রাণা আলম RSS feed

নিজের পাতা

রাণা আলম এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • পরীবালার দিনকাল
    ১--এ: যত তাড়াতাড়িই কর না কেন, সেই সন্ধ্যে হয়ে এলো ----- খুব বিরক্ত হয়ে ছবির মা আকাশের দিকে একবার তাকাল, যদি মেঘ করে বেলা ছোট লেগে থাকে৷ কিন্তু না: আকাশ তকতকে নীল, সন্ধ্যেই হয়ে আসছে৷ এখনও লালবাড়ির বাসনমাজা আর মুনি দের বাড়ি বাসন মাজা, বারান্দামোছা ...
  • বল ও শক্তি: ধারণার রূপান্তর বিভ্রান্তি থেকে বিজ্ঞানে#1
    আধুনিক বিজ্ঞানে বস্তুর গতির রহস্য বুঝতে গেলেই বলের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। আর দু এক ধাপ এগোলে আবার শক্তির কথাও উঠে যায়। সেই আলোচনা আজকালকার ছাত্ররা স্কুল পর্যায়েই এত সহজে শিখে ফেলে যে তাদের কখনও একবারও মনেই হয় না, এর মধ্যে কোনো রকম জটিলতা আছে বা এক কালে ছিল। ...
  • আমার বাবা আজিজ মেহের
    আমার বাবা আজিজ মেহের (৮৬) সেদিন সকালে ঘুমের ভেতর হৃদরোগে মারা গেলেন।সকাল সাড়ে আটটার দিকে (১০ আগস্ট) যখন টেলিফোনে খবরটি পাই, তখন আমি পাতলা আটার রুটি দিয়ে আলু-বরবটি ভাজির নাস্তা খাচ্ছিলাম। মানে রুটি-ভাজি খাওয়া শেষ, রং চায়ে আয়েশ করে চুমুক দিয়ে বাবার কথাই ...
  • উপনিষদ মহারাজ
    একটা সিরিজ বানাবার ইচ্ছে হয়েছিলো মাঝে। কেউ পড়েন ভালোমন্দ দুটো সদুপদেশ দিলে ভালো লাগবে । আর হ্যা খুব খুব বেশী বাজে লেখা হয়ে যাচ্ছে মনে হলে জানাবেন কেমন :)******************...
  • চুনো-পুঁটি বনাম রাঘব-বোয়াল
    চুনো-পুঁটি’দের দিন গুলো দুরকম। একদিন, যেদিন আপনি বাজারে গিয়ে দেখেন, পটল ৪০ টাকা/কেজি, শসা ৬০ টাকা, আর টোম্যাটো ৮০ টাকা, যেদিন আপনি পাঁচ-দশ টাকার জন্যও দর কষাকষি করেন; সেদিনটা, ‘খারাপ দিন’। আরেক দিন, যেদিন আপনি দেখেন, পটল ৫০ টাকা/কেজি, শসা ৭০ টাকা, আর ...
  • আগরতলা নাকি বানভাসি
    আগরতলা বানভাসি। দামী ক্যামেরায় তোলা দক্ষ হাতের ফটোগ্রাফ বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে ফেসবুকের ওয়াল। দেখছি অসহায়ের মতো সকাল, দুপুর বিকেল, রাত হোল এখন। চিন্তা হচ্ছে যাঁরা নীচু এলাকায় থাকেন তাঁদের জন্য। আমাদের ছোটবেলায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হোত হাওড়া নদীর বুক ভরে উঠতো ...
  • ভূতের_গল্প
    পর্ব এক"মদন, বাবা আমার ঘরে আয়। আর গাছে গাছে খেলে না বাবা। এক্ষুনি ভোর হয়ে যাবে। সুয্যি ঠাকুর উঠল বলে।"মায়ের গলার আওয়াজ পেয়ে মদনভূত একটু থমকাল। তারপর নারকেলগাছটার মাথা থেকে সুড়ুৎ করে নেমে এল নীচে। মায়ের দিকে তাকিয়ে মুলোর মত বিরাট বিরাট দাঁত বার করে ...
  • এমাজনের পেঁপে
    একটি তেপায়া কেদারা, একটি জরাগ্রস্ত চৌপাই ও বেপথু তোষক সম্বল করিয়া দুইজনের সংসারখানি যেদিন সাড়ে ১২১ নম্বর অক্রুর দত্ত লেনে আসিয়া দাঁড়াইল, কৌতূহলী প্রতিবেশী বলিতে জুটিয়াছিল কেবল পাড়ার বিড়াল কুতকুতি ও ন্যাজকাটা কুকুর ভোদাই। মধ্য কলিকাতার তস্য গলিতে অতটা ...
  • ব্যক্তিগত হিরোশিমা ডে অথবা ফ্রেন্ডশিপ ডে
    ঘুম থেকে উঠেই দেখি পিতাশ্রী ও মাতাশ্রী হিরোশিমা ডে পালন করছে। পার্ল হারবারে কে বোমা ফেলেছিলো জানিনা কিন্তু মাতারাণী আলমারি খুলে শাড়ি টাড়ি পরে তৈরী। পিতাশ্রী হতাশ ও ভীত গলায় আমায় অনুযোগ করলেন, দেখ না আমি কিচ্ছু বলিনি খালি বলেছি এ বর্ষায় কেউ দই খায় তাতেই ...
  • মেয়েদের চোরাগোপ্তা স্ল্যাং-2
    আমাদের এক্কাদোক্কা বেলায় সে অর্থে কোনো স্ল্যাং নেই। জাতীয় পতাকা উড়লে যেমন কোন সমস্যা নেই, দারিদ্র নেই। ডগডগে সিঁদুরের ক্যামোফ্লেজে যেমন সম্পর্কের শীতলতা নেই। বিজ্ঞাপনের ঢেউয়ে যেমন ভেসে নেই নিয়োগের লাশ।পাঁচমিশেলি কলোনির খোলা কন্ঠ থাকে। ভাষা থাকে। আর বাবু ...

রাণা আলম প্রদত্ত সর্বশেষ দু পয়সা

RSS feed

ফুরসতনামা... (পর্ব ১)


প্রথমেই স্বীকারোক্তি থাক যে ফুরসতনামা কথাটা আমার সৃষ্ট নয়। তারাপদ রায় তার একটা লেখার নাম দিয়েছিলেন ফুরসতনামা, আমি সেখান থেকে স্রেফ টুকেছি।আসলে ফুরসত পাচ্ছিলাম না বলেই অ্যাদ্দিন লিখে আপনাদের জ্বালাতন করা যাচ্ছিলনা। কপালজোরে খানিক ফুরসত মিলেছে, তাই লিখছি, অতএব ইহা ফুরসতনামা। টোকার কথা হচ্ছিল, আম্মো আমার ভাই অর্কের খান কতক গপ্পো টুকে দিই।

অর্ক কে মনে আছে কি? আমার সেই ভাইরত্নটি যে কিনা ক্লাসিকাল গাইয়ে (এর চেয়ে বেশি ইন্ট্রো চাইলে অর্কের গানের রেওয়াজ চলার সময় সামনে বসিয়ে দেবো)।অর্কের মত

কাফিরনামা...(তিসরা কিস্তি)



কদিন আগে খবরের কাগজে দেখলুম মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভাতে জনৈক ছাত্রনেতা জানিয়েছেন যে কলেজ স্কোয়ারে মিটিং মিছিল হলে তার ক্লাস করতে এবং হয়ত পড়াশুনো করতেও হেব্বি অসুবিধে হচ্ছে, অতএব ওখানে যেন মিটিং মিছিল করাটা বন্ধ করা হয়।

আমি একটু আধটু ছাত্র রাজনীতি করেছি। আমাদের সময় থেকেই এখন অব্দি ছাত্রনেতারা ক্লাস করেন অ্যামন অপবাদ শুনিনি। অবশ্যি, রাজনৈতিক দলগুলির রসিকতাবোধ বরাবরই বেশ উচ্চমানের,নইলে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয় কি করে।‘কাফিরনামা’ একটা সিরিয়াস লেখা হবার কথা ছিল,কি

এবং আফস্পা...

(লেখাটি আঁকিবুকি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।)

২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৯১। কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার কুনান পোসপোরা গ্রামে ইন্ডিয়ান আর্মি সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের খোঁজে ঢোকে।পুরুষ ও নারীদের আলাদা করা হয়।পুরুষদের অত্যাচার করা হয় তদন্তের নামে। আর সেই রাতে ১৩ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫৩ জন মহিলাকে বারংবার ধর্ষন করে ভারতীয় সৈন্যবাহিনী।অনেকের মতে ধর্ষিতের সংখ্যাটা ১০০ ছাড়াবে। একটা গ্রাম পুরো ধ্বংস হয়ে যায়।
অভিযুক্তদের কোনো বিচার হয়নি কারণ ওখানে আফস্পা জারী ছিল। কিছুদিন আগে কুপওয়াড়া জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপ

কাফিরনামা...(পর্ব ২)

আমার মতন অকিঞ্চিৎকর লোকের সিরিজ লিখতে বসা মানে আদতে সহনশীল পাঠকের সহ্যশক্তিকে অনবরত পরীক্ষা করা ।কোশ্চেনটা হল যে আপনি কাফিরনামা ক্যানো পড়বেন? আপনার এই দুনিয়াতে গুচ্ছের কাজ এবং অকাজ আছে। সব ছেড়ে কাফিরনামা পড়ার মতন বাজে সময় খুদাতলা আপনাকে দিয়েছেন কি? অবশ্যি,এই বিচ্ছিরি গরম, মোহনবাগানের ফেড কাপ ফাইনালে হার আর এত পার্সেন্ট ডিএ বকেয়া রেখেও যদি আপনি বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকতে পারেন তাহলে আমার এই কাফিরনামা সেই তুলনায় এক্কেবারে ‘তুশ্চু’।

আমার এক মাস্টারমশাই বলেছিলেন যে খুদাতলা দ্বীন দুনিয়ার আদমজাত

কাফিরনামা...(১ম কিস্তি)

কাফিরনামা... (১ম কিস্তি)

হপ্তাখানেক আগের কথা। ফেবুতে এক অনুজপ্রতিম আমায় একটি পোস্টে ট্যাগ করেছিলেন।তল্লাস করতে গিয়ে দেখি সেটায় ‘গরুখোর হিন্দু’দের সাথে অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে ‘শূয়োরখোর মুসলমান’ দের আওয়াজ দিতে বলা হয়েছে।সেই সুবাদেই আমায় ট্যাগিত করা হয়েছে আর কি। শুয়োর কিভাবে রান্না করলে কতটা সুস্বাদু হতে পারে তা নিয়ে সেমিনারের আগ্রহী শ্রোতা আমি নিশ্চিত,তবে এই খাদ্যগ্রহণের অভ্যেস আমার সেকুলারত্বের ইঙ্গিতবাহী পাইলট কার হয়ে দাঁড়িয়েছে, এইটে ধারণায় আসেনি।

তার চেয়েও বড় আগমার্কা ছাপ হল

যৎকিঞ্চিত ...(পর্ব ভুলে গেছি)


নিজের সঙ্গীত প্রতিভা নিয়ে আমার কোনোকালেই সংশয় ছিলনা। বাথরুম থেকে ক্যান্টিন, সর্বত্রই আমার রাসভনন্দিত কন্ঠের অবাধ বিচরণ ছিল।প্রখর আত্মবিশ্বাসে মৌলিক সুরে আমি রবীন্দ্রসংগীত গাইতুম।তবে যেদিন ইউনিভার্সিটি ক্যান্টিনে বেনারস থেকে আগত আমার সহপাঠীটি আমার গানের গলার প্রশংসা করে বসলেন সেদিন বিস্তর সন্দেহ জেগেছিল মনে।টাকা নাকি বই,কোনটা ধার নেওয়ার তালে আছে সে ভাবনাও মাথার মধ্যে উঁকি দিয়েছিল।

দিনকতক পরে সেই সহপাঠীর ঘরে গেছি।আমায় বসিয়ে তিনি গান শোনালেন।পাক্কা চল্লিশ মিনিট। নাজিদের কন্সেন্ট্রেশন

হারমোনিয়াম...

ওই যে শাহরুখ খান তার কোনো একখানি ইমোশনাল টর্চার মূলক অভিনয়ে জানিয়েছিলেন যে পৃথিবীর কেউ না কেউ কারুর না কারুর জন্য অপেক্ষা করছে।যার মানে বোধহয় এরম যে দুনিয়ার প্রত্যেকটা লোক কারুর না কারুর কাছে ধার নিয়েছে কি বউ নিয়ে পালিয়েছে বা তার থেকেও খারাপ, কোনো ভালো বই পড়তে নিয়ে স্রেফ মেরে দিয়েছে।অতএব, ধার দেওয়া কি বউ পালানো বা বই হারানো লোকটা অপেক্ষাতেই থেকে যাবে। এটা ছাড়াও অন্য মানে থাকতে পারে, তবে আমার মাথা আমার ভুঁড়ির মাফিক মোটা, এর চেয়ে বেশি বুঝতে পারিনি।আমার এই কম বোঝা নিয়ে আরেকটা গপ্পো আছে। আমার ভাই অর

ইসকুল-টিসকুল (পর্ব ২)

কিছুদিন আগে যখন অনির্দিষ্টকাল যাবত স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের গরমের ছুটি চলছিল তখন আমার পরিচিত শিক্ষক শুভময় দা একটি শিক্ষকদের বৃত্তে পোস্ট করেছিলেন যে যেহেতু শিক্ষকদের আসতেই হচ্ছে অতএব মর্নিং এও যদি ক্লাস করানোর অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে পড়াশুনোটা হয়। বেশ কিছু ‘শিক্ষক’ শুভময় দা কে কার্যত ‘বুলি’ করেন। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে ভরিয়ে দেওয়া হয়। আরও দু-একজন এই সকালে ক্লাস করানোর কথা তুলেছিলেন, তারাও বাকি শিক্ষকদের বিদ্রূপ এবং তাচ্ছিল্যের শিকার হোন।
সরকারী সাহায্যপোষিত স্কুলগুলোতে গড়পড়তা স্কুল হয় ২২০-২৩০ দিন।

ইসকুল-টিসকুল (পর্ব ১)

বাঙালি হিসেে্বে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাংলা ভাষা নিয়ে গভীর আবেগ রয়েছে আমার। আগাম এটুকু বলে রাখাটা জরুরী।
কদিন আগে একটি প্রিন্ট মিডিয়াতে জনৈক বাঙালি শিশুশিল্পীর সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম। সেখানে তার মা জানাচ্ছেন যে তার কন্যাটি বাংলা পড়তে পারেনা। আমার জ্ঞানলাভ হল যে কলকেতাতে অ্যামন ইস্কুলও আছে যেখানে পড়লে বাঙ্গালির ছেলে মেয়েরা বাংলা পড়তে পারেনা।
এখন আমি সেকেলে লোক। বাংলা মাধ্যম ইস্কুলে পড়ে পাশ করা। কাজেই আমার চোখে বাঙালি হয়ে বাংলা পড়তে না পারাটা খুব গর্বের বিষয় নয় আর কি। যাদের কাছে গর্বের বিষয়

এদিক সেদিক যা বলছেনঃ