অভিষেক ভট্টাচার্য্য RSS feed
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মানবিক
    এনআরএস-এর ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এরকম ঘটনা বারেবারেই ঘটে চলেছে এবং ভবিষ্যতে ঘটতে চলেছে আরও। ঘটনাটি সমর্থনযোগ্য নয় অথবা ঘৃণ্য অথবা পাশবিক (আয়রনি); এই জাতীয় কোনো মন্তব্য করার জন্য এই লেখাটা লিখছি না। বরং অন্য কতগুলো কথা বলতে চাই। আমার মনে হয় এই ঘটনার ...
  • ডিগ্রি সংস্কৃতি
    মমতার সবৈতনিক শিক্ষানবিস শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের ঘোষণায় চারপাশে প্রবল হইচই দেখছি। বিশেষ গাদা গাদা স্কুলে হাজার হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে কিছুই না করে এই ঘোষণাকে সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়ার তাল মনে হইয়া খুবই ...
  • বাংলাদেশের শিক্ষিত নারী
    দেশে কিছু মানুষ রয়েছে যারা নারী কে সব সময় বিবেচনা করে নারীর বিয়ে দিয়ে। মানে তাদের কাছে বিয়ে হচ্ছে একটা বাটখারা যা দিয়ে নারী কে সহজে পরিমাপ করে তারা। নারীর গায়ের রং কালো, বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। নারী ক্লাস নাইন টেনে পড়ে? বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৫)
    স্কিউ – মারখা (০৫.০৯.২০১৮)--------...
  • গন্ডোলার গান
    সে অনেককাল আগের কথা। আমার তখন ছাত্রাবস্থা। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের টাকার ভরসায় ইটালি বেড়াতে গেছি। যেতে চেয়েছিলাম অস্ট্রিয়া, সুইৎজারল্যান্ড, স্ট্রাসবুর্গ। কারণ তখন সবে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল শুনতে শুরু করেছি। মোৎজার্টে বুঁদ হয়ে আছি। কিন্তু রিসার্চ ...
  • শেকড় সংবাদ : চিম্বুকের পাহাড়ে কঠিন ম্রো জীবন
    বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমি অধিগ্রহণের ফলে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৭৫০টি ম্রো আদিবাসী পাহাড়ি পরিবার হারিয়েছে অরণ্যঘেরা স্বাধীন জনপদ। ছবির মতো অনিন্দ্যসুন্দর পাহাড়ি গ্রাম, জুম চাষের (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ চাষাবাদ) জমি, ...
  • নরেন হাঁসদার স্কুল।
    ছাটের বেড়ার ওপারে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। সেমুখো হতেই এক শ্যামাঙ্গী বুকের ওপর দু হাতের আঙুল ছোঁয়ায় --জোহার। মানে সাঁওতালিতে নমস্কার বা অভ্যর্থনা। তার পিছনে বারো থেকে চার বছরের ল্যান্ডাবাচ্চা। বসতে না বসতেই চাপাকলের শব্দ। কাচের গ্লাসে জল নিয়ে এক শিশু, --দিদি... ...
  • কীটদষ্ট
    কীটদষ্টএকটু একটু করে বিয়ারের মাথা ভাঙা বোতল টা আমি সুনয়নার যোনীর ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলাম আর ওর চোখ বিস্ফারিত হয়ে ফেটে পড়তে চাইছিলো। মুখে ওরই ছেঁড়া প্যাডেড ডিজাইনার ব্রা'টা ঢোকানো তাই চিৎকার করতে পারছে না। কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে, কিন্তু হাত পা কষে বাঁধা। ...
  • Ahmed Shafi Strikes Again!
    কয়দিন আগে শেখ হাসিনা কে কাওমি জননী উপাধি দিলেন শফি হুজুর। দাওরায় হাদিস কে মাস্টার্সের সমমর্যাদা দেওয়ায় এই উপাধি দেন হুজুর। আজকে হুজুর উল্টা সুরে গান ধরেছেন। মেয়েদের ক্লাস ফোর ফাইভের ওপরে পড়তে দেওয়া যাবে না বলে আবদার করেছেন তিনি। তাহলে যে কাওমি মাদ্রাসা ...
  • আলতামিরা
    ঝরনার ধারে ঘর আবছা স্বয়ম্বর ফেলেই এখানে আসা। বিষাদের যতো পাখিচোর কুঠুরিতে রাখিছিঁড়ে ফেলে দিই ভাষা৷ অরণ্যে আছে সাপ গিলে খায় সংলাপ হাওয়াতে ছড়ায় ধুলো। কুটিরে রেখেছি বই এবার তো পড়বোই আলোর কবিতাগুলো।শুঁড়িপথ ধরে হাঁটিফার্নে ঢেকেছে মাটিকুহকী লতার জাল ফিরে আসে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অভিষেক ভট্টাচার্য্য প্রদত্ত সর্বশেষ দু পয়সা

লেখকের আরও পুরোনো লেখা >> RSS feed

২০৩৭: একটি রূপ(?)কথা

এটা ২০৩৭ সাল। এবং অামেরিকার গ্লোবাল ডমিনেশন সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।

তবে সকলেই যে নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে গিয়েছে তা নয়। এ সম্পর্কে যথাসময়ে বলা যাবে। আপাতত শুধু এটুকু জানিয়ে রাখা যাচ্ছে যে আট দশক আগে গুয়াতেমালা-ফুয়াতেমালা, চিলি-ফিলি ও আরও যে কয়েকটি পোকামাকড়কে, যেমন কিউবা ও অ্যাঙ্গোলা, দু'আঙুলে ধরে টিপে ফাটিয়ে দেবার যে কর্মসূচী গ্রহণের মধ্যে দিয়ে ব্যাপারটা শুরু করা গেছিল তা এখন পরিপূর্ণ। এবং এই দীর্ঘ গুয়াতেমালা-পর্ব ও চিলি-পর্বের পরে অষ্টাদশ পর্ব সমাপ্ত করতে যথানিয়মেই আসে ইরাক ও আফগানিস্তান। এবং মা

সিঁড়ির নিচে মিটারঘরে মা কালী

২০১২ সালের ২১শে ডিসেম্বরের ঠিক আগে আগে যখন আর কয়েকদিনের মধ্যেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে বলে চারদিকে তোলপাড় উঠেছিল, তখনও ঠিক এরকম করেই রোদের দিকে পিঠ করে শাল জড়িয়ে রাস্তার ধারে কাঠের বেঞ্চির ওপরে একটা ঠ্যাং মুড়ে বসে চুমুকে চুমুকে লাল চা খেত বাবুসোনা।
বাবুসোনার হেলদোল নেই। কানাঘুষোয় কথাটা তার কানে এসেছিল যদিও। কী সব সাল-তারিখের ব্যাপারস্যাপার - পৃথিবী নাকি গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ধুলোয় মিশে যাবে ওই দিন - বাবুসোনা গা করেনি - আজকাল প্রায় কোনও ব্যাপারেই করে না আর - চা'টা শেষ করে সেদিনও হাতুড়িটা কাঁধে তুলে ন

যখন ভাল ছিলাম

আচ্ছা, দুরদর্শনের সেই লোগোটার কথা সবার মনে আছে কি? সেই যে এবড়ো-খেবড়ো পাতার মত দুটো জিনিস ঘুরতে ঘুরতে ক্রমে মসৃণ হয়ে গোল লোগোটা তৈরি হত অার ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতো "সারে জাঁহাসে অাচ্ছা" -র সেই অদ্ভুত টিউন? শুধু তিনটে চ্যানেল অাসতো তখন টিভিতে - DD1, DD2 অার DD7. প্রতি রবিবার বিকেল চারটেয় DD7 -এ দেখা দিতেন উত্তম-সুচিত্রা অার দাদু-ঠাকুমারা এসে বসতেন টিভির সামনে। মোবাইল তখনো সাম্রাজ্যবিস্তার করেনি, ফেসবুক তখন প্রায় science-fiction -এর পর্যায়ে পড়ে, Reality Show -এর কথা তখনো বাঙালি শোনেনি। তখন কালবৈশাখী হ

মহিষাসুরমর্দিনী

শব্দটা হঠাৎ কানে যেতেই বাবুসোনা বুঝে গেছিল ব্যাপারটা। আর তাই অন্য সবাই চমকে উঠলেও সে চমকায়নি। ছুঁচে সুতো পরাতে পরাতে কাজ না থামিয়েই জিভ দিয়ে চুকচুক করে একটা আওয়াজ করে কেবল বলেছিল, 'আবার গেল একটা!'
অবশ্য ঠিক করে বিশ্লেষণ করে দেখলে বোঝা যায় এই শব্দে বাবুসোনার আশ্চর্য হবার মত কিছুই ছিল না। শোক পাবার তো নয়ই। এর আগে জীবনে আরো তিন-তিনবার শব্দটা শুনেছে সে। ঠিক এই এক প্রাবল্য, এক কম্পাঙ্ক, একই স্থায়িত্ব। সেই একই উৎস থেকে সেই একইভাবে ভেসে এল ক্লান্তিহীন সেই একঘেয়ে শব্দ। কিছুটা যেন চাপা বিস্ফোরণের মত।

গদির মালিক

তারা পলিটিক্যালি কারেক্ট মানুষ।

তাদের আড্ডা ছিল মরিচঝাঁপি ছাড়িয়ে, পূর্ব-পশ্চিম দুই পাকিস্তান নাড়িয়ে, আমলাশোলের ধারে, ঝান্ডার ছায়ার তলায়। ছেলেবেলায় যখন তাদের আঙুলে কালি ওঠেনি তখন থেকে তারা দেখে আসছে সেই আদ্যিকালের গণতন্ত্র। সে যে কোথাকার কোন তন্ত্র সে খবর কেউ জানে না, কিন্তু সবাই বলে, 'গণতন্ত্র'।

যত সব বিপ্লবী ছেলে-মেয়ে, কলেজে বই খুলে যারা মোটে বসতে চায় না, গণতন্ত্রের হাতে কর্পোরেটি নোটের ফড়ফড়ানি শুনে শুনে তাদেরও জিভে জল আসে —

পেটমোটা মানিব্যাগ, গোটা নোট, মোটা নোট

আমাদের জন্য...সব আমাদের জন্য...

যে যাই বলুক ভাই, বাংলা সাহিত্যের সবচে' বড় ক্ষতি করেচেন মাইরি দাড়িদাদুই! এম্নি লিখেচেন যে আজও বাঙালী তেনার গন্ডি ছেড়ে বেরোতে পারেনি। যে যেমনই লিখুক না কেন রে ভাই, সাহিত্যের ব্যাপারে বাঙালীর উৎকর্ষের মাপকাঠি হলেন সেই আদি ও অকৃত্রিম রবীন্দ্রনাথ। এক্কেরে মোহিনীমোহন কাঞ্জিলাল এন্ড সন্সের মত। কোনো শাখা নেই! এদিকে দক্ষিণেশ্বরের কালীঠাকুর, ওদিকে গীতাঞ্জলীর রবিঠাকুর। আহা, আমার ইয়ে ইয়ে তো কী, রবীন্দ্রনাথ নোবেল! গুরুদেব গো! আরো হাজার বছর তোমায় ধুয়ে জল খাবো গো আমরা! তিরিশ কোটি সন্তানেরা, হে মুগ্ধ দাড়িদা / চ

ছায়ামানুষ

ফ্ল্যাটটা কেনার পরে সুদীপের চেয়ে শাশ্বতীই যে বেশি খুশি সেটা ওর হাবভাবেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। অবশ্য সুদীপও যে খুশি হয়নি তা নয়। সাজানো-গোছানো বড় বড় দু'টো বেডরুম, একটা গেস্টরুম, একটা ডাইনিং কাম কিচেন আর অ্যাটাচড্ বাথরুম। সদ্য বিবাহিত, উচ্চ-মধ্যবিত্ত একটা দম্পতি বাসস্থান হিসেবে আর কী চাইতে পারে এর বেশি? ঝকঝকে মার্বেলের মেঝে, ঘরের দেওয়ালে চমৎকার হাল্কা সবুজ রঙের প্লাস্টিক পেইন্ট, বড় বড় জানালা দিয়ে আলো আর হাওয়া আসছে অনবরত। তোফা! শুধু একটাই মাইনাস পয়েন্ট - ফ্ল্যাটটা রেললাইনের কাছে হওয়ায় উত্তরদিকের জানা

বুদ্ধিজীবি

- দোহাই মিস্টার মিটার! হাপনি এরুকম কোরবেন না! হামার নুকসান হোয়ে যাবে, বেওসার খেতি হোয়ে যাবে!
- হ্যাঁ, তা তো যাবেই। আপনি জাল ওষুধের কারবার করবেন, বেবিফুডে ভেজাল দেবেন আর আমি আপনাকে ছেড়ে দেব?
- শুনেন মিস্টার মিটার! কেতো টাকা চাই হাপনার বোলেন। হামি চেক লিখে দিচ্ছি। আভি!
- টাকার লোভ যে আমার নেই সে তো আপনি আগেই দেখেছেন, মগনলালজী। ওসব বলে ফেলু মিত্তিরকে চুপ করানো যায় না।
- তো কী চাই বলেন? মেয়েছেলে? কলগার্ল? হামি সোব ইন্তেজাম কোরিয়ে দিব, হোটেল ভি ঠিক কোরিয়ে দিব, হাপনি গিয়ে স্রিফ কাম কোর

পৃথিবীর শেষ গাছ

ঘটনাটা ঘটবে আজ থেকে ঠিক দেড়শো বছর পরে। ২১৬৬ সালের এপ্রিল মাসে। ঠিক কত তারিখে ঘটবে তা এখন জানা যায় না, তবে ঘটবে অবশ্যই।
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর আর বিশুদ্ধ শহরগুলোর একটাতে বিশাল লম্বা, বুলেটপ্রুফ গাড়িটার থেকে নেমে লক্ষ লক্ষ কালো মাথাগুলোর দিকে চেয়ে হাত নাড়বেন পৃথিবীপ্রধান। তুমুল হর্ষধ্বনি উঠবে সঙ্গে সঙ্গেই। প্রবল হাততালির শব্দে দায় হবে কান পাতা। টিভি ক্যামেরাগুলো প্যান আর জুম করে করে তুলবে জনতার এই উচ্ছ্বসিত কলরবের দৃশ্য।
তারপর পৃথিবীপ্রধান গিয়ে দাঁড়াবেন ডায়াসে। ধীরে ধীরে নিশ্চুপ হবে চারিদিক

বঙ্কিমি

বৈশম্পায়ন কহিলেন - হে রাজন! একবিংশ শতকের প্রথম ভাগে বঙ্গভূমিতে আধুনিক মধ্যবিত্ত বাঙালি নামক এক অদ্ভুত জীবের আবির্ভাব ঘটিবে যাঁহারা নিজ নানাবিধ কার্যকলাপের দ্বারা বঙ্গদেশকে প্রকম্পিত করিয়া তুলিবেন। আমি এক্ষণে সেই বিচিত্রবুদ্ধি বাঙালিদের ক্রিয়াকলাপ কিছু কিছু বর্ননা করিব। আপনি শ্রবণ করুন।

হে নরবর! এই আধুনিক মধ্যবিত্ত বাঙালিগণ সিটি সেন্টারে গিয়া ২০০ টাকার দ্রব্য ১২০০ টাকায় ক্রয় করিয়া আপনার 'স্ট্যাটাস' বজায় রাখিবে কিন্তু রিকশাচালক অধিক ৫ টাকা চাহিলে তাহার সহিত আধঘন্টা ঝগড়া করিয়া পরম তৃপ্তিল
>> লেখকের আরও পুরোনো লেখা >>

এদিক সেদিক যা বলছেনঃ