বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আসাম জ্বলছে?

পার্থপ্রতিম মৈত্র

প্যাণ্ডোরার বাক্স খুলে গেছে। সমগ্র আসাম কুণ্ডলী পাকিয়ে ওঠা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে, এবার জ্বলবে।  আমরা যখন রিয়েল ওয়ার্ল্ডের অতীব প্রয়োজনীয় ইস্যুগুলিকে সংহত করে ভারচুয়াল ওয়ার্ল্ডে প্রচণ্ড লড়াই দিচ্ছি, নরেন্দ্রভাই দামোদরভাই মোদী তখন পূর্ণ উদ্যমে নেমে পড়েছেন হিডেন অ্যাজেণ্ডা রূপায়নে।এবারও তাঁর নবতম  এক্সপেরিমেন্টের পরীক্ষাগার যথারীতি আসাম। 

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে গৃহ দপ্তর ৭.৯.২০১৫ তারিখে দুটি নোটিফিকেশন জারী করে। অফিশিয়াল গেজেটে ১৯২০ সালের পাসপোর্ট অ্যাক্ট (ভারতে প্রবেশ)  এবং ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্টে এই নোটিফিকেশান অনুসারে কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহমন্ত্রক ঘোষণা করছে যে, মানবিক বিবেচনার খাতিরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘু নাগরিক… যারা ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর অথবা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছে পাসপোর্ট বা সমজাতীয় বৈধ ভ্রমনপত্র অথবা বৈধ নথি নিয়ে (কিন্তু যার বৈধতা অতিক্রান্ত হয়েছে) তারা ১৯২০ সালের পাসপোর্ট অ্যাক্ট (ভারতে প্রবেশ)এবং ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্টের প্রাসঙ্গিক নির্দেশাবলী ও নিয়মাবলীর আওতামুক্ত থাকবেন।

সম্ভবতঃ এই প্রথম ভারত  সরকার প্রকাশিত কোনও বৈধ নথি তে এই বিষয়টি সংযোজিত  হলো,  যে মানবিক বিবেচনার খাতিরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘু নাগরিক যেমন হিন্দু, শিখ, খৃস্টান, জৈন পার্সি,বৌদ্ধ  ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে অথবা   যারা ধর্মীয় নির্যাতনের আশংকায় ভারতে আশ্রয় চাইতে বাধ্য হয়েছে, তারাই এই ছাড় পাবার অধিকারী। 

রবিঠাকুরের “জনগণমনঅধিনায়ক জয়হে” গানটির দ্বিতীয় স্তবক… যে অংশটা গাওয়া হয়না… তার প্রথম দুটো লাইন এরকম… 

“অহরহ তব আহ্বান প্রচারিত শুনি তব উদার বাণী
হিন্দু বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসিক, মুসলমান, খ্রীস্টানী”

দ্বিতীয় লাইনটি ফলো করলেই নোটিফিকেশানের লিস্টে কারা অন্তর্ভুক্ত জানা যায় শুধুমাত্র মুসলমান শব্দটিকে বাদ দিলেই। যারা জানেন তারা জানেন যে ইমিগ্রান্টস দের মধ্যে শরণার্থী আর অনুপ্রবেশকারীর বিভাজন সংঘপরিবারের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রাজনীতির উপাদান। নোটিফিকেশানের মাধ্যমে তাকেই আইনী বৈধতা দেওয়া হল, যে নোটিফিকেশনের একমাত্র প্যারামিটার হচ্ছে ধর্মীয় নির্যাতন। যে বিশাল সংখ্যক দরিদ্র ও অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতিত মুসলিম জনগণ জীবনধারণের আশায় ঢুকে পড়ছে ভারতবর্ষে,এখন থেকে সরকারীভাবে তাদের অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করা হবে।  কিন্তু যারা শরণার্থী, তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি সরকারীভাবে বিবেচিত হলো কি? এই নোটিফিকেশনে তার উত্তর মেলেনা।

দিগন্ত ধূমায়িত। আজ আসাম বন্ধ। নোটিফিকেশনের কপি আর কুশপুতুল পোড়ানো দিয়ে শুরু হয়েছে।  মানবিকতার কোন বহ্নুৎসবে এর শেষ কে জানে। দাবী উঠতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রত্যাগত শরণার্থীদের আশ্রয় যদি দিতেই হয় তবে গুজরাটের ফাঁকা জমিতে দেওয়া হোক। অন্য রাজ্যগুলিও ভাগ করে নিক দায়িত্ব। আসাম একাই শুধু অতিথিবৎসল হবে কেন?

উত্তরপূর্ব নতুন করে গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। আর এই সর্বনাশের প্রেক্ষাগৃহে তৃপ্তির ঢেঁকুর উঠছে নাগপুরে। সংবিধানের যূপকাষ্ঠে এবার বলি হবে ধর্মনিরপেক্ষতা। বৃহত্তর হিন্দু জোট রাজ করবে মহাভারতে।সরসংঘচালকেরা এবার পাশ ফিরে শুতেই পারেন। দীর্ঘদিনের হিন্দু অ্যাজেণ্ডা সাফল্যের দোরগোড়ায়। ভারতমাতা কী জয়।

স্বীকার করে নিতেই হবে “আরএসএস”-এর গেমপ্ল্যানটা ছিল অসাধারণ। প্রথমে বাঙ্গালী-অসমীয়া-বোড়ো-কার্বি-চুতিয়া-ডিমাসা নির্বিশেষে আসামবাসী সকল হিন্দুর পরিত্রাতা হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখানো। হিন্দু ভোট সংহত করে বিধানসভায় পাঁচ সদস্য থেকে লম্ফে লোকসভায় সাত সদস্যে পৌঁছে যাওয়া। এমনকি “এনআরসি” চালু করে অসমীয়া হিন্দুদেরও নয়নের মণি হয়ে ওঠা। যে কোনও পাটিগণিত বলবে এবার ভোটে বিজেপির ল্যাণ্ডস্লাইড জয় অবধারিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বরাকভ্যালির দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ব্রডগেজ লাইনের বাস্তবায়ন।অরুণাচল প্রদেশের দোরগোড়াতেও পৌঁছে যাচ্ছে ভারতীয় রেল। এর মধ্যে নীলাকাশের বজ্রনির্ঘোষের মত এই নোটিফিকেশন। 

কেন ? কেন ?? কেন???

প্রথম কেন-র উত্তর লুকিয়ে আছে মাত্রই কিছুদিন আগে প্রকাশিত ধর্মভিত্তিক সেন্সাস রিপোর্টে। দেখা গেল আসামের মুসলমান হচ্ছে জনসংখ্যার ৩৪.২% আর পশ্চিমবঙ্গে ২৭%। শুধু তাই নয়, আসামের ১২৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে অন্ততঃ ৪০ টি আসনে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ। হাইলাকান্দি, বরপেটা, নগাওঁ, ধুবরী, বঙ্গাইগাঁও, গোয়ালপাড়া, করিমগঞ্জ, দরং, মোরিগাঁও জেলায় মুসলমান সংখ্যাধিক্য।

“এনআরসি  নবায়ন” এর তোড়ে মূল কোপটা নেমে এসেছে  মুসলিমদের ওপর। অবশ্য বাঙ্গালী হিন্দু উদ্বাস্তুদের সমস্যা যে তাতে কিছুমাত্র লাঘব হলো তা নয়। বরং অসমীয়া হিন্দুদের সঙ্গে ঢলাঢলির অভিযোগে ক্ষোভ ধূমায়িত হচ্ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। অ্যাড্রেস করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমশঃ বাড়ছিল।

দ্বিতীয় কেন হচ্ছে- যে রাজ্যগুলিতে আশু নির্বাচন সম্ভাবনা সেগুলোর স্ট্র্যাটেজিও একই সঙ্গে সেরে ফেলা। আসামের আগে পরেই রয়েছে বিহার আর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট। আর উদ্বাস্তু সমস্যাদীর্ণ রাজ্যের খেতাব অর্জনে আসামের পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ আর বিহার। হিন্দু মেসায়া হয়ে ওঠার চেষ্টা ছাড়া মোদীর আর কোনও সুকৃতি নেই যা দিয়ে ভোট-বৈতরণী পেরোনো যায়। আর অল্পেতে খুশী হবে  ‘নরেন্দ্র-অমিত’ কি? আসামের সঙ্গে বিহার আর বাংলা না খেলে রেতে ভালো ঘুমই হবেনা।

তৃতীয় কেন- তে আবার আসামে ফিরে আসি। এখন কী কী হতে পারে?  আসামের মানচিত্রে বিজেপির লোকসভা বিজয়ের অঞ্চলগুলি দেখা যাক। গৌহাটি, মঙ্গলদৈ, নগাঁও, তেজপুর, লক্ষিমপুর, জোরহাট, ডিব্রুগড়, এই সাতটি লোকসভা আসনেই বাঙ্গালী জনসংখ্যা প্রচুর। তাদের সংহত করলেই বিধানসভা নির্বাচনে কেল্লা ফতে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে আসুর এককালের শীর্ষনেতা সর্বানন্দ সনোয়াল আর সদ্যদলত্যাগী কংগ্রেস সরকারের দু নম্বর নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা (সারদা কেসে বিজেপির জালে)। কংগ্রেস অবলুপ্তপ্রায় শকুনের মত। ফলে নির্বাচন যত এগোবে কংগ্রেস ছেড়ে ইঁদুরদের দলে দলে জাহাজ ত্যাগ সময়ের অপেক্ষা। মুসলিম ভোটের আশা বিজেপি করেও না, পাবেও না। কংগ্রেস না থাকলে মুসলমানদের এআইইউডিএফ (বদরুদ্দীন আজমলের দল) ছাড়া অন্যত্র গতি নেই। এজেপি বা অখিল গগৈ এর পার্টি এখনও বেবিকট ছেড়ে নামতে শিখলো না। ফলে মোদী-শাহের রামরথ অপ্রতিহত সম্ভাবনায় ধাবমান।

কিন্তু এই যদি  করবে তো বিজেপি “এন আর সি” নিয়ে এত হুল্লাট করলো কেন। সত্যিই তো নোটিফিকেশনের বলে “এন আর সি নবায়ন” তো খাটে উঠলো। আসাম চুক্তি স্ক্র্যাপ হয়ে গেল। কারও মনেই পড়ছে না তরুণ গগৈ চেষ্টা করেছিল ২০১৪ সালের ভোটার লিষ্টকে ভিত্তিদলিল ধরে নবায়নের চেষ্টা করা। এটাই হচ্ছে সেই গেম প্ল্যান যার কথা আগেই লিখেছি। গোটা আসামের নজর তখন “এন আর সি”র দিকে। একদলের আশংকার পাশাপাশি অন্যদলের উল্লাস। আসু আসাম চুক্তিকে ভিত্তিবর্ষ বললে,  কংগ্রেস বলছে ২০১৪। বিধানসভার স্পীকার প্রণব গগৈ  বলছে ১৯৫১, তো অন্য কেউ বলছে ১৯৬৬। কিন্তু এই নোটিফিকেশনের পরে “এনআরসি”-র কী হবে?

 

“ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস” শেষবার তৈরী হয়েছিল ১৯৫১ সালে। সারা ভারতে শুধুমাত্র আসামে। তারপর তো বরাক আর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে জল গড়াল অনেক। ফলে নতুন করে এনআরসি আপডেশনের কাজ শুরু হল অনেক ঢাক ঢোল পিটিয়ে। এমন একটি রেজিস্টার যাতে ১৯৫১ সালের এনআরসি তে যেসব নাগরিকদের নাম রয়েছে এবং তাদের লিগ্যাসী যারা বহন করছে, শুধু তাদের নামই থাকবে। তবে মহানুভব সরকারের মহানুভবত্বে ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশ থেকে যারা ঢুকে পড়েছে আসামে, তাদেরও নামসংস্থান হবে। তাদের জমা দিতে হবে লিগ্যাসি ডাটা অথবা ১৪টি অনুমোদিত প্রমানপত্রের একটি। সেগুলোর ভেরিফিকেশানের পর প্রকাশিত হবে আপডেটেড এনআরসি। যেহেতু নাগরিকত্ব কেন্দ্রের বিষয়, ফলে পলিসি ঠিক করা, ডিসিশান নেওয়া, গাইডলাইন ঠিক করা, ফাণ্ড যোগানো এসবই কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাভুক্ত। কিন্তু প্রয়োগের দায়িত্বে আছে রাজ্য সরকার।

ঠাকুর ঠাকুর করে “এন আর সি আপডেশনের”র এর প্রথম পর্যায় মিটেছে আসামে। প্রথমে অ্যাপ্লিকেশন জমা দেবার শেষ তারিখ স্থির হয়েছিল ৩১ শে জুলাই। ২৫ শতাংশের বেশী জমা না পড়ায় শেষ পর্যন্ত একমাস বাড়িয়ে দেওয়া হল ... ৩১শে অগাস্ট। পনের তারিখেও ৩৫ শতাংশ না পেরোনোয় ক্যাম্পগুলিতে নির্দেশ গেল, যে কোনও একটা প্রমাণপত্র থাকলেই হবে। ২০১৪ সালের ভোটার লিস্টের ভিত্তিতে অ্যাপ্লিকেশন দিলেও জমা নেওয়া শুরু হলো। পনেরো দিনের মধ্যে অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়লো ১০৭ শতাংশ। মুখরক্ষা হলো কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের। এবার শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্ব। ডোর টু ডোর ভেরিফিকেশন করে খসড়াপঞ্জী তৈরী করা। শুধুমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া কারও হেলদোল নেই। সবাই বালিতে মুখ গুঁজে আছে। ফলে আকাশ শান্ত, মরুঝড় নেই। আসাম তো মারজিন অব দ্য মার্জিনস। তাই সকল প্রকারের স্যোশাল এক্সপেরিমেন্টের ল্যাবরেটরি। সকল হিডেন অ্যাজেণ্ডার প্রয়োগস্থল। 

অংকটা আরও একটু জটিল। নোটিফিকেশানের পরে এনআরসি-র কী হবে? যা হবার, যা হচ্ছিল, তাই হবে। এনআরসির গুরুত্ব কমে গেলে প্রতিবাদও স্তিমিত হয়ে আসবে। নিরুপদ্রবে এনআরসির কাজটি সম্পন্ন করা যাবে। তারপর ঐ নোটিফিকেশানের কী আর গুরুত্ব রইল ? এটা হচ্ছে রাজনীতির সর্বভারতীয় স্টাইল। এ আই ইউডিএফ এর প্রধান বদরুদ্দীন আজমল প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তিনি মোদীকে নিজের বড় ভাইএর মত শ্রদ্ধা করেন। তরুণ গগৈ বহুবার বলেছেন আজমলের সঙ্গে মোদীর গোপন আঁতাত রয়েছে। ঠিক যেমনটি অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতিকেরা, যে মোদীর সঙ্গে গোপন আঁতাত হয়েছে মমতা ব্যানার্জীর। আঁতাতটি হলো মুসলিম ভোট তুমি নাও, আমি হিন্দুভোটের জন্য লড়ি। এ খেলায় প্রথমেই অন্যদের ময়দানের বাইরে পাঠাতে হবে। ফলে  আসামের সবকটি রাজনৈতিক দল যখন এনআরসি ভিত্তিবর্ষ আর লিগ্যাসী ডাটা সংক্রান্ত বিতর্কে মশগুল,  তখনই  আচমকা এই নোটিফিকেশন। প্রত্যেকে অফ-গার্ড। এবার তীব্র হতাশায় আগুন জ্বলবে উত্তর পূবে। অসমীয়া-বোড়ো-কার্বি-চুতিয়া-ডিমাসার সঙ্গে মিলে যাবে উত্তর পূবের সবকটি জাতিসত্তা। ডিমাপুরে আর মণিপুরে তার ঝলক দেখা গেছে। বাঙ্গালী হিন্দু মুসলমানের পরিত্রাণ নেই। একদলকে মোদীরা খাবে, অন্যদলকে আজমলরা।

আসমুদ্র হিমাচলে মোদী একমাত্র হিন্দুদের পরিত্রাতা। যেখানে ৭৯.৮ শতাংশ হিন্দু আর ১৪.২ শতাংশ হলো মুসলিম। তো এই ১৪.২ শতাংশের হাত থেকে ৭৯.৮ শতাংশকে রক্ষা করতে মোদী অ্যাণ্ড কোম্পানীকে দরকার এটা হিন্দুদের শক্তিমত্তার খুব ভাল বিজ্ঞাপন হয় কি ? আর মোদী রক্ষা করছেন কীভাবে ? গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে গেলেও নোটিফিকেশনটি আদালত গ্রাহ্য তো? সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস থেকে শুরু করে অ্যাডভোকেট হাফিজ রশিদ পর্যন্ত এক বাক্যে বলেছেন আইনী দলিল হিসাবে এই নোটিফিকেশনের কোনও মূল্যই নেই। তা না থাকুক। আরএসএস যে হিন্দুর রক্ষাকর্তা এটা তো প্রতিষ্ঠিত হলো।   কেননা মোদীর বিজেপিই আমাদের শিখিয়েছে ভিন্ন ধর্মের মানুষ মানেই শত্রু। শত্রুর শেষ রাখতে নেই। শত্রুর মন বলে কিছু হয়না। একবিংশ শতকেও মোদী ভক্ত রা জানে শত্রুর সমর্থনে মানেই, আমাদের বিরুদ্ধে।  শত্রুর সমর্থনে একটি বাক্যও বলা চলবে না। এমনকি পোস্টও চলবে না। নৈলে অবধারিত প্রশ্ন ধেয়ে আসবে “কোনও ইস্লামিক কান্ট্রিতে এই পোষ্ট করতে পারবেন তো?” যদি বলেন  “তা হয়তো পারবো না, কিন্তু আপনাদের রামরাজত্বেও সুবিধা তো কিছু দেখছি না। সেই তো মুখ বন্ধ রাখার ফতোয়াই দিচ্ছেন।” এটুকু বলাই যথেষ্ট। তারপর আপনার মাতাশ্রী আর কন্যাশ্রীর সম্বন্ধে যে অনুপম বাকশিল্প উচ্চারিত হবে, তাতে সত্যিই মনে হবে বাংলাদেশের কল্লা কাটা চাপাতির দলের কি ঘর ওয়াপসী ঘটলো? তারা হিন্দুত্বে রিকনভার্টেড হলো?

 উত্তরপূবের এ অশান্তি অন্তহীন প্রক্রিয়া। বিবদমান প্রতিটি পক্ষেরই রয়েছে নিজস্ব রিজনিং। যথারীতি বিভিন্ন দল উপদলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে রয়েছে আসা যাওয়া, পান-তাম্বুল বিনিময়ের গণতান্ত্রিক সম্পর্ক। সে থাকুক কিন্তু নীচুতলায় যে দাবানল জ্বলতে শুরু করেছে। দশকে দশকে এ উৎপাত যে অবলীলায় টেনে ছিঁড়ছে সামাজিক মাংস-মজ্জা। আয়রনি হলো, এই এপিসোডে বাঙ্গালীরা আক্রান্ত, হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে। কিন্তু প্রতিটি বিতর্কে বাঙ্গালী প্রসঙ্গ উঠে আসছে ভিন্নতর এক কারণে। দলে দলে বাঙ্গালী অনুপ্রবেশের কারণে উত্তরপূবের ছোট্ট একটা রাজ্য ত্রিপুরায় আদিবাসী জনসংখ্যা কুড়ি শতাংশেরও নীচে নেমে গেছে। বাঙ্গালীরাই সেখানকার সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠি। নর্থইস্টের আদিবাসী এবং উপজাতিদের ভয় কি সত্যই ততটা অমূলক? বিশেষ করে শত্রু চিহ্নিতকরণের জন্য নিয়ত প্রোভোকেশনের বাতাবরণে তাদের যখন বাস করতে হচ্ছে। নাকি অন্য কোনও দৃষ্টিভঙ্গী, অন্য কোনও কর্মসূচী  প্রয়োজন আজ থেকেই, এই মুহূর্ত থেকেই……

 

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------

  এই সমস্যার বিষয়ে প্রাথমিক একটি ধারণা সৃষ্টির জন্য নীচের লিংকগুলোতে চোখ বোলানো যেতে পারে…..

 

  1. http://www.india-seminar.com/2002/510/510%20sujit%20chaudhuri.htm
  2. http://www.india-seminar.com/2012/640/640_nabinipa_bhattacharjee.htm
  3. http://www.hrln.org/hrln/secularism-and-peace/pils-a-cases/959-seema-das-a-others-vs-state-of-assam-a-others-bangladeshi-refugee-matter.html
  4. https://muzzammilalilaskar.files.wordpress.com/2011/09/myth-reality-of-foreigners-problem-in-assam4.pdf
  5. http://online.assam.gov.in/web/homepol/whitepaper
  6. http://writpetitioninsupremecourt.biogspot.in/

 



97 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  অপর বাংলা 
শেয়ার করুন


Avatar: 0

Re: আসাম জ্বলছে?

The Citizenship Act, 1955, would have to be amended to reflect the exemption from the status of illegal migrant. “Section 2(1)(b) will have a proviso which will reflect this exemption,” a source said.

The amendment to the Passports Act, 1920, and Passport Rules, 1950, will have to be notified and tabled in Parliament for two months to allow for objections, if any, before being deemed clear. The amendments to the Citizenship Act, 1950, will be cleared as a Bill after being debated in Parliament.

more: http://www.indian24news.com/india/citizenship-soon-for-those-who-fled-
religious-persecution/36539-news

Avatar: 0

Re: আসাম জ্বলছে?

The Passport (Entry into India) Act, 1920

Sec.3(5) Every rule made under this Act shall be laid, as soon as may be, after it is made, before each House of Parliament, while it is in session, for a total period of thirty days which may be comprised in one session or in two or more successive sessions, and if, before the expiry of the session immediately following the session or the successive sessions aforesaid, both Houses agree in making any modification in the rule or both Houses agree that the rule should not be made, the rule shall thereafter have effect only in such modified form or be of no effect, as the case may be so, however, that any modification or annulment shall be without prejudice to the validity of anything previously done under that rule.

vide: http://indiankanoon.org/doc/1715361/
Avatar: ইরফান

Re: আসাম জ্বলছে?

"কিন্তু প্রতিটি বিতর্কে বাঙ্গালী প্রসঙ্গ উঠে আসছে ভিন্নতর এক কারণে। দলে দলে বাঙ্গালী অনুপ্রবেশের কারণে উত্তরপূবের ছোট্ট একটা রাজ্য ত্রিপুরায় আদিবাসী জনসংখ্যা কুড়ি শতাংশেরও নীচে নেমে গেছে। বাঙ্গালীরাই সেখানকার সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠি। নর্থইস্টের আদিবাসী এবং উপজাতিদের ভয় কি সত্যই ততটা অমূলক?"

এই বিষয়টাই কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ না? এতা নিয়েও একটু যদি লিখতেন তবে আনন্দ পেতাম। এই সংকট বাংলাদেশেও বিরাজমান। পার্বত্য চট্টগ্রাম এর জেলাগুলোতে উপজাতিদের অস্তিত্ব আজ সংকতের মুখে। কেউ মানতে চায় না যদিও, সম্যক জ্ঞান থেকেই বলছি।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন