গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

দেশভ্রমণ

জয়া মিত্র

শুভ যোগ বলুন আর ত্রহ্যস্পর্শ মাইনাস ওয়ান, এমন কেলোর কীর্তি এর আগে হয়েছে কি? নারীদিবস আর দোল এবার পিঠোপিঠি। ওদিকে গালে রঙ কত জমেছে কে জানে, আমাদের লেখা জমে গেছে বিস্তর। টেকনিকাল টিমের হুড়কোয় এতদিন চুপচাপ থাকলেও এই মওকা আর ছাড়া গেলনা। জমে যাওয়া জিনিসপত্তর থেকে তুলে নিয়ে কিছু ছড়ানো-ছেটানো লেখা তোড়ায় বেঁধে হাজির করা হল এবারের স্পেশাল বুলবুলভাজায়। নতুন ভার্সানে নতুন গুরু এলে নতুন বুলবুলভাজা আবার বেরোবে। কিন্তু তার আগেই, এই সুযোগ, আর ছাড়াছাড়ি নেই।

কত বাড়ি দেখা হল। এখনও তো বেশি বড় হইনি। যখন মায়ের মতন হব তখন আরো কত বাড়ি দেখব। কত ভাল কত খারাপ। মায়ের মতন বড় হওয় অব্দি কি বাড়িতে বাড়িতে কাজ করতেই থাকব? না আমি ভাবি যে বাবাকে বলব আমকে বিয়ে দিও না, আমাকে তোমার পার্টিতে নিয়ে নাও। দাদা আছে, আমিও থাকব। আমাকে ঐ চক্‌চকে সানাইএর মত বাঁশিগুলো বাজাতে দেবে। আমি তো বাজাতে পারি। যখন বাবা থাকে না, আমি একএকদিন বাজাই। জামাইদাদাও এগুলোই বাজায়। ওরা যা বাজাতে বলে সব বাজাতে পারি। আমি তো আর দাদার মতন নেশা খাব না, দুটো পয়সা পেলে ঘরেই আনব। বলব বাবাকে।

আরও পড়ুন...

পিছুটান

শ্রাবণী

সেই সময়গুলোতে রানুর একটা বিশাল বিশাল জানালা ঘেরা ঘরে থাকতে ইচ্ছে করে। চারিদিক থেকে হাওয়া দেবে, জাহাজের মত। জাহাজে সে কোনোদিন চড়েনি বা দেখেনি, শুধু বইয়ে পড়েছে। তবু অনেক হাওয়ার কথা ভাবলে কেন জানিনা তার জাহাজের কথাই মনে হয়।

আরও পড়ুন...

মেয়েদের গপ্পো

যশোধরা রায়চৌধুরী

হে ধর্ষিতা, তুমি জান, শরীর কোথায় শেষ হয়
কোথা থেকে শুরু হয় অদ্ভুত, দ্বিতীয় অপমান...

আরও পড়ুন...

নারীবাদী কবিতা

সোমনাথ রায়

তোমরা ক্ষমা ক'রো
আমার যৌনতা, আমার ক্রোমোজোম এতদিন ধরে শোষণ জ্বালিয়ে রেখেছে
তোমাদের ত্রস্ত বিস্রস্ত করেছে
ছিন্নমূল করেছে, মা।

আরও পড়ুন...

ডাকিনি-তন্ত্র

ধর্ষণ-চুম্বক: আপনার ধর্ষ-কাম যাহার দিকে ধাবিত তাহাই বেশ্যা। এটি একটি ব্যবহারিক সংজ্ঞা। বেশ্যা চিহ্নিত করিবার বহু-পরীক্ষিত পন্থা। ধর্ষণ করিয়া শিওর হওয়া যাইতে হইবে ইহাই ছিল আপনার অদম্য কামের লক্ষ্যবিন্দু।

আরও পড়ুন...

শিখার কথকতা

তরুণ বসু

পূর্ণিমা বা শিখা যে নামেই ডাকা হোক, ওদের জীবন এরকমই। নীলকন্ঠের মত সমাজের অনেক ক্লেদ ধারণ করে ওরা সমাজের অবহেলা, অত্যাচার এত দিন মেনে নিয়েছে। ওরা বুঝেছে, সমাজ যাকে আবিলতা বলতে শিখিয়েছে, তা আসলে নিরস্ত্র জীবনের 'পরে ক্ষমতাবানের দম্ভ। তাই, ওদের সামাজিক মানসিক অর্থনৈতিক সব অত্যাচার মেনে নেয়ার দিন শেষ হোক, সেটাও ওরা সর্বান্তকরণেই চায়। তবে তার বিনিময়ে, যে পেশা ওদের পায়ের তলার মাটিটুকু ফিরিয়ে দিয়েছে তাকে ওরা আর খারাপ বলতে রাজি নয় কোনো ভাবেই। আসলে পূর্ণিমা শিখারা বাঁচতে চায়, বাঁচাতে চায়।

আরও পড়ুন...

কামনা - রাজনীতি - আমি

সুমিতা

সচরাচরের অধিকার আন্দোলনের রাজনীতি কামনাকে বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করতেই চায়না। আমার মনে হয়, আমি হয় একজন নারী-মানুষ নই, নয় একজন যৌন-নারী-মানুষ নই, কিংবা একজন যৌন-নারী-সমকামী মানুষ নই, অথবা যৌন-নারী-সমকামী-একনিষ্ঠ মানুষ নই। কারণ ব্রাত্য হওয়া শুরু হয়েছিল নারী বলে, তারপর যৌন নারী বলে, তারপর সমকামী যৌনতাবোধসম্পন্না নারী বলে, শেষপর্যন্ত বহুগামী নারী বলে। প্রান্তিকরণের রাজনীতি কামনাকে ইন্ধন হিসেবে ব্যবহার করে। আমাকে ক্রমাগত রাজ্যপাট ছেড়ে বনে যেতে হয়, বন থেকে বনান্তরালে, চষা ক্ষেত ছেড়ে নোনা লাগা মাটি পেরিয়ে সমুদ্রের মাঝে কোন এক দ্বীপেও আশ্রয় মেলে না। "স্যাফো ফর ইক্যুয়ালিটি'তে বন্ধু পেতে আসিনি। সমমনস্ক, সমরাজনীতিতে বিশ্বাসী সহকর্মী চেয়েছিলাম। যাদের পেলাম তারা সহকর্মী, সহমর্মী বন্ধুও বটে। আমার কামনার ইতিহাস বা ভূগোল তাদের সবার মত নয়, কিন্তু প্রান্তিকরণের বিরুদ্ধে আমার রাজনীতি তাদের সঙ্গে আমাকে একসূষেন গেঁথেছে। ভিন্নতার উৎসবে আমরা সবাই শরিক। আমি, নারী, যৌন-মানুষ,সমকামী, বহুগামী, প্রান্তিক, কিম্ভুত - আমি।

আরও পড়ুন...

বসন্ত আমি কতকাল খুঁজছি

শুদ্ধসত্ব ঘোষ

সরোদ বাজছিল। সরোদ এসেছে রাবাব থেকে। শুনেছি, জানিনা। সরোদ পার্সিতে মেলোডির মানে বয়ে চলে।

সামনের জলচল খালটি বইছে না।
নারীটি বইছে না। নাকি বইছে?
শূন্যে স্থির হয়ে আছে কার আকাশবাড়ি?
সতত ঈশ্বর তুমি চাঁদের আশেপাশেই থাকো,
নাকি অন্যে আবাস তোমার আভাসে প্রকাশো?
আমার এত এত জিজ্ঞাসা!
আমার সারা জীবন শুধু জিজ্ঞাসা।
অথচ...

আরও পড়ুন...

তোমার পিঠের কুঁজে বাংলা অক্ষরের সামান্য আহার্য জল

সুমেরু মুখোপাধ্যায়

আমরা জলে পা ডুবিয়ে বসি। আমরা আলকুশি গাছের তীব্র বেগুনী ফুল হাতে রগড়ে হাত মেহেন্দি করি, নোয়া লতার ডাল ভেঙ্গে বালিতে লিখি নাম, আর লজ্জাবতির ঝোপ সরিয়ে খোলা ভেঙে বার করে আনি কাঁচফল, ঠিক তিনটি করে সাদা মুক্তদানা আর কালো ফোঁটা আঁকা চোখের মত, একেকটি খোলায় ঠিক তিনটি, যেন ব্যাটারা জানত ঠিক আমরা তিনজনেই পা দেব সেখানে আজ। নৌকার মাঝি আমাদের পাগলামি দেখে তাড়া দেয়, যেতে হবে দূর বহুদূর। তাকে ভুলনো হয় নানা প্রশ্ন করে, মিলিয়ে দেখতে হবে না আমাদের কাঁটাঝোপে মোড়া আর ধুলোমাখা আগাছা ভরা ছেলেবেলাটাকে। আলকুশিকে তারা বলে নেউস। বেশ শক্ত, ঝোপে রাজার মত সবাইকে কাটিয়ে এগিয়ে সে চড়ে বসে ঝোপের মাথায়, শিরোমণি। সে গাছ হিসাবে লতা কিন্তু কোন আকর্ষ বা স্প্রিং নেই তার। অপরাজিতার মত অভিজাত ফুল ও ফল। ফলগুলি রোমে ঢাকা, যেন এক একটি শুয়োপোঁকা। হাতে লাগলে চুলকায় শোনার পর থেকে আমাদেরও হাত চুলকাতে থাকে। চুলকানোর কারনেই গ্রামের মানুষ পছন্দ করে না, তাই অভিমান করে সে আজ এই নির্বাসনে। সে এমন ভাবেই প্রকৃতির পাঠশালায় নুরুল মিয়া হয়ে ওঠে আমাদের শিক্ষক, বলে যেতে থাকে নেউস থেকে কী কী ওষুধ-বিষুধ হয়। আমরা নেহাতই আমনযোগী, তাই অনেক অনেক রাতে যখন চিলমারি বন্দরে আমাদের সোনার তরীটি ভেড়ে কোন লন্ঠনই আর জেগে নেই।

আরও পড়ুন...

রাধিকা এবং

জয়কৃষ্ণ পাখিরা এবং অনন্ত কাক


বেলা চলে গেছে, ঘোচেনি এখনো খেলা
রিক্সা চলেছে অংক স্যারের বাড়ি
রাধিকার ব্যাগে কেসিনাগ, বই খাতা
স্কুল থেকে সোজা, বাসন্তী রং শাড়ি

আরও পড়ুন...