Anuradha Kunda RSS feed

Anuradha Kundaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর
    পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো রকমে ...
  • বেঁচে আছি, আত্মহারা - জার্নাল, জুন ১৯
    ১এই জল, তুমি তাকে লাবণ্য দিয়েছ বলেবাণিজ্যপোত নিয়ে বেরোতেই হ'লযতক্ষণ না ডাঙা ফিকে হয়ে আসে।শুধু জল, শুধু জলের বিস্তার, ওঠা পড়া ঢেউসূর্যাস্তের পর সূর্যোদয়ের পর সূর্যাস্তমেঘ থেকে মাঝে মাঝে পাখিরা নেমে আসেকুমীরডাঙা খেলে, মাছেরা ঝাঁক বেঁধে চলে।চরাচর বলে কিছু ...
  • আনকথা যানকথা
    *****আনকথা যানকথা*****মোটরবাইক ঃ ইহা একটি দ্বিচক্রী স্থলযান। পেট্রল ডিজেল জাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানির সাহায্যে চলে। বিভিন্ন আকারের ও বিভিন্ন ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরবাইক আমরা দেখিতে পাই। কোন কোন বাইকের পাশে ক্যারিয়ার থাকে। শোলে বাইক আজকাল সেরকম দেখিতে পাওয়া যায়না। ...
  • সরকারী পরিষেবার উন্নতি না গরীবকে মেডিক্লেম বানিয়ে দেওয়া? কোনটা পথ?
    এন আর এস এর ঘটনাটি যে এতটা স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠতে পারল এবং দেখিয়ে দিল হাসপাতালগুলির তথা স্বাস্থ্য পরিষেবার হতশ্রী দশা, নির্দিষ্ট ঘটনাটির পোস্টমর্টেম পেরিয়ে এবার সে নিয়ে নাগরিক সমাজে আলোচনা দরকার।কিন্তু এই আলোচনা কতটা হবে তাই নিয়ে সংশয় আছে। কারণ ...
  • জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা
    হিংসার ঘটনা এই তো প্রথম নয়। ২০১৭ ফেব্রুয়ারীতে টাউনহল খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট কে তুলোধোনা করার পর রাজ্যে ১ নতুন ক্লিনিক্যাল এস্তব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট চালু হয়েছিল। বলা হয়েছিল বেসরকারি হাসপাতাল গুলি র রোগী শোষণ বন্ধ করার জন্য, ...
  • ব্রুনাই দেশের গল্প
    আশেপাশের ভূতেরা – ব্রুনাই --------------------...
  • 'বখাটে'
    তেনারা বলতেই পারেন - কেন, মাও সে তুঙ যখন ঘোষণা করেছিল, শিক্ষিত লোকজনের দরকার নেই, লুম্পেন লোকজন দিয়েই বিপ্লব হবে, তখন দোষ ছিল না, আর 'বখাটে' ছেলেদের নিয়ে 'দলের কাজে' চাকরি দেওয়ার কথা উঠলে দোষ!... কিন্তু, সমস্যা হল লুম্পেনের ভরসায় 'বিপ্লব' সম্পন্ন করার পর ...
  • ডাক্তার...
    সবচেয়ে যে ভাল ছাত্র তাকেই অভিভাবকরা ডাক্তার বানাতে চায়। ছেলে বা মেয়ে মেধাবী বাবা মা স্বপ্ন দেখে বসে থাকল ডাক্তার বানানোর। ছেলে হয়ত প্রবল আগ্রহ নিয়ে বসে আছে ইঞ্জিনিয়ারিঙের কিন্তু বাবা মা জোর করে ডাক্তার বানিয়েছে এমন উদাহরণ খুঁজতে আমাকে বেশি দূর যেতে হবে ...
  • বাতাসে আবারও রেকর্ড সংখ্যক কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কোন পথে এগোচ্ছে পৃথিবী?
    সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন বলছে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ আবারও বেড়ে গেছে। এই নিয়ে প্রতিবছর মে মাসে পরপর কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পেতে বর্তমানে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ রেকর্ড সংখ্যক। গত মাসে (মে-তে) কার্বন ডাই অক্সাইডের ...
  • ফেসবুক রোগী
    অবাক হয়ে আমার সামনে বসা ছেলেটার কান্ড দেখছি। এই সময়ে তার আমার পাশে বসে আমার ঘোমটা তোলার কথা। তার বদলে সে ল্যাপটপের সামনে গিয়ে বসেছে।লজ্জা ভেঙ্গে বলেই ফেললাম, আপনি কি করছেন?সে উৎকণ্ঠার সাথে জবাব দিলো, দাঁড়াও দাঁড়াও! 'ম্যারিড' স্টাটাস‌ই তো এখনো দেইনি। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দৃশ্যের জন্ম:ব্রোকন ইমেজেস

Anuradha Kunda

রাণী ছিল গাঁয়ের মেয়ে। ছোট্ট।লক্ষ্মী। শান্ত।যেমনটি মেয়েদের হতে হয় আর কি।মানে যেমন হলে লোকে লক্ষ্মী মেয়ে বলে।ধরা যাক তাকে নিয়ে একটা গান বাঁধা হল।এইরকম।
এক যে ছিল মেয়ে
মেয়ের নামটি ছিল রাণী
ঘন চুলে খোঁপা বেঁধে
সাজাতো ফুলখানি।
রাণীর হাঁটু পর্যন্ত ঘন কালো কোঁকড়া চুল।যেন কালনাগিণীরা ফণা তুলে আছে পদ্মের মতো মুখখানি ঘিরে।তো এই রাণীর বিয়ে হল অপ্পন্নার সঙ্গে। ভারি কড়া স্বামী।সুন্দরী বউকে ঘরে তালা বন্ধ করে রেখে সে রোজ রাতে বাইজি বাড়ি যায়।ভয়ে রাণীর মুখে কথা সরে না।জানলা দিয়ে চেয়ে থাকে বাইরে।রাণীকে দেখতে এলো অন্ধ বুড়ি কপিলা।রাণী র শাশুড়ি ছিল তার বন্ধু। জানলা দিয়ে রাণী র চোখে মুখে হাত বুলিয়ে বুড়ি বুঝে নিল, এ সুন্দরীর সুখ নেই কো মনে।রাণীকে সে জড়িবুটি দিল।স্বামীকে বশে রাখার মন্তর।রাণী ডালের সঙ্গে মিশিয়ে দিল অপ্পন্নাকে।মাথা ঘুরে পড়ে গেল লোকটা এক ঢোক খেয়ে ই।ভয়ে রাণীর হাত পা ঠান্ডা।দৌড়ে গিয়ে ওষুধ দেওয়া ডাল ফেলে দিল উঠোনের কোণে।যেখানে থাকতো কালসাপ। জ্ঞান ফিরে অপ্পন্না রাণীকে তালা দিয়ে ঘর বন্ধ করে ফিরলো বাইজি বাড়ি। আর ওষুধ দেওয়া ডাল খেয়ে নাগ হয়ে উঠলো রাণীর প্রেমিক। অপ্পন্না রোজ রাতে বেরিয়ে গেলে, কালনাগ অনন্তের চেহারা ধরে আসে রাণীর কাছে।মিষ্টি প্রেমের কথা বলে রাণীর কানেকানে।রাণী অবাক হয়ে ভাবে দিনের বেলার কর্কশ মানুষটা রাতে এমন পাল্টে যাচ্ছে কেমন করে?এ যে আকাশ আর পাতাল!দিনে যে রাণীকে ধরে পেটায়,রাতে সেই কেমন করে হয়ে ওঠে সোহাগ করা প্রেমিক।
সব দিন তো সমান যায় না,রাণীর অত সুখ কপালে সইবে কেন? একদিন রাণী বুঝতে পারলো সে মা হতে চলেছে।শুনে কাল নাগের মন খারাপ।আর অপ্পন্না তো পঞ্চায়েতে বলেই ফেললো,রাণীর গর্ভের সন্তানের বাপ মোটেই সে নয়।অন্য কেউ।বউকে দুশ্চরিত্রা বলে গাল দিল বাইজি র প্রেমিক অপ্পন্না।
তখন আমরা দেখি, এ কোন রাণী!!!!এতো আর সেই ছেলেমানুষ মিষ্টি মেয়েটি নেই!এ তো এক তেজস্বিনী নারী!যে আগুন ছুঁয়ে বলে যে স্বামী ছাড়া কাউকে কখনো স্পর্শ করেনি সে।কোনো পাপ করেনি।মোড়লের বিধানে নাগের গর্তে হাত ঢোকায় রাণী।দোষ করলে সাপ কামড়াবে তাকে।এমনি লোকের বিশ্বাস।কিছুই হয় না।গাঁয়ের যারা রাণীকে অসতী বলে গাল দিয়েছিল , তারাই আবার দেবী বলে জয়ধ্বনি দেয়।অপ্পন্না দেখে কেমন দেবী হয়ে যাচ্ছে তার বউ।রাত্রে নাগকে রাণীর ঘরে নাগকে ঢুকতে দেখে অপ্পন্না। কাটারি ছুঁড়ে মারে নাগকে।
বউকে মেনে নিতেই হবে এবার।অপ্পন্না আর রাণীর সংসারে সন্তান আসে।রাণীকে সুখে সংসার করতে দেখে নাগ আসে গভীর রাতে।এখন সে কামড়াতেই পারে অপ্পন্নাকে।কিন্তু তাতে কি সুখী হবে রাণী!প্রেম তো অমন স্বার্থপর নয়! রাণীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে নাগ।তারপর সেই ঘন কালো চুলে ফাঁস লাগিয়ে মরে যায়। ঘুম থেকে উঠে ওরা দেখে রাণীর চুলে জড়িয়ে আছে মৃত সর্প।রাণীর ইচ্ছেতে নাগের চিতায় আগুন দেয় তাদের ছেলে।একমাত্র মা জানেন সন্তানের বাবা কে!
স্বামী ছাড়া কাউকে কখনো স্পর্শ করেনি রাণী।তবু ,গভীর রাতে নাগ যখন আসতো তার কাছে,চাঁদের নরম আলোতে,মায়াবী জ্যোৎস্নারা যখন দুটি নারী পুরুষের দেহে সুধা ঢেলে দিতো,তখন কি গভীর অবচেতনে রাণীর মনে হত না,যে এ লোক সত্যি অপ্পন্না নয়!এ অন্য কেউ।যার বাইরের রূপ তার স্বামীর।ভিতরে অন্য কেউ আছে,যে এক কোমল প্রেমিক।
সর্প পুরাণ। ঘরের কোণে সাপ।পরিবেশ বন্ধু। সাপ ভয়ংকর নয়।সে প্রেমিক।সর্প পুরাণকে ভেঙে এক নতুন পুরাণ তৈরি করলেন গিরিশ কারনাড ,যেখানে প্রেম আর যৌনতা এক অভাবনীয় মাত্রা পেল।গুরুত্ব পেল নারীর যৌনতা। অত্যাচারী বর অপ্পন্নার কাছে ভয়ে শুকিয়ে থাকতো যে মেয়ে,স্পষ্ট বোঝা যায় সেখানে সে ছিল যৌনদাসী মাত্র।যখন চাঁপা ফুলের গন্ধ নিয়ে প্রেম এলো, রাণী শুধু স্ত্রী নয়।হয়ে উঠলো প্রেমিকা।পূর্ণতা পেল তার যৌনতা,যাকে বাদ দিয়ে তার অস্তিত্ব তৈরি হয় না।নাগ আর রাণীর প্রেম এক আশ্চর্য প্রাকৃতিক প্রেম।ইনহিবিশন মুক্ত।স্বচ্ছ। প্রগলভ।
গিরিশ কারনাড নারীর যৌনতাকে গুরুত্ব দিলেন বড় নান্দনিক ভাবে।অকুতোভয় রাণী পঞ্চায়েতে বলে উঠলো,এ সন্তান আমার।
অন্যদিকে দেখলে,দিনে প্রহার ,রাতে প্রেম এমন দাম্পত্যের ও তো অভাব নেই।যে বউকে দিনের বেলা পেটানো যায়,রাতে তার কাছেই পুরুষ ফিরে আসে দেহের আকর্ষণে।।টানাপোড়েনের গল্পে রাণীরা বড় হয়ে ওঠে।নিজের মত প্রতিষ্ঠা করতে শেখে ভয়কে পায়ের তলায় রেখে।তারপর সিদ্ধান্ত নেয় অপ্পন্না নয়।রাণী।
পুরাণ,প্রেম,যৌনতা,সমাজ ।তদুপরি মন।আশ্চর্য সেই মনের গভীরে ডুবে যাওয়া। যেন এক আদিম নাগ।কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে মনের গভীরে।এক সেই বোঝে প্রেমের স্বভাব।রাণী কি অপ্পন্নার মধ্যে সেই প্রেম খুঁজেছিল!অপ্পন্না আর নাগ কি একই পুরুষ? না তারা আলাদা?কখনো কড়া স্বামী। কখনো আকুল প্রেমিক।পুরুষাধিপত্যের এই প্রবল পেষণে রাণীরা হারিয়ে যেতে যেতে ,যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়,তখন ফুঁসে ওঠে।সে তখন শরীরে ও মনে সবল।পূর্ণ। আর প্রেম! গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হওয়া ছাড়া আর কিছুই কি গতি আছে তার?
গিরিশ কারনাডের "নাগামন্ডলা" এমন এক বলিষ্ঠ নাটক যা পড়তে পড়তে বা দেখতে দেখতে আমরা একের পর এক প্রশ্ন ভাঙা গড়া করি।




136 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন