বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

কল্লোল মুস্তাফা

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ৩৬০০ মেগাওয়াটের কাড্ডালোর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প (Cuddalore power project) থেকে  পিচাভারম (Pichavaram) নামের ছোট্ট ম্যানগ্রোভ বনটির দূরত্ব ৮ কিমি। ভারতের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত আইন ১৯৮৭ অনুসারে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৫ কিমি সীমার মধ্যে কোন বনভূমি থাকা চলবে না। ফলে তামিল নাড়ুর রাজ্য সরকার ২০১০ সালে কাড্ডালোর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশ ছাড়পত্র দিলেও ২০১২ সালের ২৩ মে সেই ছাড়পত্র স্থগিত করে দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রীন ট্রাইবুনাল। ভারতীয় হিন্দু পত্রিকার রিপোর্টে এ বিষয়ে বলা হয়েছে: “the proposed power plant location violated the criteria for thermal power plants, being within 25 km of Pichavaram, an ecologically sensitive area.”

(সূত্রঃ Green tribunal suspends environmental nod for Cuddalore power project. http://www.thehindu.com/todays-paper/tp-national/tp-tamilnadu/green-tribunal-suspends-environmental-nod-for-cuddalore-power-project/article3454339.ece )

পিচাভারম ম্যানগ্রোভ বনটির আয়তন ১১ বর্গ কিমি যা ১০ হাজার বর্গকিমি আয়তনের সুন্দরবনের মাত্র ৯০০ ভাগের এক ভাগ। ভারতে ছোট্ট একটি ম্যানগ্রোভ বনের পাশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না-জায়েজ হলেও বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের পাশে বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিরই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন জায়েজ!

একই ভাবে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে অবস্থিত রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের ২০ কিমি এর মধ্যে চামালাপুর গ্রামে ১ হাজার মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে নি ভারত ২০০৮  সালে। রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের বিস্তৃতি ৬৪৩ বর্গকিমি জুড়ে যা সুন্দরবনের আয়তনের ১৬ ভাগের এক ভাগ। যে ভারত তার নিজ দেশে সুন্দরবনের ১৬ ভাগের একভাগ আয়তনের রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক এবং ৯০০ ভাগের একভাগ আয়তনের পিচাভারম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ২৫ কিমি সীমার মধ্যে তাপ ভিত্তিক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি, সেই ভারত বাংলাদেশে সুন্দরবনের মতো একটি বিশ্ব ঐতিহ্য, জীব বৈচিত্রের অফুরন্ত আধার, রামসার সাইট এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বলে ঘোষিত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মাত্র ১৪ কিমি এর মধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিশাল তাপ ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে!ভারতের সীমানার ভেতরের বনাঞ্চল সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে যুক্ত সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের যেন কোন গুরুত্ব নেই,যেন বাংলাদেশের সুন্দরবন একটি এতিম বনাঞ্চল যার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নাই! 

অথচ শুধু গোলাপাতা, কাঠ, মোম, মধু, মাছ , সারি সারি গাছ আর নদ-নদী-খালের সজীব আধারই নয়, সুন্দরবন যেন গোটা বাংলাদেশকেই লালন করছে, আগলে রাখছে। একদিকে বনের গাঢ় সবুজের সমারোহ সাগরের উপর থেকে মেঘ টেনে আনে স্থল ভাগে, শিকড়ের জাল পেতে নদী বাহিত পলি ধরে রাখে অন্যদিকে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বুক পেতে রক্ষা করে গোটা উপকূল। সেই সুন্দরবন, সেই সজীব প্রাণের স্পন্দনে ভরা প্রিয় বাদাবন নিজেই এবার বিপদে পড়েছে। কঠিন বিপদ। গাছপালা-পশুপাখি-মানুষ সহ যে জগৎটাকে সে এতদিন আগলে রেখেছে, সেই গোটা জগৎটার অস্তিত্বই আজ হুমকির মুখোমুখি। এমনিতেই প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট নানা দুর্বিপাকে সুন্দরবন অস্তিত্ব বিপন্ন,তার উপর এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যুক্ত হয়েছে ১৩২০ মেগাওয়াটের ঐ বিশাল কয়লা বিদুৎ প্রকল্প। গত এপ্রিল ২০১৩ তারিখে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসির সাথে প্রয়োজনীয় চুক্তিও হয়ে গেছে। এর আগে স্থানীয় জনগণের প্রবল বিরোধিতা স্বত্বেও এমনকি পরিবেশ সমীক্ষা ছাড়াই ১৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছিল।সম্প্রতি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীদের আপত্তি উপেক্ষা করে বিতর্কিত পরিবেশ সমীক্ষারও অনুমোদন হয়ে গেছে। সরকার জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরী করে, রাষ্ট্রের পেশিশক্তি প্রদর্শন করে, দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত, স্থানীয় জনগণ এমনকি সরকারের বিভিন্ন বিভাগ যেমনঃ বন বিভাগ,নৌ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ইত্যাদির বিরোধিতা আগ্রাহ্য করে,ভারতীয় কোম্পানির মুনাফার স্বার্থে সামরিক বাহিনীর সাবসিডিয়ারি বাংলাদেশ ডিজেল পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেডকে দিয়ে প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সুন্দরবনের পাশেই রামপালে প্রস্তাবিত কয়লা বিদুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হলে সুন্দরবন যেসব বিপর্যয়ের শিকার হবে তার কয়েকটি নমুনাঃ

১) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাইঅক্সাইড(SO2) ও ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড(NO2) নির্গত হবে যার ফলে পরিবেশ আইনে বেঁধে দেওয়া পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার সীমার (প্রতি ঘনমিটারে ৩০  মাইক্রোগ্রাম) তুলনায় এইসব বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা অনেক বেশি হবে (প্রতি ঘনমিটারে ৫৩ মাইক্রোগ্রামের বেশি) যার ফলে অ্যাসিড বৃষ্টি, শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি সহ গাছপালা জীবজন্তুর জীবন বিপন্ন হবে।  অথচ জালিয়াতি করে সুন্দরবনকে পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার বদলে ‘আবাসিক ও গ্রাম্য এলাকা’ হিসেবে দেখিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ নিরাপদ মাত্রার মধ্যেই থাকবে বলে প্রতারণা করা হচ্ছে।

সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে যেমন ১৪ কিমি দূরত্বের কথা বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চলছে,  যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফায়েত্তি কাউন্টিতে ১৯৭৯-৮০ সালে ১২৩০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সময়ও স্থানীয় মানুষকে এভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।  এমনকি কিছু দিন পরে এর ক্ষমতা বাড়িয়ে ১৬৯০ মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ করা হয়। ফলাফল সাথে সাথে বোঝা না গেলেও ৬৬ থেকে ১৩০ ফুট উচু বিশালাকৃতি পেকান বৃক্ষগুলো(একধরণের শক্ত বাদাম, কাজু বাদামের মতো) যখন একে একে মরতে শুরু করল ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ১৯৮০ থেকে ২০১০ সালের হিসেবে ফায়েত্তি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস বিশেষত সালফার ডাই অক্সাইডের বিষ ক্রিয়ায় পেকান, এলম, ওক সহ বিভিন্ন জাতের গাছ আক্রান্ত হয়েছে, বহু পেকান বাগান ধ্বংস হয়েছে, অন্তত ১৫ হাজার বিশালাকৃতির পেকান বৃক্ষ মরে গেছে। এবং এই ক্ষতিকর প্রভাব কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এমনকি ৪৮ কিমি দূরেও পৌছে গেছে।

ফায়েত্তি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে গড়ে ৩০ হাজার টন সালফারডাই অক্সাইড নিঃসরণের ফলে সালফার ও অ্যাসিড দূষণে হাইওয়ে ২১ এর ৪৮ কিমি জুড়ে গাছপালার এই অবস্থা যদি হতে পারে তাহলে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরকারি হিসেবেই দৈনিক ১৪২ টন হারে বছরে প্রায় ৫২ হাজার টন (ফ্লু গ্যাস ডিসালফারাইজার বা এফজিডি ব্যাবহার না করার কারণে দূষণ অপেক্ষাকৃত বেশি ) সালফার ডাইঅক্সাইড নিঃসৃত হলে মাত্র ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত সুন্দরবনের কি অবস্থা হবে তা ভাবতেও ভীষণ আতংক হয়!

২)  সাড়ে চার বছর ধরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কালে নির্মাণের মালামাল ও যন্ত্রপাতি সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নদী পথে পরিবহন করার সময় বাড়তি নৌযান চলাচল, তেল নিঃসরণ, শব্দদূষণ, আলো, বর্জ্য নি:সরণ, ড্রেজিং ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্দরবনের ইকো সিস্টেম বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, ডলফিন, ম্যানগ্রোভ বন ইত্যাদির উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

৩) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বছরে ৪ ৭ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা পুড়িয়ে  ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লক্ষ টন বটম অ্যাশ উৎপাদিত হবে। এই ফ্লাই অ্যাশ, বটম অ্যাশ, তরল ঘনীভূত ছাই বা স্লারি ইত্যাদি ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করে কারণ এতে বিভিন্ন ভারি ধাতু যেমন আর্সেনিক, পারদ, সীসা, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, ব্যারিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, রেডিয়াম মিশে থাকে। এই দূষণকারী ছাই দিয়ে ১৪১৪ একর জমি ৬ মিটার উঁচু করা হবে। ফলে এই ছাই উড়ে, ছাই ধোয়া পানি চুইয়ে আশপাশের নদী খাল এবং আন্ডারগ্রউন্ড ওয়াটার টেবিল দূষিত করবে।

৪) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন, জেনারেটর, কম্প্রেসার, পাম্প, কুলিং টাওয়ার, কয়লা উঠানো নামানো, পরিবহন ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন থেকে ভয়াবহ শব্দ দূষণ হয়। বলা হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে সুন্দরবনকে রক্ষা করা হবে। কিন্তু সবুজ বেষ্টনী বেড়ে উঠতে তো সময় লাগবে। ঐ কয় বছর শব্দ দূষণ প্রতিহত করা হবে কী ভাবে কিংবা সবুজ বেষ্টনীর বাইরে যন্ত্রপাতি ওমালামাল পরিবহন, ড্রেজিং ইত্যাদি কাজের সময় যে শব্দ দূষণ হবে তার ক্ষতিকর প্রভাবে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে?

৫) প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য পশুর নদী থেকে ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার পানি সংগ্রহ করা হবে এবং পরিশোধন করার পর পানি পশুর নদীতে ঘন্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার হারে নির্গমন করা হবে। পরিশোধন করার কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিশোধনের পরও পানিতে নানান রাসায়নিক ও অন্যন্যা দূষিত উপাদান থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকেই। তাছাড়া নদী থেকে এই হারে পানি প্রত্যাহার, তারপর বিপুল বেগে পানি আবার নদীতে নির্গমন, নির্গমনকৃত পানির তাপমাত্রা ইত্যাদি নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ, পানির প্লবতা, পলি বহন ক্ষমতা, মৎস্য ও অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন চক্র ইত্যাদির উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বেই যা নদী নালা খাল বিলের মাধ্যমে গোটা সুন্দরবনের জলজ বাস্তুসংস্থানের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

৬) কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনী থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের তাপমাত্রা হবে ১২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা চারপাশের পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

৭) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লা সুন্দরবনের মধ্য দিয়েই পরিবহন করা হবে। এ জন্য বছরে ৫৯ দিন কয়লা বড় জাহাজ এবং ২৩৬ দিন লাইটারেজ জাহাজ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লার মতো দূষণকারী কার্গো নিয়ে চলাচল করবে। ফলে কয়লা পরিবহন, উঠানো –নামানো, জাহাজের ঢেউ, নাব্যতা রক্ষার জন্য ড্রেজিং, জাহাজ থেকে নির্গত তরল কঠিন বিষাক্ত বর্জ্য, জাহাজ নিঃসৃত তেল, দিন রাত জাহাজ চলাচলের শব্দ, জাহাজের সার্চ লাইট ইত্যাদি সুন্দরবনের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ও জীব বৈচিত্র্য বিনাশ করবে। এগুলো আমাদের নিজেদের কথা না, প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিয়ে তারপর প্রকল্প জায়েজ করার জন্য যে পরিবেশ সমীক্ষা করা হয়েছে, শত জালিয়াতি করেও এইরকম ভয়ংকর ফলাফলগুলোকে ঢেকে রাখা যায় নি। বনঅধিদপ্তর থেকে গত ২৯ সেপ্টম্বর ২০১১ তারিখে পরিবেশ ও বনমন্ত্রালয় বরাবর চিঠি দিয়ে জানানো হয়ঃ

“কয়লা ভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার তথা সমগ্র সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে। বাংলাদেশ Ramsar Conservation এর Signatory থাকায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার বাধ্যবাধকতা আন্তর্জাতিক ভাবেও আরও বেশি দায়িত্বশীল করে। বন সংরক্ষক, খুলনা অঞ্চল সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কয়লা ভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। Sundarbans Ramsar Site(World Heritage Site) বিধায় কয়লা ভিত্তিক  Power Plant প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে পু্নর্বিবেচনা করার জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হল।"

কিন্তু এত কিছুর পরও বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠীর কোন ভ্রূক্ষেপ নেই,স্থানীয় জনগণ, সারা দেশের জনমত, বিশেষজ্ঞ মতামত এমনকি রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্রের মতামত পর্যন্ত উপেক্ষা করে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য বিস্তারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে। শুধু রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পই নয়,তিস্তার পানি বন্টন,তিতাসের বুকে বাঁধ দিয়ে ভারতীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি স্থানান্তর,টিপাইমুখ বাঁধ, ট্রানজিট, সীমান্ত হত্যা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রেই শাসক শ্রেণীর নতজানু অবস্থান খুব স্পষ্ট। ভারতের সরকারি বেসরকারি বৃহৎ কর্পোরেশনের মুনাফা নজরে এক দিকে ভারতেরই আদিবাসী, কৃষক,ভূমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে,প্রাণ-প্রকৃতি বিপন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশি দেশের নদী,বনাঞ্চলও সাম্রাজ্যবাদের মুনাফা নজর থেকে মুক্ত নয়। ভারতীয় শাসকদের মুনাফা ও আধিপত্যের সম্প্রসারণে কখনও জুনিয়র পার্টনার,কখনও সাবকন্ট্রাক্টজীবি কিংবা কমিশনভোগী হিসেবে বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠীর এই নতজানু ভূমিকার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠা জরুরি। টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধে যেমন উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম মণিপুরের জনগণের সাথে বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামের আন্তঃসংযোগ জরুরি,বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশ জুড়ে থাকা এই সুন্দরবন ধ্বংসের  রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ভাবে শুধু রামপাল বা বাংলাদেশের জনগণই নয়, ভারতীয় এমনকি সারা দুনিয়ার সংগ্রামী জনগণের পারস্পরিক সংগ্রামের আন্তঃসংযোগ গড়ে তোলা দরকার।



229 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ অপর বাংলা 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 13 -- 32
Avatar: দেব

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

@ইন্দ্রনীল

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন লাভ লোকসান নিয়ে যে হিসেবটা আছে সেটা বিদ্যুৎকেন্দ্র যেখানেই স্থাপিত হোক না কেন একই থাকবে। এই ক্ষেত্রে বিশেষ বিপদটা প্রস্তাবিত কেন্দ্রটির অবস্থান সুন্দরবনের অতি নিকটবর্তী হওয়া নিয়ে।

প্রশ্ন ১। বিকল্প কোন স্থানের প্রস্তাব কি দেওয়া হচ্ছে এই পিটিশনে?

প্রশ্ন ২। যদি না দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎএর যোগান দেওয়া যাবে কিভাবে?

সাইটটাতে কিছু চোখে পড়ল না। মিস করে গিয়ে থাকলে দুঃখিত।

Avatar: sarkar chaandaan

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

রেডিও টুডে ৮৯.৬ এর সান্ধ্য খবর শুনলাম যে এই বিদ্যুত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের দিকে বিরাট মিছিল এগিয়ে চলেছে।আমি আন্দোলনের পক্ষে আছি
Avatar: সংহারক

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

বাংলাদেশের লোকেদের তাদের সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে এই প্রজেক্ট বন্ধ করা উচিত । বাংলাদেশের কোথায় বিদ্যুতকেন্দ্র হবে তা বাংলাদেশ সরকারের বিচার্য্য। কমেন্ট -এ অনেক ভারত কে গলা গাল করছেন কেন বোঝা গেল না। নিয়ম্গিরি পাহাড়কে ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত আমাদের দেশের নাগরিক রা বন্ধ করেছে। সুন্দরবন কে রাখার জন্য বাংলাদেশীরা এমন আন্দোলন করুক যাতে ওদের সরকার রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

ঢাকা-রামপাল ৪০০ কিমি দীর্ঘ লং মার্চের তথ্য সংবাদ প্রচারের জন্য পুরোটা সময় বহরের সঙ্গে ছিলাম। সে এক অবর্ণীয় কষ্টকর, কিন্তু আনন্দময় পথযাত্রা। প্রখর রোদ, অর্ধাহার, প্রায় নির্ঘুম রাত, পথ ক্লান্তি, প্রবল বর্ষন, প্রশাসনিক চাপ -- এসব কিছুই দমাতে পারেনি ছাত্র-জনতার বিশাল বহরকে।

পথে পথে সম্বর্ধিত হয়েছে লং মার্চ। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন লং মার্চে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ পাঁয়ে হেঁটে, রিকশা ভ্যান বা নসিমনে [স্থানীয়ভাবে নির্মিত মোটরযান] করে এসেছে লং মার্চের প্রায় ২০ টি জনসভা ও পথ সভায়।

শাহবাগ গণজাগরণের পর ঢাকা-রামপাল লং মার্চ বাস্তবিক অর্থেই আরেক নবজাগরণ। পুরো পথ মাতিয়ে রাখে খোলা ট্রাকে ভ্রাম্যমান আট-দশটি সাংস্কৃতিক দল। মাথার ওপর ছাদ না থাকায় এই দলগুলোর তরুণ ছেলেমেয়েদের কষ্টই হয়েছে সবচেয়ে বেশী। এমন কি লং মার্চ খুলনায় পৌঁছালে প্রচণ্ড জলশুন্যতার কারণে সেখানের হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে কর্মী বাহিনীর কয়েকজনকে।

ঢাকা-রামপাল লং মার্চ নিয়ে সুমন গান বেঁধেছেন। গান বেঁধেছেন এপারের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী কফিল আহমেদ। লং মার্চ থেকেও আন্দোলন নিয়ে লেখা হয়েছে বেশ কিছু গান। রচনা হয়েছে পথ নাটক। একটি গানের কথা মনে পড়ছে:

”উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন না ছাই
রামপালে কাপ্তাই লেকের
কান্না শুনতে পাই...”


এতো যে কষ্টকর যাত্রা, তবু কোথাও তেমন কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। কারো কোনো অভিযোগ নেই, খুবই সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে কর্মসূচি।

এরআগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে কাজ করার সময় তথ্য-সাংবাদিকতার পেশাগত কারণে ফুলবাড়ি কয়লাখনি বিরোধী গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সে সময় সচিত্র সংবাদের পাশাপাশি সংবাদ নেপথ্য কথা নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্লগ লিখেছি। এবারও একটি শীর্ষ দৈনিকে কাজের সুবাদে প্রথমে শাহবাগ এবং এখন রামপাল গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখছি। শাহবাগ নিয়ে এরই মধ্যে গুচসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে একাধিক বিশ্লেষণ, সংবাদ নেপথ্য কথা, নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও ভাবনা লেখার চেষ্টা করেছি। এখন ইচ্ছে আছে লং মার্চের টুকরো কথা নিয়েও কিছু লেখার। তবে আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম চাই।...
--
ঢাকা-রামপাল লং মার্চ নিয়ে কথা আমার কয়েকটি প্রতিবেদন পড়া যাবে নীচের লিংকগুলোতে।

'সুন্দরবন ঘোষণা'য় শেষ হলো লংমার্চ ১১ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প বাতিল, নইলে প্রতিরোধ .. fb.me/1QXnlQTP6

পিছু হটল প্রশাসন, লংমার্চ রামপাল যাচ্ছে সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ... fb.me/1nIb3ShJE

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: লংমার্চ রামপালে ঢুকতে দেবে না প্রশাসন
... fb.me/1xg1A24aE

UPDATE: #LongMarch reached at Jessor; #SaveSundarban #SaveBangladesh fb.me/6pg0B4VdQ

রামপাল অভিমুখী লংমার্চকে পথে পথে সংবর্ধনা আ. লীগের পাল্টা কর্মসূচি সংঘর্ষের আশঙ্কা ... fb.me/1IEBzJdl2

সুন্দরবন আমাদের বাঁচায়। আসুন, সুন্দরবন রক্ষা করে আমরা তার ঋণ শোধ করি।... #SaveSundarBans #WildLife #SaveBangladesh fb.me/Kn9nkm8Q

["শোনো, ওখানে নদীর নাম "পশুর", কিনতু জবরদখল অমানুষের... মেশিনের... সাবমেরিনের.... আরো কতো ঘের ও... fb.me/2H2ZfQdZY


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

ঢাকা-রামপাল ৪০০ কিমি দীর্ঘ লং মার্চের তথ্য সংবাদ প্রচারের জন্য পুরোটা সময় বহরের সঙ্গে ছিলাম। সে এক অবর্ণীয় কষ্টকর, কিন্তু আনন্দময় পথযাত্রা। প্রখর রোদ, অর্ধাহার, প্রায় নির্ঘুম রাত, পথ ক্লান্তি, প্রবল বর্ষন, প্রশাসনিক চাপ -- এসব কিছুই দমাতে পারেনি ছাত্র-জনতার বিশাল বহরকে।

পথে পথে সম্বর্ধিত হয়েছে লং মার্চ। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন লং মার্চে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ পাঁয়ে হেঁটে, রিকশা ভ্যান বা নসিমনে [স্থানীয়ভাবে নির্মিত মোটরযান] করে এসেছে লং মার্চের প্রায় ২০ টি জনসভা ও পথ সভায়।

শাহবাগ গণজাগরণের পর ঢাকা-রামপাল লং মার্চ বাস্তবিক অর্থেই আরেক নবজাগরণ। পুরো পথ মাতিয়ে রাখে খোলা ট্রাকে ভ্রাম্যমান আট-দশটি সাংস্কৃতিক দল। মাথার ওপর ছাদ না থাকায় এই দলগুলোর তরুণ ছেলেমেয়েদের কষ্টই হয়েছে সবচেয়ে বেশী। এমন কি লং মার্চ খুলনায় পৌঁছালে প্রচণ্ড জলশুন্যতার কারণে সেখানের হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে কর্মী বাহিনীর কয়েকজনকে।

ঢাকা-রামপাল লং মার্চ নিয়ে সুমন গান বেঁধেছেন। গান বেঁধেছেন এপারের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী কফিল আহমেদ। লং মার্চ থেকেও আন্দোলন নিয়ে লেখা হয়েছে বেশ কিছু গান। রচনা হয়েছে পথ নাটক। একটি গানের কথা মনে পড়ছে:

”উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন না ছাই
রামপালে কাপ্তাই লেকের
কান্না শুনতে পাই...”


এতো যে কষ্টকর যাত্রা, তবু কোথাও তেমন কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। কারো কোনো অভিযোগ নেই, খুবই সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে কর্মসূচি।

এরআগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে কাজ করার সময় তথ্য-সাংবাদিকতার পেশাগত কারণে ফুলবাড়ি কয়লাখনি বিরোধী গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সে সময় সচিত্র সংবাদের পাশাপাশি সংবাদ নেপথ্য কথা নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্লগ লিখেছি। এবারও একটি শীর্ষ দৈনিকে কাজের সুবাদে প্রথমে শাহবাগ এবং এখন রামপাল গণজাগরণ খুব কাছ থেকে দেখছি। শাহবাগ নিয়ে এরই মধ্যে গুচসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে একাধিক বিশ্লেষণ, সংবাদ নেপথ্য কথা, নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও ভাবনা লেখার চেষ্টা করেছি। এখন ইচ্ছে আছে লং মার্চের টুকরো কথা নিয়েও কিছু লেখার। তবে আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম চাই।...
--
ঢাকা-রামপাল লং মার্চ নিয়ে কথা আমার কয়েকটি প্রতিবেদন পড়া যাবে নীচের লিংকগুলোতে।

'সুন্দরবন ঘোষণা'য় শেষ হলো লংমার্চ ১১ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প বাতিল, নইলে প্রতিরোধ .. fb.me/1QXnlQTP6

পিছু হটল প্রশাসন, লংমার্চ রামপাল যাচ্ছে সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ... fb.me/1nIb3ShJE

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: লংমার্চ রামপালে ঢুকতে দেবে না প্রশাসন
... fb.me/1xg1A24aE

UPDATE: #LongMarch reached at Jessor; #SaveSundarban #SaveBangladesh fb.me/6pg0B4VdQ

রামপাল অভিমুখী লংমার্চকে পথে পথে সংবর্ধনা আ. লীগের পাল্টা কর্মসূচি সংঘর্ষের আশঙ্কা ... fb.me/1IEBzJdl2

সুন্দরবন আমাদের বাঁচায়। আসুন, সুন্দরবন রক্ষা করে আমরা তার ঋণ শোধ করি।... #SaveSundarBans #WildLife #SaveBangladesh fb.me/Kn9nkm8Q

["শোনো, ওখানে নদীর নাম "পশুর", কিনতু জবরদখল অমানুষের... মেশিনের... সাবমেরিনের.... আরো কতো ঘের ও... fb.me/2H2ZfQdZY


Avatar: aranya

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

এপার বাংলার কাগজে প্রতিবেদন - 'সুন্দরবন ধ্বংস করে ব্যবসা করবে ভারত-বাংলাদেশ'
http://www.aajkaal.net/archive/report.php?hidd_report_id=206438
Avatar: দেব

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

এই ব্যাপারে কিছু আর্গুমেন্ট -

রামপাল অভিযোগনামা: পর্ব ১
http://opinion.bdnews24.com/bangla/2013/10/12/রামপাল-অভিযোগনামা-পর্ব-১
/


রামপাল অভিযোগনামা: পর্ব ২
http://opinion.bdnews24.com/bangla/2013/10/15/রামপাল-অভিযোগনামা-পর্ব-২
/


রামপাল অভিযোগনামা: পর্ব ৩
http://opinion.bdnews24.com/bangla/2013/10/22/রামপাল-অভিযোগনামা-পর্ব-৩
/


রামপাল অভিযোগনামা: শেষ পর্ব
http://opinion.bdnews24.com/bangla/2013/10/28/রামপাল-অভিযোগনামা-শেষ-পর
/




কল্লোল মুস্তাফার জবাব -
http://opinion.bdnews24.com/bangla/2013/11/09/রামপাল-বিভ্রান্তির-অবসা/
Avatar: দেব

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

এই নিন। এইটা নির্ঘাত ব্যাগড়ার স্তরে পড়বে। নিউক ফিউকও নয়। পাতি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র।
Avatar: dd

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

মাস খানেক আগে TOI'র লুরু এডিশনে দেখেছিলাম তাপবিদ্যুতের ফলে (ইন্ডাইরেক্টলি) কতো লোক মারা যায়। খেলাচ্ছলে গুগুলে টাইপ করলেম danger of coal based power। একেবারে পিলে চমকানো সব তথ্য বেড়িয়ে এলো।

অ্যাক্চুয়ালি প্রতিবাদকে যারা ফাজলামি বা পণ্যের স্টেজে নিয়ে গেছে তাদের কাছে তাপবিদ্যুত একটি স্বর্ণখনি। একবার ট্রাই করেই দেখুন।
Avatar: dc

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

এই সবকটা দিয়েই সার্চ করে দেখা যায়

danger of coal based power
danger of nuclear based power
danger of solar power
danger of wind power
danger of hydro power

সবটাতেই বিরাট বিরাট বিপদ বেরিয়ে আসছে। কি মুশকিল রে বাবা! ঃ( আমার মনে হচ্ছে এবার গুগল সার্চটা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
Avatar: একক

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

ডেঞ্জার অফ ড্রিংকিং ওয়াটার লক্ষে সার্চ করেছেন কখনো ? জানেন কি যে এক্ল্শ ডিগ্রির ওপরে জল ফতালেও তাতে একরকম এমিবা থাকতে পারে যা কিনা আপনার্মাথার ঘিলু ফিলু চেতে খেয়ে ভুস্তিনাশ করে দেবে !!!!!!!!!!!!!!!!
Avatar: dd

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

না। বেমালুম হার মানছি। Danger of breathing oxygen টাইপ করে একটাও লিং পেলাম না।

তবে এই টইটি মারাত্মক উপাদেয়। কয়লা পুড়িয়ে এনার্জি নিয়ে কি হাড় হিম করা "তথ্য" আছে, পড়লেই নতুন পরিষ্কার এনার্জির জন্য একটা উলুৎপুলুতা বোধ হয়।
Avatar: dc

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

danger of living দিয়ে সার্চ মারলাম। যা সব রেজাল্ট দেখাচ্ছে, এ তো বেঁচে থাকতেই ভয় করছে!
Avatar: ডেঞ্জার অফ

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

মাইসেলফ দিয়ে সার্চ করুন । দেখবেন হয় পিলে চমকানো তথ্য পাবেন নয় কোনো তথ্যই পাবেন না । এবং তখন হয়ত ফলতই *************************************************
Avatar: প্রতিভা সরকার।

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

এই অরণ্যের অধিকারের জন্য সব আন্দোলনে যোগ দেব।
মুনাফার হাঁ মুখ এবার বন্ধ করার সময় এসেছে।
Avatar: দ

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

ভাল গুরুত্বপূর্ণ লেখা

http://www.sachalayatan.com/himu/56084
Avatar: দ

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

এখানে পৃথিবীর অন্য ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ভেতরে বা সীমান্তে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কথা বলা হয়েছে। যেমন মালয়েশিয়া এবং ফ্লোরিডা। লেখক দেখাচ্ছেন এইসব জায়গায় ম্যানগ্রোভ ধ্বংস হয় নি বিদ্যুৎকেন্দ্র চলা সত্ত্বেও।


http://www.sachalayatan.com/himu/56119
Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

" মালয়শিয়ার জিমাহ পাওয়ার স্টেশনের আশেপাশে খুব অল্প পরিমান ম্যানগ্রোভ আছে। তানজুং বিন পাওয়ার স্টেশন, এবং সুলতান সালাউদ্দিন আব্দুল আজিজ শাহ পাওয়ার স্টেশন এর আশে পাশে বেশ ভালো পরিমানে ম্যানগ্রোভ আছে, কিন্তু এ তিনটির কোনটাই প্রটেক্টেড ফরেস্ট না। globalforestwatch.org এ গেলে ২০০১ – ২০১৪ ফরেস্ট কভার এবং লস নিজেই দেখতে পাবেন "

" অন্যদিকে সুন্দরবন হচ্ছে (৪৯৭, ৭২৫ হেক্টরের) IUCN VI (highest) ক্যাটাগরির প্রটেক্টেড এরিয়া। প্রটেক্টেড ফরেস্ট তখনই করা হয় যখন সেটি ইকোলজিকালি অনন্যসাধারণ, এবং ঝুঁকির মুখে থাকে (মালয়শিয়ার কোনটাই তা না)। "

" এই সকল বনের সাথে সুন্দরবনকে তুলনা করা মাইকেল ফেল্পস এর সাথে রবেল কিরোস হাতে’র (Robel Kiros Habte) তুলনা করা সমান। দুজনেই অলিম্পিয়ান, কিন্তু..."

" আর ফ্লোরিডার ১৯৬৬, ৮২, ৮৪ এর জ্ঞান আর কমনসেন্স দিয়ে যদি ২০১৬ এর উদ্যোগকে বিচার করা কি ঠিক হবে? ১৯৬৬ তে পরিবেশ , গ্লোবাল ওয়ারমিং খায় না মাথায় দেয় গোত্রের বস্তু ছিল ।

Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

উপরোক্ত মন্তব্যটির " " মধ্যের অংশ D যে লেখার লিংক দিয়েছেন তাতে কমেন্ট সেকশনে বর্তমান । খুব গুরুত্বপুর্ন মন্তব্য বলে মনে হোল !
Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

# "দ " যে লিংক দিয়েছেন পড়ুন

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 13 -- 32


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন