ করে। হাতে হাজা, হাটুতে ঘা, বাত নিয়ে। কাজের কোন নির্দিষ্ট মাপ বা নিয়ম এখানে নেই। মাসে ৪ দিন ছুটিও জোটেনা (বড়জোর দুদিন) অনেকেরই। অসুস্থ হয়ে একদিন কাজে না গেলে মাইনে কাটা যায়। নানা ছুতো দেখিয়ে পূজোর মাসে বোনাস দিতে চায় না কাজের বাড়ির বৌদি দাদা রা। কখনো তুমি ৬ মাস কাজ করো নি বোনাস পাবে না, কখনো পুজোর মাসের আগে আগে নানা বাহানায় কাজ ছাড়িয়ে দেওয়া। এদের মুখেই শোনা পুজোর আগেই চুরির অপবাদ দিয়ে কাজ ছাড়ানোটা খুব ঘটে। তারপর ভাঙা কাপে চা খেতে দেওয়া, প্লাস্টিকের ঠোঙায় জলখাবার, বাথরুমে যাওয়া মানা, জল পর্যন্ত খেতে দেয় না অনেক বাড়ি। ভালো কাজের বাড়ি হলে ওরাই আবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয় তবে শ্রমিকের অধিকার নয় পুরোটাই পয়সাওয়ালা চাকরিজীবী বাড়িগুলোর দয়া দাক্ষিণ্যে চলে এদের জীবন। তারপর উপরি পাওনা এই চুরি ছিনতাইয়ের তকমা আর শ্রাবণী সাহা দের মত মানুষদের টাকার লোভ আর জল্লাদ সুলভ মানসিকতা। আর একবার তকমা জুটলে কোন পার্টি, কোন থানা, কোন ভদ্দরলোক কি বিশ্বাস করবে এদের! বলুন তো? কারণ ‘ছোটলোক’দের তো জন্ম তকমা চোর-ছ্যাঁচোড়ের। এখানেই আসলে কাজ করে যায় আমাদের ‘ছোটলোক’ বিরোধী মধ্যবিত্ত শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি। আছে আরো অনেক মাত্রা। মর্যাদা এতই কম যে এই কাজের মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের শ্রমিক বলে মনে করতে পারেনা। আর ঘরে বাইরে পিতৃতান্ত্রিক শোষণের শিকার মেয়েরা কাজের বাড়ির দুর্ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়েই উঠতে পারে না। সমস্ত ধরণের সামাজিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত দূর দূর থেকে কাজে আসা মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতা যত বেশী, সেই অনুপাতেই চলে দাসত্ব। এই পেশার পরিশ্রম এত বেশি আর মজুরি ও মর্যাদা এত কম যে এর থেকে বেশ্যাবৃত্তিকেও অনেকে সম্মানজনক এবং শোষণহীন মনে করে অনেক মেয়েরাই। বছর কয়েক আগে ইউনিয়ন বহির্ভূত যৌনকর্মীদের মধ্যে করা প্রথম সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গেছে যৌনকর্মীদের মধ্যে ৭১ শতাংশ এই পেশায় আসার আগে গৃহ্শ্রমিকের কাজ করতেন। পেশা বদলের পিছনের পরিস্থিতিটা এইরকমই।  

গৃহশ্রমিক মেয়েদের জন্য কোনরকম সামাজিক সুরক্ষার বা শ্রমিকের স্বীকৃতির ব্যবস্থা এখনো করতে পারেনি এ রাজ্যের সরকার। আমাদের দেশ ভারতবর্ষ ILO স্বীকৃতি সত্ত্বেও এই কাজের মেয়েদের এখনও শ্রমিক হিসেবে স্বীকার করেনি। অথচ এ দেশে পরিষেবা ক্ষেত্রে যত মেয়ে কাজ পায়, তার দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে গৃহশ্রমিকের কাজ। তবে সম্প্রতি আসা অসংগঠিত ক্ষেত্র শ্রমিক সুরক্ষা আইনের আওতায় আনা হয়েছে গৃহশ্রমিক মেয়েদের। কর্মস্থলে যৌন হেনস্থা বিরোধী আইন অনুযায়ীও সুরক্ষা পাওয়ার কথা এই মেয়েদের। কিন্তু কীভাবে তা নিশ্চিত নয় এখনো। মহারাষ্ট্র, বিহার, কর্ণাটক, কেরালা ও সম্প্রতি রাজস্থানের মত রাজ্যে গৃহশ্রমিক মেয়েদের ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে ওয়েলফেয়ার বোর্ড। মহারাষ্ট্র সরকার ২০১৩ সালে শুরু করে গৃহশ্রমিকদের নথিভুক্তকরণের কাজ, ন্যূন্তম মজুরি মাসে ৮ ঘণ্টা কাজের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৬৫০০ থেকে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত। এই বছরই রাজাস্থান সরকার ঘোষণা করেছে একিভাবে মাসে রোজগার হতে লাগবে কম সে কম ৫৬৪২ টাকা। আমাদের রাজ্যে এখনো সেসব দূরস্থ। কেন্দ্রীয় লেবার ওয়েলফেয়ার দপ্তর সম্প্রতি গৃহশ্রমিক সম্পর্কে জাতীয় নীতির খসড়া তৈরি করে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী বন্দারু দত্তাত্রেয়র দপ্তরে পাঠিয়েছে। তাতে মাসে অন্তত ৯০০০ টাকা রোজগার ও বছরে অন্তত ১৫ টি সবেতন ছুটির সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু সুপারিশ থাকলেও কিভাবে তা প্রয়োগ হবে বা হচ্ছে তাও বেশ কঠিন প্রশ্ন। এই কাজের মেয়েদের একটা বড় অংশ সবরকম সামাজিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত গরীব হওয়ার কারণে আর মেয়ে হওয়ার কারণে। টাকা পয়সার হিসেবও অনেকে বোঝে না। এদের সংগঠিত করতে না পারলে লড়াই করে জেতা অধিকার প্রয়োগ করা যাবেনা। জাতীয় নীতি তে সুপারিশ আছে গৃহশ্রমিক নিয়োগ সেন্টার বা সংগঠনের মাধ্যমে কাজে নিযুক্ত হোক। কিন্তু সেন্টার একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে আর এদেরই পরিশ্রমের পয়সা থেকে মুনাফা তুলবে। পশ্চিমবঙ্গে লড়াইটা যদিও আরো প্রাথমিক স্তরে, নতুন সরকার শপথ নিয়েছে সদ্য। নতুন মরশুমে গৃহশ্রমিক মেয়েদের ‘শ্রমিক স্বীকৃতি-ন্যূনতম মজুরি-ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ এর দাবীতে সোচ্চার হওয়া যায় কিনা সেটাই দেখার।

 



3106 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 6 -- 25
Avatar: sm

Re: কাজের মেয়েরা

আপনি তো সব কিছুতেই উল্টো বুঝলি রাম! একবার ও বলেছি; যে কাজের লোক টেবিলে বসে খেতে পারবে না? বলেছি একসাথে বসে খাওয়া বা লোক দেখানো আদিখ্যেতার কথা। আর তুমি তুমি করে রেফার কে করলো? বয়েসে খুব ছোটো হলে তুমি বলতেই পারি।আমার ড্রাইভার কে আমি তুমি বলি।
অনেক বাজারের দোকানি,হকার আমাকে তুমি( আমার থেকে বয়সে নবীন হলেও) করেই বলে। তো, কি হলো?
Avatar: sm

Re: কাজের মেয়েরা

আর হ্যা, আমার ড্রাইভার ও আমাকে "দাদা তুমি" করেই কথা বলে।
যেমন দাদা,আজ ক টায় গাড়ি বের করবো? কোথায় যাবো? এই রকম আর কি।
Avatar: dc

Re: কাজের মেয়েরা

চেন্নাইতে একটা ব্যাপার জেনে এবার ভারি ভাল্লাগলো। ভোটের আগে নাকি পলিটিকাল পার্টিগুলোর কয়েকটা (ডিএমকে আর এডিমকেও) বেশ কিছু এলাকায় গৃহকর্মীদের জিগ্যেস করেছে ওনাদের কোন অসুবিধে হচ্ছে কিনা, কোন বাড়িতে কেউ দুর্ব্যাবহার করছে কিনা ইত্যাদি। আমাদের বাড়িতে যিনি কাজ করেন তাঁর কাছে জানলাম। জানিনা এটা পুরো তামিল নাড়ুতেই হয়েছে কিনা, বা ভোট ছাড়া অন্য বছরগুলোতেও এরকম খোজখবর করা হবে কিনা। তবে মেইন পলিটিকাল পার্টিগুলো যদি এরকম উদ্যোগ নেয় তো সেটা খুব ভালো হবে।
Avatar: pi

Re: কাজের মেয়েরা

আপনি রেফার করার মানে জানেন না।
Avatar: sm

Re: কাজের মেয়েরা

ঠিক আছে, জানিনা।খুশি?
Avatar: রিমি

Re: কাজের মেয়েরা

তবে নিজের বাড়ির কাজ করাতে কে কাকে কত টাকা পারিশ্রমিক দেবে, এই নিয়ে পাড়ার বিজ্ঞজনের হস্তক্ষেপ সাধারণ ঘটনা। একটু গল্প বলি। আমার ছোটবেলায় রাধাদিদি আমাদের বাড়ির কাজ করেছেন টানা বছর দশেক। "মেয়েরা কেবল বাড়ি বসে খায়", এই অজুহাতে ওনারা চোদ্দ বছর বয়েসের মেয়ের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে আমার মা এবং পাড়ার এক মাসীমা মেয়েটিকে রাধাদিদির সাথে নিজেদের বাড়ির কাজে বহাল করেন। শর্ত এই যে ওকে স্কুলে দিতে যেতে হবে। সেই সময় কাজটা খুব ভালো মনে হয়েছিল, কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, বিয়ে দেওয়া আটকাতে চোদ্দ বছরের বাচ্চাকে কাজে নেওয়া, এবং তার পড়াশুনার কোয়ালিটেটিভ দিকটা না দেখে শুধু স্কুলে যেতে দেওয়া হবে, এইটুকুতে ফোকাস করে খুব বেশি লাভ হয়েছিল কি? অবশ্য পুলিশ না ডেকেও বিয়ের থেকে "বাঁচানো" গেছিল*, কিন্তু সেও বেশিদিনের জন্য না। আঠেরো পুরতে না পুরতে মেয়েটির বিয়ে দেওয়া হয়, এবং কুড়িতে বাচ্চা হতে গিয়ে সে মারা যায়।

* ভদ্রলোকেরা পুলিশ ডাকায় বিশ্বাস করেন না। এবং সামাজিক বিষয়ে পুলিশের মোটামুটি যা পারফরমেন্স, তাতে তাদের না ডেকে আখেরে খুব বেশি লোকসান হয় বলেও মনে হয় না
Avatar: PM

Re: কাজের মেয়েরা

আমার বাড়িতে কাজের দিদির কামাই নিয়ে হেব্বি অষন্তি হতো। বাড়ির কাছেই থাকেন। রোজকার ঝামেলায় পরেশান হয়ে ( বাড়ির মহিলারা ঝামেলায় থাকলে পুরুষদের এমনি-ই হাতে হারিকেন হয়) নিজে ইন্ভলভ্ড হয়ে সেন্টারের লোক রাখি তারপর--- ৬ ঘন্টায় দিনে ২২০ টাকা, বছরে ২০ টাকা করে বাড়ে। না এলে টাকা নেই। ইনি বিহারী, বেশ দুর থেকে ট্রেনে আসেন।কিন্তু কামাই করেন না বল্লেই চলে বছর তিনেক ধরে। তিনিও খুশী , বড়ির লোকও খুশী আমিও খুশী।

রান্নার দিদি লোকাল। বছর দশেক ধরে সন্ধ্যে বেলা রান্না করেন , সমস্যা নেই খুব একটা। আমার ছেলে মেয়েও ওনার বাড়ি যায়/ খায়, উনিও আমাদের সাথে খান যখন আমি সন্ধ্যেবেলায় বাইরে থেকে খাবার কিনে বাড়ি ফিরি।

আমার মা/বৌ ওনাদের মাসি/দিদি "তুমি" বলেই ডাকে, আমি আর বাবা "আপনি" বলে সম্বোধন করি। খুব অন্যায় কিছু হয় কি? কে জানে বাবা ঃ(
Avatar: pi

Re: কাজের মেয়েরা

কাউকে সম্বোধন করা আর অন্য জায়গায় কাউকে রেফার করার তফাতটা কি বোঝা এতই মুশকিল ?


অমুক ডাক্তার, অমুক শিক্ষক, কোনো অফিস কলিগ কে অন্যত্র রেফার করার সময় ও করলো, বললো করে তো বলিনা !
Avatar: sm

Re: কাজের মেয়েরা

বলি তো। ডাক্তার বাবু চেম্বার শেষ করে এইমাত্র করে চলে গেলো।অফিস ফাঁকা করে কর্মীরা মিছিলে গেছে। আজ অফিসার আসে নি। থানায় কোনো পুলিশ ছিল না।
বাংলা কি এতোই কঠিন?
Avatar: pi

Re: কাজের মেয়েরা

হ্যাঁ বলি তো। অমুক ডাক্তার আসবে, কাজ করবে, বেরিয়ে যাবে। শিক্ষক আসবে, কাজ করবে, বেরিয়ে যাবে। বলি কি ?

নাঃ, বেশিরভাগ লোক্জনকেই এখানে কাজ করেন টরেন বলেই রেফার করতে দেখেছি।

পার্সোনালি কে কী সম্বোধন করেন তাই নিয়ে এখানে কোনোরকম বক্তব্য রাখিনি। যদিও সেটাও এখনো অনেককে করতে দেখি। রিক্সাওয়ালা, মুচির সাথে তুই তোকারি। না, না, কোন পুরানো সখ্যতা, হৃদ্যতা ছাড়াই। বয়সে কম বলেও না, বয়সে বড় লোঅকজনের সাথেও।
চাকরদের সাথেও আগে করা হ্ত শুনেছি, পড়েছি। নিজের কানে শোনার সুযোগ হয়নি। তবে কাজের দিদিদের ক্ষেত্রে বৌদি, দাদাবাবু আপনি আর কাজের দিদিকে তুমি বলাও বহু শুনেছি ( বয়সে কম না হলেও)।
আর হ্যাঁ, ব্যক্তিক্রম উদা শুনিয়ে লাভ নেই, ব্যতিক্রমও দেখেছি তো বটেই !
Avatar: sm

Re: কাজের মেয়েরা

আবার বাংলা শেখাতে হবে দেখছি। মহা মুশকিল! যখন কোনো বিশেষ ব্যক্তি কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়; তখন আপনি বলাই শ্রেয়।কিন্তু যখন কোনো শ্রেণী বা গোষ্ঠী কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়; তখন সেটা আসবে, যাবে এরকম টাই হয়ে থাকে,অনেক সময়, চলতি বাংলায় ।
যেমন চেকার টিকিট চেক করতে আসবে; না দেখাতে পারলে ফাইন নেবে।
রেফারি বাঁশি বাজালে; খেলা শুরু হবে। কোনো আপনি উল্লেখ আছে কি?

এবার আমার পোস্ট-
"কাজের লোকেদের সঙ্গে প্রফেশনাল এটিচিউড রাখা উচিত। ঘন্টায় 50 টাকা-ব্যাস।আসবে, কাজ করবে, বেরিয়ে যাবে।নো আদিখ্যেতা, নো ফালতু পি এন পি সি ।যারা বেশিক্ষন ধরে কাজ করবে;রেট যেন এক হয়।খাবার, দাবার যেন বাড়ি থেকে নিয়ে এসে খেতে পারেন।"
---
এখানে যতক্ষণ শ্রেণী উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, ততক্ষন আপনি সম্মোধন করা হয়নি। কিন্তু লাস্ট বাক্য টি তে যেই ব্যক্তি উদ্দেশ্য করা হয়েচে - আপনি সম্মোধন করে বলা হয়েছে-" খেতে পারেন"।
নিশ্চয় দৃষ্টি এড়ায় নি?আপনার পোস্টের পর কিন্তু কোনো পরিবর্তন(এডিট) করি নি।
Avatar: pi

Re: কাজের মেয়েরা

নাঃ, মাস্টারমশায় , বলিয়েই ছাড়লেন ঃ)

'যারা বেশিক্ষন ধরে কাজ করবে;রেট যেন এক হয়।খাবার, দাবার যেন বাড়ি থেকে নিয়ে এসে খেতে পারেন।"
---
এটা তো বাংলা হিসেবেই ভুল। হয় যাঁরা কাজ করবেন , খেতে পারেন হবে নয় কাজ করবে, খেতে পারে ঃ)

রেফারি বাঁশি বাজালে খেলা শুরু হবেই হয়। রেফারি বাঁশি বাজালেন খেলা শুরু হবে বলেই কিছু হয়না ঃ)
এর সাথে তুমি আপনি কারুরই কোন সম্পক্কো নাই।

কিন্তু আপনি তো খুশি ছিলেন, আবার লেখাটাকে ঘাঁটা কেন ? ঃ(
Avatar: sm

Re: কাজের মেয়েরা

পুরো ঘেঁটে ঘ!
রেফারি বাঁশি বাজাবেন; তারপর খেলা শুরু হবে।
চেকার টিকিট চেক করতে আসবেন; না দেখতে পারলে ফাইন ।
এ দুটো ই ঠিক বাক্য। আগের দুটো বাক্য ও ঠিক।চলতি তে বেশি ইউজ হয়।এই আর কি!
আমার শেষ বাক্য তে "আপনি" উল্লেখ ছিল নিশ্চয় লক্ষ করেছেন? অতো রে রে করে ঝাঁপিয়ে পড়ার কিছু ছিল না।যদিনা অনবধান বশত লক্ষ না করে থাকেন। এতে করে ঐ হোলিয়ার দ্যান ; ইত্যাদি প্রভৃতি।
আর আপনি খুশি কিনা জিগায়ে ছিলাম; আমার খুশির কথা বলিনি তো! খুঁটিয়ে পড়তে হব্যা তো।

Avatar: pi

Re: কাজের মেয়েরা

মানে, এত নিটপিকিং এর কোন সাধ আমার নাই, আপনার বাংলায় ভুল ধরারও । কিন্তু আপনি সেই লাইনেই লেগে থাকলে কী আর করা। ঃ'(
Avatar: sm

Re: কাজের মেয়েরা

আমার তো মনে হলো আপনি ই ভুল ধরতে এলেন। এখন আমাকেই দোষারোপ করছেন। ঠিক আছে তাই ই সই।
গান শুনুন-আমার ফেভারিট ।

https://www.youtube.com/watch?v=MtPPyYZPz0k
Avatar: সে

Re: কাজের মেয়েরা

বাংলা ভাষা থেকে তুই তুমি আপনি উঠিয়ে দেওয়া বেস্ট। ইংরিজির মত ইউ (তুমি) সবাইকে। ল্যাটা চুকে যায়।
Avatar: pi

Re: কাজের মেয়েরা

বাঃ, গানট ভাল লাগল। আগে শুনিনি।
Avatar: সোমরাজ

Re: কাজের মেয়েরা

বেশ বড় পরিবারে বেড়ে উঠেছি আমি, সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ জন, তার মধ্যে জন্মাবধি দুই দিদি কে দেখছি, তারা কিন্তু আমার পরিবারের কেউ ছিলোনা আবার বলতে পারেন তারা ছিলো খুব কাছের মানুষ, মা কাকিমা দের রান্নায় সাহায্য করা থেকে আমাদের মতন বাচ্চাদের কোলে পিঠে বড় করার সব দায়িত্ত ছিলো তাদের, শুনেছি তারা নাকি ছোট থেকেই আমাদের বাড়িতে মানুষ, তাদের মা ও নাকি তাই ছিলো, তার বিয়ে দেওয়ায় আমার দাদু, আর এই দুই দিদির থাকা পড়াশুনো সব আমাদের বাড়িতে, কি করতে হবে কেউ তাদের কোখনো বলে দেয়নি, তারা যে পড়িবারের কেউ নয় সেটা হয়ত সবাই ভুলে গেছিলো, আমি তাদের দুজনকেই তুই বলতাম নাম ধরে, তারা ছিলো আমার খেলার সাথী.
আজ আমার নিজের দুই জনের সংসার, কলকাতা থেকে কতদুরে, তবুও তাদের সাথে ফোনে কথা হয়, তারাও তুই করেই বলে আমিও তাই.
তাদের বিয়ে দিয়েছে আমার বাবা কাকু রা মিলে, তারা আজ সুখী কিন্তু বাবার শরীর খারাপ শুনে নিজের সংসার ফেলে দিনের পর দিন পরে থাকে বাবার বিছানার পাশেই শুয়ে থাকে, মা বকা দেয় বলে বাড়ি যা, তারা মা কে উলটো শুনিয়ে দেয়, বুঝিয়ে দেয় তাদের অধিকার...
আমার এখানে একটি মেয়ে কাজ করে, আমায় দাদা বলে, ওর সাথে গল্প করি আর পুরানো দিনের কথা মনে পরে..
সত্যি এদের ভালো হোক, আর লেখা থেকে এসব জেনে খুব খারাপ লাগছে :(... যাদের কোলে পিঠে বড় হয়েছি তারা তো আমার আপন বলেই শিখেছি, কাজের লোক বলে আলাদা কিছু হয় তোখন বুঝতাম না যে.....
Avatar: d

Re: কাজের মেয়েরা

Avatar: রুপা বিশ্বাস

Re: কাজের মেয়েরা

আমি একটা কাজ করতে চাই রুপা বিশ্বাস

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 6 -- 25


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন