বিশেষ বিশেষ খবর

পরিচয় পাত্র

 ২০১৯ এ তাঁরা ক্ষমতায় ফিরবেন কিনা এই প্রশ্ন তোলায় প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরব থাকেন। এইসময় দৃশ্যতই ঘর্মাক্ত প্রধানমন্ত্রীকে গলায় জড়ানো জাতীয় পতাকায় ঘাম মুছতে দেখা যায়। এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর হয়ে প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য ইশারা করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আবেগঘন কণ্ঠে ‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ গানটি পরিবেশন করেন।

আরও পড়ুন...

আফজল গুরু – বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে?

রৌহিন

 আর আজ তকের ওই ব্রেকিং নিউজে ওই “ছোট্ট” এনোমালিটুকু ছিলনা – আফজল একদম পুলিশের চাহিদামত গল্প খুব কনভেনিয়েন্টভাবে টিভির পর্দায় বলে যায়। এই স্বীকারোক্তিকে আদালত এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে অন্যান্য অসম্পূর্ণতা এবং অসঙ্গতিকে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেন নি মৃত্যুদণ্ড দেবার আগে। অথচ এটাই কিন্তু আফজলের একমাত্র জবানবন্দী নয়। আফজল আরেকটা জবানবন্দী দিয়েছিল – হ্যাঁ, মহামান্য আদালতের সামনে, যেখানে সে বারবার তার প্রতি আনা প্রতিটা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমন কি এই বহুচর্চিত এবং “গুরুত্বপূর্ণ” জবানবন্দী নিয়েও তার বক্তব্য, পুলিশ তাকে ওই জবানবন্দী লিখে দিয়েছে এবং তা মিডিয়ার সামনে বলতে বাধ্য করেছে ভয় দেখিয়ে। যে “গোপন জবানবন্দী” আজ তক ফাঁস করেছে সেটা আসলে ওই সাংবাদিক সম্মেলনের একটা রিহার্সালের রেকর্ডিং। ওই স্বীকারোক্তি দেবার জন্য পুলিশ তাকে পুরো এক দিন নগ্ন করে রেখেছে, দড়িতে বেঁধে ঝুলিয়ে রেখেছে, নিজের মূত্রপানে বাধ্য করেছে। পাঠক, এই মামলার অফিসার ইন চার্জ এবং তার সহকারীর “সুনাম”গুলো আরেকবার মনে করে দেখবেন। POTAর বলে বলীয়ান পুলিশের কাছে করা স্বীকারোক্তি আদালতের কাছে এক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় আদালতের সামনে করা স্বীকারোক্তির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।


আরও পড়ুন...

ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (তৃতীয় পর্ব)

অচল সিকি

 বৃন্দা গ্রোভার সম্পূর্ণ কথোপকথনটিকে নস্যাৎ করে জানিয়েছেন, এই উক্তি কোর্টে টিকবে না। প্রমাণ হিসেবে এটাকে কোনওভাবেই দেখা যেতে পারে না। কোর্টের নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একজন “উইটনেস” হিসেবে কোর্টের সামনে তখনই নিজেকে ডিপোজ করতে পারে, যখন সে ঘটনাটা ঘটতে শুনেছে, বা দেখেছে বা পুরো ঘটনা বা তার অংশবিশেষ নিজে করেছে। একজন জাস্ট শুনল অন্য দুটো লোক কিছু বলছে, সেইটা সে কোর্টে বললে সেটা উইটনেস হিসেবে কোর্টে গৃহীত হয় না। হেডলি যতক্ষণ জানিয়েছে সে নিজে লশকরের সাথে যুক্ত ছিল, এগে একাধিকবার মুম্বাইতে এসেছিল, রেকি করে গেছিল, সে লশকর অপারেটিভ আর আইএসআইয়ের থেকে এত টাকা পেত, সেটা মুম্বাইয়ের অমুক ব্যাঙ্কের অমুক ব্র্যাঞ্চ থেকে সে তুলত, ততক্ষণ সেগুলো সাক্ষ্যপ্রমাণ। কারণ সে নিজে থেকেছে, নিজে টাকা পেয়েছে, নিজে এসেছে, নিজে গেছে, কিন্তু ইশরাতের কেসে সে কিছুই জানত না – শুধু জেনেছে দুজনের কথোপকথন পাশ থেকে শুনে। হিয়ারসে এভিডেন্স-কে এভিডেন্স হিসেবে গ্রাহ্য করে না আদালত। আর, পাবলিক প্রসিকিউটর কি অমিতাভ বচ্চন নাকি, যে উনি কেবিসির হট সীটে বসে কম্পিটিটরকে তিনটে অপশন দিয়ে তার মধ্যে একটা পছন্দ করে নিতে বলছেন? এইভাবে জেরা হয় নাকি?


আরও পড়ুন...

শাশ্বতী ঘোষ এবং তাহাদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি

দেবব্রত চক্রবর্তী

 সমাজের বিবর্তনের সাথে সাথে মৃত্যুদণ্ডের গুরুত্ব ক্রমশ কমেছে,এমনকি তথাকথিত বর্বর সমাজও উপলব্ধি করছে মৃত্যুদণ্ড কোন সমাধান নয়। যে হত্যা বা ধর্ষণ তাৎক্ষনিক উত্তেজনায় অথবা পরিকল্পনার ফল হিসাবে ঘটে গেছে তা পাল্টা হত্যা বা ধর্ষণের মাধ্যমে পরিপূরণ করা অবাস্তব। মৃত্যুদণ্ড অপরাধীর প্রকৃত কোন সাজা বা আদৌ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নয়। অনুশোচনার,পরিবর্তনের ক্ষেত্র এক লহমায় ছিনিয়ে নেওয়া,প্রতিশোধ পরিপূরণ মাত্র। বর্বর সমাজ তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞানে ক্রমে মৃত্যুদণ্ডের অসারতা থেকে সরে এসেছে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির রাস্তায়। এ কোন গোবর খেয়ে বা পুরোহিত দক্ষিণায় প্রায়শ্চিত্ত করে পাপস্খালনের তঞ্চকতা নয় বরং ক্ষতিপূরনের পরিমাণ এতো বেশী যা অপরাধীকে সারা জীবন ধরে শোধ করতে হবে এবং প্রত্যহ তার অপরাধের গভীরতা তাকে স্মরণ করাবে। 

আরও পড়ুন...

‘প্রাণদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা অধিকাংশই খুব গরীব'

অনুপ সেনগুপ্তের সাথে সাক্ষাৎকারে উত্তম সেনগুপ্ত, অনুবাদঃ দময়ন্তী

মৃত্যুদন্ড সম্পর্কিত গবেষণা প্রকল্প (ডেথ পেনাল্টি রিসার্চ প্রজেক্ট) সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে প্রায় ১৬ মাস, ৩০ লাখ টাকা, নেওয়া হয়েছে ৪০০ সাক্ষাৎকার। এই প্রকল্পের অধিকর্তা, দিল্লীর ন্যাশনাল ল' ইউনিভার্সিটির অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসার অনুপ সুরেন্দ্রনাথের সাথে কথা বলেছেন উত্তম সেনগুপ্ত, তারই কিছু অংশ।

 

আরও পড়ুন...