ডাকিনি-তন্ত্র

ডাকিনি-তন্ত্র-১
অনির্বাণ বসু

কবি বলেছেন "কেন্দ্রের ছিল সোনালী বেন্দ্রে, রাজ্যে রক্ষাকালী'। আমরা জানি কালী দুইপ্রকার - রক্ষাকালী ও শ্মশানকালী। এটা কমনসেন্স। এ রাজ্যকে যারা শ্মশান করতে চাইছেন তারা শ্মশানকালীর কাছে যান বা চুপ করে থাকুন। রক্ষাকালীর কাছে যাবার সব থেকে ভালো উপায় হল তন্ত্র। তন্ত্র অনেকরকম - সমাজতন্ত্র, দলতন্ত্র ইত্যাদি। সেইসব তন্ত্রে এতদিন কিছু হয় নি। আসল তন্ত্র হল ডাকিনি-তন্ত্র। এতে মদ, মেয়ে ও মদন থাকে। খুব কঠিন পথ। তিনটে একসাথে করলেই সর্বনাশ। অনেকটা সেই বাঘ ছাগল আর পানের ধাঁধার মত। যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছেন তাদের জন্য এই ধাঁধার অন্য ভার্সান আছে। আমরা সেইসব তর্কে যাবো না, এখন টাইম দিতে হবে, বিশ্বাস রাখতে হবে।

আবার পয়েন্টে ফিরি। তন্ত্রকে বামাচার বলা হয়। কারণ এতে বামাও থাকে, চারও থাকে। বামা আসে বাম থাকে। ফলে, এর মধ্যে পুরোনো চক্রান্ত থাকতেই পারে। কিন্তু, কে না জানে আমরাই আসল বাম। ফলে, সেই নিয়মে সামন্ততন্ত্রকে উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র, দলতন্ত্র ইত্যাদি আসে। আর শেষকালে সব তন্ত্রকে উচ্ছেদ করে ডাকিনি-তন্ত্র আসে।

এটাই ইতিহাসের গতি। রবীন্দ্রনাথ জানতেন। তিনি খুব বড় তান্ত্রিক ছিলেন। এই নিয়ে তাঁর অনেক গানকবিতা আছে।

আগেই বলেছি ডাকিনিতন্ত্র বড়ো কঠিন। সত্য পথে থাকতে হয়। কানাকে কানা, খোঁড়াকে খোঁড়া আর যেসব মেয়েরা রাত্তিরে নাইটক্লাবে মদ খেয়ে বেলেল্লপনা করে তাদের বেশ্যা বলতে হয়। সাপ, অনুপ্রবেশকারী আর বেশ্যা দেখলেই মেরে ফেলতে হয়, শেষ রাখতে নেই। নেহাত মারতে না পারলে, ধর্ষণ করুন এবং বেশ্যা কথাটিকে গালাগালিতে পরিণত করুন। ভয় পাবেন না, মনে রাখবেন ডাকিনিতন্ত্র সর্বশক্তিমান কারণ ইহা স্ব-তন্ত্র এবং বিরিয়ানি সর্বশক্তিমান কারন ইহা মাংস।

ডাকিনি-তন্ত্রের আশির্বাদে নির্ধনের ধন হবে, অপুত্রের পুত্র। ফলে লেগে থাকুন ও লাগিয়ে থাকুন। সমালোচনায় সময় নষ্ট না করে কম্বলে বসে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে থাকুন। ডাকিনি-তন্ত্রে সিদ্ধ হলে সাপও মরবে আর বেশ্যাও মরবে আর ওদিকে আপনার ও আপনার পরিবারের চারিত্রিক শুচিতাও বজায় থাকবে। আর যদি নেহাতই খুব ডিস্টার্বড লাগে, তা হলে ছাদে উঠে গলা ছেড়ে রামপ্রসাদী ধরুন - এবার ডুব দে রে মন কালী বলে।

জয় কালী জয় বাংলা

ডাকিনি-তন্ত্র -২
সৃজন সমাদ্দার

১। চিহ্নিত করুন:
বেশ্যা-জাত-মানুষী, উপপ্রজাতি- ডাকিনী। দিবসে ইহারাই "মহিলা' ক্যামোফ্লেজ ধারন করেন। রজনী দ্বিপ্রহরে আপনার মশারির ইশাণ কোণে যখন দিনের শেষ আরশোলাটি অলস ঝাপটা মারিয়া যায়, যাহা দেখিয়া অপনার কোলস্থ প্রিয়া দুরন্ত বেগে বেগন-রূপেণ-সংস্থিতা, ও ঠিক যখন তাহার ইনস্ট্যান্ট এক্রোব্যাটিক্স, স্বেদ সিক্ত কপোল, ও স্তনযুগলের দ্রুত কম্পন, আপনাকে নবরূপে কামাপ্লুত করিবার চক্রান্তে মত্ত, ঠিক তখনি, সেই মাহেন্দ্রক্ষনে, সুখী গৃহকোণের মোহ-মায়া হইতে চিরতরে বিতাড়িত এই ডাকিনী-বৃন্দ তন্ত্রাভিসারে বাহির হন। ইহাদের চিনিতে night club যাওয়া বিনা গত্যন্তর নাই। ভয় জয় করিয়াই যাইতে হইবে। কিছু বিশেষ রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্যের সাহায্যে সহজেই বেশ্যা চিনিয়া লওয়া যায়।

ক) দাহ্যপদার্থ: কেবল ও শুধুমাত্র পৌরুষের অগ্নিতে জ্বলিয়া ওঠে যাহা।
খ) ধর্ষণ-চুম্বক: আপনার ধর্ষ-কাম যাহার দিকে ধাবিত তাহাই বেশ্যা। এটি একটি ব্যবহারিক সংজ্ঞা। বেশ্যা চিহ্নিত করিবার বহু-পরীক্ষিত পন্থা। ধর্ষণ করিয়া শিওর হওয়া যাইতে হইবে ইহাই ছিল আপনার অদম্য কামের লক্ষ্যবিন্দু ।

২। ঘৃণা করুন: অন্তরে করুন। হৃদয়ের নিবিড় নিভৃত কোমল ছায়ায় এক বালতি ঘৃণা ভরিতে দিন। সম্মুখে রাখুন প্রগতিশীলতা। কেহ জানিবে না এই গভীর অভিনয়। ডাকিনী-তন্ত্রের মুল মন্ত্র হইল ঘৃণা। ও মন্ত্রী হইল মদন।

৩। চূর্ণ করুন: ক্ষমতার এক বলিষ্ঠ পদাঘাতে বেশ্যাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা ফেলিয়া দিন। প্রশাসনকে নিষ্কাম নিষ্ক্রিয়তার শিক্ষায় দীক্ষিত করুন। ইতিহাসবিকৃতির শিল্প, দিবারাত্রির কারবারে পরিণত করুন । কল্য রজনীর বাস্তব হোক অদ্য দিবসের কল্পনা। তন্ত্রকে রুখিতে তন্ত্র চাই। দলতন্ত্র, সমাজতন্ত্র। তন্ত্র জানিতে এ রাজ্যের রক্ষাকালীর নিকট যান। রক্ষিত হইবার বিন্দুমাত্র বাসনা থাকিলে। নইলে শ্মশানকালী তো অছেই।


Avatar: tinku

Re: ডাকিনি-তন্ত্র

good ........................................ very nice .........................
Avatar: জনাব,সত্যি - অসাধারন বলেছেন।জব

Re: ডাকিনি-তন্ত্র

সত্যি গুরু - জবাব নেই। অসাধারন কিছু কথা লিখেছেন
এক বৈশাখের কিছু দৃশ্য আজ বড় বেশী মনে পরছে আমার।
ঝড়ের দোলায় কম্পমান তিন জন ধ্রুত রমনি
পরিষদ ডিঙিয়ে এলো - মেলো -
ছিটকে পরেছে ফুট পাতে -
পথের ক্যানভাসে ৬ ছয়টি টা - দিখন্ডিত
মুহুর্তে চোতুর উসফুটে গুনজন
শাড়ীর আচল - খোলা বুক -
কালো - বা কম্পিতো - উরু নগ্ন আলিঙগনে
কবিতার পিন্ডি মাত করে উর্লাসে পুর্ন প্রান -
বিপরিত উথান ভেঙে মাতাল শহর তছ - নছ করে গুনহীন ধ্রুত শৃগাল
কাল এসময় এখানে এসো -
তারিখ টা - পহেলা বৈশাখ।
হেকীম মোঃ ইসলাম উদ্দীন ইমরান।



Avatar: sayan

Re: ডাকিনি-তন্ত্র

কি ছাইপাশ লেখা মাথা মুন্ডু নেই
Avatar: Hazaram

Re: ডাকিনি-তন্ত্র

মুন্ডু দিয়ে মুড়িঘন্ট হয়ে গেছে, ভায়া মুন্ডমালা।

কিছু বাকী ছিল সেগুলো বিশ্ব গেন্ডুয়া প্রতিযোগিতায় রপতানী করে বিদেশী মুদ্রা উপার্জন করা হয়েছে।
Avatar: Lal-babulal

Re: ডাকিনি-তন্ত্র

বেশ টক টক ঝাল ঝাল হয়েছে :)


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন