ট্রিবিউট টু হলধরস্

তাপস দাশ

 আপনি নাটক করলে লোক না হলে, টিকেট না বিক্রি হলে দর্শক তৈরি নয় বলে গাল না দিয়ে আয়নার সামনে প্র্যাকটিস করে দেখুন, আপনার না মাইরি ওটা হচ্ছে না l মানে নাটকটা l ফিরে যান, টু দ্য বেসিক, ফিরের থেকে শুরু করুন, লেগে থাকুন, হাল চাষুন, হলধরদের মত, দলকে পাপড়ি হিসেবে দেখুন, দলবাজির ক্ষেত্র নয়, দেখবেন, আপনার সীমিত ক্ষমতা নিয়েও আপনি কিছুদূর যেতে পারবেন l কিছু্দূর, কেননা যদি আপনি বয়স্ক হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি সেই সোনার সময়টা ফেলে এসেছেন, যখন দিনে ১৫০০ স্কিপিং করে নাট্যতত্ত্ব পড়ে মহলায় যাওয়া আর সম্ভব নয়, শরীর দেবে না, আপনিও তো জানেন যে দেহপট সনে নট সকলি হারায় l মন খারাপ করবেন না, মন ভালো করুন, ভালো নাটক করার চেষ্টা করুন, দেখবেন আপনার নাটকেও একটু একটু করে লোক হবে l টিকেট কেটেই লোকে নাটক দেখবে l খিস্তি করতে হবে না l 

আরও পড়ুন...

ওদের থিয়েটার, আমাদের থিয়েটার

সুপ্রতিম রায়

 ঝিন্চ্যাক ছাড়া কিছু থাকবে না। মানুষের থিয়েটারকে মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এবার থিয়েটারকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে বলা হতো থিয়েটারে দর্শক হয়না। এখন হয়। কী এমন বিপ্লব ঘটিল। ঘটিল এটাই যে যে রস আগে বাজারি ছবি, কমেডি সার্কাসে, টিভিতে পাওয়া যেত সেই রস এখন থিয়েটারেও মিলছে। আমরা সবাই ড্যাংড্যাং করে নাচছি আর বলছি থিয়েটারের সুদিন এলো! হালে একটি নাটক (প্রায় আড়াই ঘন্টার) দেখে দর্শকরা উচ্ছসিত প্রশংসা করছেন। বলছেন অসাধারণ লাইট, দুর্ধষ্য সেট, কোরিওগ্র্যাফ, কি চমৎকার অভিনয়! সত্যি বলতে কি জঘন্য সংলাপ, অকারণে অভিনেতাদের পটুত্ব জাহির, কিছু সার্কাস-জিবনাস্টিক এবং ‘ওদের থিয়েটার’ এর মতন করার একটা অসফল প্রয়াস। দর্শক মুগ্ধ, কারণ ‘ঝিন্চ্যাক প্রোডাকশন’। ‘জীবনের সাথে সম্পর্কহীন এক abstraction এর চর্চা’।

আরও পড়ুন...

টিকিটের দাম ও আমার থিয়েটারঃ কাটাকুটি খেলা

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ

 মঞ্চে যা ঘটছিল তখন তাতে কাহিনীর পর কাহিনী অত্যন্ত দুর্বল, আরোপিত ও ন্যূনতম সাহিত্য পদবাচ্য না। একদিকে বিপ্লবের প্যামফ্লেটধর্মী উৎকট নাটক, অন্যদিকে প্রাণান্তকর ভাঁড়ামো। এমনকি নান্দীকারের করা জাতীয় নাট্যোৎসবে বাইরে থেকে আসা নাটকগুলোও সাঙ্ঘাতিক প্রেডিক্টেবল হয়ে উঠেছিল। মনোজ মিত্রের অলকানন্দার পুত্রকন্যা, সুমনের কোরিওলেনাস, নর্মান বেথুন, উষা গাঙ্গুলির কোর্টমার্শাল, মহাভোজ এমন কিছু নাটক এদিক ওদিক আগে বা পরে আসবে সে সময়ে। কিন্তু এগুলো ব্যতিক্রম। তাছাড়া নিষিদ্ধ একটা সম্পর্কের স্বাদকে আন্ডারলাইন করে একটি পত্রিকাগোষ্ঠী তীব্র প্রচার চালিয়েছিল ওই নাটকটি নিয়ে। বহুপঠিত সেই পত্রিকা পড়েই তখন বেশিরভাগ দূরের দর্শক আসতেন কলকাতায় নাটক দেখতে। হ্যাঁ, তখনো আসতেন! কলকাতাতেও বাংলা সিনেমায় অঞ্জন চৌধুরী, স্বপন সাহার যুগ চলছে। শহুরে মধ্যবিত্ত দর্শকেরা হলে যাচ্ছেন না। গ্রামের দিকে ভিডিও পার্লারে তিন ধরণের সিনেমা হয়। একটা পর্নোগ্রাফি, অন্যটা হিন্দি এবং কখনো-সখনো বাংলা। সিঙ্গল স্ক্রিন-ই তখন সব। সেখানে বাংলা সিনেমা চলে এবং লোকজন দেখতে আসেন। কিন্তু তাঁরা কেউই নাটকের দর্শক না। ফলে নাটকের সঙ্গে এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠেনি। নাটকের সঙ্গে তখন কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে সিরিয়ালের।

আরও পড়ুন...