গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

টিম হান্টিং?

রৌহিন

 বিজ্ঞানের জগতে রাজনীতির অস্তিত্ত্ব কতটা তীব্র ও হিংস্র তা অভিজ্ঞ ব্যক্তিমাত্রেই জানেন। পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার – এসব যে বিজ্ঞানমহলেও কোন অংশে কম নয় তা-ও এখন আর কোন খবর নয়। কিন্তু আবার ভেবে দেখতে অনুরোধ জানাই – একজনকে ‘চুরি’র দায়ে গণধোলাই দিয়ে চুরি বন্ধ করা যায় কি? টিম হান্টের সঙ্গে যা যা হয়েছে, তার অন্যায় মন্তব্য সত্ত্বেও বলতেই হচ্ছে যে সেটা মূলতঃ ‘মব লিঞ্চিং’ – একটা সহজ টার্গেট খুঁজে নিয়ে সস্তার বিপ্লব। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোন উদ্দেশ্য, পূর্ব পরিকল্পনা বা নির্মিতি ছিল কি না তা নিশ্চিত জানা না থাকলেও এই সস্তায় বাজিমাতের প্রবণতাকে অবশ্যই ধিক্কার জানানো উচিৎ। দিস ইজ নট সায়েন্স।

আরও পড়ুন...

অরুণা শানবাগ, নিষ্কৃতিমৃত্যু ও উন্মাদের ভাষা

অবন্তিকা পাল

 কেইএম হাসপাতালের প্রাক্তন মেট্রন দুর্গা মেহেতা-কে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রশ্ন করা হল, কেন তিনি ও তাঁর অন্যান্য নার্সরা চাননি অরুণাকে নিষ্কৃতিমৃত্যু দেওয়া হোক l উত্তরে তিনি টিভির পর্দায় জানালেন- আমাদের অধিকার মানুষকে বাঁচানোর, হত্যা করার নয় l অরুণা আমাদেরই একজন ছিল l তুমি নিশ্চয় চাইবে না তোমার কোনো প্রিয়জনকে এভাবে হত্যা করা হোক l (We have right to give life to anybody, not the right to kill anybody. She was one of us. You don’t want your family member to be killed.) এ আবেগসর্বস্ব বক্তব্যের সাথে একমত হওয়া কোনো যুক্তিনির্ভর মানুষের পক্ষে সম্ভবপর নয় l তবে, অরুণার শায়িত শরীরের সাথে  আবেগ ব্যতিরেকে আরও টুকরো টুকরো কিছু বাস্তবতা জড়িয়ে ছিল l নার্সরা জানান- অনেক বছর আগে জন্মদিনে একবার অরুণাকে মাছের টুকরো ভেঙে খাওয়ানো হয়েছিল l অরুণা নাকি সেদিন খুশি হয়েছিল খুব l তার ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি ফুটে উঠেছিল l বাঙ্ময় হয়ে উঠেছিল আপাত-ভাষাহীন চোখ l মনে পড়ে যাচ্ছে ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ ছবির আনন্দভাই-এর কথা, যে একমাত্র মুন্নার প্রশ্নের উত্তরেই ‘পলক ঝপককে’ জবাব দিত, আর বাকিদের কাছে সে ছিল স্রেফ একটা ‘কেস’ l  

আরও পড়ুন...

যাঁরা বদলে দিতে পারেন (পর্ব ২)

সায়ন্তন মাইতি

 আঠারো শতকের শেষভাগে সামান্য কয়েকটা লেখায় বিক্ষিপ্ত প্রয়োগ দেখা গেছে। তবে সেটাকে ‘হোমোসেক্সুয়ালিটি’ না বলে ‘হোমো-ইরোটিসিজম’ বলা যায়, যেটা সমকামিতার একটা ‘সাময়িক’ সংস্করণ। দুই পুরুষ বা দুই নারীর মধ্যে ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণমাত্র। ‘ইন্দিরা’তে বঙ্কিমচন্দ্র ইন্দিরা ও সুভাষিনীর মধ্যে এরকমই একটা সম্পর্ক দেখিয়েছিলেন। পরবর্তী যুগে কবিতা সিংহের একটা গল্পে একইভাবে দুই নারীর মধ্যে ‘হোমো-ইরোটিসিজম’ এসেছে। সমরেশ মজুমদার একটি উপন্যাসে হালকভাবে প্রসঙ্গটা ছুঁয়ে গেছেন। ষাটের দশকে হাংরি মুভমেণ্টের সময় অরুণেশ ঘোষের ছোটগল্প ‘শিকার’ ছাড়া আর কোনো নথি চোখে পড়ে নি। একটা ব্যাপার বেশ বোঝাই যাচ্ছে, যৌনতা বস্তুটাই যখন মারাত্মক ট্যাবু ছিল তখন ‘অপর যৌনতা’ নিয়ে কাহিনী নির্মাণ কল্পনারও দূর অস্ত। তাছাড়া সাহিত্যিকরা উপাদান পাবেনই বা কোত্থেকে?

আরও পড়ুন...