দেবকী বসুর 'কবি', ১৯৪৯ - একটি অটেকনিকাল পাঠ (সপ্তম কিস্তি)

ত্রিদিব সেনগুপ্ত

প্রথমে চলচ্চিত্রে প্রসঙ্গটা কিভাবে এল সেটা দেখে নেওয়া যাক। প্রথমে রাজনের মন্তব্যে ইঙ্গিত আছে সেই অতিনির্ণয়ের, আগেই যেটা আমরা দেখেছি, আধুনিকতার পেশা থেকে জীবিকা অর্জন আর ঐতিহ্যের সক্রিয়তা চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেটা নয়, কৌতূহলটা অন্য জায়গায়। এই একমাত্র জায়গা "কবি' চলচ্চিত্রের যেখানে খুব স্পষ্ট একটা নির্মাণের গরমিল পেয়েছি আমি, এবং যা একটুও ছিল না "কবি' উপন্যাসে। এতটাই বেমানান লেগেছে এটা অবশিষ্ট চলচ্চিত্রটা তৈরির সুচারু সুপরিকল্পিত রকমের সঙ্গে যে, "কবি' চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজনও কেউ যদি আজও বেঁচে থাকেন, এবং তার স্মৃতিতে থেকে থাকে এই খুঁটিনাটি তো সেটা আমি জানতে আগ্রহী। গরমিলটা কোথায় সেটা আগে দেখে নেওয়া যাক উপন্যাস থেকে।

আরও পড়ুন...

কিম্পুরুষঃ দি স্টোরি অফ দি গ্রেট বিয়ার

কুলদা রায়

ঠাণ্ডা হাওয়ায় প্রতীক কবরস্থানের নিশুতি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। গুটি শুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়েছে ঘন ঘাসের উপর। লম্বা লম্বা চারকোলগুলি মাথার চাপে ভেঙে গেছে। নাকে মুখে কালো রঙ লেগেছে। কার্টিস পেপারগুলো হাওয়া হাওয়ায় ফর ফর করে ওড়ে। সঙ্গে ওড়ে দীর্ঘ একটি চুল। চুলে জবাকুসুম। অগ্রভাগ সামান্য বাঁকা। লোটাসের চুল। লোটাস নসু কাকার মেয়ে। স্কুল পাস করেছে। সাইকেলে যায়। ওর লাল দোপাট্টা মল মল করে ওড়ে। হি হি করে হাসে। বলে, আমার নাম লোটাস নয়কো। পদ্ম--পদ্মরাগমণি। পদ্মপুকুরে বাড়ি। তোমার লগে আড়ি।

আরও পড়ুন...

চলচ্চিত্রচঞ্চরী - দ্বিতীয় পর্ব

প্রবীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস ঘোষণার প্রাক্‌মুহূর্তে প্রকাশিত হল একটি বুলবুলভাজা, চলচ্চিত্রচঞ্চরী।

আগের কিস্তির সূত্র ধরে ফিরে আসি টলিউডে। লেখার একদম শেষের দিকে উল্লেখ করেছিলাম যে সত্তর দশকেও আমরা পেয়েছি "নিশিপদ্ম', "থানা থেকে আসছি', "এখানে পিঞ্জর', "ধন্যি মেয়ে'র মতন সিনেমা যেগুলি তথাকথিত আর্টহাউস্‌ ফিল্ম না হয়েও পেয়েছিল সমালোচকদের প্রশংসা এবং সাথে বক্স-অফিস সাফল্য। সত্তরের "এখানে পিঞ্জর' (প্রফুল্ল রায়), "শ্রীমান পৃথ্বীরাজ' (বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় ), আশির "দাদার কীর্তি'র (শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়) মতন প্রভূত জনপ্রিয় সিনেমাগুলি স্বনামধন্য সাহিত্যিকদের কালজয়ী ছোট গল্প বা উপন্যাস আবলম্বনে তৈরি । "নিশিপদ্ম' বা "ধন্যি মেয়ে'র চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলেন অরবিন্দ মুখার্জ্জী যিনি নিজে সাহিত্যিক ছিলেন এবং "দেশ' বা "নবকল্লোল'এ তাঁর একাধিক ছোট গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। সাহিত্যিকদের রূপোলী পর্দার জগতে বিচরণের যে ট্র্যাডিশন প্রেমেন্দ্র মিত্র-শৈলজানন্দরা তৈরি করে দিয়ে গেছিলেন, সত্তর-আশির দশকে সেটাই বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিলেন অরবিন্দ। যাই হোক্‌, মূল প্রসঙ্গে ফিরি - বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিনপ্লের-ই রমরমা, অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে সেভাবে এল কই? সত্যজিৎ রায় থেকে তপন সিনহা, অগ্রদূত থেকে তরুণ মজুমদার - জনপ্রিয় সিনেমাগুলি প্রায় সব সময়েই অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিনপ্লের ওপর তৈরি।

আরও পড়ুন...

আদিবাসী শিশু মাতৃভাষায় পড়বে কবে?

বিপ্লব রহমান

দীর্ঘদিন পাহাড়ে, বনে-বাদাড়ে, আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো ঘুরে জেনেছি, এ দেশে সাধারণভাবে শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকা হত-দরিদ্র প্রধান প্রধান আদিবাসী গোষ্ঠিগুলোর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন, মনিপুরী, গারো, সাঁওতাল ও খাসিয়া) প্রত্যেকেই নিজেস্ব ভাষা ও নিজ ভাষার বর্ণলিপি অনেক সমৃদ্ধ। আবার কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠির নিজেস্ব বর্ণমালা না থাকলেও তাদের রয়েছে রোমান বর্ণমালায় ভাষা চর্চার ঐতিহ্য। কিন্তু চর্চার অভাবে এ সব বর্ণমালার সবই এখন বিলুপ্ত প্রায়।

এরফলে নতুন প্রজন্মের আদিবাসীরা নিজ ভাষায় কথা বলতে পারলেও নিজেস্ব ভাষায় তারা একেবারে প্রায় অজ্ঞ। অথচ মাত্র চার দশক আগেও পরিস্থিতি এতোটা বিপন্ন ছিলো না। তখন নিজ মাতৃভাষা লিখিত চর্চার পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে শিশুশিক্ষায় ভাষাটির বর্ণপরচিয়ও চলতো।

চাকমা রাজা ব্যরিস্টার দেবাশীষ রায় আলাপকালে বলেন, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সারাদেশের শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে আদিবাসী শিশুর ঝরে পড়ার হার অনেক বেশী। এর একটি কারণ- ভাষাগত বাধা। আদিবাসী শিশু বাসায় যে ভাষায় কথা বলছে, স্কুলে সে ভাষায় লেখাপড়া করছে না। বাংলা বুঝতে না পারার কারণে শিশুমনে পাঠ্যবই কোনো দাগ কাটছে না, স্কুলের পাঠ গ্রহণ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন...

বাঙালী ও বাংলাভাষার ভোটবর্মী আত্মীয়তা সন্ধানে

সুশান্ত কর

মজা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন অসমিয়াকে বাংলা বলে ভুল করছিলেন তখন অসম বৃহৎ বাংলারই এক প্রান্তীয় অঞ্চল ছিল। আজ যখন অসমিয়া পণ্ডিতেরা ওই একই পথ ধরে সিলেটিকে অসমিয়া বলে প্রচার করে থাকেন তখন সিলেটিদের বাস্তবতা হলো তাদের এক বড় ভাগ অসমের প্রান্তীয় তিনজেলা কাছাড়-করিমগঞ্জ-হাইলাকান্দির সংখ্যালঘু বাসিন্দা। কামতাপুরিরা অসম, পশ্চিমবাংলা দুই প্রদেশেরই সংখ্যালঘু বাসিন্দা। তাই তাদের ধরে দু'পক্ষই দড়ি টানা টানির খেলা খেলে থাকেন। বাংলাদেশেও রয়েছেন তারা, কিন্তু সংখ্যাতে এতো অল্প যে ওদের কথা কেউ ভুলেও মুখে আনেন না। সেখানে চাকমা হাজংদের কবে বাঙালি বলে মানানো যাবে তার জন্যে কিছু বাংলাভাষাপ্রেমীদের রাতের ঘুম হয় না ভালো করে। সম্ভবত ২১ ফেব্‌রুয়ারীর সকালে শহীদ বেদির তলায় গিয়েও তারা তাদের প্রার্থনা জানাতে ভুল করেন না। যে দেশের উদ্যোগে ২১এর দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায় সে দেশে এখনো বাংলার বাইরে কোনো ভাষার রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি নেই এর চে' লজ্জার কথা আর কী-ই বা হতে পারে! অথচ এক দুটি নয় সে দেশে প্রায় পয়তাল্লিশটি ছোট বড় অবাঙালি নৃগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত পঁচিশটিরও বেশি ভাষা রয়েছে।

আরও পড়ুন...

দেবকী বসুর 'কবি' , ১৯৪৯ - একটি অটেকনিকাল পাঠ (ষষ্ঠ কিস্তি)

ত্রিদিব সেনগুপ্ত

সত্য, ত্রেতা ও দ্বাপর এই তিন যুগে তপস্যা ক্রমান্বয়ে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এই তিন বর্ণকেই আশ্রয় করিয়াছিল। কিন্তু এই তিন যুগে শূদ্রের তাহাতে অধিকার হয় নাই। এই নীচ বর্ণ ভবিষ্যতে ঘোরতর তপস্যা করিবে। কলিযুগই তাহার প্রকৃত সময়। শূদ্রজাতির দ্বাপরে তপস্যা করা অতিশয় অধর্ম। সেই শূদ্র আজ নির্বুদ্ধিতাবশত: তোমার অধিকারে তপস্যা করিতেছে। সেই জন্য এই বিপ্রবালক অকালে কালগ্রাসে পতিত হইয়াছে।

রাজা রাম তখন এর নিরসনে গেলেন পঞ্চসপ্ততিতম সর্গে। কোথায় ঘটছে এই শূদ্রের তপস্যা তার তদন্তে গিয়ে রাম শেষ অব্দি খুঁজে পেলেন।

দেখিলেন শৈবল পর্বতের উত্তর পার্শ্বে একটি সুপ্রশস্ত সরোবরের তীরে কোন এক তাপস বৃক্ষে লম্বমান হইয়া আছেন এবং তিনি অধোমুখে অতিকঠোর তপস্যা করিতেছেন। তদ্দৃষ্টে রাম তাঁহার সন্নিহিত হইয়া জিজ্ঞাসিলেন, তাপস! তুমি ধন্য, বল, কোন্‌ যোনিতে জন্মিয়াছ।

ষট্‌সপ্ততিতম সর্গে আমরা পাই কাহিনীর শেষটুকু।

আরও পড়ুন...

উত্তরবঙ্গ - ১২

শমীক মুখোপাধ্যায়

একদিন বঙ্কা পড়াশোনা শেষ করে খুব ক্লান্ত হয়ে ছাদে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল, অ্যাকসিডেন্টালি বা ইনসিডেন্টালি তার মুখটা ছিল পাকিস্তান বর্ডারের দিকে ফেরানো। উইংয়ের ছেলেরা এর থেকে দল বেঁধে সহজ পাটিগণিত সমাধান করে ফেলে এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে মাথায় রেখে সেদিন সারারাত ছাদ থেকে তারস্বরে, পাকিস্তান বর্ডারের দিকে মুখ করে আমরা গেয়েছিলাম, একটাই লাইন : আন তবে বীণা, আ-আ-আ-আ-আ-আ-আ, আন তবে বীণা, আ-আ-আ-আ-আ-আ-আ ... সে যে কী অপূর্ব শুনতে হয়েছিল, কী বলব।

আরও পড়ুন...

ওর'ম তাকিও না

ফরিদা

ভ্যালেন্টাইনের সোনালী বিকেলে কলম ধরতে গিয়ে ভেসে গেলেন, ভাসিয়ে দিলেন মহাকবি ফরিদা ...

আরও পড়ুন...

মানুষের বাঁদরামি

পার্থ চক্রবর্তী

বাঁদরামির জ্ঞানের নির্মাণে আর একটি জায়গা ছিল মানুষের সত্তা বা এসেন্স বা লোগোসের খোঁজ। প্রশ্নটা পুরোনো - "মানুষ' বলতে আমরা কি বুঝি? মানুষের শাঁসটা কি আর খোসাটাই বা কি (এখানে অবশ্য ধরে নেওয়া হচ্ছে যে শাঁস আর খোসা আলাদা বিষয়)? এই প্রশ্নের জবাবে পশ্চিম একটা ভাবনার স্ট্রাকচার বানায় যার নাম ডুয়ালিজম বা দ্বিত্ত্ববাদ। অনেক ডুয়ালিস্ট মডেলের সাথে আমরা পরিচিত, যেমন পুরুষ/নারী, প্রকৃতি/সংস্কৃতি, পূর্ব/পশ্চিম, মন/শরীর, আমি/তুমি, সুস্থ/পাগল, শাঁস/খোসা ইত্যাদি। এবার "মানুষ' নামের তাত্ত্বিক সমস্যাতে ফেরা যাক। মানুষ একদিকে যেমন জৈবিক, প্রাকৃতিক আবার সে একইসাথে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিও বটে। এখন প্রশ্ন হল এই ডুয়ালিটিতে কোনটা শাঁস, কোনটা খোসা? পশ্চিম বাছাই করে আমাদের বলে দিয়েছে যে দুর্গামূর্তির খড়ের গোঁজের মত জৈবিক সত্তাটাই মানুষের এসেন্স আর মূর্তির ওপরের রংচং আসলে সংস্কৃতি। মানুষের প্রকৃতি আসলে জৈবিক, বায়লজিকাল। এই স্বত:সিদ্ধ থেকে তাই বলা যেতেই পারে যে যেহেতু বাঁদর মানুষের পূর্বপুরুষ, তার মধ্যেও সেই একই জৈবিক বৈশিষ্ট্য থাকবে। অর্থাৎ মানুষ আর বাঁদরের হার্ডওয়্যারটা একই, পার্থক্য শুধু সফটওয়্যারে। তাই বাঁদরামির গবেষণা পশ্চিমি সাহেব-মেমদের আত্মানুসন্ধানের চেষ্টা (গবেষণা করা ব্যাপারটা প্রাকৃতিক না সাংস্কৃতিক?)।

আরও পড়ুন...

উদ্ভট অর্থনীতি

অর্পিতা ব্যানার্জি

তর্ক উঠতে পারে, তাহলে দাম বাড়ার সাথে চাহিদা কমে যাবার মত অর্থনৈতিক ব্যাপার যা মানুষের সমাজে হামেশাই চলে, সেটাও যে ঐ বাঁদরেরা দেখিয়ে দিল, তার ব্যাখ্যা কি হবে? এই ব্যবহারও তো বাঁদরদের শেখানো হয়েছে। তাদের বারবার করে দেখানো হয়েছে যে একই সংখ্যক চাকতি দিয়ে আর একই পরিমাণ জিনিষ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে দিয়ে অর্থনৈতিক নীতির প্রাকৃতিক ভিত্তি কিভাবে প্রমাণ হল? আর চাকতির বদলে সেক্স, সেটার কি ব্যাখ্যা হবে? সেটা তো এটাই দেখায় যে বেশ্যাবৃত্তি প্রকৃতিতেও রয়েছে। তাই কি? আগেই বলেছি যে গবেষণাগারের খাঁচায় পোরা বাঁদরের শেখানো-পড়ানো ব্যবহারকে প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি বলে ধরে নেওয়ার মধ্যে গোলমাল আছে। যদি বলা হয়, চাকতি দিয়ে সেক্স কেনাটা তো শেখানো হয়নি। ঠিক কথা। কিন্তু "কেনা'-টা তো শেখানোই। চাকতি দিলে বদলে কিছু পাওয়া যায়, এটা তো বিলক্ষণ শেখানো হয়েছে ওদের। সেই কিছুকে বাঁদররা নিজের পছন্দমত ভেবে নিয়েছে। এতে এটা হয়তো প্রমাণ হয় যে কোনো একধরণের ক্রিয়া শেখালে তার সাধারণ বিধিটা বাঁদরগুলো শিখে নিতে পারে। অর্থাৎ চাকতির বিনিময়ে আঙ্গুর পাওয়া যায় এটা শেখালেই ওরা বুঝে যায় যে ঐ চাকতি দিয়ে যেকোনো জিনিষ-ই পাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন...

বাঙালবাড়ির কিস্‌সা

রঞ্জন রায়

বলার কী আছে? মোদ্দাকথাটা হল অন্নই ব্রহ্ম, আর কতবার বলবো? যুগে যুগে বিভিন্ন জনগোষ্ঠি অন্নের অনটন হওয়ায় এক বাসস্থান ছেড়ে নতুন জনপদের সন্ধানে ঘটিবাটি-বোঁচকাবুঁচকি বেঁধে বেরিয়ে পড়েছে। আবার নতুন করে আস্তানা গেড়েছে হয় কোন নদীর তীরে, নয় কোন পাহাড়ের নীচে। তোমাদের খানদানের ব্যাপারটাও ঠিক তাই। তোমারা আদতে বাঙাল নও। ছিলে রাঢ় বাংলার ইন্দ্র। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় অন্নচিন্তা চমৎকারা হলে লং মার্চ করে গঙ্গা পেরিয়ে গারোপাহাড়ের নীচে ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগ সাবডিভিসনের মেঘনা নদীর পাড়ে আঠারবাড়িয়া গ্রামে জঙ্গল সাফ করে বাঘ মেরে বসতি স্থাপন করলে। ইন্দ্র থেকে ক্রমশ: রায় হলে। ছিরু পাল থেকে শ্রীহরি ঘোষ:)))))

আরও পড়ুন...

কেন্দুলি সন্ধান

অতনু ব্যনর্জি

কেন্দুলি সন্ধান অতনু ব্যানার্জী পাটাতনের এক আধভাঙ্গা চৌকিতে চোখের ওপরে রাতজাগা হলুদ বাল্বের আলো নিয়ে ছিটকিনিহীন দরজার ঘরে শুয়ে পড়লাম আমি; মাঝে মাঝে উড়ে আসছিল অবাক অবাক সব প্রশ্ন "আপনি চাদর আনেননি!! শোবেন কি করে!!' "সকালে নদীর ধারে "সারতে' যেতে পারবেন তো'!! "ওমা জুতো পরে শুলেন যে বড় !! খুলে শোবেন না!!' বাইরে তখন আনন্দমেলা। মানুষের ভিড়ের কলকল শব্দ। অস্থায়ী আখড়ায় আখড়ায় তীব্র নাম সংকীর্তনের ভক্তিরস। নানা ছাউনিতে ঘুমিয়ে থাকা মকর স্নানের অপেক্ষায় থাকা মানুষ। স্বপ্নে বিশাল বড় এক মেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। জিলিপি, পাঁপড়ভাজার দোকানের পাশেই ঝাঁ চকচকে মাদার ডেয়ারীর দুধের কাউন্টার! এক জায়গায় চোখ স্থির হয়ে গেলো বেশী ভিড় দেখে; একটা মাংসের দোকানে একটা লোককে পিছমোড়া করে বেঁধে বেদম মারছে একটা লোক। গা কেটে যাচ্ছে মারের চোটে, রক্ত পড়ছে দরদর করে। আমার বন্ধু বললো "এটাই নিয়ম এখানকার'! টাটকা টাটকা পড়ুন হরকিসিমের কেন্দুলির জয়দেবের মেলা আর দু-এক ছটাক বাউলগান।

আরও পড়ুন...

আK ঈদেঅ ওফ যুস্তিে Rেভিএ

দেবরাজ ভট্টাচার্য

আমাদের চারপাশের সুবিচারবিহীন দুনিয়া এবং সুবিচারের আকাঙ্ক্ষায় যে প্রতিবাদী আন্দোলনগুলি গড়ে উঠেছে সেগুলির দিকে তাকালে আরেকটি প্রশ্ন জেগে ওঠে যার উত্তর শ্রী সেনের আলোচনায় পাওয়া গেল না। যদি সুবিচার খুঁজতে গিয়ে কোন ব্যক্তি বা সমষ্টি হিংসার পথ অবলম্বন করে তাহলে তা ন্যায়সঙ্গত কিনা। বাস্তব দুনিয়ায় "public sphere' বা "public reasoning' জাতীয় উদারনৈতিক(liberal) তত্ত্ব খুব বেশী দেখতে পাওয়া যায় না, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে। আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে হিংসার বিরুদ্ধে কিন্তু নিপীড়িত মানুষ যদি হিংসার পথ বেছে নেয় তাহলে তা সবসময় অনৈতিক এটাও বলতে পারব না। এখানেই আবার মনে হয় যে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম - মানুষের সুবিচার পাবার পথ যদি গ্রাম সংসদ খুলে দিতে পারে তাহলে হয়ত গরীব মানুষ হাতিয়ার তুলে নেবার কথা ভাববে না। কিন্তু যেখানে পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিস বা রাষ্ট্রের বিচারালয় গরীব মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয় সেখানে হিংসার পথে গরীব মানুষ হাঁটতে বাধ্য হয়। অতএব সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সুবিচার যে প্রতিষ্ঠানগুলি দিতে পারে সেই প্রতিষ্ঠানগুলিকে উন্নত করা প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন...

হরিদাসের বুলবুলভাজা

হরিদাস পাল

ব্যাপারটি গুরুতর! প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী রাজধানী রায়পুরের সদর পুলিস লাইনের কাছে যখন খবর পৌঁছুলো ততদিনে লীজা ও সীমা প্রায় ষাটদিনের গর্ভবতী। রাস্তার ছোঁড়ার সঙ্গে প্রেম? তায় ওদের বাচ্চার মা হওয়া? কমান্ডেন্ট ড: সঞ্জীব শুক্লা ও আরেকজন কোম্পানী কম্যান্ডেন্ট মহা খাপ্পা! লীজা ও সীমার র‌্যাশন ও অন্য পার্কস্‌ ও কম করা হল। আর ওদের সাসপেন্ড করে বেস্‌ স্ট্যান্ড সেল এ নজরবন্দী করে রাখা হল। এর ফল ভাল হয়নি।

লীজা যুবতী বটেক কিন্তু সীমা¡ যে মাঝবয়সী। ফলে লীজা জন্ম দিল দশটি বাচ্চার; মা ও সন্তানেরা সবাই সুস্থ। কিন্তু সীমা প্রসব করল সাতটি সন্তান। ওর মধ্যে চারটি বাচ্চা আঁতুড় ঘরেই মারা গেল। সীমার শরীরও বিশেষ ভাল নয়।

আরও পড়ুন...

দিন আনি দিন খাই - পর্ব ৫

সুমেরু মুখোপাধ্যায়

গুরুদেব আমায় খুলে দিলো পাবলিশিং হাউস - মহাগুরু সাহিত্য মন্দির। সুর্য সেন স্ট্রিটে পাল বস্ত্রালয়ের উপর বিশাল ঘর নিলাম। কাঠ দিয়ে আমার আলাদা চেম্বার। আমি নিভৃতে বসে লেখালিখি করতে পারব। সামনের ঘরে বস ট্রেড সামলাবে। গুরুই বলল, তোর তো অনেকদিন লেখালিখির অভ্যেস নেই, আগে কয়টা মানে বই লিখে হাতটা সড়গড় করে নে, পরে ওষুধ-চিকিৎসা নিয়ে ৩০/৪০টা খন্ডে জাব্দা জাব্দা বই লিখিস! দেখলাম আইডিয়াটা খারাপ না। আগে লেখাটা দরকার। লেখাটা রেডি থাকলে প্রয়োজন মত ক্যারেক্টারের নাম বদলে দিলেই হল। রাম-লব-সীতা হলে রামায়ন। অনিমেষ-অর্ক-মাধবীলতা হলে কালপুরুষ। এই রকম। নাউ উই নিড ফিউ নেমস। বসই সেসব যোগাড় করে আনলেন আশেপাশের স্কুল কলেজ থেকে। ই সি বিদ্যাসাগর, আশু ভট্টাচার্য, ভূ চৌধুরী, ক্ষে গুপ্ত, পি আচার্য। ট্রিপল এম.এ.। বি.এড, বি.টি, পিএইচডি, স্বর্ণপদক। আমি চুটিয়ে মানে বই লিখতে লাগলাম, হু হু সেল। প্রকাশকের তকমার আড়ালে যে মেঘনাদের মত লেখক বসে আছে তা নিশ্চয়ই কেউ ভাবেনি। আমাদের বাঙালদের "র' আর "ড়' এ একটা চিরকালীন ঝাড় আছে, এই সময় আমার কোম্পানীতে যোগ দেয় পরিতোষ, তার দায়িত্ব হল এই বানানের ঝাড়গুলো ঠিক করা।

আরও পড়ুন...

লং মার্চের ডায়েরি - চতুর্থ কিস্তি

নাসরিন সিরাজ


আমার সাথে মিশু আপার যতবারই দেখা হয়েছে ততবারই তিনি, "হ্যালো কমরেড' বলে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করেছেন, কুশলাদি বিনিময় করেছেন। বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে পরস্পরকে অনেকে কমরেড বলে সম্বোধন করেন। আমি কোন বাম রাজনৈতিক দলের সদস্য না তারপরও কেন মিশু আপা আমাকে কমরেড ডাকেন সেটা কখনও জিজ্ঞেস করিনি বা করার প্রয়োজনও বোধ করিনি। কারণ তার সম্বোধনের মধ্যে আছে উষ্ণ আন্তরিকতার প্রকাশ। বেশ কয়েকবার আমি তার বক্তৃতা শুনেছি। আমার কাছে তার বক্তৃতার ঢং ও বেশ আকর্ষণীয় লাগে। তার বেশীরভাগ বক্তৃতার সারমর্ম হয় এরকম- এই রাষ্ট্র, সরকার সবাই হল মালিক পক্ষের। তারা শ্রমিকের রক্ত চুষে আজকে গাড়ী হাঁকায়, এসির বাতাসে ঘুমায়। এই সব লুটেরাদের আমাদের চ্যালেঞ্জ করতে হবে। তাদেরকে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলতে হবে। শ্রমিক শ্রেণীর জয় সুনিশ্চিত।

আরও পড়ুন...

লেখালিখি পড়াঃ দ্বিতীয় কিস্তি

ছোটা চণ্ডাল

এদের তাকে বাঁধিয়ে রাখা যেতে পারে, বুকে নয়। "ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিটিউড'-এর প্রভাব "মিডনাইটস চিলড্রেন'-এও পাই, কিন্তু সেক্ষেত্রে রুশদির টানটান গল্প বলার পটুত্ব বেঁধে রাখে শেষ অব্দি। প্রভাব থাকেই, কিন্তু তার সাথে থাকে কিছু নতুনত্ব, বক্তব্যে এবং লিখনভঙ্গীতে, সামঞ্জস্য প্রয়োজন তাদের। অন্যথায় বিপদ, যা ঘটেই থাকে। বন্ধুবর বলেছিল দেবর্ষী সারগি পড়তে, নাকি দারুণ! পড়ে ফেললুম, মনে হল মন্দ না, অন্য রকম ভাবে লিখছেন, ভালো কথা, কিন্তু কী লিখছেন, কথা নয় কাহিনি নয়, দর্শন, ঈশ্বর-মনুষ্য চিন্তা, গভীরতা কতখানি, ডোবা যায় না, চুল ভেজে না, শুধু গায়ে একটু ছিটে লাগে মাত্র। "দ্য আনবিয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং' পড়ে বুঁদ হয়ে ছিলুম কয়েক মাস, এই পার্থক্য, আমি বরং কুন্দেরায় ফিরে যাব বার বার। স্বপ্নময় চক্রবর্তী, ভগীরথ মিশ্র বা অনিল ঘড়ুই খুব একটা খারাপ না লাগলেও সেই অনূভুতি আসেনি যা প্রথম এবং মাঝের দিকের শীর্ষেন্দু পড়ে আসত। শুধু মোটামুটি, খারাপ না, ঠিকঠাক, এসব পড়ে আর শুনে হতাশ! পাগল করে দেবে কে, আবার?

আরও পড়ুন...