সুন্দরবন এতদিন আমাদের বাঁচিয়েছে কিন্তু এখন সুন্দরবনকে কে বাঁচাবে?

কল্লোল মুস্তাফা

সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে যেমন ১৪ কিমি দূরত্বের কথা বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চলছে,  যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফায়েত্তি কাউন্টিতে ১৯৭৯-৮০ সালে ১২৩০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সময়ও স্থানীয় মানুষকে এভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।  এমনকি কিছু দিন পরে এর ক্ষমতা বাড়িয়ে ১৬৯০ মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ করা হয়। ফলাফল সাথে সাথে বোঝা না গেলেও ৬৬ থেকে ১৩০ ফুট উচু বিশালাকৃতি পেকান বৃক্ষগুলো(একধরণের শক্ত বাদাম, কাজু বাদামের মতো) যখন একে একে মরতে শুরু করল ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ১৯৮০ থেকে ২০১০ সালের হিসেবে ফায়েত্তি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস বিশেষত সালফার ডাই অক্সাইডের বিষ ক্রিয়ায় পেকান, এলম, ওক সহ বিভিন্ন জাতের গাছ আক্রান্ত হয়েছে, বহু পেকান বাগান ধ্বংস হয়েছে, অন্তত ১৫ হাজার বিশালাকৃতির পেকান বৃক্ষ মরে গেছে। এবং এই ক্ষতিকর প্রভাব কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এমনকি ৪৮ কিমি দূরেও পৌছে গেছে।

আরও পড়ুন...

সুটিয়ার কথা - পর্ব ১

রিণিতা মজুমদার

১৯৯৮ সাল থেকে সুশান্ত চৌধুরির ক্ষমতা বাড়ে, তার দলে আরও কিছু দুষ্কৃতীদের দল যুক্ত হয়। দুই গুণ্ডা মিলেই তাদের তোলাবাজির কারবার জমিয়ে তোলে, স্থানীয় ব্যবসায়ী, দোকানদার এবং বাসিন্দা এদের কাছ থেকে এরা নিয়মিত তোলা আদায় করত এদের স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করতে দেবার বিনিময়ে। দুজনেই বাইরের লোক হলেও অবিলম্বে এরা সুটিয়ায় জমিয়ে বসে, এবং নিজেদের দলে স্থানীয় হতাশ, কাজ-না-পাওয়া ছেলেপুলেদের ভেড়াতে শুরু করে। এই স্থানীয় ছেলেদের বেশির ভাগই এই সব দলের "ইনফর্মার" হিসেবে কাজ করত। দেখতে দেখতে ছোটখাটো তোলাবাজির ঘটনা বাড়তে বাড়তে ২০০০ সাল নাগাদ এই সব বড় আকার ধারণ করে, এবং এর সাথে যুক্ত হয় গণধর্ষণের মত ঘটনাবলী। এর মূলে ছিল এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চালুন্দি নদীর বন্যায় সুটিয়া এবং আশপাশের গ্রামের বহু মানুষ সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়েন। বেশ কয়েকটি গ্রাম হতশ্রী হয়ে পড়ে। এই সময়ে সরকারি এবং বেসরকারি ত্রাণসাহায্য এসে পৌঁছয় এবং সেইসব বিলিব্যবস্থার কাজে লাগে স্থানীয় ছেলেরা। এর পরে যা হয়, ধীরে ধীরে তারা নিজেরাই সেই সব রিলিফের মাল সরাতে থাকে, এবং সুশান্ত আর বীরেশ্বরের সহায়তায় তাদের গুণ্ডাবাহিনি এই সব গ্রামে তাদের দৌরাত্ম্য শুরু করে। গুন্ডাবাহিনি রিলিফের দখল নেয় এবং তারাই স্থানীয় স্কুল পালানো, কর্মহীন, হতাশ কমবয়েসী ছেলেদের নিজেদের দলে নিয়োগ করতে শুরু করে, ক্রমে সুটিয়া এবং আশপাশের সমস্ত গ্রামের রিলিফ সেন্টারের দখল তারা নিয়ে নেয়, এবং তাদের সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয় পুরো এলাকায়। নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে তারা তোলাবাজি আর অত্যাচার চালাত, লোকাল ইনফর্মারদের সাহায্যে তারা স্থানীয় পরিবারগুলো সম্বন্ধে খবর জোগাড় করত, তারপরে বাইকবাহিনী নিয়ে চড়াও হত সেই পরিবারের ওপর, মহিলাদের অত্যাচার এবং ধর্ষণ করত, তারপরে টাকা দাবি করত। কখনও দাবির কম টাকা নিয়েই তারা খুশি হয়ে যেত, কখনও কখনও তারা বাধ্য করত পরিবারটিকে নিজেদের আংশিক জমিজিরেত বেচে টাকা তুলে দেবার জন্য। পুলিশে খবর দিলে মেরে ফেলার হুমকি দিত তারা। কখনও তারা লাগাতার কয়েক দিন ধরে কোনও একটি বাড়িকে ঘিরে থাকত, কাউকে বেরোতে দিত না যতক্ষণ না তাদের দাবি মানা হত। সবাই জানত, স্থানীয় পুলিশের সাথে তাদের যথেষ্ট বোঝাপড়া ছিল এবং দুই গুণ্ডাবাহিনির নেতাই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় পুষ্ট ছিল, তাদের ধরা সোজা ছিল না। মেয়েদের তারা ধরে নিয়ে যেত নাগবাড়ি এলাকায় একটা ছোট পরিত্যক্ত ঘরে, তারপরে সেখানে তার ওপর অত্যাচার চালাত। একটিমাত্র কেসে আমি জনৈক সারভাইভারের নিজের মুখ থেকে শুনেছি সেই অত্যাচারের কাহিনি, বাকি কেসগুলো আমি শুনেছি অন্যদের মুখ থেকে এবং লোকাল থানার এফআইআর থেকে। আমি আবার সুটিয়া যাব আরও বিস্তারিত জানতে।

আরও পড়ুন...

রূপকথার শেকড়বাকড়

পরিমল ভট্টাচার্য

বর্ণ গন্ধ ধ্বনির এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রেক্ষাপটটা  জরুরি। না হলে সব উন্নয়ন বিতর্কই শেষ পর্যন্ত মাথা কোটে অসার নাগরিক তাত্ত্বিকতার আবর্তে,  “কিছু পেতে গেলে কিছু হারাতেই হয়” জাতীয় বুলিতে।  যারা পাচ্ছে, তাদের যে কিছুই হারাতে হচ্ছে না, আর যারা হারাচ্ছে তারা যে পাচ্ছে না কিছুই – আবহমান এই নির্মম সত্যিটা খোদাই হয়ে থাকে একটি যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে, একটি নীরব চোখের ভাষায়, একটি ঠোঁটের কুঞ্চনে।  তেমন এক মুখের সামনে এসে মুখোমুখি বসতে হয়। ঠিক তেমনই একটি পাহাড়ের মাথায় এক স্বচ্ছ শীত অপরাহ্ণে, মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বনটিয়ার ঝাঁক আর কাঠঠোকরার ঠক ঠক শব্দে, আর্দ্র বনজ গন্ধে তিরতিরে ঝর্নার ধ্বনিতে, প্রতিভাত হয় ধর্মস্থানের সংজ্ঞা। পুরাণকথার নায়কের আঁতুড়ঘরের হালহদিশ নিয়ে যখন দেশ পোড়ে, সাম্প্রদায়িকতার দাঁতনখ শানিয়ে ওঠে, তখন এক কন্ধ রমণীর বাচন – “ তুমো মন্দির ইটা বালি রে তিয়ারি, আমো মন্দির গাছা লতা পাথরো ঝরনা জন্তু রে!” -  ঝোড়ো হাওয়ার মতো আমাদের  সনাতন দেবালয়ের পোড়ো দরজাটা সমূলে নাড়িয়ে দেয়।
 

আরও পড়ুন...

আমার কারাবাস এবং - তৃতীয় কিস্তি

আসিফ মহিউদ্দীন


এর দুইদিন পরে। আমি বসে আছি উপ-কমিশনারের রুমে। বড় হেফাজতিটাকে নিয়ে আসা হলো। আমাকে দেখিয়ে বলা হলো, এই লোকটা কেমন? মানে মানুষ কেমন?
হেফাজতিটা বললো, সে মানুষ হিসেবে ভাল। মনটা ভাল আছে, লোক খারাপ না, কিন্তু সমস্যা হইলো নাস্তিক। নাস্তিক না হইলে তারে খুব ভাল মানুষই বলা যাইতো।
কমিশনারঃ এখন বল, এরপরে এরে রাস্তায় পাইলে কি করবি?
হেফাজতিঃ স্যার ইনশাল্লাহ জবাই দিমু?
কমিশনারঃ কি কস? তুই না কইলি মানুষ ভাল, তাইলে জবাই দিবি ক্যান?
হেফাজতিঃ স্যার এইটা হাদিসে আছে, আমাগো ধর্মের নিয়ম। ধর্মের বাইরে তো যাইতে পারুম না। সে যত ভাল মানুষই হোক, নাস্তিক হইছে মানে এরে আল্লাহর নামে শাস্তি দেয়া ছাড়া উপায় নাই। এ যদি তওবা কইরা আবার মুসলমান হয়, তাইলে একটা কথা আছে।

কমিশনার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এরে বাইরে পাইলে আপনি কী করবেন? আমি ঠোঁট উলটে বললাম, এক কাপ চা খাওয়া যাইতে পারে, আর কাধে হাত রেখে একটু আলাপসালাপ করতে পারি। আর কী করবো?



 

আরও পড়ুন...

শিপ অব থিসিয়াস ঃ কিছু ব্যক্তিগত কথা

মিঠুন ভৌমিক

তাই এই ভীষণ চেনা মানুষগুলোর ভালোমন্দ দুরু দুরু বুকে দেখতে দেখতে একটা গোটা বড়োসড়ো সিনেমা পুরো উপভোগ করে ফেলি। আমার মনে মালগুডি ডেজ, চাঁদমামায় দেখা জাতকের গল্প ও ছবি, প্রিয় বান্ধবীর অ্যাকসেন্ট, প্রিয় বন্ধুর অর্থপিশাচ হয়ে যাওয়া, তিনটি মহাদেশ ও তার মানুষের ভালোমন্দের ছাপ, দারিদ্র্য, দারিদ্র্যকে ছাপিয়ে উঠে মানুষ হওয়া ও না হতে পারার অসহায়তা, আর এ যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির ডিভিডি সংগ্রহের সমস্ত প্রিয় অপ্রিয় স্বল্পপ্রিয় চরিত্র জট পাকিয়ে যায়। যে দ্বন্দ্ব নিয়ে এই সিনেমা তৈরী, আমি সেই দ্বন্দ্বেরই শিকার হই। সিনেমাটা দেখার পরের আমি সিনেমাটা দেখার আগের আমিই আছি কিনা বুঝতে পারিনা। এর উত্তর জানা অবশ্য ততটা জরুরি কিনা জানিনা।

আরও পড়ুন...

স্ট্যাটাস নাই তো কিছুই নাই

মুরাদুল ইসলাম

সাধারণভাবে আমরা জানি পদার্থের স্ট্যাটাস বা অবস্থা তিন প্রকার। কঠিন তরল এবং বায়বীয়। কিন্তু মানুষের স্ট্যাটাসের সংখ্যা অসংখ্য। এই বিচিত্র দুনিয়ায় বিচিত্র স্ট্যাটাসের উৎপত্তি হচ্ছে প্রতিদিন। ফেসবুকের কল্যাণে সেই স্ট্যটাসগুলো মনের কৃষ্ণগহবর থেকে বেরিয়েআসছে নির্দ্বিধায়। এই ফেসবুক স্ট্যটাস নিয়ে একটি গবেষণা করা যাক। কথায় আছে যার স্ট্যাটাস নাই তার কিছুই নাই। আবার বাংলা ছবির ডায়লগের মত ডায়লগ আছে, চৌধুরী সাহেব আমার ঘর নাই,বাড়ি নাই, কিন্তু স্ট্যাটাস আছে। এখন আপনার মেয়ে বিয়ে দিবেন কি না বলেন?

আরও পড়ুন...

ইশরাত জাহানঃ তথ্যের খোঁজে (শেষ পর্ব)

মুকুল সিনহা


"এর পর আমি এক নীল রঙের ইন্ডিকা গাড়ি, নম্বর MH-02-JA-4786, দেখতে পাই রাস্তার ডিভাইডারের কাছে দাঁড়িয়ে আছে।  গাড়ির কাছে পুলিশ কনস্টেবল মহম্মদ সফি দাঁড়িয়ে ছিলেন। জিজ্ঞেস করাতে কনস্টেবল সফি জানান, ওই ইন্ডিকা গাড়ি তিনিই চালিয়ে এনে রেখেছেন। সেই সময় শ্রী এন কে আমিন, শ্রী জে জি পারমার আর কম্যান্ডো পুলিশ কনস্টেবল শ্রী মোহন নানজি মেনত সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শ্রী আমিনের গাড়ি ইন্ডিকা গাড়িটার পেছনে রাস্তার বাঁদিক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিল। এর পরে সাদা রঙের একটা এসইউভি গাড়ি সেখানে আসে এবং রাস্তার ধারে এসে দাঁড়ায়। তখন আমি দেখলাম যে, কনস্টেবল মোতি তালাজা দেসাই একজনকে সেই গাড়ি থেকে বের করল। এই লোকটিকেই কুড়ি দিন আগে গোটা সার্কেল থেকে ধরা হয়েছিল। তখনই আমার মনে হল কিছু একটা গড়বড় হতে চলেছে।

আরও পড়ুন...

মৃত্যুরাখাল ও সদানন্দ -দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি

শিবাংশু দে

 তখন তিনি পুনশ্চের কবিতাগুলি লিখছিলেন। একটু পরে সম্বিত ফিরে পেলে 'পুকুরধারে' নামে কবিতাটি লেখা হলো। পরদিন শান্তিনিকেতন ফিরে গেলেন। তখন সেখানে বর্ষামঙ্গল উৎসবের আয়োজন চলেছে। কবির এই শোকসংবাদে বিচলিত আশ্রমিকেরা উৎসব বন্ধ রাখার  প্রস্তাব করলেন। কিন্তু কবি রাজি হলেন না। নিজেও উৎসবে পূর্ণতঃ অংশগ্রহণ করলেন। মীরাদেবীকে লিখলেন, '' ... নীতুকে খুব ভালোবাসতুম, তাছাড়া তোর কথা ভেবে প্রকান্ড দুঃখ চেপে বসেছিলো বুকের মধ্যে। কিন্তু সর্বলোকের সামনে নিজের গভীরতম দুঃখকে ক্ষুদ্র করতে লজ্জা করে। ক্ষুদ্র হয় যখন সেই শোক, সহজ জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ,.... অনেকে বললে এবারে বর্ষামঙ্গল বন্ধ থাক আমার শোকের খাতিরে। আমি বললুম সে হতেই পারেনা। আমার শোকের দায় আমিই নেবো। ... আমার সব কাজকর্মই আমি সহজভাবে করে গেছি। ...''

আরও পড়ুন...

রূপকথার নটেগাছ মুড়োয় না

পরিমল ভট্টাচার্য

-দুনিয়ার সেরা ইঞ্জিনিয়ারেরা বসে এমন একটা জায়গা বানিয়ে দিতে পারবে? এখানে যে জড়িবুটি হয়, তাই খেয়ে আমাদের বাপদাদা পরদাদারা বেঁচেছে, আমরা বাঁচছি, আমাদের ছেলেপুলে নাতিপুতি বাঁচবে। কিন্তুই খাদান হলে? যা বক্সাইট আছে সেটা তুলে ফেলতে নাকি পঁচিশ বছর লাগবে। তারপরে কী হবে? পঁচিশ বছরের জন্য কশো বছর বন্ধক রাখব আমি?
কুমুটি মাঝির গলায় ছিল অনাগত প্রজন্মের ভার। অস্ত সূর্যের আলো এসে পড়েছিল তাঁর মুখে। পায়ের কাছে গর্তগুলো চেয়েছিল অক্ষিবিহীন কোটরের মতো। বনে কোথাও একটা কাঠঠোকরা ঠক ঠক করে শব্দ করছিল।
আপাতত ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখতে হবে না কুমুটি মাঝিদের। তবে, "তারপর তারা সুখে শান্তিতে বাস করিতে লাগিল" - রূপকথার এই শেষ লাইন লেখার সময় আসেনি এখনও। নিয়মগিরি পাহাড়ের নীচে লাঞ্জিগড়ে রয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার রিফাইনারি, তার জঠরে খিদে, পাহাড়ের গা বেয়ে কনভেয়ার বেল্ট করিডোর পড়ে আছে অজগরের মতো।

আরও পড়ুন...

মৃত্যুরাখাল ও সদানন্দ - প্রথম কিস্তি

শিবাংশু দে

মৃত্যুরাখালের তো গর্বের শেষ নেই। যে জীবন নিয়ে মানুষের এতো অহমিকা, স্বজন-পরিজন সংসারের তৃপ্ত আবহ, অর্থ-কীর্তি-সচ্ছলতার উত্তুঙ্গ মিনার, তা'কে এক ফুঁয়ে সে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। তার সামনে নত হয়ে থাকে রাজার রাজা, ভিখারির ভিখারি, সম্মান-অসম্মানের ভিতে গড়া অনন্ত নক্ষত্রবীথি, পাবকের পবিত্র অগ্নি থেকে মৃত্যুরাখাল কাউকে রেহাই দেয়না। সে তো ভাবতেই পারেনা একটা রক্তমাংসের মানুষ সদানন্দ হয়ে নিজেকে ঘিরে রেখেছে আনন্দের সমুদ্রে। রাখাল তার নাগাল কখনো পাবেনা। তার কিন্তু চেষ্টার কমতি নেই। সদানন্দের আশি বছরের দীর্ঘ জীবন জুড়ে বারম্বার হননপ্রয়াস চালিয়ে গেছে সে। কিন্তু ঐ সমুদ্রটা কখনও পেরোতে পারেনি। সে হেরে যায় সদানন্দের কছে। জগৎসংসার জানে সে হলো জীবনের শেষ কথা, সদানন্দ বলে সে হলো অনন্ত সম্ভাবনার দ্বার।

আরও পড়ুন...

সংবাদ সারাক্ষণ - পর্ব পাঁচ

শ্রমণগৌতম শীল

ইতিহাসে তার আগ্রহ নেই। থাকলে সে জানত এই স্টেশন আর এই রেল লাইন ভারতের ইতিহাসের এক বিচিত্র খেলার সাক্ষী। ভারতের আর কোনো রেল স্টেশনের বা লাইনের এমন ইতিহাস নেই। প্রিন্স দ্বারকানাথ কয়লা খনির কয়লা পরিবহণ সমস্যা সমাধান নিয়ে ভাবতে ভাবতেই বিলেত গেছিলেন। তদ্দিনে রাজমহল আর রায়গঞ্জের অনেকগুলো খনি কেনা হয়ে গিয়েছে তাঁর। ১৮৪২-এ যখন বিলেতে গিয়ে ট্রেনে চড়লেন তখনি মাথায় খেলে গেল সমাধানের সম্ভাবনা। ১৮৪৩-এ কলকাতা ফিরে বানালেন কার এণ্ড টেগোর কোম্পানি। বিলেতে ম্যাকডোনাল্ড স্টিফেনসন বানিয়ে বসেছে ইস্ট ইণ্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি। দ্বারকানাথ চাইলেন বর্ধমান ও আসানসোলের জন্য লাইন। বর্ধমান কৃষি ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। অশেষ বাণিজ্য সম্ভাবনা রেলের। দ্বারকানাথ এই লাইনের জন্য এক-তৃতীয়াশ মূলধন সংগ্রহের প্রস্তাবও দিলেন স্টিফেনসনকে। প্রত্যাখ্যাত হয়ে বানালেন গ্রেট ওয়েস্টার্ণ বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি। আবার বিলেত গেলেন অনুমতি পেতে কোম্পানির বোর্ডের। ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কোম্পানির ম্যানেজার স্টিফেনসন আর চেয়ারম্যান লার্পেন্ট বোর্ডে তাদের প্রভাব খাটালো। নেটিভ ম্যানেজমেন্ট-এর হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ লাইন তুলে দেওয়া যায় না এই ছিল তাদের বক্তব্য। দ্বারকানাথের ১৮৪৫-এর এই যাত্রা বিফল হল। দ্বারকানাথের মৃত্যু হল কিছুদিনের মধ্যেই। কার এণ্ড টেগোর উঠল নিলামে। কিছুদিনের মধ্যেই গ্রেট ওয়েস্টার্ণ বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি আর  ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কোম্পানি মিশে গেল। গড়ে উঠল ‘ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে’ এবং ১৮৫৫ তে হয়েও গেল বর্ধমান-কলকাতা লাইন।

 

আরও পড়ুন...

জামাতের দৌড়, বল এখন খালেদার কোর্টে

জসীম আহমেদ

হাইকোর্টের রায় বহাল থাকলে এটি অবশ্যই একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর পর জামাতের জন্য এটি একটি বড়ো ধরণের চপেটাঘাত। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনও বিএনপি-জামাত-হেফাজত ইশকে মহব্বতি চক্রেই ঘুরপাক খাবে, এটি বলাই বাহুল্য।
তবে জামাতিরা চাইবে আরো এক ধাপ এগিয়ে থাকতে। বিএনপি’র ধানের শীষ বা হেফাজতের হাত পাখা নিয়ে নির্বাচন করলেও যেসব আসনে তাদের ভোটে জেতার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত, সেখানে জামাত স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জয়ী করানোর মরিয়া চেষ্টা করবে নিজেদের হিম্মত প্রমাণের জন্য। সেক্ষেত্রেও বিএনপি- হেফাজত তাদের ব্যক-আপ হিসেবে থাকতে পারে। অর্থাৎ ছুপা রুস্তমী রাজনীতিতে জামাতের যাত্রা শুরু এখান থেকেই। অবশ্য এরই মধ্যে রাজনীতির খবর ভিন্ন। অদূর ভবিষ্যতে জামাত বাদে নতুন দলের নামে নিবন্ধন আদায়ে এখন থেকেই পেয়ারে পাকি দলটি তোরজোড় শুরু করেছে বলে রাজনীতির বাজারে জোর গুজব রয়েছে।

আরও পড়ুন...

কী করিতে হইবে

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

যুবকরা যত্রতত্র বাজে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। যুবক বয়স হল খাটনির সময়। হাতের মুঠোয় ধরা জলের মতো যৌবনকে গলে যেতে দেবেন না। রাজ্য প্রগতির পথে গড়গড়িয়ে এগোচ্ছে, রথের রশিতে হাত লাগান। ঘাম ঝরান। যুবকরা স্বামী বিবেকানন্দের পথ অবলম্বন করে ফুটবল খেলুন, যুবনেতাদের অনুসরণ করে প্রোমোটারি করুন, মেয়ে দেখলে সিটি দিন, পাড়ার ক্লাবে তাস পেটান, চোর পেলে পিটিয়ে মারুন, যা খুশি করুন। কেবল আলস্য অভ্যাস করবেন না। গপ্পো থেকেই আসে গুজব। গুজবের সঙ্গে অপপ্রচার, আর অপপ্রচার মানেই চক্রান্ত। অলস মস্তিষ্ক হল মাওবাদীদের কারখানা। হীরকরাজ্যে আলস্য ও চক্রান্ত দুইই নিষিদ্ধ। যুবকরা নিজেরা নিজের মূল্য না বুঝে অকারণ রাজনীতি ও চক্রান্তে জড়িয়ে পড়লে তাদের চোখে আঙুল্ দিয়ে বোঝানো হবে। অলস যুবক দেখলেই নাগরিক কমিটি গড়া হবে। শোধরানোর চেষ্টা করা হবে। তাতেও কাজ না হলে থানায় গিয়ে কড়কে দেওয়া হবে। এর নাম বেলঘরিয়া পদ্ধতি। এর হাত থেকে বাঁচতে হলে পাড়ার ক্লাবে নাম লেখান, নাগরিক কমিটির হয়ে মাতব্বরি করুন, বাড়িতে বসে গীতা পাঠ করুন। মোট কথা গঠনমূলক কাজে ঘাম ঝরান, কারণ কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন...

আমার কারাবাস এবং - দ্বিতীয় কিস্তি

আসিফ মহিউদ্দীন

হ্যাঁ, তারা সকলেই নাস্তিক এবং ধর্ম সম্পর্কে তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নিজ নিজ চিন্তা ভাবনা, বিচার বিশ্লেষণ রয়েছে। তারা কেউ খুন করে নি, ডাকাতি করেনি, গাড়ি পোড়ায় নি, মসজিদে আগুন দেয় নি, কোরআন পোড়ায় নি। গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেফতারের সময় একটি প্রশ্নই করেছিল, "আপনারা কী নাস্তিক?" উত্তরটা হ্যাঁ হবার সাথে সাথেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। আর এই গ্রেফতার হয়েছিল হেফাজতে ইসলামের চাপের কারণে। অর্থাৎ নাস্তিক হওয়া বাঙলাদেশে একটি অপরাধ বলেই গণ্য হচ্ছে! তাদের ভাল পুরষ্কারই দেয়া হল।

আরও পড়ুন...