বেগম সুফিয়া কামালঃ জন্মশতবার্ষিকী

কবীর সুমন

জীবনে অনেক সময়ই এসেছে যখন আমার স্বদেশবাসী আমার গান নিয়ে নিন্দের ঝড় তুলেছেন,তীক্ষ্ণ সমালোচনায় আমাকে ছিঁড়েখুঁড়ে দিয়েছেন,সে সময়গুলোয় নিজেই নিজেকে অভিশাপ দিয়েছি। নির্বোধ আর ছোটমনের কতজনকেই তো আমাকে নীচু করার চেষ্টায় উঠেপড়ে লাগতে দেখলাম! কিন্তু এই জীবনেই আবার এইরকমও কিছু দুর্লভ মুহূর্ত আছে যখন মনটা কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে -- জীবন আমাকে এই রকম অসাধারণ কিছু ব্যক্তিত্বের কাছাকাছি আসার সুযোগ দিয়েছে বলে, আমার হাত দিয়ে ওঁদের নিয়ে এরকম গান লিখিয়ে নিয়েছে বলে।

আরও পড়ুন...

শিক্ষা বিষয়ক

সলিল বিশ্বাস

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করা, ভাবনাচিন্তা করা, প্রথা বহির্ভূত শিক্ষার সঙ্গে জড়িত থাকা, ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে এই উপলব্ধি হয়েছে যে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা বলে যা প্রচলিত, তার সঙ্গে "শিক্ষা' র সম্পর্ক খুবই কম। স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির এই সিস্টেমটাকে বরং বিদ্যালয়-ব্যবস্থা বলা যেতে পারে। এই ব্যবস্থাটিতে শিক্ষা বস্তুটি অনুপস্থিত থাকে। কিন্তু এই ব্যবস্থা থেকে কিছুই শেখা হয় না তা বলে দেওয়া যায় না। যদিও কেউ কেউ তাই বলেন। এমনিতে ক্লাসরুমে বসে শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রদের যেটুকু ভাবের বিনিময় ঘটে, তাতে ছাত্র ও শিক্ষক উভয়েই যে জ্ঞানার্জন করেন, তা হয় ঘটনাচক্রে। তাই বলা যেতে পারে এই ব্যবস্থার মধ্যে থেকেও ছাত্ররা একেবারে কিছু শেখে না তা নয়। তবে সে শিক্ষার পেছনে এই প্রচলিত ব্যবস্থার অবদান কম। "শিক্ষা' যেটুকু হয় সেটা হয় ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে কিছুটা বাইরে থেকে।

আরও পড়ুন...

পুরুষশূন্য হয়ে যাচ্ছে সুন্দরবন

জয়া মিত্র


আয়লার পর সুন্দরবন গিয়ে আমার মনে হয়েছিল ,যদি আয়লার ধ্বংসলীলা না ঘটতো তাহলে সুন্দরবনের সমস্যা দেশের তো বটেই ,এমনকি রাজ্যের সচেতন মানুষদের কাছেও অজানা রয়ে যেতো । সুন্দরবনবাসীদের মুখে বার বার শোনা যাচ্ছিল ,যদি আয়লার মত বা তার চেয়ে বড় কোনও সমুদ্র তুফান আবার হয়, তাহলে কি হবে । তারপর তিনবছর কেটেছে । আয়লার ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণগুলি বিভিন্নজন, যারা বিষয়টি বোঝেন ও কাছ থেকে দেখেছেন,তাঁরা চিহ্নিত করেছিলেন । সমাধানের উপায়ও বাতলে দিয়েছিলেন ,তার মধ্যে ছিল বাদাবন বাড়ান ,এমব্যঙ্কমেন্ট সারানোর নিয়মিত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বীরভূমের পান্নালাল দাশগুপ্তের পথে ফ্লাড সেন্টার তৈরী পর্‌যন্ত নানারকম সমাধান সূত্র ,এই পরামর্শগুলির পিছনে ভাবনা ছিল ,সমবেদনা ছিল ,ছিল বাস্তব অভিজ্ঞতার জোর ।কিন্তু কিছুই হয়ে ওঠেনি সুন্দরবনে । পানীয় জলের সংস্থান টুকুও নয়।

আরও পড়ুন...

কিছু কালোসিধে কথা বলতে চাই

কাবেরী গায়েন

ভেবেছিলাম লিখবো না, কারণ লিখে খুব কিছু হয় যে সবসময় এমন দাবি করা যাচ্ছে না, এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফাহমিদা বা গণযোগাযোগ বিভাগের মেধাবী ছাত্রী সুতপার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লেখালেখি থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে এসব লেখালেখি করে নিজে খানিকটা সান্ত্বনা পাওয়া যায় যে ছিলাম আমিও প্রতিবাদে, এর বাইরে খুব যে কাজ হয় তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবুও আজ লিখছি বা বলা ভালো যে না লিখে পারছি না এই অন্তর্গত তাড়না থেকে যে সত্যিই যখন আজ রুমানা দেশে ফিরেছেন তাঁর ডান চোখের আলো ফিরে পাবার শেষ আশ্বাসটুকু ছাড়াই তখন ওই যে আমিও ছিলাম প্রতিবাদে কেবল সেই গোঁয়ার সান্ত্বনাটুকুর জন্যই হয়তো এই লেখা। ভেতরে কোথায় যেন একটা শুভবোধ কাজ করছিলো যে অন্তত এক চোখের আলো তার ফিরে আসবে। সেই শুভবোধের, আশার ক্ষীণ আলোটিও যখন শেষ হয়ে গেলো, তখন আমি সত্যিই কিছু কালোসিধে কথা বলতে চাই।

আরও পড়ুন...

রোমানা মঞ্জুর প্রসঙ্গে কিছু ব্যক্তিগত ভাবনা

আল-বিরুনী প্রমিথ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষিকা রোমানা মঞ্জুরের সাথে গত ৫ জুন কি বীভৎস এবং ঘৃণ্য কাজ সংঘটিত হয়েছে সে সম্পর্কে কম বেশি আমরা সকলেই অবগত । কাজেই সে সম্পর্কে আমি নিজে আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাইনা, কেবল সম্পূর্ণ বিষয়টিতে আমার নিজের কাছে কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়েছে, সেটাই আমি এখানে ব্যক্ত করতে আগ্রহী।

প্রথমত, তার সাথে যা হয়েছে সেটা নিয়ে লেখালেখি করতে গিয়ে কিংবা বলতে গিয়ে অনেক জায়গাতেই আমি দেখছি যে বলা হচ্ছে 'তার মত মেধাবী, উচ্চশিক্ষিত একজন নারীর সাথে এরকম ঘৃণ্য কাজ হওয়াটাকে কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না' বা এরকম কিছু কথা। এসব কথার অর্থ কী? তিনি যদি 'মেধাবী' কিংবা 'উচ্চশিক্ষিত' না হয়ে থাকতেন তাহলে কি তার বিরুদ্ধে এই আচরণ গ্রহণযোগ্য হতো ? তিনি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা না হতেন তাহলে কি এই ভয়াবহ আচরণকে অনুমোদন করা যেত ? যখন কারো প্রতি সহানুভূতি জানাতে গিয়ে এরকম স্পর্শকাতর বিষয়ে 'মেধাবী', 'উচ্চশিক্ষিত' এইসকল শব্দ ব্যবহৃত হয় তখন খেয়াল রাখাটা জরুরি, যে যারা 'মেধাবী' কিংবা 'উচ্চশিক্ষিত' হিসাবে সমাজে সেভাবে পরিচিত নন তাদের সাথে এরকম কিছু হলে তখন সেই বিষয়টা প্রান্তিক হয়ে যায়। আমাদের মনে রাখবার দরকার যে কেউ 'মেধাবী', 'উচ্চশিক্ষিত' হোক না হোক কারো সাথেই এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় । এখানে ব্যক্তির শ্রেণীগত অবস্থান, সামাজিক অবস্থানের চাইতেও ব্যক্তি স্ব্‌য়ং বেশী গুরুত্বপূর্ণ , রোমানা মঞ্জুরের সাথে যা হয়েছে সেটা নিয়ে আমরা সকলে যেরকম সোচ্চার সেরকম কিছু আমার বা আপনাদের কারো বোনের সাথে হলেও সকলের সোচ্চার হওয়াটাই কাম্য । এক্ষেত্রে মানুষ নিজে যদি তার সামাজিক অবস্থান , শ্রেণীগত অবস্থানের চাইতে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় তাহলে প্রতিনিয়তই এরকম ঘটনা ঘটে যাবার সম্ভাবনা আরো বেশি ।

দ্বিতীয়ত, রোমানা মঞ্জুরের নিজের যেই শ্রেণীগত অবস্থান, তাতে তার ১০ বছর ধরে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করাটাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে তার নিজের গাফিলতি এবং বস্তাপচা কিছু সংস্কার মেনে চলবার অসমর্থনযোগ্য প্রয়াস হিসাবেই দেখতে পছন্দ করব।

আরও পড়ুন...

একাধিপত্যের অছিলায়

ওয়াক্কাস মীর

চলতি কনস্পিরেসি থিয়োরীগুলোর মধ্যে আমার সবচাইতে পছন্দেরটা হল পাকিস্তানকে বহির্বিশ্বের চোখে হেয় করার জন্য আমেরিকান সেনা ওসামা'কে অন্য কোথাও থেকে অপহরণ করে আবোত্তাবাদে এনে গুলি করে মারে! এটা করতে গিয়ে আমেরিকা নিশ্চই নিজেদের চারটে চপার আর নৌবহরের "এলিট' কম্যান্ডোদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দেখেনি। দু:খের কথা হল, এইধরণের বস্তাপচা থিয়োরী পাকিস্তানের মূলধারার ভাবচিন্তারও একটা অংশ। আসলে, পাকিস্তানকে অপদস্থ করবার জন্য কোনও দেশকেই কিছু করতে হবে না। আত্মবীক্ষণের অণুমাত্র যদি আমাদের মধ্যে অবশিষ্ট থাকে তাহলে একটা দেশ হিসেবে আমাদের লজ্জা বোধ করা উচিত।

আরও পড়ুন...

গো গোয়া

প্রগতি চট্টোপাধ্যায়

"গো গোয়া'। গোয়া পর্যটনের বিজ্ঞাপন। প্রায় প্রতিটি রাজ্য, বিশেষ করে যারা পর্যটনকে ভালোরকম অর্থকরী শিল্প হিসেবে দেখছে, এই ক্যাচ ফ্রেসগুলি নিয়ে আসে। "ঈশ্বরের দেশ', "ভারতবর্ষের হৃদয়'...।

আমাদের "গো গোয়া' স্থির হল অক্টোবরের শেষে। এই সময় কেরালায় দ্বিতীয় বর্ষাকাল। অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর। বিকেল থেকে মেঘ করে আসে, সারা রাত্তির বৃষ্টি। সকাল বেলায় নীলকান্তমণি আলোয় চারিদিক ঝকমক করে। পাঞ্জিম-এও দেখলাম মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের থাকার আস্তানা,শহরের ল্যাটিন পুরোনো হেরিটেজ অঞ্চল ফন্টেইনাস -এ। "পাঞ্জিম ইন'। বেশী পুরোনো নয়, উনিশ শতকে বানানো। রাস্তার দিকে রট আয়রনের "বালকাও'। ঝুল বারান্দা। ভেতরের ঘর,সিঁড়ি , দালানের পাষে মস্ত খাবার জায়গা কলোনিয়াল আসবাব, ছবি,আয়নায় সাজানো। সেরামিকের নীল-সবুজ টালি বসানো ফোর-পোস্টার বেড। ফন্টেইনাসে এই রকমই সব বাড়ী। সদর দরজার দেওয়ালে লাগানো নীল-সাদা হাতে আঁকা আজুলেজো (Azulejo) টালি তে গৃহকর্তার নাম, বাড়ীর নম্বর। রাস্তায় একটু এগিয়ে আঠেরো শতকের সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ।

আরও পড়ুন...

গুয়াহাটি শিলচর পথকথা

সুশান্ত কর

আমি জানি না রেল কিম্বা সড়ক যে পথেই হোক শিলচর যাবার মতো সুন্দর পথ অসমে আর দ্বিতীয়টি আছে কিনা। আমি জানি না, অসমের আর কোথাও দয়াং কিম্বা জাটিঙ্গার মতো সবুজ, স্বচ্ছ নদী রয়েছে কিনা। আমি জানি না ভুবন পাহাড়ের মতো বিশাল রোমাঞ্চকর গুহা অসমে আর রয়েছে কিনা। বাকি সব পাহাড়, অরণ্য, ইতিহাসে ধন্য রাজনীতি, সংস্কৃতি কিম্বা ধর্মের কেন্দ্রগুলোর কথা না হয় উল্লেখ করলামই না। সে গুলো নিয়ে অন্য কখনো, অন্য কোথাও লিখব না হয়। আপাতত দাঁড়ানো যাক।

আরও পড়ুন...

মহাভারত - পঞ্চম পর্ব

শুদ্ধসত্ব ঘোষ

পৃথা, আরেক কন্যকার নাম। রাজা কুন্তীভোজের পালিতা দত্তক কন্যা। জনসমাজে অনেককাল ধরেই পুত্রের মতই কন্যার উপযোগিতা হিসেব করে নেওয়া হয়েছে। সাধারণ সংসারে তার কাজ পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়া বিশেষ করে। কন্যা সন্তান খুব একটা কাঙ্খিত নয়। তার বিবাহের জন্য বড্ড সমস্যা। তাছাড়া সমাজ ভরে আছে দুরাচারে। কোনো রাজশক্তিই একে পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম নয়। কন্যা জন্মালে যে কোনো সময়ে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জারজ সন্তানে সমাজ ভরে যাচ্ছে। কিন্তু সেই কন্যাই আবার উচ্চাকাঙ্খি পরিবারে সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। রাজা থেকে রাজপুরুষেরা কেউই তাকে সে কাজে ব্যবহার করতে পিছপা নয়। আবার সাধারণের মধ্যেও সেই হিসেবে একাংশ বেশ দড়। রাজা কুন্তিভোজও পৃথাকে তাঁর নিজের পুত্রসন্তান জন্মানোয় বংশধারা সুনিশ্চিত হবার পরে থেকে সেই কাজেই ব্যবহার করেছিলেন। মুনি-ঋষি থেকে অন্য রাজন্য বন্ধুরা পৃথার সেবায় সন্তুষ্ট হতেন। সেই সেবার পরে তাঁদের সঙ্গে কুন্তিভোজের সম্পর্ক উন্নতই হত। যদুবংশের যা দশা ছিল তাতে এই সামাজিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক ছাড়া কিছুতেই সম্ভব ছিলনা নিজেকে টিকিয়ে রাখা। কংসের দাপটে ক্রমে ক্রমে অন্ধক, বৃষ?ণি সকলেই ঢাকা পরে যাচ্ছিল। কংসের পিছনে ছিল জরাসন্ধের সবল হাতের আশীর্বাদ। জরাসন্ধের জামাতা সে। কুন্তিভোজ যদি নিজেকে নিরাপদ রাখতে অক্ষম হতেন এই সম্পর্কের সুতোগুলো দিয়ে তাহলে তাঁর দশাও যে কালে মহারাজ উগ্রসেনের মত হত না কে বলতে পারে? কাজেই অন্দরমহলে কুন্তির গুরুত্ব প্রভূত ছিল।

আরও পড়ুন...

লং মার্চের ডায়েরি - ষষ্ঠ কিস্তি

নাসরিন সিরাজ

ভাওয়াল কলেজে পৌঁছে দেখি এলাহী কাণ্ড। স্কুলের ক্লাসরুমের বেঞ্চগুলোকে বিছানার মত ব্যবহার করছেন অনেকে। অনেকে আবার বেঞ্চ সরিয়ে ঘর ফাঁকা করে মেঝেতে কার্পেট বিছিয়ে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেছেন। রান্না করা হয়েছে ভাত, ডাল আর ডিমের তরকারি। প্লেট হাতে সারি ধরে দাঁড়িয়েছেন মার্চাররা। আনু স্যার এর মধ্যে আমাকে বললেন, "এই সবে শুরু। সামনে আরো অনেকবার ডিম খেতে হবে।' আমিও একমত হলাম। এতো মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করতে ডিমের মত শস্তা ও সহজ তরকারি আর হয় না। লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার পেতে বেশীক্ষণ লাগে না। কোন রকম হৈ চৈ ছাড়াই খাবার বিতরণ তদারকি করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। আর মার্চাররাও খাবার নিয়ে কেউ বেঞ্চে বসেছেন, কেউ কেউ গোল হয়ে বসেছেন নিজ দলের সাথে স্কুলের মাঠে চাঁদের আলোয়। খেতে খেতে কেউ বা ছোট খাটো সাংগঠনিক মিটিংও সেরে নিচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন...

ফতোয়া বিষয়ক আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক ফতোয়া নিয়ে দু'চার কথা

মুজিব মেহদী

বিআইডিএস-এর সাম্প্রতিক (২০০৯) এক গবেষণাতথ্য জানাচ্ছে যে, ২০০২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত সময়েই বাংলাদেশে ৩৪৫ জন নারী ফতোয়ার শিকার হয়েছেন। একই বিষয়ে মহিলা পরিষদের দেয়া একটি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ২০০২ থেকে ২০০৮-এর মধ্যে ফতোয়ার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ৩৭৫টি। অথচ ২০০১-এর ২ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী ও বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া ফতোয়াবিরোধী এক রায়-এর বলে এ সময়ে বাংলাদেশে ফতোয়া নিষিদ্ধ ছিল। ফতোয়া আইনগতভাবে নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায়ই যদি দেশে এতগুলো ফতোয়ার ঘটনা ঘটে থাকে, যখন ফতোয়াকে বৈধ বা জায়েজ আখ্যা দিয়ে আপিল বিভাগ নতুন ফতোয়া জারি করলেন, তখন অনেকেই মনে করছেন যে দেশে ফতোয়াসংক্রান্ত পরিস্থিত আরো ভয়াবহতার দিকে যেতে পারে। এ অনুমানের একটা ভিত্তি এই যে, ফতোয়ার সমর্থক দল ও সংগঠন এবং সেসবের নেতৃবর্গ এই রায়ে বিশেষভাবে খুশি হয়েছেন। ফতোয়ার রায় তাঁদের অনুকূলে হওয়ায় নানা নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা ধর্মভিত্তিক দলগুলো এখন নবউদ্যমে নতুন নতুন দাবি তুলতে শুরু করেছে, যথা সংবিধান থেকে "আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস' তুলে না দেওয়া এবং "পর্দা করতে বাধ্য করা যাবে না' মর্মে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করা ইত্যাদি। একেই বোধহয় বলে বসতে পারলে শুতে চাওয়ার ফন্দিফিকির করা!

আরও পড়ুন...

নতুন সরকারঃ কিছু প্রস্তাব -- খসড়া দুই


আগের খসড়াটি পেয়ে অনেকেই নানা মতামত দিয়েছেন। তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ। কিছু মতামতের ভিত্তিতে দ্বিতীয় খসড়াটিও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যথাস্থানে। সেটিই হুবহু আকারে এবার প্রকাশ করা হল বুলবুলভাজায়।
সময়ের চাপে এবারও খসড়াটি ঠিক দানা বাঁধেনি। খসড়াটি আজ প্রকাশিত হলেও যেহেতু এটি পাঠানো হয়েছে যথেষ্ট আগেই, তাই সমস্ত মতামতগুলি নিয়ে এখানে আলোচনাও করা যায়নি। পরবর্তী খসড়ায় অতি অবশ্যই বাকি মতামতগুলিকে স্থান দেওয়া হবে। সে কারণেই এইটি নিয়েও আলোচনা আহ্বান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন...

শ্যাওলা

শক্তি দত্ত রায়

বাবা সত্যি এসে পড়েছেন। ভাইকে ডাকেননি, আমাকে ডেকেছেন। মাও তাড়াতাড়ি হাতটাত মুছে এগিয়ে এসেছেন। বোন ছুটে এসেছে। বাবার সঙ্গে চেন বাঁধা কি সুন্দর কুকুরছানা - কী হবে ওর নাম! তিব্বতীরা এসেছিল। বাবা ভূটান সীমান্ত থেকে একটা উলের কোট আর কুকুরছানা কিনে ট্রেনে বুক করে নিয়ে এসেছেন, আমাদের পুজোর উপহার। মা চা নিয়ে এসে বললেন স্যুটকেসটা কই, ট্রেনের জামাকাপড় ছাড়ো তো আগে, নাও কাপড়টা ধরো। বাবার খেয়াল হলো, তাইতো, কুকুর তো নিরাপদেই এসেছে কিন্তু ওকে গার্ড সাহেবের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে আর মালপত্র আনা হয়নি। তবে হ্যঁ¡, বোনাসের তিনশো টাকা থেকে দুচারটে জামা কাপড় কিনে নিলেই হবে। বাবা সর্বদাই নিরুদ্বিগ্ন। ওমা, পকেটও ফাঁকা। একটুক্ষণ স্তম্ভিত থেকে মা-ই বললো, পকেটমার হয়ে গেল?

আরও পড়ুন...

বৈচিত্র্যে ভয়?

ওয়াক্কাস মীর

সত্যি বলতে কি দেশভাগের পর বাংলাদেশ (তখন বলতো পূর্ব পাকিস্তান) আর পাকিস্তান আলাদা হয়ে গেলে যে দাঙ্গা বেধেছিলো তখন থেকেই সংস্কৃতির আর ভাষা এই দুটো জিনিষ যে একেকটা রাজ্যের কাছে কত জরুরী তা কেউ ভেবেই দেখেনি। যে টুকরো টুকরো রাজ্যগুলো একসাথে মিলিয়ে দেশ তৈরী হলো তাদের সবার মুখের ভাষা যে তাদের পরিচয়ের একটা অঙ্গ এমনটা কারুর মনেই হয়নি। কোন দেশের সরকারের মনে যদি সবসময় ভয় থাকে যে "এই বুঝি রাজ্য গুলো সব আলাদা আলাদা হয়ে পড়লো', তাহলে সেদেশের মূল কাঠামোটাই যে কত নড়বড়ে তা বুঝতে কষ্ট হয়না। তখন মনে এই প্রশ্নটাও জাগে যে "দেশের কাঠামোটা সত্যিই কতটা ফাঁপা? কতদিন আর এমনি "একতা'র ভান করে চালানো যাবে?'

আরও পড়ুন...

সুখ স্বপনে, শান্তি শ্মশানে

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ



'আ স্ট্রীট কার নেমড ডিসায়ার', নাটকের এমন নাম শুনলেই মনে হয় এটা এমন একটা মানুষের লেখা যিনি খুব খুঁটিয়ে রাস্তা দেখতে ভালবাসেন। যিনি বস্তুত এতটাই নির্জন মানসিক পৃথিবীর বাসিন্দা যে এতটা খুঁটিয়ে রাস্তা দেখার অবকাশ পান।রাস্তার গাড়িটার নাম যে ইচ্ছা হতে পারে তা তিনি জানতে পারেন এবং গভীর মমতায় সংরক্ষণ করেন সেই জানাকে। জীবনের যে রাস্তায় এই ইচ্ছেগাড়িটি চলে সেই রাস্তার সম্পর্কে টেনেসির পর্যবেক্ষন নিয়েই এই নাটক।

আরও পড়ুন...

পস্কো আপডেটঃ গ্রামগুলিতে ভোররাতে পুলিশি আক্রমণের আশঙ্কা

পবিত্র ভট্টাচার্য

গতকাল সন্ধ্যা থেকে ওড়িশা পুলিশ বিশাল বাহিনি নিয়ে জগৎসিংহপুর জেলার ঢিঙ্কিয়া এবং গোবিন্দপুরের গ্রাম গুলি ঘিরে ফেলেছে। উল্লেখ্য, গত ছয় বছর ধরে এই গ্রামগুলিই বিতর্কিত পস্কো স্টিল-মাইনিং-পাওয়ার-পোর্ট প্রোজেক্টের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই প্রোজেক্টের বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকারভঙ্গ, পরিবেশ দূষণ, জাতীয় আর্থনীতির বিরোধিতা ইত্যাদি বহু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার তা একরকম জোর করে চাপিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর।

আরও পড়ুন...

উড়িষ্যা ডায়েরি ২০১১ - পস্কো

পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী

২ মে ২০১১ -- কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে উড়িষ্যা সরকারকে পস্কো প্রকল্পের জন্য ১২৫৩ হেক্টর "বনভূমি'র চরিত্র বদল (divert) করবার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলির সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রকের নিজস্ব কমিটির সুপারিশ গ্রাহ্য করা হয় নি। রাজ্য সরকার অবশ্য শুরু থেকেই গ্রামসভার সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতাকে অস্বীকার করে আসছিলেন। শ্রী জয়রাম রমেশ রাজ্য সরকারের ব্যখ্যাই গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন...

কোলকাতার বই

উজান

এই বইটা যারা কোলকাতাকে নোংরা করে আর পরিষ্কার করে তাদের জন্য।

আরও পড়ুন...

দিঘি থাক মাঝখানটিতে

জয়া মিত্র

এদেশের সমাজ, যেকোনো উন্নত সমাজের মতোই, প্রকৃতির দেওয়া জলকে ব্যবহার করবার বহু বহু উপায় জানত। পুকুর তার একটি। নদী থাকে নদীর জায়গায়, তার কিনারে বসে শহর, গ্রাম, শস্যের ক্ষেত। কিন্তু যেখানে বড় নদী নেই? সেখানে জলকে কীভাবে কাছে আনবে মানুষ? সেইসব কাছের জলভাণ্ডার ছিল পুকুর-দিঘি-সরোবর। এদেশে একটা বিরাট সুবিধা এই যে বর্ষার এক নির্দিষ্ট সময় আছে। প্রায় দিন তারিখও ঠিক আছে তার। যে অতিথি অঘোষিত, হঠাৎ আসেন, তাকে নিয়ে গৃহস্থ বিব্রত হতে পারেন, কিন্তু যে অতিথি আগাম খবর দিয়ে, তূরী-ভেরী বাজিয়ে 'রাজব্য উল্বতধ্বনির' প্রবেশ করেন তাঁর জন্য তৈরি থাকার সময় পাওয়া যায়, আয়োজন করা যায়। শেষ বসন্তে জল কমে যাবার পর থেকে পল্লির মানুষেরা নিজের নিজের এলাকার পুকুরের পাঁক কেটে তুলতেন। সেই তোলা পাঁকের কিছু অংশ নিয়ে সারা বছরে ভাঙাচোরা পাড়ের মেরামতি হত। বাকিটা বয়ে নিয়ে যেতেন নিজেদের জমিতে। গ্রীষ্মে শুকনো খরখরে হয়ে যাওয়া সেই পাঁক মাটি বর্ষার আগে আগে 'মই দিয়ে' খেতে ছড়িয়ে দিলে খুব ভালো সার হয় সেকথা জানা ছিল। সম্পূর্ণ গৃহস্থেরা পুকুর কাটাতেন, কেবল নিজের বাড়ির চৌহদ্দিতে নয়, বাইরেও। জল দান করা বড় পূণ্য কাজ ছিল।

আরও পড়ুন...

'জলাভূমিটা বোজানো যেন সত্যিই বন্ধ হয়'

প্রতিমা দত্ত

আমি প্রতিমা দত্ত, স্বর্গীয় তপন দত্তর ওয়াইফ। গত ৬ মে আমার স্বামীকে নৃশংস ভাবে গুলি করে মারা হয়েছে। বালি লেবেল ক্রসিং-এর ধারে। গত সাড়ে তিন বছর যাবৎ তিনি একটি জলাভূমি নিয়ে লড়াই করছিলেন। যদিও তার সঙ্গে আরও অনেক কিছু নিয়েই লড়াই করছিলেন। বালি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক --- তার গ্রাহক সমিতি বানিয়ে উনি লড়াই করছিলেন। যাতে, গ্রাহকরা যে টাকা জমা রাখছে, সে টাকা ফেরত পায়। ইলেক্‌ট্রিক সাপ্লাই-এর জন্য গ্রাহক সমিতি বানিয়ে সেখানে উনি লড়াই করছিলেন। জলাভূমি বাঁচাও কমিটি বানিয়ে সেখানে লড়াই করছিলেন। উনি একটা কথা বলতেন, আমি একটা রাজনৈতিক দলের কর্মী, কিন্তু সেখানে থেকে আমি উপলদ্ধি করছি, রাজনৈতিক দলে থেকে, একটা ব্যানারের তলায় থেকে সব মানুষের জন্য সব কাজ করা যায় না। তাই জন্য নাগরিক মঞ্চ দরকার হয়। আর তাই জন্যই তিনি সিটিজেনস সায়েন্স ফোরাম বানিয়েছিলেন। জলাভূমি রক্ষা কমিটি বানিয়েছিলেন। যাতে বেশি সংখ্যক মানুষকে সাথে নিয়ে এই আন্দোলনগুলো করা যায়।

আরও পড়ুন...

পাথরে পাথরে নাচে আগুন - প্রথম কিস্তি

দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়


ফ্রাস্টু মানে নিমে দত্ত ওরফে নিমচাঁদ দত্ত সময়ে অসময়ে কোটেশন ঝাড়ে জানি,কিন্তু আপিস টাইমে মাল খেয়ে এসে আমারই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে এমন সংস্কৃত শ্লোক ঝেড়ে আমাকেই ঘায়েল করবে ভাবিনি।অতএব জিজ্ঞেস করে যেটুকু বুঝলুম তা আমার পক্ষে নিতান্তই বিড়ম্বনার।আমাদের এই আন্তর্জাতিক আকাদেমিক প্রতিষ্ঠানে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে এসে তার নাকি রীতিমতন গরম লাগছে।তাই সে কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম থেকে এই উদ্ধৃতিটা ঝেড়ে দিয়েছে।দুষ্যন্তের রাজসভায় ঢুকে এমনটাই নাকি মনে হয়েছিল আশ্রমিক শার্ঙ্গরবের।তাঁর মতো নির্জন একাকী তপোবনবাসীর কাছে দুষ্যন্তের ঘ্যাম সভাগৃহ যেন দাবগৃহ,আগুনে গা জ্বলে পুড়ে যায়-।

আরও পড়ুন...

পরমাণু দুঃস্বপ্ন আজও অব্যাহত (হেলেন ক্যালডিকটের সাক্ষাৎকার )

জিতেন নন্দী

হ্যঁ¡, আমি পারি। চুল্লিতে ইউরেনিয়াম ফিশনের সময় প্রায় দু'শ নতুন পদার্থ তৈরি হয়। এর সবগুলোই তেজস্ক্রিয় এবং মানুষের তৈরি। এর কোনোটা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী, কোনোটা কোটি কোটি বছর বেঁচে থাকে। এখন এর মধ্যে অনেকগুলো এক্সরে-র মতো গামা তেজস্ক্রিয়তা বিকিরণ করে। কিন্তু অনেকেই তা করে না। অতএব যখন বাইরে থেকে আসা তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরিমাপ করা হয়, অর্থাৎ আপনাকে একটা তেজস্ক্রিয় পদার্থের আবরণে ঢেকে ফেলা হয়, আপনি এক্স-রে ধরনের কোনো বাইরে থেকে আসা মাত্রা পান। কিন্তু এটা সকলের বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে, যদি আপনি প্লুটোনিয়াম, আমেরিসিয়াম, কিউরিয়াম বা তেজস্ক্রিয় আয়োডিন নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন, যদি পদার্থগুলো খাদ্য-শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে --- অ্যালগি, ক্রাস্টাসিয়ান, ছোটো মাছ, বড়ো মাছ, মানুষ ---- অথবা উদ্ভিদ, যেমন লেটুস, পালং, ঘাস থেকে গরুর শরীরে ও গরুর দুধে --- জৈবগতভাবে সঞ্চিত হয়, তাহলে আপনি আপনার শরীরের ভিতরে এইসব পদার্থ গ্রহণ করে নিচ্ছেন। এগুলো থাকছে, যেমন স্ট্রনশিয়াম ৯০ জমা হচ্ছে হাড়ে। সেখানে এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিমাণ একটি পরিচালন-জিনকে একটি কোষে পরিবর্তিত করে, যার থেকে পাঁচ বছর পরে আপনার লিউকোমিয়া হয়, কিংবা পনেরো বছর পরে হয় ক্যানসার। আর এই ব্যাপারটা অন্য সকল পদার্থের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাই লোকে অস্পষ্টভাবে মাপা কিছু বাইরে থেকে আসা তেজস্ক্রিয়তার মাত্রার সঙ্গে অভ্যন্তরে বিকিরণকারী তেজস্ক্রিয়তার তফাতটা বোঝে না। আর তাই সকলকেই আভ্যন্তরীণ বিকিরণকে বুঝতে হবে। আমি আমার "নিউক্লিয়ার ম্যাডনেস' এবং সম্প্রতি প্রকাশিত "নিউক্লিয়ার পাওয়ার ইজ নট দ্য আনসার টু গ্লোবাল ওয়ার্মিং' বই দুটোতে এই বিষয়টা নিয়ে লিখেছি যাতে সকলে বুঝতে পারে।

আরও পড়ুন...

পরমাণু শক্তি সম্পূর্ণ বর্জন করে শক্তি সমস্যার সুস্থ সমাধান করা সম্ভব

সুজয় বসু

পরমাণু শক্তি চাই না। অনেকেরই ধারণা শক্তির এই চমকপ্রদ উৎসটি বাদ দিলে মানবজাতির শক্তির প্রয়োজন কিছুতেই মেটানো যাবে না। যদি বলা হয় পরমাণু শক্তি তো পৃথিবীতে ব্যবহৃত শক্তির ৬ শতাংশেরও কম যোগান দেয়, যেখানে জৈবভর অর্থাৎ কাঠ-পাতা, জীব-বর্জ্য, জলজ উদ্ভিদ ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায় ১০ শতাংশ। কী এমন প্রভাব পড়বে পরমাণুর অংশটা অন্য উৎস থেকে মেটালে? তখনই শোনা যাবে খনিজ জ্বালানির সীমিত ভাণ্ডারের সমস্যা। তেল-গ্যাস-কয়লার ভাণ্ডার সত্যিই সীমিত। যে ক্রমবর্ধমান হারে এগুলি পোড়ানো হচ্ছে তাতে কয়েক দশকের মধ্যেই তেল-কয়লা সরবরাহে টান ধরবে অবধারিত ভাবেই। ইদানীং আবার তেল-কয়লা জ্বালানোর জন্য অন্য এক গভীর সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে --- বিশ্বের উষ্‌ণায়ন ঘটছে এবং তার প্রতিকারে জোর চাপ বাড়ছে কার্বন-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার দ্‌রুত কমিয়ে এনে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে একটি সহনীয় মাত্রায় আনতে। সব মিলিয়ে এই শতাব্দীতে শক্তি সরবরাহের প্রধান উৎসগুলোর স্থায়িত্ব ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন শক্তির ক্ষেত্রে সাবেকি পথ ছেড়ে নতুন দিশার সন্ধান করতে হবে।

আরও পড়ুন...

জাপানের পরমাণু বিপর্যয়ের কারণ ও ফলাফল

তমাল ভৌমিক

৩ এপ্রিল বিকেলবেলা যাদবপুর চিত্তরঞ্জন কলোনিতে 'শামিল ছোটোদের পাঠশালা'য় মন্থন পত্রিকার পক্ষ থেকে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। এই সভায় জাপানের পরমাণু বিপর্যয় নিয়ে প্রাথমিকভাবে একটা ধারণা দেওয়ার জন্য সুজয় বসুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল এবং অনেকদিন থেকে আগ্রহী আরও বেশ কয়েকজন এই সভায় অংশ নিয়েছিলেন।

সুজয় বসু বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান একেবারে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। হিরোশিমা-নাগাসাকির স্মৃতি এখনও মুছে যায়নি। জাপানিদের মধ্যে পরমাণু বিরোধী যে সংগঠন আছে তা বেশ জোরালো। প'¡শের দশকের শুরু থেকে তারা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছিল। জাপানের শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে একটা সমস্যার মধ্যে থেকে যাবে দেখে তারা শক্তি সমস্যা সমাধানের একটা চেষ্টা করে। কারণ পুনর্গঠনের কাজের জন্য, সব কিছু সারানোর জন্য শক্তি বা এনার্জি দরকার। জাপানের নিজস্ব কোনো খনিজ সম্পদ না থাকায় পরমাণু শক্তির ওপর তাদের একটা আকর্ষণ ছিল।

আরও পড়ুন...

আজম খানঃ প্রথম প্রজন্মের জাগর পুরুষ

ফারুক ওয়াসিফ

লেবানিজ কবি খলিল জিব্রান লিখেছিলেন, 'বিদায়ের সময়ই মানুষ বুঝতে পারে তার সত্যিকার ভালোবাসা'। আজম খানের বিদায়ের লগ্নে তাই বুঝতে পারি, তিনি কী ছিলেন। সাংস্কৃতিক এলিটরা তাঁকে নেননি, শিল্পবাদী বুর্জোয়া সংস্কৃতির কাছেও তিনি 'রাস্তার ছেলেই' ছিলেন। এবং রাস্তা থেকে যা উঠে আসে, মুক্তিসংগ্রামের প্রেরণা থেকে যা জাত হয়, তার মধ্যে প্রতিরোধী উপাদান থেকেই যায়। 'ব্ল্যাক পাওয়ার' মতবাদের প্রবক্তা, ত্রিনিদাদীয়-মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিবিদ কওয়ামে তুরে মনে করতেন, সকল নিপীড়িতের সংস্কৃতি হলো প্রতিরোধের সংস্কৃতি...তাই নিপীড়িত জনগণ থেকে উঠে আসা শিল্পীকে অবশ্যই তার শিল্পের আদলে প্রতিরোধের আদলকে ধারণ করতে হয়'। একাত্তরের বেহাত বিপ্লবের বিপ্লবী, হায় বাংলাদেশের হাহাকার জাগানো আজম খানকে তাই প্রতিরোধী চেতনার শিল্পী হিসেবেই ভাবতে হবে। তাঁকে 'গুরু' বলা হয়, কিন্তু তিনি তার থেকেও বেশি কিছু ছিলেন। সত্তর আর আশির দশকের রাগি কিন্তু সরল যুবকদের দুঃখ, হতাশা, ক্রোধ আর প্রেমযাতনাকে তিনি ব্যক্ত করেছিলেন, হয়ে উঠেছিলেন তাদের ভালোবাসার মানুষ।

আরও পড়ুন...

মহাভারত - চতুর্থ পর্ব

শুদ্ধসত্ব ঘোষ

এর আগে তাঁর নারী সংসর্গের অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি ব্রহ্মচর্য্য পালন করেছেন চিরকাল। কিন্তু মাতৃআজ্ঞা পালন করতে বাধ্য তিনি। তখন তিনি জেনেছিলেন সংস্কৃতভাষী সমাজের নারীর অবস্থা। দুই কন্যাই তাদের চরিত্র এবং সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা একদিকে,অন্যদিকে কৌরব বংশের কঠিন শাসনে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে রমণে,কিন্তু সে অবশ্যই স্বচ্ছন্দ ছিল না। তাদের দুর্ভাগ্য এই যে তাদের সন্তান ধৃতরাষ্ট্র এবং পান্ডুর জন্মকালীন অসুস্থতা তাদের কলঙ্কিত করেছে। কিন্তু এ তাদের অপরাধ নয়। ব্যাস পরে অনেক ভেবে দেখেছেন এ হতে পারে একমাত্র বিচিত্রবীর্য্যের থেকে রোগ সংক্রমণের কারণে। কিন্তু মাতা একথা জানতেন কিনা তা তিনি এখনো বোঝেন নি। তবে সন্তানদ্বয়ের জন্মের পরে তিনি মহর্ষি চ্যবনের গোষ্ঠীর সহায়তা নিয়েছিলেন আত্মচিকিৎসায়। সংক্রমণ তাঁকে বয়ে যেতে যেন না হয় এই কারণে। কিন্তু হস্তিনাপুরের প্রতাপ এমনই যে এই সন্তানদ্বয়ের অক্ষমতার দোষ গিয়ে পরলো ওই রাজকন্যাদ্বয়ের স্কন্ধে। সত্যি, কী মহিমা প্রচারের! তবে তিনি সেই কালে একবারই প্রকৃত সঙ্গমের স্বাদ পেয়েছিলেন এক দাসীর কাছ থেকে, যার গর্ভে জন্মেছে তাঁর সেই সন্তান যাঁকে নিয়ে তিনি কিছুটা গর্ব বোধ করতেই পারেন। বিদুর তাঁর মন কেড়েছে গুণে-বিনয়ে-স্বভাবে।

আরও পড়ুন...

লা জবাব দিল্লি - এক্সট্রা কোচ ৫ঃ ই-গভর্নেন্স কারে কয়?

শমীক মুখোপাধ্যায়

আজ, ২০১১ সালে এই ব্যাপারগুলো অনেক বেশিমাত্রায় অ্যাডপ্ট করে নিয়েছে মিনিস্ট্রির এমপ্লয়ীরা। অন্য সব মিনিস্ট্রির কথা জানে না গ্যঁ¡ড়া, তবে পাওয়ার মিনিস্ট্রির নিজস্ব ইনট্রানেট আছে, নিজস্ব ইমেল সিস্টেম আছে, এমনকি আর ক্যাশ সেকশন থেকে আগেকার মত স্যালারি স্লিপও নিতে হয় না, ইন?ট্রানেটে লগিন করলে সেখানেই ই-পেস্লিপ দেখতে পাওয়া যায়, দরকারমতো ডাউনলোডিয়ে নিলেই হল। ইন?ট্রানেটে সরাসরি চলে আসে এনআইসি-র ডেটা, নর্দার্ন গ্রিড ইস্টার্ন গ্রিড সাদার্ন গ্রিড ইত্যাদির ডেটা, সরাসরি সেখান থেকে কপি করে তুলে নেওয়া যায় প্রয়োজনীয় তথ্য।

আরও পড়ুন...