এবড়োখেবড়ো RSS feed

এবড়োখেবড়ো-র খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর
    পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো রকমে ...
  • বেঁচে আছি, আত্মহারা - জার্নাল, জুন ১৯
    ১এই জল, তুমি তাকে লাবণ্য দিয়েছ বলেবাণিজ্যপোত নিয়ে বেরোতেই হ'লযতক্ষণ না ডাঙা ফিকে হয়ে আসে।শুধু জল, শুধু জলের বিস্তার, ওঠা পড়া ঢেউসূর্যাস্তের পর সূর্যোদয়ের পর সূর্যাস্তমেঘ থেকে মাঝে মাঝে পাখিরা নেমে আসেকুমীরডাঙা খেলে, মাছেরা ঝাঁক বেঁধে চলে।চরাচর বলে কিছু ...
  • আনকথা যানকথা
    *****আনকথা যানকথা*****মোটরবাইক ঃ ইহা একটি দ্বিচক্রী স্থলযান। পেট্রল ডিজেল জাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানির সাহায্যে চলে। বিভিন্ন আকারের ও বিভিন্ন ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরবাইক আমরা দেখিতে পাই। কোন কোন বাইকের পাশে ক্যারিয়ার থাকে। শোলে বাইক আজকাল সেরকম দেখিতে পাওয়া যায়না। ...
  • সরকারী পরিষেবার উন্নতি না গরীবকে মেডিক্লেম বানিয়ে দেওয়া? কোনটা পথ?
    এন আর এস এর ঘটনাটি যে এতটা স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠতে পারল এবং দেখিয়ে দিল হাসপাতালগুলির তথা স্বাস্থ্য পরিষেবার হতশ্রী দশা, নির্দিষ্ট ঘটনাটির পোস্টমর্টেম পেরিয়ে এবার সে নিয়ে নাগরিক সমাজে আলোচনা দরকার।কিন্তু এই আলোচনা কতটা হবে তাই নিয়ে সংশয় আছে। কারণ ...
  • জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা
    হিংসার ঘটনা এই তো প্রথম নয়। ২০১৭ ফেব্রুয়ারীতে টাউনহল খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট কে তুলোধোনা করার পর রাজ্যে ১ নতুন ক্লিনিক্যাল এস্তব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট চালু হয়েছিল। বলা হয়েছিল বেসরকারি হাসপাতাল গুলি র রোগী শোষণ বন্ধ করার জন্য, ...
  • ব্রুনাই দেশের গল্প
    আশেপাশের ভূতেরা – ব্রুনাই --------------------...
  • 'বখাটে'
    তেনারা বলতেই পারেন - কেন, মাও সে তুঙ যখন ঘোষণা করেছিল, শিক্ষিত লোকজনের দরকার নেই, লুম্পেন লোকজন দিয়েই বিপ্লব হবে, তখন দোষ ছিল না, আর 'বখাটে' ছেলেদের নিয়ে 'দলের কাজে' চাকরি দেওয়ার কথা উঠলে দোষ!... কিন্তু, সমস্যা হল লুম্পেনের ভরসায় 'বিপ্লব' সম্পন্ন করার পর ...
  • ডাক্তার...
    সবচেয়ে যে ভাল ছাত্র তাকেই অভিভাবকরা ডাক্তার বানাতে চায়। ছেলে বা মেয়ে মেধাবী বাবা মা স্বপ্ন দেখে বসে থাকল ডাক্তার বানানোর। ছেলে হয়ত প্রবল আগ্রহ নিয়ে বসে আছে ইঞ্জিনিয়ারিঙের কিন্তু বাবা মা জোর করে ডাক্তার বানিয়েছে এমন উদাহরণ খুঁজতে আমাকে বেশি দূর যেতে হবে ...
  • বাতাসে আবারও রেকর্ড সংখ্যক কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কোন পথে এগোচ্ছে পৃথিবী?
    সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন বলছে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ আবারও বেড়ে গেছে। এই নিয়ে প্রতিবছর মে মাসে পরপর কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পেতে বর্তমানে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ রেকর্ড সংখ্যক। গত মাসে (মে-তে) কার্বন ডাই অক্সাইডের ...
  • ফেসবুক রোগী
    অবাক হয়ে আমার সামনে বসা ছেলেটার কান্ড দেখছি। এই সময়ে তার আমার পাশে বসে আমার ঘোমটা তোলার কথা। তার বদলে সে ল্যাপটপের সামনে গিয়ে বসেছে।লজ্জা ভেঙ্গে বলেই ফেললাম, আপনি কি করছেন?সে উৎকণ্ঠার সাথে জবাব দিলো, দাঁড়াও দাঁড়াও! 'ম্যারিড' স্টাটাস‌ই তো এখনো দেইনি। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

এবড়োখেবড়ো

‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?
যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?
আমি কি ময়না?
যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য


স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে বাঙালি ছিলেন মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ। স্বাভাবিক কারণেই সেই সময় অসমিয়া প্রধান সরকারি ভাষা ঘোষিত হলেও সমগ্র অসমে সরকারি স্তরে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে চালু ছিল বাংলা। কিন্তু তার পর শুরু হয় ঠান্ডা মাথায় ছক কষার কাজ। অসমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলৈ ঘোষণা করেন ‘Undoubtedly Assam is for Assamese’। তারই সুর ধরে অসম ট্রিবিউন পত্রিকা লেখে ‘Culturally, racially and linguistically every non-Assamese is a foreigner in Assam’.
এই পরিবেশে ১৯৫১ সালের লোকগণনায় ঘটানো হয় বিরাট কারচুপি, অসমিয়ার সংখ্যা বেড়ে হয় শতকরা ৫৫ ভাগ আর বাঙালি শতকরা ১৭ জন। এই ব্যাপক সংখ্যক অসমিয়াভাষী মানুষের বৃদ্ধি ও বাংলাভাষী মানুষের হ্রাসকে তৎকালীন লোকগণনার অধীক্ষক আর বি ভাগাইওয়ালা চিহ্নিত করেন ‘Biological Miracle’ হিসাবে। এই ‘মির‍্যাকল’কে বাস্তবে রূপ দিতে ১৯৫১ সালের শেষ দিকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় সংঘটিত হয় ব্যাপক ‘বঙাল খেদা আন্দোলন’, ভাষা বিদ্বেষ পৌঁছয় চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রাণ বাঁচাতে বাঙালি পালায় শিলং, উত্তরবঙ্গ, কলকাতা। ১০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালে তৎকালীন অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিমলাপ্রসাদ চালিহা অসমিয়াকে অসমের একমাত্র সরকারি ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। উত্তর করিমগঞ্জ-এর বিধায়ক রণেন্দ্রমোহন দাস-এর তীব্র বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে অসম বিধানসভায় ১৯৬০ এর ২৪ অক্টোবর পাস হয় রাজ্যভাষা বিল – অসমের একমাত্র সরকারি ভাষা হয় অসমিয়া।

এই ঘোষণার বিরুদ্ধে বাংলা ও অন্যান্য স্থানীয় ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে বরাক উপত্যকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এক প্রবল ভাষা আন্দোলন। ’৫২-র চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে প্রথমে বাংলা ভাষাভাষীরা ১৯৬১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গঠন করেন ‘কাছাড় গণসংগ্রাম পরিষদ’। তার পর নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের জন্য ১৪ এপ্রিল শিলচর, করিমগঞ্জ এবং হাইলাকান্দিতে পালিত হয় ‘সংকল্প দিবস’। এই কর্মসূচীর ব্যাপক সাফল্যের পর পরিষদ উপত্যকা জুড়ে ২৪ এপ্রিল পক্ষকাল ব্যাপী এক পদযাত্রার সূচনা করে। পদযাত্রা শেষে ঘোষণা করা হয় ১৩ এপ্রিল, ১৯৬১ সালের মধ্যে বাংলাকে অন্যতম সরকারি ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি না দিলে ১৯ মে সমগ্র কাছাড়ে ধর্মঘট পালন করা হবে। অসম সরকার এই দাবির প্রতি কর্ণপাত না করে দমননীতি গ্রহণ করে। ১৮ মে আনন্দবাজারের শিলচর প্রতিনিধি লেখেন, “কাছাড় গণসংগ্রাম পরিষদ আহূত কাছাড়ে আসন্ন ভাষা আন্দোলন দমনের জন্য সরকার পক্ষের বিরাট ‘সমর প্রস্তুতি’ সম্পূর্ণ প্রায়।”

পূর্ব সিদ্ধান্ত মতো ১৯৬১ সালের ১৯ মে বিভিন্ন বয়সের মানুষ শিলচর রেলস্টেশনে অহিংস অবস্থান ধর্মঘট করার জন্য সমবেত হতে থাকেন। ১৯ মে ভোর ৫ টা ৪০ মিনিটে শিলচর থেকে যে ট্রেনটি ছেড়ে যাবার কথা ছিল, একটি টিকিটও বিক্রি না হওয়ায় সেটি এবং পরবর্তী সব ক’টি ট্রেন বাতিল করা হয়। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে দুপুরের পর অসম রাইফেলস ও পুলিশ অবস্থান ধর্মঘট পালনকারীদের গ্রেফতার শুরু করলে চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হতে শুরু করে।

আনুমানিক দুপুর আড়াইটে নাগাদ পুলিশের একটি দল ট্রাকে করে ন’জন ধর্মঘটি বাঙালিকে কাটিগোড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে স্টেশনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত কারণে স্টেশনের সন্নিকটে তারাপুর জনসমাবেশের পাশে হঠাৎ থেমে যায়। উৎসুক জনতা ট্রাকটির কাছে পৌঁছতেই ড্রাইভারের পাশে উপবিষ্ট জনৈক অসমিয়া পুলিশ কর্মচারী ট্রাকের পেট্রোল ট্যাঙ্কে জ্বলন্ত দেশলাই ছুঁড়ে দ্রুত ট্রাক থেকে নেমে যান। স্বেচ্ছাকৃত দুষ্কর্মকে আড়াল করা এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকা রাজকর্মচারীদের জিঘাংসা চরিতার্থ করার জন্য একে একটি অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করা হয়। অতঃপর কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যেরা নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ভাষা-আন্দোলনের প্রথম নারী শহিদ কমলা ভট্টাচার্য সহ মোট ৯ জন ভাষাবিপ্লবী। রাতে হাসপাতালে মারা যান বীরেন্দ্র সূত্রধর। ২১মে ভোরে স্টেশনের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় সত্যেন্দ্রকুমার দেবের বুলেটবিক্ষত দেহ। মোট ভাষা শহিদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ জন।

২০ মে সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে নিহতদের মৃতদেহ নিয়ে মিছিল বের হলে মিছিলে জনতার ঢল নামে। অসম সরকার উপলব্ধি করে যে, ন্যায়সঙ্গত দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে ঐক্য ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে তা দমন করা সম্ভব নয়। সরকার বাঙালির প্রাণের দাবি মেনে নেয় এবং বরাক উপত্যকায় বাংলা সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ও বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জওহরলাল নেহরু সেদিন অসমেই ছিলেন। পরিহাস এই যে, সেদিনের সভায় নেহরু রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বহু কথা বললেও বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিলেন তাঁদের নিমিত্তে তাঁর পঁচাত্তর মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে একটি শব্দও ব্যয় করেননি।

বাংলা ভাষার জন্য শিলচরের বাঙালিদের এই অপরিসীম আত্মত্যাগ তার প্রাপ্য মর্যাদা আজও পায়নি। সমকালে বনফুল এবং মনীশ ঘটক ছাড়া বাংলা সাহিত্যের আর কোনও নামজাদা লেখকের লেখায় এ ঘটনার উল্লেখ পর্যন্ত মেলেনি। পশ্চিমবঙ্গের আবেগজর্জর বাঙালি একুশে ফেব্রুয়ারির স্মরণে সভা সমিতি করেন, রবীন্দ্র সদনের সামনে ঢাকার শহিদদের স্মরণে ফলক ব্সান, অথচ শিলচরের শহিদদের নামোচ্চারণ করার প্রয়োজনটুকুও বোধ করেন না! হয়তো আমরা ভুলতে চাই

‘একুশের ফুল বাসি হয় না কখনো
মাতৃগর্ভে জন্ম নেয় নিয়ত উনিশ
বিশ্বাস না হয় যদি, তো জিজ্ঞেস করো
বলবে, ভারত, বাংলাদেশের পুলিশ’ — বিজয় ভট্টাচার্য


ঋণ : ১. সুকুমার বিশ্বাস, ‘আসামে ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি-প্রসঙ্গ ১৯৪৭-১৯৬১’
২. অতীন দাশ সম্পাদিত ‘উনিশের কবিতা’



463 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 7 -- 26
Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

Comment from এবড়োখেবড়ো on 20 May 2019 13:04:18 IST 230123.142.67900.95 (*) #

@~L~, আপনাকে আরও একবার ধন্যবাদ। রীতিমতো ভূরিভোজের বন্দোবস্ত। আমি, সত্যি বলতে, উইকির রেফারেন্সগুলো একটাও খোলার চেষ্টা করিনি। তার একমাত্র কারণ হল এ বিষয়ে আমার সীমাহীন অজ্ঞতা। প্রতিটা লিঙ্ক খুঁটিয়ে পড়লাম। নতুন সংযোজন বলতে তেমন কিছু পেলাম না। তবে আসল জিনিস পেলাম 'বোনাস'টায়। আপনার প্রদর্শিত পথে লেখার নীচে মন্তব্যগুলোতে চোখ বুলিয়ে পেলাম এই দুই অমূল্য রতন। তার একটা গুরুচণ্ডা৯তেই প্রকাশিত হয়েছিল। এবং সেখানে মন্তব্যের স্বল্পতা চোখকে পীড়া দেয়।

যাই হোক আমি লিঙ্কদুটো গুরুর পাঠকদের জন্য এখানে রাখলাম।

http://www.guruchandali.com/default/2012/05/21/1337615640000.html

https://krishticulture.wordpress.com/2017/04/14/%E0%A7%A7%E0%A7%AF-%E0
%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AC%E0%A7%A
7%E0%A6%83-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%AD%E0%
A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE-%E0%A6%B8/

Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

Comment from ~L~ on 20 May 2019 13:44:56 IST 90056.160.011223.3 (*) #

সুশান্ত কর এর লেখাটির প্রথম টই রূপ - http://www.guruchandali.com/guruchandali.Controller?portletId=8&po
rletPage=2&contentType=content&uri=content1337398234685

এখানে সুশান্ত-এর শেষ মন্তব্যটিই সব আলোচনা থামিয়ে দেয়।

গুরুতে প্রকাশিত অন্য লেখাটি -- http://www.guruchandali.com/default/2011/05/20/1305867300000.html

গোপাল মেহেরতরা কমিশনের রিপোর্ট কি সত্যই পাওয়া যায় না?
https://www.prothomalo.com/international/article/863329/%E0%A6%AC%E0%A
6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E
0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE-%E0%A6%
86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A8

https://www.bbc.com/bengali/news-38263374

আজকাল এর সাংবাদিক দেবাশিস চন্দ এ বিষয়ে অনেক কাজ করেছেন, অনেক কাজের সাক্ষীও। উনিশে মে নামে একটা পত্রিকাই করতেন। আদতে আসামের লোক।

http://shodhganga.inflibnet.ac.in আর https://www.academia.edu/ তে কিছু অ্যাকাডেমিক পেপার নিশ্চয়ই পাবেন এ নিয়ে। https://archive.org এ বাকি সমসাময়িক লেখা ও এ বিষয়ে বই পেতে পারেন। আর এখানে https://ndl.iitkgp.ac.in/ একটা লগ ইন তৈরি করে ঢুকলে সমসাময়িক যুগান্তরের রিপোর্টিং পাবেন এখানে যুগান্তর পুরো তারিখ ধরে ধরে আর্কাইভ করে রাখা আছে। আর অমৃতবাজার পত্রিকা।

গুগুলের সাহায্যে স্পেসিফিক সাইট খুঁজতে নিশ্চয়ই জানেন। সার্চ স্ট্রিং এর পরে site: লিখে যে সাইটে খুঁজবেন সেতার url লিখতে হয়। যেমন -- কাছাড় site:www.guruchandali.com
Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

যাঁরা আলোচনায় আগ্রহী তাঁরা দয়া করে এখানে আলোচনা করুন। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।
Avatar: dd

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

"এই পরিবেশে ১৯৫১ সালের লোকগণনায় ঘটানো হয় বিরাট কারচুপি, অসমিয়ার সংখ্যা বেড়ে হয় শতকরা ৫৫ ভাগ আর বাঙালি শতকরা ১৭ জন" - লেখককে প্রশ্ন, এই "কারচুপি"টা কীভাবে হোলো? কে ঘটালো?

লোকগণনার অধীক্ষক আর বি ভাগাইওয়ালা ঘটালেন? কেন্দ্রীয় সরকার ? এরকম বিশাল মাপে ভুল রিপোর্টিং সম্ভব? উদ্দেশ্যই বা কি ছিলো - সরকারের বা সেন্সাস বোর্ডের?



Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

@~L~, আপনাকে আর কত কৃতজ্ঞতা জানাব! স্পেসিফিক সাইট আজ অবধি খোঁজার কায়দা জানতাম না!! যাই হোক আপনার দেখানো পথে হেঁটে shodhganga এবং academia ঘাঁটলাম। তাতে কিছু রত্ন উঠে এল। আগের বার সুশান্ত কর-এর লেখাটির প্রথম টই রূপটির লিঙ্ক ভুল সাঁটিয়েছিলাম। আগে সেটার সংশোধন করি।

http://www.guruchandali.com/guruchandali.Controller?portletId=8&po
rletPage=2&contentType=content&uri=content1337398234685


@dd, ভাগাইওয়ালার কথার সমর্থন পাবেন এখানে। আগে দেখিনি, ঘাঁটতে গিয়ে সমর্থন মিলল।

https://shodhganga.inflibnet.ac.in/bitstream/10603/96123/6/06_introduc
tion.pdf


এইখানে পেলাম গুলি চালানোর আরও একটা সম্ভাব্য কারণ
https://www.academia.edu/21732406/Oblivion_of_language_movement_and_ma
rtyrs_of_Silchar


আর এইটা পড়ে বুঝলাম যুগান্তর-অমৃতবাজার পড়ার দরকার নেই এবং সুশান্তবাবুর ক্ষোভ খুব অসঙ্গত কিছু নয়।
https://www.academia.edu/34503710/In_name_of_the_tongue_Language_based
_martyrdom_and_politics_in_postcolonial_India


archive.org ঘেঁটে তেমন কিছু পাইনি এবং গোপাল মেহেরোত্রা কমিশনের রিপোর্ট আজ অবধি অপ্রকাশিত।

Avatar: dd

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

নাঃ, ভাগাইওয়ালা বা সেন্সাস বোর্ডের কোনো "কারচুপি"র কথা আপনার দেওয়া লিংকে নেই। বরং পড় মনে হয় ভাগাইওয়ালার কাছেও এটাও অবিশ্বাস্য লেগেছিলো -"Biological Miracle"।

১৯৩১ থেকে ৫১'র মধ্যে অসমীয়াভাষীর সংখ্যা ১০ লক্ষ থেকে বেড়ে হয়ে গেলো ৪৮ লক্ষ আর হুড়হুড় করে বাঙলাভাষীর সংখ্যা কমলো ৪০ লক্ষ থেকে ১৭ লক্ষ।

অহমীয়া বেড়ে গেলো তিরিশ লক্ষ আর বাঙালী কমলো ২৩ লক্ষ।

আমার প্রশ্ন আবার করি, কীভাবে ঘটলো এই কারচুপি ? কে ঘটালো? কোন মোটিভে?

উত্তরগুলো জানলে, লিখবেন। এটাই অনুরোধ।
Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

@dd আমি লিঙ্কটা দিয়েছিলাম ওই 'Biological Miracle' কথাটা তিনি বলেছিলেন তার প্রেক্ষিতে। মোটিভ খুব পরিষ্কার। মুসলমানদের জোর করে অসমিয়াভাষী হতে বাধ্য করা হয় অসমে থাকার কথা বলে। যে 'বঙাল খেদা' আন্দোলন হয়েছিল তার শিকার হয়েছিলেন হিন্দু উদ্বাস্তুরা। অনেক হিন্দুও প্রাণরক্ষার তাগিদে অসমিয়াভাষী হয়েছিলেন রাষ্ট্রের নির্দেশে। অথচ এই বিমলাপ্রসাদ চালিহাই নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার। এই জিনিস অসমে পরেও হয়েছে যেখানে একজোট হয়েছিল অগপ এবং বিজেপি।
Avatar: ~L~

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

শোধগঙ্গায় পুরো পেপারটা পেতে গেলে, প্রথম সার্চ রেজাল্টে পাওয়া যে পিডিএফ টা ব্রাউজারে খুলেছেন, তার url থেকে দ্বিতীয় সংখ্যাটা কপি করবেন, অর্থাৎ https://shodhganga.inflibnet.ac.in/bitstream/10603/96123/6/06_introduc
tion.pdf
এর থেকে কপি করবেন 96123 এবং সেটা শোধগঙ্গার প্রথম পাতায় অর্থাৎ https://shodhganga.inflibnet.ac.in/ এ গিয়ে, বদলে যেতে থাকা ছবিগুলোর ঠিক নিচে হাউ টু সাইট লেখার নিচের বক্সে পেস্ট করে সার্চ বাটন টিপে দেবেন।
Avatar: dd

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

১৯৩১ সালেও অহমিয়ারা ছিলো ১০ লক্ষ, তুলনায় বাঙালীরা ছিলো তাদের চারগুন - চল্লিশ লক্ষ। বাঙালীদের মধ্যে হিন্দু মুসলমান প্রায় ৫০ঃ৫০।

এ এক অদ্ভুত ঘটনা যে সংখ্যালঘু অহমিয়ারা প্রায় তাদের দুগুন বেশী সংখ্যক মুসলমানকে "জোর করে অসমিয়াভাষী হতে বাধ্য " করতে পেরেছিলো।

এ তো সংখ্যাগুরুর উপর অত্যাচার !
Avatar: ~

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

আরেকটু আগে থেকে শুরু হোক? স্বাধীনতার তিন দিন বাদে জিন্নার সাথে কথা বলে নেহরুর সেই তিনটে জেলাকে পূর্ব পাকিস্থান থেকে আসামভুক্ত করে নেওয়ার থেকে, নইলে ত্রিপুরার পৌঁছনো সমস্যা হয়ে যাচ্ছিল? (এরকমটাই বোধহয় কোথায় যেন পড়লাম!)

আর ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা দিবসের "বাংলাদেশের মুসলিম" শহীদ দের সম্মান ভালোবাসা উদযাপনের পাশে হিন্দু স্বাদেশিকতার ভাষাভিত্তিক উদযাপনের প্রয়োজনে ১৯শে মে কে তুলে ধরার অ্যাঙ্গেল ও কোথায় পড়লাম যেন ।


Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

@dd, আপনি ১৯৩১ ধরলে সামান্য ভুল হবে। তখন দেশভাগ হয়নি। দেশভাগের পর অসমে বাঙালি ছিল মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ, অসমিয়াও তাই, বাকি এক তৃতীয়াংশ পাহাড় কিংবা সমতলের নানা জাতি উপজাতি। ১৯৫১তে অসমিয়া বেড়ে ৫৫% আর বাঙালি কমে ১৭%। এই বেড়ে যাওয়ার মধ্যে সবাই মানে অসমিয়া, বাঙালি এবং উপজাতি সবাই আছেন। মুখ্যমন্ত্রীর হুকুমপালন আর কি।
Avatar: dd

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

আরে, আমি কিছুই "ধরি নি"। আপনার লেখা ও দেওয়া দেড় পাতার ছোটো লিংক ছাড়া আর কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।সেখান থেকেই টোকা।

আপনি লিখলেন "কারচুপি"। তা তো নয়, অসমের বাঙলী মুসলমানেরা en masse নিজেদের অসমীয়া declare করেন। সেই নিয়েই বিভ্রাট।

কেনো এই বাংলা ভাষা আন্দোলনের মানুষেরা ও শহীদেরা সকলেই হিন্দু বাঙালী সেটা পরিষ্কার হল।
Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

@dd, আপনি কিছুই না 'ধরলেও' শেষ বাক্যে যেটি 'ধরেছেন' সেটি আদপেই ঠিক নয়। বাংলা ভাষা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন হাইলাকান্দির আব্দুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়াও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শিলচরের গোলাম সাবির খান ও মৌলানা রফিক রহমান এবং হাইলাকান্দির মাহমুদ আলি বারোভুঁইয়া। আন্দোলন নিছকই হিন্দু বাঙালির ছিল না, তাতে মুসলমান বাঙালিও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ১৯ মে শিলচর স্টেশনে প্রচুর মুসলমান বাঙালি সত্যাগ্রহীকে গ্রেফতারও করা হয়। মজার কথা এই যে, গ্রেফতারের পর বেছে বেছে তাঁদের এবং অন্য জনজাতি-উপজাতির মানুষদের ছেড়ে দেওয়াও হয়। সবটাই ঘটেছিল রাষ্ট্রের পরিকল্পনামাফিক।

এবার 'কারচুপি' প্রসঙ্গ। ওই ব্যাপারটিও অত সহজে ঘটেনি। ১৯০১ থেকে ১৯৩১ পর্যন্ত চারটি লোকগণনায় অসমিয়াভাষী মানুষ ছিলেন যথাক্রমে ২২, ২১.৭, ২১.৬ ও ২১.৬ শতাংশ। After 1950 Riots the Nehru-Liaquat Pact brought back the Muslim evacuees to Assam shortly before the Census enumerated in 1951. The Bengali-Muslims in reply to question No 13 relating to size of land-holding were made to declare their mother-tongue as Assamese, otherwise they ran the risk of losing their lands which were settled annually.

এই প্রেক্ষিতে ১৯৬০ সালে পার্লামেন্টারি ডেলিগেশন-এর সদস্যরা অসম ঘুরে যাওয়ার পর যে রিপোর্ট দেন তা এই রকম --- ''The Bengali-speaking people question the accuracy of the 1951 census figures in so far as they relate to the Assamese-speaking population numbered only 19.8 lakhs, which during the 20 years from 1931 to 1951 jumped to over 49 lakhs or by 150% against an increase of about 4 lakhs during the preceding 50 years beginning from 1881. The Bengalees had questioned these figures before the States Re-organisation Commission. Their contention is that these figures were inflated to provide justification for the introduction of the Assamese as the State language. We have tried to seek an explanation for this extra-ordinary increase, which is not warranted by trends of natural growth of population from the Assam Government. We were told that all the Muslim Bengalees of the Brahmaputra Valley, who had formerly registered themselves as Bengali-speaking had in 1951 voluntarily declared themselves as Assamese-speaking. We are not altogether satisfied with this explanation. এই ঘটনাকে কারচুপি ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে?
Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

@~L~, আবারও শিখলাম, খুঁজলাম এবং আরও দু'টো লিংক রেখে গেলাম।

http://shodhganga.inflibnet.ac.in:8080/jspui/bitstream/10603/96123/9/0
9_chapter%203.pdf


http://shodhganga.inflibnet.ac.in:8080/jspui/bitstream/10603/96123/10/
10_chapter%204.pdf


Avatar: dd

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

নাঃ, কারচুপি কথাটার অর্থ নিয়ে আর টানা হ্যাঁচড়া করছি না।

আমি যা কমেন্ট করেছি তা শুধুমাত্র আপনার লেখা ও তার সমর্থনের আপনারই দেওয়া লিংক নিয়ে। এই পর্যন্ত্য।

আজকে যা quote করেছেন "We were told that all the Muslim Bengalees of the Brahmaputra Valley, who had formerly registered themselves as Bengali-speaking had in 1951 voluntarily declared themselves as Assamese-speaking. We are not altogether satisfied with this explanation."

আর কোনো তথ্য নেই। কনক্লুসন আপনা আপনা।


Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

যা ব্বাবা! তবে যে লিখেছিলেন 'কেনো এই বাংলা ভাষা আন্দোলনের মানুষেরা ও শহীদেরা সকলেই হিন্দু বাঙালী সেটা পরিষ্কার হল'। সেটা এই কোটের পরে না আগে?

এটাও কি এড়িয়ে গেল "After 1950 Riots the Nehru-Liaquat Pact brought back the Muslim evacuees to Assam shortly before the Census enumerated in 1951. The Bengali-Muslims in reply to question No 13 relating to size of land-holding were made to declare their mother-tongue as Assamese, otherwise they ran the risk of losing their lands which were settled annually."?

তাতেও যখন হিসেব মিলছে না তখন 'কারচুপি' না করে উপায় কী? সেটা হয়েছে ১৯৫১তে, ধরা পড়েছে ১৯৬০এ। ততদিনে যা হওয়ার হওয়া শেষ! ওই যে অভিযোগ "Their contention is that these figures were inflated to provide justification for the introduction of the Assamese as the State language." সেটা সারা। আর এই 'কারচুপি' শুধু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাতেই হয়নি, বরাক উপত্যকাতেও হয়েছিল।
Avatar: ~

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

"ট্রাকের পেট্রোল ট্যাঙ্কে জ্বলন্ত দেশলাই ছুঁড়ে" যে আগুন লাগানো হয় নি, কারবুরেটর এর পাইপ ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছিল, ফেসবুক বাদানুবাদের ফলে নিবিড় পাঠলব্ধ সেই নির্যাসটুকু এখানেও রাখা থাকলে ভাল হয়। এমনকি নতুন পাওয়া নানা তথ্যসূত্রের নিরিখে আরেকটু বাড়িয়ে এই লেখাটিকে আরেকটু সম্পূর্ণতা দেওয়ার কাজ শুরু করলেও ভালো হয়। এই সূত্রে ১৯শে মে পত্রিকা সম্পাদকদের সাথে আদানপ্রদানের মাধ্যমে আরো তথ্য ও লিংক ব্রিদ্ধির আশায় থাকলাম। দ্বাদশ শহীদটির নাম ও প্রেক্ষিত এর উল্লেখও এখানেই থাকলে ভালো হয়। আর অন্য নানা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের তুলনায় সুকুমারবাবুর লেখা বইটিকে বেশি প্রামাণ্য কেন ধরা হচ্ছে সেটাও জানার আগ্রহ রইল।

লেখাটি আনন্দবাজার পত্রিকার নদীয়া এডিশনে ছাপা হয়েছে সে উল্লেখ আর সেখানের সম্পাদনার নমুনাও এখানেই রাখা থাক।
Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

@~, বড্ড মুশকিলে ফেললেন দেখছি!

১) হ্যাঁ, মূল লেখাটায় 'ট্রাকের পেট্রোল ট্যাঙ্কে জ্বলন্ত দেশলাই ছুঁড়ে' আগুন লাগানোর কথা বলা হলেও টেকনিক্যালি তা হয়নি। এ ব্যাপারে মাননীয় বিচারপতি এন সি চ্যাটার্জির অধীনে বেসরকারি কমিশন যে রিপোর্ট দেন তা হুবহু এইরকম - The incident in connection with the truck is curious. Numerous trucks had passed before this particular truck, carrying arrested Satyagrahis, from the early hours of the morning, but no such incident had occurred before. We find it difficult to believe that the Satyagrahis or members of the public supporting the Satyagrahis should suddenly set fire to a truck when for all intent and purposes the Satyagraha had succeeded and the Hartal was about to become a complete success. Furthermore, the fact that the fire to the truck was put out by the Satyagrahis and members of the public themselves, even before the Fire Brigade had arrived lends support to the theory that the fire had not in any way been caused by the Satyagrahis or their supporters, but, as stated by witnesses Nos. 21 to 23, had been caused at the instance of AGENT-PROVOCATEURS. We wanted particularly to know the nature of the damage caused to this truck which was lying in the Silchar Police Station. Witness No 13 thereupon went to the police station with the permission of the officials there personally inspected the truck. Thereafter he deposed before us to the effect that the damage to the truck was slight and the pipe leading from the petrol tank to the carburetor seemed to have been broken. We are satisfied, therefore, that no Satyagrahi or member of the public supporting the Satyagrahis had set fire to the truck or was responsible therefore in any way.

২) এবারে দ্বাদশ শহীদের কথা। এটা খুব একটা পরিচিত তথ্য নয়। তবুও ওই একই দিনে গুলিবিদ্ধ কৃষ্ণকান্ত বিশ্বাস বুকে গুলি নিয়ে অসুস্থ থাকার ২৪ বছর পরে মারা যান। সে হিসাবে তাঁরও শহিদের মর্যাদা প্রাপ্য।

৩) ১৯শে মে পত্রিকা সম্পাদকদের সাথে আদানপ্রদানের মাধ্যমে আরো তথ্য সংগৃহীত হলে এবং নতুন পাওয়া নানা তথ্যসূত্রের নিরিখে লেখাটিকে আরও একবার নতুন করে লেখার ইচ্ছে রইল। ততদিন গুরুর পাঠকরা এটিকে প্রাথমিক খসড়া হিসাবে বিবেচনা করতে পারেন। আমি লেখার আগে যদি অন্য কেউ এই বিষয়ে লিখতে আগ্রহী হন তো সর্বদা তাঁকে স্বাগত জানাব।

৪) 'অন্য নানা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের তুলনায় সুকুমারবাবুর লেখা বইটিকে বেশি প্রামাণ্য' বিবেচনা করেছি এই কারণে যে এন সি চ্যাটার্জি কমিশনে বিবৃত ঘটনাগুলির সঙ্গে তার তথ্যগত মিল এবং গ্রন্থটিতে রেফারেন্সের প্রাচুর্য।

৫) এই প্রসঙ্গে এখানে যেটা একেবারেই দিতে ভুলে গিয়েছিলাম সেটা হল এন সি চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট। ইন্টারনেটে সহজলভ্য, তবুও এইখানে রাখলাম যাতে পাঠক তা দেখতে পারেন। @dd কে জনগণনার যে হিসেব আমি দাখিল করেছিলাম তাও এখানে বিস্তৃতভাবে পাবেন।
https://www.scribd.com/document/67071298/NC-Chatterjee-Commission-Repo
rt


৬) 'লেখাটি আনন্দবাজার পত্রিকার নদীয়া এডিশনে ছাপা হয়েছে সে উল্লেখ আর সেখানের সম্পাদনার নমুনাও এখানেই রাখা থাক' ব্যাপারটা আমার কাছে তীব্র অস্বস্তিকর। তবুও পাঠকের অনুরোধে সেটাও থাকল এখানে যদিও লেখকের নাম ও পরিচয় ইচ্ছা করেই মুছে দিলাম। মূল লেখাটা দেখলে সম্পাদনার নমুনাও দেখা যাবে!

https://i.postimg.cc/9fZ8nTv4/1-Anandabazar-19-05-19-Barak-Valley-Lang
uage-Movement.jpg



Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা


@এবড়োখেবড়ো’র এই সুলখিত প্রবন্ধে বরাক উপত্যকায় ১৯ মে ১৯৬১'র এক সেনানীর নিজের কলম থেকে থেকে তুলে দিলাম কিয়দংশ। ঢাকা পড়ে যাওয়া , চাপা দিয়ে দেওয়া এই সংগ্রামের স্মৃতিপটে, প্রতুল প্রচেষ্টায় ইতিহাসে থেকে যাওয়ার কাহিনী। সেই সংগ্রাম এখনও চলছে।

" সত্যি বলতে কি, সেই সময় ১৯মে-কে কেন্দ্র করে কোন কিছু ছিল না বা থাকলেও সেখানে কোন প্রচার ছিল না। আমি শিলচর ভাষা শহীদ স্মরণে সুরারোপে করার জন্য প্রথম কবিতা সংগ্রহ করি যুগান্তর সংবাদপত্রের ১মে ১৯৭২ সংখ্যায় প্রকাশিত সাংবাদিক কবি দক্ষিণারঞ্জন বসুর কবিতা “বাংলা ভাষা দিবসের কবিতা (১৯শে মে)”। যার প্রথম সারি “সংগ্রাম, সংগ্রাম বাংলা ভাষার দাবি সংগ্রামই তারি নাম"।
এরপর সংগ্রহ করলাম ভাতৃপ্রতিম কবি এস আবুল হোসেনের কবিতা “শিলচর ১৯মে ১৯৬১”। যার প্রথম সারি “একাদশ আলোর পাখি মেলে দিল সুন্দরের ডানা”।

"১৯৭৮ সালে লিটল ম্যাগাজিনের সঙ্গে জড়িত পাঁচজন ভাতৃপ্রতিম কবি সাহিত্যিক বন্ধুদের সাথে কথা হয় ঘরোয়াভাবে ১৯মে পালন প্রসঙ্গে। ১৯৭৮ সালে ১৯মে ভাষা- শহিদ স্মরণে সভার আমন্ত্রণপত্রে আহ্বায়ক হহিসাবে নাম ছিল ঋষিণ মিত্র, অভিজিৎ ঘোষ, আবু আতাহার, জীবন সরকার, সুভাষ গঙ্গোপাধ্যায় ও প্রদীপ রায় চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান কেন্দ্র ছিল ১২, বসন্ত বোস রোড, কলকাতা- ২৬, ডাঃ গোরাচাঁদ নন্দীর বাসভবনের দোতলার বড় ম্যাজিনো ফ্লোরে। অনুষ্ঠান চলার মাঝে আমার গান করার সময়, দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থানার অফিসার- ইন- চার্জ এর নির্দেশে একজন সাব- ইনস্পেক্টর ও দু-জন কনস্টেবল আসেন আমাদের ১৯ মে স্মরণ সভা বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানতে। আমি, অভিজিৎ ঘোষ, আবু আতাহার একতলার গেটের কাছে নেমে বললাম, ‘আপনারা দোতলায় অনুষ্ঠান কেন্দ্রে চলুন, ওখানে বসে অনুষ্ঠান শুনবেন- দেখবেন। একজন কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে সাব- ইনস্পেক্টরটি আমাদের অনুষ্ঠান শুনলেন প্রায় ৪৫ মিনিট। যাবার সময় বললেন, আমি যাচ্ছি ফিরে গিয়ে বড় বাবুকে রিপোর্ট দেব। যতদূর মনে হয়, সাব- ইনস্পেক্টরটি বধ হয় কিছুটা হতাশ হলেন, শিলচর একাদশ শহিদের হত্যার প্রতিবাদে মারামারি- কাটাকাটির গরম- গরম বক্তৃতা ইত্যাদি শুনতে না পাওয়ার জন্য”।

“১৯৭৮ সালে ১৯মে পালন করার পর ওই সময়ের আর কোন শিল্পকর্মী এগিয়ে আসেনি ১৯৮২ সালের ১৯মে পর্যন্ত। আমাকে একটা যন্ত্রণা বোধ কুরে খাচ্ছিল। আসলে ামি কোন কাজ করলে সাধারণত তা থেকে পিছপা হইনা। যতদূর মনে হয়, বিশেষ পরিচিত কবি- সাহিত্যিকরা সম্ভবত পুলিশের ঝামেলায় জড়াতে চায়নি। এই ভাবে পাঁচ বছর কেটে যাবার পর ১৯৮৩ সাএ ‘ত্রিসপ্তক’ সংস্থার পক্ষ থেকে আহ্বায়ক হিসাবে ১৯মে স্মরণ সভার আয়োজন করি”।

১৯৮৩- তে ১৯ মে পালনের পর থেকে আমার পিছনে পুলিশের টিকটিকি লেগে আছে। এ বিষয়ে শ্রী সন্তোষ চন্দ তার সম্পাদিত “সাপ্তাহিক বরাককণ্ঠ” পত্রিকায় আমার ছবি সহ হেডলাইনে প্রকাশ করেছেন, -“আকণ্ঠ ঋণগ্রস্থ ঋষিণের পিছনে টিকটিকি” শিরোনামে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে নিয়মিত পুলিশের আনাগোনার জন্য সরকারি নথিভুক্ত ‘ত্রিসপ্তক’ সংস্থার বিলুপ্তি ঘটে”।

কলকাতা দূরদর্শনে ডি ডি বাংলার পক্ষ থেকে ২০০৫ সালে আমার ও আরো তিন জনের পৃথক পৃথক ভাবে ১৯মে প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। সাক্ষাৎকারে আমি বলেছিলাম (যা দূরদর্শনে এখনো রেকর্ড আছে) ১৯মে পালন করার জন্য আমার পিছনে পুলিশ ঘুরছে (সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য’র সময় থেকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখনও ক্ষমতায় আসেননি)। চার বছর প্রচারিত হবার পর ২০০৯ থেকে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।


“উনিশে মে’র সংগ্রাম দীর্ঘতর। তবে সবচেয়ে আশার কথা ‘উনিশে মে’ নাম নিয়ে একটি বাৎসরিক পত্রিকা ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে এই কলকাতা শহরে। তার মানে এবছর পত্রিকাটি প্রকাশের এক যুগ। পত্রিকাটির সম্পাদক- শান্তনু গঙ্গারিডি, প্রকাশক- সম্প্রীতি গুপ্ত। শান্তনু ও তার বন্ধুবান্ধব- যারা এই পত্রিকা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের সবার জন্য রইল এও ভাষা সেনানীর হিয়া ভরা শুভেচ্ছা”।

তথ্যসূত্রঃ 'আত্মকথায় উনিশে মে'- ঋষিণ মিত্র, 'উনিশে মে' পত্রিকার দ্বাদশ বর্ষ, ২০১৯ সংখ্যা।

Avatar: এবড়োখেবড়ো

Re: বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

@অর্জুন অভিষেক, আপনার তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদনটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ঋষিণ মিত্রর পিছনে সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য’র সময় থেকে পুলিশ ঘুরছিল - এই তথ্যটি আমার জানা ছিল না। উনিশে মে পত্রিকাটি সংগ্রহ করার ইচ্ছে আছে। ইচ্ছে আছে পরবর্তীতে এই লেখাটিকেই আরেকটু বিস্তারে লেখার।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 7 -- 26


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন