'বনাম' চয়নের বাহির?

দেবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়

এটা একটা গোদা হিসেব- সংখ্যালঘুর ডলার বিতরণী জয়ের হিসেব। তাই, কেউ কেউ মনে করছেন, দরকার নেই বাপু- এমন তিলকে তাল করে পয়হা নষ্ট করার!! আর সংখ্যালঘু অতিধনী যখন আগেই ঠিক করে রেখেছেন, ডলার দিয়ে কোনো পার্টিকে জেতাবেন, তা হলে আর ইয়ের এপিঠ ওপিঠ –এর বনাম বাইনারি (দুইয়ের লড়াই, এখানে দুইয়ের মধ্যে আবার কোনো গুণগত অমিল নেই) নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন কি? ইভিএমে একটা "ক্যানসেলড' বোতাম দিয়ে দিয়ে দাও না বাবা! পার্টির লোকেরা বড্ডো জ্বালাতন-পোড়াতন করে ভোটের দিন: "ভোট দিতে চলুন- এটা আপনার অধিকার!' আরে নিকুচি করেছি অধিকারের!!! সরকার বাহাদুর আমার অন্য অনেক অধিকার দেন না, তা পেতে গেলে দীর্ঘমেয়াদী মামলা মোকোদ্দমা করতে হয়, আর এই তো ভোটের অবস্থা!!! তার থেকে "বাতিল' বোতাম টিপে আসি চুপচাপ। পার্টি করা ছেলেপিলে বা মেয়েরা বিপদের দিনে পাশে এসে দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন...

দেবকী বসুর কবি, ১৯৪৯ -- নবম কিস্তি

ত্রিদিব সেনগুপ্ত

ঠাকুরঝির উপর ওঝার অত্যাচারের তীব্র সঙ্কটের মুহূর্তে, রাজনের প্রশ্নে, সে উত্তর দেবে, হ্যঁ¡, সে ঠাকুরঝিকে ভালবাসে, কিন্তু সেই বাক্যেও থাকবে একটা "কিন্তু'। এই "কিন্তু' বেয়ে সে চলে যাবে, "জাত', "ঘর' ইত্যাদি প্রশ্নে। তার নিজের বাসনার একটা পরোক্ষ উল্লেখ থাকবে, যখন নিতাই রাজনের কাছে বলবে, বৃন্দাবনের ঘর সে ভেঙে দিতে চায় না, তাহলে বৃন্দাবনের বুকে সেই একই ব্যথা বাজবে, যা তার নিজের হচ্ছে। এই বেদনা হচ্ছে কেন? বাসনা অপরিপূরণে। তাই এই ভাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে নিতাইয়ের বাসনা। কিন্তু তাও দেখুন, "জাত', "বিয়ে' বা "ঘর' ইত্যাদি সামাজিক ভাবে প্রদত্ত ধারণার নিরিখে। মুক্ত স্বতন্ত্র একটি ব্যক্তির নির্জলা বাসনার আকারে, যে ভাবে এসেছিল ঠাকুরঝির উচ্চারণ, আদৌ সেটা আসে না পুরুষ-অবস্থান থেকে। এই জায়গাটা বারবার ভাবায় আমায়, সামাজিক অভিজ্ঞতার নিরিখেও। আমার মনে হয়, সিমোঁ দ বোভোয়ার নিতান্ত ভুল দিয়েছিলেন বইয়ের নামটা। নারী সেকেন্ড সেক্স নয়, ফার্স্ট সেক্স। প্রথম লিঙ্গ নারী। যেখান থেকে নারী বা পুরুষ দুই লিঙ্গই জন্মায়। আমার ভীষণ ঈর্ষা হয় নারী অবস্থানকে, যে জন্ম দেওয়ার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। একটিও মৌলিক পুরুষ অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা নেই যা নারীর হতে পারে না কিছুতেই। কিন্তু দুটি মৌলিকতম অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি নারীর আছে যা কিছুতেই পুরুষের হতে পারে না। এক, গর্ভধারণ ও জন্ম দেওয়া। আর দুই, স্তন্যপান করানো।

আরও পড়ুন...

একাত্তরের অ্যান্টিথিসিস - লাশগণনার ভূতুড়ে ইতিহাস ( প্রথম কিস্তি)

ফারুক ওয়াসিফ

শর্মিলা বোসের "সিভিল ওয়ার' তত্ত্বের ভুল হলো তা পাকিস্তানকে একটি জাতিরাষ্ট্র ভেবেছে এবং মুসলমানিত্বকে সেই জাতিরাষ্ট্রের ঐক্যসূত্র ধরে নিয়েছে। যে পাকিস্তান মুসলমানদের একজাতি বলেছে, সে নিজেই আবার বাঙালি মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েপ্রমাণ করেছে, তারা এক জাতি নয়। ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম ঐক্যটা কংগ্রেসি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল ছিল, এবং রাজনৈতিক কারণেই হিন্দু জমিদার শ্রেণীর ভীতি অপসারিত হওয়ায় ঐক্যটাও প্রয়োজন হারিয়েছে এবং পাকিস্তান ভেঙ্গে গেছে। একে দেশভাগ বলে না, বলে ভাঙ্গন এবং তা রাষ্ট্রের ভাঙ্গন। এর মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র পেয়েছে তার আসল রূপ। যে রূপটা বণিক-সামরিক পাঞ্জাবি এলিটতন্ত্রের, যা ব্রিটিশ-মার্কিনের ঔপনিবেশিক জের বহন করছে, ঔপনিবেশিক ব্রিটেন আর সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার উত্তরাধিকার ও রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। আর বাংলাদেশের আবির্ভাব এই জোটেরই বিরুদ্ধে। যে কোনো রকম উপনিবেশিকতা ও আঞ্চলিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ভাষাভিত্তিক, সেক্যুলার, কৃষকমেজাজি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে। এটাই নিশ্চয় এই রাষ্ট্রের মকসুদে মঞ্জিল নয়, তবে সেটা অন্য আলোচনা। এখন কেবল এই সত্যটা আমাদের মনে থাকা চাই দ্বিজাতিত্ত্বের মিছা আশা এবং ভারতবর্ষীয় একজাতিতত্ত্বের মায়ার নাগপাশের বাইরে এর আবির্ভাব হয়েছিল। আর মান্য করা চাই যে, এই রাষ্ট্রের ভিত নির্মিত হয়েছে সংগ্রামে, রক্তে, অশ্‌রুতে আর আগুনে। যার সম্মান ও সার্থকতা আজ অবধি আমরা দিতে পারি নাই। সংশোধনবাদী ইতিহাস চর্চা এরই সুযোগ নিচ্ছে এবং নিতে থাকবে।

আরও পড়ুন...

উত্তরবঙ্গ - ১৩

শমীক মুখোপাধ্যায়

আমরা দুই বিরহী প্রেমিক চার বছরের মাথায় সেই সকালে প্রথমবারের জন্য মর্নিং ওয়াক করতে বেরোলাম। চা-বাগানের মাথায় হাল্কা লেপের মত জড়িয়ে আছে কুয়াশা, তার বুক চিরে হুশ্‌-হুশ করতে করতে বেরিয়ে গেল আসামগামী কোনও এক্সপ্রেস ট্রেন, কিংবা কে জানে, কামরূপ বা তিস্তা-তোর্সা ঢুকল বোধ হয়। আমরা লেডিজ হস্টেলের দিকের রাস্তাটা ধরলাম। সারা ক্যাম্পাস ঘুমিয়ে, কেউ দেখবে না, কেবল কিছু স্বাস্থ্যসচেতন প্রফেসরদের সাথে দেখা হয়ে যাওয়া ছাড়া, তা, তাতে আর কবে ফোর্থ ইয়ার ভয় পেয়েছে!

লেডিজ হস্টেলও ঘুমিয়ে ছিল, স্বাভাবিকভাবেই। পাশ দিয়ে আমরা বেরিয়ে গেলাম, ল্যাংটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করল। তারপরে কলেজ মোড়ে গিয়ে পাঁউরুটি আর ঘুগনি দিয়ে ব্রেকফাস্ট, ফিরে এসে যে-যার রুমে এসে ঘুম।

আরও পড়ুন...

বিহুঃ অসমিয়া সমাজের আয়ুরেখা নির্মাণের এক সংক্ষিপ্ত ইতিকথা

সুশান্ত কর

এই যে "নামরে জাত' - জাত কিন্তু বিহু গানের এক রকমফেরের নাম। তেমন কোনো শাস্ত্রীয় বিধিবিধান না থাকলেও স্থানে কালে বিহু নাচের যেমন তেমনি গানেরও বেশ রকমফের প্রচলিত রয়েছে । বিহু গানের ঘোষা, পদ, যোজনা, চুটি, বা খন্ড ছিগা নাম , যোরা নাম, জাত (জাত নাম), বহুয়া নাম ইত্যাদি বেশ ভাগ রয়েছে। চুটি মানে ছোট, ছিগা মানে ছেঁড়া, নাম কথাটার অসমিয়া অর্থ গীত , এসছে বৈষ্ণব পরম্পরার থেকে। এই চুটি নামই মূল বিহু। শুরুতে শুধু এগুলোই ছিল। সাধারণত এগুলো চার পংক্তির স্তবক হয়। চুটি নাম দিয়ে বিহুনাম "পকি উঠে' মানে জমে উঠে। বাংলা কবির লড়াইর মতো বিহুতে জোরানামের প্রচলন পরবর্তী ঘটনা । লোকসংস্কৃতির গবেষকেরা একে কী বলবেন জানিনা । এ হলো বিহুর মূল কারক থেকে অপসারণ বা বিস্তার। জোরানামের সময় অব্দি এসে তরুণ জিজ্ঞেস করছে, বাঁহরে আগলৈ চাই পঠিয়ালো/ বাঁহর কোনডাল পোন ( সোজা-লেখক)/ সঁচাকৈ সুধিছো মিছাকৈ নক'বা / তোমার মরমিয়াল কোন? । তরুণী যেন জলের ঘাটে দাঁড়িয়ে জলাজমিতে মহিষ চরাতে ব্যস্ত তরুণকে শুনিয়ে জবাব দিচ্ছে: তিরোতার জনম দি বিধাতাই স্রজিলে/ পুরুষর লগতে যোর/ আয়ো লোকর বোপায়ো লোকর/ তোমাকে বুলি যাওঁ মোর

আরও পড়ুন...

লং মার্চের ডায়েরি - পঞ্চম কিস্তি

নাসরিন সিরাজ

সমাবেশস্থলে পৌঁছে প্রথমেই আমার নজরে পড়ল পথসভায় যোগদানকারীদের পায়ের কাছে পড়ে থাকা হলুদ রঙের গাঁদা ফুলের পাপড়ির ওপর। বুঝলাম জাতীয় কমিটির স্থানীয় কর্মীরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে লং মার্চের যাত্রীদের স্বাগত জানিয়েছেন। খেয়াল করে দেখি শাড়ী পরা, পরিপাটি করে চুল বাঁধা, আর কপালে মেরুন রঙের টিপ পরা একজন তরুণী তখনও একটি ডালা থেকে ফুলের পাপড়ি ছিটাচ্ছেন। ফুল দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেওয়ার রেওয়াজটি এর আগে আমি বিয়ে আর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে দেখেছি। এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ এটিই আমার প্রথম। তাই এক্ষেত্রেও রেওয়াজটি সাধারণ কি না তা নিয়ে আমার মনে সন্দেহ দেখা দিল। তবে স্কুলে থাকতে টেলিভিশনে দেখতাম, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সামরিক শাসক হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হত। সে এতো মালা পেত যে তাতে তার মুখ ঢাকা পড়ে যেত।

আরও পড়ুন...

মহাভারত

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ

এই কি ধর্মগ্রন্থ? এই কি ধর্ম? এ যদি ধর্ম হয় তাহলে অধর্ম কি? অগঠিত একটা দেশকে নিয়ে লেখা খুব কঠিন কাজ। গার্সিয়া মার্কেজের ভূমিটির ইতিহাস এখনো নবীন। আমাদের ঘাড়ে কয়েক হাজার বছরের দায়। একশো না দশ সহস্র বছরের নির্জনতায় আমরা স্থাপিত। কন্ঠস্বর খুঁজে পেতে গেলে নির্মাণ চাই। সেই নির্মাণ আমাকে দিতে পারে একমাত্র মহাভারত, মহা ভারবাচ্য চ বলে না, দর্শন-রাজনীতি-অর্থনীতির যুদ্ধক্ষেত্র বলে। সেই ক্ষেত্র থেকে কি পাই তা জানতেই এই প্রয়াস। ভূমিকা তাই ভূমিকার মতন হল না, আমার মতন অপন্ডিতের ব্যাক্তিগত পাঠের সামান্য খসড়া। মার্জনা করবেন পাঠক আমার এ অক্ষমতা। এই মহাকথাকে জানতে বসেছি। তার লিখিত-অলিখিত সকল চেহারায়। তাই আমার গমনাগমন ডায়নামিক ইতিহাসের ক্ষেত্রে। কল্পনার পাখায় একটি লৌকিক পাঠ নির্মাণ আমার উদ্দেশ্য মাত্র। মহাভারতের এবং মহা ভারতের বিপুল পরিসরের ব্যাস বংশের নির্মিত এবং সংগৃহিত আখ্যানের প্রতিটি প্রান্তকে যথাসাধ্য মন্থন করেই চেষ্টা করেছি এই রূপ প্রস্তুত করতে। কোনো নির্দিষ্ট পাঠের এটি ব্যাখ্যা না, টিকা-টিপ্পনী না, স্বতন্ত্র মহাভারত রচনাই এ ক্ষুদ্রের বিপুল স্পর্ধা। আসন পেতে বসলে পাঠারম্ভ। সর্বশেষ তিরস্কার-পুরস্কার নতমস্তকে স্বীকার্য।

আরও পড়ুন...

কলকাতার কানাচে ৩ -- ভোটবাজার

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

ইনি নিজে অবশ্য কারো কথা ভাবেন বলে টের পাওয়া যায়না। ইনি চান্স পেলেই রাস্তায় হিসি করেন। মেট্রো রেলে থুথু ফেলেন। পুলিশ দেখলেই স্যার বলেন। কাউন্সিলার দেখলেই ধান্দা করতে দৌড়ন। ছিয়ে নিতে ইউনিয়ন করেন। ফ্ল্যাট বাগাতে পার্টি। শ্রমিক হলে শ্রেণীসংগ্রামের নামে কোম্পানি লাটে তোলেন। মালিক হলে কর্মসংস্কৃতির নামে শ্রমিককে ছিবড়ে করে দেবার তাল করেন। বাড়িওয়ালা হলে ভাড়াটের মাথায় গরম জল ঢালেন। ভাড়াটে হলে বাড়িওয়ালার দাড়ি ওপড়ান। বাঘা আঁতেল হলে দেরিদা কপচান। বিপ্লবী হলে শ্রমজীবি মানুষের দু:খে কেঁদে ভাসান। বাড়ির কাজের লোককে ছুটি দিতে হলে মুন্ডপাত করেন। এ-ওর মুন্ডু চেবান। উনি-একে চিমটি কাটেন। জল যেদিকে যায়, প্রাচীন ভেড়ার মতো সেই দিকেই ধাবিত হন। যে পক্ষ সুবিধা দেয়, ইনি তার প্রতিই প্রীত হন। কেবল ভোট এলেই সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে ইনি "সাধারণ মানুষ' হয়ে যান। আর তাঁর দু:খ কেউ বোঝেনা বলে বিলাপ করেন।

আরও পড়ুন...

ইউনুস বিতর্ক (ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়)

রেহনুমা আহমেদ

স্থানীয়, জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক স্তরে ড: ইউনুসের সমালোচক বা সমর্থক উভয় দলই সংখ্যায় বেশ ভারী। ৫ মার্চ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এজেন্সি, মানবাধিকার সংগঠন, মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও অন্যান্যদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাঠানো একটি ইমেইলে হাসিনা তনয় সজীব ওয়াজেদ লিখছেন যে বাংলাদেশে ইউনুসের একমাত্র পরিচিতি নোবেল পুরষ্কার প্রাপক হিসেবে। রাজনৈতিক ভাবে তাঁর কোনও অস্তিত্ব নেই। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে বিশাল আর্থিক দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও তহবিল তছরুপের অভিযোগ এনে সজীব জানাচ্ছেন এর প্রত্যেকটিই ফৌজদারি অপরাধ হওয়া সত্বেও বাংলাদেশ সরকার ইউনুসের বিরুদ্ধে কোনওরকম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হল ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের আরও শোষনের হাত থেকে বাঁচানো।

আরও পড়ুন...

ক্ষুদ্রRিণের বৃহৎ বাণিজ্য

আনু মুহম্মদ

সিডরের ভয়ঙ্কর আঘাতে যে লাখ লাখ মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা। সম্প্রতি দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে একশনএইড পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২টি ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থা সেসব অঞ্চলে কাজ করছে এবং ১৫ লাখ মানুষের কাছে প্রায় ১ হাজার ২শ কোটি টাকা ঋণ আছে। এসব সংস্থার মধ্যে ব্র্যাক, আশা ও গ্রামীণ ব্যাংকও আছে। একই গবেষণায় দেখা গেছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ এতই প্রবল ছিল যে, অনেকেই প্রাপ্ত রিলিফ সামগ্রী, সরকার প্রদত্ত গৃহনির্মাণ সুবিধা বিক্রি করে কিস্তি শোধ করেছেন। অনেকে নতুন ঋণ নিয়ে পুরনো কিস্তি শোধ করেছেন। এই চিত্র অস্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন নয়। গত বছরে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাপত্রে লামিয়া করিম নাকছাবি গরম্ন, মুরগি, ঘরের টিন, আসবাবপত্র বিক্রি করে ঋণের কিস্তি পরিশোধের একাধিক উদাহরণ দিয়েছেন। এ ধরনের বহু ঘটনার সাক্ষী বহু গবেষক ও সাংবাদিক যার অল্পই প্রকাশিত।

আরও পড়ুন...

কী করি

পবিত্র ভট্টাচার্য

তবে ওয়ার্ল্ড কাপটা কিন্তু দেখছিলাম। না না হেলিকপ্টার শট, পাল্লু স্কুপ বা টেরী উংলী দেখতে নয়; আসলে দেখতে চাইছিলাম ধোনি আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা [একমাত্র সচিন বাদে। ভগবানের আবার আঞ্চলিকতা কি?] কি রকম ল্যাজে গোবরে হয়। শরদ পাওয়ার চোট্টামি করে ইডেন থেকে একমাত্র ভালো ম্যাচটা সরিয়ে দুটো পচা পচা ম্যাচ রেখে দিল। কিচ্ছু বলিনি; জাস্ট ওয়াচ করে গেছি। টিভি-রেডিও-খবরের কাগজে বিশ্বকাপ নিয়ে মিডিয়ার মাতামাতি নতুন কিছু নয়। মেরী বিস্কুটের লাকি কুপনে ফাইনালের টিকিট কিম্বা এক কিলো বাসমতি চালের সাথে গাভাস্কারের সই করা ব্যাটও পুরোনো হয়ে গেছে। থালা-বাটি-গ্লাস, ডেকরেটরের বাঁশ, ডায়বেটিসের বড়ি, সুইসাইডের দড়ি, সাবান-স্যাম্পু-ক্রিম, বনমুরগীর ডিম, দাদের মলম, পার্কারের কলম -কাজের অকাজের সব জিনিসকেই এসময় বিশ্বকাপের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। সেটাই রেওয়াজ। ওসব আমরা বড়ো একটা গায়ে মাখি না।

আরও পড়ুন...

টক-মিষ্টি-ঝাল ভোজ

নিয়ামৎ খান

মা গাড়ি চালাতে জানেনা, কাজেই বাবাকেই বাজার যেতে হবে। মঙ্গলবারে আপিস থেকে ফিরে। অবশ্য মাকে সঙ্গে না নিয়ে গেলে হবে কি করে? কি কি লাগবে তা নিজে দেখে বেছে না কিনলে তার আবার চলেনা। দেশে থাকতে তো আমি আর মা রোজ বাজার যেতাম। ঘুরে ঘুরে ফল, সব্জি কেনা হতো, তাজা শাক,হার্বস কেনা হতো। কারুন আর আরভান্দ নদী থেকে ধরা টাটকা মাছ, চাষীকাকুদের খামার থেকে জ্যান্ত মুরগী। সবে তন্দুর থেকে বেরিয়েছে সেই হাতে গরম লাভাশ আর সাংগাক রুটি কিনতাম আমরা। সত্যি বলতে কি এখন বুঝতে পারি যে সেই ছোটবেলাতেই এই বাজারে ঘুরে ঘুরে আমি দিব্যি একজন খাবারদাবারের সমঝদার হয়ে উঠেছিলাম, এদেশে যাকে বলে "ফুডি'। এখানের বাজারে আর আমার যাওয়া হতোনা। বাবারা কতক্ষণ ধরে বাজার করবে তার ঠিক নেই! মানে, ঠিক আছে আর কি, মায়ের মেজাজের সাথে পাল্লা দিয়ে ঠিক হবে কতক্ষণ ধরে ঘোরাঘুরি হবে। দেরি হলেই বুঝবেন যা যা খুঁজছিলো তা পাচ্ছেনা, তাই বাজার একেবারে চিরুনী দিয়ে আঁচড়ানো হচ্ছে। আর এসে পরে যা চমৎকার তার 'মুড'! তখন তার সামনে যায় সাধ্যি কার! "এই পোড়া দেশে কি ভদ্রস্থ শাকসব্জিও পাওয়া যায় না?', "হতভাগারা ফলগুলো পাকা অব্দি গাছে রাখাতে পারেনা?',"কি সব মুরগী! ধাড়ি ধাড়ি, স্বাদের "স' নেই!',"কিছুই পাওয়া যায়না তা রান্নাটা হবে কি তোদের মুন্ডু দিয়ে?', "তার ওপরে এই ছাতার মাথা হাঁটু ব্যথা নিয়ে আমি কি করে এতসব উদ্ধার করবোটা কি করে শুনি?' ইত্যাদি মধুর ভাষন আর কি।

আরও পড়ুন...

শুয়াচান পাখি

কুলদা রায়

এ সময় বিলের মাঝখান থেকে চাঁদ ওঠে। একটু জলে ভেজা। জলের গন্ধ পেয়ে ঝুপ করে লাফ মেরে ওঠে লবটুলি মাছ। মাছের পেটের কাছে লাল। কাটা দাগ। তাই দেখে বাঁশঝাড় থেকে দুটো পাতা হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে ঝরে পড়ল। দরিয়াবানু পাতা দুটো কুড়োয়। তক্ষকের ছায়া খসে পড়ে। দরিয়াবানু যত্ন করে ছায়াটি কুড়োয়। আকাশ থেকে শুয়াচান পাখির মায়া ঝরে পড়ে। দরিয়াবানু ঝিমুতে ঝিমুতে মায়াটুকু কুড়িয়ে নেয়। এই মায়ার মর্ম অপার। সোনাবরুর চোখেমুখে এই মায়াটুকু দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ধরণী, দ্বিধা হও গো মা জননী। এ প্রাণ রাখি কেমনে।

আরও পড়ুন...

রিকশা ফ্যাশনের নান্দনিকতা এবং

কল্লোল মুস্তাফা

সামনের অন্ধকার ভবিষ্যতের আশংকায় দিশেহারা রিকশা শ্রমিকরা উপায়ন্তর না দেখে অবশেষে শুরু করেন ভাঙচুর। সেই ভাঙচুরে স্বাভাবিক ভাবেই গাড়িওয়ালা উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে অফিসগামী পথচারী মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। সেই ভোগান্তির চিত্র, খবর পত্রিকার পাতায় বিশদ ভাবে স্থান পেলেও যে নির্মম বাস্তবতায় রিকশা শ্রমিকেরা এই ""তান্ডব'' চালাতে বাধ্য হয়েছেন তা কিন্তু তথাকথিত গণমাধ্যমে স্থান পায়নি। তাই বাস-গাড়ি থেকে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে পথচারী আহত হওয়ার খবর ছাপা হলেও, কিংবা গাড়ি-যাত্রী শিশুর কান্নার ছবি ছাপা হলেও রিকশা চালকের অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা, বস্তির জীর্ণ ঘরে অপুষ্ট শিশুটির শুকনো মুখের ছবি আমরা পত্রিকার পাতায় দেখিনা। এগুলো গণমাধ্যম না শ্রেণীমাধ্যম?

আরও পড়ুন...

স্টেডিয়ামে আমি, বউ আর মমতাজ যখন বঙ্গশার্দুল দেখছিলাম

আরিফ জেবতিক

খেলা শেষে সেই আশাবাদী মানুষটার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলাম। ভদ্রলোক নির্বিকার মুখে বলল, "ব্যাপার না এটা। বিশ্বকাপের সব গেম কি আমরা একলাই জিতব নাকি? সব দলই তো দুই তিনটা ম্যাচ জিতবে, দুই তিনটা হারবে।' ভেবে দেখলাম কথাটি সত্যি। আজ হেরেছি, কাল জিতব। সেই জেতার দিনের খেলা দেখতে আসার আশা নিয়ে আজ তাই গ্যালারি ছাড়লাম।

আরও পড়ুন...

কলোনির ক্রিকেট

কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্যভাবে বলা চলে ২০০৩-এর বিশ্বকাপ খেলা হিসেবে ক্রিকেটের শেষ হয়ে যাওয়ার শুরু। তবে তার চেয়ে জরুরী ঘটনা হল একুশ শতকে ক্রিকেটে ভারতের একটা জয় এমন একটা জাতীয় উন্মাদনা তৈরী করে যার সামনে দেশের অন্য সমস্ত সমস্যা, লোকের সমস্ত ক্ষোভ এক ধাক্কায় দূর হয়ে যায়। বদলে যাওয়া এক অচেনা দৈনন্দিন সংস্কৃতির প্রতীক এখনকার ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাঠের মধ্যের আচরণ। খেলা হিসেবে ক্রিকেটে অনুৎসাহী যারা তৃতীয় বিশ্বে ক্রিকেটের বাণিজ্যিকরণের মূলে, তারাই ভারতে এই নয়া ক্রিকেট সংস্কৃতির প্রবর্তক - দুর্ভাগ্যক্রমে, যার ফলে ক্রিকেট "ভদ্রলোকের খেলা' থেকে ক্রমশ: দূরে সরছে।

আরও পড়ুন...

কলকাতার কানাচে ২ -- নিউজ চ্যানেল

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

একথা ভাবলে ভুল হবে, স্রেফ আঁতেল সাহিত্য আর গ্রুপ থিয়েটার নিয়েই নিউজ চ্যানেলের সমস্ত মাথাব্যথা। এই জাতীয় এলিটপনাকে কবেই নিউজ চ্যানেল ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছে। ভোটে যেমন, টিআরপিতেও তেমনই একজন দর্শকের একটিই ভোট। তিনি রোগা না মোটা, লম্বা না কালো, আঁতেল না হাড়হাভাতে, তাতে কিস্যু যায় আসে না। এই ব্যাপারে নিউজ চ্যানেল পরিপূর্ণ উত্তরাধুনিক। শিল্পের কোনো রকম হায়ারার্কিতেই তার বিশ্বাস নেই। তাই শুধু এলিট সাহিত্য বা শিল্প নয়, জনতার দীর্ঘ ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারও আজ বাংলা নিউজ চ্যানেলেরই হাতে। নতুন মোড়কে বাংলা লোকসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ বিস্মৃতপ্রায় ফর্মকে তারা তুলে এনেছে জনতার দরবারে, যার নাম খেউড়। এবং এর অবিরত পরিবেশনায় বাঙালি দর্শককুলকে করে তুলেছে মুগ্ধ ও মোহিত।

আরও পড়ুন...