গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ

ইন্দ্রনীল ঘোষদস্তিদার

এর থেকে মনে হয়, হাসাকে যতটা সুখী ভাবতাম-মানে এখন ভাবছি বসে- ততটা সুখী নিশ্চয় সে ছিল না। শাশুড়ী ও পোড়া রুটি প্রসঙ্গে তার অত খচে যাওয়ারই বা কি ছিল, সেসব কি তার দুর্বল পয়েন্ট, অ্যাকিলিসের হিল? আর বনিতা, সে-ই কি সার্থক সুখী ছিল?  নাকি সুখের কল্পনা করে রস পেত এত?সে কি হাসা'র নাম করে নিজের ভবিষ্যৎজীবনের সুখের ছড়াই বানাত বসে বসে?  এমন বনিতা , যার পায়ে সোনার নূপুর, যার শাশুড়ী পালিয়ে বেঁচেছে, এবং যে দিনান্তে পেট ভরে রুটিটা - পোড়া হোক যাই হোক-অন্ততঃ খেতে পায় ! এইরকম সব প্রশ্ন পায় এখন ভাবতে বসলে। হাসা ও বনিতাকে পেলে খুঁটিয়ে জেনে নেওয়া যেত। কিন্তু তাদের পেলে তবে তো ! আমারও বয়স বাড়লো, আর দুজনেই  এক এক করে- না,  যা ভাবছেন তা নয়, একসঙ্গে   নয়- যে যার মত আলাদা আলাদা কোথায় যে খসে পড়লো, কে জানে। আর তাদের খুঁজে পাওয়া গেল না।

আরও পড়ুন...

সিলেবাসের মেয়েরা

সুমেরু মুখোপাধ্যায়

মরা মাছের চোখের মত তা ছিল ক্ষুদ্র ও নিষ্প্রভ, আমাদের স্কুল জীবন বা মফস্বল। মরা মাছের চোখ যায় যত দূরে, সাইকেল বুঝি কখনো অপেক্ষা করত ঠিক ততটা দূরে পার্শ্ববর্তী স্কুলের শেষ ঘন্টাটি শোনার জন্য। কার জন্য, আজও জানি না। তবে, রবিবারে ক্ষমাদি আসতেন সেতার শিখতে পাশের বাড়িটিতে, তার শাড়ি বা সালোয়ার মিশে থাকত তার পেলব ত্বকে, আজ যদি বলি সে’ই ছিল সেতার আর হাসলে ঝালা বাজত দুই বাড়ির সীমানায় থাকা কাঞ্চন ফুলের গাছে, তাহলে আজ সেই শহরের অনেকেই মেনে নেবেন, সেই ছিল আমাদের মধুবালা টু সুচিত্রা সেন। মাধ্যমিকের পর জেনেছিলাম ক্ষমাদির ছেলে পড়ে আমার থেকে এক ক্লাস নীচুতে, কাজেই দলে ভারী হওয়ারই সম্ভাবনা। গুপী ডাক্তারের মেয়ে মহাশ্বেতা ছিল আমার থেকে দুই বছরের ছোট। শান্ত মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে তর্ক করত নাওয়া-খাওয়া ভুলে, সেই JNU যাওয়ার আগে পর্যন্ত। কানগুলো লাল হতে হতে কখন যে ঝান্ডা হয়ে পতপত করে উড়ত টের পেতাম না। ভাবতাম বুঝি ম্যাজিক দেখছি, সে যে শুধু আমিই দেখতাম না তা নয়, বিজনজেঠুকে সাইকেলে নিয়ে তাদের বাড়ি যাওয়া সূত্রে; বিজনজেঠুই দেখতে পেত সকলের আগে। আমি কি ছাই সে বয়সে অত কিছু দেখতে পেতাম, আজও হয়ত পাইনে, কিন্তু মহাশ্বেতা উফফ সে এক প্রকাণ্ড কাণ্ড বটে, বিজনজেঠুর সঙ্গে তর্ক করত বেদ-উপনিষদ নিয়ে যার বিন্দুমাত্র বুঝতাম না আমি, নির্ঘাত সেসব বেদ-উপনিষদ ফ্রেঞ্চ নতুবা জার্মান ভাষার। টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আমাদের পাশের কোয়ার্টারের গায়েনকাকুর ছিল তিন মেয়ে শাশ্বতী, মহুয়া আর কাকলি। ছোটটি আমার সমবয়সি গানের গলা ছিল তারাপদ রায়ের মত। মেজটি একবছর অন্তর ফেল করে সমক্লাসী হয়েছিল, একদা। বড় মেয়ে সারা জীবনে একটা ছবিই নিদেন পক্ষে দশ হাজারবার এঁকে ছিল গুচ্ছের মোম ও জলরঙ নষ্ট করে। একটা বাঁশ যার মাথাটা মানুষের। কম্পিটিশনে-টনে ‘একটি গ্রামের দৃশ্য’ বা ‘বাংলার উৎসব’ বিষয় দেওয়া থাকলেও সে সেই হাইফান্ডার ছবিটিই আঁকত, ফলের আশা না করে। তার দেখাদেখি মেজ মেয়েটিও যখন ওই একই ছবি সকাল বিকেল প্র্যাকটিশ করতে শুরু করে সেই সময়ে আমরা কোয়ার্টার ছেড়ে অন্যত্র চলে যাই। আমাদের একরত্তি মফস্বলে রুমঝুম মিত্র সম্ভবত বিখ্যাত ছিল অনেক কারণেই। প্রয়াগে যেমন গঙ্গা আর যমুনাকে রঙের তারতম্যে চেনা যায় তেমনি ছিল রুমঝুমের অন্তঃ ও বহিঃবাসের তফাত। অন্তঃ বলে কিছু আদিতে থাকলেও অন্তে থাকত না। অতএব সে ছিল ডাকাবুকো। প্রেম করত তারক নামের এক মোটর মেকানিক বা গ্যারেজের মালিকের সঙ্গে। মাধ্যমিকের পর তিনমাসের ছুটির অবকাশে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়েটা সেরে ফেলে। আমি আমার উচ্চ-মাধ্যমিকের পর দেখেছি রুমঝুম বাচ্চা কোলে নিয়ে এক হাতে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে। নিশ্চিত বুক ফুলিয়েই, বাচ্চার আড়াল থাকায় ততটা টের পাই নাই, মাইরি। আমাদের স্কুলের পাশেই গঙ্গা বরাবর হুগলি মহসীন কলেজে আমরা ক্লাস করতে যেতাম, উঁহু কোন জয়-জয়ন্তীর অপর্ণা সেন গোছের দিদিমণির জন্য নয়, সামান্য এক ছাত্রীর জন্য। ফলে ক্লাসের বিষয় ছিল গৌণ, চিত্রোপমা সেনগুপ্ত ঢের ঘটনাপ্রবণ, ফলে সব ক্লাসই ছিল দর্শনের। স্কুলের ব্যাগে একটা টি-শার্ট ভরা থাকত টানা বছর খানেক, দর্শন-শাস্ত্রে অনার্স পড়ার মামুলি পাসপোর্ট। স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখার চাইতে অন্য সিনেমায় প্রবেশ করতাম আমরা, আদি বাংলায় যার নাম ঝারি। এক ফুল দো মালি, মেনলি দুই বন্ধুর অভিপ্রায় বদবুদ, তার নামটা আর কবরস্থানে উল্লেখ করলাম না চারপাশে অশান্তির সংসারে বোঝা না বাড়ানই শ্রেয়, আজকাল সমতলেও ল্যান্ড স্লাইড ঘটছে ঘনঘন, ললিতা রায় বলে দিয়াছে গোরস্থানে সাবধান। ইউনিফর্ম বদলে সোজা কলেজ। এটা ছিল বেশ নিয়মিত ব্যপার, একজন অধ্যাপক আমাকে নামেও চিনতেন মনে আছে। সেই চিত্রোপমার নামডাক ছিল প্রেম ভাঙতে, সিওওওওওওওওওর শট। আভিজিৎ-মৌসুমীর তিন বছরের জমাট প্রেম ভাঙ্গতে সে সময় নিয়েছিল সাড়ে তিন মিনিট, মাত্র একটি চুম্বন। হায় তখন আমাদের জমাটি প্রেম নাই, ভাঙাভাঙিও নাই, শুধু হতাশা। ইংলিশ অনার্সে পড়ত রানু। রানু চক্রবর্তী। বিটিপিএস থেকে আসত। বন্ধু প্রতনুর তখন প্লে টাইম। আরেক সহপাঠী মিত্রার সঙ্গে লুকিয়ে চুটিয়ে প্রেম করায় রানুর কাছে আমি গেছি মাঝে মাঝে প্রক্সি দিতে, ডিস্ট্যান্ট প্রক্সিমিটি। ইংলিশ অনার্স পড়া রানু আমার সেকেন্ড পেপারের রিয়েল আনালিসিসের ক্লাস নোট সুন্দর করে ফেয়ার করে দিত, পাছে আমার একটু লেখাপড়ায় মন বসে। হা হতোস্মি, কাকস্যপরিবেদনা। না আমার কিস্যু পরিবর্তন হয়নি তাতে, বোঝে না সে বোঝে না। পরে, বছর ৫/৬ পরে শুনেছিলাম রানু বাড়ি থেকে পালিয়েছে শীতে কাশ্মীর থেকে আসা এক শাল-ওয়ালার সঙ্গে। কাজেই অকরিতকর্মা হিসাবে যেমন পেকে ঝানু হচ্ছিলাম দিনকেদিন, তেমনই পালাচ্ছিলাম সেই ছেঁড়া গার্ডারের মত নদীটির পাশে পড়ে থাকা চেনা মফস্বল ছেড়ে, কোন উপসিদ্ধান্তে আসাটা জরুরি নয় জেনেও। জানালার বাইরে তখন প্রবল ঝড়। মন অশান্ত। ঝান্ডা, মায়া, ভাষা সব সুনির্দিষ্ট অলৌকিকতার বশবর্তী ছিল না। অতঃপর আখ্যান আরম্ভ।

আরও পড়ুন...

বাটা ঝিলমিল বাটা ঝিলমিল বন্ধু খাওরে বাটার প্রাণ

সামরান হুদা

আমরা, ছোটরা তখন দাদির মুখের চিবুনো পান খেতাম। অনেকক্ষণ ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে পান খেত না দাদি। খানিকক্ষন চিবিয়ে রসটা খেয়ে নিয়ে পানটা হাতে নিয়ে আওয়াজ দিত, ‘পান কেডা খাইবি আয় রে’ বলে। ততক্ষণে পানের রসে টুকটুকে লাল হয়ে যেত টকটকে ফর্সা দাদির দুই ঠোঁট আর ঠোঁটের কষ। তাকালে দেখা যেত অপূর্ব এক লালের আভা ছড়িয়েছে ঠোঁট ছাড়িয়ে চিবুকের খাঁজে, বয়েসের ভাঁজে। একটা দুটো হাত সঙ্গে সঙ্গেই এগিয়ে যেত সেই চিবুনো পান খাওয়ার জন্যে। সকালের নাশ্‌তা বা দুপুরের খাওয়া বা বিকেলের চায়ের পরে আব্বা যখন বারান্দায় দাদির বেতের সোফার পাশে দ্বিতীয় সোফাখানিতে গিয়ে বসত, তখন একখিলি করে পান এগিয়ে দিত দাদি। মায়ের পাশে বসে গল্প করতে করতে পান চিবুতো আব্বা।

আরও পড়ুন...

আলোহোমোরা

কৃষ্ণকলি রায়

এইই বিভ্রমের গল্প। এগারো বছর আগে একজন ঘুমপাড়ানী বুড়ো এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে যে উপহার দিয়ে গেছিলেন সেই গল্প। এখনও আমার ব্রেনে এনকেফালোম্যালেশিয়া আসন পেতে রয়েছে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় এই নিয়ে আরো জানি। পড়ে ফেলি অনেক কিছু। জিজ্ঞেস করি যাঁরা জানেন তাঁদের। আবার পরের মূহূর্তে ভাবি -- থাক। ভালো লাগে এই অন্য দুনিয়ায় মাঝে মাঝে পা রেখে ফিরে আসতে। ম্যাজিক দুনিয়ার সমস্তটা জেনে ফেলে কী লাভ? ভালো লাগে এইই। ভালো লাগে যখন বিভ্রম আমার ঘাড়ের ওপর ফুঁ দেয়। আমার কানে কানে হাওয়ার স্বরে ফিসফিস করে বলে-- 'আলোহোমোরা'।

আরও পড়ুন...

কাব্যি

গাজন - সোমনাথ রায়

লিটলমেঘ মেলা - শুভ্রনীল সাগর                 

গণেশ পাইনের রানি - শিবাংশু দে

না-হওয়া কথারা -সোনালি সেনগুপ্ত

দৃষ্টিকোণ  - শান্তনু রায়

মামুলি কথা -মলয় ভট্টাচার্য

মুকুর - শ্ব 

মর্স কোড - অধীশা সরকার

গুহালিপি - চিরন্তন কুণ্ডু 

মনান্তর - নিশান চ্যাটার্জী

স্বগতভাষণ - সুমন মান্না 

ফেরা - মিঠুন ভৌমিক  

 

 

আরও পড়ুন...

স্কুলের পথে

শঙ্খ কর ভৌমিক

নতুন ছেলেটা খুব বকবক করছে। মেয়েটা খুব হাসছে। প্রথম ছেলেটার মুখে ক্ষুণ্ণ ভাব। হঠাৎ খেয়াল করে টিনের বাক্সটা এখনো তার হাতে। বাক্সটা মেয়েটাকে ফেরত দেয়। মেয়েটা এর হাত থেকে বাক্সটা নিয়ে অম্লানবদনে অন্য ছেলেটার হাতে ধরিয়ে দিল। তাতে প্রথমজনের মুখের ক্ষুণ্ণ ভাবটা আরো বেড়ে গেল।

একটু পরে পথের ধারে একটা খারাপ হয়ে যাওয়া রোড রোলার। প্রথম ছেলেটা হাঁচোড়পাচোড় করে ড্রাইভারের সিটে ওঠার চেষ্টা করে। ইতিমধ্যে সঙ্গীরা অনেকটা এগিয়ে গেছে দেখে হাল ছেড়ে দিয়ে আবার হাঁটা লাগায়।

স্কুল মনে হয় আর বেশি দূরে নয়। রাস্তায় এদের মতই রংজ্বলা নীল হাফপ্যান্ট অথবা স্কার্ট পরা কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ে দেখা যাচ্ছে এবার।

আরও পড়ুন...

কাঠপাতার ঘর

কুলদা রায়

বাড়ির পেছন দিকে ছিল একটা এঁদো ডোবা। আর ঘন ঘাস। এই ঘাস শুকিয়ে হয়েছিল আমাদের প্রিয় বিছানা। এই নরম গরম বিছানায় আমরা জড়াজড়ি ঘুমাতাম। আবার ঘুমের মধ্যে স্বপ্নও দেখতাম। সে সময় আমাদের একটি ছোটো বোন আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিল। ও স্বপ্ন দেখতে জানত না।

আরও পড়ুন...

নিদ্রাকাল

পাপড়ি রহমান

বাদুরে খেয়ে ফেলা লিচুর খোসার মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অন্ধকারে ফচকাটা ঝলসে ওঠে! রাত্তির সবে গভীর হতে শুরু করেছে। ঘন-দুধের সর হয়ে তখনো তা পুরু হতে পারে নাই! অথচ শলাগুলোর তীক্ষ্ণ আগা আয়শা খাতুনের দিকে তাক করা! খানিক পরই তা ধাই করে বুকে বিঁধে যাবে। একেবারে বাম পার্শ্বে। বাম পাশ, না ডান? ডান পাশ, না বাম? যেনো ভয়ানক তাল-বেতালের ভেতর পড়ে আয়শা খাতুন উদ্দিশ করতে পারে না! কিন্তু সে নিশ্চিত জানে তাক করে থাকা ফচকাটা তাকে বিদ্ধ করবে। করবেই। ফচকার ধারালো শলা বুকের মাংসপেশিতে ঠিক ইঞ্চি তিনেক গেঁথে যাবে। মুহূর্তে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটবে। আর আয়শা খাতুন তখন আর্তনাদ করে উঠবে। তীব্র-তীক্ষ্ণ আর্তনাদ। অতঃপর মরিয়া হয়ে সুইচ বোর্ড হাতড়াবে। কাঠের বোর্ডটা হাতে ঠেকলে খুট করে সুইচ জ্বালাবে। 

এই পর্যন্তই।

তারপর সবকিছু শান্ত। স্থির। নিরব। নির্জন। নিথর। একেবারে গোরস্থানের মতো থই থই নির্জনতায় ভরে যাবে ঘরখানা। আয়শা খাতুন ধীরে সুস্থে এই নির্জনতায় পা ডুবাবে। বালিশের কাছে রাখা চশমাটা চোখে পড়বে। চশমা চোখে নিজের বুক-পেট ভালো করে দেখবে। হাতিয়ে হাতিয়ে রক্তচিহ্ন খুঁজবে। অতঃপর ফচকার তীক্ষ্ণধার শলাগুলো খুঁজবে। কিন্তু কোথাও কিনা ওইসবের আলামত নাই! সব যেন ভোজবাজির মতো মিলিয়ে গেছে!

আয়শা খাতুন চোখ থেকে চশমা খুলে ফেলবে। আঁচলের কোণা দিয়ে ভালো করে মুছে-টুছে ফের পড়বে। এবং পুনরায় দেখার চেষ্টা করবে। কোথায় সেই ক্ষত? কোথায় রক্তের প্রপাত? ঝলসে ওঠা ফচকা? এই সবের চিহ্নও কোথাও নাই!

এই রকম অযাচিত বিপদে আয়শা খাতুন কালে-ভদ্রে পড়েছে। অবশ্য এ বিষয়টাও তো নিশ্চিত নয়। জীবন যদি মস্তক হয় তাহলে তার লেজ হলো বিপদ! ফলে যতদিন জীবন ততদিন বিপদ। ধড় থেকে লেজ আলাদা করা যায় না। জীবন আর বিপদ তাই আষ্টে-পৃষ্টে বাধা থাকে!

আরও পড়ুন...

চিহ্ন

মাজুল হাসান

আমার মা ফার্মগেট চিহ্নিত করে রাখে একটা ব্যানার দিয়ে। যাতে লেখা ‘গরু-ছাগলের বিরাট হাট’। পাশ দিয়ে দুইটা বড় বিল্ডিং, তারপর টুকরি-মাথায় কয়টা বেঞ্চি, কিছু গাছ, হ্যাঁ পার্ক, তারপরেই চক্ষু হাসপাতাল। মায়ের চোখে সমস্যা। মা আমাকে চিনতে পারো তো মা? মা-মা! বারবার বলার পরও তার এই বাতিক যায় না। আরে বাবা, অই ব্যানার যে আজীবন থাকবে না—এই জানা কথা তারে কে বোঝায়? এমন তো হইতে পারে একদিন দেখা গেল—সামনে দিয়ে কালো বিড়াল পথ কেটে যায়নি, বাম চোখ সকাল থেকে থেকে-থেকে নাচেনি, আমার মা যাকে বলে চৌখ নাচানি, বলে ডাইন চৌখ নাচলে সুসংবাদ আর বাম চৌখ নাচিলে তোর কপালোত শনি। এমন তো হতে পারে সব পূর্বাভাসের দেবতারা, চিহ্নগুলো উধাও হয়ে গেছে! তখন? মা তারপরেও নাখালপাড়াকে চিনে রাখে ‘এইখানে ভাল হাতের কাজ করা হয়’, ইন্দিরা রোডকে ‘বনসাই প্রশিক্ষণ’ আর নিজের বাসাকে চিনে রাখে তিন রোড আগে একটা মস্ত বড় খাড্ডা দিয়ে। আমার ভয় করে। মা আমাকে চিনতে পারো তো মা? আমি তোমার লাল, মা, আমি তোমার লাল, লাল পান্না। আমি বলি মা পান্নাতো সবুজ। তবু মা টাকা জমায়, বুড়া বয়সে তাকে কে দেখবে? কে? এর কাছ থেকে চেয়ে, আধিয়ারের কাছে তিন ছটাক ধানের প্রাপ্য বুঝে নিয়ে, বাপের পকেট কেটে, আমাদের গিফটের টাকা জমানোর নাম করে, আমার সুন্নতের কচকচি নতুন ২ টাকার বান্ডিলের কথা এইমাত্র মনে পড়ল, এইভাবে নিজের পাত থেকে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য সরিয়ে রাখে মা। ‘মা আমি তো আছি’—বলতে পারি না। বলতে পারি না, মা এক ভয়ানক রূপসীর হাত থেকে পালিয়ে আছি, ওরা আমাকে মিষ্টি খাওয়াইতে চায়। মা সুরা পড়ে, ফুঁ দেয়, আমার চোখে মুখে লেপ্টে যায় বর্ণমালা। মা আমার হাতে লেখে ‘পুত্র’, চোখে লেখে ‘নীল’, হাতে-পায়ে ফোঁড়ার দাগের একটু নিচে লিখে দেয়— ‘৮ সোনারগাঁও জনপথ রোড, উত্তরা, মাস্কট প্লাজা থেকে সোজা পশ্চিমে একটা ৪ রাস্তা, তারপরে আরেকটা ৪ রাস্তা, দুই তিনটা বাড়ির পর একটা তিন ডাবগাছঅলা বাড়ি’—যাতে লোকে জিজ্ঞেস করলে বলতে পারি এই আমার বাড়ির ঠিকানা।

আরও পড়ুন...

জ্যোৎস্নায় জোনাকি

অরূপা কলিতা পতঙ্গিয়া (অনুবাদঃ নন্দিতা ভট্টাচার্য)

জোনাকির গ্রামে আজ পর্যন্ত বাসের রাস্তা তৈরি হয়নি। কোথাও যেতে হলে  বেশ খানিকটা  হেটে বড় রাস্তায় এসে বাসের জন্যে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। ধুলো ও বর্ষার কাদামাখা পা খানা বট গাছের তলায় চাপা কলের জলে ধুতে ধুতে বার বার ঘাড় উঁচু করে দেখতে হয় জোনালি নামে গুয়াহাটি যাওয়ার বাসটা আসছে কি না ! কোন কারনে জোনালি এসে না পৌঁছালে ম্লানমুখে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। বাসে বসার কথা কেউ ভাবে না। হাঁস-মুরগি,শুকনো মাছ ,মাগুর-কই মাছের টিন, শুকনো পাটের দম বন্ধ করা বাসে দাঁড়াতে পারাটাই পরম সৌভাগ্যের বিষয়। অবশ্য বিশেষ কাজ না থাকলে কেউ ই গ্রামের বাইরে যাওয়ার কথা চিন্তাও করে না।

আরও পড়ুন...

না হাঁচিলে যারে

জয়ন্তী অধিকারী

এক যে ছিল ভীষণ কেবলী মেয়ে , টিঙটিঙে রোগা,থাকার মধ্যে মাথায় ঘন চুল,মুখচোরা আর প্র্যাকটিকালে ভয়।কেমিস্ট্রী ছাড়া সবকিছু পড়তে ভালবাসে, পাকপাড়া থেকে বেলগাছিয়া  এসে  ট্রামে করে কলেজ যায়।
আর ছিল এক ডাক্তারীর ছাত্র,বেজায় গম্ভীর, নেহাত দরকার না পড়লে কথাটথা কয় না, সবসময়  রামগরুড় মুখ করে ঘোরে কিন্তু পেটে শয়তানি বুদ্ধি গিসগিস করে।
 সেদিন ডিসেম্বর মাস,অসময়ে প্রবল বৃষ্টি।
হাঁচতে হাঁচতে কেবলী কলেজে চলেচে, বগলে তিনটে প্র্যাকটিকাল খাতা, এক হাতে তোয়ালেরুমাল,অন্য হাতে বাসের রড, কাঁধে ঝোলা  ব্যাগ ।

আরও পড়ুন...

শ্যামাপোকা

রূপঙ্কর সরকার

- এক থাপ্পড় লাগাব অসভ্য মেয়ে, সিনিয়ারদের সঙ্গে কিভাবে কথা বলতে হয় জাননা ?
- যাব্বাবা, আমি কোথায় ভাল মনে বলতে গেলাম, তোমার জীন্‌সটা ফ্যান্টা, আর তুমি চমকে দিলে ? দেখ, সিনিয়ার বলে অত এয়ার নিওনা, মোটে তো দুবছরের বড় –
- চমকে দিলাম আবার কী ভাষা, ঠিক করে কথা বল। আমাকে কী বলে ডাকলে তুমি ? আমার নাম শুচিস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ছোট করে, স্মিতা। বুঝলে ?
- কী করে জানব দিদিভাই, দুনিয়ার লোক তোমায় শ্যামা বলে ডাকে শুনি, তাই আমিও বললাম, শ্যামাদি। খুব অন্যায় করেছি না? পায়ে ফায়ে ধরতে হবে নাকি?

আরও পড়ুন...

সাজানো ঘটনা, প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে

জিগীষা ভট্টাচার্য

কিন্তু, আসল ব্যাপারটা মোটেই এরকম নয়, এই ‘অহিংস’ ঘটনা ঘটার দিন বিকেলে প্রেসিডেন্সির বন্ধ গেটের বাইরে সাধন পাণ্ডে মহাশয়ের নেতৃত্বাধীন জনসভার বক্তব্য থেকে আসল ব্যাপার পরিস্ফুট হয় । ‘চক্রান্ত’-এর অন্ধকার কেটে আলোর দ্যাখা পান ডিরোজিয়ানরা এবং অন্যান্য মূঢ় ব্যক্তিবর্গ । আসলে তৃনমূল ছাত্র পরিষদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে প্রেসিডেন্সি থেকে বেরিয়ে ছাত্রছাত্রীরা হামলা করে, যে জন্য মিছিলে উপস্থিত লোকজন বাধা দিতে বাধ্য হন । যে কারণে পরের দিন প্রেসিডেন্সির হাজারে হাজারে ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক-কর্মচারী-প্রাক্তনী যখন পথে নামেন, তখন প্রেসিডেন্সির ছাত্র দেবর্ষি চক্রবর্তী এবং প্রেসিডেন্সি প্রাক্তনী ছন্দক চ্যাটারজির বিরুদ্ধে এফ আই আর দায়ের করে টি এম সি পি , ১৪৭, ১৪৮ ও ১৪৯ নং ধারায়, দাঙ্গা বাধানো এবং উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে । এই দেবর্ষি চক্রবর্তী আগেরদিন হাসপাতালে গেছিলেন আহত হয়ে ? ও সে তো নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে গিয়ে লেগে গেছিল । আরেকজন ছাত্রকেও হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল না? ওরা দুজন নিজেদের মধ্যে মারামারি করছিল । সিম্পিল ।

আরও পড়ুন...

আমাদের লেখাপড়াশোনা

পার্থ চক্রবর্তী

কিন্তু বিজ্ঞান ব্যাপারটা কী? কাকে বলব বিজ্ঞান আর কেই বা না-বিজ্ঞানের দলে? কিভাবে ঠিক হবে তাদের সীমা, সীমানা? এই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বিজ্ঞান কি আর তার বৈশিষ্ট্যই বা কি, এটা না বুঝলে বিজ্ঞানের আধিপত্যের রাজনীতিটা বোঝা মুশকিল। এই প্রশ্নটা নতুন নয়, আদতে বেশ পুরোনো দার্শনিক প্রশ্ন। এখন একটু দেখে নেওয়া যাক বিজ্ঞানের বিশেষত্বকে প্রশান্ত/অতলান্তের অপর পাড়ের পন্ডিতেরা কিভাবে দেখেছেন, ভেবেছেন।

আরও পড়ুন...

বাঙালী সাহিত্যিকদের প্ল্যানচেটচর্চা

চিরন্তন কুণ্ডু

মৃত্যুর ওপার নিয়ে মানুষের জিজ্ঞাসা আজকের নয় । এই প্রশ্নের সর্বজনগ্রাহ্য মীমাংসা হওয়া প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হয় । সংবেদনশীল এবং কৌতূহলী মানুষেরা এই প্রশ্ন উথথাপন করবেন এবং নিজেদের মত করে তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা চালাবেন – এটা তাই প্রত্যাশিত বলেই ধরে নেওয়া যায় । প্ল্যানচেটের মাধ্যমে এপারের সঙ্গে ওপারের সেতুবন্ধনের প্রয়াস তারই একটা অংশ । বিভিন্ন যুগের কিছু বিশিষ্ট মন এ পথে আকৃষ্ট হয়েছে । এখানে তেমন কয়েকটি উদাহরণ রইল মাত্র । অতীত বর্তমান মিলিয়ে এই তালিকা আসলে দীর্ঘ । এবং পুনরাবৃত্তি যদি ইতিহাসের ধর্ম হয়, সম্ভবতঃ ভবিষ্যতেও এই পথে সন্ধানী পথিকের অভাব হবে না ।
 

আরও পড়ুন...

সাইবার জগত থেকে হেফাজতঃ সমীকরণ সহজ নয়

ফিরোজ আহমেদ

শাহবাগ জনতার সেই চেতনা, যে-চেতনা অনুমান করেছিলো জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের কোন আঁতাত তৈরি হয়েছে। ট্রাইবুন্যাল-রূপী প্রহসনের নাটকে জনগণের দাবীর যে অপমান ঘটেছে শাহাবাগ তারই বহিঃপ্রকাশ। শাহবাগ আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেনি, কিন্তু শাহবাগে আওয়ামী লীগ একটা নেতৃত্বকে চাপিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রতি বাকিদেরও সন্দ্বিগ্ধতার কারণে এরাও আবার একক নেতৃত্ব হতে পারেনি, কিছুটা হলেও যৌথ নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেছিলো। বাকিরা যেহেতু সংগঠিত ছিলো না, তাই চাপিয়ে দেয়া নেতৃত্বের অগণতান্ত্রিকতা আর অস্বচ্ছতাও যথাসময়ে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। নীতিনির্ধারণী সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তও বদলে ফেলার মত গুরুতর ঘটনা শাহবাগে ঘটেছে। আবার, নেতৃত্বের যে কোন আপোষের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র সাধারণ জনতা ও কর্মীরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তাও নেতৃত্বের ভূমিকাকে বহুভাবে প্রভাবিত করেছে।

আরও পড়ুন...

বৃষ্টিভেজা গদ্যের অভিমুখ সর্বদাই বিষাদলক্ষ্যী হয়

মুজিব মেহদী

যাত্রামুখে দেখি চোখ বড়ো করা কালো মেঘ গায়ে লালাভা মেখে ওত পেতে আছে, শিলাপাতের সম্ভাবনাসহ, ‘আকাশের শিলাস্তূপ থেকে তিনি বর্ষণ করেন শিলা, আর এ দিয়ে তিনি যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন’, শঙ্কা জাগে মনে, আমার খেতের গর্ভিণী ধানের ছড়া, আমার গাছের আমের যত বোল, আমার খড়ের প্রিয় চালাঘর, এ যাত্রা সর্বনাশের সামনে দাঁড়িয়ে গেল তাহলে, হঠাৎ এ-ও মনে হয়ে যায় যে ‘...আর যাকে ইচ্ছা তার ওপর থেকে এ অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন’, সহসাই এরকম বিশ্বাস জেগে ওঠে মনে যে আমার ওপর থেকে তা ফিরে যাবে অন্যদিকে, হ্যাঁ, যাবেই ফিরে ইচ্ছাশক্তির বলে, এ বিশ্বাস আমাকে দেন ভারতবর্ষীয় কৃষি ও আবহাওয়াবিদ খনা, তাঁর ‘ধলা মেঘে গলা পানি/ কালা মেঘে ছাগল দৌড়ানি’ আর্যাযোগে, ঝরঝরে লাগতে থাকে নিজেকে, মেঘের দিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং কনিষ্ঠাঙ্গুলি দুটোই একযোগে তুলে ধরি, বলি যে, দুটোর যেকোনোটা খুশি ঢুকিয়ে বসে থাক, শান্তি পাবে, বেচারা মেঘের লালচোখ মুহূর্তে নত হয়ে যায়, ব্রেভো, গর্বে আবারও সাঁইজির চরণ জাগে পোড়া মুখে, কেন যে জাগে, ‘মানুষে মানুষের বিহার/ মানুষ হলে সিদ্ধ হয় তার/ সে কি বেড়ায় দেশ-দেশান্তর/ যেজন পিড়েয় পেরুর খবর পায়’, বারকয় চরণটি ভাঁজতে ভাঁজতেই আমার বোরাক এসে পৌঁছায় কদমতলে, এ কদম সেদিন যে সে কদম ছিল না, নিচে তার ছিল যথেচ্ছ প্রশ্রয়, কামনার ইঙ্গিত

আরও পড়ুন...

চোপ ! আইপিএল চলছে !

সিদ্ধার্থ সেন

আশা করি কাল কলকাতায় কোনো প্রতিবাদ হবে না। প্রতিবাদ হলে কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব, প্রতিবাদকারীদের ধরে চোখ উপড়ে হাঁটু ভেংগে পেটের নাড়িভুঁড়ি বার করে দিতে হবে! সবথেকে ভাল হয় লাশগুলো রাস্তার ওপর সাজিয়ে রাখলে, বা ত্রিফলা ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে দিলে। যাতে প্রতিবাদের প্রতিবাদ করার আগে মানুষের গায়ের রক্ত একবার হিম হয়ে যায়। আশা রাখি, বিপুল জনাদেশে জিতে আসা মুখ্যমন্ত্রী আমাদের এই গণতান্ত্রিক দাবিটুকু পূরণ করবেন। অবশ্য এই দাবিটুকু করতে গিয়েও ‘কুমীর তোর জলকে নেমেছি’ বলে ফেললাম কি না, এখনই ঠিক বুঝতে পারছি না।

আরও পড়ুন...

আই পি এল...

শঙ্খ করভৌমিক

আইন অমান্য করলে জেল,

জমবে এবার আইপিএল।

আরও পড়ুন...

বস্টনে বঙ্গেঃ দ্বিতীয় পর্ব

বর্ন ফ্রি

মশলার কথা শুনেছিলাম ব্যাঙ্গালোরে থাকতে, করিমের মুখে। করিম কিছুকাল বস্টনে ছিল, তারপর এ ফর আলাস্কা থেকে জেড ফর জিম্বাবোয়েতে কাটিয়ে অবশেষে ব্যাঙ্গালরে পৌঁছয়। ছোট ছোট করে কাটা চুল, দারুন ম্যানলি চেহারা আর তার সাথে একটা সাঙ্ঘাতিক ইচ্ছাকৃত কন্ট্রাস্টে কানে গোঁজা কাঠগোলাপ ফুল, এই হচ্ছে করিম। আমি বস্টনে আসব শুনে ও আমাকে বস্টন মশালার সাথে যোগাযোগ করতে বলল। আমি বস্টন মশালাকে ইন্টারনেটে খুঁজলাম, এম ডি এইচ থেকে লাস ভেগাসের ইন্ডিয়ান স্ট্রিপ শো সব পেলাম খালি বস্টনের সাউথ এশিয়ান এলজিবিটি গ্রুপ মশালার খোঁজ পেলাম না। কারণটি অত্যন্ত সহজ, কিন্তু আমার মোটা মাথায় ঢুকতে একটু সময় লাগল। আমি জানি আপনারা আমার থেকে অনেক বেশি বুদ্ধিমান, এর মধ্যেই ধরে ফেলেছেন গোলমাল কোথায়, তাই সে কথায় পরে আসছি।

আরও পড়ুন...

আঁধারপর্বঃ রক্তাক্ত নেকলেস

শিবাংশু দে

একবার কেউ অঞ্জলি এলা মেনন'কে অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলেন, তাঁর ছবি সর্বোচ্চ দামে বিকোবার সুখে। অঞ্জলি বলেছিলেন, ছবি বিক্রির দাম দিয়ে উৎকর্ষ বিচার করাটা মূর্খতা। হতে পারে তাঁর একটা ছবি বাজারে অত্যন্ত মহার্ঘ মূল্য পেয়েছে, কিন্তু এটা জেনে রাখা দরকার গণেশ পাইনের আঁকা ছবির মূল্য নির্ধারন হয় প্রতি বর্গ ইঞ্চির হিসেবে। শিল্পী হিসেবে তাঁর সিদ্ধির কাছাকাছি অতি সামান্য ক'জনই আসতে পারেন। দীর্ঘদিন তাঁর তেল রং কেনার সামর্থ্য ছিলোনা। মন্দার মল্লিকের স্টুডিওতে অ্যানিমেশনের কাজ করতেন। সেই উপার্জনে জলরঙে ছবি আঁকতেন। সেভাবেই ওয়াশ থেকে গুয়াশ এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর সিদ্ধির আসন পাতা হয় টেম্পেরা মাধ্যমে। অত্যন্ত স্বল্প মাত্রায় ছবির জন্ম হতো তাঁর হাতে। একার ক্যানভাসে একটা প্রদর্শনী ভরা যেতোনা, তাই ঐ মাপের শিল্পী হয়েও গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে ছবি দেখাতেন। তিরিশ চল্লিশ লাখে এক একটা ছবি বিকোনো খুব মামুলি ব্যাপার ছিলো তাঁর কাছে। সতীর্থ ও বন্ধুরা তাঁর এই সাফল্যে ঈর্ষাপর হয়ে পড়ায় আশির দশকে বেদনাবশে দীর্ঘকাল ছবি আঁকেননি। একান্ত অন্তর্মুখী ও প্রচারবিমুখ শিল্পী ছিলেন তিনি। তাঁর আঁকা সত্তর দশকের টালমাটাল সময়ের চিত্রকাব্য দেখে মকবুল ফিদা হুসেন মুম্বাইয়ের একটি পত্রিকায় গণেশের মুক্তবন্ধ প্রশংসা করেন। কলকাতার সীমাবদ্ধ শিল্প বাজারের থেকে তাঁর ছবি এইভাবে বিশ্বের দরবারে হাজির হয়। তার পর আর ফিরে তাকাননি তিনি। সত্যি কথা বলতে ব্যক্তিগতভাবে আমি তাঁর সেই সর্বনেশে সত্তরের ক্যানভাসমালা দেখেই মন্ত্রবন্দী হয়ে পড়েছিলুম। একদিকে কলকাতাকেন্দ্রিক পৃথিবীর 'গভীর, গভীরতর অসুখ', অধ্যাপক আর ট্র্যাফিক পুলিশ হত্যার বিপ্লব । অন্যদিকে এশিয়ার মুক্তিসূর্যের হাতে জরুরি অবস্থার 'অনুশাসন পর্ব'। মানুষের শুভবুদ্ধি আর বিবেকী আয়োজনের নাভিশ্বাস। সেই সময়ের পটপ্রেক্ষায় গণেশের ক্যানভাস মানুষের কষ্ট, যুদ্ধ ও প্রতিবাদের একটা সেরিব্রাল দলিল হয়ে উঠেছিলো।

আরও পড়ুন...