গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

বিকৃত আদর্শের ব্যবসা

ওয়াক্কাস মীর

ধর্মের মূলকথাই হলো মানবিকতা। ধর্মকে বোঝার আর বোঝানোর মূলকথাও তাই। কোরানের ব্যাখ্যা করতে হলে আগে দেখা দরকার যে আমরা কোন পথে হাঁটবো। আমরা কি সেই পুরনো সময়ে আটকে থাকা আক্ষরিক মানে বেছে নেবো? নাকি দেশ-কালের উপযোগী ভাবার্থকে নিয়ে এগোবো? বলতে বাধ্য হতে হয় যে আমাদের মুসলিম বুদ্ধিজিবীদেরই কোথায় যেন খামতি থেকে গেছে। যাঁরা ইসলামের আসল ব্যখ্যা তুলে ধরতে পারতেন, ধর্মাচরণের রাস্তায় কোথায় যেন তাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন। তার ফলে ধর্মকে লড়াইয়ের হাতিয়ার বানিয়ে একদল তথাকথিত ধর্মগুরু আজ সারা মুসলিম দুনিয়া কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের কাজই হলো মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বোঝানো যে "আমাদের ওপর অন্যায় হয়েছে, তাই এখন শোধ তোলার দিন'। এদেরই প্ররোচনায় মানুষের মনে প্রতিনিয়ত ঘৃণা আর তিক্ততা ভরে যাচ্ছে। আর সেই থেকেই রোজ তৈরী হচ্ছে হাজার হাজার সন্ত্রাসী, খুনে, আতংকবাদী। কোনো অর্থাভাব নয়, কোন বঞ্চনা নয়, শুধুমাত্র ঘৃণা আর বিকৃতির আদর্শ রোজই জন্ম দিচ্ছে উগ্রপন্থার।

আরও পড়ুন...

মকবুল বললেন

কবীর সুমন

এই হাজার দশেক ছেলে মেয়ে চাকরি পাবে পুলিশে মকবুল, খারাপটা কী?

-আহা হা খারাপ কেন হবে কবীর সুমন, দশ হাজার ছেলেমেয়ের চাকরি, সোজা কথা! চাট্টিখানি কথা!
তবে কি,আমি ভাবছিলাম চাকরি তো আরও নানান ক্ষেত্রে হতে পারতো।
এই পুলিশেই দশ হাজার চাকরি, মানে, পুলিশেই?

-তোমার কী মনে হয় কবীর ?

কাউন্টারটা দাও।

-অ্যাঁ এটা তো আমার বলার কথা,আজকে তুমি আমায় কাউন্টারটা দাও।

দেখ মকবুল, আমার মুখ দিয়ে তুমি কিছু বের করতে পারবে না।

-পারবো, পারবো ।
একদিন না একদিন ঠিক পারবো।
কাউণ্টারটা দাও।

আরে, এই সবেতো আমি নিলাম।

-তাতে কি? কাউন্টারটা দাও
শোনো কবীর সুমন, আমি ভাবছিলাম কি, কী চমৎকার একটা পলিটিকাল চাল চাললেন দেখো এই রাজনীতিক। অসামান্য এঁর মেধা, কী তীক্ষ্ণধী ।

আরও পড়ুন...

মহাভারত সপ্তম পর্ব

শুদ্ধসত্ব ঘোষ

বাইরে এখন নরম লাল আলো একটু একটু করে ভেসে উঠছে। রাত্রির অন্ধকার কেমন পা পা হেঁটে চলে যাচ্ছে পর্দার আড়ালে। ওই, স্তবগান শুরু হচ্ছে মন্দিরে! পুত্র ব্যাস যা ব্যাখ্যা করতে চাইছে তা তিনি জানেন। বশিষ্ঠ্য-বিশ্বামিত্র বা ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয় বিরোধ আজ আর বিষয় নয়! আজ নতুন যুগের সঙ্গে নতুন সংকট এসেছে। দেবধর্ম বা বেদধর্ম নয়, ধনের ধর্মই প্রবল এখন। দোয়াবের দুই তীর ধরে যে অসংখ্য নগর গড়ে উঠেছে তাদের কেউ কেউ রাজশাসিত, কেউ কেউ গণের অধীন। সর্বত্রই এখন সামাজিক আইনের বিরোধ চলছে। যেখানে যে আইন আছে, সেখানে সেই আইনই মানুষের অসহ ঠেকছে! কী একটা বিষয় যেন তাকে সর্বত্র খোঁচা দিয়েই চলেছে। কিছুতে তার শান্তি নেই। কিছুতে স্বস্তি পেতে পারছেনা সে। বিলাসের চূড়ান্ত থেকে কৃচ্ছসাধনের শেষ সীমা অবধি গিয়েও যেন কিছুতেই হচ্ছেনা সমাধান। এ বিরোধের প্রকৃতি সত্যি পরিষ্কার নয় সত্যবতীর কাছে। তিনি আর কত বুঝবেন? কেনই বা বুঝবেন? সত্যিই তো, যার সন্তান সে এসে গেছে এবারে। সেই ঠিক করে দিক কে কী করবে? তিনি কেন আর টানবেন এই সব? এই প্রাসাদের বাইরের যে জীবন তাঁকে অমৃতের আস্বাদ একবার দিয়েছিল তারই কাছে ফেরাই উচিত। দূর থেকে ভেসে আসছে স্তব, কান পেতে শোনার চেষ্টা করলেন তিনি। গায়ত্রী, না কি অন্য কিছু? ছাই আজকাল কানেও সমস্যা। হেসে ফেললেন নিজেই। বুড়ি হয়েছ সত্যবতী, বুড়ি। চলো, এবারে তবে বাণপ্রস্থেই চল!

আরও পড়ুন...

চলচ্চিত্রচঞ্চরী- তৃতীয় কিস্তি

প্রবীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

আপাতত আমরা কেবলের দৌলতে বিদেশী সিনেমার সহজলভ্যতার (এবং সেই খাতিরে সাধারণ দর্শকের জ্ঞানোপলব্ধির প্রসার) বিষয়টি পরবর্তী কোনো কিস্তিতে আলোচনার জন্য তুলে রাখলাম। প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটি হল -কেবল টিভি যে সময়টুকু নিয়ে নিচ্ছে তার সঙ্গে সিনেমার উৎকর্ষের কী সম্পর্ক? একথা ঠিক যে কেবল টিভির প্রবেশ (বা অনুপ্রবেশ) দর্শকদের সময়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে অর্থাৎ আপনি যে সময়টুকু আগে সিনেমার পেছনে দিতে রাজি ছিলেন সেই সময়টুকুর দাম এখন অনেক বেশি, কারণ হাতের কাছেই রয়েছে অন্য বিকল্প। একথাও অনস্বীকার্য যে বিকল্পটি তুলনামূলক ভাবে বেশ শস্তাও। আপনি ওই দামি সময়টুকু কখন খরচ করবেন তাহলে? নিশ্চয় থোড় -বড়ি -খাড়া দেখে নয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপনি সিনেমা হলের দিকে তখনই যাবেন যখন আপনি জানেন মনোরঞ্জন কি ইন্টেলেকচুয়াল স্টিমুলেশন যাই আপনার অভীষ্ট হোক না কেন সেটির মান সাদা বাংলায় একদম টপ-ক্লাস। তর্কের এই আঙ্গিকে তাহলে এটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক যে চলচ্চিত্রের গুণগত মান সার্বিক ভাবে বাড়া উচিত চিত্র্যনাট্যই হোক কি সিনেমাটোগ্রাফি কি আইটেম নাম্বার - চাই "আউট অফ দ্য বক্স' ভাবনাচিন্তা। এই থিয়োরি অনুযায়ী তাহলে কম কিন্তু বেশ ভালো সিনেমার এই মুহূর্তে বাজার ডমিনেট করা উচিত কিন্তু সেটা কি আদৌ বাস্তব?

আরও পড়ুন...

এত তাড়াতাড়ি ?

কবীর সুমন

রাজ্য পরিচালনার ভার যে রাজনৈতিক দলের হাতেই থাকুক না কেন, শাসকশ্রেণী অর্থাৎ পুলিশবাহিনীর সঙ্গে তাদের অশুভ আঁতাত যে কোনও সময়েই বিয়ের মত বাঁধনের চাইতেও বেশী শক্তপোক্ত হয়ে দাঁড়ায়, এমনটা যেন একটা অলিখিত নিয়ম হয়ে উঠেছে। আর ঠিক এমনটাই না হলে মনে হয় না যে ক্ষমতাসীন দলটির পক্ষে রাজ্যে শাসন করা আদৌ সম্ভব হবে । গোটা বিশ্ব জুড়ে মানুষ, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক নেতা, সবাই শান্তির কথা বলে, সমস্যা ইত্যাদির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বাতলায়। কিন্তু তারা এই কথা বলে হয় শাসকদল অথবা জোটের অন্তর্ভূক্ত হয়ে, নিজের হাতের মুঠোয় পুলিশি ক্ষমতা রেখে। এ এক আজব পরিস্থিতি; আমি এক রাজনৈতিক নেতা সশস্ত্র পুলিশবাহিনী এবং কম্যান্ডোদের (আমার স্ট্যাটাস যদি তাই হয়) সুরক্ষাবেষ্টনীর মধ্যে থেকে সাধারণ জনগণকে হিতোপদেশ বিতরণ করতে আসবো, তাদের সমস্যার প্রজাতান্ত্রিক সুরাহা দর্শাবো, আমার নিরাপত্তারক্ষীরা পুরো ঘটনার সময় চারদিকে নজর রাখবে, তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে থাকবে, সেইসব সাধারণ মানুষ যারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে তাদের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাবে, কারণ তারা দেখতে চায় কোন ভোট-নাগরিকের হাতে আমার সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা। এত এত সংখ্যক পুলিশ আর সশস্ত্র কম্যান্ডোরা, বিপুল পরিমাণ এই আগ্নেয়াস্ত্রের ভান্ডার রক্ষীদল এবং প্রজাতন্ত্রের হাতে, এসব দেখে আমার মন কু-গায়, হয়ত প্রজাতন্ত্র একটা অতিবিপজ্জনক প্রস্তাবনা - এই বুঝি খুব খারাপ কিছু ঘটে গেল। এইভাবে দেখলে মনে হয় আমাদের গণতান্ত্রিক অব্যবস্থা একটা রূদ্ধশ্বাস থ্রীলার।

আরও পড়ুন...

মরিয়ম মুরমুর ধর্ষিত লাশ অথবা প্রশ্নবিদ্ধ আদিবাসীর মানবতা

সমর মাইকেল সরেন ও বিপ্লব রহমান

আমরা দেখেছি, কিশোরী শেরাপিনাকে গত বছর ৪ এপ্রিল চার জন বখাটে যুবক ধর্ষণ করার পরেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। আসামীরা মাত্র দেড় লাখ টাকায় ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইলে ১০ মাস ধরে আপমানের জ্বালা সয়ে শেরাপিনা এ বছর ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করে। সে সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের সম্মিলিত তীব্র আন্দোলনের মুখে পুলিশ এজাহারভূক্ত আসামীদের গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে মোট ১৩জনকে আসামীও করা হয়। আজও এ ঘটনার বিচার হয়নি।

আরও পড়ুন...

বিজ্ঞাপন-বিরতির পর

শৌভ চট্টোপাধ্যায়

আমাদের ঘরে জিনিশপত্র স্তূপাকার হয়ে ওঠে। আমি শ্যানেলের পারফিউম, আরমানির শার্ট ও রোলেক্সের ঘড়ি ব্যবহার করতে থাকি নিয়মিত। আমার চামড়া ক্রমশ আরো চকচকে হয়ে ওঠে। চুল হয় ঘন। আর রেশমের মতো কোমল। একদিন অফিস যাওয়ার পথে আমার সঙ্গে একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। ড্রাইভারের মাথা ফাটে। ও পাঁজরের চারটি হাড় টুকরো হয়ে ভেঙে যায়। অথচ, আমি অক্ষত থাকি। ও এতে আমার বিস্ময়ের সীমা থাকে না। অফিসে সবাই আমাকে সম্বর্ধনা দ্যায়। ও কুর্নিশ করে।

আরও পড়ুন...

আসামের বাংলা কবিতা চর্চা - দ্বিতীয় কিস্তি

অমিতাভ দেব চৌধুরী

বরাক উপত্যকা ছেড়ে যাওয়া দুই কবি-প্রতিভা স্বর্ণালী বিশ্বাস ভট্টাচার্য ও সপ্তর্ষি বিশ্বাস যেমন অবচেতনেই তাঁদের ভূগোলকে মনের ভেতর গেঁথে নিয়ে চলে যান, তেমনই এই আসাম-দেশেই তো উত্তরবঙ্গের মানচিত্র-প্রান্তর-তিস্তাতোর্ষা মাথায় করে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বসতি গাড়েন দুই কবি- বিকাশ সরকার আর অভিজিৎ চক্রবর্তী। তারপর কি হয় দেখুন। বিকাশ এই ভূগোলে বসেই তাঁর শৈশবের গ্রাম গয়েরকাটার দিকে এক অনন্ত মানসভ্রমণে মেতে ওঠেন। মানচিত্রের অবরোধ ভেঙে পড়ে। এক প্রান্তিকতা আরেক প্রান্তিকতাকে কাছে টেনে নেয়। কারণ কে না জানে, আজকের এই রাজনৈতিক মানচিত্রে কলকাতার কাছে উত্তরবঙ্গ এখনও এক প্রান্তই।

আরও পড়ুন...

বাউনের খাদ্যপ্রেম - দ্বিতীয় কিস্তি

রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য

তবে কবিরাজ গোস্বামী হিং দিতে কিন্তু বলেন নি। এটার নাম তিনি দিয়েছিলেন- দুগ্ধতুম্বী ( তুম্বী= লাউ)। এরপর, শ্রীরাধার মনে হলো- না:! কম পড়ে যাচ্ছে!!!! আবার তিনি কচি মোচা কেটে ," মরিচাঘ্য' রাঁধতে বসলেন। মোচার ছোটো ছোটো শস্য গুলো ঝিরি ঝিরি কেটে জলে ডুবিয়ে খানিকক্ষণ রেখে দিলেন। তারপর, দুধ, মরিচ আর হিং দিয়ে ঘন ঘন নেড়ে ফুটে গেলে নামিয়ে রেখে ঠাণ্ডা হতে দিলেন।

কবিরাজ গোস্বামী হিং দিতে এখানেও বলেন নি! শ্রীকৃষ্ণ হিং ভালোবাসতেন কিনা জানা যায় না, তবে কবিরাজ গোস্বামী হিং ভালোবাসতেন না- এটা পরিস্কার! এত কিছু করে, শ্রীরাধার মনে হলো, এবার কিছু "অম্ল' বা টক তৈরী করতে হবে। আজকাল হলে শ্রীকৃষ্ণ এত কিছু খাবার পর জেলুসিল খেতেন! কিন্তু, তখন তো ওসব পাওয়া যেত না! দেখি! শ্রীরাধা কী কী রাঁধলেন!!

আরও পড়ুন...

১৯৭২ থেকে ২০১১ঃ জুম্মজাতি কি আবার ঐক্যবদ্ধ হবে?

হরিকিশোর চাকমা

১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন কমিটি তৎকালীন সাংসদ ও জুম্ম জাতির মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এমএন লারমা) পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিসত্ত্বাগুলোকে সংবিধানে অন্তর্ভূক্তির দাবি এবং সংবিধানে পাহাড়িদেরও বাঙালি হিসেবে পরিচিতি দানের প্রতিবাদ বিবেচনায় নেয়নি। ফলশ্রুতিতে গড়ে উঠেছিল আন্দোলন। সে আন্দোলন এক পর্যায়ে সশস্ত্র আন্দোলনে রূপ নেয়।

দীর্ঘ তিন দশকের রক্তক্ষয় আর অর্থ সম্পদ ধ্বংসের পর সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্যচুক্তি। সমস্যার কি সমাধান হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে আদিবাসীরা বলবেন, "না' "না' "না'। আর আওয়ামীলীগ সরকার বলবে "হ্যঁ¡' ।

আরও পড়ুন...

গাণ্ডু- একটি বঙ্গীয় ওভারডোজ

প্রবীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


নীরদ সি. "আত্মঘাতী বাঙালী' বইটিতে তাঁর অননুকরণীয় ভঙ্গীতে বলেছিলেন "বাঙালীর জাতীয় যৌবনের প্রভাতের কথা দূরে থাকুক, সন্ধ্যার কথাও কেহ বলে না। শুধু উহাই আত্মঘাতী হইবার একটা লক্ষণ'। সেই হিসাবে "গান্ডু' সম্পর্কে কিছু কিলোবাইট খরচা না করলে শুধু যে কৃপণ হিসাবে বদনাম রটার সম্ভাবনা থাকবে তাই নয়, নীরদীয় উবাচ অনুযায়ী ব্রহ্মপাপী হয়ে থাকতে হবে। এখন প্রশ্ন একটাই - "গান্ডু' কি বাংলা সিনেমার ভোরের সূর্য নাকি মধ্যরাত্রির অন্ধকার? সে উত্তর দেওয়ার আগে কিছু প্রাককথন নিতান্তই দরকার।

আরও পড়ুন...

বাউনের খাদ্যপ্রেম - প্রথম কিস্তি

রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য

"আমাদের জলখাবার সম্বন্ধেও তাহার অত্যন্ত সংকোচ ছিল। আমরা খাইতে বসিতাম। লুচি আমাদের সামনে একটা মোটা কাঠের বারকোশে রাশকরা থাকিত। প্রথমে দুই-একখানি মাত্র লুচি যথেষ্ট উঁচু হইতে শুচিতা বাঁচাইয়া সে আমদের পাতে বর্ষণ করিত। দেবলোকের অনিচ্ছাসত্ত্বেও নিতান্ত তপস্যার জোরে যে-বর মানুষ আদায় করিয়া লয় সেই বরের মতো, লুচি কয় খানা আমাদের পাতে আসিয়া পড়িত তাহাতে পরিবেশনকর্তার কুণ্ঠিত দক্ষিণহস্তের দাক্ষিণ্য প্রকাশ পাইত না। তাহার পর ঈশ্বর প্রশ্ন করিত,আরো দিতে হইবে কিনা। আমি জানিতাম, কোন্‌ উত্তরটি সর্বাপেক্ষা সদুত্তর বলিয়া তাহার কাছে গণ্য হইবে। তাহাকে বঞ্চিত করিয়া দ্বিতীয়বার লুচি চাহিতে আমার ইচ্ছা করিত না। বাজার হইতে আমাদের জন্য বরাদ্দমত জলখাবার কিনিবার পয়সা ঈশ্বর পাইত। আমরা কী খাইতে চাই প্রতিদিন সে তাহা জিজ্ঞাসা করিয়া লইত। জানিতাম, সস্তা জিনিস ফরমাশ করিলে সে খুশি হইবে। কখনো মুড়ি প্রভৃতি লঘুপথ্য, কখনো-বা ছোলাসিদ্ধ চিনাবাদাম-ভাজা প্রভৃতি অপথ্য আদেশ করিতাম। দেখিতাম, শাস্ত্রবিধি আচারতত্ত্ব প্রভৃতি সম্বন্ধে ঠিক সূক্ষ্মবিচারে তাহার উৎসাহ যেমন প্রবল ছিল, আমাদের পথ্যাপথ্য সম্বন্ধে ঠিক তেমনটি ছিল না।'

আরও পড়ুন...

আসামের বাংলা কবিতা চর্চা- প্রথম কিস্তি

অমিতাভ দেব চৌধুরী

বষয়টিকে একটু বিশদ করার প্রয়োজন মনে করি। যে কোনও বাঙালিরই মানসভুবন কলকাতা আর দেশভাগে বাস্তুচ্যুত বাঙালির শিকড়ভুবন পূর্ববঙ্গ। বাস্তুচ্যুত যে কোনও বাঙালি কবিরই নান্দনিক জগৎ কলকাতায়, সেখান থেকে ইশারা আসে, খবর আসে। সেখানকার আলো হাওয়ায় কেলাসিত হয়ে বহির্বিশ্বও তার কাছে এসে ধরা দেয়। আবার তার প্রাণের শিকড় তো, অন্তত গত শতাব্দী পর্যন্ত, চারিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের কোনও চোখে না দেখা-নাম শোনা কিংবা চোখের দেখা-প্রাণের-কথায়-ভরা গ্রামে। সেখান থেকে কি আসত? আসত স্মৃতি আর রূপকথা। কিন্তু তার বাস্তবের পৃথিবী? দেশভাগের পর বাস্তুচ্যুত বাঙালির বাসভুমি তো ছড়িয়ে আছে আবিশ্ব - নিউ ইয়র্কের পানশালা থেকে আসাম কিংবা মিজোরামের অনাবাদী জমির পাশের ঘাসবৃক্ষ পর্যন্ত।

এখন, এই বাস্তবের পৃথিবীর শিশিরবিন্দুগুলিকে ভালো না বেসে, তার থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে কবি যদি শুধু ঘুরে বেড়ান এক অতৃপ্ত মানসলোকে কিংবা স্মৃতিপৃথিবীতে - তাঁর এই পর্যটন তো, পুরাণের ভাষায় বললে, গণেশের সেই মাতৃপ্রদক্ষিণ, যা আসলে কার্তিকের প্রকৃত ভ্রমণটিকে দাবিয়ে রাখার জন্য বানানো এক নিপুণ কথার ফাঁদ।

তো একজন কবির তো আসল সত্যটা জানা চাই। কথার ফাঁদ কতদিন আটকে রাখবে তাঁর কবিত্বকে? আর এই কথার ফাঁদ থেকে মুক্তি পেয়েছে আসামের বাংলা কবিতা তার আশ্চর্য ভূগোল-সচেতনতায়। মূলত দুই দুটি বিশ্বযুদ্ধের কারনে বিগত শতাব্দীটি ছিল কাঁটাতারের আর উদ্বাস্তু প্রব্রজনের। তার ভূগোল-চেতনার মাধ্যমে আসামের বাংলা কবিতা সব মানস-কাঁটাতারকে অগ্রাহ্য করার শক্তি পেয়েছে।

আরও পড়ুন...

মহাভারত ষষ্ঠ পর্ব

শুদ্ধসত্ব ঘোষ

না, এই সব নয়। এর বাইরেও আছে আরেকটি জটিল কারণ। সেই কারণ ওই নারী। আর বিদুর নিজেও জড়িয়ে আছেন সেই কারণের সঙ্গে। ওই নারীর শরীরে রয়েছে তাঁর বীজ। সদ্য জানা গেছে সেকথা। মহারাজ পাণ্ডু জানেন কি না তা জানা হয়নি বিদুরের! মহারাজ বলেই বিদুর তাঁকে সম্বোধন করেন। একই পিতার সন্তান হলেও পাণ্ডু বা ধৃতরাষ্ট্র কেউই নিজেরাও কখনো ভোলেননি বা তাঁকেও ভুলতে দেন নি যে তিনি দাসীপুত্র। পাণ্ডু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রাজকুমার থেকে যুবরাজ এবং পরে মহারাজই হয়ে থেকে গেছেন তাঁর কাছে। কিন্তু পৃথার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বা তাঁর বীজ পৃথার শরীরে, এ নিয়ে মহারাজের কী বা কতটা জানা তা প্রকট নয়। মহারাজের ব্যবহারের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

আরও পড়ুন...