বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নো ওয়ান কিলড ফেলানি

একরামুল হক শামিম

বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে অধ্যয়নকালে চতুর্থ বর্ষে 'আন্তর্জাতিক আইনে' গার্সিয়া অ্যান্ড গারজা মামলা পড়তে হয়েছিল। মনে আছে, এ নিয়ে ক্লাসরুমে বেশ আলোচনাও হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি মেক্সিকো ভার্সেস ইউএসএ, ১৯২৬ নামে পরিচিত। এই মামলাটি শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র জেনারেল ক্লেইমস কমিশনে নিষ্পত্তি হয়েছিল। মেক্সিকোর একটি দরিদ্র পরিবারের দুই সন্তান রাতের আঁধারে রিওগ্রানদে নদী সাঁতরে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা অতিক্রম করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষীর গুলিতে নিহত হয়। তারা এমন এক স্থানে গুলিবিদ্ধ হয় যেখানে মেক্সিকো ওযুক্তরাষ্ট্রের আইনে নদী পারাপার নিষিদ্ধ ছিল। সীমান্তরক্ষী অফিসার চোরাচালানের উপর নজর রাখার জন্যই বিশেষভাবে নিযুক্ত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব মার্শাল সীমান্তরক্ষী অফিসারকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং অফিসারকে চাকরি থেকে অব্যাহতির আদেশ দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সেই আদেশের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন এবং অফিসারকে পুনঃরায় চাকরিতে বহাল করেন। বিষয়টি মেক্সিকো-ইউএসএ জেনারেল ক্লেইমস কমিশনে বিবেচনার জন্য প্রেরণ করা হয়। আদালত সিদ্ধান্ত দেয়, অফিসারের কৃতকর্ম রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা যেভাবেই বৈধ করার চেষ্টা করা হোক না কেন এটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো কাজ নয়। শিশু দুটির অনানুমোদিত স্থান দিয়ে নদী পারাপারের চেষ্টা নিঃসন্দেহে বেআইনি কাজ। কিন্তু কেবল এই কারণে কেনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত বা অনুমোদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনে ব্যক্তির প্রতি আচরণের একটি ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য মাত্রা রয়েছে। এমন কোনো আইন নেই যার মাধ্যমে ব্যক্তির প্রতি এমন অমানবিক আচরণ সমর্থিত হতে পারে। সুতরাং মেক্সিকান শিশু দুটির হত্যা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী হবে। সেই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিহতের বাবা-মাকে ২ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। ক্ষতিপূরণের টাকার পরিমাণের চেয়ে বড় বিষয় হলো দায়ী পক্ষ দণ্ড পেয়েছে।

 

গার্সিয়া এবং গারজা মামলাটি অনেকদিন পরে প্রাসঙ্গিকভাবে মনে পড়ে গেল। তবে এবারের ফলাফল ভিন্ন। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি। ভোরবেলা পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। কনস্টেবল অমিয় ঘোষ গুলি করে। কাঁটাতারে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে ফেলানীর মৃতদেহ। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তারপর থেকেই ফেলানী হত্যার বিচারের দাবি জানানো হয়। নানা ধাপের পর সেই বিচার শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট। স্বাভাবিকভাবেই এ বিচার কাজ নিয়ে অনেক রকমের প্রত্যাশা ছিল। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম রক্তক্ষয়ী সীমান্ত। সেই সীমান্তের হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রথম কোনো বিচার নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক রকমের প্রত্যাশা থাকে। সীমান্তের হত্যাকাণ্ড বন্ধে এই মামলা হতে পারতো প্রথম ধাপ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই পথ উন্মোচিত হয়নি। প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া।

 

২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে শুরু হয় ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার। সকালে কোচবিহারের সোনারীতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ১৮১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে উক্ত বিচারকাজ শুরু হয়। বিএসএফ এর আইন The Border Security Force Act, 1968 অনুযায়ী গঠন করা হয় জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট। মোট পাঁচজন বিচারক বিচার প্রক্রিয়া চালান আর কোর্ট পরিচালনা করেন বিএসএফের গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের ডি আই জি কমিউনিকেশনস সি পি ত্রিবেদী। ১৪ আগস্ট বুধবার থেকে শুনানি শুরু হয়। কনস্টেবল অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এই অমিয় ঘোষ তাঁর ৫ দশমিক ৫৬ মিলিমিটার ইনসাস রাইফেল থেকে গুলি চালিয়েছিলেন, যাতে নিহত হয় ফেলানী। ফেলানীকে হত্যার দায়ে বিএসএফের অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষ ঘটনার পর থেকেই ক্লোজ অ্যারেস্ট থাকেন। অর্থাৎ তিনি তাঁর ইউনিটের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের এলাকার মধ্যেই সীমিতভাবে ঘোরাফেরা করতে পারতেন। শুনানির শুরুতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য শোনা হয়। নিজের রাইফেল থেকে গুলি চালিয়ে ফেলানীকে হত্যা করলেও এর জন্য দোষ স্বীকার করেনি কনস্টেবল অমিয় ঘোষ। এরপর ১৯ আগস্ট ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আবদুল হানিফের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। জেনারেলসিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট ৬ সেপ্টেম্বর বিচারকাজ শেষ করে।  রায়ে ভারত-বাংলাদেশসীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার মামলায় অভিযুক্ত সীমান্তরক্ষী অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। রায়ের পরে বিএসএফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দ্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স অ্যাক্ট ১৯৬৮ অনুযায়ী জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টের রায়ের চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য বাহিনীর মহাপরিচালকের কাছে পাঠাতে হয়। সেই প্রক্রিয়া শুরুর কথাও জানানো হয়।

 

দুখঃজনক হলেও সত্য, জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টের এই বিচার ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। 'নো ওয়ান কিলড জেসিকা'র মতো যেন বলা হলো 'নো ওয়ান কিলড ফেলানী'! বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ব্যক্তি ফেলানীর ওপর যে নির্মম ও অমানবিক আচরণ করা হয়েছে তা কোনো আন্তর্জাতিক আইনেই সমর্থিত হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে গার্সিয়াঅ্ যান্ড গারজা মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণের কথা আবারও মনে করা যেতে পারে।

 

ফেলানী হত্যাকাণ্ড সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে আইকনিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের সঙ্গে ভবিষ্যতের আরও অনেক ঘটনার সংযোগ হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশ সরকারকে এখন এ ব্যাপারে সক্রিয় হতে হবে। এতোদিন বিষয়টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর পর্যায় থেকে দেখা হয়েছে। এখন আশা করবো বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হলে অবশ্যই ফেলানী হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সবাই যেখানে জানে যে অভিযুক্ত অমিয় ঘোষের রাইফেল থেকে চালানো গুলিতেই ফেলানীর মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর পর অমানবিকভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেলানীর মৃতদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সেখানে অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দেওয়া নিঃসন্দেহে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষকে বিমুখ করে তুলবে।

দ্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স অ্যাক্ট, ১৯৬৮ এর ১১৭ ধারা অনুযায়ী এই আদেশের বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগটি অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।

১১৭ ধারায় রয়েছে- 117.Remedy against order, finding or sentence of Security force Court.

(1) Any person subject to this Act who considers himself aggrieved by any order passed by any Security Force Court may present a petition to the officer or authority empowered to confirm any finding or sentence of such Security Force Court, and the confirming authority may take such steps as may be considered necessary to satisfy itself as to the correctness, legality or propriety of the order passed or as to the regularity of any proceeding to which the order relates.

(2) Any person subject to this Act who considers himself aggrieved by a finding or sentence of any Security Force Court which has been confirmed, may present a petition to the Central Government, the Director- General, or any prescribed officer superior in command to the one who confirmed such finding or sentence,and the Central Government, the Director- General, or the prescribed officer,as the case may be, may. pass such order thereon as it or he thinks fit.

২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল ভারতের সুপ্রিমকোর্ট আদেশ প্রদান করেছে যে সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যদের বিচার ক্রিমিনাল কোর্টেও করা যাবে। সুপ্রিম কোর্ট এ আদেশের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের রায়কে সেট অ্যাসাইড করে দেয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুইজন বিএসএফ সদস্য কর্তৃক একজন কাশ্মিরী কিশোরীকে হত্যার মামলায় এমন আদেশ দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সব ধরনের মামলা সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে করা বাধ্যতামূলক নয়।  (The SC held that it was not mandatory to try all such cases in the security force court, and the commanding officer must adduce sufficient reasons on why the case should not be sent to a criminal court. It said specific provisions under the armed forces laws could not summarily take away general laws.)

কিছুটা দেরি হয়ে গেলেও সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশকে বিবেচনায় নিতে হবে। যেভাবে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স ফেলানী হত্যা মামলায় রায় প্রদান করেছে তা ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পথকে আরও উন্মুক্ত করেছে। বাংলাদেশ এবং ভারত দুটি দেশকেই সীমান্তে হত্যাকান্ডে বন্ধে ফেলানী হত্যা মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।

 



976 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ অপর বাংলা  টাটকা খবর 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 172 -- 191
Avatar: Mainul

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

আমি সইফুলকে টার্গেট করে বলিনি। ফেসবুক আর গুরুতে কি আপনি সাম্যবাদের ন্যাকরা জড়ানো সুশীল দেখতে পাচ্ছেন না? চোখ থেকে নীরোধটা খুলে ফেলুন। ওটা ওর আসল জায়গায় ইউজ করুন।
Avatar: দেব

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

মইনুলের কথার টোন খুব খারাপ লাগল।
Avatar: rabaahuta

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

ফেসবুকের কথাগুলো ফেসবুকে বললে ভালো হয়না? আপনি হয়তো খুবই দামী কথা বলছে, কিন্তু এখানে তেমন সমঝদার কই। উলুবনে মুক্তো ছড়িয়ে তো লাভ নেই, আপনার এই নিরোধ ফেটিশের কদর করার মত তো লোক তো আর যেখানে সেখানে পাবেননা।
Avatar: শ্রী সদা

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

মইনুলবাবুর বক্তব্যের ধরণ ভালো লাগেনি। কিন্তু "কে এফ সি, সিসিডি, বারবি কিউ, পকেটে আইফোনে ছাড়া দিন চলবে না, স্যালারি ২০% না বাড়ালে তেড়ে ম্যানেজারের বাপ বাপান্ত করবে, আর গরিব মানুষদের বেলায় সাম্যবাদের ন্যাকরা জড়ানো চাই।" ~ এই লাইনটা ঠিক ফেলে দেওয়ার মত মনে হলনা। মানে চারপাশে খুঁজে পাওয়ার মত খুব পরিচিত প্যাটার্ন। নিজেকে ইনক্লুড করেই বলছি।

Avatar: সাইফুল

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

mainul @ চেঙ্গিস খানের জাত ভাই নাকি ?! ভাল তো ! ভাল না ?! অনুপ্রবেশ কি শুধু আমরাই করি?আপনারা করেন না? ফেন্সিডিল আর অন্যান্য ভারতীয় চোরাচালানকারীকে তো কোলে করে বর্ডার পাস করিয়ে দেওয়া হয়। তা গুলি শুধু গরু ব্যবসায়ীদের বুকে লাগবে আর ফেন্সিডিল ব্যবসায়ীদের মুখে মধু তাতো হয় না।আজ পর্যন্ত একটা মাদক ব্যবসায়ী মরতে শুনলাম না।শুধু মারে যারা গরু আনে তাদের। মারলে সবাইকে মারো।তাতে দুইটা লাভ।মাদক ব্যবসায়ীও কমলো , গরু ব্যবসায়ীও মরল আর দেশের মানুষও কমলো।

আর বাংলাদেশীদের কাছ থেকে জ্ঞানের কথা শুনা কি পাপ? যে গুলো বলেছি সেগুলো কি মিথ্যে?
Avatar: দেব

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

না না সাম্যবাদ নয়। বলছিলাম বাংলাদেশকে ভারতের একটা অঙ্গরাজ্য করে নিলে এইসব ঝামেলা কমে। কাঁটাতার 'তুলে' দেওয়া মানে সেটাই।

তা তাতে সম্মতি/আপত্তি থাকতেই পারে, দু'দিকেই। বিভিন্ন কারণে। কিন্তু সাম্যবাদের পারটিকুলারলি কিছু নাই এতে।
Avatar: বাংলাদেশ

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

ভারত আমাদের বন্ধু।ভারত সীমান্তে গুলি করে মানুষ মেরে আমাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন করছে।ফারাক্কা বাধ দিয়ে সমগ্র উত্তরাঞ্চল শুষ্ক করে ফেলেছে।তাতে কি হয়েছে!ভারত আমাদের বন্ধু।টিপাইমুখ বাধ দিয়ে পূর্বাঞ্চল মরুভূমি করার পায়তারা করছে।ভালই তো।মরুভূমি দেখতে আর রাজস্থান যেতে হবে না।এখানে বসেই তা দেখতে পারবো।তিস্তা চুক্তি করতে গড়িমসি করছে।করবেই তো।ভারত কত বড় দেশ।তাদের কি আর সময় আছে আমাদের দেখার,আমাদের কথা ভাবার? আসলেই ভারত আমাদের বন্ধু।সীমান্তের ওপারে অবাধে ফেন্সিডিলের কারখানায় ফেন্সিডিল উৎপাদন করছে।তারা আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করার জন্য ফেন্সিডিল এদেশে পাঠাচ্ছে।আর আমরা তা খেয়ে মস্ত বড় পিনিক করছি।ভালই ত।এইরকম বন্ধু না থাকলে আমরা ফেন্সিডিলের স্বাদ থেকে বঞ্ছিত হতাম।তাই ভারতকে নিয়ে কেউ বাজে কথা বলবেন না। যারা বলবেন তারা রাজাকার ,জামায়াত শিবির , বিএনপির দালাল।
Avatar: a x

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

হনু। বুঝলাম। মানে বুঝিয়ে ছাড়ল আরকি। যদিও আমি ঐ লাইনেই যাচ্ছিলাম না আদৌ। বেসিকালি সব সরকারই খাজা আর সব মানুষই প্রায় একরকমের - এইরকম একটা দার্শনিক টোন আনার চেষ্টা করছিলাম, কেউ দিলনা।
Avatar: Ishan

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

এগুলো কী হচ্ছে কী? ভারত বাংলাদেশ আপাততঃ দুটো দেশ। দুটো দেশ বন্ধু শত্রু কিস্যু হয়না। সেই নিয়ে "ভারত আমাদের বন্ধু" বা "ভারত আমাদের শত্রু" বা "বাংলাদেশ বন্ধু/শত্রু" বলে এখানে নিজেদের মধ্যে চাট্টি বাওয়াল করা ছাড়া লাভ কী হবে?
Avatar: কৃশানু

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

মারিয়ন সাত্রাপি-র সেই বিখ্যাত উক্তি। অক্ষদা, তোমার টোনটা আমি ভালই বুঝেছি।
Avatar: একরামুল হক শামীম

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

সীমান্ত, কাঁটাতার, অন্য দেশ এসব বাক্য ব্যবহার করতে করতে আমরা ভুলে যাচ্ছি ফেলানী একজন মানুষ ছিলেন। একজন মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের ব্যবহার কেমন হবে সেই আলোচনা হওয়া জরুরী। সেটি বোধ হয় সভ্য রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও।
প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শত্রুতা জিইয়ে রেখে কিংবা শত্রুভাবাপন্ন অবস্থান বজায় রেখে প্রিডিটারমাইন্ড হয়ে কোনো কিছু বিশ্লেষণ করায় সমাধান আসবে না। সেখানে এক দিকে অবস্থান নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। 'বাংলাদেশ ভারতের শত্রু' কিংবা 'ভারত বাংলাদেশের শত্রু' এমন অবস্থান জারি থাকলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পৃথিবীর অন্যতম রক্তক্ষয়ী সীমান্ত হিসেবেই থেকে যাবে।
Avatar: b

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

13 September 2013 21:53:43 IST 181.207.39.182 (*)
মইনুল মানুষ কেমন জানি না, তবে লেখার টোন বেশ অসম্ভব অভদ্র লাগলো।
Avatar: pi

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

আমি মইনুল বাবুর পোস্টে আশ্চর্য হইনি। ফেবু গ্রুপে দেখে অভ্যস্ত। এবং এরকম বা এর থেকেও অনেক অভদ্র টোনের পোস্ট এপারের বাঙালীরা হাল হামেশা বাঙলাদেশীদের উদ্দেশ্যে করে চলেছেন। ভরসার কথা এটাই, এই ফোরামের মত অনেকে তার প্রতিবাদও করেন।
Avatar: jannata

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমার উপলব্ধি দুইবাংলার মানুষ এক, তাদের সমস্যাও এক- শুধু ধর্ম আর রাজনীতি আমাদের বিরোধ জিইয়ে রাখছে। আর আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে মনে হয়েছে আগামী ১০ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করবে।
তবে এই সাথে এটাও বলি আমি রাষ্টের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি, তাই যে রকম থাকে তাকে সেই রকম থাকতে দেওয়া উচিত বলে মনে করি। ঐ নিজে গেটেড কমিউনিটিতে বসে সীমানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আত্মশ্লঘা অনুভব করি না।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

সিকিকে আধুলি মাপের "ক"।

কৃশানু'র খিস্তিকে জোর সমর্থন। তাকে বিনয় করে বলি, সীমান্তের চৌকিদার চাড্ডি/ মোল্লাদের আরো কিছু খিস্তি ব্যবহার করুন। তবু বলেশ্বর উকুনদের নাশ চাই। :পি
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

আপডেট-০১:

["গুগল ম্যাপে ‘ফেলানী রোড’
বিএসএফের বিচার নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ফেইসবুকে একটি গ্রুপের দাবির মধ্যে গুলশানে ভারতীয় হাই কমিশনের সামনের সড়ক ‘ফেলানী রোড’ নামে স্থান পেয়েছে গুগল ম্যাপে।

শুক্রবার রাতে গুগল ম্যাপে দেখা যায়, ভারতীয় হাই কমিশন ও ব্রাজিল দূতাবাসের মধ্যবর্তী সড়কের নাম ইংরেজিতে ফেলানী রোড (Felani Rd) লেখা হয়েছে।

বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী ২০১১ সালে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা ফেলানীর মৃতদেহ তখন বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় তুলেছিল।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি আর ঢাকার বারবার আহ্বানের পর বিএসএফ ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ নেয়। তবে বিএসএফের বিশেষ আদালত গত ৬ সেপ্টেম্বর ফেলানী হত্যায় অভিযুক্ত বিএসএফের হাবিলদার অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেয়ার পর বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই রায়ে অসন্তোষ জানানোর পর শুক্রবার ভারত জানিয়েছে, এই রায় পুনর্বিবেচনা করা হবে।
রায়ের পরপরই বৃহস্পতিবার ফেইসবুকে ঢাকায় ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের সামনের রাস্তার নাম ‘ফেলানী রোড’ করার দাবিতে ফেইসবুকে একটি পাতা খোলা হয়। শুক্রবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত এতে সমর্থন জানিয়ে ২৬ হাজার ৯৩৯ জন ফেইসবুক ব্যবহারকারী লাইক দেন।

ওই পেইজে বলা হয়েছিল, “সরকার দিক বা না দিক, আজ থেকে গুলশান-১ এর ১৪২ নাম্বার রোডের নাম "ফেলানী রোড"!!!”

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা ইউনিয়নের বানার ভিটা গ্রামের কিশোরী ফেলানী ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাবার সঙ্গে ভারত থেকে বাড়ি ফিরছিল। কিছুদিন পর তার বিয়ের কথা ছিল।

অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়ে কাঁটাতারের বেড়ায় ৫ ঘণ্টা তার লাশ ঝুলে থাকার ছবি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়।"]
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article671441.bdnews

Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

আপডেট-০২:

[" ফেলানি হত্যার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিল বিএসএফ

ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ জানিয়েছে, সীমান্তে বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানি খাতুন হত্যা মামলার ‘রিভিশন ট্রায়াল’ বা পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

বিএসএফের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর ফেলানি খাতুন হত্যাকান্ডের যে রায় বিএএসএফের বিভাগীয় আদালত দিয়েছে, সেই রায়ের সঙ্গে তারা একমত হতে পারছেন না। তাই অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে অবিলম্বে পুনর্বিচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। বিএসএফেরই আভ্যন্তরীণ আদালতে এই বিচার হবে।

বিএসএফের মহাপরিচালক সুভাষ যোশি বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার মাত্র একদিন আগে ফেলানি হত্যাকান্ডের বিচারের ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত জানানো হলো। ঢাকায় দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের এক বৈঠকে যোগ দিতে সুভাষ যোশি সেখানে যাচ্ছেন। বিএসএফের মহাপরিচালক হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম ঢাকা সফর।

দিল্লি থেকে বিবিসির শুভজ্যোতি ঘোষ জানান, ফেলানি হত্যা মামলার রায়ে বাংলাদেশে যে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, সে পটভূমিতেই বিএসএফ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ঢাকা সফরে যাওয়ার আগে বিএসএফের মহাপরিচালক শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপরেই বিএএসএফের তরফ থেকে ফেলানি হত্যা মামলার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী ভোরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পেরনোর সময়ে ফেলানি খাতুন কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যান। দীর্ঘক্ষণ তাঁর দেহ বেড়ার ওপরেই ঝুলে ছিল।

নিহত এই কিশোরির ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই হত্যাকান্ডের জন্য বি এস এফের কড়া নিন্দা করেছিল।

বি এস এফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বি এস এফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

সেনাবাহিনীর কোর্টমার্শালের অনুরূপ বি এস এফের নিজস্ব আদালত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট এই মামলায় অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে মুক্তি দেয়। এই মামলাটিই এখন আবার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিল বিএসএফ।

ফেলানির পরিবারের প্রতিক্রিয়া

বিএসএফের এই সিদ্ধান্তের পর ফেলানি খাতুনের বাবা নুরুল ইসলাম বিবিসিকে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "আমরা চাই বিচারটা যেন সুষ্ঠুভাবে হয়, ভালোভাবে হয়। আমি চাই, যে বা যারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, তাদের যেন ফাঁসি হয়। ভারত সরকারের কাছে, বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। নতুন সিদ্ধান্তের কথা জেনে আমার ভালো লাগছে। ভালোভাবে যেন বিচারটি শেষ করা হয়, এটাই আমার চাওয়া।"

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা এখনি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চান, বরং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছেন।

মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলছেন, রায়ের বিষয়টি যখনি আমরা জানতে পেরেছি, বিভিন্ন লেভেলে আমরা বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, যে রায়টি হয়েছে, সেটি মহাপরিচালক পর্যায়ে যায়নি এবং সেখান থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। যেকোনো বাহিনীতে, নিন্মপর্যায়ে যখন কোন বিচারিক রায় হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত সেটি বাহিনী প্রধান নিশ্চিত না করেন, সেটাকে চূড়ান্ত রায় বলা যাবে না। এটা নিশ্চিত হয়নি বলেই আমরা জেনেছি। বাহিনী প্রধানের কাছে যখন বিষয়টি যায়, তিনি কিন্তু অনেকগুলো বিষয় দেখেই সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সামগ্রিকভাবেই বিচারিক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি আইনি বিষয় যেমন দেখেন, পারিপার্শ্বিক বিষয় দেখেন, প্রেক্ষাপট দেখেন।

বিজিবি জানিয়েছে, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সীমান্তের হত্যাকাণ্ড আর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হবে।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেলানি হত্যার বিচারের পাশাপাশি পাশাপাশি সীমান্তে হত্যা বা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই বিষয়টিতেও তারা জোর দিচ্ছেন।"]

http://www.bbc.co.uk/bengali/news/2013/09/130913_mh_felani_murder_retr
ial.shtml?utm_source=twitterfeed&utm_medium=twitter



Avatar: a x

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

কল্লোলদা, এটা কেন হচ্ছে জানেন?

http://www.bbc.co.uk/bengali/news/2013/09/130918_fa_ab_gelani_masum.sh
tml

Avatar: রোবু

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

Avatar: aranya

Re: নো ওয়ান কিলড ফেলানি

সুমন, the maestro ইজ স্টিল ক্রিয়েটিং। থ্যাংকস রোবু।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 172 -- 191


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন