এ ব্রিফ ডাইরি অফ হারিকেন

কুলদা রায়

আমার বড় মেয়েটি এই ঝড়জলের মধ্যে হাতে রসুনের কোয়া নিয়ে জানালার কাছে বসে আছে। নিউ ইয়র্কের ঝড়জল হারিকেন ওরফে আইরিন দেখতে চেষ্টা করছে। আইরিন নামের এক ভৌতিক ভ্যাম্পায়ারকে তাড়ানোর চেষ্টা করছে।

আমাদের দেশের কালবৈশাখির মত শোঁ শোঁ করে আওয়াজ হচ্ছে। গাছের ডাল নড়ছে। পাতা পড়ছে। এরকম ঝড়বাতাস আমাদের দেশে বছরে গণ্ডায় গণ্ডায় আসে যায়। সরকার ঘুমায়। আর জনগণ তাড়া খাওয়া ইঁদুরের মত ছুটে বেড়ায়--পোকামাকড়ের মত মরে।। আবার ঘুমিয়ে পড়তে পড়তে শুনলাম, ছোটে মেয়েটা গলা খুলে গাইছে, ওরে ঝড় নেমে আয়, আয়।

আরও পড়ুন...

ক্রুসেডে সামিল হোন

সৃজন সমাদ্দার

সমস্যা হল পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল যুগে তির-ফির আর বিশেষ পাত্তা পাচ্ছে না। সভ্যতার কেরিয়ারে এখন হাই স্কুল পর্ব। গেটস স্যার চোখ রাঙিয়ে রীতিমত শাসাচ্ছেন "সাবধান! এখন থেকে কিন্তু সব বুদ্ধির খেলা'। আমরা বাঙালিরা আবার সেখানে ডবল প্রমোশন পেয়ে বসে আছি, মুশকিল! মগজাস্ত্রে ধোঁয়া দেবার তালে নিজের বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে অসীম দু:সাহসে বিড়ি ফুঁকে চলেছি। তো এই সিগারেট কান্ড, এই আমাদের, মানে এই বীর, বেপরোয়া বাঙালি যুবকদের ইমপ্রেস করার কৌশল হতে পারে কি? হতেই পারে। আমরাই যখন "আজ কা অর্জুন'। উফ:! অতই সোজা! আরে বোকারা, আমাদের আজ পুরো রাত জেগে সন্ধের ঝিলিমিলি লিখে লিখে কাল নোবেল পেতে হবে, তাই একটু মাল সিগ্গী স্টকে চাই। তোরা মীন হোয়াইল মাঠে কিছু দৌড়ঝাঁপ করে সোনা নিয়ে আয় দেখি। তা না, এই সব ফালতু অশৈল করে ভাবছিস কু থেকে সু হয়ে জাবি। আগে রুপা (গাঙ্গুলী) তো হ, একটা ক্লাস বানা, তারপর কাউন্টার পাবি। বেলেল্লাপনার টিকিট, প্রতিভার ট্যঁ¡ক খসিয়ে কাট!

আরও পড়ুন...

আর নয়, কেন?

কবীর সুমন

আমি এমন "গায়ক'এর গানও শুনেছি যিনি আমার নিজের বানানো গানের তাল পালটে সেটিকে আত্মস্থ করে গেয়েছেন। শ্রোতারা খেয়ালও করে নি যে গানটার রিদমটাই পালটে গেছে। এইভাবেই আমার একটা ৫ মাত্রার গান নির্দ্বিধায় ৬ মাত্রা, কখনও কখনও ৮-মাত্রাও হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং একজন শ্রোতার একটা ভুরুও বাঁকে নি, বরং গানশেষে সেই গায়ক অজস্র তারিফ এবং তারিফ পেয়েছেন। এইসব বিখ্যাত আর জনপ্রিয় শিল্পীরা গানের মাত্রা বদল কেবল শস্তা জনপ্রিয়তা পাবার জন্যেই করেন নি, তাঁরা এটা করেছেন কারণ ৫-মাত্রার গান হ্যান্ড্‌ল করা তাঁদের কাছে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তাই একজন সেটাকে ৬ মাত্রায় বদলে নিলেন, আরেকজন, ৮ মাত্রায়। পরিশেষে, শ্রোতাদের তৃপ্ত মুখগুলি আর শিল্পীর খুশি-খুশি মুখ দেখে আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে ভাবলাম, একদিন আমার কিছু শুভানুধ্যায়ী আমাকে এই দেশে ফিরে এসে গানকে জীবিকা হিসেবে নেবার বিরুদ্ধে সাবধান করেছিলেন, তাঁদের কথা সেদিন শুনলে আজ আমাকে এই জিনিস দেখতে হত না। আমি কিছুই করতে পারি নি, নিজের ক্ষোভ, রাগ, হতাশা, কিছুই ব্যক্ত করতে পারি নি সেই দিন। আজ, তেষট্টি বছর বয়েসে, জীবনে অনেক কিছু দেখবার পরে, আজ হয় তো সময় হয়েছে, আমি গলা ছেড়ে বলতে পারি এই বং সোসাইটি (ঞ্ছবাঙালিঞ্জ নয়) আর এই বং জীবনযাত্রার প্রতি আমার অপছন্দ, আমার ঘেন্নার কথা। "বাংলা' বলে আর কিছু বেঁচে নেই। অনেকদিন আগে মরে গেছে। অনেকদিন আগে শোনা এক বাউল-গান মনে পড়ে যাচ্ছে - "বাউল বাউল করো তোমরা / বাউল কে আছে / বড় দু:খ পাইয়া বাংলার বাউল মইরাছে।'

আরও পড়ুন...

লং মার্চের ডায়েরি - সপ্তম কিস্তি

নাসরিন সিরাজ অ্যানি

"ক্যান আই আসক ইউ এ কোয়েশ্চেন?' আচমকা এই সময়ে এই প্রশ্নে আমার চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটে। তাকিয়ে দেখি আমার এক সহযাত্রী আমাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করছেন। ইনি ঢাকা থেকেই আমাদের সাথে এসেছেন প্রায় ২০ জনের একটি দল নিয়ে। প্রথম থেকেই লক্ষ্য করছি বাসের আসন দখল নিয়ে ক্ষণে ক্ষণে অন্যদের সাথে তারা বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন আমার কাছে প্রথম দিনই ব্যতিক্রম লেগেছিল কারণ সেগুলো অন্যদের মত পোস্টার পেপারে হাতে লেখা না বরং "ডিজিটাল প্রিণ্ট' করে আনা। আমার প্রশ্নবোধক চোখে তাকিয়ে থাকা দেখে প্রশ্নকর্তা আবার বললেন, "আপনার পোশাক আশাক চাল চলন "ইউরোপিয়ানদের' মত। কাল রাতে দেখলাম আপনি স্মোকিংএও অ্যাডিকটেড। আমি কি আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি?' সাধারণত বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে অতি আগ্রহী পুরুষদের যেভাবে আমি উত্তর করি সেভাবে মুখটা শক্ত করে তাকে বললাম, "না আপনি প্রশ্ন করতে পারেন না।' ভয়ে আমার বুকটা ঢিপ ঢিপ করছিল আর মনে মনে ভাবছিলাম, "আল্লাহ তুমি আমাকে এই লোকের হাত থেকে বাঁচাও।' আমার প্রার্থনা শুনেই যেন বাসের অপর মেয়ে সহযাত্রীটি বাসে উঠল তখন। মেয়েটিরও পরনে ছিল "পশ্চিমা' ধাঁচের পোশাক মানে জিন্সের প্যান্ট আর টি-শার্ট। তার সাথে তার ছাত্র সংগঠনের বন্ধুরা। তারা সকালের নাস্তায় খিচুড়ি খেতে না পারা নিয়ে আলাপ করতে করতে যার যার আসনে বসল। বাসটা চলতে শুরু করলে আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৯:১০ বাজে।

আরও পড়ুন...

রাজনীতির ছবি, ছবির রাজনীতি (প্রথম পর্ব)

যোশী যোসেফ

অ্যাফস্পা ১৯৫৮ পুরস্কার পেল, যা আমরা আলোচনা করছিলাম,তাই এটা আমাকে পীড়া দিচ্ছে। আমি জানি আমি যে সব সংস্থার জন্য কাজ করি সেখানে আমি এই সব জিনিস একজন আধিকারিক হিসাবে দেখাতে পারব না, কিন্তু একজন শিল্পী, একজন নাগরিক, একজন ভারতীয় হিসাবে আমি বাঁচতে পারব না যতক্ষণ আমি এই সত্যটাকে কোথাও, কোনো আকারে লিপিবদ্ধ করছি। তাই আমি নিজেই একজন দ্বৈত সত্ত্বায় পরিণত হচ্ছি, একজন আধিকারিক সত্ত্বা, যে তার পরিচয় বহন করে, চেষ্টা করে এমন কিছু করার যা খুব অবাস্তব নয়, একদম ডাহা মিথ্যে কথা নয়। আমার কর্মরত সংস্থার জন্য মণিপুরের ওপর একটা ছবি করার সময় কোনোভাবে মণিপুরের সত্যটাকে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার ভেতরকার যন্ত্রণাদীর্ণ সত্ত্বা ভালোভাবে ঘুমোতে পারে না, আমি যে সব নিজের চোখে ঘটতে দেখেছি। আমি সবার সঙ্গে মদ্যপান করি, যেহেতু মণিপুরে মদ নিষিদ্ধ তাই আপনি খোলাবাজারে মদ পাবেন না, তাই আমাদের মদ্যপান করতে আর্মি পিআরওর কাছে, অসম রাইফেলস পিআরওর কাছে যেতে হয়, সব মিডিয়ার লোকজনেরও আর্মি পিআরওর কাছে কোটা বাঁধা আছে। সেখানে অনেক মালায়ালি অফিসার আছেন, উকিল অফিসার আছেন, তো আপনি তাদের সঙ্গে বসে মদ খান, আর ৪-৫ পেগের পরে, একটা অন্য মণিপুর, যেখানে হিন্দি গান মানা, হিন্দি গান গাওয়া হয় না, আর রাতে মনিপুরিদের কাছ থেকে সবচেয়ে ভালো জিনিস যা পাওয়া যায় তা হল হিন্দি গান। তাই রাতের একটা মনিপুর আছে, রাত ৯টা ১০টার পর, মণিপুর যা অ্যাফস্পাতাড়িত নয়।

আরও পড়ুন...

একটি ভোটার কমল

কবীর সুমন

কী ছিল, তুমি বললে ভোট ছিল ...
ভোট ছিল কবীর, বল ছিল না।
বোমা ছিল।
রাজু বলে একটা ছেলের দুটো চোখ উড়ে গেল,
আরেকটা ছেলে মরে গেল।
পনেরোই অগাস্টে ভোট ছিল না কবীর, বোমা ছিল।
রাস্তায় ফেলে রেখেছিল কেউ একটা।

কে গো?
আমি কী করে জানবো বলো তো কবীর,
আমি কী করে জানবো?
কেউ একজন, কেউ একজন ...
নিশ্চয়ই কোনও পুরুতঠাকুর না।
বা কোনো মৌলবীসাহেব না, বা
গির্জার কোনও পাদ্রি নন, বা ধরো
আন্নাকালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক নন
বা ধরো, কোনো তাঁতি বা নাপিত নন
বা ধরো, এই পশুচামড়ার ব্যবসা যাঁরা করেন,
তাঁরাও নিশ্চয়ই নন।

আরও পড়ুন...

গানের ঝর্ণাতলায় (দ্বিতীয় পর্ব)

দীপংকর বসু

শুনেছি এই নির্মম আক্রমণের পিছনেও ছিল জর্জদারই নিজের করা কিছু অসতর্ক মন্তব্য। বিশ্বস্ত সূত্রে শোনা কথা হল সম্পাদকমশায় নাকি প্রায়শই মদ্যপ অবস্থায় গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। তাঁর এই অভ্যাসের জ্বালায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে কোন এক অনুষ্ঠানে দেখা হবার পর ভদ্রলোকের স্ত্রী নিজের মর্ম বেদনা জর্জদার কাছে পারিবারিক হিতাকাঙ্খী হিসেবে ব্যক্ত করেন। ঘটনাটি শুনে জর্জদা নাকি ভদ্রমহিলাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এই মর্মে যে ঘরে যে বাড়িতে যদি "ঝাড়ু' থাকে তবে তিনি যেন সেটি ব্যবহার করেন নির্দ্বিধায়। ফলও পেয়েছিলেন হাতে নাতে! তবে হাজার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জর্জদা আপোষ করেননি কোনদিন। রেকর্ড করা বন্ধ করেছিলেন কয়েকবছর আগেই, কিন্তু ঘনিষ্ঠজনেদের কাছে প্রত্যয়ের সঙ্গেই বলতেন এ ভাবে আমার রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ড করা হয়ত বন্ধ করা যাবে কিন্তু আমর কণ্ঠরোধ করা যাবে না।

আরও পড়ুন...

স্বাধীনতাঃ সাইবার কহানি

শুদ্ধসত্ব ঘোষ

ঠিক এখান থেকেই শুরু হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আলোচনাটা। ধরে নিন, আজকে ১৫ ই অগাস্ট কেউ ইন্টারনেট-এ পোস্ট করলেন বহু পুরোনো একটি কম্যুনিষ্ট শ্লোগান। "ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়'! কি হবে? বা কি কি হতে পারে? ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক হয়েছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। এই শ্লোগানটা তার কিছু চিহ্ন বহন করছে অবশ্যই। কেউ কেউ যেমন ভাবতে পারেন সাদা চামড়ার লোকেরা চলে গিয়েছে তেমনি কেউ কেউ ভাবতে পারেন যে তার জায়গায় এসে বসেছে বাদামী সাহেবরা। এমন ভাবনান্তর থাকাটাই স্বাভাবিক। বিশেষত, আজকের এত বছর পরেও খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের কিই বা উন্নতি হয়েছে? শহরে হাস্যকর রকমের খরচ বাড়ানো বড়লোকের নার্সিংহোম, বেসরকারী হাসপাতাল বাড়া ছাড়া কি পেয়েছি আমরা স্বাস্থ্যে? আমলাশোলে বা খয়রাশোলে লোক মরলে আসে খবরে। এলে অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু হয়ে যায় সেটাও। আর যদি ওইভাবে না মরে ধুঁকে ধুঁকে মরে, তাহলে খবরেও আসবে না। আমরা প্রজ্ঞাসম্পন্নরা সেমিনারে বা ভোটবাজারে মুখ গম্ভীর করে আলোচনা করবো অনেক। কেউ কেউ বলতেও পারেন (আমি শুনেছি খাদ্য সম্পর্কে হওয়া একটি সেমিনারে), যে আসলে দারিদ্রের কারণ হল লোকের অলসতা। এই কিছুদিন আগে যেমন বাংলাদেশের বন্ধুরা আলোচনা করছিলেন অনেক খাওয়াই নাকি খাদ্য দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ, এমন বলেছেন বাংলাদেশের কোনো এক মন্ত্রী। আমাদের এখানে প্রফুল্ল বাবু খাদ্য "কাঁচকলা খাক্‌' বলে কাঁচকলা প্রফুল্ল হয়ে গিয়েছিলেন। খাদ্য আন্দোলন হয়েছিল। শিক্ষা মানে এক বিভীষিকাময় ব্যবস্থা। বাকী সব প্রসঙ্গেই এমন কথা বলাই যায়। আর কথা বাড়াচ্ছিনা এ প্রসঙ্গে। বলার কথায় চলে আসছি। যদি এই সব দেখে কেউ লেখেন "ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়' তাহলে?

আরও পড়ুন...

ইতিহাসবিদ সালাহ্‌উদ্দীন আহমদের সাক্ষ্যতে

কাজী মামুন

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। সে হত্যা একাত্তরে বাংলাদেশের অর্জনকেই হত্যা করার নামান্তর। তার পর থেকেই বাংলাদেশের পাকিস্তানের ভূতের দিকে যাত্রা চলছে। জিয়া এরশাদের সামরিক শাসন, একনায়কতান্ত্রিক শাসন, খালেদা-হাসিনার দায়িত্বহীন রাজনীতি একাত্তরের অর্জনের কাছে আর রাষ্ট্রকে ফেরাতে দিচ্ছে না। মানুষের আশা ভরসার স্থানটি গেছে। এখন মানুষ আশঙ্কা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না। নানাবিধ বিভেদের শিকার হচ্ছে। আবার বাংলাদেশের মানুষ আত্মপরিচয়ের সংকটে পড়ে গেছে। এর পিছনে বঙ্গবন্ধুরও কিছু ভুল রাজনীতি ছিল।

এই পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ অগ্রজ ইতিহাসবিদ প্রফেসর সালাহ্‌উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি কিছু কথা বলেছেন বাংলাদেশর লেখক সাংবাদিক মশিউল আলমের সঙ্গে। বর্তমান আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের নানারকম প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের কারণে নানারকম প্রশ্ন উঠছে বঙ্গবন্ধুর ভুমিকা, কর্মকান্ড ও আদর্শ নিয়েও। এমনও প্রশ্ন আসছে যে বঙ্গবন্ধু আসলেই বাংলাদেশ চেয়েছিলেন কিনা, কিম্বা স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে তাঁর অবদান আসলেই কতটুকু? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর মেলে মশিউল আলমের নেওয়া প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ সালাহ্‌উদ্দীন আহমদ-এর সাক্ষাতকারটিতে। সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্য।

আরও পড়ুন...

কাশ্মীর - ঝাঁকিদর্শন

সোমনাথ রায়

দিল্লীর গদিতে বসে যাঁরা পলিসি বানান তাঁদের হয়তো মনে হয়েছিলো এই ১৯৬৪ সালটা জাতীয় ঐক্যের খাতায় দারুণ কিছু একটা নজির তৈরী করবে, কিন্তু সত্যি বলতে কি ঐ সময় থেকেই কাশ্মীরি সাধারণ মানুষ ভারতকে একেবারে "পর' বলে ভাবতে শুরু করলো।'

আরও পড়ুন...

জাতীয়তাবাদের ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং অসমে মাতৃভাষার কাজিয়া

সুশান্ত কর

২০০৫এ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পুনর্বিন্যাস (Refreshers Course) পাঠক্রমে গিয়ে শেষ দিনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হবার সৌভাগ্য হয়েছিল। সবাই জানেন, তিনি আজকাল মাতৃভাষা নিয়ে বেশ আবেগিক। ক্যালকাটার "কলকাতা' হবার পেছনে তাঁকে বেশ ঘাম ব্যয় করতে হয়েছে। বরাকের ১৯কে সে বাংলাতে জনপ্রিয়তার পেছনেও তাঁর এক বড় ভুমিকা আছে। বক্তৃতার এক জায়গাতে, তিনি আক্ষেপ করে বললেন, "গিয়ে দেখুন না এখন দার্জিলিঙে! ওখানে বাঙালি আর আগের মতো পাবনে না।' পরের বছর সত্যি সত্যি আমি সপরিবারে দার্জিলিঙ-গ্যাংটকে ঘুরতে গেছিলাম। গিয়ে দেখি, ওখানকার প্রায় সমস্ত বড় বড় হোটেল, রেঁস্তোরার, ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক এবং কর্মচারি, রেলের কর্মচারি সবাই বাঙালি। আমাদের গাড়িতে করে ঘুরিয়ে আনবার জন্যে যাদের ডাক পরেছিল তাদের মধ্যে কেউ শুধু ছিল ভুটিয়া কিম্বা নেপালি! সুনীলের কথা শুনে আমার মনে হছিল, আমি ব্রহ্মপত্র উপত্যকার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বসে আছি। সেখানে বক্তব্য রাখছেন কোনো অসমিয়া বুদ্ধিজীবি। বলছেন, "গিয়ে দেখুন না বরাক উপত্যকাতে! ওখানে অসমিয়া আর আগের মতো পাবেন না। ওখানকার বেতারে বাজে কেবল বাংলাদেশের গান!' পাঠকের মনে পড়বে বিখ্যাত অসমিয়া বুদ্ধিজীবি ইসমাইল হোসেন চাকরি সূত্রে শিলচর থেকে গুয়াহাটি গিয়েই "সাদিনে' বেশ ক'টি সংখ্যাতে সেরকমই অনেক কথা লিখে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। বহু অসমিয়াও তখন তাঁর বিরুদ্ধে তখন কলম ধরেছিলেন। সুনীল ইংরেজির পক্ষেও বেশ কিছু সওয়াল করেছিলেন। আমি শুধু তখন প্রশ্ন করেছিলাম, ইংরেজির এই আধিপত্য অক্ষত রেখে কী বাংলার প্রচার প্রসার সম্ভব বলে তিনি মনে করেন? তিনি কী উত্তর দিতে পারেন, "দেশ' পত্রিকার পাঠকেরা তা ভালই জানেন।

আরও পড়ুন...

স্বরাজিয়া সাধন নয় সহজিয়া সাধন

অর্পিতা ব্যানার্জী

আরো একটি ব্যাপার হয়েছে। দূরের ঘটনা হিসেবে প্রাক-স্বরাজ সময়টি আমাদের কাছে কতকটা যেন polemic-হীন সময় হিসেবে প্রতিপন্ন হয়। যেন তারই প্রমাণ হিসেবে আমরা বিনা চিন্তা-ভাবনায় গান্ধী-ক্ষুদিরাম-রবীন্দ্রনাথ-সুভাষ-নেহেরুদের ছবিকে মালা পরিয়ে এক লাইনে বসিয়ে দিতে পারি। অবশ্য তৃতীয় ব্যক্তিটিকে আমরা সচরাচর স্বাধীনতার জন্মদিনে মনে করি না (তাঁর "জনগণমন' বা "ও আমার দেশের মাটি' ছাড়া)। আমরা প্রাক-স্বাধীনতা যুগের কথা ভাবি অনেকটা গোটা মহাদেশের ম্যাপ দেখার মত করে, উঁচু-নীচু বন্ধুরতা সব কেমন সমান মাপের মনে হয়। মনে হয় স্বাধীনতা নামের আগুনের কুন্ডের চারপাশে সবাই একই মাপের চামচ দিয়ে ঘি ঢেলে ঢেলে যজ্ঞ করেছেন। আমাদের এই ঝাপসা উত্তরাধিকার স্বাধীনতার জন্মদিন পালনের ব্যাপারেও এক সমালোচনা-হীন দেশপ্রেমী "নাগরিকবৃন্দ' বানিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন...

জঙ্গলমহলে চিকিৎসক সহ অন্যান্যরা গ্রেপ্তার

রাজেশ দত্ত

এখন তাঁদের প্রশ্ন, নতুন মূল-তৃণমূল কংগ্রেস জোট-সরকার মোবাইল মেডিক্যাল ভ্যান চালু করার যে প্রতিশ্‌রুতি দিয়েছিল, তা এলাকায় আজও বাস্তবায়িত হয়নি কেন। গ্রামবাসীরা এখনও তাঁদের এলাকায় জনস্বাস্থ্যের প্রতি সরকারি অবহেলা, উদাসীনতার বিরুদ্ধে সরব। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা চালু রাখতে যৌথবাহিনী, পুলিশ ও কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতারা বাধা দিচ্ছেন বলে তাঁরা সরকারের দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে উপেক্ষা করে জ্ঞপুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটিঞ্চ চাকাডোবা সহ অন্যত্র বন্ধ হাসপাতালগুলো আবার চালু করার জন্য গণউদ্যোগের ডাক দিয়েছিল। সেই উপলক্ষেই আজ চাকাডোবায় স্থানীয় বাসিন্দারা বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় উদ্বোধন করে গ্রামের ঘরে ঘরে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি গণসমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। সিদ্ধার্থ গুপ্ত, অভিজ্ঞান সরকার প্রমুখদের সেই সমাবেশ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই যৌথবাহিনী বাধা দেয় ও এলাকার "শান্তি বিঘ্নিত' করার দায়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। জঙ্গলমহলের অন্যান্য গ্রাম থেকে গ্রামবাসীরা বাসে করে চাকাডোবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছিলেন। যৌথবাহিনী তিনটি বাসকেও মাঝপথে আটক করেছে।

আরও পড়ুন...

গরমের ছুটি ১৩৪৪ ও তার আগুপিছু কয়েকটি দিনঃ ঠাকুরের সহিত কথঞ্চিৎ

গৌতম চৌধুরী

দেহমনে ভাঙনের পদশব্দ, তথাপি আলমোড়া হইতে শান্তিনিকেতন ফিরিবার পর নানান কর্মকাণ্ডে জড়াইয়া পড়িতেই হয়। সহসা মন উতলা হইল, দিনকয়েকের জন্য একবার পতিসর মহাল ঘুরিয়া আসিবার জন্য। শান্তিনিকেতনের রাঢ়ভূমি হইতে বরেন্দ্রির খাল-বিল-নদী-নালা ঘেরা সেই শ্যামল জনপদে। সেই গহন জলযাত্রার পূর্বেকার স্মৃতি তো তাঁহাকে ছাড়ে নাই -

আরও পড়ুন...

গানের ঝর্ণাতলায় - প্রথম কিস্তি

দীপঙ্কর বসু

বেজায় ঘাবড়ে গিয়েছিলাম মায়াদির প্রস্তাবে। এমন একজন প্রথমসারির জনপ্রিয় শিল্পীর সামনে বসে তাঁকে গান শোনানোটা খুবই চাপের কাজ বলে মনে হয়েছিল। কী জানি হয়ত আমার মত এক অখ্যাত শিল্পী যশপ্রার্থী নবযুবকের গান তেমন মন দিয়ে শুনবেন না অথবা শুনলেও "বাহ, বেশ হয়েছে, অথবা কিস্যু হয়নি' জাতীয় কোন সাধারণ মন্তব্য করে দায় সারবেন। কিন্তু এমন একটা অশ্রদ্ধেয় চিন্তা মাথায় এসেছিল জর্জদাকে চিনতামনা বলেই। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হবার পর তাঁরই মুখে গল্প শুনেছিলাম ঢাকায় কোন একটি আসরে গাইতে বসে কলকাতার মোটামুটি জনপ্রিয় এক গায়িকাকে শ্রোতাদের একাংশের অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। জর্জদারও সেই আসরে গান গাইবার কথা ছিল। কিন্তু একজন শিল্পীর প্রতি দর্শক-শ্রোতাদের এ হেন দুর্ব্যবহারে ক্ষুব্ধ জর্জদা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। আয়োজকদের বলেছিলেন যে আসরে শিল্পীদের এভাবে অপমানিত হতে হয় সে আসরে তিনি গান গাইবেন না। জর্জদার প্রতিবাদে কাজ হয়েছিল - অনুষ্ঠনের উদ্যোক্তারা সংশ্লিষ্ট গায়িকার কাছে মার্জনা চেয়ে নিয়ে কোনমতে অনুষ্ঠানটি চালাতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন...

২২শে শ্রাবণঃ রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে

তাতিন বিশ্বাস

এইসব জ্ঞান শতবর্ষপ্রাচীন লেখনীর। এইসব গান শতবর্ষেরও পূর্বে স্বরলিপিকৃত। অথচ আজিকার এই ন্যানো-বায়ো প্রযুক্তসভ্যতার শিখরদেশে, দূরবর্তী সম্পর্কের ট্রমাঘোরের সাইকো-বিশ্লেষণে, অনির্দিষ্ট যুক্তিজালের ফাজিনেস্‌-এর মধ্যেও সেই প্রাচীন অক্ষর আর প্রাচীন সুরতালের মন্দ্ররোল শুনিতে পাইতেছি আমরা। প্রায় নিরুচ্চারে রাতের পাখির ন্যায় একাকী গভীরে প্রতিভাত হয় বাণী তাঁর। আমরা বুঝিব না, এই বাণী অনাগতকালের আবার ইহারই উচ্চারণ বিশ্ববীণার তন্ত্রীসমূহে স্থলে জলে নভতলে উপবনে অসীমকালের হিল্লোল হইয়া বাজিয়াছে? আর ঠিক সেই কারণটিতেই, আজিকার এই খণ্ডমুহূর্তে, এই সামান্য জীবনের বারিসিক্ত আচ্ছাদনটিতেও আমাদের উদ্বেলতার উদ্ভাস লইয়া শ্রুত হইতেছেন তিনি, গুরুদেব।

আরও পড়ুন...

মকবুল বললেন ।।।

কবীর সুমন

তাহলে বোধহয় নিয়ম করে দিতে হবে ট্রাফিক লাইটের ধরো বেশ কিছুটা আগে
থেকে হর্ণ বাজবে না।

অসম্ভব, হাসপাতালের সামনে হর্ন বাজানো বারণ।
বাজে না?
হুঁ, এস এস কে এম হাসপাতাল, বাঙ্গুর হাসপাতাল দেখো না, প্রতিটা হাসপাতালের সামনে যেন আরও দ্বিগুন উৎসাহে লোকে, গাড়ীর সব চালকেরা হর্ন বাজায়।
কেউ কোনো নিয়ম মানে এ দেশে?

ঠিক, তাহলে ওই প্রচণ্ড আওয়াজ, হর্নের আওয়াজ মানে এক সেকেণ্ড সামনের গাড়ীটা স্টার্ট নিতে দু সেকেণ্ড দেরী করল কি পেছনের সব কটা গাড়ী এক সাথে ভ্যা ভ্যা ভ্যা ভ্যা ভো ভ্যা ভি ভ্যা আরম্ভ করে দিল
কারও ধৈর্যের বালাই নেই।
এর মধ্যে কি করে লোকে গান শুনবে!
এতো গেল একটা দিক, আর একটা দিক আমি ভাবছিলাম, কবীর
ভাবছিলাম ধরো ওরই মধ্যে কেউ একজন শুনে ফেলেছেন

আরও পড়ুন...

রবিঠাকুর আমাদের বাড়িতে নিষিদ্ধ ছিলেন

মলয় রায়চৌধুরী

ছোড়দি সেতার বাজিয়ে গেয়েছিলেন, সঙ্গতে তবলায় পন্ডিতজি। গান শেষ হতে, বড়ো জ্যাঠা আর সতীশ কাকা দুজনেই দুষলেন পন্ডিতজিকে, অমন ম্লেচ্ছ গান শেখাবার জন্য। পন্ডিতজি তর্ক দিয়েছিলেন যে শহরের বহু গণ্যমান্য বাঙালি পরিবারে তিনি এই গান শিখিয়েছেন। তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, তারা সব ম্লেচ্ছ পরিবার, অব্রাহ্মণ। গানটা নিয়ে সমবেত প্রসাদপ্রার্থিরা যে একমত নন, তা স্পষ্ট হয়েছিল বড়িশা-বেহালার জ্ঞাতি দাশরথিজেঠুর এই মন্তব্যে, ""ওহে আমরা নিজেরাই তো ভঙ্গকুলীন, সিরাজদৌলার চাকর, আমাদের আবার মেলেচ্ছো''! ইমলিতলা পাড়ার কোনো বাসিন্দাকে কিন্তু ম্লেচ্ছ তকমা দেয়া হতো না। আমরা পাড়ার সমবয়সীদের সঙ্গে, চোর-পুলিশ খেলার সময়ে, যার বাড়িতে ইচ্ছে ঢুকে যে-কোনও ঘরে লুকিয়ে থাকতে পারতুম, এমনকি নাজিমদের পোড়ো বাড়িতে বা ওদের বাড়ির সামনের মসজিদে। নাজিমের দিদি কুলসুম আপা আমাদের বাড়িতে হাঁসের ডিম বিক্রি করতে এসে, মা আর কাকিমাদের সঙ্গে গল্প করতেন।

আরও পড়ুন...

রবীন্দ্রনাথের ভাষাতত্ত্ব

সুশান্ত কর

আগেকার বৈয়াকরণিক আর আভিধানিকদের গভীর বিশ্বাস ছিল যে সংস্কৃতই বাংলার জননী, আর সংস্কৃত ব্যাকরণই এর আদর্শ। শ্রীনাথ সেন যেমন লিখছেন তাঁর "প্রাকৃত ব্যাকরণ এবং অভিধানে', "বাঙ্গলা ভাষা সংস্কৃত ব্যাকরণের দ্বারা প্রশমিত হইতে পারে এবং তাহা হইলেই ইহার কল্যাণ' তিনি আরো স্পষ্ট করেই লিখছেন, বাংলা ব্যাকরণ," সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুষঙ্গী হইতে পারে, স্বতন্ত্র ব্যাকরণ হইতে পারে না।' সুতরাং দ্বিজে¾দ্রনাথ-রবী¾দ্রনাথ দুই ভাই এবং সাহিত্য পরিষদের অপরাপর বিদ্বজ্জনেরা সেই কাজগুলোই করলেন যেগুলো করলে বাংলাকে বাংলা বলে দাঁড় করানো যায়। কেরি যেখানে লিখেছিলেন বাংলার তিন চতুর্থাংশ শব্দ সংস্কৃত, সেখানে "বাংলা ভাষা পরিচয়ে' গিয়ে রবী¾দ্রনাথ লিখে ফেললেন, "বানানের ছদ্মবেশ ঘুচিয়ে দিলেই দেখা যাবে, বাংলায় তৎসম শব্দ নেই বললেই হয়।' ব্যাকরণের প্রচলিত উপাত্তগুলোকেই ধরে ধরে তাঁরা সমালোচনা শুরু করলেন, আর দেখিয়ে গেলেন সংস্কৃতের থেকে বাংলার তফাৎটা কোথায়। এই করতে গিয়ে রবী¾দ্রনাথকে দেখা গেল অসমিয়া-ওড়িয়া সহ আশেপাশের বেশকিছু ভাষা নিয়েও তুলনামূলক আলোচনাও করে নিতে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর "চর্যাপদে'র আবিষ্কারটাও মোটেও আকস্মিক ছিল না। তাও ছিল বাংলার "বাঙ্গালি'ত্ব আবিষ্কার প্রয়াসের অংশ মাত্র।

আরও পড়ুন...

বাংলাদেশে রবীন্দ্রবিরোধিতার স্বরূপঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং অন্যান্য মিথ্যা মিথ

কুলদা রায় ও এম এম আর জালাল

রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন-এ অভিযোগটি অধুনা পাকিস্তানপন্থী কলমজীবীরা করছেন। কিছু কিছু পাকিস্তানপন্থী পত্রিকায় মাঝে মাঝে এ ধরনের রবীন্দ্রবিরোধিতা দেখা যায়। ফরহাদ মজহার রবীন্দ্রনাথে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক ছিদ্রান্বেষণ করেছেন তার "রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্রপাঠ' বইটিতে। সেখানে রবীন্দ্রনাথকে মজহার কোন ছাড় দেন নি। সাদ কামালী নামে একজন গল্পকার-প্রবন্ধকার ফরহাদ মজহারের ধারাবাহিকতায় রবীন্দ্রনাথে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা, মুসলমান বিদ্বেষ, নারী বিদ্বেষ নানাবিধ ত্রুটি খুঁজেছেন। ড: আহম্মদ শরীফও রবীন্দ্রনাথে প্রজা উৎপীড়ন খুঁজেছেন। অবাক কাণ্ড হল এই রচনাকারদের কোথাও "রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন' - এই তথ্যটি নাই। রবীন্দ্রনাথ যে সব শাক সবজি কলাটা মূলোটা খেতেন, দৈ-খৈ কোথা থেকে খেতেন, কাদের ক্ষেতেখামারে সেসব উৎপাদিত হত -- ফরহাদ মজহার এবং সাদ কামালী নানাপ্রকার খাটাখাটুনি করে তাও বের করে ফেলেছেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন -- এই ধরনের রগরগে অতি বিখ্যাত রবীন্দ্রছিদ্রটি তাদের রচনাতে উল্লেখ করেননি। কেন করেননি সেটা একটা কোটি টাকার প্রশ্ন বটে। এই তথ্যটি সঠিক হলে নিশ্চয়ই তারা তাদের রচনাতে উল্লেখ না করে পারতেন না।

আরও পড়ুন...

স্মৃতিতে শিলাইদহ

মেঘ অদিতি

কুষ্টিয়া শহর থেকে মাত্র কুড়ি মিনিটের পথ শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। দেখতে দেখতে গ্রামের রাস্তার আঁকাবাঁকা পথ ধরে ঢুকতে থাকলাম প্রাচীন শহর কুমারখালী উপজেলায় অবস্থিত শিলাইদহ কুঠিবাড়ির দিকে। একসময় গ্রামটির নাম ছিল খোরশেদপুর। এই গ্রাম ঠাকুররা কিনে নেওয়ার আগে এখানে একটি নীল কুঠি ছিল। প্রবাদ এই যে সেই কুঠিতে শেলী নামের এক নীলকর সাহেব ছিল। পদ্মা ও গড়াই নদীর সঙ্গমস্থলে একটি দহ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই দহর সঙ্গে শেলীর নাম জুড়ে গ্রামটির নাম দাঁড়ালো শেলীদহ বা শিলাইদহ। ঠাকুরদের জমিদারী দেখাশোনা করার জন্য সেকালে শিলাইদহ, পতিসর ও শাহাজাদপুরে কুঠিবাড়ি ও কাছারিবাড়ি নির্মিত হয়,এরই একটি কুঠিবাড়ি এই শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। কবিগুরু ১৮৯৯ ও ১৮৯০ সালে জমিদারী পরিদর্শনে এলেও ১৮৯১ সালে শিলাইদহে জমিদারী পরিচালনার দায়িত্ব নেন। কুঠিবাড়ি পৌঁছানো মাত্রই আমাদের জানানো হল কুঠিবাড়িতে ঢোকার আগে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়রের নির্দেশে কুঠিবাড়ির কাছাকাছি অন্য একটি ভবনে আমাদের জন্য দুপুরের খাবারের যে আয়োজন করা হয়েছে তা সেরে নিতে। পেটে খিদে থাকলেও মন কিন্তু পড়ে আছে কুঠিবাড়ির দিকে। কোনোরকম দুগাল খেয়েই দৌড়ে ঢুকেছি সেখানে।

আরও পড়ুন...

রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহ

সুমিত রায়

নিরাশ হতে হল ছাদে যাবার চেষ্টায়। দোতলা থেকে তেতলায় ওঠার সিঁড়িটিতে নাকি ফাটল দেখা দিযেছে, সেই কারণে এই সতর্কতা। ছাতেই সেই বার্মিজ ঢঙের চন্দ্রাতপ, প্যাভিলিয়ন, কবির অনেকটা সময় কেটেছিল এইখানে। অদেখা ইয়ারোর কিছু স্বপ্ন নিয়েই ফিরতে হল, তবে এভাবে দেখলে ব্যাপারটা হজম করা যায়। এর প্রতিকার করা আজকের প্রযুক্তি কৌশলের কাছে কিছুই নয়, বাংলাদেশে বহু ভালো প্রযুক্তিবিদ আছেন, আশা করি সরকার এতদিনে সব ঠিক করে তেতলা ওঠার পথটা খুলে দিয়েছেন। অসুবিধের মধ্যে গাইডরা সবসময় জিউলির আঠার মতো সঙ্গে ছিলেন, এই এঁদের কাজ, এতে আপত্তি করা যায় না। তাছাড়া যাঁর শবদেহ থেকে শ্মশ্রু উৎপাটিত হয়েছে, তাঁর মশারীর চাল যে চুরি হবে না, সে গ্যারাণ্টি কে দেবে। তবে একটু সময় একলা থেকে স্মরণ করতে পেলে ভালো লাগতো।

আরও পড়ুন...