কলকাতার কানাচে - ১ ঃ সেক্টর ফাইভ পর্ব

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

দোকানগুলো অবধি নেমে এসেছে রাস্তায়। সরু রাস্তা আরও সরু হয়েছে। এবং সেখানে পিলপিল করছে লোক। রোগামোটালম্বাসরু। লাইন দিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে দিয়ে নানা রোমহর্ষক কায়দায় এঁকেবেঁকে অটো চলেছে। আমাদের ছোটো অটো চলে আঁকেবাঁকে। অফিস টাইমে তাতে টার্জান থাকে। বাসরা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। নড়েওনা চড়েওনা। কন্ডাক্টররা চিল্লাচ্ছে, রিক্সারা ভেঁপু বাজাচ্ছে, গাড়িরা তেড়ে হর্ন দিচ্ছে, আর বাকিরা শাপশাপান্ত করছে। রাস্তার হরেকরকম দেশি-বিদেশী গাড়ির ভিড়। সিগনালের বালাই নেই। একেকটা মোড়ে জনা ছয়েক করে পুলিশ আর হোমগার্ড আকাশের দিকে লাঠি উঁচিয়ে আছে। গাড়িরা খানিকটা সার দিয়ে চলেই যেখানে খুশি নাক গুঁজে দিচ্ছে। উল্টো দিকের রাস্তা থেকে তখন আরেকগুচ্ছ গাড়ি এসে হাজির হচ্ছে। সবাই মিলে হর্ন দিচ্ছে, খিস্তি করছে, আর যেখানে সেখানে নাক গুঁজে জটটা আরও খোলতাই করে তুলছে।

আরও পড়ুন...

বাঙালির দ্বিধা

খোন্দকার আশরাফ হোসেন

সুলতানি আমলে বিকশিত হয়েছে বাংলা ভাষা। তৎসম-তদ্ভব শব্দভাণ্ডারের সঙ্গে এসে মিশেছে তুর্কি-আরবি শব্দাবলী। বাঙালির প্রকাশ ক্ষমতা পেয়েছে পরিসর এবং "যাবনী মিশাল' ভাষার উত্থানে সৃষ্ট হয়েছে এক ভাষিক দ্বৈরথ, যা আবার দ্বিধাভক্ত করেছে বাঙালিমানসকে। একদল নিজেদের ধর্মপরিচয়ের সূত্র ধরে আত্যন্তিক সংরক্ষণশীলতায় নিক্ষিপ্ত হয়েছে-- নদীয়ার নিমাইয়ের ঊর্ধ্ববাহু যতোই সংকীর্তনে উৎক্ষিপ্ত হয়েছে, ততোই তথাকথিত প্রেমের নদী সম্প্রদায়বিশেষের চোরাখালে প্রবেশ করে হয়েছে রুদ্ধগতি। অন্যদিকে অন্য দল বহুকাল পূর্বে ফেলে আসা ইরান-তুরানকে পিতৃভূমি ভেবে মশগুল হতে চেয়েছে খর্জুরবীথির স্বপ্নবিলাসে; প্রকাশের ভাষা হিসেবে অবলম্বন করতে চেয়েছে অবিমিশ্র বৈদেশিকী ভাষা। এদের লক্ষ্য করে মধ্যযুগের বাঙালি কবিকে উচ্চারণ করতে হয়েছে সেই অমর ধিক্কার; "যে জন বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী/ সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন' জানি'।

আরও পড়ুন...

ছয়ফুল মুলক বদিউজ্জামাল উরফে চান্দু মিয়ার সহি সফরনামা

কুলদা রায়

ইমাম হুজুর শুধু ফরমাইলেন, আপ হামেশা মেরী বাত পর একিন করে। তাহার কাছে সবই জানা। তিনি আসমানে তাকাইলেন। আর অমনি ঝর ঝরাইয়া বারিষ নামল। এই বারিষে বহুদিন বাদ গোসল হৈল। কৈইন্নার চুল ছিড়্যা ছিড়্যা খাডো হৈয়া গেছিল। নয়া চুল গজাইল। হাডু পর্যন্ত কালা চুল নাইমা আইল। হুজুরে আলা কৈলেন, আর তার ছিন্ন কুচযুগল পুনর্গঠিত হৈল। উহা আগের চাইয়া বহুৎ খুবসুরৎ। ঝিল মিল কৈরা ওডে। কৈইন্না ফির বালেগ বনেগা। ইহা অবিশাস্য নয়কো। ইহার রহস্য অপার হে। এই রহস্যের কুন কুল-কিনারা নাই। কারণ তাকে যহন গোরা সৈন্য কি ইনডিয়ার মেলিটারি কি নাবালেগ ছেলে-ছোকরা বাঁশ বাগান হৈতে মোরাকোবা কি হালতে জেলখানার দিকি টাইন্যা লৈতে আসতি আছিল, তহন তিনি অই অবস্থায়ই আঙ্‌গুলি বিস্তার কৈরলেন, আর আছছোরোমের খালডার পাশে পুরানা পাকুড় গাছ ঝপাৎ কৈরা পানির মৈদ্যি পৈড়া গেল। এÉ¡তে এÉ¡তো শব্দ হৈল যে উপারে নতুন ইস্কুলের লগে খান সাবের বাসার ভিতরে এক ঝাঁক রাজহাস প্যাক ফ্যাক কৈরা উডল। খান সাব শ্যাখ সাবের চাচা লাগে। সাং গিমাডাঙ্গা। টুঙ্গিপাড়া। তিনি মৃত লোকদের লিস্টি রচনায় ব্যেস্ত আছিলেন। দৌড়াইয়া আইসা খান সাব কৈলেন, হুজুর...

আরও পড়ুন...

রঙের কুচি

রং এর কুচি !

আরও পড়ুন...

দীর্ঘশ্বাস

অনির্বাণ ঘটক

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

দোল বিষয়ক প্রিল্যুড

শ্রীদর্শিনী চক্রবর্ত্তী

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

আহ্বান

জয়তী ব্যানার্জি

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

দোল-ভাট

সুবীর ব্যারেটো

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

আবাস

সৈয়দ সাইফুর রহমান সকিব

একটু একটু বসন্ত রঙিন হয়, ডালপালা ছড়িয়ে যুবক হাটে গঞ্জে। কিন্তু বাড়ির সামনে দিয়ে একবার অন্তত বুকের রোম দাড়ায়, হৃদয়ে জাগে কোলাহল। বর্ণিল সর্পিল পথে যতদুর চোখ যায় কিছু নয় শুধু এ পথটুকু থমকে থাকে দিন রাত্রি। এখন তোমার অঢেল চুলের রাজ্য। অমন চাহনি পড়তে পড়তে পড়িমরি ধান ক্ষেত সবুজের ফাঁকে কি নিটোল হাসি। ছাড়ো, বিধবার হাত ধরতে নেই যে! এক দৌড় হাসির ফোয়ারা শুনে পেয়াদা পাথর, নীলকন্ঠ শুষ্ক গলা। আবারও অমর হাসিতে ভেঙ্গে যায অন্তিম প্রহর। রাত্রির তারাতে নস্যি হয় নিষেধাজ্ঞা, প্রয়োজনীয় শীতল সিথানে গয়না অনুরোধ। এসো, চলে যাই যেখানে বনেদী অহংকার নাই, ধুকে মরা নাই। সরিষা ঝাঝের মত চোখে পানি তুলে মৃত্যু চাই তোমার, আহারে মন্দা ভাব ক্ষুধা চলে না এখন, স্থির বনবাস মৃত্যু গৃহে।

আরও পড়ুন...

সেই এক ফাগুনবেলা

শ্রাবণী

পিচকারী টিচকারী ও শুধু কিছু দুধেভাতে বাচ্চাদের জন্য, বেলুনও তাই, কারণ এ বাড়ির দোলে রঙ ঢালা হয় বালতি বালতি। বালতির সাইজ অবশ্য ছেলেমেয়েদের সাইজ অনুযায়ী হয়। রঙ গোলাই হয় চৌবাচ্চাতে। বড় বাড়ির কলতলার বড় চৌবাচ্চা খালি করে সেখানে সারা পাড়ার রঙ গোলা হয়। তবে রঙই, কাদা গোবর ইত্যাদি এ দোলে কড়াভাবে বারন। এক এক টার্গেট ঠিক হয় আর পুরো দল প্রায় সেই "আক্রমণ" স্টাইলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বালতি উপুড় করে দেয়। রঙ বরষে তো সত্যিই এ রঙের বর্ষা। কোথাও কোনো শুকনো অবকাশ নেই,আপাদমস্তক রঙে চোবানো হয় এই ভিজে দোলে। বড়রা রঙ খেলেনা তবে রঙ মাখে খুশীমনে আর ছোটোদের নানান ফন্দী বাতলে দেয়। কোনো কোনো গিন্নী অল্প বিরক্তি দেখায়, সন্ধ্যেবেলা আবার চান করতে হবে, তবে সেসবে কেউ পাত্তা দেয় না।

আরও পড়ুন...

দোল ইন্টারন্যাশনাল

সৃজন সমাদ্দার

আমি অবশ্য বাইরে বেরোতাম পাড়ার মাতাল দেখার জন্য। আর অন্য কোনদিন দেখতে পেতাম না। আমার বাড়িতে কস্মিনকালে কাউকে মদ খেতে দেখিনি। দাদু সুনীল-শক্তির যুগে কবি হয়েও খেতেন না। (আত্মীয়দের মতে, এটা ওনার জীবনের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ কীর্তি। প্রথমটা হলো আনন্দবাজারে না লেখা) টিভিতে যদিও দেখেছি উত্তম কুমার মদ খাচ্ছেন। রাজেশ খান্না দোলের দিন মদ খেয়ে আকাশে উড়ছেন, নিচে রেখা। শুধু দোলের দিনই মাতালরা কেন দৃশ্য হয়, এটা সেই আমলে একটা ভাববার মত প্রশ্ন ছিল। আমি বাংলা রচনায় এদের কথা লিখতাম। আমি জানতাম মধ্যরাত্রির নিস্তব্ধতা একমাত্র গির্জার ঘন্টা আর এদের স্খলিত পদক্ষেপেই ভাঙে। তবুও অনেক জানা বাকি ছিল।

আরও পড়ুন...

আগজা

নিনা গাঙ্গুলি

ও হ্যঁ¡ আমাদের বাড়ীর পাশে গুরুদয়াল অ¡র উত্তীমলালের খাটাল ছিল। এই দুই যাদবভাই হোলি সিজন মাতিয়ে রাখত। রাত নটা-দশটা থেকে শুরু হত তাদের যাদব-গোষ্ঠীর হোরি-ধুন চৈতি গান ( হা হা গান না ফয়শ) হেঁড়ে গলায় সুরের ভুষ্টিনাশ, তার সঙ্গে ঢোলক ডুম্‌ডুমাডুমডুম ধ্‌ম , ঠনঠনাঠন খঞ্জুনি --মাঝে মাঝে পাড়ার নেড়ি কুকুর গুলো ভয়ে উঁউউউউ করে কেঁদে উঠত ( না গানে যোগ দিত, কে জানে) আরও রাত করে শুরু হত নৌটঙ্কি নাচ --কি হুল্লোড়! ছোকরা মেয়ে সেজে নাচত যদিও--তা তাও আমাদের ছোটদের দেখা বারণ ছিল--কারণ ভাষা ও অঙ্গভঙ্গি বেশ R রেটেড হয়ে উঠত। ঐ খুব চুরি করে জানলা দিয়ে একটু আধটু যা দেখেছি--খুব রাগ ধরত বড়দের ওপর--সবতাতে যে কেন এত না না ছিল, উফ!

আরও পড়ুন...

বাউলের সাথে পলাশ ফুল

সায়ন্তন গোস্বামী

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

এই বসন্তে

সোমনাথ রায়

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

দোল দোল দুলুনি

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

সরাসরি শান্তিনিকেতন থেকে গুরুর প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন...

রাত ভিনেৎ

অভীক কুমার মৈত্র

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

হোলি

বিক্রম পাকড়াশি

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

ফাগুন

অর্পণ চৌধুরী

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

বসন্ত উৎসব

রবাহূত

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

আমরা শুধু বাংলাভাষায় গদ্য হয়ে ঝরি

সুমেরু মুখোপাধ্যায়

ধীরে ধীরে টের পেতে শুরু করেছি আমি লিখে চলেছি ক্রমাগত। বিভিন্ন রঙের পেন ফেলে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি কালো কালির দামী কলমে। অহরহ দোলের কলম তখন পিচকারী। শুকনো ঘাসের শহরে বেদনার সার সার বোতলগুলিতে জমা রেখেছি ছোট খাট হাফ ও কোয়ার্টার প্রেম। গানশোনা শেষে ক্লাস ঘরে ঢুকে বুঝবার চেস্টা করেছি সাদা দেওয়ালেতে লেখা বৈষ্ণব পদাবলী। কোনদিন যদিও বা বৃষ্টি নামে এই নয়ডা শহরে, তুঘলকী কায়দায় ঘুরে বেড়াই শূন্যমাঠে, ললিতকলা আকাডেমির করিডোরে। এক গভীর চোখের মালায়ালী একদিন তুমুল ঝড় বাগিয়ে বল্লো, এই কাঁচ আর পাথর সব ভেঙ্গেচুরে দাও। যমুনা নদীতে অথচ তখন শুধুই সাবানের ফেনা। এরপর একদিন কাঁচ পাথর ও ভ্রম ভেঙ্গে গেলে কোন এক পূর্ণিমার অস্থির রাতে চলে যাই জয়পুরে। ময়ুরেরা লাফিয়ে পার হয় রাস্তা আর আমি যাই উড়ে উড়ে। ঝকঝকে রাস্তার পাশে ঠান্ডা বিয়ারের আয়োজন ও মেলা প্রলোভন। কাঁদতে গেলে এমনই শুনশান রাত লাগে, এমন শুকনো চারিপাশ আর ওই দরজা ঢাকা চাঁদ। সকাল হতে না হতে সব রঙে ভরে যায়, রাস্তা ঘাট ও ঘর। কানে সর্বদা বাজে তামাটে সারিন্দার সুর, চারপাশে রামধনু দেখি আর বুঝতে পারি অনর্গল যা এতদিন লিখে চলেছি আমি তা আসলেই আমার মফস্বলী বর্মে ফিরে আসার উপাখ্যান, লালজুতো পরা খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তনের সাদামাটা একঘেয়ে কাহিনী। এমনটাই লেখা হবে জানি শুকনো কাঁটায় ঘেরা ঊষর দিন, একা সপ্তহান্তে পাহাড়ে যাই, একা ঘরে কাঁদতে কাঁদতে কলম বন্ধ করে হাসি। ছাত্র- ছাত্রী, টু বি স্পেসিফিক, প্রশান্ত ও পারমিতা এসে ঘরে বসে থাকে দীর্ঘায়িত অন্ধকারে।

আরও পড়ুন...

বয়স

সরদার ফারুক

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

এই বসন্তে

মিঠুন ভৌমিক

দোলকবিতা: ২০১১

আরও পড়ুন...

আজ আমাদের নেড়াপোড়া

তাতিন বিশ্বাস

সভ্যতা এভাবেই ভাবে- ক্রিয়া করে, অর্থের শাস্ত্রই ধর্ম তার। বিনিময়ের অতীত যা যা, তাকে অতীত করে দিয়ে নিয়ে আসে শিল্পবিপ্লব, কলোনি-বানানোর লড়াই, ইনকুইজিশনের নেড়াপোড়া। তবু সেই যজ্ঞের কালি আবির হয়ে গুঁড়োগুঁড়ো মিশে যায় সব চেয়েছির রাজত্বে। বেদবিরোধী শূন্য উপাসক বৌদ্ধ নাগার্জুনের মায়ায় ধর্মসংস্থাপক শঙ্কর ধর্মকেই মায়া ভেবে বসেন। স্তূপের আদল রেখে শিবলিঙ্গ পুঁতে যান মানুষের বাড়িতে বাড়িতে, অবধারিত করে যান খাদ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, ব্রতয় ব্রহ্মচর্য, কর্মে আত্মনির্যাতন । নেড়া বৌদ্ধের মতই শিখা কেটে ফেলেন ব্রাহ্মণ বিশ্বম্ভর মিশ্র। উপবীত ছিঁড়ে ফেলে ভূলুণ্ঠিত হন মোক্ষের উপাস্যে। ভারতের প্রান্তে প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়ে বেদ-বিমুখ জাতবিহীনদের হোলিখেলা। সম্বলে বাঁদরের রঙ, ভাঙের সিদ্ধিদ্রব্য। ক্রমশ: মন্দির বহির্ভূত:, যজ্ঞরহিত উচ্ছ্বাসের সামাজিক সংশ্লেষ তৈরি হতে থাকে আশূদ্র ভারতসমাজে। হোলিকা নিধনের ফাগোৎসবের দিন ইতিহাস মুখ ঘুরিয়ে দেয় লালন সাঁইজির সাধুসঙ্গের উৎসবে, একব্রহ্মের উপাসক রবিঠাকুরের বসন্ত উৎসবে। শূদ্রভারত তো এভাবেই ব্রাহ্মণ্য উৎপাদনতন্ত্রের অত্যাচারের সমস্ত দাগ গায়ে রেখেও, কান্না-অবিচারের ঊর্ধ্বে উঠে যেতে শেখে আনন্দের উপাসনায়।

আরও পড়ুন...

রং না দিলেও

ফরিদা

সেই কজনের ভিড়ে আমি ছিলাম খানিক আবিন্যস্ত। ভিড়ের মধ্যে একজন তো, তাতেই হবে। ঐকতানের মাধ্যে হলেও ঠিক আলাদা আওয়াজটি তার চিনছি তাতেই ফিনকি দিয়ে রঙ ছড়ালো শব্দগুলো। আবীর প্যাকেট হাতেই ছিল। নিজের কাছে অচেনা তাও তোমার কাছাকাছি ছিল। রোদ্দুরে সব ঝলসে ওঠা অভ্রকুঁচি চোখ ধাঁধিয়ে, সেই সুরে এক ডুবতে থাকা খুব অচেনা আবেশ ছিল। ইচ্ছে বলে কিছু একটা অল্প আবীর দিতে চাওয়া অনেকাদিনের স্বপ্ন ছিল। সেই আবেশে ভেসে গিয়ে ভুল ঠিকানায় ঠিক কথাটা স্রেফ একটিবার বলার ছিল। হাজার হাজার রঙের ফোঁটার সেই একটাই জীবন ছিল।

আরও পড়ুন...

ছুঁয়ে দিলে উঠে বসো শিহরণ

সায়ন্তন দে

রামকিঙ্করময় ছেলেবেলা নিভৃতে পথ হেঁটেছিল যেদিন মায়াসার চুপকথা পার হয়ে উপত্যকা বনানীর জালিকাবিন্যাসে বিনষ্টপ্রায় শুকনোধারা নদীর ভাঙতে থাকা পাড় ধরে চলে যায় চলে যায় নিরভ্র দ্যুতি নিরন্তর বিস্তার উপেক্ষা করে ...

আরও পড়ুন...

ব্র্যান্ড ইমেজ

শমীক মুখোপাধ্যায়

একমুখ ধোঁয়া গাল ফুলিয়ে গিলে ফেলে জবাব দিল দীপ্তেন, হ্যাঁ, বলতে পারিস। আসলে ভুবনেশ্বরের কিছু টিপিকাল ব্যাপার আছে। একেকটা রাস্তার মোড়কে এরা "ছকো' বলে রেফার করে। মানে সাদা বাংলায় চক্‌। চক্‌-এর ওড়িয়া হল ছক। আর ওড়িয়ারা তো যে কোনও অ-কারান্ত শব্দের শেষেই একটা করে "অ' লাগায়, তাই ছকঅ। এমনি আছে মেফেয়ার ছকঅ, মানে মেফেয়ার হোটেলের সামনের মোড়, জয়দেব বিহারঅ ছকঅ, ওমফেড ছকঅ, পাটিয়া ছকঅ ইত্যাদি। পাটিয়া চকের মোড়ে সন্ধ্যেবেলায় বাজার বসে, ঐ এলাকার লোকজন সন্ধ্যেবেলায় ওখান থেকেই সব্জিবাজার টাজার করে আর কি।

আরও পড়ুন...

শ্যামাসুন্দরীর ডায়রি- শেষ পর্ব

শতরূপা বসুরায়

কমলাদেবী মেয়ের নিরুদ্দেশ হওয়ার শোক বেশিদিন বুকে ধরে রাখতে পারেননি। একদিন হঠাৎই ঘাট থেকে ফেরার সময় আমবাগানের মধ্যে পড়ে যান তিনি। সঙ্গে তখন কেউ ছিল না। পরে একজন ভিস্তিওয়ালা দেখতে পেয়ে চিনতে পারে কমলা দেবীকে। এসে খবর দেয় বাড়িতে। বিশ্বনাথ আর শ্যামাসুন্দরী আর সুখময়ী ছাড়া বাড়িতে তখন আর কেউ নেই.. বিধবার দল তো আর কমলা দেবীকে ঘাট থেকে তুলে আনতে পারবেন না.. তাই বিশ্বনাথ আর সুখময়ী মৃত ঠাকুমার দেহ ঘাট থেকে টেনে হিঁচড়ে দাওয়ায় নিয়ে এসে ফেলে। সুখময়ী নাড়ী টিপে দেখার আগেই যে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল! কমলা দেবীর ইচ্ছে অনুযায়ী বাড়িতে ২০০ ব্রাহ্মণ খাওয়ানো হয়েছিল। দশ জোড়া গোদান করা হয়েছিল। শ্যামাসুন্দরী সেই কথা বর্ণনা করে লিখছেন (পৃষ্ঠা ১৫০) "এমন জাঁক জমক সুখময়ীর বিয়েতে করলে আমার আত্মার শান্তি হত। মৃত মানুষের জন্য আমাদের সমাজে শোকের থেকে আনন্দ বেশি।' সেই সময়ে একজন গ্রাম্যবধুর কলম থেকে এরকম কথা যে বের হয়েছিল সেটা ভাবতেই আমার সমস্ত শরীরে শিহরণ জেগেছিল। ! শুধু নারী স্বাধীনতা বা নারী মুক্তি নয়। শ্যামাসুন্দরী প্রকৃত অর্থে একজন চিন্তাশীল এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্না মহিলা ছিলেন। ওনার ডায়েরি শুধু তখনকার মহিলাদের কথাই ব্যক্ত করেনি। বরং সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে আমার কাছে ধরা দিয়েছে। ওই ডায়েরির মধ্যে নিহিত শুধুই একজন নির্যাতিত বাংলার বধূ নয়। ওই ডায়েরি সে সময়ের সমাজের ইতিহাসের সাক্ষ্যও বটে।

আরও পড়ুন...

গ্রামের মহিলাদের কোনো বন্ধু নাই - শেষ পর্ব

কাবেরী গায়েন

কে না জানে "এরা যত বেশী জানে, তত কম মানে'। স্বামী চান না, শাশুড়ি চান না, সমাজ চায় না এই মেলামেশার মধ্য দিয়ে ওই নির্দিষ্ট বাড়ির নির্দিষ্ট মান্যতাসংস্কৃতির শান্ত পুকুরে এমনকি পলকা ঢেউও উঠুক। হাজার বছরের পাখিপড়া শিক্ষায় মেয়েরা এত পোক্তভাবে আয়ত্ত করেছেন এই শিক্ষা যে শিক্ষককে আর পাহারাও দিতে হয় না, তারা নিজেরাই বলেন সই থাকার মত খারাপ কাজের ধার তারা ধারেন না, "পাখির শিক্ষা এখন পুরা হইয়াছে'।

যারা ঘরের বাইরের কোন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না (৯২.৭%) তাদের পক্ষে তো বাড়ি আর পাড়ার বাইরে যাওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি গ্রামের যে মহিলারা চাকরি করছেন তাদেরও বান্ধবী নেই, বা থাকলেও ওই মহিলারাই সেই স্বীকৃতি দেন না জনসমক্ষে। কারণ গ্রামের মেয়েদের চাকরীতে যাওয়ার লড়াইটা এখনো সমাজ-সংসারকে এই বুঝ দেবার পর্যায়ে আছে যে সে নেহাত বাধ্য হয়ে, পরিবারের প্রয়োজনে "বাড়তি' টাকা উপার্জনে বের হচ্ছে, কাজের বাইরে আর কোন সম্পর্ক তার নেই পৃথিবীর সাথে, তাই বান্ধবী যদি থেকেও থাকে সেই থাকাকে প্রকাশ করার সামর্থ্য সে অর্জন করেনি এখনো। এখনো সে নিজেকে এবং পারিপার্শ্বিক সবাইকে আশ্বস্তই করতে চায় যে সমাজ নির্দিষ্ট বিবাহিত সম্পর্কসমূহের বাইরে তার অন্য কোন জগত নেই। স্বামী-সংসারেরও এই আশ্বস্তিটুকু প্রয়োজন।

আরও পড়ুন...

দেবকী বসুর 'কবি' - একটি অটেকনিকাল পাঠ (অষ্টম কিস্তি)

ত্রিদিব সেনগুপ্ত

চলচ্চিত্রেও এই বাক্যের আগেই একাধিকবার দেখেছি আমরা বৃন্দাবনকে ঠাকুরঝির প্রতি একটা সস্নেহ প্রশ্রয় নিয়ে একটা আগলে রাখার ক্রিয়ায়। তাই কোনও অসুখী দাম্পত্য থেকে যে পরিপূরণের বা ক্ষতিপূরণের মত করে নিতাইয়ের প্রতি ঠাকুরঝির আগ্রহ এসেছিল তা নয়, এসেছিল ওই যাদু-উপাদান থেকে, ""কই এমনি মুখে মুখে বেঁধে গান করুক দেকি?'' এর পরের কিছু বাক্যেও একাধিকবার এসেছে "কবি' নিতাইয়ের প্রতি ঠাকুরঝির এই বিস্ময়। পরেও এসেছে। নিতাই একটা কিছু পারে যা সাধারণ নয়, অন্যরকম। নিতাইয়ের সেই অন্যরকমত্বটাকে গোড়া থেকেই সম্মান দিয়ে আসছে কেবল দুইজন, রাজন আর ঠাকুরঝি। ঠাকুরঝি তাকে সবসময়েই ডাকে "কবিয়াল' বলে। "কবি' উপন্যাসে যেমন, চলচ্চিত্রেও তেমনি, কবিকে গোড়া থেকেই কবি বলে চিনে আসছে ঠাকুরঝির এই প্রেম। বারবার ঠাকুরঝিকে নিয়ে বাঁধা পংক্তি চলে আসছে কবিগানে, "ছটায় ছটায় ঝিকিমিকি তোমার নিশানা' বা "কাল যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কান্দ কেনে' এই দুই গানেরই আবিষ্কারের আধার ঠাকুরঝি। আমরা পরে দেখব, এই গানগুলি এতটাই ব্যক্তিগত ঠাকুরঝির কাছে যে নিতাই সেটা কবিগানের আসরে গাওয়ায় ঠাকুরঝি তাকে মন্দ লোক বলে ডাকবে। আমি এটা বলতে চাইছি না যে দাম্পত্য অসুখ থেকে সঞ্জাত প্রেম প্রেম হত না, এটাই বলতে চাইছি যে এই প্রেমটা বরং একটা বাড়তি কিছুর দ্যোতক, চিহ্নিত করছে কবিয়ালের কবিগান গাওয়ার ওই বাড়তি ক্ষমতাকে।

আরও পড়ুন...

শ্যামাসুন্দরীর ডায়েরি - প্রথম কিস্তি

শতরূপা বসুরায়

এইটুকু বুঝতে বাকি ছিল না যে শ্যামাসুন্দরী বিয়ের পরে ডায়েরি লিখতে শুরু করেন। অর্থাৎ যদি ৬ বছর বয়সে ওনার বিয়ে হয়ে থাকে তাহলে ৭/৮ বছর বয়সে প্রথম ডায়েরি লেখা শুরু। ডায়েরির প্রথম পাতায় যে "শিশু' শব্দটি আছে.. তা যে লেখিকার স্মৃতি রোমন্থন তাও বুঝতে অসুবিধা হলো না। ভাবতে অবাক লাগে যে সেই সময় শ্যামাসুন্দরী নিজে একটি ৮ বছরের শিশু তবুও তিনি তার লেখার মধ্যে তার হারিয়ে যাওয়া শৈশব কে খুঁজে বেরিয়েছেন। ওই ফুরিয়ে যাওয়া শৈশবের সঙ্গে যে একবুক নি:সঙ্গতা যে হাহাকার তাও ধরা দেয় ওই সাদা পাতায়। শুধুই শৈশব তার সঙ্গে আর কিচ্ছুই নেই! হয়ত ভাবতে চান নি লেখিকা.. হয়ত মনে রাখার মত ছেলেবেলাও ছিল না ওনার। তাই হয়ত সাদা পাতায় শুধুই ওই একটি শব্দ।

পরের পাতার খাট, উনুন, ঝাঁটা, এই সব যখন এঁকেছেন তখন বুঝেছি পলক ফেলার আগেই শৈশব পেরিয়ে মাত্র ৮ বছর বয়সেই তিনি সংসার সংগ্রামে নেমেছেন। খাট, উনুন, ঝাঁটা এই সবই তো মধবিত্ত গ্রাম্য সংসারের একটা প্রতীক.. তাই হয়ত ওইগুলি তখন তার জীবনের বেঁচে থাকার উপকরণ! আর বাইরের জগৎ তো তখন দেখতে শেখার বয়স হয় নি.. সমাজ তখন তাকে সেই সম্মতিও দেয় নি.. যত পড়ছিলাম ততই Radice র কথা গুলো কানে বাজছিল। "Arthur Symons felt that the Impressionist in verse should record his sensitivity to experience, not the experience itself; he should express the inexpressible' ... শ্যামাসুন্দরী সেই inexpressible কেই তুলে ধরেছেন। তার এই ডায়েরি পড়বার জন্য ভাষার দরকার হয় না। দরকার একটা মননের।!

আরও পড়ুন...

গ্রামের মহিলাদের কোনও বন্ধু নেই - প্রথম কিস্তি

কাবেরী গায়েন

মুসলমান অংশে ঢুকতে সাহায্য করলেন এক মেয়ে, মর্জিনা বেগম, বড়-বাড়ির বোন, বেচারির মনে শান্তি নেই, স্বামী তার নতুন বিয়ে করেছেন অথচ কোলে তার ফুটফুটে ছেলে। ভাইদের বাড়িতে থাকেন, ছেলে কোলে নিয়ে তার মাঠে-ঘাটে চলতে বাধা নেই। তবুও তার কোন সই নেই। এই বাড়ির বউরা বেশ পর্দানশীন। কেউ বাড়ির বাইরে যান না। বাড়ির বড়-বউ বি.এ. পাশ কিন্তু তার কোথাও যাওয়ার "হুকুম নাই'। বেশ কাতর গলায় জানালেন:

হ, আবার সই ! পুষ্করিণীতেই যাইতে পারি না, গোসলখানায় পানি দিয়া যায়, হেই পানিতে গোসল সারি। ফ্যামিলি প্ল্যানিং-এর মাইয়ারাও এই বাড়িতে ডোকতে পারে না। ... লণ্ডন কি খুব সুন্দার ? ... আর বউরা তো ছোড, মুই তো মুরুব্বি, মোরডে কেউ হাস-তামসাও করে না। ... মোর ছবি তো তোলতে পারবেন না, মোর মাইয়্যার এউক্ক্যা ফডো তোলেন। দোয়া করবেন আপা যেন মোর মাইয়াউগ্য একদিন আমনের মতো অইতে পারে, দ্যাশ-বিদ্যাশ যাইতে পারে।

আরও পড়ুন...

লওণ্ডা নাচের ইতিকথা

শুচিস্মিতা ও ঈপ্সিতা

আর পাঁচটা সমবয়েসী ছেলের মত নয় ওদের জীবনযুদ্ধ। কারণ ওরা আলাদা। ওরা ছেলে হয়েও পুরোপুরি ছেলে নয়। কেউ জানেনা কে বেঁধে দিয়েছে পুরুষ ও নারীর লিঙ্গনির্দেশিত ও সমাজনির্দিষ্ট ছক কাটা আচরণবিধি। তবে এটুকু বোঝা গেছে সেই সংহিতা অনুসারে এই ছেলেদের চলাফেরা বাচনভঙ্গী - সবই জ্ঞমেয়েলিঞ্চ। অতএব এদের নিয়ে মজা লোটাই যায়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে কোণঠাসা করাই যায়। ওদের সামনে তখন আর কোন পথ খোলা থাকে না অনিবার্যের কাছে নতি স্বীকার করা ছাড়া। আইনকে বুড়োআঙুল দেখিয়ে অশিক্ষিত দাই বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে গোপনে লিঙ্গচ্ছেদন (castration) করিয়ে বেশ কিছু ছেলে ভিড়ে যায় ওদের নিজেদের লোকের দলে - তথাকথিত স্বাভাবিক মানুষের সমাজ যাদের "হিজড়ে' বলে ডাকে। সমীক্ষা বলছে হাতুড়ে চিকিৎসকের হাতযশে এদের মধ্যে পঞ্চাশ শতাংশই অকালে পৃথিবীকে বিদায় জানায়। আর বাকিরা মেয়ের পোষাকে নাচের দলে যোগ দিয়ে খুঁজে পেতে চায় নিজেদের মুক্তির পথ। অর্কেস্ট্রা কোম্পানিগুলো ভাড়া নেয় এদের। চুক্তিতে লেখা থাকে একটা মোটা টাকার অঙ্ক। সাথে খাকা-খাওয়া ফ্রি। কিন্তু সেই টাকার খুব সামান্য অংশই এরা নিজের চোখে দেখতে পায়। ইউপি-বিহারের বিয়েতে বিয়েতে এদের ভাড়া খাটিয়ে কম টাকা রোজগার করে না এদের অন্নদাতারা। তবু এদের নির্ভর করতে হয় প্রতিটা নাচের শেষে বকশিসের ওপর। তিনমাস ধরে টানা নেচে রোজগার হয় হাজার ছয়েক মত। তার ওপর যদি ভাগ্য থাকে ভালো, যদি চেহারা হয় সুন্দর, নাচের ঠমকে যদি জাগে নেশা - তাহলে এই ছয়টা কখনো কখনো বারো হয়ে যেতে পারে। তবে মেহনতের এই রোজগারে এদের নিজের ভাগ খুবই সামান্য। এমনকি শূন্য হাতে বিদায় নেওয়াও বিরল নয়। বিয়ের মরসুম শেষ হলে দল ভাঙার পালা। যারা সদ্য পেশায় ঢুকেছে তারা প্রথম রোজগারের স্বাদ নিয়ে ঘরে ফেরে। অভিজ্ঞ নাচিয়েরা থেকে যায়। ইউপি-বিহার ছেড়ে এবার তারা দেশের অন্যান্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ায় পরিযায়ী পাখির মত। স্থানীয় নাচাগানায় অংশ নেয়। মনোরঞ্জনের বিকিকিনি চলে সেখানেও।

আরও পড়ুন...

মেয়েরা যখন ...

শ্রাবণী

"কিছু মনে কোরোনা, তুমি বাঙালী বলেই বলছি। এসব জায়গা কোনো ভদ্র মেয়েদের কাজের উপযুক্ত নয়। মেয়েদের পক্ষে ঐ ইস্কুল বা কলেজে কাজ করাই ঠিক আছে। তোমার বাড়ির লোকই বা কী ধরণের, মেয়েকে এরকম একটা চাকরি করতে পাঠিয়েছে। তা আজকাল কম্পিউটার টম্পিউটার কম্পানি খুলছে তো কলকাতা দিল্লী বম্বেতে শুনি। তুমি তো সেসব জায়গায় চাকরি খুঁজলেও পারতে।"
স্থান : পশ্‌চিমবঙ্গে স্থিত একটি সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট।
কাল: উপরোক্ত ঘটনার একবছর পর।
পাত্র: ট্রেনিং শেষে জয়েন করতে আসা উল্লিখিত দুটি মেয়ে ইঞ্জিনিয়ারের একটি।
যে লোকটি এরকম সুমধুর সম্ভাষণে প্রথম দিন মেয়েটিকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন তিনি ঐ প্রজেক্টের মেন্টেনান্স বিভাগের প্রধান। মেয়েটি এরকম অভ্যর্থনায় নির্বাক, প্রথম কাজ শুরু করার আগে বিভাগীয় প্রধানের এধরণের উৎসাহ প্রদানের বহরে মনে একরাশ দ্বিধাদ্বন্দ্ব। তবু মরিয়া হয়ে জানায় যে তার ইচ্ছা এরকম জায়গায় কাজ করা, পড়াতে তার ভালো লাগেনা। প্রচুর বিরক্তিতে ভদ্রলোক খুঁজে পেতে একটি অদরকারী বিভাগে মেয়েটিকে পাঠালেন মুখ দিয়ে অনর্গল বিরক্তিসূচক নানা শব্দ বার করতে করতে। তারপরের কাহিনী, দীর্ঘ লড়াইয়ের, বারে বারে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা।

জরুরী কাজের পারমিট হাতে নিয়ে টেকনিশিয়ান ও মজদুরকে ডাকতে গেছে ফিল্ডে যাবার জন্য, সেখানে তাদের বক্তব্য,
"আপনার লিখিত অর্ডার টা দেখি এই গ্রুপে পোস্টিংয়ের, নাহলে আপনার সাথে কাজ করতে যাব না। কিছু গণ্ডগোল হলে তো মেয়েছেলেকে কেউ কিছু বলবেনা, আমাদেরই ধরবে।"

আরও পড়ুন...

আমাদের যৌনতাবোধ, আমাদের রাজনীতি

আকাঙ্খা

পায়ে পায়ে মিছিল এগিয়ে চলেছে, কলকাতার রাস্তা দিয়ে। হাজরার মোড় থেকে কালীঘাট হয়ে দেশপ্রিয় পার্ক। প্রায় তিনশো জন নারী, হাতে মোমবাতি, মুখে স্লোগান - ""৮ই মার্চ দিচ্ছে ডাক পিতৃতন্ত্র নিপাত যাক''। এই বছর, ২০১০ সালে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের একশো বছর পূর্ণ হল। ঐ মিছিলের শেষের দিকে কিছু অল্পসংখ্যক মেয়ে, তারা বয়ে নিয়ে চলেছে রামধনু পতাকা। গলা মেলাচ্ছে মিছিলের বাকি মেয়েদের সঙ্গে। কিন্তু মাঝে মাঝে ওরা আরো বলে উঠছে - ""তোমার আমার অংশীদারী, সমকামী তবুও নারী''। সেই সুরে সুর মেলায় মিছিলের শেষের দিকের সকল নারী। রাস্তার দু'ধারের মানুষেরা অবাক চোখে দেখতে থাকে সবাক সমকামী নারীদের। মিডিয়ার ক্যামেরার বিশেষ নজর কাড়ে ওরা।

আরও পড়ুন...

বাঙালি মুসলমান নারীর ইতিহাস

জয়িতা বাগচী

নতুন নারী-নির্মাণের কাজটি বাঙালি হিন্দুরা এর একশো বছর আগে করেছিলেন। আকিমুন এই তথ্যটি দিলেও তার ইতিহাসটি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করেছেন। শিক্ষিত সহধর্মিণীর জন্য এক প্রজন্মের পুরুষের চাহিদা তৈরি হওয়া মাত্র হিন্দু পরিবারের গুরুজনেরা তাঁদের মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে, তাদের জন্য মেম গভর্নেস রেখে বিটোফেন সম্পর্কে শিখিয়ে, খোলা গাড়িতে স্বামীর পাশে বসে হাওয়া খাওয়ার উপযুক্ত করে তুলেছিলেন - এ চিত্র আদৌ ঐতিহাসিক নয়। একটু মনোযোগ দিয়ে ইতিহাস পাঠ করলেই আকিমুন বুঝতেন যে অন্দরমহল থেকে মহিলাদের সদরে আসার পথ তৈরি করার জন্য কয়েক প্রজন্মকে হিন্দু সমাজের নানান অর্গল ভাঙতে হয়েছে। সে লড়াই যে সব সময়ে পুরুষের উদারতার কারণেই সম্ভব হয়েছিল, তাও নয়।

আরও পড়ুন...