বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বাংলাদেশস্থ ফিলিস্থিনি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎকার

অদিতি ফাল্গুনী

শাহের মোহাম্মদ গত প্রায় আট বছর ধরে বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্যালেস্টাইনের আলামা গাজি শহরে ১৯৪৯ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পরই কূটনীতিকের পেশায় যোগ দেন তিনি। বাংলাদেশের আগেও চীন, লাওস, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কোরিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত ২২ জুলাই গুলশানস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসে তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়।


প্রশ্নঃ মাননীয় রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশে আপনি গত কয়বছর ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন?

শাহের মোহাম্মদঃ আট বছর। তবে, ১৯৭৬ সাল থেকেই ঢাকায় প্যালেস্টাইনী দূতাবাস রয়েছে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হবার আগে পাকিস্থান আমলেও আমাদের এখানে একটি কনস্যুলেট ছিল। 

প্রশ্নঃ বর্তমানে অধিকৃত গাজা ভূখণ্ডের অবস্থা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন...

শাহের মোহাম্মদঃ গাজার অবস্থা ত’ আপনারা সবাই দেখতে ও জানতেই পাচ্ছেন। নতুন করে কিছু বলার নেই। ইসরাইলী দখলদার বাহিনী সেখানে গণহত্যা ও নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে আটশ’র উপর মানুষ মারা গেছে। ৪,০০০ এর উপর মানুষ আহত। চোদ্দশ ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। এছাড়া আরো ৮,০০০ ঘর-বাড়ি ইসরাইলী বোমা বর্ষণ ও বিমান হামলায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গাজা খুবই সঙ্কীর্ণ অথচ একইসাথে জনবহুল এলাকা। ইসরাইলী বাহিনী এখন উত্তর ও পূর্ব গাজায় সাধারণ মানুষদের তাদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলছে। গাজার সাধারণ মানুষ ভয়ে সেখানে জাতিসঙ্ঘের একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু সেখানে খাবার নেই, পানীয় জল নেই, নেই এতগুলো মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই। সব মিলিয়ে শোচনীয় এক পরিস্থিতি!

প্রশ্নঃ এই মূহুর্তে প্যালেস্টানী সরকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছে? মানবিক প্রতিক্রিয়া? ধরুন জাতিসঙ্ঘ, পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ, আরব লীগ ও মুসলিম দেশগুলো থেকে?

শাহের মোহাম্মদ: দেখুন প্যালেস্টাইন সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর সমাধান হওয়াটা মূলত: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও  পশ্চিমা দেশগুলোর সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো যদি সত্যিই চাইতো, তবে ত’ তারা ইসরাইলকে এই ভয়ানক যুদ্ধ বন্ধে ঠিকই চাপ দিতে পারত। কিন্তু তারা এমন নির্বিচার বেসামরিক মানুষের হত্যার পরও বলছে যে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ইসরাইল যাবতীয় অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র পায়। পাশাপাশি আমাদের লড়তে হচ্ছে হাতে বানানো অস্ত্র দিয়ে...ইসরাইলী মিসাইল, রকেট ও অন্যান্য সমরাস্ত্রের সাথে। সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা’ হলো ইসরাইল আসলে আমাদের প্যালেস্টাইনীদের ভেতর একতা চায় না। ২০০৬-০৭ অবধি প্যালেস্টাইনে ফাতাহ পার্টি ও হামাসের মাঝে যে দ্বন্দ ছিল তা’ দূর করে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যে কোয়ালিশন সরকার গঠন করেছি তা’ স্বাভাবিকভাবেই ইসরাইল পছন্দ করছে না। আজ সাত বছর ধরে ইসরাইল গাজার চারপাশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গাজায় কোন আর্থিক সাহায্য পর্যন্ত স্বীকৃত নয়। আজ সাত বছর ধরে গাজায় বিদ্যুৎ নেই, পানীয় জল আর খাবারের সঙ্কট বিরাজ করছে; সীমান্ত চারপাশ দিয়ে ঘেরাও হয়ে আছে। প্রচুর প্যালেস্টাইনী ছাত্র বহির্বিশ্বে পড়া-শুনা করতে যেতে চায় কিন্তু তারা অনুমতি পাচ্ছে না। গাজায় অধিকাংশ মানুষের আজ কর্ম-সংস্থান নেই। গাজায় ইসরাইলী সৈন্যরা সিমেন্ট বা ইস্পাত ঢুকতে দেয় না। ইসরাইলীরা ভয় পায় যে সিমেন্ট আর ইস্পাত দিয়ে আমরা বাঙ্কার বানাবো। তারা একটি চার চাকার গাড়ি ঢুকতে দেবে না পাছে সেটাও আমরা কোন সামরিক কাজে ব্য্হার করি! আসলে তারা ঠিক কি চায় বলতে পারেন? দেখুন, আমাদের পক্ষে কিন্তু ‘অসলো আন্তর্জাতিক শান্তি চুক্তি-১৯৯৩’ আছে। তদানীন্তন ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন ও আমাদের পিএলও চেয়ারপার্সন ইয়াসির আরাফাত যা স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্যালেস্টাইন কিন্তু পশ্চিম তীর ও গাজা ভূখ- সহ পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠনের দাবিদার। কিন্তু ইসরাইল সেই চুক্তিও বাস্তবায়িত হতে দিল না যেখানে আমাদের নেতা ইয়াসির আরাফাত অনেকটাই ছাড় দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ইসরাইলীদের ভেতরের অধিকতর ডানপন্থী চক্রটি অসলো শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিনকেও আততায়ী দিয়ে হত্যা করালো। আমরা ইসরাইলকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে তোমরা আমাদের কাছ থেকে ঠিক কি চাও? তোমরা যদি একই ভূখণ্ডে ‘দু’টি রাষ্ট্র প্রস্তাবনা’ চাও ত’ আমরা রাজি। যদি ‘এক রাষ্ট্র প্রস্তাবনা’ চাও ত’ তাতেও আমরা রাজি। কিন্তু তারা আমাদের প্রতিটি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করে। 

প্রশ্নঃ ইসরাইল কি এখনো প্যালেস্টাইনী ভূমিতে নয়া বসতি স্থাপন করছে?

শাহের মোহাম্মদঃ হ্যাঁ, পশ্চিম তীরে ইসরাইলীরা ২২৫টি নতুন বসতি স্থাপন করেছে। পশ্চিম তীরে ইহুদি অভিবাসীর সংখ্যা বর্তমানে ৩,৬০,০০০-এর বেশি। তারা পশ্চিম তীর বরাবর গোটা শহরটি কেটে বিভক্ত করছে। আপনি ইসরাইলী চেক-পোস্ট পার না হয়ে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারবেন না। খোদ জর্ডাণ বা জর্ডাণ উপত্যকার সাথেও ইসরাইলের সীমান্ত রয়েছে। কাজেই প্যালেস্টাইনীদের জন্য কিছুই নেই- কিচ্ছু নেই! কি চায় ইসরাইল? তারা কি চায় মিশরের নীল নদ থেকে ইরাকের ফোরাত নদী পর্যন্ত ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করতে? কাজেই গোটা প্যালেস্টাইন, জর্ডাণ, লেবানন, সিরিয়া, সৌদি আরব ও ইরাককেও সেই বিশাল ইসরাইলের অংশ করতে চায় তারা? কেন তারা তাদের সীমান্তরেখা নির্দিষ্ট করে আঁকছে না? সারা বিশ্বে আজ ইহুদিদের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লক্ষ যার ভেতর ষাট লক্ষ ইহুদি বাস করছে খোদ ইসরাইলেই। কাজেই তাদের স্বপ্নের সেই ‘বৃহৎ ইসরাইল’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসরাইলের বাইরে বহির্বিশ্বের অন্যত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদেরও মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। কাজেই এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ কোন সমাধান তারা কেন চাইবে? আজ আমরা প্যালেস্টাইনী জনগণের পক্ষ থেকে পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের কাছে বিশেষত: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসঙ্ঘ, মুসলিম বিশ্ব এবং রাশিয়ার কাছে আবেদন রাখছি যেন বেসামরিক জনগণ ও বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের উপর এই হামলা, এই আগ্রাসন দ্রুতই বন্ধ হয়। নিষ্পাপ কৃষকদের কৃষি জমি ও গবাদি পশু হত্যা বন্ধ হোক। মজার ব্যপার কি ইসারইলী সৈন্যরা কিন্তু প্যালেস্টাইনী বসতির ভেতর এক পা ঢোকারও সাহস রাখে না। তবে আকাশপথে অবিরত হামলা ত’ তারা করতেই পারে। এফ-ষোল বিমান, মিগ বিমান বা রাসায়নিক অস্ত্র- কি নেই তাদের? জেনেভা কনভেনশন না মেনেই তারা আমাদের জনগণের উপর রাসায়নিক অস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহার করছে। আর এসবই তারা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছত্রচ্ছায়ায়। জাতিসঙ্ঘই বা কি করার ক্ষমতা রাখে? জাতিসঙ্ঘ ইসরাইলের হামলার নিন্দা করে একটি প্রস্তাব আনলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেবে ভেটো। ব্যস...ওখানেই ইতি! উপসাগরীয় যুদ্ধেও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। আজই এক ইসরাইলী অভিনেত্রী ও এ্যাক্টিভিস্টের কথা পড়লাম যিনি নিজ দেশের সরকারের অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করে বলেছেন ইসরাইলী হিসেবে তিনি লজ্জিত; এমূহুর্তে তিনি ব্রাজিলে। মুস্কিল হলো এমন বিবেকবাণ মানুষের সংখ্যা মুষ্টিমেয় মাত্র।   

প্রশ্নঃ এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। আপনি কি ফাতাহ পার্টির সমর্থক যার নেতা ছিলেন খোদ ইয়াসির আরাফাত নাকি হামাসের সমর্থক?

শাহের মোহাম্মদঃ ইয়াসির আরাফাত একইসাথে ফাতাহ পার্টির চেয়ারপার্সন এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গান্যাইজেশন (পিএলও)-র চেয়ারপার্সন ছিলেন। অনেক মানুষই কিন্তু ফাতাহ আর পিএলওকে ভুলবশতঃ এক করে ফ্যালে। বাস্তবে পিএলও হলো প্যালেস্টাইনের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ প্রতিনিধিত্বকারী মঞ্চ। যেমন ধরুন এখন আমাদের বর্তমান যে প্যালেস্টাইনী কোয়ালিশন সরকার এটা মূলতঃ একধরণের টেকনোক্র্যাট সরকার। খানিকটা আপনাদের কেয়ার টেকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতও বলা যায়। যেমন, আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রামাল্লার মানুষ যিনি গাজায় সর্বশেষ যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্বিতীয় দিন থেকে সেখানে অবস্থান করছেন। অতীতে হামাস এবং ফাতাহর ভেতর প্রচুর সঙ্ঘাত হলেও ২০০৬-০৭ নাগাদ তা’ অনেকাংশে প্রশমিত হয়েছে।

প্রশ্নঃ আর ২০১২-তে বর্তমানে প্যালেস্টাইন সরকার প্রধান তথা ফাতাহ পার্টির মাহমুদ আব্বাস ও হামাস প্রধান খালেদ মসুলের ভেতর ত’ ২০১৪-এর ডিসেম্বর নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তিও হয়েছে, তাই না? গাজা ত’ এখন হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন, নয় কি?

শাহের মোহাম্মদঃ হ্যাঁ, আমাদের কোয়ালিশন সরকারের চুক্তি অনুযায়ী হামাস এখন গাজা নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু এই যে ফাতাহ পার্টি ও গাজার মধ্যকার চুক্তি তা-ও কিন্তু ইসরাইলের হস্তক্ষেপের কারণে বাস্তবায়িত হতে পারবে না। কারণ এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বপ্রথমে প্যালেস্টাইনী ন্যাশনাল অথরিটি (পিএনএ) কর্তৃক গাজা সীমান্তে কর্তৃত্ব গ্রহণের কথা যা ইসরাইল আমাদের করতে দিচ্ছে না। দ্বিতীয়ত: গাজার সব পুলিশকে পিএনএ-তে যোগ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্ত ইসরাইল ত’ এটুকুও করতে দিচ্ছে না। আসলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটা শান্তি উদ্যোগে কোন না কোন পক্ষের কিছু না কিছু স্বার্থ থাকে। তুরষ্ক ও কাতারের তরফ থেকে নেওয়া শান্তি উদ্যোগে তাদের এক ধরণের স্বার্থ, মিশরের এক ধরণের স্বার্থ...মিশরকে আমরা প্যালেস্টাইনীরা অবশ্য সমর্থন করি। কারণ তাদের সাথে আমাদের সীমান্ত আছে যে পথে মানুষ যাওয়া-আসা বা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা সত্যিই খুব জটিল।   

প্রশ্নঃ ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যু নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে। কেউ বলে যে ‘অসলো শান্তি চুক্তি (১৯৯৩)’ বাস্তবায়িত না হওয়ায় তিনি ভেঙ্গে পড়েছিলেন আবার কেউ বলেন সত্যিই গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তাঁর দেখা দিয়েছিল যা অতটা বয়সে তিনি আর মোকাবেলা করতে পারেন নি...

শাহের মোহাম্মদঃ তিনি ত’ চলেই গেলেন! আজ কিন্তু হামাসও তাঁর কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়; বলে, আরাফাত বেঁচে থাকলে হয়তো সঙ্কট এতটা ঘনীভূত হতো না। দেখুন হামাসকে নিয়ে ইরাণ তাস খেলেছে; বছরে ৪০০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য ইরাণ হামাসকে দেয়। ইরাণ হামাসকে নিয়ে আমেরিকা বা ইউরোপের সাথে তাস খেলে। মধ্যপ্রাচ্যে কত যে কোটারি স্বার্থের খেলোয়াড়রা আছে! সিরিয়া-মিশর-লেবানন এবং তাদের সবার তরফে নানা ‘চেক এ- ব্যালেন্স’...তবে মূল সমস্যা ঘুরে-ফিরে কিন্তু ইসরাইলের দৃষ্টিভঙ্গীগত সমস্যা। ইয়াসির আরাফাত বেঁচে থাকতে ইসরাইল তাঁকেও ‘খুব বেশি র‌্যাডিক্যাল’ বলতো এবং তাঁকে পারলে হত্যা করতে চাইতো। এখন আরাফাত বেঁচে নেই আর এখন তাঁর সম্পর্কে ইসরাইল ভাল বলে। আজ তারা (ইসরাইল) ফাতাহ পার্টির বর্তমান নেতা মাহমুদ আব্বাসকে দেখতে পারে না। আমি নিশ্চিত কিছুদিন পর তারা (ইসরাইল) মাহমুদ আব্বাসেরও ভাল বলবে। কিন্তু আসল কথা হলো তারা কখনোই কোন চুক্তি বাস্তবায়ন করবে না। ‘অসলো শান্তি চুক্তি (১৯৯৩)’-এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ইসরাইলকে মাদ্রিদ্র সম্মেলনে (১৯৯২) যোগ দানের জন্য চাপ দিচ্ছিলো, তখন আইজ্যাক রবিনের পূর্বসূরী প্রধামন্ত্রী আইজ্যাক শামির কি বললেন জানেন? বললেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় চাপের কারণে আমি এই আলোচনায় যোগ দিলেও এমন ভাবে কথা বলবো যেন আলোচনা আগামী ১০০ বছর ধরে চলে!’ আমরা প্যালেস্টাইনীরা সব ধরণের প্রস্তাবে রাজি হয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকার মত ‘একক রাষ্ট্র’ মডেল বা ‘একই ভূখণ্ডে দু’টো রাষ্ট্র মডেল’---সবকিছুতেই সায় দিয়েছি। কিন্তু তারা ত’ কিছুই আসলে বাস্তবায়ন করবে না।   

প্রশ্নঃ এটা আসলেই দু:খজনক যে ‘অসলো শান্তি চুক্তি-১৯৯৩’-এর জন্য ইয়াসির আরাফাত-আইজ্যাক রবিন-শিমন পেরেস নোবেল পুরস্কার পেলেন অথচ সেই চুক্তিটিই বাস্তবায়িত হতে পারল না?

শাহের মোহাম্মদঃ হ্যাঁ, আইজ্যাক রবিনকে খুন করা হলো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থী। 

প্রশ্নঃ সার সংক্ষেপ করতে চাইলে, যুদ্ধ বিরতি বা সাময়িক শান্তি আসন্ন ভবিষ্যতে সম্ভব কি?

শাহের মোহাম্মদঃ আশা ত’ করি। তবে গাজায় যুদ্ধ বিরতির পর গাজা ভূখণ্ডের উপর আরোপিত ইসরাইলের যাবতীয় অবরোধ আগে তুলে দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের একটি মুক্ত সীমান্ত ও অবাধ বাণিজ্য করার স্বাধীনতা প্রয়োজন। দিনের পর দিন একটি জাতিকে বড়সর আকারের একটি জেলে পুরে রাখা কি তীব্র অন্যায় নয়? ইসরাইলীরা তাই করছে আমাদের সাথে। তারা আপনাকে এত অল্প রেশন দেবে যা খেয়ে আপনি কোনমতে প্রাণ ধারণ করতে পারবেন শুধু- জীবন্মৃত করে রাখা- আজ যখন সারা বিশ্ব থেকে সবাই আমাদের আহত শিশুদের জন্য ওষুধ দিতে চাইছে, এখানে বাঙালীরাও অনেকে আমাকে ফোন করে ওষুধ দিতে চাইছে, আমি তাদের বলি:  ‘দিও না- সীমান্ত ভেদ করে এই ওষুধ ওদের কাছে পৌঁছাবে না।’ ২০১২ সালে বাংলাদেশ গাজায় এক কন্টেইনার ওষুধ পাঠিয়েছিল। মিশরের বন্দরে তা’ সাত মাস পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেল। কাজেই কেউ আমাদের সাহায্য করতে চাইলে বড় জোর অর্থ সাহায্য করতে পারেন। আমাদের জনগণ সেই টাকায় নিজেদের প্রয়োজনমত জিনিষ কিনে নেবেন। আরো বিশেষত: জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মাধ্যমে পশ্চিম তীর এবং গাজায় ভিকটিমদের আমরা সাহায্য করতে পারব। মুস্কিল হলো ইসরাইল আমাদের এ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণরত মানুষদের উপরও বোমা বর্ষণ করছে। রোববার বা ২০ শে জুলাইয়ের যুদ্ধে ১৪ জন সৈন্যকে হারিয়ে তারা আরো অসংযত আচরণ করেছে। 

প্রশ্নঃ অন্যদিকে পশ্চিমা মিডিয়া ত’ হামাস কর্তৃক তিন ইসরাইলী কিশোরের অপহরণ ও হত্যাকে সাম্প্রতিক গাজা পরিস্থিতির কারণ হিসেবে দোষারোপ করতে চাইছে?

শাহের মোহাম্মদঃ দেখুন, ইসরাইল এবং পশ্চিমা মিডিয়া কোনদিনই প্যালেস্টাইনী জনগণের অধিকারের প্রশ্নে যথার্থ আচরণ করে নি। বাস্তবে পশ্চিমা গণমাধ্যম সেসব দেশের পররাষ্ট্র নীতি অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, গাজায় কর্তব্যরত সিএনএন-এর এক নারী সাংবাদিক তাঁর প্রতিবেদনে শুধুমাত্র গাজায় ‘বেসামরিক মানুষের উপর হামলা’ শব্দ-বন্ধটি উচ্চারণ করেছিলেন। অ¤িœ তাঁকে গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো। আজ গাজার কোন ছেলে বা মেয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ নিয়ে একটি কথা ফেসবুকে লিখলেও ইসরাইলীরা খুঁজে খুঁজে তাদের উপর হামলা করছে। কেন? তোমরাই না মানবাধিকার, বাক্- স্বাধীণতা আর গণতন্ত্রের বড় বড় কথা বলো? ইসরাইলের সেই নারী সাংসদের কথাও আপনারা নিশ্চিত জানেন? তিনি বলেছেন প্যালেস্টাইনের সব নারীকে হত্যা করতে হবে যেহেতু তাদেও সন্তানরা বড় হয়ে ইসরাইল রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ করে। এই কথা যদি প্যালেস্টাইন বা আরব বিশ্বের কোন রাজনীতিক বলতেন, তবে পশ্চিমা গণমাধ্যম নিন্দায় ফেটে পড়তো।  

প্রশ্নঃ ব্যক্তিগত ভাবে ইয়াসির আরাফাতের কখনো ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন কি জীবনের কোন পর্যায়ে বা তরুণ বয়সে ‘ফাতাহ’ পার্টির সক্রিয় সদস্য হয়েছিলেন কি? বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্যালেস্টাইন ছিল একমাত্র আরব রাষ্ট্র যারা আমাদের সেসময় সমর্থন দিয়েছিল...

শাহের মোহাম্মদঃ অনেক আগে...তরুণ বয়সে আমি ‘ফাতাহ’ পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলাম। বাংলাদেশ-প্যালেস্টাইন সম্পর্ক বিষয়ে একটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই যা আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না। ১৯৭৪ সালে পাকিস্থানে অর্গ্যানাইজেশনস্ অফ ইসলামিক কান্ট্রিস (ওআইসি) সম্মেলনের ঠিক কয়েকদিন আগেই আমাদের নেতা ইয়াসির আরাফাত বাংলাদেশ ঘুরে যান। তাঁর সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের বন্ধুত্ব ছিল। পাকিস্থান কিন্তু সেবার শুরুতে বাংলাদেশকে ওআইসি সম্মেলনে নিতে চায় নি। সম্মেলনের আগে আগে আরাফাত পাকিস্থান পৌঁছে গিয়ে সেখানকার কর্তৃপক্ষকে তীব্র চাপ দিলেন এবং বললেন, ‘শেখ মুজিবকে এখানে আসতে না দেওয়া হলে আমিও তোমাদের সম্মেলনে অংশ নেব না।’ সেবার বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে প্যালেস্টাইনী ডেলিগেশন চার থেকে ছয় ঘণ্টা তীব্র বাদানুবাদ করেন। অবশেষে অনুমতি পায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজেদের ভেতর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যত মতপার্থক্য থাক, আমাদের ন্যায্য সংগ্রামের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবেই সমর্থন যুগিয়েছে যার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

প্রশ্নঃ আমাদের সরকার গাজায় একটি চোদ্দ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল পাঠাতে চাইছিলেন...

শাহের মোহাম্মদঃ এ অবস্থায় তাঁরা গাজায় গিয়ে কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না। বরং যুদ্ধ বিরতি শুরু হবার পর তারা গাজা পরিদর্শন করতে পারেন।

প্রশ্নঃ অনেকেই বলে থাকেন যে ‘ফাতাহ’ পার্টি যৌক্তিক আচরণ করলেও হামাসের আচরণ সবসময় বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক নয়?

শাহের মোহাম্মদঃ আমি কিন্ত মনে করি আমরা সব প্যালেস্টাইনীই যৌক্তিক। সাত বছর হয় গাজা ও পূর্ব তীরের সীমান্ত বন্ধ ও আমরা গাজা-মিশর সীমান্তে ১৪ কিলোমিটারের পর সমুদ্রও অতিক্রম করতে পারি না। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যগত ভাবে যারা জেলে বা জেলেনী তারা এখন মাছ ধরতেও যেতে পারে না। এ হলো ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার এক বিশাল জেল! ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা হলে তিন বা চার মাস পর এক দিন বা দু’দিনের জন্য একবার সীমান্ত খুলে দ্যায়। কোন এইড গ্রুপ গাজায় ঢুকতে পারে না। এমনকি আমি প্যালেস্টাইনের একজন রাষ্ট্রদূত হয়েও পূর্ব তীরে ইসরাইলীদের অনুমতি ছাড়া ঢুকতে পারব না। সাত বছর হয় গাজায় ছয় ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ আসে এবং তারপর আবার আট ঘণ্টা পাওয়ার-অফ থাকে। আর এই জুলাইয়ের যুদ্ধ থেকে এখন মাত্র দু’ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাচ্ছে গাজাবাসী। আসলে মার্কিনী সমরাস্ত্র কারখানাগুলো আরব বিশ্বে প্রতি বছর ১৫০ থেকে ১৬০ বিলিয়ন ডলার সম পরিমাণ সমরাস্ত্র রপ্তানী করে। আজ সারা বিশ্ব চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের সাতটি প্রধান কোম্পানী। সমরাস্ত্র, খাদ্য, মিডিয়া সহ বিশ্বের প্রধান কোম্পানীগুলো সবই ইহুদি নিয়ন্ত্রিত। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই মুসলিমদের সংখ্যা ইহুদিদের চেয়ে বেশি। কিন্ত ইহুদি লবি বিশেষত: মিডিয়া এতটাই তাদের হাতে যে ঐ লবিকে চটিয়ে একটি প্রতিবেদন বা প্রবন্ধ লেখার সাহস কম মানুষেরই আছে। আজ ইসরাইলী বোমায় ক্রিশ্চিয়ান প্যালেস্টাইনীরাও মরছে, বহু চার্চও ধ্বংস হচ্ছে। আমেরিকানরা সাহসই পাবে না কিছু বলার। অথচ আর্জেন্টিনায় একটা সিনাগগ ধ্বংস হলে দেখবেন পুরো পশ্চিমা মিডিয়া ফেটে পড়ছে! ২০০৬-এ একজন মাত্র ইসরাইলী সৈন্য ‘হত্যার অপরাধে’ ১৫০০ প্যালেস্টাইনী ২০ দিন কারাবাস করেছিল। আজো ইসরাইলী কারাগারে ১০-১৫,০০০ প্যালেস্টাইনী বন্দী। নিশ্চুপ বারাক ওবামা প্রশাসন। ডেমোক্র্যাটদের উপর ইহুদী লবির প্রভাব ত’ রিপাবলিকানদের চেয়েও বেশি!     

প্রশ্নঃ ইন্টারনেটে প্যালেস্টাইন ও গাজা সর্ম্পকে সামান্য পড়তে গিয়ে দেখলাম বলা হচ্ছে যে গাজা নাকি আসলে প্যালেস্টাইনের ভূখ- নয়? এটা নাকি আসলে ছিল মিশরের অংশ যা ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরাইল মিশরের কাছ থেকে দখল করে? তাহলে গাজার অধিবাসীরা কি আসলে মিশরীয় না প্যালেস্টাইনী?

শাহের মোহাম্মদঃ যদি ইতিহাসের গভীরে আপনি প্রবেশ করেন তবে দেখতে পাবেন যে দুই মহাযুদ্ধের আগেই কোন না কোনভাবে গোটা আরব ও আফ্রো-আরব অঞ্চল ব্রিটিশ ও ফরাসী এই দুই ঔপনিবেশিক শক্তির দ্বারা অধিকৃত হয়েছিল। এই ঔপনিবেশিক প্রভু দুই রাষ্ট্র আমাদের এই বিস্তীর্ণ এলাকা ছেড়ে চলে যাবার আগে আলোচনার টেবিলে বসে, কৃত্রিম নানা মানচিত্র এঁকে ও ছুরি-কাঁচি চালিয়ে বিশাল এ ভূভাগকে ২২টি আলাদা রাষ্ট্রে ভাগ করে দিয়ে চলে গেলো। অথচ আমাদের ছিল একই ভাষা, ইতিহাস ও জাতিসত্ত্বা। আমরা ত’ ছিলাম সেই মহান ‘আল জাজিরা আল আরাবিয়া।’ ‘আল জাজিরা’ বলতে আজ অনেকেই বোঝেন একটি টিভি চ্যানেল। বাস্তবে আল জাজিরার অর্থ হলো ‘দ্বীপপুঞ্জ।’ আরবের দ্বীপপুঞ্জ বা ‘আল জাজিরা আল আরাবিয়া।’ ঔপনিবেশিকরা করলো কি? না, তারা সব কিছু টুকরো টুকরো করলো। আগে সিরিয়া ও লেবানন এক দেশ ছিল, জর্ডাণ ও প্যালেস্টাইন এক দেশ ছিল। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতেও এই টুকরো করার কাজ করলো তারা। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত...সবই ত’ একটি বিশাল দেশের অংশ ছিল। ঔপনিবেশিকরা কি করলো? ধরুন, তারা সিরিয়ার কিছু অংশ কেটে তুরষ্ককে দিল। প্যালেস্টাইনের ভৌগোলিক অবস্থান আবার গোটা আরব বিশ্বের মাঝে বরাবরই স্ট্রাটেজিক্যালি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দেখুন, ১৯১৭ সালে প্যালেস্টাইনে ইহুদি জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ শতাংশ। সেই ১৯১৭ সালেই বৃটিশ বংশোদ্ভুত ইহুদি ব্যবসায়ী ব্যারণ রথসচাইল্ডকে একটি চিঠিতে তদানীন্তন বৃটিশ পররাষ্ট্র সচিব আর্থার জেমস বালফোর জানাচ্ছেন যে ইহুদিদের জন্য প্যালেস্টাইনে তিনি একটি আবাসভূমি নির্মাণ করতে চান। এই চিঠিই কিন্তু ‘বেলফোর ঘোষণা’ নামে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে পরিচিত। এর আগে আফ্রিকার উগা-াতেও ইহুদিদের আবাসভূমি স্থাপণার কথা ভেবেছে পশ্চিমা দেশগুলো। পরে নানা দিক ভেবে তারা প্যালেস্টাইনকেই বেছে নেয়। হয়তো আরব বিশ্বের বিপুল ভূভাগ, অনেক মানুষ তাদের বিবেচনায় ছিল...   

প্রশ্নঃ এবং প্রচুর খনিজ সম্পদ?

শাহের মোহাম্মদঃ হতে পারে (হাসি)। আরো যেটা দূর্ভাগ্যের বিষয় হলো ১৯৪৭ সালে জাতিসঙ্ঘ ১৮১ নং রেজল্যুশনের মাধ্যমে প্যালেস্টাইনকে আরব ও ইহুদিদের মাঝে ভাগ করে দেবার প্রস্তাব আনলো যা তখন আরব দেশগুলো মেনে নেয় নি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে নাজি বাহিনীর হাতে ষাট লক্ষ ইহুদির গণহত্যার কারণে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, বৃটেন সহ সব বড় দেশগুলোই ইহুদিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের জন্য একটি আবাসভূমি গঠনের প্রশ্নে ঐক্যমত্যে আসে। জাতিসঙ্ঘের এই ১৮১ নং রেজল্যুশনের মাধ্যমে গোটা প্যালেস্টাইনের ৫৮ শতাংশ ভূখ- ইহুদিদের ও বাকি ৪২ শতাংশ আরবদের দেবার প্রস্তাব করা হয়। এই রেজল্যুশন অনুসারে গোটা প্যালেস্টাইনকে তিনটি ইহুদি অঞ্চল, চারটি আরব অঞ্চল এবং আর্ন্তজাতিক ভাবে পরিচালনাযোগ্য শহর হিসেবে জেরুজালেমের কথা বলা হয়। খোদ সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ পশ্চিমা দেশগুলো এ প্রস্তাব মেনে নিলেও আমরা আরবরা তা’ তখন সঙ্গত কারণেই মেনে নিই নি। কাজেই ১৯৪৮ সালে ইসরাইলের সাথে মিশর-সিরিয়া-জর্ডানের যুদ্ধ হলো। সেই যুদ্ধে গাজার দখল নিয়ে মিশর জয়ী হলেও বা জর্ডান পূর্ব তীর জয় করলেও পরে এই জয়গুলো বেহাত হয়ে যায়। যেমন, পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালের ‘সিক্স ডেইজ ওয়্যার’ বা ‘ছয় দিনের যুদ্ধে’ ইসরাইল গাজা দখল করে। এই হলো ইতিহাস।  

প্রশ্নঃ আমার শেষ প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ-প্যালেস্টাইন দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন বা করেন?

শাহের মোহাম্মদঃ বর্তমানে ৫০ জন প্যালেস্টাইনী ছাত্র চিকিৎসা ও প্রকৌশল বিদ্যা সহ নানা বিষয়ে বাংলাদেশে পড়ছে এবং ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা পাওয়া প্যালেস্টাইনী ছাত্রের সংখ্যা কয়েক শত থেকে হাজার ত’ হবেই। বাংলাদেশে আমাদের একশো’র মত ছাত্র সামরিক প্রশিক্ষণও নিয়েছে।

প্রশ্নঃ আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

শাহের মোহাম্মদঃ আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। 

 



32 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ অপর বাংলা 
শেয়ার করুন


Avatar: Mahbub Masud

Re: বাংলাদেশস্থ ফিলিস্থিনি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎকার

আমি কিন্ত মনে করি আমরা সব প্যালেস্টাইনীই যৌক্তিক। সাত বছর হয় গাজা ও পূর্ব তীরের সীমান্ত বন্ধ ও আমরা গাজা-মিশর সীমান্তে ১৪ কিলোমিটারের পর সমুদ্রও অতিক্রম করতে পারি না। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যগত ভাবে যারা জেলে বা জেলেনী তারা এখন মাছ ধরতেও যেতে পারে না। এ হলো ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার এক বিশাল জেল! ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা হলে তিন বা চার মাস পর এক দিন বা দু’দিনের জন্য একবার সীমান্ত খুলে দ্যায়। কোন এইড গ্রুপ গাজায় ঢুকতে পারে না। এমনকি আমি প্যালেস্টাইনের একজন রাষ্ট্রদূত হয়েও পূর্ব তীরে ইসরাইলীদের অনুমতি ছাড়া ঢুকতে পারব না। সাত বছর হয় গাজায় ছয় ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ আসে এবং তারপর আবার আট ঘণ্টা পাওয়ার-অফ থাকে। আর এই জুলাইয়ের যুদ্ধ থেকে এখন মাত্র দু’ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাচ্ছে গাজাবাসী। ্‌্‌্‌্‌ বোরো নির্মোম


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন