গোলাপী শহর

শুচিস্মিতা

খুব মেপেজুখে হিসেব করলেও অন্তত দেড়লাখ অদক্ষ শ্রমিক কাজ করছে দিল্লীতে (একসময় সংখ্যাটা চার লাখের ওপরে ছিল) ন্যূনতম মজুরীর থেকে গড়পড়তা পঞ্চাশটাকা কমে। দেড়লাখকে পঞ্চাশ দিয়ে গুণ করুন। দিল্লী শহরের সুসভ্য সমাজ-হিতৈষী মালিক-ঠিকাদার-ক¾ট্রাকটারদের দৈনিক আয়ের একটা ধারণা পাওয়া যাবে। তাও তো কমিশন, কনসাল্টেশন ফি - এইসব ধরা হয় নি এই হিসেবে!

আরও পড়ুন...

নির্দল হইব না মানুষ হইব?

সম্বিৎ বসু

সুতরাং, হে বীর, সাহস অবলম্বন কর। সংসার সমরাঙ্গণে যুদ্ধ কর প্রাণপণ। ¢কন্তু দোহাই তোমার, ¢নর্দলত্বের ঢ্যামনা¢ম ছেড়ে পরে নাও কোন এক দলীয় বর্ম। ব্যস, তারপরে, হে বীর, কোন শালা তোমায় ঠেকাবে? এখন হইতে তোমার সকল কর্ম পা¢র্ট অনুমো¢দত। যাও, চ¢রয়া খাও। জ¢ম লও, কারখানা বানাও, ফÔÉ¡ট বানাইয়া প্রমোটা¢র কর, রাع¡ অবরোধ কর, বন্ধ কর - যাহা ইচ্ছা কর, খা¢ল ¢নর্দলী ক¢রয়ো না। স্বাধীন ¢চন্তা ক¢রয়ো না। পা¢র্টকে অনুসরণ ক¢রও। মনে রা¢খয়ো পা¢র্ট ভুল করে না। নেত«ব«ন্দ ঈশ্বরের দূত। প্রভু তাহাদের ভুল ক¢রবার ক্ষমতা ¢দয়া প্রেরণ করেন নাই।

আরও পড়ুন...

মতানৈক্যের সংস্কৃতি

ওয়াক্কাস মীর

কথা। শব্দ। একটা শব্দ বহুদিন থেকেই আমাকে খুব ধাঁধায় ফেলে। শব্দটা হলো 'রেভোল্যুশন'। ছোটবেলা থেকেই 'বিপ্লব' কিম্বা 'রেভোল্যুশন' ব্যপারটা ঠিকমতো বুঝতে পারতামনা। মনে হতো খুব গ্রামভারী কথা। ভাবলাম রাজনীতি সম্পর্কে জানলে পরে হয়তো বোঝা যাবে এই 'রেভোল্যুশন' জিনিষটা কী। কিন্তু আমাদের ড্রাইভার কাকু তখনই আমায় RPM এর কথা বলেছিলো। আমার মনের মধ্যে আবার সব ঘেঁটে গেছিলো। বোকা ছিলাম তো ছোটবেলায়? অবশ্য বড় হবার পরেও আমার মধ্যে সেই বোকা ছোট ছেলেটা কোথাও একটা রয়ে গেছে। তাই এসব কথা শুনলে সত্যি লাগে মনে ধাঁধা।
গত সপ্তাহেই দু দু'বার এই 'রেভোল্যুশন' এর সামনাসামনি পড়লাম। দুখানা ফিল্মে।

আরও পড়ুন...

সোনামুখীর মাওবাদীরা

কল্লোল দাশগুপ্ত

৩০ জুন, ভোর ৫টা। গ্রামটি ঘিরে ছিলো যৌথ বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের ৩০০ জনের একটি দল। জঙ্গলে ঝোপে লুকিয়ে ছিলো লাঠি আর বন্দুক। শেষ পর্যন্ত ওরা এলো। মাথায় কলো কাপড়, জংলা ঊর্দি গায়ে ওরা এলো অসংখ্য জিপ আর কালো ভ্যান নিয়ে। সাথে এলো ওখানকারই বীরচন্দ্রী গ্রামের বীর চাঁদেরা, সিপিএম কর্মীরা। প্রশান্ত দাস আর জিতু সাউ, স্থানীয় সিপিএম নেতা। এরা অবশ্য এর কিছুদিন আগে থাকতেই সোনামুখীতে আসছে আর শাসিয়ে যাচ্ছে মহিলাদের - ইজ্জত থাকবে না।

৩০ জুন, যখন যৌথ বাহিনী এলো তখন গ্রামের পুরুষরা সবাই গ্রাম ছেড়ে গেছে। সেটা বড়ো কিছু নয়। এ তো নিত্যনৈমিত্যিক। পুলিশ বা যৌথ বাহিনী আসছে খবর পেলেই পুরুষদের গ্রাম ছেড়ে যেতে হয়। এটাই নিয়ম। অন্যথায় মার-ধোর, জেল-হাজত, মিথ্যা মামলা-হয়রানি। সোনামুখী ও তার আশেপাশের গ্রাম বীরহান্ডি, শিমলি, বাঁকশোল, ঘৃতখাম, দিদিধা, জারুদিয়ায়ও এসব নিত্যিকার ব্যাপার স্যাপার।

সরকারী খবর, সোনামুখীতে মাওবাদীরা ছিলো। অথচ সেদিন যারা আহত, লঞ্ছিত হয়েছেন দুজন বয়স্ক মানুষ বদে সকলেই মহিলা ।

আরও পড়ুন...

ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শন ও সাস বহু ধারাবাহিক ঃ একটি মিলনাত্মক তুলনা

লিপিকর

বিষভাবে-পীড়িত একদল ভগবতী-অন্বেষী সম্প্রতি দূরদর্শনে-সম্প্রসারিত-ফুটবল-ম্যাচ ও সাস-বহু-ধারাবাহিক সম্বন্ধে একটি দীর্ঘ তুলনামূলক গবেষণা প্রকাশ করিয়াছেন এই আখ্যানে তাঁহাদের সিদ্ধান্তেরই একটি ব্যাখ্যান পেশ করা হইল| লিখিবার সুবিধার্থে এই রচনায় ফুটবল ম্যাচকে 'ফু:' ও সাস-বহু-ধারাবাহিককে 'সাবধা' রূপে সংক্ষেপিত করা হইবে ।

আরও পড়ুন...

জিনসঙ্গীত

শুচিস্মিতা

আপনার, আমার - আমাদের সক্কলের জীবনে যা একক ও স্বতন্ত্র - আমাদের সেই ডি এন এ সিকোয়েন্সকে সুরে বাঁধার এক আশ্চর্য প্রয়াস নিয়েছেন অ্যান্ড্রু মর্লে নামে এক গান পাগল মানুষ।

আরও পড়ুন...

মৎস্যজীবীরা এখনো জম্বুদ্বীপ ফিরে পাবার অপেক্ষায়

শশাঙ্ক দেব

জম্বুদ্বীপের ঘটনাকে ""মানুষকে বাদ দিয়ে সংরক্ষণের"" এক নেতিবাচক উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয় - ""জম্বুদ্বীপের মৎস্যজীবিকা ছিলো প্রকৃতির অনুযোগী অভ্যাস - তাঁদের জাল হাতে বোনা হতো। জালের এমন ব্যবস্থা ছিলো যাতে শুধু বয়স্ক মাছ ধরা পড়তো, শিশু মাছ ধরা হতো না। তাঁরা সূর্যের আলোয় মাছ শুকোতেন। তাঁরা প্রকৃতির থেকে ঠিক ততটুকুই নিতেন, যতটুকু তাঁদের প্রয়োজন ছিলো""। এই কথাটাই তাঁদের পাশে থাকা পরিবেশবাদীরা বলতে চেয়েছিলেন। জম্বুদ্বীপের বাদা বন সমুদ্রের লবণাক্ত ঝড় থেকে মৎস্যজীবীদের পেশাকে রক্ষা করত বলেই মৎস্যজীবীরা এই বাদাবনের রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। এ তাঁদের বই পড়ে বক্তৃতা শুনে প্রকৃতি রক্ষা করার প্রয়াস নয়। একেবারে জীবিকার প্রয়োজন থেকে পরিবেশ রক্ষার চেতনা। দু:খের কথা "বিশুদ্ধ পরিবেশবাদীরা" একথা বুঝলেন না। মৎস্যজীবীদের উৎখাত করার অতি উৎসাহে তারা এমনকি বাংলাদেশ থেকে আসা দুষ্কৃতীদের চোরাচালান ইত্যাদির অভিযোগ তুললেন। অথচ জম্বুদ্বীপের অবস্থান বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সুন্দরবনের যেকোন অঞ্চল বা দ্বীপের তুলনায় সবথেকে দূরে, পশ্চিম প্রান্তে। আর সীমান্ত থেকে ৯৬ কি.মি. দূরে এই দ্বীপে কোন চোরাচালান বা সাধারণ অপরাধের একটি অভিযোগও কখনও কোনোদিন পুলিশের খাতায় ওঠেনি। অথচ শুধু অনুমানের ভিত্তিতে এরকম অভিযোগ মৎস্যজীবীদের উচ্ছেদের যুক্তিকে সবল করেছিলো।
কিন্তু আসলে উচ্ছেদের যুক্তি কি ছিলো?

আরও পড়ুন...

বিশ্বকাপের প্যারডি

জগৎ পারাবারের তীরে
বিক্রম


জগৎ পারাবারের তীরে লেগেছে কী ঝামেলা
জুনের শেষ, জুলাই মাস
ঝিলিক মরে স্বল্পবাস
বাজিল বুঝি শীতের রাতে নিবিড় ভুভুজেলা

আরও পড়ুন...

ভারত -- একুশে পা?

বর্ন ফ্রি

তাহলে কেটেকুটে হাতে বাঁচল কি? একদিকে খোলা হাওয়ায় সমাজ স্বীকৃতি দিতে তৈরি হচ্ছে মত ও পথের বিভিন্নতাকে, যারা এতদিন প্রান্তে অবস্থান করতেন তাদের মূলস্রোতে মিলিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন কট্টর নৈতিক জ্যঠামশাই বা মরাল মাসিমারা। এই দুই ভিন্ন মেরুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি আমরা সবাই, কেউ চোখ খুলে বা কেউ বুজে। আর উদারতা এবং গোঁড়ামির এই বিচিত্র নকশি কাঁথার দিকে তাকিয়ে দিন গুনছি আমরা অসংখ্য গে এবং লেসবিয়ানরা

আরও পড়ুন...

বিশ্বকাপের পদ্য


এইতো দিকে দিকে লোকেরা ওঁৎ পেতে
দেখছে চোখ ফেঁড়ে বিশ্বকাপ
পূর্ব আভাসে ও বিশেষ মতামতে
বসছে নড়েচড়ে রক্তচাপ
নিরীহ কবিবর থাকেনা সাতে পাঁচে
ঘোরে না মাঠে ঘাটে দিন বেবাক

আরও পড়ুন...