Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্প
    ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্পবিষাণ বসুচলতি শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি। তখন মেডিকেল কলেজে। ছাত্র, অর্থাৎ পিজিটি, মানে পোস্ট-গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনি। ক্যানসারের চিকিৎসা বিষয়ে কিছুটা জানাচেনার চেষ্টা করছি। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, এইসব। সেই সময়ে যাঁদের ...
  • ঈদ শপিং
    টিভিটা অন করতেই দেখি অফিসের বসকে টিভিতে দেখাচ্ছে। সাংবাদিক তার মুখের সামনে মাইক ধরে বলছে, কতদূর হলো ঈদের শপিং? বস হাসিহাসি মুখ করে বলছেন,এইতো! মাত্র ছেলের পাঞ্জাবী আমার স্যুট আর স্ত্রীর শাড়ি কেনা হয়েছে। এখনো সব‌ই বাকি।সাংবাদিক:কত টাকার শপিং হলো এ ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্যস্বাধীনতা-...
  • ফেসবুক সেলিব্রিটি
    দুইবার এস‌এসসি ফেইল আর ইন্টারে ইংরেজি আর আইসিটিতে পরপর তিনবার ফেইল করার পর আব্বু হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, "এই মেয়ে আমার চোখে মরে গেছে।" আত্নীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী,বন্ধুবান্ধ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে ...
  • বিজেপি নির্বাচনে হারলেও অ-ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির মূলোচ্ছেদ হবে কি ?
    সে ছিল এক দিন আমাদের যৌবনে কলকাতা, যখন, শিক্ষিত ভদ্রজনের এক বড় অংশের মনের ভেতরে লুকোনো সাম্প্রদায়িকতা পোষা থাকত বটে, কিন্তু তাঁরা জানতেন যে সেটা খুব একটা গর্বের বস্তু নয় । সর্বসমক্ষে সে মনোভাব প্রকাশ করতে তাঁরা কিঞ্চিৎ অস্বস্তি বোধ করতেন । ভাল জামাকাপড় ...
  • হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান
    হিন্দি-হিন্দু-হিন্দু...
  • সিঙ্গেল মাদার
    "লাবণ্য! লাবণ্য!! লাবণ্য!!! আমি মা হতে চলেছি!"নীরা আপুর কথায় আঁতকে উঠলাম। নীরা আপু আমার ফুপাতো বোন।‌ এখনো বিয়ে হয়নি তার। সেই মেয়ে মা হতে চলেছে আর সেটা এত আনন্দের সাথে বলছে!আমি ভীতু গলায় বললাম, কি বলো এইসব তুমি! তোমার এখনো বিয়ে হয়নি আর তুমি এই আকাম ...
  • প্রেম নিয়ে দু’চারটি কথা
    কয়েকদিন আগে বন্ধুদের মধ্যে প্রেম নিয়ে এক আলোচনায় জন্ম নেয় এ লেখার বীজ। সেই আলোচনায় একটি কথা আমাকে ভাবায়, প্রেম্ মানে সমর্পণ। মনে পড়ে যায় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের এক প্রেমপত্রের কথা – “...আমি বেশ কিছু ভালো জিনিস নিয়ে আসার চেষ্টা করব, যা কিছু সম্ভব আমার ...
  • রিয়েক্টর
    মাঝরাতে চিপস খেয়ে জানালা দিয়ে খালি প্যাকেট ফেলতে গিয়ে দেখি গাছতলায় এক ছায়ামূর্তি বসে বসে মাথার চুল ছিঁড়ছে।স্বাভাবিকভাব...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিপ্লবী রবি নিয়োগী

Muhammad Sadequzzaman Sharif

আজকে থেকে ১১০ বছর আগে, ১৯০৯ সালের ২৯ এপ্রিল আমার বাড়ি থেকে হাঁটা পথে চার পাঁচ মিনিট দূরত্বে জন্ম নিয়েছিলেন শেরপুর জেলার এক মহাপুরুষ।যিনি সারা জীবন সাধারণ মানুষের রাজনীতি করে গেছেন। যিনি ৯২ বছর বেঁচে ছিলেন, তার মধ্যে ৩৪ বছর কাটিয়েছেন জেলে। আজকে বিপ্লবী রবি নিয়োগীর জন্মদিন। বিপ্লবী শব্দটা উনার নামের সাথে এমন ভাবে মিশে আছে যে আমরা ভাবতাম এটা উনার নামই। আমার অনেকদিন পর্যন্ত এমন ধারনা ছিল যে আমার নাম যেমন মুহাম্মদ সাদেকুজ্জামান তেমনই উনার নাম বিপ্লবী রবি নিয়োগী। উনি কোন উচ্চতার মানুষ ছিলেন তা আমার পক্ষে উনি বেঁচে থাকতে ধরা সম্ভব হয়নি। উনি মারা যান ২০০২ সালে আর আমি ২০০২ সালে মাত্র এসএসসি পাস করেছি। অল্প যা মনে আছে তা হচ্ছে উনার ভাঙ্গাচুরা চেহারা, প্রচুর গাছপালা নিয়ে উনার বাড়ি, বাড়ির নাম নিয়োগী লজ, ধীরে ধীরে হেঁটে যাওয়া, আদাব দিলে ধীরে ধীরে জবাব দেওয়া। রবি নিয়োগীর মত ব্যক্তিত্বকে আমি কাছে পেয়েও তার সান্নিধ্য না পাওয়া, উনার কিংবদন্তী সব অভিজ্ঞতা কাছে বসে শুনতে না পারা নিঃসন্দেহে আমার জন্য আজীবনের অতৃপ্তি হয়ে থাকবে।

রবি নিয়োগীর বাবা জমিদার ছিলেন। শেরপুর ভিক্টোরিয়া একাডেমিতে রবি নিয়োগীর শিক্ষা জীবন শুরু করলেও পরে গোবিন্দপুর পিস মেমোরিয়াল হাইস্কুল মানে বর্তমানে জি. কে পাইলট হাই স্কুল থেকে ১৯২৬ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। আমার জন্য গর্বের বিষয় আরেকটা হচ্ছে যে আমি নিজেও জি.কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। সোজা গিয়ে ভর্তি হন ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে। উনার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শুরু এখান থেকেই। ময়মনসিংহ তখন অনুশীলন আর যুগান্তর বিপ্লবী সংঘটনের দারুণ রমরমা ক্ষেত্র, রীতিমত শক্ত ঘাঁটি। পুলিশের সাথে মারামারি করে জেল থেকে বাঁচতে কলকাতা চলে যান। সেখানে গিয়ে ভর্তি হোন বিদ্যাসাগর কলেজে। কিন্তু কলেজে উনার শেখার কিছু ছিল না সম্ভবত তাই পড়াশোনা আর উনার হয়ে উঠেনি। একের পর এক রাজনৈতিক আন্দোলনে জড়িয়ে গেছেন তিনি। ১৯২৯ সালে শেরপুরে ফিরেন। উদ্দেশ্য আইন অমান্য আন্দোলন শেরপুরে জোরদার করাই ছিল উদ্দেশ্য। ১৯৩০ সালে ঐতিহাসিক সত্যাগ্রহ আন্দোলনের ডাক আসে। তিনি তখন নিখিল বঙ্গ কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটির সদস্য। মদ গাঁজার দোকান ভাঙ্গার সময় তিনি প্রথমবার জেলে ঢুকেন। উনার জেল জীবন শুরু। প্রথমবার জেলে গিয়েই শুরু করেন জেলের ভিতরে আন্দোলন। এক বছরের মাথায় মুক্তি পান দমদম জেল থেকে। এদিকে ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামে মাস্টারদা সূর্যসেনের অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে গেছে, এর প্রভাবে শেরপুর ঢোকার মুখে রবি নিয়োগী আবার ধৃত হন। রাজশাহী জেলে রাখা হয়। কিন্তু যার বুকের ভিতরে বারুদ ঠাঁসা, যে বারুদের ভয়ে পরাক্রমশালী ব্রিটিশ সরকার থরথরে কাঁপে। তাকে রাজশাহী জেলে রেখে স্বস্তি পায় নাই সরকার, তিনিও স্বস্তি দেননি সরকার কে। রাজশাহী জেলের সুপারিনটেন্টকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন। ফলাফল কালাপানি পার। আন্দামানের ঐতিহাসিক সেলুলার সেল। চারপাশে নোনাপানি, জেলের ভিতরে মশা, বিছা, রাতে আলোর ব্যবস্থা নাই। নরকের আরেক নাম হচ্ছে আন্দামানের সেলুলার সেল। শাজাহান আর মহারাজ নামে দুইটা জাহাজ দিয়ে বন্দী নিয়ে যাওয়া হত আন্দামানে। রবি নিয়োগী কে নিয়ে যাওয়া হয় মহারাজ জাহাজে করে। আন্দামানের ওই নিষ্ঠুর সেলে শুরু হয় অনশন আন্দোলন। রবি নিয়োগী ঐতিহাসিক অনশন আন্দোলনে যোগ দেন। দাবী ছিল খুব অল্প। ভালো খাদ্য প্রদান, জেলে আলোর ব্যবস্থা করা এবং বই ও পত্রিকা পড়ার সুযোগ দেয়া। প্রথম দফার এই অনশন চলে ৪৬ দিন। অনশনে বন্দিরা খাদ্য গ্রহণ করত না, শুধু পানি খেত। খাদ্য জোর করে খাওয়ানোর নানা চেষ্টা করার পর কারা কর্তৃপক্ষ পানির কলসে পানির বদলে দুধ রেখে দিয়েছিল। বন্দীরা সেই দুধের কলস ভেঙ্গে ফেলে। কিছুদিন যাওয়ার পর অনশনের খবর পুরো ভারতে ছড়িয়ে পরলে ব্রিটিশ সরকার বন্দীদের দাবিদাওয়া মেনে নেয়।

এই জেলেই রবি নিয়োগী কমিউনিস্ট পার্টির দীক্ষা পান। ১৯৩৩ সালে তাঁরা ৩২ জন বিপ্লবী জেলখানায় কমিউনিস্ট কনসলিডেশন গড়ে তোলেন। জেলখানাতে এটিই ছিল কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম শাখা। ১৯৯৭ সালে আবার অনশনে বসেন বন্দীরা। এবারের দাবী কঠিন দাবী। সকল রাজবন্দীদের মুক্তি, আন্দামান বন্দিদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত সব রাজনৈতিক বন্দিকে কমপক্ষে ডিভিশন ‘টু’-র বন্দি হিসেবে গণ্য করা। এবার অনশন চলে ৩৭ দিন। ব্রিটিশ সরকার আন্দামান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যান বন্দীদের। কিন্তু রবি নিয়োগীর সংগ্রাম থেমে থাকে না। দেশে ফিরেই আবার বন্দী হন দিনাজপুরে। ছাড়া পান ৩৮ সালে। এরপর চলে উনার কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের কাজ। আর চলে জেলে যাওয়া। ভারত পাকিস্তানের জন্ম হল কিন্তু উনার জেল জীবনের সমাপ্তি হয় না। ১৯৪৮,১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৫৮ - ৬৩, ১৯৬৫-৬৯, ১৯৭০ তিনি কারাবরণ করতেই থাকেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধকালে ডালু, নালিতাবাড়ি, হালুয়াঘাট, মহেন্দ্রগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন।দেশ স্বাধীন হলেও উনার ললাট লিখনের কোন পরিবর্তন হল না। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত রবি নিয়োগী নিরাপত্তা আইনে কারাগারে আটক থাকেন। এরশাদের স্বৈর শাসনামলে ১৯৮৮ সালে শেষ বারের মতো বৃদ্ধ বয়সে আবার কারারুদ্ধ হন রবি নিয়োগী। ১৯৯১ সালের ২৫-২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুম্বাই নগরীতে অনুষ্ঠিত জীবিত আন্দামান-বন্দীদের যে সম্মাননা প্রদান করা হয় তাতে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়ে রবি নিয়োগী অংশগ্রহণ করেন।

অবিশ্বাস্য দূতি নিয়ে কিছু মানুষের জন্ম হয়। তারা সারা জীবন সেই দ্যুতি ছড়িয়ে চারপাশ আলোকিত করে যান।কোন কিছু পাওয়ার নাই, কোন প্রত্যাশা নাই শুধুই আলো জ্বেলে যাওয়া। রবি নিয়োগী তেমন এক মহাপুরুষ। বাংলাদেশ তো পরে শেরপুরবাসীই তো চরম ভাবে ভুলে আছে এই কিংবদন্তীকে। আজকে জন্মদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি কিংবদন্তী বিপ্লবী রবি নিয়োগীকে। আমার মত অভাজনের জন্য চরম সৌভাগ্য যে আমি উনার বাড়ির পাস দিয়ে হাঁটাচলা করি।






241 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: aranya

Re: বিপ্লবী রবি নিয়োগী

বাঃ
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: বিপ্লবী রবি নিয়োগী

লাল সেলাম. 👍
Avatar: ষষ্ঠ পাণ্ডব

Re: বিপ্লবী রবি নিয়োগী

এই লেখাটার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকলো।

রবি নিয়োগীর নাম শুনেছিলাম আগেই। তখন তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জেনেছি অল্পস্বল্প। আমি বিয়ে করার অনেক পরে জানতে পারি রবি নিয়োগীর কন্যা মঞ্জু নিয়োগী আমার শাশুড়ির সহপাঠিনী ও ঘনিষ্ট বান্ধবী ছিলেন। তারপরেও উদ্যোগ নিয়ে শেরপুরে যাওয়া এবং রবি নিয়োগীকে সাক্ষাত করা হয়নি। এই আফসোস সারা জীবনে যাবে না। যেমন আফসোস যাবে না উদ্যোগ নিয়ে কালীপদ চক্রবর্তী, ইলা মিত্র বা বিনোদ বিহারী চৌধুরীর সাথে সাক্ষাত না করায়।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন