গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

লেখালেখি পড়া - প্রথম কিস্তি

ছোটা চণ্ডাল

কবিতায় ""সবুজ রহস্যময় আত্মা''-র রহস্য তৈরি করার রাস্তা খুঁজে পেতে হয়, পেরেক ঠুকে হয় না। অতএব সজ্ঞানে কবিতা কে কঠিন করে, একটু বাঁকিয়ে চুরিয়ে লিখে আত্মপ্রসাদ লাভ করবেন না তাতে আখেরে, আপনার বা আমাদের কারুর ই লাভ হবে না, বাংলা সাহিত্যের দু:খের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম।
এরকম কঠিন করে দেওয়ার ইচ্ছাধারী রা যেমন আছেন, তেমন ই আছেন সহজ করে দেওয়ার অবতারেরাও। এদের লেখা পড়তে গিয়ে যে মাঝে মধ্যে ভালো একেবারেই লাগেনি তা নয় (উদা: পিনাকী ঠাকুর), তবে এত বেশী সহজ, স্মার্ট এবং নতড়ঁ ফষ করে দেওয়ার সফল চেষ্টা, যে সেটাই বেশী করে চোখে পড়ে, কানে আসে। উদাহরণ দিতেই হবে? বেশ, হাতের কাছে শ্রীজাত আছে তো নাকি, পড়ে ফেলুন। শব্দের কারুকাজ, ঝিন্‌চ্যাক লাইন আর খেলা খেলা ছন্দের চৌকাঠ পেরিয়ে যখন ভিতরে যাবেন, তখন দেখবেন বাড়ি তৈরি ই হয়নি, শুধু দরজা আর চৌকাঠ। হায় তবে যে কোথায় পড়েছিলুম, মাঠের ধারে হলুদ বাড়ি গড়েছে মিস্তিরি!

আরও পড়ুন...

উপন্যাস নিয়ে

সৈকত চ্যাটার্জী

রমা তার থেকে দূরে সরে যেতে থাকে এই অনুযোগ করেই, যে অমর ঐ উপন্যাসে তাকে "কাঁচামালের' মত ব্যবহার করেছে। কিন্তু অমরের মতে সমস্যা এটাই - ""যে সম্বন্ধ সে তুলে ধরবার চেষ্টা করছে তা নিয়ে যদি সে নাটক করত তাহলে এ আলোড়ন হত না। সে যদি এমন আষ্টেপৃষ্টে নিজেকে বেঁধে না ফেলত তার বইয়ের সঙ্গে, তাহলে তার মা এমন মর্মান্তিকভাবে অভিভূত হতেন না, আত্মীয়স্বজনেরা এমন ভাবে চাইত না তার দিকে। লোকে জানত অমর আজকাল সাহিত্য করছে। সেখানেই চুকেবুকে যেত ব্যাপারটা, কেউ এ নিয়ে মাথা ঘামাত না। কিন্তু তার বই পড়ে এ কথা সুস্পষ্ট যে এ বই লেখকেরই এক অবিচ্ছিন্ন ডায়েরী। ডায়েরীর মত নগ্নভাবে প্রায় শিল্পকে বিপন্ন করে নিজেকে মেলে দেওয়ার চেষ্টা অনেকেই নিতে পারেনি।'' অংশটিতে আমার চোখে পড়ে "আষ্টেপৃষ্টে নিজেকে বেঁধে না ফেলত' এবং "অবিচ্ছিন্ন ডায়েরী' শব্দগুলি। এই শব্দ কটি জীবনানন্দ দাসের সমগ্র গদ্যকর্মের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে পারি কারণ এ আমরা পড়েছি যে জীবনানন্দ দাস উপন্যাস সম্বন্ধে 'diversified autobiography' - র প্রসঙ্গ এনেছিলেন এবং তাঁর দিনলিপি ও "লিটারারি নোটস'-এর মধ্যে কোন ফারাক থাকে না। বলতে পারি , উপন্যাসের অমর আর জীবনানন্দ দাস দুজনের প্রকল্পই যেন উপন্যাসের মাধ্যমে কীভাবে নিজের জীবনকেই অনুসরণ করা যায়, কীভাবেই বা নিজের জীবনকে আবিষ্কারের বিষয় করে তোলা যায় তারই অনুসন্ধান।

অসীম রায়ের অন্বিষ্টও কী এটাই ছিল?

আরও পড়ুন...

উত্তরবঙ্গ - ১১

শমীক মুখোপাধ্যায়


কলেজের তরফে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। কিন্তু ভার্সন শোনা যায় কিছু কিছু। সে জলপাইগুড়ি শহরেরই এক লোকাল মেয়ের প্রেমে পড়েছিল। ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজের ছেলে লোকাল মেয়েকে "তুললে' সেটা শহরের এক ধরণের অপমান হয়ে দাঁড়ায়, কারণ আর যাই হোক, আমরা ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজের ছেলেরা, আসলে কলকাতা বা তদ্‌সন্নিহিত অঞ্চল থেকে আসা একদল বহিরাগত গুণ্ডা অ্যান্টিসোশ্যাল প্রকৃতির ছেলে ছাড়া তো কিছু নয় টাউনের লোকেদের কাছে! সেই ছেলেদের কারুর প্রেমে পড়বে জলপাইগুড়ি টাউনের মেয়ে, এটা কী করে মেনে নেয় টাউনের এলিজিবল ব্যাচেলরের দল? শোনা যায়, অর্ঘ্যও টার্গেট হয়েছিল সেইভাবেই। মেয়েটিরও দেখা করতে আসার ছিল তিস্তার পাড়েই, তাকে কোনওভাবে ঘরে আটকে অন্যরা আসে, এবং একা অর্ঘ্যকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয় বর্ষার ভরা তিস্তার জলে। কোনও সাক্ষী ছিল না, কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই, কেস উঠেছিল, কিন্তু টেঁকে নি। কেবল মনে সন্দেহটা রয়ে গেছে। জলপাইগুড়ির বর্ষার কথা মনে পড়লেই এখনও অর্ঘ্যকে মনে পড়ে।

আরও পড়ুন...

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জমানায় ইসলাম

মুসতাইন জহির


লেখক বইয়ের ব্যাক-কভারে পাঠকের কাছে একটা আহ্বান রেখেছেন বিজ্ঞাপন আকারে। কষ্ট উপশমের জন্য এই উপাখ্যান পড়ে বেদনা ভাগাভাগি করতে। বলেছেন, আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের মুসলমান এবং বাঙালি এই দুই পরিচয় নিয়ে রক্তাক্ত হই। কেন হই, কারা করে? তিনি উল্লেখ করছেন, সেটা হই আমরা আবার দুইদিক থেকে। বাইরের দিক থেকে উন্নত বিশ্বের মানুষ আর ভেতরের দিক থেকে "আমাদের পাহাড়সম জাতীয় অজ্ঞতা, পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে মানুষের অনীহা, ধর্মের নামে প্রতারিত হওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকা'ই কারণ-পদার্থের অন্যতম। দু:খের মধ্যে আরো কী আছে সেটা দেখতেই প্রলুব্ধ হয়েছিলাম বইমেলা থেকে বইটি কিনতে। সাথে সবিস্তারে কাহিনীকল্পনার রসায়নে কি উত্তর তিনি তৈরি করেছেন সেটা পরখ করে দেখারও ইরাদা ছিল বৈকি। "ইতিহাস', "ধর্মতত্ত্ব' আর "দর্শনের' উপাদান মিশিয়ে বর্তমনকালের হাড়িতে বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয়ের যে খিচুড়ি পরিবেশিত হয়েছে তাতে এই জনগোষ্ঠীর দেহে সত্যিকার আঘাতের ক্ষতবিক্ষত রক্তচিহ্ন, আত্মমর্‌যাদা ও অধিকার আদায়ের লড়াইগুলো উধাও হয়ে গেছে। সমস্ত আয়োজন ঘিরে রেখেছে "অজ্ঞতার পাহাড়' প্রদর্শনের কাফেলা আর "ধর্মের নামে প্রতারিত হওয়ার জন্য উন্মুখ' থাকা মুসলমানদের আমেরিকান ইসলামের নির্বিচার ভোক্তা বানানোর উপদেশ। প্রকল্পের দিক থেকে এটা সাম্রাজ্যিক খায়েশেরই উত্তম বহি:প্রকাশ।

আরও পড়ুন...

আK ঈদেঅ ওফ যুস্তিে Rেভিএ

দেবরাজ ভট্টাচার্য

আমাদের চারপাশের সুবিচারবিহীন দুনিয়া এবং সুবিচারের আকাঙ্ক্ষায় যে প্রতিবাদী আন্দোলনগুলি গড়ে উঠেছে সেগুলির দিকে তাকালে আরেকটি প্রশ্ন জেগে ওঠে যার উত্তর শ্রী সেনের আলোচনায় পাওয়া গেল না। যদি সুবিচার খুঁজতে গিয়ে কোন ব্যক্তি বা সমষ্টি হিংসার পথ অবলম্বন করে তাহলে তা ন্যায়সঙ্গত কিনা। বাস্তব দুনিয়ায় "public sphere' বা "public reasoning' জাতীয় উদারনৈতিক(liberal) তত্ত্ব খুব বেশী দেখতে পাওয়া যায় না, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে। আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে হিংসার বিরুদ্ধে কিন্তু নিপীড়িত মানুষ যদি হিংসার পথ বেছে নেয় তাহলে তা সবসময় অনৈতিক এটাও বলতে পারব না। এখানেই আবার মনে হয় যে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম - মানুষের সুবিচার পাবার পথ যদি গ্রাম সংসদ খুলে দিতে পারে তাহলে হয়ত গরীব মানুষ হাতিয়ার তুলে নেবার কথা ভাববে না। কিন্তু যেখানে পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিস বা রাষ্ট্রের বিচারালয় গরীব মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয় সেখানে হিংসার পথে গরীব মানুষ হাঁটতে বাধ্য হয়। অতএব সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সুবিচার যে প্রতিষ্ঠানগুলি দিতে পারে সেই প্রতিষ্ঠানগুলিকে উন্নত করা প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন...

খুনী পড়োশ ঃ ভারতের সীমা সুরক্ষা বল

রেহনুমা আহমেদ


রিজওয়ানা শমশাদ মনে করেন ১৯৮০র সূচনালগ্নে ভারতীয় জনতা পার্টিসৃষ্ট উন্মাদনা আর পরে ১৯৯০তে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী মুসলমানের অনুপ্রবেশ আসলে জাতীয় অর্থনীতির উপরে একটা খাঁড়ার ঘা বিশেষ যা ভারতের অভ্যন্তরীন সাম্যবাদ এবং সুরক্ষার বিপক্ষে একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সংযোগ ভারতের একাধিপত্য এবং সার্বিক চেতনার পরিপন্থী। অপরপক্ষে জনভিত্তিক এই অভিবাসনের প্রত্যক্ষ ফল হতে পারে বাংলাদেশী নাগরিকদের ভারতের একটি রাজ্য থেকে পৃথক রাজ্যের দাবি করা। ১৯৯৫ সালে সেন্টার ফর স্টাডি অফ সোসাইটি অ্যান্ড সেকুলারিজ্‌মএর দ্বারা করা একটি পর্যবেক্ষণ অনুসারে, বিজেপি এবং শিবসেনার অভিযোগ শুধু অত্যুক্তি বা অতিশয়োক্তি নয়, চূড়ান্ত মিথ্যাচারও। ভয় আর অসুরক্ষার বোধে জন্ম নেয় হিন্দুত্বের' পরাকাষ্ঠা। অভিবাসীরা তখন তাদের রোজি-রুটির চক্করে শিখে নিচ্ছে সচ্ছ্বল বেঁচে থাকা। বিজেপি-শিবসেনা জোট দাবী করেছিল যে শুধু মুম্বইতে তিন লক্ষ অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন সময়ে তারা শনাক্ত করে ফেরত পাঠিয়েছিল মাত্র দশ হাজার অবৈধ কর্মচারিদের।

আরও পড়ুন...

বাঙালবাড়ির কিস্‌সা - নবম কিস্তি

রঞ্জন রায়

-- উনি কি জানতেন যে বিংশ শতাব্দীতে রণজিৎ গুহ- গায়ত্রী স্পিভাক চক্রবর্তিরা মিলে একটা অন্যরকমের ইতিহাস, ধোপা-নাপিত-কামার-কুমোরের ইতিহাস লেখার জন্যে গজল্লা করবেন? তবে এইটা লিখেছেন যে জ্যেঠা রাজকৃষ্ণ অত্যন্ত ধার্মিক ও ""নামে রুচি,জীবে দয়া, ভক্তি ভগবানে'' গোছের লোক ছিলেন। খরা-বন্যা-মহামারীর সময় প্রজাদের জন্যে ধানের গোলা খুলে দিতেন, যে যা চাইত ধার দিতেন, হিসেব রাখতেন না। দিয়ে খুশি হতেন। একেবারে টিমন অফ এথেন্স! ফলটাও হাতে হাতে পেলেন। লোকে ধার শোধ করতে ভুলে গেল। আস্তে আস্তে ওনার তালুকদারীর নৌকোয় ফুটো হতে লাগল। ফলে দশবছর বয়সে পিতৃহীন গগনচন্দ্রকে ইংরেজি স্কুলে পড়ার জন্যে দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে রেঁধে বেড়ে খেয়ে থাকার শর্তে নওয়া-যশোদল যেতে হল। সেখানে আবার স্কুলে স্ট্রাইক ও হয়েছিল, ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে, স্কুল বন্ধ হল, তার ব্যাপক গল্প আছে।
হে-হে, বংশের ধারা যাবে কোথায়? আম্মো না নাকতলা স্কুলে ১৯৬৬তে স্ট্রাইক করিয়েছিলাম।
--ঢের হয়েছে। এবার একটা চুটকি গল্প বলে শেষ কর, খালি প্যারাবলের মত শেষে কোন মর‌্যালিস্ট লেকচার দিও না।

আরও পড়ুন...

আজ কা শোলে

পবিত্র ভট্টাচার্য

আর প্র্যাক্টিকালি সেটাই তো দরকার। জয়-বীরু কি চিরদিন তোদের আগলাতে থাকবে? আজ নয় কাল তো তোদের হাতেই হ্যান্ড-ওভার দিয়ে যেতে হবে না কি? তারপর গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠবে গ্রামরক্ষী বাহিনী। পাঠশালা-স্কুল-কলেজে, খেতে-খামারে, পথে-ঘাটে, হাটে-বাজারে, গাছের ডালে, খড়ের চালে শোভা দেবে উন্নততর বামের উন্নততর কমান্ডো ফৌজ। বন্দুক প্রশিক্ষণও তো সেই জন্যেই। তারপর আসুক না শালা মাওবাদী। সঙ্গে সঙ্গে দুরুম। শুধু তাই নয়, দৈনন্দিন জীবনের যেকোন সমস্যার অব্যর্থ সমাধান। ছেলে ভাত খেতে চাইছে না? দুরুম। ডালে নুন বেশী হয়েছে? দুরুম। পরীক্ষায় নম্বর কম দিয়েছে? দুরুম। ধার করে শোধ দেয় না? দুরুম। অনাহার-অপুষ্টি-অশিক্ষা-দু:খ-দারিদ্র্য-জ্বর-জ্বালা-যন্ত্রণা সবকিছু থেকে মুক্তি। দুরুম। দুরুম। দুরুম।

আরও পড়ুন...

সাদার্ন সানডে

নিয়ামৎ খান

এবারে একটা বড় ডেকচি চাপান দেখি উনুনে। এবারে কুচি করে নিন পেঁয়াজ আর ক্যাপসিকাম। আরো লাগবে গাজর কুচি। এখানেও একটু ইম্প্রোভাইজ করেছি। আসলে লাগে সেলেরী। কিন্তু সেলেরী সব জায়গায় পাওয়া যায়না তো, তাই গাজর দিন তার জায়গায়। খুব মন্দ হবেনা,নিশ্চিন্ত থাকুন। সাদা তেল গরম করে দিন এই তিনরকম সব্জির কুচি। একটু ভাজা ভাজা হলেই দুটো টমেটো কুচি করে দিয়ে দিন। খানিকক্ষণ রান্না হোক। টমেটো গলে গেলে এবার দিন মাঝারী মাপের চিংড়ি। চিকেনের টুকরোগুলোও দিয়ে দিন এই সময়। আন্দাজ করে নুন দিন, আর আধ চামচ গোলমরিচ। আরো দিন এক চামচ চিলি স্যস। কেজান রান্না একটু ঝালই হয়। এবারে দেখুন আপনার পাড়ার দোকানটিতে উস্টারশিয়ার স্যস পাওয়া যায় কিনা। ইংরিজিতে এর বানান হলো worcestershire। পাওয়া গেলে সেই দিতে হবে এক চামচ। না পেলেও কুছ পরোয়া নেই। দু চামচ তেঁতুল ভেজানো জল দেবেন তার বদলে। বেশ ভালো করে নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে নিন সবটা।

আরও পড়ুন...

নেতাইগ্রাম, লালগড় ঃ এপিডিআর এর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট

অনুবাদ ঃ অর্ণব রায়

গ্রামেরই একজন বাসিন্দা গোকুল মাইতি আমাদের বলেন যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে গ্রামে অশান্তিই দেখা দেয়। জোর করে গ্রামবাসীদের দিয়ে ক্যাম্পের রান্না করানো, কাপড় কাচানো হত। ওই গ্রামেরই প্রদীপ রায়ের বক্তব্য অনুসারে ক্যাম্পে মোটামুটি ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল। একেকজন গ্রামবাসীকে একদিনে ৪০ থেকে ৫০টা চাপাটি তৈরি করতে বাধ্য করা হত। রান্না ভালো না হলে বা নুন বেশি হলে বা রাঁধুনীর যে কোনও ভুলের জন্য ক্যাম্পবাসীদের গালিগালাজ শুনতে হত। একদিন তারা গ্রামবাসীদের বন্দুক দেখিয়ে সিপিআই (এম)-এর মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করে। এই জোর-জবরদস্তির চাপে নিরস্ত্র গ্রামবাসীরা ক্যাম্পের সশস্ত্র ব্যক্তিদের পাহারাও দিয়ে থাকতেন। অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁদের সেই ক্যাম্পের সমস্ত আদেশই মেনে চলতে হচ্ছিল। ক্যাম্পে সময় দেওয়ার জন্য চাষের কাজের ক্ষতি হচ্ছিল, আর ক্যাম্প-সদস্যরা গ্রামবাসীদের সম্মান রক্ষা করছিলেন এমনও নয়। ক্যাম্প তৈরি হওয়ার পরে সিআরপিএফ-এর টহলদারি বন্ধ হয়ে যায়। সিআরপিএফ ওই গ্রামের ভবিষ্যৎ ক্যাম্পের হার্মাদদের হাতেই ছেড়ে দেয়। নেতাই গ্রামের ক্যাম্পের ৩ থেকে ৪ কিলোমিটারের মধ্যেই বীরকর, বেলাটিকরি আর সিজুয়াতে সিপিআই (এম)-এর হার্মাদ বাহিনীর অন্যান্য ক্যাম্প রয়েছে। হার্মাদ বাহিনীর ভয়ে কাঁটা হয়েই গ্রামবাসীদের দিন কাটছিল।

আরও পড়ুন...

বেদের মেয়ে জোস্না

ফরহাদ মজহার

প্রয়াত তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত বেদের মেয়ে জোস্না ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৯ সালে। মুক্তি পাওয়ার পরই ছবিটি দর্শকদের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগায়। ছবি সম্পর্কে তখন ভদ্রমহল থেকে রুচিবিকারের অভিযোগ ওঠে। কবি ফরহাদ মজহার তাঁর সম্পাদিত অনিয়মিত পত্রিকা প্রতিপক্ষে পরের বছর ছবিটির পক্ষে একটি দীর্ঘ লেখা প্রকাশ করেন। লেখার শিরোনাম ছিল "বেদের মেয়ে জোস্না: ছবিটি কেন এত দর্শক টেনেছে?' লেখায় তিনি ছবিটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ খণ্ডন করেন। প্রতিপক্ষের সৌজন্যে সে লেখাটি গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত হলো।

আরও পড়ুন...

দেবকী বসুর 'কবি', ১৯৪৯ - একটি অটেকনিকাল পাঠ (পঞ্চম কিস্তি)

ত্রিদিব সেনগুপ্ত

মহাদেব কবিয়ালের গানে এর পরবর্তী অংশে যে প্রসঙ্গগুলি এসেছে তার দু-একটা এখানে উল্লেখ করে রাখি। এর পরেই মহাদেব কবিয়াল উল্লেখ করবে নিতাইয়ের জাত-ব্যবসার কথা। সেটা বলতে এখানে চুরি-ডাকাতির কথা তুলেছে মহাদেব। যেমন নিতাইয়ের বাবার কথা বলেছে সে, সিঁদ কেটে বাড়ি বাড়ি চুরি করত, বা তার ঠ্যাঙাড়ে ঠাকুর্দার কথা, এবং তার মায়ের বাবার কথাও যে কিনা দ্বীপান্তরে মরেছে। এছাড়া নানা জায়গায়, ডোমদের আর একটা পেশা ছিল শ্মশানে। ডোমদের এই ধরনের পেশাগুলির একটা ইতিহাস ছিল। বাংলার সামাজিক ইতিহাস নিয়ে কোনও খুব স্পষ্ট মতামত দেওয়ার যোগ্যতা আমার নেই। কিন্তু নানা সময় যা কিছু শুনেছি বা পড়েছি, তার থেকে এইটুকু মাথায় আসছে যে, বোধহয় ব্রিটিশ আমলে ডোমদের এইসব অপরাধ ও মৃত্যুকেন্দ্রিক পেশার সূচনা প্রাকব্রিটিশ বাংলায়। সেখানে ডোমরা ছিল একটি যোদ্ধা জাতি। বিভিন্ন রাজার হয়ে যুদ্ধ করত এই ডোমরাই। এই ইতিহাসই বোধহয় ধরা আছে ওই ছেলেভোলানো ছড়ায়: "আগে ডোম, বাগে ডোম, ঘোড়াডোম সাজে'। আগে এবং পিছনে ডোম সৈন্যদের নিয়ে, অশ্বারোহী ডোম যোদ্ধাদের নিয়ে, "ঢাক মেঘর ঘাঘর' ইত্যাদিতে যুদ্ধের বাজনা বাজাতে বাজাতে যুদ্ধে যেতেন তখনকার বাংলার রাজারা। তারপর রুল ব্রিটানিয়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপে, রাজশেখরের ভাষায়, "আন্ডার দি সুদিং ইনফ্লুয়েন্স অফ দি বিগ রড', রাজারা ভ্যানিশ, রাজায় রাজায় যুদ্ধও ভ্যানিশ। ফলত বহু জায়গাতেই ডোমরা তাদের যুদ্ধবিদ্যা সম্পৃক্ততা থেকে সহজেই রত হল চুরি-ডাকাতি ইত্যাদি পেশায়। ডোমদের যেটা পোষাকি নাম, "রাজবংশী' বা "বীরবংশী', যার একটি মহাদেব কবিয়ালের গানে এর পরেই এসেছে, অন্যটিও এসেছে চলচ্চিত্রের অন্যত্র, তারও শিকড়টা তাই রাজা বা বীর, যা এদের সেই লুপ্ত হয়ে যাওয়া পেশাকেই চিহ্নিত করে।

আরও পড়ুন...

সার্থক মেয়ে জনম আমার --

শ্রাবণী রায়

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলে এই দলিত মহিলাটি রাজ্যের ভার নেওয়া থেকে দলিত মহিলাদের ধর্ষণের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে ২০০৮ সনে অন্য সমস্ত রাজ্যকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। এই পরিসংখ্যানের বাইরে অজস্র কেস আছে যার কোনো রিপোর্ট হয়নি বা পুলিশ রিপোর্ট নেয়নি! অজস্র সংগঠন, দেশের আইন,অ্যাক্টিভিস্ট, আমাদের মত সাধারণ নাগরিক বিশেষ করে মহিলা যারা প্রত্যেকে হয়ত অনুভব করছি মেয়েটির দুর্দশা, তারা অসহায় কোন অশুভ শক্তির কাছে,ব্যবস্থার কাছে নাকি নিজেদের কাছে কে জানে? পনেরই জানুয়ারী শ্রদ্ধেয় বহেনজী তাঁর জন্মদিন পালন করছেন, এবার হয়ত লাড্ডুর সাইজ আরো বড় হবে। কেন্দ্রের বন্ধুদের দাক্ষিণ্যে কোর্টের কাছে বেকসুর ছাড় পাওয়ায়, ভক্তরা গলায় পরাবে আরো মূল্যবান টাকার মালা। কাগজে কাগজে আজ তাঁর ছবিতে ছয়লাপ, দলিতদের মসীহা, তাদের উন্নতির শক্তিরূপে। ওদিকে দলিত সতের বছরের কিশোরী মেয়েটি আজো অপেক্ষা করে মুক্তির, শুধু জেলের খাঁচা থেকে নয়, মুক্তি এদেশে এই নারী জন্মের শৃঙ্খল থেকে।

আরও পড়ুন...

চলচ্চিত্রচঞ্চরী

প্রবীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

আঞ্চলিক চলচ্চিত্র জগতে মারাঠি সিনেমার ঘুরে দাঁড়ানো আমাদের কিছু শিক্ষা দিতে পারে হয়ত।যে সিনেমা ৩ কোটির ব্যবসা করছে স্থানীয় বক্সঅফিসে, সেটিই আবার প্রদর্শিত হচ্ছে বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে - সুখের কথা একাধিক মারাঠি সিনেমা এই গোত্রে পড়ে।লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হল প্রায় সব কটি সফল সিনেমারই একটি নির্দিষ্ট স্ট্র্যাটেজি আছে - "আউট অফ্‌ দ্য বক্স' কাহিনীসূত্রকে একটি সাবলীল চিত্রনাট্যে ফেলে ভীষণ ঘরোয়া একটি পটভূমিকায় উপস্থাপন করা।এর ফলে তথাকথিত "নেইভ' দর্শকদের সঙ্গেও পরিচালকের কোনো দূরত্ব তৈরী হয় না; প্রেক্ষাপটও এমন যে পেশাদার অভিনেতার অসংলগ্ন অভিনয়ের সুযোগই নেই। এমনই একটি সিনেমা হল "ভালু'(দ্য বুল্‌) - এই গল্পের প্রটাগোনিস্ট একটি ধর্মের ষাঁড় (আক্ষরিক অর্থেই); নিরুপদ্রব একটি গ্রামে (যেটি আসলে অচলায়তনের প্রতীক)এর উপস্থিতি ধুন্ধুমার কান্ড বাধিয়ে তোলে।গ্রামবাসী থেকে শহুরে সরকারী বড়কর্তা, যে গুঁতো খেয়েছে আর যে খায়নি, যে স্বচক্ষে দেখেছে অথবা যে শুধুই গুজব রটাচ্ছে সবাই এই উটকো ঝামেলায় বিব্রত।আপাততুচ্ছ একটি ঘটনা নিয়ে ক্ষমতার দ্বন্দ,রাজনীতি ও কুসংস্কার নিয়ে গ্রাম্য চাপানউতোর মুন্সিয়ানার সঙ্গে ফুটে ওঠে পর্দায়।মারাঠি দর্শকের গ্রহণক্ষমতা কত সে নিয়ে কোনো বক্তব্যপ্রকাশের অবকাশই থাকে না।

আরও পড়ুন...

অটোগ্রাফ ঃ পরিচালকের সাক্ষাৎকার

Rিতব্রত ঘোষ

অটোগ্রাফ ছবির নির্দেশক সৃজিৎ মুখার্জীর সাক্ষাৎকার নিলেন ঋতব্রত ঘোষ-

স: হ্যঁ¡, প্রথমেই বলে রাখি .. শুরু থেকেই চেয়েছিলাম এই ছবির গানগুলোর মধ্যে পর্‌যাপ্ত ভ্যারাইটি রাখতে। যাতে একটা অ্যালবাম হিসেবেও গানগুলো একটা বিশেষ জায়গায় পৌঁছয়। ছোটবেলা থেকে যে গান শুনে বড় হয়েছি, বিশেষত হিন্দি, সেগুলো কিন্তু ফিল্ম অ্যালবামই। আবার আমি লিপ-সং রাখতে চাইনি.. গানগুলো সিনেমাতে জাস্ট আইটেম হিসেবে না থেকে যাতে গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেদিকেও নজর দিতে হয়েছে। দেবুদা অসামান্য কাজ করেছেন, আর লোকজনের ভালো লাগছে মোস্ট ইম্পর্টান্টলি ডাউনলোড না করে অনেকেই অ্যালবামটা কিনছেন, বাড়িতে একটা ওরিজিনাল কপি রাখা প্রয়োজন মনে করছেন এটাও যথেষ্ট আনন্দের।

আরও পড়ুন...

৭ জানুয়ারি, লালগড়

হিন্দোল ভট্টাচার্য

বন্দুক গর্জে ওঠে, সকালে ভীষণ নামে রাত
মানবিকতার মুখ থুবড়ে পড়ে হিম ঠাণ্ডা ঘাসের ওপর
লাশের পাশেই লাশ, স্বপ্নগুলো ভিজে রক্তে গড়িয়ে পড়েছে ...
শিকারী হার্মাদদল বুনো কুকুরের মত অন্ধকার গ্রামে
মৃতকে চিতার থেকে তুলে এনে আবারও কোপায়


২.

দু:খ পড়ে আছে চুপ করে আজ পুকুরের জলে
নি:সঙ্গ ছায়ার মতো,-
শস্যক্ষেত জুড়ে আকাশের দিকে উঁচু হয়ে রয়েছে বন্দুক
কী কুয়াশা মুখ তুমি কেন আজও দু:খ পাও
ক্রোধে না মুখ ঘুরিয়ে কেন আজও...কেন
হননকারীর দল সারারাত নির্বিবাদে আগুন পোহায়


৩.

ক্যাম্পের ধূসর রং, হিংসায় কামড়ে আছে টুঁটি
ছোট মেয়েটার গালে এখনও শিকার তার ছায়া ফেলছে নীল
মৃত এই বাংলাদেশ...প্রতিদিন আরও বেশী কফিন এখন
কোথাও নি:শ্বাস পড়লে সীসার বুলেট ছুটে আসে



লালগড়

সোমনাথ রায়

ছেয়েছে মৃত্যুরূপ লালমাটি গ্রামের সরানে
বহুদূরে ফেলে আসা শীতল ঘরের কথকতা;
স্বপ্নে এখনও শোনে? সেই শিশু ভয়ের বয়ানে
খবর শুনিয়ে রাখে - টিভি খুলে রাখে সভ্যতা


বনপার্টি জানে সেই শিশু , জানা আছে পুলিশ কেমন -
জানে ছেঁড়া মায়ের আঁচল মুঠোতে এখনও ঠাসা
পার্টির নির্দেশ: মা গ্যাছে বুলেটে ছাওয়া বন -
নিশানের সভ্যতা তাকে কী শেখাবে- আর কী শেখাবে তাকে ভালোবাসা?

নেতাইগ্রাম, লালগড়, ৭ ই জানুয়ারী, ২০১১

মৃদুল দাশগুপ্ত


আর্ট ক্যাম্প কুষ্টিয়া - মূর্ছনার সাত দিন

অরণ্য

অবশেষে রাত যখন কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে গভীরভাবে জেকে ধরল খামারকে, আর আচমকা হিম বাতাস কাঁপিয়ে দিতে থাকল শরীর, তখন সবাই ঘন হয়ে বসেছিলাম অগ্নিকুন্ডের চারপাশে। হয়তবা গভীর রাতের প্রকৃতি আর কুয়াশার চাদর ঘুমের কোলে ঢলে পড়া মানুষগুলোর প্রাণে বাজতে থাকা আনন্দধ্বনি কিছুটা হলেও থিতিয়ে এনেছিল, কিন্তু আগুনের লেলিহান শিখার চারপাশে মেলে ধরা হাতগুলো বেয়ে শরীরের দিকে অগ্রসরমান উষ্ণতা কেনজানি থিতিয়ে আসা সেই উত্তেজনাকেই পুনরোজ্জীবিত করছিল বারবার আর কয়েকদিন ধরে ক্রমশ: জমতে থাকা দারুণ স্মৃতিগুলো নিজেদের অজান্তেই থরে থরে সাজিয়ে পড়ছিল প্রাণের গভীরে। কেউ কেউ কিছুক্ষণ পরপরই উসকে দিচ্ছিল আগুন আর আমি গনগনে শিখার দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, এমন প্রকৃত অবকাশই শিল্পীদের একান্ত প্রয়োজন, যেখানে সে খুব ভালভাবেই তার বোধের গভীরে প্রবেশ করে অনুধাবণ করতে পারে শিল্প, প্রকৃতি আর শব্দের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা নৈ:শব্দের বিপুল কলরোলের অদৃশ্য যোগসূত্র, যা তাকে হয়ত আরও বেশ কিছুদিন রশদ যোগাবে সামনে এগিয়ে যাবার।

আরও পড়ুন...

উত্তরবঙ্গ - ১০

শমীক মুখোপাধ্যায়

তার পরের ঘটনাগুলো ম্যাজিকের মত ঘটল। দেড়শো ছেলে একসাথে নেমে এল নিচে, প্রথমে হস্টেলের কোলাপসিবল গেট বন্ধ করে তালা মারা হল। তারপর ম্যাজিকের মত সকলের হাতে চলে এল অØষন। জিনিসগুলো এক্স্যাক্টলি আমাদের ঘরেই ছিল, কেউ জানতাম না, কী করে যে সেই মুহুর্তেই জেনে ফেললাম তাও মনে পড়ছে না, কেবল মনে আছে আমার ঘরেই লকারের মাথা থেকে বেরোল একটা হকিস্টিক, একটা চেন। আমি হকিস্টিকটা নিলাম, রুমমেট কে-কে নিল চেন। প্রায় পুরো হস্টেল এই রকম চেন রড হকিস্টিক ইত্যাদি জিনিস নিয়ে নিচে মেন গেটের সামনে লবিতে পজিশন নিল, কেবল মাষন একজন ফোর্থ ডান ব্ল্যাক বেল্টের মোকাবিলা করার প্রচেষ্টায়।

আরও পড়ুন...

দেবকী বসুর 'কবি', ১৯৪৯ - একটি অটেকনিকাল পাঠ (চতুর্থ কিস্তি)

ত্রিদিব সেনগুপ্ত

সেই যে রেলের প্রসঙ্গ থেকে শরত্‌চন্দ্র আসতে শুরু করল, বারবার মাথায় এসেই যাচ্ছে এগুলো। এই বাবুর শরত্‌চন্দ্র সংস্করণটা মনে পড়ছে? এলএ পাশ করার পর ডেপুটি হওয়ার অপেক্ষারত নতুনদা? নতুনদা নামে যদি মনে নাও পড়ে, পাম্পশু থেকে নিশ্চয়ই পড়বে। এই বাবুটিরই নিকট কেউ হওয়ার সম্ভাবনা আছে নতুনদার। নভেম্বর বিপ্লবের বছরে শ্রীকান্ত ছাপা, তার বেশ কিছু বছর আগে ঘটেছিল নতুনদা উপাখ্যান, শ্রীকান্তর কিশোর বয়সে। ১৯০০ সালে শরত্‌চন্দ্রের বয়স ১৪, তার মানে ১৯০২ নাগাদ ধরে নিতে পারি নতুনদা মাঘের শীতে বরফশীতল নদীর জলে ডুব দিয়ে বসে কুকুরের হাত থেকে বেঁচেছিলেন, তখন যদি তার বয়স বাইশ-চব্বিশ ধরে নিই, তাহলে ১৯৩৮-এ তার বয়স প্রায় ষাট। তাহলে তারাশঙ্করের এই বাবুটির পিতা তিনি হতেই পারেন। এবং এই বংশধারা তো আবহমান ছিলই। শ্রীকান্তর বন্ধু ইন্দ্রর দাদা নতুনদা উপাখ্যান অন্তে একটি অনাবিল অপ্রতিরোধ্য ভাঁড়ে পর্যবসিত হয়েছিলেন, কিন্তু সে তো শরত্‌চন্দ্রের পোয়েটিক জাস্টিস, কাব্যিক ন্যায়বিচার, আদতে ঘটনাটা ছিল এই যে, যদি এমনকি ভাঁড় হয়েও থাকে, সেই ভাঁড়ই, সেইরকম ভাঁড়েরাই, ফিরে গিয়ে ডেপুটির চাকরি পাবে, ইন্দ্র জানিয়েছিল শ্রীকান্তকে।

আরও পড়ুন...

মায়া মিডিয়া

অনির্বাণ বসু

তিনি বলছেন ইন্ডিয়ার কয়েকশ' মিলিয়ন গরিবলোকের উপকার, যাদের কোনো আইডেন্টিটি নেই, যারা কোনো বেনিফিট পান না। তিনি আরও বলছেন ঝুঁকির থেকেও বড় হল এই গরিবলোকেদের আইডেন্টিটি দেওয়া, তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়। এর পরই অরুণোদয় মুন্সিয়ানার সাথে আমাদের দেখাচ্ছেন একটি উপকারের উদাহরণ। দিনমজুর রাম বাবুর নম্বর না থাকার জন্য এতদিন সেল ফোন হচ্ছিল না, এখন আইডেন্টিফিকেশন হবার সাথে সাথে সেলফোন হল - আই ডি কে ধন্যবাদ। তার পর আবার অরুণোদয়ের তথ্য সম্বৃদ্ধ রিপোর্টিং - ৩০০০কোটি টাকার প্রজেক্ট শুরু হচ্ছে "পুওরেস্ট অফ দ্য পুওর'-দের দিয়ে। ২০১৪ সালের মধ্যে ৬০০ মিলিয়ন ভারতবাসী এই কার্ড পাবেন। একজন আদর্শ সাংবাদিকের মত অরুণোদয় লেখার শেষদিকে ইন্ডিয়ানদের আশার আলো দেখাচ্ছেন। বলছেন, হরি সিং-এর মত ভিখারীরাও, যারা দিল্লীর ওখলা ফ্লাই-ওভারের তলায় থাকেন, আশা করছেন লাইফ বেটার হবে, - "থ্যাংক্‌স্‌ টু এ ফিউ ডিজিট্‌স্‌।' আই ডি ছাড়া ফ্লাই-ওভারের তলায় থাকা আর আই ডি নিয়ে ফ্লাই-ওভারের তলায় থাকার যে তফাত, তা বুঝে নিতে কোনো অসুবিধেই হল না এইবার।

আরও পড়ুন...

স্প্যানিশ স্যাটারডেঃ পিকো দে তর্তিয়া

নিয়ামৎ খান

আগে তাহলে তর্তিয়া বানানো যাক। একে স্প্যানিশরা বলেন তর্তিয়া দে পাতাতা। অর্থাৎ কিনা আলু দিয়ে অমলেট। পাতাতা মানে পোটেটো ছাড়া কিছু না। কি করতে হচ্ছে তাহলে? একটা বড় পেঁয়াজ কুচিয়ে নিন, আর চার পাঁচ কোয়া রসুন। গোটা তিনেক মাঝারী মাপের আলু খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে রাখুন। এবারে বড় দেখে ফ্রাইপ্যান চাপান মাঝারী আঁচে। তিন বড় চামচ সাদা তেল দিয়ে পেঁয়াজ-রসুনের কুচি ছেড়ে দিন। একটু রং ধরলে আলু দিয়ে আঁচ সামান্য কমিয়ে দিন। নেড়ে চেড়ে ভাজতে থাকুন যতক্ষণ না আলু নরম হয়ে যায়। এইবারে হাতা দিয়ে আলু ইত্যাদি অন্য পাত্রে তুলে রাখুন। দেখবেন প্যানে তখনো অনেক খানি তেল রয়েছে। অতটা তেল লাগবেনা আমাদের। বেশির ভাগটাই ছেঁকে তুলে রাখুন।

আরও পড়ুন...

আমারে তুমি অশেষ করেছ

শুচিস্মিতা

ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে ছ' বছর আগের ফেলে আসা রাতকে আবার দেখতে পেলাম। নি:ঝুম ক্যাম্পাস। তোলপাড় করে হাওয়া বইছে। হাওয়ার দাপটে যেন সব কিছু লণ্ডভন্ড হয়ে যায়। পণ্ড হয়ে যায়। ক্লান্ত আর শান্ত হয়ে যায়। তারপর সেই শান্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক মগ্ন শিল্পী গেয়ে ওঠেন - "ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব'। সপ্তর্ষিমণ্ডলের কাঁধ থেকে মেঘটা সরে যায়। একে একে সবকটি তারা ফুটে ওঠে আবার। সাইপ্রেস গাছের পিছনে ক্যানভাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল আলোটি হয়ে ঝলমল করেন আমার রবি ঠাকুর। ছ' বছর আগে যে গানটি শুরু হয়েছিল এইখানে এসে তার বিস্তার পূর্ণতা পায়।

সুচিত্রা মিত্র কি আমার সবচেয়ে প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী? তা নয়। কিন্তু রবীন্দ্রগানে দীক্ষা তাঁর হাত ধরেই। তাঁর নাকি জন্ম হয়েছিল চলন্ত ট্রেনে। তাই তিনি সারা জীবন ছুটেছেন। অদম্য প্রাণশক্তি তাঁর। অশেষ হওয়ার মন্ত্রও তিনিই শিখিয়ে গেলেন।

আরও পড়ুন...

বিনায়ক সেনের বিচার - কিছু কাটাছেঁড়া

খবরোলা


১। জনৈক দীপক চৌবে তাঁর সাক্ষ্যে বলেছেন ¢ত¢ন নারায়ণ সান্যালকে পু¢লশ গ্রেপ্তার করার ¢কছু¢দন আগে ডাক্তার ¢বনায়ক সেন-এর সুপা¢রশক্রমে ¢নজের বা¢ড়তে ভাড়া থাকতে ¢দয়ে¢ছলেন।
¢বচারপ¢ত এই তথ্য¢ট উপেক্ষা করেছেন যে দীপক চৌবে আদৌ ঐ বা¢ড়র মা¢লক নন এবং বা¢ড়¢ট ¢ত¢ন ভ¢গ্নপ¢তর হয়ে ভাড়া ¢দয়ে¢ছলেন। ¢ত¢ন বা¢ড়র মা¢লক না হওয়া সত্ত্বেও পু¢লশ বা¢ড়র মা¢লক ¢হসেবে তাঁর সাক্ষ্য ন¢তভুক্ত করেছে।

২। রায়ে প্রকাশ, ডাক্তার ¢বনায়ক সেন মাওবাদী নেতা নারায়ণ সান্যাল-এর সঙ্গে গত ১৮ মাসে ৩৩ বার দেখা করে¢ছলেন, ¢কন্তু এই তথ্য অনু¢ল্ল¢খত থেকে ¢গয়েছে যে প্র¢ত¢ট সাক্ষাৎই জেল কত«Ñপক্ষের আগাম অনুম¢তর ¢ভ¢ত্ততে হয়ে¢ছলো। ¢বচারপ¢ত একজনও জেল কর্মচারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ¢ন।

৩। ¢বচারপ¢ত প্রশ্নাতীতভাবে পু¢লশের ¢ববরণী গ্রহণ করেছেন জব্দকালীন সাক্ষী অ¢নল ¢সং-এর বয়ানের ¢ভ¢ত্ততে। এ¢বষয়ে পীযূষ গুহ ও সহ-অ¢ভযুক্ত ডাক্তার ¢বনায়ক সেন-এর আপ¢ত্ত - যে পু¢লশ পীযূষ গুহকে গ্রপ্তারের পরে গুহ এবং পু¢লশের এক¢ট কথোপকথন সাক্ষীর কণর্গোচর হয়ে¢ছলো এবং পু¢লশী হেফাজতে থাকাকালীন পীযূষ গুহ-র সমع বক্তব্য ভারতীয় প্রমাণ আইন, ১৮৭২ অনুসারে প্রমাণ ¢হসাবে বে-আই¢ন - তা সম্পূর্ণত: অস্বীকার করা হয়েছে। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে সাক্ষী অ¢নল ¢সং তল্লা¢শ ও ধরপাকড়-এর সময়ে পু¢লশের সহগামী ¢ছলেন না, ও ¢ববরণানুযায়ী একজন ¢নকটবর্তী ব্য¢ক্ত, যাঁকে পু¢লশ গুহ-র গ্রেপ্তারের পরে থা¢ময়ে সক্ষক্ষী করে¢ছলো। আসামী পদ্ধ¢ত ¢ব¢ধ-র ১৬২ ধারা অনুসারে কোন অ¢ভযুক্ত / সাক্ষী পু¢লশী হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর সমع বক্তব্য সাক্ষ্যপ্রমাণ ¢হসেবে ব্যবহার করা যায় না - ¢কন্তু এই ¢বচারে তা সর্বতোভাবে উপে¢ক্ষত হয়েছে।

৪। ¢বচারপ¢ত পীযূষ গুহ-র আবেদন - যে চার ¢দন তাঁকে বেআই¢নভাবে আটকে রাখা হয়ে¢ছলো ও হেফাজতে অত্যাচার করা হয়ে¢ছলো - পুরোপু¢র উপেক্ষা করেছেন। ¢বচারের এই উপেক্ষা পু¢লশী অত্যাচারকেই আড়াল করে।

আরও পড়ুন...

গুলাবজামুনের গল্প এবং বাটারফ্লাই আর হানি-বীদের ফ্রেন্ডশিপ

দিৎসা, বয়স চার



একদিন আমার খুব গুলাবজামুন খেতে ইচ্ছে করছিল। দোকানে গিয়ে দেখি একটা বি-ই-ই-ই-ই-ই-গ গুলাবজামুন। এত্ত বড় যে হাতে ধরাই যায় না। দোকানদার আংকল আমায় একটা ল্যাসো দিল। বলল যে - এইটা দিয়ে ওটাকে ধর। কিন্তু তাতেও ঠিকমতো তোলা যাচ্ছে না। দিয়েগো, ডোরা, অ্যালিসিয়া - সবাই ট্রাই করল। কিন্তু তাও পারছে না। তখন ডাকছি - বাবা, বাবা, হেল্প, হেল্প। বাবা তখন কি করল, হারকিউলিস যেভাবে আর্থটাকে ঘাড়ের ওপর ধরে থাকে - সেইভাবে গুলাবজামুনটাকে তুলে ধরল। তখন আমি সেটাকে মাথার উপর নিতে পারলাম। আমাদের তো যেতে হবে দোমার (দিদা) বাড়ি। একটা গার্ডেনের মধ্যে দিয়ে

আরও পড়ুন...

জঙ্গলের পশু পাখির কষ্ট

মধুরা, বয়স সাড়ে চার

বাঘগুলো চিড়িয়াখানায় থাকত কিন্তু খাবার পেত না। একটু একটু পেত, পেট ভরত না। ওরা তাই এবার জঙ্গলে এল, সম্বার ডিয়ার এখনও খায়নি। দিয়ে এবার বাঁদরগুলো এসে কলা খেয়ে পালিয়ে যাবার আগে সম্বারগুলোকে মাথায় মেরে দিয়েছে।

আরও পড়ুন...

হামিভোরাসের কীর্তি

পট্ট, বয়স আট


আওয়াজ তার - আকা কাই আকা কাই
খালি কাই খালি কাই

আরও পড়ুন...

আমার ফুলেরা

প্রজ্ঞা পারমিতা, বয়স নয়


আমি দুপুরবেলা ফুলের বীজগুলো মাকে দিলাম আর বললাম মা, তুমি কি এই বীজগুলো পুঁতে দেবে? মা বলল, হ্যাঁ প্রজ্ঞা, দেব। তারপর মা পুঁতে দিল বীজগুলো। আর আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম। আমি রোজ জল দিয়েছি। কিন্তু এক সপ্তাহেও কিচ্ছু হল না।
দেড় মাস পর চারা বেরোল। আরো দু

আরও পড়ুন...

জামশেদপুর ট্রিপ

Rিভু, বয়স দশ

ঋভু,দুজন মাসিমনি তোকে যে গল্প লিখতে বলেছিলেন লিখলি নাতো!

মা আমি তো লিখলাম, তুমি তো বললে ছোট কুট্টিরাও অনেক ভালো লেখে।
তাছাড়া তুমি যে বললে আমার যখন স্পেলিং দেখলে লোক জখম হয়ে যাবে।

আচ্ছা ঠিকাছে, তোকে বানাতে হবে না, তুই তোর জামশেদপুরের ট্রিপটা মুখে বলে যা আমি লিখে নেই।

ঠিকাছে।

(এবার ছেলে শুয়ে, গড়িয়ে ,উল্টে ,পাল্টে বলে যেতে লাগলো আর মা লিখে যেতে লাগলো।)

আরও পড়ুন...

যদি ....

পূর্বা অতন্দ্রিলা - বয়স তেরো

ঘুম ভেঙে দেখলাম অনেক লোক। কেউ হাসছে। কেউ কাঁদছে। কেউ শুধুই বসে আছে। তারপর বুঝলাম এটা একটা গ্রেভইয়ার্ড। আমি আমার নিজের কবরের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। আমি মরে গেছি চিরকালের মত। কি করেছি আমি যার জন্য কবর ছাড়া আমার আর কিচ্ছু পড়ে রইল না!

আরও পড়ুন...