পুজো ইস্পেশাল -- প্রথম ভাগ

আপাতত: এইকটাই। পড়তে থাকুন। আরও আসছে ...

পুজোর ঠোঙা
আমাদের কোনো থিম নেই ---

গল্প
উইদাউট আ প্রিফেস --ইন্দ্রাণী
ভাষা দাও, স্বাধীনতা --বিপুল দাস
নদীর ধারে বাড়ি --অচিন্ত্যরূপ রায়
হেরুকের বীণা --অদিতি ফাল্গুনী
মরার প্র্যাকটিস --আবু মুস্তাফিজ
গড্ডলিকার গল্প --শমীক মুখোপাধ্যায়

এটা-সেটা
আমার শহর --ঈপ্সিতা পালভৌমিক
শিরোনামহীন --বিপ্লব রহমান
এক গঞ্জের ইতিবৃত্ত এবং কিছুটা স্মৃতিমেদুরতা --সুকান্ত ঘোষ
কৈলাসবাসীর কলকাতা যাত্রা --ইন্দিরা মুখার্জি

নাটক
অরক্ষিতা --মাহবুব লীলেন

কবিতা
স্মৃতি ও পাহাড় --অর্পণ চৌধুরী
ন্যাড়ার লাল --চন্দ্রিল ভট্টাচার্য
বর্ষার কবিতা --অয়ন চক্রবর্তী
দুটি কবিতা --অভীক কুমার মৈত্র
কিছু কবিতা --সরদার ফারুক
কবিতা --মৃগাঙ্কশেখর গঙ্গোপাধ্যায়
দুটি কবিতা --ইন্দ্রনীল বক্সী
দুটি কবিতা --তানিম কবির
কিছু কবিতা --ত্রিশাখ জলদাস

পুজো সিরিজ
কাক সিরিজ --অরণ্য


বেসিমারি ও ৫২ নং জাতীয় সড়ক

দেবর্ষি দাস


মিঞাদের আরো নাম আছে। পুরাতন অসমিয়াদের কাছে তারা 'ময়মনসিংগিয়া'। সম্বোধনটি তাচ্ছিল্যমিশ্রিত। তবে এর খানিক ইতিহাসভিত্তি আছে। বৃটিশদের ভূমিরাজস্বের খাঁই ছিল ভরপেট। আসামদেশ দখল করার পর সায়েবদের খেয়াল হল এখানে জমির অভাব নেই। অথচ জনসংখ্যা অপ্রতুল। রাজস্ব বাড়ানোর জন্য জমি চাষে লাগানো দরকার। ব্রহ্মপুত্রের চর, পলিজমি পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু চাষ করবেটা কে? বাংলার জনঘনত্ব সেই সময় আসামের কয়েকগুণ। অতএব প্রশাসন পূর্ববঙ্গ থেকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় চাষিদের আনার উদ্যোগ নিল। এদের প্রায় সবাই মুসলমান ছিলেন, এবং বেশিরভাগ ময়মনসিংহের। কালে পূর্ববঙ্গের মুসলমান মাইগ্রান্ট চাষি মানেই ময়মনসিংগিয়া নাম হল। বর্তমানে তাদের 'ন-অসমিয়া' নাম দিয়ে অসমিয়া সমাজে একাত্ম করার চেষ্টা চলছে। সরকারি প্রচেষ্টা আর কী। মধ্যবিত্ত মানসের অবস্থা বাসের মত।
পাট চাষ নিয়ে এই লেখা,মাঝখানে শিবের গীত এসে গেছে। পরশু, ১০ অক্টোবর বেসিমারি গঞ্জে পুলিশের গুলিতে ৪ জন পাট চাষি মারা গেছেন, অনেকে আহত। দাবি ছিল পাটের জন্য ন্যায্‌য দামের, পাটের স্তুপ বানিয়ে ৫২ নং সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের মাথায় ঢিল পড়লে পুলিশ কয়েন, মানে গুলি, ছোঁড়ে।

আরও পড়ুন...

পুলিশি রাষ্ট্র, ব্লগার নির্যাতন এবং বাক-স্বাধীনতা হত্যা

আসিফ মহিউদ্দীন

এরপরে তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং প্রায় সারারাত জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের জিজ্ঞাসা ছিল প্রধানত বিভিন্ন আন্দোলনে আমি ঘরের খেয়ে বনের মোষ কেন তাড়াচ্ছি, আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হয়েও কেন তাদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে নিজের জীবন হুমকির মুখে ফেলেছি, এই রাষ্ট্রবিরোধী কাজের জন্য আমি অর্থনৈতিক ভাবে কীভাবে লাভবান হয়েছি, এত বড় এবং লম্বা লেখা আমি কোন ধরণের আর্থিক সুবিধা ছাড়া কেন লিখলাম সেটা, আমি নাস্তিক কিনা, আমি শুকর খাই কিনা, নামাজ রোজা কেন করি না, ধর্মবিরোধী লেখা কেন লিখি, ইত্যাদি।

আরও পড়ুন...

পুজোর হুজুগ ৪ -- সাবেকি পুজো

দীপ্তেন


কেশ বিন্যাসটাই দেখুন। অন্তত: পাঁচ আঙুল লম্বা চুল। তাতে বিনুনি করা। আর একটি খুব মোটা টিকি। বড় হাতলওয়ালা করাতের মতন দাঁত, তেমন একটি চিরুনি মাথায় গোঁজা। গলায় সরু হার। আঙুলে আংটি। কানে দুটো দুটো দুল, দলবীটক আর সীসপত্রক। সারা গায়ে কুমকুম ঘষে একটা হলদেটে আভা বেরোচ্ছে, বা বা নয়নাভিরাম। পরনের কাপড়টি ও হলুদ রংএর। পায়ে মোম দিয়ে বিজানেও হরির কাজ করা লোহার নাল লাগানো জুতো,খট খট শব্দ হবে কিন্তু পায়ে ব্যথা লাগবে না। সঙ্গে ল্যাপটপ নেই। আছে সদা-সর্বদার তাম্বুল বাহক ভৃত্য। তার ও গলায় মালা, তবে সেটি বড়ো পুঁতির মালা। তার নখগুলি রঙিন। হাতে শাঁখের মোটা বালা।

আরও পড়ুন...

পুজোর হুজুগ ৩ -- পুজোয় চাই

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়


পুজোর সময়টা একটু ব্যস্ত থাকব। তেমন কিছু না, একটু ঘুরতে হবে আর কি। নানা বেড়াতে-টেড়াতে নয়। ওসব সুখ কি আর কপালে আছে? সাধ করে তো আর যাচ্ছি না। এই বুড়ো বয়সে কোথায় পায়ের উপরে পা তুলে আয়েস করব, লোকজন এসে প্রণাম টনাম করবে, অনেকদিন তো হল এবার একটু প্রধানমন্ত্রী হন স্যার বলে সাধবে, তা নয়, আবার রথে চড়তে হচ্ছে। না না কলা-টলা বেচতে যাচ্ছি ভাববেন না। ওটা বজরং দলের ডিপার্টমেন্ট। গদা হাতে ল্যাজ লাগিয়ে লাফাবে, কলা-টলা বেচবে। হই-হল্লা করবে। ওসব ছোটোখাটো জিনিস নিয়ে আমি মাথা ঘামাইনা।

আরও পড়ুন...

পুজোর হুজুগ ২ -- পুজোর রিলিজ

প্রসেনজিৎ বর্মন


প্রথম গল্প বডিগার্ড সিনেমার। একটু ভূমিকা করে নিই সিনেমার গল্প শুরু করার আগে। যাওয়া নিয়ে বিস্তর ঝামেলা হল বলে বলা। ফার্ষ্ট ডে ফার্ষ্ট শো যাবার ইচ্ছে ছিল। এবার দোষের মধ্যে নিয়ে চারটা টিকিট বুক করে ফেলেছিলাম। পাঁচ রুমমেট। একজন রুমমেট আবার সলমন খানের ডাইহার্ড ফ্যান। আর একজন যাই দেখাবে তাই দেখবে। আর দুজনের একজন অবশ্যই যাবে ধরে ঘরে ফিরে বুঝলাম হিসেবে ভুল হয়েছে। সলমন ফ্যানের আপিস আছে। বাকিরা কেউ যাচ্ছে মাসির বাড়ি তো কেউ জয়পুর। সিনেমা দেখতে যাবার লোকই পাওয়া যাচ্ছে না। ফ্রিতে দেখাবো ঘোষনা করলাম। তাও কেউ রাজি হয়না। লোকজনকে পাকড়াও করে হাতে পায়ে ধরাধরি শুরু করেও দেখি সাকুল্যে তিনজন হল। যথা লাভ। এদিকে এতোশতো করতে গিয়ে হয়ে গেলো দেরি। টিকিটের ঘরে দেখি লম্বা লাইন। লোকে অ্যাডভান্স টিকিটের জন্য ভিড় করে আছে। তার মাঝে টিকিট নিয়ে যখন হলে ঢুকছি তখন দেখছি অলরেডি বিশ মিনিট হয়ে গেছে। তো সিটে বসতে যাবো , দেখি সিট বেদখল!!!! লাও ঠ্যালা। অনেক কষ্টে নিজের সিট নিজের দখলে অ¡য়েশ করে বসলাম।

আরও পড়ুন...

পুজোর হুজুগ ১ -- পুজোর থিম, থিমপুজো

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়


পুজোর জগতেও এবার এসে গেল পরিবর্তন। ষষ্ঠীর দিন এক বাংলা চ্যানেল জানালেন, এবার ফোকাসে পরিবর্তন। আর কলকাতা-কলকাতা নয়। এবার পুজো গোটা বাংলার। এবার পুজো বৃহৎ চেতনার। বঙ্গ চেতনা ও মানবচেতনার। ছোটোখাটো ইস্যুতে থিমকে আর বেঁধে রাখা যাচ্ছেনা যাবেনা। হাওড়ার পুজো কমিটির প্রধান জানালেন, তাঁদের এবারের পুজোর থিম জঙ্গলমহল, সাঁওতাল সমাজ ও নাগাল্যান্ড। জঙ্গলমহল আর ভূমিপুত্র না হয় বোঝা গেল, কিন্তু নাগাল্যান্ড কেন? না, নাগাল্যান্ড সরকার তাদের ভূমিপুত্রদের নিয়ে যে ধরনের উন্নয়ন ঘটিয়েছে, বাংলার সরকার দশকের পর দশক ধরে তার কানাকড়িও করতে পারেননি। এই জ্বলন্ত ইস্যুকেই তাঁরা তুলে ধরছেন তাঁদের থিমে। অন্যদিকে সল্টলেকের পুজো কমিটির প্রধান জানালেন, তাঁদের এবারে থিম নারীশক্তি। যিনিই ত্রাতা, তিনিই মাতা। ভাবছেন সে আর নতুন আর কি হল? দেবী দুগ্গা তো এমনিতেই নারী শক্তি। কিন্তু শুনতে সোজা হলেও আসলে ব্যাপার ততটা নয়, এসব বুঝতে হবে পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও বৃহৎ পরিপ্রেক্ষেতির প্রেক্ষাপটে। এ নারী তো সে নারী নয়। এ যে পরিবর্তিত নারী।

আরও পড়ুন...