স্মরণে শংকর গুহ নিয়োগী

পুণ্যব্রত গুণ

এবার শুরু নতুন ধারার শ্রমিক ইউনিয়ন তৈরীর কাজ। এ যাবৎ ট্রেড ইউনিয়ন বলতে লোকে বুঝত শ্রমিকদের আর্থিক দাবী-দাওয়া আদায়ের সংগঠনকে, যা বেতনবৃদ্ধি-বোনাস-ছুটি-চার্জশিটের জবাব ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলন করার সংগঠন। অর্থাৎ ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিক-জীবনের এক-তৃতীয়াংশ, আট ঘন্টার সংগঠন, যে আট ঘন্টা শ্রমিক কলে-কারখানায় কাটান।

নিয়োগী শ্রমিকদের খন্ড-বিখন্ড মানুষ হিসেবে দেখতেন না, দেখতেন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে, যে মানুষ উৎপাদনের কাজ ছাড়াও পরিবারে-সমাজে থাকে—খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের সমস্যা, নিজের অবসর বিনোদন, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার জন্য যাকে ভাবতে হয়, যাকে সম্পর্ক রাখতে হয় সমাজের অন্যান্য মানুষের সঙ্গে। নিয়োগীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন ইউনিয়নের কর্মসূচীতে সামিল হল আর্থিক দাবীর লড়াইয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সংস্কৃতি-পরিবেশ-ইতিহাস চেতনা-নারী মুক্তি-সমাজের অন্যান্য শোষিত অংশের মুক্তি, নিপীড়িত জাতিসত্ত্বার মুক্তির মত বিষয়গুলি।

আরও পড়ুন...

ছত্তিশগড়ে মাওবাদঃ এক বিহঙ্গম দৃষ্টি -- তৃতীয় পর্ব

রঞ্জন রায়

    ভুল ভাঙল চারদিন পর রাত্তিরের টিভি নিউজে।
   
    ন্যাশনাল হাইওয়ে ৬৩তে জগদলপুর থেকে গীদম যাওয়ার পথে বাস্তানারে হাইওয়ের ওপর সকাল নটায় ছুটিতে আসামে নিজেদের ঘরে ফিরতে উৎসুক সি আরপি'র ছয়জন জোয়ানকে মাওবাদীরা ব্লাস্ট করে উড়িয়ে দিয়েছে। এর জন্যে ওরা দিন পাঁচেক আগে পিচ রাস্তায় পাঁচ ফুট নীচে ড্রিলিং করে পাইপের মধ্যে অ্যামোনিয়াম সালফাইড ভরে পুঁতে রেখে ছিল।আজ রিমোট ব্যবহার করতেই আতংক আর হাহাকারের পরিবেশ। গত রোববারই আমাদের কাফিলা সকাল ন'টার সময়েই বাস্তানার পেরিয়েছিল।

কয় সপ্তাহ পরে জগদলপুরের থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে হাইওয়ের ওপর বনবিভাগের বাংলোতে রাত্তিরে হামলা করে ভাঙচুর করে, আগুন লাগায়। পরদিন দুপুর বারোটায় আটটি মোটরবাইকে চড়ে ষোলজন পুলিশ রাত্রের হামলার তদন্ত করতে আসে। কাজ শেষ করে ফেরার পথে রেস্ট হাইউস থেকে মাত্র তিনশ' মিটার দূরে ওদের ওপর হামলা হয়। তাতে জনা আটেক মারা যায়। এদের মধ্যে থানাদার মহেন্দ্র সোড়ীর নাম গতবছর কেলেংগায় দুজন আপাতনির্দোষ গ্রামীণকে এনকাউন্টারের অছিলায় মারার জন্যে মাওবাদীদের হিটলিস্টে ছিল।

আরও পড়ুন...

খাম্মামের হারিয়ে যাওয়া মানুষজন - তৃতীয় কিস্তি

সিদ্ধার্থ মিত্র

বাস্তবিকই, নুড়ি পাথরের জন্য কিছুটা হলেও জল পরিশ্রুত। কিন্তু কতটা? বস্তারের বেশীরভাগ গ্রামে লোকে এমনই জল খায়। পাহাড়ি স্রোত ঝোরাগুলোর জল সমতলভূমির জলের চাইতে কম দূষিত হলেও কখনোই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। বস্তারের গ্রামে আজও ডায়েরিয়ার মড়ক লাগে। গতবছর ছত্তিসগড়ে প্রায় একশ'র ও বেশী লোক কলেরা হয়ে মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানতে পেরে যাতে মহামারি আখ্যা না দেয়, সেইজন্য কলেরা ছড়ানোর খবর গোপন রাখা হয়েছিল। এমন খবর উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মত ছত্তিসগড়ের গর্ব অবশ্যই খর্ব করতে পারতো।

আরও পড়ুন...

বরফি

প্রসেনজিত বর্মণ

এই বাহাত্তর সালেই বরফির সাথে শ্রুতি ঘোষ, অধুনা মিসেস সেনগুপ্তের দেখা। দার্জিলিংয়ের রাস্তার। বরফি তখন দামাল দস্যি যুবক, সাইকেলে বিহার করে, গাড়ির কাচে চুল আঁচড়ায়, বাচ্চা ছেলের চকলেট কেড়ে খেয়ে নেয়, বগল বাজিয়ে নাচে, ঘন্টাঘরের ডগায় চড়ে কাঁটা ঘোরায়। কী কিউট না? এমন ছেলের প্রেমে না পড়ে কি থাকা যায়? অ্যাঁ?
শ্রুতি দার্জিলিংয়ে আসা ইস্তক বরফি তার পিছনে পড়ে ছিলো। টয় ট্রেনে যেতে যেতে, খাওয়ার প্লেটে কল্পনার গোলাপ রেখে, চিঠি লিখে বরফি তার প্রেম নিবেদন করলো। তারপর দুজনে বন্ধু হয়ে গেলো এবং ঘোড়ায় চেপে ঘুরতে বেরোলো। এরপরে তারা সাইকেলে এবং টয়ট্রেনেও চেপেছিলো। তারপর একদিন শুভলগ্ন দেখে চুমু খেয়ে তারা পাকাপাকি ভাবে প্রেমে পড়ে গেলো।

আরও পড়ুন...

মহাভারত - দ্বাবিংশতি পর্ব

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ


এই তো।দুঃশাসনকে চকিত আক্রমণ করেছে ভীম।এর আগে আক্রমণ করে করে ফিরে যাচ্ছিল বলে দুঃশাসন ধরেই নিয়েছে সে এবারো তাই করবে।ক্লান্তি এবং অসতর্কতার ফসল নিল ভীম। হাঁটুর পিছনের দিকে একটা হাত,আরেকটা হাত বুক আর পেটের সীমান্তে দিয়ে দুঃশাসনকে মাটি থেকে তুলে ফেলেছে।নিজের পা গেঁথে নিয়েছে মাটিতে।যুধিষ্ঠির সমেত বাকী পান্ডবরা উল্লাসে চিৎকার করছে।দুর্যোধনের মুখ গম্ভীর।বাকী কৌরবরাও উৎসাহ দিচ্ছে দুঃশাসনকে হাত দিয়ে ভীমের মাথাটাকে সাপটে ধরার জন্য।বারবার হাত বাড়াচ্ছে দুঃশাসন।কিন্তু ভীম মাথা সরিয়ে নিচ্ছে ওই অবস্থাতেই।দুটো পক্ষ এখানেও স্পষ্ট।ক্রমশ নিজের উপরের হাতের জোর বাড়িয়ে দুঃশাসনকে নিজের হাঁটু থেকে মাটিতে আছড়ে ফেললো ভীম।একই সঙ্গে বাঁ-পাটা বাড়িয়ে প্রথমে কোমরে,তারপরে চেপে বসলো তার বুকের উপরে।প্রশংসনীয় দক্ষতা বটে এই মধ্যম পান্ডবের।শক্তি এবং বুদ্ধির মিশেল আছে এর কৌশলে।তবে এই কৌশল উত্তরাখন্ডের কৌশল না।দুঃশাসনরা কুস্তির এই ধারার সঙ্গে এখনো পরিচিত হয়নি।এ হল পূর্ব দেশের ধারা।নিষাদ,শবর,নাগেরা এই ধারায় লড়ে।জঙ্গলে বাঁচার মতন নিয়ম এই ধারায়।শত্রু নিজের থেকে অনেক দুর্বল হলেই একমাত্র সরাসরি আক্রমণ।না হলে তাকে প্রথমে শক্তিক্ষয় করাতে হবে।তারপরে হানতে হবে অতর্কিতে আক্রমণ।জঙ্গলের যুদ্ধের নিয়ম এ সব।কোথায় ভীম শিখলো জানতে হবে!

আরও পড়ুন...

ধানাই পানাই ১৬

রূপঙ্কর সরকার

গোমিয়া জায়গাটা আমাদের বাংলার বাইরে। তখন বিহারে ছিল, এখন বোধহয় ঝাড়খন্ডে। সেখানকার খবরের ফলো আপ রিপোর্টিং কোলকাতার কাগজে দীর্ঘদীন ধরে বেরোবে আশা করাই অন্যায়। কলকাতার সমাধান না হওয়া কেসগুলোই কি আর হয়। তবে হ্যাঁ, সেই যে আগের বার বললাম, ‘বিবস্ত্র’ টিবস্ত্র কিছু খুঁজে পেলে হয়, বেশ কিছুদিন ধরেই হয়। ‘সংবাদপত্রের সামাজিক ভূমিকা’ বা এই ধরণের কিছু আর্টিক্‌ল লিখে পুরষ্কার পাওয়া যেতে পারে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিন্তু এখন সংবাদ শুধুই বিক্রয় নির্ভর। আর শুধু সাংবাদিকরাই বা কেন, আমরা সবাই কেমন বিক্রয় নির্ভর হয়ে যাচ্ছি দিন কে দিন। বহুদিন আগে শোনা নচিকেতার গানটা মাথায় কেমন আটকে গেছে – “সবাই পণ্য সেজে, কাকে কিনবে কে যে, সারাদেশ জুড়ে সোনাগাছি। কেন বেঁচে আছি” –

আরও পড়ুন...

বস্টনে বঙ্গে (পর্ব চার)- যমদুয়ারে

বর্ন ফ্রী

আজকে এখানে এত দূরে বস্টনে বসেও কোথায় যেন আমি তোর সাথে এক হয়ে যাচ্ছি। তোর আর আমার অপরাধ যে একই, তুই আর আমি দুজনেই যাদের ভালবাসি তাদেরকে আমাদের পরিবার-সমাজ মেনে নেয় না। নিজের ভালবাসাকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাবা-মার পছন্দ করে দেওয়া জীবনসঙ্গীকে তুইও মানতে পারলি না, আমিও মানতে পারব না। আমাদের দুজনেরই চুলের মুঠি ধরে আমাদের বাবা-মা-ভাই-দাদা-বন্ধুরা বলে, হয় আমাদের বানিয়ে দেওয়া নিয়ম মেনে ভালবাস অথবা সরে যাও, মুছে যাও। আমি জানি না, আমার সমপ্রেমকে তুই মেনে নিতে পারতিস কি না, আমি জানি না, আমার প্রিয় দিদিরা মেনে নিতে পারবে কি না। আমার ভয় লাগে, যেদিন জানতে পারবে আমার দিদিরাও কি তোর দাদার মত হয়ে যাবে? ভুলে যাবে, আমাকে পায়ে করে ওরা ঘুম পাড়াতো, আমার মেয়ে সাজার ইচ্ছে হলে ছোটবেলায় ওদেরই লিপ্‌স্টিক-কাজল দিয়ে ওরা আমাকে মেয়ে সাজিয়ে দিত?

আরও পড়ুন...

হরিতকী ফলের মতন ...(প্রথম কিস্তি)

শিবাংশু দে

 এটা নিয়ে একটা তুমুল তর্ক চলতো জীবনানন্দের আসল উত্তরাধিকারী কে ? দাবিদার আমার প্রিয়তম দুই কবি, বিনয় ও শক্তি। তখন কবিতাকে বা বলা ভালো বিভিন্ন কবিতার ধারার উৎস হিসেবে একজন বড়ো কবিকে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রবণতা বড্ডো প্রকট ছিলো।  'রবীন্দ্র অনুসারী' বা অন্যরকম মূঢ় তকমাও ছিলো খুব সুলভ। একটু সরব হয়ে মানুষের দুঃখসুখ নিয়ে চর্চা করতেন যেসব কবি তাঁরা ছিলেন 'সংগ্রামী', কেউ ছিলেন মাতাল , আর কেউ বা  পদ্যবণিক। বুদ্ধদেব বসুর 'মতো' যাঁরা , তাঁরা 'বৌদ্ধ' আর বিষ্ণু দের কাছাকাছি ছিলেন 'বৈষ্ণব'রা। 

 
জীবনানন্দ যে ধারাটায়, অর্থাৎ পদ্যের যে প্রতিমায় শেষ পর্যন্ত স্থিত হয়েছিলেন তা কিন্তু একেবারেই 'ঘোর'সৃজনী পন্থা ছিলোনা। তাঁর জীবৎকালে তাঁর সম্বন্ধে যা কিছু বলা হয়েছে, পরবর্তীকালে দেখি  সবই সত্যের থেকে দূরে। তাঁর কাছে শব্দ, শব্দবন্ধ, রূপক, প্রতীক, প্রত্নচিণ্হ সবই আসতো অনেক শ্রমের পর। কিন্তু কবিতাটির অবয়ব স্থির হয়ে গেলে কোনও সীবনচিণ্হ খুঁজে পাওয়া যেতোনা। একজন প্রকৃত শিল্পীই পারেন এরকম। একজন সফল মৃৎশিল্পীর প্রতিমায় পাওয়া যায়না খড়ের ভঙ্গুর নির্মাণ বা একজন সফল কণ্ঠশিল্পীর তানকারি পরিবেশনায় থাকেনা অকারণ সরগমের চমক দেওয়া ভেল্কি।
সমর সেনের সঙ্গে সুনীল গঙ্গো  বা প্রেমেন্দ্র মিত্রের সঙ্গে অলোকরঞ্জন, এভাবে সমান্তরাল খোঁজার খেলা  ছিলো পদ্য পাগলদের মধ্যে।  জীবনানন্দের সঙ্গে বিনয় বা শক্তির সমান্তরাল টানা ছিলো অত্যন্ত সুলভ ব্যসন। এর কারণ কি যেহেতু জীবনানন্দ জীবৎকালে ছিলেন একজন দুরূহ কবি বা তদুপরি একজন নিজের মুদ্রাদোষে সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া এক মানুষ, তাই কলকাতার মহানাগরিক  মননের অংক তাঁকে নিজের সুবিধের জন্য একটা বিশেষ গোত্রে ফেলে দিলো। বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন, জীবনানন্দ একজন আদ্যন্ত কবি এবং কবিতা ছাড়া তিনি কিছু লেখেন না। অর্থাৎ,একজন সাবেক 'কবি'র  ছাঁচে ফেলা হলো তাঁকে, আলুলায়িত যুক্তিবোধ ও বলগাহীন আবেগতাড়িত শব্দের বাজিকর হিসেবে , যেটা হয়তো কবিদের সম্বন্ধে সমাজের অধিকাংশ লোকেরই ধারণা। কবিও যে সর্ব অর্থে  একজন শ্রমিক, সেই বোধটা বেশ বিরল। তাঁর ইতিহাসচেতনা, সামাজিক বোধির স্বরূপ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মাপের একজন ধীমান কবিও বুঝতে পারেননি। অন্য পরে কা কথা? তথাকথিত 'বামপন্থী' বিশ্লেষণে অবক্ষয়ের সাবেক ছাপ দাগানো হয়েছিলো  তাঁর উপর। তাই জীবনানন্দের প্রকৃত উত্তরসূরি হয়ে আসেন একজন 'পাগল' ও একজন 'মাতাল', দুই বরেণ্য উৎকেন্দ্রিক,  সরকারে দরকার নেই, তাই নিজের সুড়ঙ্গে  স্বচ্ছন্দ থাকাই তাঁদের  ভবিতব্য। তাঁদের স্ব আরোপিত ট্র্যান্সের মুগ্ধ অমরাপুরীতে স্বপ্ননির্বাসন দেওয়া হলো?   

আরও পড়ুন...

শহীদুল জহিরের গল্প ও আটকে-পড়া বাঙালির যুদ্ধ -প্রথম কিস্তি

মাজুল হাসান

 উপন্যাসে জহিরকে অনেক বেশি এককেন্দ্রিক ও সুসংহত মনে হয়। কারণ, এসময় তাকে পারম্পরিক সাজুয্যপূর্ণ কাহিনী নির্মাণ করতে দেখি ( এখানে ভাষা ও জাদুবাস্তবতার প্রায়গিত জৌলুসের প্রসঙ্গটি উহ্য রাখছি)। কিন্তু গল্পে? গল্পে মুক্তিযুদ্ধের বর্ণনায় এই জহিরই আবার অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত। আর সেখানেও চলে আসে জহিরের গল্প বলার নিজস্ব টেকনিকের প্রসঙ্গটি। “পারাপার”এর পর আমরা জহিরের যেসব গল্প পাই, তাতে গল্পকেন্দ্র এতো বেশি ওঠানামা করে যে, তাকে তখন নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় ফেলা যায় না। বলা যায় না—“গল্পটার পটভূমি হলো এইটা..” অথবা বলা যায় না—“তিনি এইটা বলতে চাইছেন”। এক্ষেত্রে জহিরের টাইম লাইন ভেঙে ফেলার প্রবণতা সাধারণ পাঠকদের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তবে যেহেতু জহিরের ভাষাটি বেশ সহজ এবং (সিনটাক্স) প্রায় কথ্য ঢঙের কাছাকাছি, সর্বোপরি একটা চাপা হিউমার তাতে বিরাজমান থাকে, সেকারণে গল্পটি না শেষ করেও পাঠক স্বস্তি পায় না। পাশাপাশি গল্পে নানান মাত্রার রূপক ও ইলিউশন ব্যবহার করে জহির গল্পকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গায় দাঁড় করান। 

আরও পড়ুন...

মহাভারত -- একবিংশতি পর্ব

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ

এক পূর্ণিমার রাত্রেই তাঁরা গিয়েছিলেন শ্মশানে। আলো না থাকলে শবনিরীক্ষণ করা যাবেনা। সঙ্গে করে প্রদীপ নেওয়াও চলবে না। তাই প্রকৃতির আলোতেই দেখতে গিয়েছিলেন শব। সদ্য আনা মৃতদেহর সঙ্গে থাকা শবযাত্রীদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেও কদমের বুদ্ধি। সাদা কাপড় জড়িয়ে অর্জুন বৃক্ষের ডালে বসেছিল সে। পূর্ণিমার রাত্রে সকল প্রান্ত যখন আলোয় ভেসে যাচ্ছে তখন ওই কাপড় লেগেছিল অপ্রাকৃত। হাওয়ায় ধীরে ধীরে দুলছে। ব্যাস গাছের নীচে কান্ডের আড়ালে দাঁড়িয়ে গোঁঙানির শব্দ করছিলেন। অরণ্যের প্রান্তের শ্মশানে শবযাত্রীরা ওই দেখে মৃতদেহ নামিয়ে দে ছুট! দুজনে তখন ধীরে ধীরে এসে দেখতে শুরু করেছিলেন শবটি। না। ব্যবচ্ছেদ করা হয়নি তাঁদের। সবে ছুরিটি বের করতেই শ্মশানের পাহারাদার এবং ডোম দুজনেই শবযাত্রীদের আহ্বানে এসে পড়েছিল। দূর থেকেই তাদের হাঁক এবং আসার শব্দ শুনেই ছুট দিয়েছিলেন তাঁরা। পিতার কানে খবর গেলে রক্ষা নেই। আসলে শ্রেষ্ঠীর শব ছিল। তাই অর্থের লোভে শ্রেষ্ঠীর আত্মীয়রাই ফিরিয়ে এনেছিল বাহকদের। নিজেরাও ফিরেছিল। এই খবর কোনো ভাবে পাঁচকান হলে শ্রেষ্ঠীর ছেলের বদান্যতা থেকে বঞ্চিত হবে তারা। শবযাত্রীরা যে এদের নিয়ে ফিরে আসবে এতটা তাঁরা ভাবেননি।  দৌড়তে গিয়েই কদম পড়েছিল একটি গর্তের মধ্যে। সেই গর্তে পড়ার সময়েই তার থুতনিতে লাগে চোট।

আরও পড়ুন...

ধানাই পানাই ১৫

রূপঙ্কর সরকার

ডারউইন সাহেব বলেছেন যোগ্যই টিকে থাকবে, সারভাইভাল অফ দা ফিটেস্ট। এই যেমন ডোডো পক্ষী, অ্যাত্তোবড় চেহারা, তায় আবার উড়তে পারেনা। মরিশাসে মানুষ নামল, নিজেরা মুগুর দিয়ে মেরে কিছু খেল, তাদের পোষা কুত্তারা বাকিদের সাবড়ে দিল, তারা পালাতে শেখেনি, সব শেষ। সারভাইভ করেনি, ফিট নয়। সেই যে অক পাখি, ব্যাটাবেটিদের সতীপনার চূড়ান্ত। তেনারা বৈধব্য পালন করতেন। বর বা বৌ মরলে আর বিয়ে করব না। এবার জাহাজের নাবিকরা জাস্ট ফাজলামি করেই কয়েকটা কে গুলি করতে লাগল। যাদের বৌ বা বর মরল, তারা চির বৈধব্য পালন করতে লাগল। নো ছ্যানাপোনা, নট কিচ্ছু। তেনারা শেষ হয়ে গেলেন চিরতরে। সেই যে প্যাসেঞ্জার পিজিয়ন, পায়রাদের মধ্যে সবচেয়ে রংবাহারী। এক এক দল যখন উড়ত, ঝাঁকটা এক মাইল চওড়া আর তিন মাইল লম্বা হত। সংখ্যায় তারা ছিল প্রায় পঞ্চাশ কোটি । উড়ন্ত পাখিগুলোকে আমেরিকার মোটা মোটা ইয়াঙ্কিগুলো ছর্‌রা বন্দুক দিয়ে পুটুস পুটুস মারত। ভাবত, অত বড় ঝাঁকের মধ্যে দশ বারোটা মারলে আর কি হবে। মজা হচ্ছে, সবাই তাই ভাবত আর তাই সবাই দশ বারোটা করে মারত। অত খেতেও পারতনা, মাঠে ময়দানে পড়ে থাকত। সব শেষ হয়ে গেল মাত্র কয়েক বছরে। সেই যে ইলিশ, আগে গঙ্গায় পদ্মায় ঝাঁকে ঝাঁকে – নাঃ এবার বাড়াবাড়ি করে ফেলছি, অন্য কথায় আসি।

আরও পড়ুন...

কুডানকুলাম থেকে - প্রথম কিস্তি

মুথুভেল জানাকরাজন, সতীশ এবং জোসেফ জন সুন্দর-এর লাইভ রিপোর্ট

শুধু কাঁদানে গ্যাস নয়, গুলিও চলল পরমাণু বিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর। থুথুকুড়ি-র মানাপাদু গ্রামে পুলিশ অ্যান্থনি সামি নামের এক প্রতিবাদী মৎস্যজীবীকে পেটে গুলি চালিয়ে মেরে ফেলেছে। অসমর্থিত সূত্রে জানা যাচ্ছে, একজন বাচ্চা মেয়ে মারা গেছে পদদলিত হয়ে। একবছর আগে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এই প্রথম পুলিশ আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল ইদিনথাকারাই গ্রামে ঢোকে এবং প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তল্লাসী চালায় উদয়কুমার এবং অন্যান্য নেতাদের খোঁজে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যদি কারোর ঘরে উদয়কুমারদের পাওয়া যায়, সঙ্গে সঙ্গে তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হবে। অসমর্থিত সূত্রে এও জানা যাচ্ছে, উদয়কুমারদেরকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল, কিন্তু মাথা নিচু করে নেওয়ার কারণে তারা বেঁচে যায়। সারা দক্ষিণ তামিলনাড়ু জুড়ে ইতিউতি প্রতিবাদের খবর শোনা যাচ্ছে, পরমাণু বিরোধী আন্দোলনের ওপর এই পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে। প্রায় ৫০ জন গুরুতর আহত বলে জানা যাচ্ছে। ইদিনথাকারাই চার্চের সামনে ১৪ জন অনশন শুরু করেছে বলে খবর। কুদানকুলামে সরকার সমস্ত ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ফলে কুদানকুলাম থেকে সরাসরি খবর পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন...

বিভ্রম – আমি যেমন ভাবি

সুকান্ত ঘোষ

অনেক বই একসাথে পড়ার মূল সুবিধা হল - অনেক বই একসাথে পড়া যায়। আর প্রধান অসুবিধা খুব মন দিয়ে পড়তে হয় - তা না হলে গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা। উপরের বইয়ের নামগুলি দেবার একটা কারণ আছে যেটা পরে বলব, কিন্তু আদতে যেটা চাইছি সেটা হল একটা বিভ্রান্তিমূলক বা সূচক পরিবেশের সৃষ্টি করতে। এটা সহজ কাজ নয়, আমি শত চেষ্টাতেও আপাতত পারছিনা কারণ যেদিন পারব সেদিন আমি বিখ্যাত লেখক হবার প্রথম সোপানে পা দিয়ে ফেলব। বিখ্যাত লেখক বা কবি হবার প্রাথমিক শর্তই হল বিভ্রান্তি তৈরী করার ক্ষমতা অর্জন করা। এখন প্রশ্ন হল বিখ্যাত কি জিনিস এবং কারাই বা লেখক আর কারাই বা কবি। হুমায়ুন আহমেদকে নাকি একবার একুশে বই মেলায় একজন ধরেছিল এবং নাছোড়বান্দা হয়ে স্বীকার করিয়েছিল, তিনি কবিতা লাইনে দাগ না কাটতে পেরে গদ্য লাইনে শিফট করে গ্যাছেন! বেশীর ভাগ কবিই নাকি এই লাইন শিফটের ফসল। খুবই সত্যি কথা, শুধু তাই নয় – বড় বড় (বিখ্যাত) গদ্য সাহিত্যিকও এই শিফটের ফসল বলেই আমার মনে হয়। তবে অনেকে আছেন শিফট না করেও কোনদিকেই দাগ কাটতে পারেননা এবং vice versa।

আরও পড়ুন...

দুটি দৃশ্য কবিতা

মৃগাঙ্কশেখর গঙ্গোপাধ্যায়

http://www.guruchandali.com/default/images/000_blog_mri/992.JPG


পারভার্শন

 

http://www.guruchandali.com/default/images/000_blog_mri/mri992.jpg

সোল


প্রিয়মুখ শরতের মেঘে

সুমন মান্না

প্রিয়মুখ শরতের মেঘে
আলস্য অনুরোধ পেলে
মুখ টিপে, পাশ ফিরে,  জেগে।

কিবা দিন উচাটন তোলা
ফুলছাপ চাদরে দরোজা
দমকা বাতাস ছুতো খোলা ।

আরও পড়ুন...

তিনটি কবিতা

উদয়ন ঘোষচৌধুরি

ঘুরেছি প্রেতের মত জ্বলনে স্খলনে
প্রত্নপোড়া মায়া এসে ঘিরেছে শরীর
মাংস-শোধনে মেখে নির্বাপিত রোদ
পতঙ্গকরোটি ঘিরে অনুপম খনিজ খাদক
পুরুষ্টু ওষ্ঠে, দেখি, ক্লেদ লেগে আছে
গর্ভনুনে ছেয়ে আছে সামুদ্রিক জোঁক
ঘোষিত-আঘাতে তন্তুময় পুরুষ-পাবক
ঋতুতাপসীরা আজ স্নাত ও উভলিঙ্গ হোক!

আরও পড়ুন...

মাতাল পঞ্চবিংশতি

আষিক

'তারে খুঁজিয়া পাইবে' এমন কথা পেয়ে
দেখো, মাতাল হয়ে কেমন বসে আছি
যদি যন্ত্রণাতে সঙ্গী হতে চেয়ে
আমি যন্ত্রণাকে সঙ্গে করে বাঁচি?

প্রেম ভীষণ ভালো। ভেঙে যাওয়াও ভালো।
শুধু খারাপ লাগে, নিজের ভেঙে পড়া
যেন বমির মতো, থকথকে আঠালো
কিছু সত্যি মিথ্যে কথার নড়াচড়া

আরও পড়ুন...

মহাভারত -- বিংশতি পর্ব

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ

বালকদের পরনে ছিল চীরবস্ত্র। সেই অবস্থায় তারা যখন এসেছিল তখন বাকি সকলের মতই দুর্যোধনও দেখেছিল। তিনটের উচ্চতা তারই মত। বাকি দুটো এখনো বেশ কিছুটা ছোট তার চেয়ে। সবচেয়ে ভাল গড়ন ভীমের। তারপরে অর্জুন। অর্জুনের চেহারা আর ভীমের মধ্যে পার্থক্য হল ভীমকে দেখলেই মনে হয় সে খাদ্যরসিক। স্নেহ পদার্থ কিছু বেশি। অন্যদিকে অর্জুনের চেহারার মধ্যে আছে দৌড়বীরের মতন ছিপছিপে ভাব। যুধিষ্ঠিরের চেহারাতে সবলতার চেয়ে অনেক বেশি আছে সৌকুমার্য্য। নকুল আর সহদেব দেখতে অনেকটা একই রকম। সহদেবের মুখে চোখে আছে সবচেয়ে বেশি লাবণ্য। তার চোখও দেখার মতন। সকলেরই চোখের গড়ন টানাটানা। ভারী অক্ষিপল্লব সহদেব ছাড়া কিন্তু কারোর নেই। সহদেবের মতই টানা ভ্রু আছে অর্জুনের। কিন্তু ধারালো মুখের মধ্যে আছে একধরণের হালকা তাচ্ছিল্য। সেই তাচ্ছিল্যই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। সহদেব সুন্দর হলেও তার মধ্যে এই বাড়তি টানটা নেই। বাকি তিনজনের মধ্যে নকুল আর যুধিষ্ঠিরের চোখের মধ্যে আছে শান্ত ভাব। কিন্তু নকুলের আচরণে রয়েছে কিঞ্চিত আড়ষ্টতা, যা আবার নেই যুধিষ্ঠিরের মধ্যে।

আরও পড়ুন...

ধানাই পানাই ১৪

রূপঙ্কর সরকার

কী আছে নগ্ন নারীদেহে ? সেই আদ্দিকালে লুকাস ক্র্যানাস দ এল্ডার থেকে শুরু করে, টিশিয়ান, এল গ্রেকো, বত্তিচেল্লি, রাফায়েল, দা ভিঞ্চি, মিচেলেঞ্জেলো, সবাই। ভ্যানগগ, মনে, পিকাসো, আমাদের হুসেন, বিকাশ ভট্টাচার্য, সনাতন দিন্ডা, কে আঁকেননি ন্যুড ? কিন্তু কেন ? সবই কি ঈস্থেটিক ? রবীন্দ্রনাথও বাদ যাননি। যদিও তাঁর বহুমুখী প্রতিভার মধ্যে ছবি আঁকাটাকে গায়ের জোরে ঢোকানো হয়েছে। এবার কিছু ব্যোমকেশ ঝাঁপিয়ে পড়ল, তারা বলল, ছবিটার পোজিশন দেখে প্রত্যয় হচ্ছে, এটা জানলার বাইরে থেকে আঁকা এবং ছবির মডেল ঘরের মধ্যে মাটিতে শুয়ে ছিলেন। এ কাদম্বরী দেবী ছাড়া কেউনা। মডেল ছাড়া ন্যুড হয়না ? ভারতে একজন বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন, কে এইচ আরা। তিনি ন্যুড আঁকতেন, একেবারে রগরগে ন্যুড। বহু পুরষ্কার পেয়েছেন, সারা পৃথিবী জুড়ে প্রদর্শনী হয়েছে, অথচ তিনি প্রথাগত আঁকার শিক্ষা পাননি, ছিলেন একজন মোটর মেকানিক। একটা ইন্টারভিউ পড়েছিলাম, তাঁকে প্রশ্ন করা হল, আচ্ছা এত যে ন্যুড আঁকেন, আপনার মডেল হয় কে ?  তিনি বললেন, ওমা, এতে আবার মডেল লাগে নাকি, আমি তো চোখ বুজলেই পষ্টো এদের দেখতে পাই।

আরও পড়ুন...

"নতুন সরকারঃ কিছু প্রস্তাব" শীর্ষক একটি খসড়া গুরুচন্ডালিতে প্রকাশিত হয় ২০১১ সালের জুন মাসে। তার অংশবিশেষ অন্য সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয় এবং সে নিয়ে গুরুচন্ডালির বাইরেও একটি চমৎকার বিতর্ক হয়। সেই বিতর্কের অংশবিশেষ প্রকাশিত হল এবারের বুলবুলভাজায়। যেহেতু বিতর্ক, তাই লেখাগুলি কালানুক্রমিক ভবেই সাজানো হল।

উচ্চবর্গীয়ের নীতি-নির্ধারণ

অর্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

গত চৌত্রিশ বছর ধরে আমরা ঐ 'সুদিন'-কেই 'বিপ্লব' বলতে শিখেছি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার নাম বদলে হয়েছে 'সুদিন'। নাম যা-ই হোক, সুদিন বা বিপ্লব আমাদের কাছে এক স্ট্যাটিক বা স্থির ক্যাটেগরি, অনেকটা তিথি মেনে আসা পুজো-আচ্চা-র মত। ফলে, আমাদের ভাবনা, চিন্তা, দায়বোধ, রাজনীতি সবই আপাতত-র জন্য। যবে 'সুদিন' আসবে তবে আমাদের ভাবনা-চিন্তাও ঠিক বদলে যাবে, এই বিশ্বাসের শিকড় অত্যন্ত গভীর। আজকের আপাতত-র ভাবনা, রাজনীতি যদি সেই সুদিনকে সক্রিয়ভাবে পিছিয়ে দেবার কাজ করে চলে, তাহলেও সেই বিশ্বাসের ভিত টলানো যায় না।

আরও পড়ুন...

“...ভাবনার জন্যে ভাবনা হয়”

অর্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সরকারি দৃষ্টির দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে উন্নততর গভর্নেন্স-এর দাবি উঠেছে, যা দেখে মনে হয় যেন মিশেল ফুকো-র মৃতদেহের সৎকার-গাথা। অসংগঠিত শ্রমিক, কৃষক, আরো অন্যান্য সকলকে সরকারি পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যায়গায় যায়গায় ক্যামেরা লাগিয়ে আর আরো সব প্রযুক্তির সাহায্যে, উন্নত ম্যানেজমেন্ট-জ্ঞানের সাহায্যে সরকার (বা সরকারের হয়ে বরাত পাওয়া অন্য কেউ) নজরদারি করবে, চোখে চোখে রাখবে। তাতে নানান স্তরে দুর্নীতি কমবে। দক্ষতা দিয়ে সমানাধিকার উৎপন্ন করার এ এক অসাধারণ কল, তা সে কল চলুক আর না-ই চলুক। প্রাতিষ্ঠানিকতা দিয়ে দুর্নীতি দূর করার প্রত্যয়ের ভিতটি যে নড়বড়ে শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার panopticon বানিয়ে এক দক্ষতর controlled society বানানোর তোড়জোড় আমাদের চিন্তার দৈন্যের এক চোখ-ধাঁধাঁনো প্রকাশ।

আরও পড়ুন...

ভাবনার নিষ্ক্রিয়তা, নিষ্ক্রিয়তার ভাবনা

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

মার্কসবাদী হই বা না হই, আমরা যখন আমাদের খসড়া নীতিমালাটি তৈরি করি, তখন ঠিক এই ‘আশু’ কর্তব্যের কথাটিই আমাদের মাথায় ছিল। অন্য কিছু না। আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গবাসী হন, আপনি ডান হোন বা বাম, ব্যবস্থাপন্থী বা ব্যবস্থাবিরোধী, প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী, কিছু ন্যূনতম জিনিস বোধহয় এখনই করা যায়, যা এই ব্যবস্থার মধ্যেও মানুষকে কিছু স্বস্তি দেবে। এবং সেই কাজ করা যায় এই ব্যবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে, বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীর পার্থক্য নির্বিশেষে। আমাদের খসড়ায় ঠিক সেই টুকুই আছে। এর পরে বাকি কথোপকথনের চিন্তা, বাকি তাত্ত্বিক আদানপ্রদান তো করাই যাবে। সে প্রস্তাবও খসড়াতেই আছে। অর্পিতা এই আদানপ্রদানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং করছেন। সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন...

ধানাই পানাই ১৩

রূপঙ্কর সরকার

স্বামীজি বইটা লিখেছেন। তা বেশ করেছেন,  তবে ছবিগুলো না দিলেই পারতেন,  তাও খানিক বিশ্বাসযোগ্য হত। অবশ্য বেশ কিছু পাবলিক তাতেও গোল খেয়েছে। তখনকার লোকজন বড় সরল ছিল। একজন আমায় তেড়েফুঁড়ে বলল, ছবিগুলো দেখেছিস? এর চেয়ে বড় অকাট্য প্রমাণ আর কী হতে পারে। আমি বললাম, ভাইটি, আমার নিজের একটা ফোটো ল্যাব আছে জানিস তো? কত সুপারইম্‌পোজ, মাল্টিপ্‌ল এক্সপোজার করলাম, তুই আমাকেও ছবির গপ্পো শোনাবি? তখন অবশ্য ‘মরফিং’ শব্দটা শুনিনি, টেকনোলজিও অনেক পেছনে। তবু ছবিগুলো দেখে ভাবতাম, কেন উনি এগুলো দিলেন। একে তো সবই বিদেশি ছবি, তাও আদ্যিকালের। মানে, তখনকার লোক যত বোকা, আরও আগের লোক আরও বোকা ছিল, এগুলোও গিলত। কিন্তু ওদিকে, লার্জ ফরম্যাট ক্যামেরায় সরাসরি ফিল্মের ওপরই সুপারইম্‌পোজ করা যেত। ল্যাব অবধি যাবার দরকার পড়তনা। প্রথম কথা ভূত বলে কি কিছু আছে? দ্বিতীয় কথা, যদি থাকে। তাদের কি ছবি তোলা যায়?

আরও পড়ুন...

মহাভারত -- উনবিংশতি পর্ব

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ

  কুন্তী রুদ্ধনিশ্বাসে শুনছেন। এই জন্যই যাননি তিনি আমন্ত্রণে। এই বোঝাপড়া তাঁর দরকার। অন্যদের উপস্থিতিতে হবেনা। কাল রাত্রে ব্যাসদেব রাজনীতি, ভবিষ্যৎ এসব নিয়ে যা বলেছেন তার জন্য সকলের আগে চাই এই বোঝাপড়া। এই যুদ্ধটা করতে গেলে গৃহের মধ্যে শত্রু থাকলে চলবে না। না, যা ভেবেছিলেন তা নয়। কম কথা বলা সর্বাণী যখন বলে তখন সত্যি সত্যি বলে। শোনা ছাড়া কোনো উপায় থাকেনা। নরম, সহজ গলায় কঠিনকে এমন করে বলা কি তাঁর পক্ষেও সম্ভব ছিল? এবারে মুখ তুলে তাকালো তাঁর দিকে সর্বাণী ...

আরও পড়ুন...