গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

জাল

সিদ্ধার্থ সেন

১৯৪৬ সালে জাঁ পল সার্ত্র L'Engrenage নামে একটি চিত্রনাট্য লেখেন। প্রথমে নাম দেওয়া হয়েছিল --'নোংরা হাত'। তখনো একই নামের সার্ত্রের অতিবিখ্যাত নাটকটি প্রকাশিত হয়নি। যাই হোক, সিনেমাটা আর হয়নি। এবং সার্ত্রের অন্যান্য রচনার তুলনায় এই রচনাটা একদম-ই জনপ্রিয় হয়নি। ফ্রান্স এবং জার্মানীতে এটার নাট্যরূপ মঞ্চস্থ করা হয়, এবং খুব তাড়াতাড়ি-ই বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরা সমালোচনায় ফালাফালা করে ছাড়েন নাটকটাকে। তার কারণ-ও ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার মুখে সার্ত্র এমন একটা চিত্রনাট্য লিখলেন যা গোটা বিপ্লব-প্রক্রিয়াটাকেই প্রশ্ন করে বসেছিল। তখন সোভিয়েতের আকাশচুম্বী সাফল্য এবং বিপ্লব স্টালিন সাম্যবাদ এসবের লোককথা প্রায় অতিকথায় পরিণত হয়েছে। ফ্রান্সের বামপন্থী হেজিমনিতে (সার্ত্র নিজেও যার অঙ্গ ছিলেন) স্বভাবতই তখন এমন একটি শিল্পপ্রয়াস বেশ অস্বস্তিকর যা ইঙ্গিত করেছিল যে বিপ্লব তার সন্তানদের গিলে খাচ্ছে।
বর্তমান নাটকটি L'Engrenage থেকে বহুলাংশে অনুপ্রাণিত। নাটকটা লেখার জন্য মার্ভিন সেভিলের করা মুল রচনার ইংরেজি অনুবাদ 'In the Mesh'-এর সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন...

নেট-এ লেখালেখি - বৈধতা ও এক্তিয়ার

সুমন মান্না

এখন এই এজমালি উঠোনে বলা সব কথা আমায় উদ্দেশ্য করে নয়, আমার বলাও নয়, বলাই বাহুল্য। সেখানে উচ্চারিত কোনো শব্দপ্রয়োগ কাউকে আঘাত করলে – ঔচিত্যবোধ বলবে -বাপু হে, এগিয়ে যাও – প্রতিবাদ রাখো। কিন্তু তা তো করিনা বেশিরভাগ সময়ে। প্রতিবাদ খুব বেশি হয়ে ওঠে না, সেই অনীহার পিছনে এক লোভ থাকে। আমার আড্ডার মৌতাত নষ্ট হয়ে যায় যদি। আরো একটা ব্যাপার থাকে – সেটা হল যাকে বা যাদের উদ্দেশ্যে বলা কথা ভালো লাগেনি, তার হয়ে বলতে গেলে যদি তার মনে হয় তার বা তাদের ব্যক্তিসত্তাকে অহেতুক করুণা দেখাচ্ছি – যদিও এটা অযুহাত হিসেবে রাখা গেল এখানে।

আরও পড়ুন...

ধানাই পানাই ২

রূপঙ্কর সরকার

আমি ছেলেবেলায় ক্লাস ফোর অবধি লেক ভিউ স্কুলে পড়েছি। স্কুলটা মোটেই পাতে দেওয়ার মত ছিলনা। আমার মামাবাড়ি তখন ছিল হিন্দুস্থান পার্কে, আমি তো সে বাড়িতেই মানুষ(?)।আমাদের পাশের বাড়ি ছিল বাঙ্গালবাড়ি, সে বাড়ির ছেলে মেয়েরা ছিল, মীরা, ইরা, গোপাল, বুড়ি। এরা পিওর বাঙাল ভাষায় কথা বলত। একদিন মীরাকে ডেকে বাবা জিজ্ঞেস করল, অ্যাই তুই কোন ইস্কুলে পড়িস রে? মীরা বলল, লেক ভিউ। নামটা বেশ হাই ফাই, বাবা বলল, ইস্কুলটা ভাল? মীরা বলল, হ্যাঁ, খু-উব ভাল। ওপিনিয়ন নেবার ব্যাপারে বাবা খুব লিবারাল ছিল। গয়লাকে জিজ্ঞেস করত, তুমারা দুধমে জল টল নেই হ্যায় তো? গয়লা দু কানে হাত দিয়ে বলত, রাম রাম, কি যে বোলেন –।

আরও পড়ুন...

পোনু-মনুসংহিতা

প্রণব কুমার দাস

আর সেসব কী দণ্ড রে মশায়, পড়লে আপনার দাঁতকপাটি লেগে যাবে। পাপ করে ভেবেছেন মনুর পৃথিবীতে রেহাই পাবেন, সেটি হবার নয়। তা রাজাই দণ্ড দিন বা নিজে নিজেই প্রায়শ্চিত্ত করুন। একটা শুনুন। গুরুপত্নীর সঙ্গে ইয়ার্কি দিয়েছেন, এখন লোহার তৈরী জ্বলন্ত এক নারীমূর্তি আলিঙ্গন করে আগুন গরম লোহার খাটে শুয়ে থাকুন, যতক্ষণ না প্রাণবিয়োগ হচ্ছে। আগুনে এলার্জি আছে বলছেন। তাহলে জাপানী স্টাইলে হারাকিরি (ওই তার কাছাকাছি আর কি) করতে পারেন, হাঁটতে হবে কিন্তু নৈঋতদিকে (ন য়ে ঐ, ঋ তে রেফ, ত)দিকে। অবশ্য আপনি যদি কোমলমতি হন, এইসব কাটাকুটি পছন্দ না করেন তাহলে তিনমাস যাউ (রেসিপি নেই) খেয়ে চান্দ্রায়ণ ব্রতও করতে পারেন।

আরও পড়ুন...

পাহাড়ে গ্রেনেড হামলাঃ প্রাসঙ্গিক প্রশ্নসমূহ

রোনাল্ড চাকমা*

উপরন্তু রক্তাক্ত হামলার ঘটনাটি যেহেতু পিসিপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে, সেহেতু এতে গভীর এবং সুদূর প্রসারী উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে বলে মনে করি। … কারণ পিসিপি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং এই সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা আমরা সবাই জানি। তাই হয়তো তৃতীয় কোনো অশুভ শক্তি আমাদের ভাতৃঘাতি সংঘাতের সুযোগ নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক হামলার মধ্য দিয়ে পিসিপির মতো লড়াকু সংগঠন তথা আমাদের সংগ্রামকে বিপথগামী কিম্বা স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন...

শ্রমিক হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি আবেদন

আমরা, দুর্গাপুর ই এস আই হাসপাতালের চিকিৎসকবৃন্দ, চিকিৎসাক্ষেত্রে বহিরাগত এবং দুর্বৃত্তদের নিরন্তর এবং অসহনীয় উৎপীড়নের বিষয়ে সাধারণ জন সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সাধারনভাবে প্রায় সমস্ত সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রকেই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল পরিকাঠামো নিয়ে চিকিৎসা করতে যেয়ে জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। ই এস আই-এর ক্ষেত্রে এই অত্যাচার অমানবিক পর্যায়ে পোঁছে যাবার দুটো নির্দিষ্ট কারণ আছে। এক, শ্রমিক এবং কর্মচারীর দেওয়া মাসিক চাঁদার পরিবর্তে  ই এস আই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়। দুই, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করার জন্য  ই এস আই বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করেছে যার মাধ্যমে বিমাকারিরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সব রকম চিকিৎসা পেতে পারেন।

আরও পড়ুন...

অনুশাসনকাল

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

যা বোঝা যাচ্ছে, অনুশাসনের সময় ক্রমে আসিতেছে। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই অনির্দিষ্টকালের জেলবাস। কার্টুন আঁকলেই একরাত্রি হাজতযাপন। পুলিশেরও রেহাই নেই। অনুমতি ব্যতিরেকে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো, ধর্ষণকে ধর্ষণ বললেই সিধে ব্যারাকপুরে ট্রান্সফার। অনেক অকর্মণ্য অপোগন্ডোই কদিন আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মাথায় দুটো শিং এঁকে আর মুখে দুটো শ্বদন্ত এঁকে ফেসবুকে সেঁটে দিয়ে অপার আনন্দ লাভ করছিলেন, আর এতদ্বারা কী প্রমাণিত হইল, জিজ্ঞাসা করলেই বুক ঠুকে বলছিলেন "পেইড ব্যাক ইন হিজ ওন কয়েন"। তাঁদের ফুর্তির দিন শেষ।

আরও পড়ুন...

২০১২- আবার তোতা কাহিনী

শ্রী লামা

বিদূষকেরা বলিল, “মহারানী, সত্য কথা যদি শুনিবেন তবে ডাকুন বিদ্বজ্জনদের, পণ্ডিতদের, লিপিকরদের, ডাকুন যারা উন্নয়ন করে এবং উন্নয়ন তদারক করিয়া বেড়ায়। নিন্দুকগুলো ফেসবুকে লগ ইন করিতে পায় না বলিয়াই মন্দ কথা বলে।”

জবাব শুনিয়া রানী অবস্থাটা পরিষ্কার বুঝিলেন, আর তখনি সাংবাদিক সম্মেলন ডাকিয়া বিদূষকদের একশোতে একশো নম্বর দেওয়া হইল।
 

আরও পড়ুন...

অসুখ সারান

ঈপ্সিতা পালভৌমিক

সেখানেও এখন বিধি বাম করে রেখেছেন, ওবামা সাহেব। এখন gay কি homosexuality টাইপ করুন, পাতার পর পাতা জুড়ে এখন তাঁর সমকামী বিবাহকে স্বীকৃতিদানের খবর, আর তাই নিয়ে সমকামীদের হুল্লোড়বাজি । হপ্তা দুই ধরে হট টপিক। আর আরো তো আরো, homosexuality + cure দিয়ে সার্চাতে গেলে আরোই গণ্ডগোল। সমকামীদের ‘অসুখ’সারানো যেত বলে যে স্টাডি দাবি করেছিল, তা কেন ভুল, এসব বলে এতদিন মনোবিদদের পাতার পর পাতার কাউন্টার তো ছিলই, আপনাকে কনফিউজ করার জন্য সবরকম উপকরণ সহ। দুদিন আগে খোদ সেই স্টাডির মূল কত্তাই বোম ফেলেছেন। ক্ষমা চেয়ে। রীতিমতন কান্নাকাটি করে। নিজেই কইছেন, স্টাডি নাকি ভুল ছিল। ক্ষমা চেয়েছেন আলাদা করে সেই সমকামীর কাছেও যিনি নাকি ওই সারানোর থেরাপি নিতে গিয়ে আত্মহত্যা করতে বসেছিলেন।

আরও পড়ুন...

আমাদের অন্য সমস্ত স্বপ্ন ভাষার সঙ্গে বিদেয় নিয়েছে-- তারা সবাই শহীদ হয়েছে

সুশান্ত কর

শিলচরে বড় হবার সুবাদে ছেলেবেলা থেকে দেখতাম রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন কতক পরেই পাড়ায় পাড়ায় আরেকটি দিন উদযাপনের ধুম পড়ে যেত, সেটি ১৯শে মে। ১১ শহীদের ছবি একটা চেয়ার বা অস্থায়ীভাবে তৈরি বেদীর উপর রেখে ফুলে ধূপে সাজিয়ে রাখা হতো, কেউ কেউ পাশে বাংলা দেশাত্মবোধক গান মাইকে বাজিয়ে দিত, কেউ নয়। এই রীতিতে দিবস উদযাপনের রীতিটি বোধ করি শিলচরীয়, বা কাছাড়ি ব্যাপার। কেননা, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাতে ওমন দেখা যায় না। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে বা নেতাজী জয়ন্তীতে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রভাত ফেরি হতো, স্কুল থেকেই যোগ দিতে বলা হতো। কিন্তু ১৯শের কোনো পথ চলাতে গেছি বলে মনে পড়ে না। কলেজে গিয়ে জেনেছি যে ১৯শের দিনে খুব সকালে শিলচর শ্মশানে জড়ো হওয়া আর বিকেলে গান্ধিবাগ শহীদ বেদীতে –একটি নিয়মিত প্রথা।

আরও পড়ুন...

ধানাই পানাই ১

রূপঙ্কর সরকার

এ লেখার নাম, ‘ধানাই পানাই’। দু হাজার তিন সাল থেকে ডায়েরির পাতায় হিজিবিজি লিখে গেছি, প্রধানতঃ নিজেই অবসরে পড়ব বলে। ডায়েরির পাতায় লিখলেও ডায়েরির মত ক্রোনোলজি নেই। মাঝে মধ্যে তারিখের উল্লেখ থাকলেও আগের বা পরের ঘটনা উল্টে পাল্টে গেছে। আমার তখন গোটা দুয়েক বাসস্থান ছিল। একটা ফ্ল্যাট ছিল, যাতে আমার পরিবারের অন্য সদস্যরা থাকত, আর আমার পৈত্রিক বাড়িটার তখন জরাজীর্ণ দশা, সেখানে থাকতাম আমি একা। কিছুটা সময় কাটানোর তাগিদেই লিখতে শুরু করেছিলাম ধানাই পানাই।

আরও পড়ুন...