ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর
    পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো রকমে ...
  • বেঁচে আছি, আত্মহারা - জার্নাল, জুন ১৯
    ১এই জল, তুমি তাকে লাবণ্য দিয়েছ বলেবাণিজ্যপোত নিয়ে বেরোতেই হ'লযতক্ষণ না ডাঙা ফিকে হয়ে আসে।শুধু জল, শুধু জলের বিস্তার, ওঠা পড়া ঢেউসূর্যাস্তের পর সূর্যোদয়ের পর সূর্যাস্তমেঘ থেকে মাঝে মাঝে পাখিরা নেমে আসেকুমীরডাঙা খেলে, মাছেরা ঝাঁক বেঁধে চলে।চরাচর বলে কিছু ...
  • আনকথা যানকথা
    *****আনকথা যানকথা*****মোটরবাইক ঃ ইহা একটি দ্বিচক্রী স্থলযান। পেট্রল ডিজেল জাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানির সাহায্যে চলে। বিভিন্ন আকারের ও বিভিন্ন ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরবাইক আমরা দেখিতে পাই। কোন কোন বাইকের পাশে ক্যারিয়ার থাকে। শোলে বাইক আজকাল সেরকম দেখিতে পাওয়া যায়না। ...
  • সরকারী পরিষেবার উন্নতি না গরীবকে মেডিক্লেম বানিয়ে দেওয়া? কোনটা পথ?
    এন আর এস এর ঘটনাটি যে এতটা স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠতে পারল এবং দেখিয়ে দিল হাসপাতালগুলির তথা স্বাস্থ্য পরিষেবার হতশ্রী দশা, নির্দিষ্ট ঘটনাটির পোস্টমর্টেম পেরিয়ে এবার সে নিয়ে নাগরিক সমাজে আলোচনা দরকার।কিন্তু এই আলোচনা কতটা হবে তাই নিয়ে সংশয় আছে। কারণ ...
  • জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা
    হিংসার ঘটনা এই তো প্রথম নয়। ২০১৭ ফেব্রুয়ারীতে টাউনহল খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট কে তুলোধোনা করার পর রাজ্যে ১ নতুন ক্লিনিক্যাল এস্তব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট চালু হয়েছিল। বলা হয়েছিল বেসরকারি হাসপাতাল গুলি র রোগী শোষণ বন্ধ করার জন্য, ...
  • ব্রুনাই দেশের গল্প
    আশেপাশের ভূতেরা – ব্রুনাই --------------------...
  • 'বখাটে'
    তেনারা বলতেই পারেন - কেন, মাও সে তুঙ যখন ঘোষণা করেছিল, শিক্ষিত লোকজনের দরকার নেই, লুম্পেন লোকজন দিয়েই বিপ্লব হবে, তখন দোষ ছিল না, আর 'বখাটে' ছেলেদের নিয়ে 'দলের কাজে' চাকরি দেওয়ার কথা উঠলে দোষ!... কিন্তু, সমস্যা হল লুম্পেনের ভরসায় 'বিপ্লব' সম্পন্ন করার পর ...
  • ডাক্তার...
    সবচেয়ে যে ভাল ছাত্র তাকেই অভিভাবকরা ডাক্তার বানাতে চায়। ছেলে বা মেয়ে মেধাবী বাবা মা স্বপ্ন দেখে বসে থাকল ডাক্তার বানানোর। ছেলে হয়ত প্রবল আগ্রহ নিয়ে বসে আছে ইঞ্জিনিয়ারিঙের কিন্তু বাবা মা জোর করে ডাক্তার বানিয়েছে এমন উদাহরণ খুঁজতে আমাকে বেশি দূর যেতে হবে ...
  • বাতাসে আবারও রেকর্ড সংখ্যক কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কোন পথে এগোচ্ছে পৃথিবী?
    সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন বলছে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ আবারও বেড়ে গেছে। এই নিয়ে প্রতিবছর মে মাসে পরপর কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পেতে বর্তমানে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ রেকর্ড সংখ্যক। গত মাসে (মে-তে) কার্বন ডাই অক্সাইডের ...
  • ফেসবুক রোগী
    অবাক হয়ে আমার সামনে বসা ছেলেটার কান্ড দেখছি। এই সময়ে তার আমার পাশে বসে আমার ঘোমটা তোলার কথা। তার বদলে সে ল্যাপটপের সামনে গিয়ে বসেছে।লজ্জা ভেঙ্গে বলেই ফেললাম, আপনি কি করছেন?সে উৎকণ্ঠার সাথে জবাব দিলো, দাঁড়াও দাঁড়াও! 'ম্যারিড' স্টাটাস‌ই তো এখনো দেইনি। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

করবেটের ইন্ডিয়া

ন্যাড়া

ছেলেবেলার কোন ইচ্ছে বড়বেলায় পূর্ণ হলে অনেক সময়েই তার স্বাদ খুব মুখরোচক হয়না। ছেলেবেলা থেকে ক্যাভিয়ারের নাম শুনে বড়বেলায় বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ে যখন খেতে পেলাম, তখন মনে হল, "এ বাবা, এই ক্যাভিয়ার!" সবারই বোধহয় এরকম কোন-না-কোন অভিজ্ঞতা আছে। আকাঙ্খা আর পরিপূর্ণতার তফাত যোজনখানেক। এর উল্টো অভিজ্ঞতা বরং কম হয়। মানে যেখানে অভিজ্ঞতা আকাঙ্খাকে শুধু মিটিয়েছে তাইই নয়, তার ওপরে কিছু ফাউও দিয়েছে। এরকম একটা উল্টো অভিজ্ঞতা আমার জিম করবেট পড়া।


ছেলেবেলায় বাড়িতে সত্যজিতের বহু-আলোচিত প্রচ্ছদওলা 'কুমায়নের মানুষখেকো বাঘ" ছিল। মহাশ্বেতা দেবীর অনুবাদ। কিন্তু যখন পড়ার মতন মন হল, সে বই বাড়ি থেকে উধাও হয়েছে। পরের দীর্ঘ সময়ে মনে হয়েছে জিম করবেট পড়তে হবে, কিন্তু জোগাড় আর করে ওঠা হয়নি। হায়ার সেকেন্ডারিতে পাঠ্যে অবশ্য "কুঁয়ার সিং" নামের একটা মাঝারি পিস ছিল। ব্যস, আমার করবেট ফিরিস্তি কমপ্লিট। তিন বছরের জন্যে দেশে ফিরেছিলাম যখন, তখন আমার চল্লিশ পেরিয়েছে, ফ্লিপকার্টে দেখলাম দু-খন্ডে জিম করবেট অমনিবাস পাওয়া যাচ্ছে। অক্সফোর্ডের পাবলিকেশন। কিনে ফেললাম। কী যে আনন্দ করে পড়েছিলাম সে আর কী বলব। কৈশোরে রাতজেগে ব্যোমকেশ বা অরিজিনাল হোমস পড়ার মতন উত্তেজনায়। গেল ন বছরে এ দুই বইয়ের এ' মাথা ও' মাথা পড়েছি তিনবার। আর খামচে খামচে অসংখ্যবার। কী অসম্ভব ভাল লেখা, যারা মূল ইংরিজি না পড়েছেন তারা বুঝবেন না।


করবেটের শিকার কাহিনী তো শিকার কাহিনী নয়, জঙ্গলের ভালবাসার গল্প। কুমায়ুনের ল্যান্ডস্কেপ, শুঁড়িপথ, গাছগাছালি, পশুপাখী যেন চোখে দেখা যায়, ঝোরার শব্দ কানে শোনা যায়। প্রকৃতির প্রতি কী পরম মমতা, ছত্রে ছত্রে তার অনুভব। অথচ কোথাও সোচ্চারে বলা নেই, "এই দেখ, আমি কীরকম প্রকৃতিপ্রেমী!"


দু' খন্ডের খানছয়েক বইয়ের মধ্যে যদি একটা বই বাছতে হয়, তাহলে খুবই সমস্যায় পড়তে হবে। অনেক ভেবেচিন্তে, নোখ-টোখ খুঁটে শেষ পর্যন্ত আমি হয়ত বাছব ওনার "মাই ইন্ডিয়া" বইটা। শিকারের গল্প নয়, মানুষের গল্প। দুখিনী ভারতের গরীব মানুষের গল্প। তার মধ্যে বিশেষ করে আমার প্রিয় 'লয়্যালটি' নামের গল্প।


একুশ বছরের ছোকরা করবেট গেলেন পাটনার কাছে মোকামা ঘাটে রেলের কুলি চরনোর কাজ নিয়ে। চাকরি নয়। ফুরনের কাজ, মানে কনট্র্যাক্ট। অল্পদিনের মধ্যে বারোজন সর্দারের অধীনে প্রায় পৌনে দুশোজনের কর্মীদল তৈরিও করে ফেললেন। কাজ শুরু করে অচিরেই প্রচুর সাফল্য। কিন্তু গোলমাল বাঁধল অন্যত্র। তিনমাস হতে চলল, অথচ রেলওয়ের ব্যুরোক্রেসির চক্করে হেডঅফিস থেকে টাকা আর আসে না। করবেটের সামান্য সঞ্চয় ফুরিয়ে গেছে। টাকা না পেয়েও কুলিরা উদয়াস্ত কাজ করে যাচ্ছে। কুলিদের থেকেও বেশি কাজ করছেন করবেট। দিনে চার ঘন্টার বেশি ঘুমোতে পারেন না। এমনই এক সময়ে, এক দিন, এপ্রিলের গরমে, আঁধিতে সারাদিনের অমানুষিক পরিশ্রমের পরে সন্ধ্যেবেলা দিনের প্রথম খাওয়া খেতে বসেছেন করবেট। ভৃত্য খাবার সাজাচ্ছে, এমন সময়ে মিছিল করে করবেটের ঘরে ঢুকে এল বারোজন সর্দার। সাহেব খেতে বসেছে দেখে ভারতীয় সৌজন্যে (আমার নয়, করবেটের কথা) তারা ঘর থেকে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে লাগল, সাহেবের খাওয়া কখন শেষ হয়। করবেট খেতে খেতে শুনছেন বাইরে সর্দারদের সঙ্গে তাঁর ভৃত্যর কথোপকথন -


সর্দার । সাহেবের সামনে থালায় কী খাবার দিলে?
ভৃত্য । একটা চাপাটি আর অল্প ডাল।
সর্দার । শুধু একটা চাপাটি আর অল্প ডাল কেন?
ভৃত্য । আর খাবার কেনার পয়সা নেই।
সর্দার । সাহেব আর কী খায়?
ভৃত্য । আর কিছু নয়।


তারপরে নৈঃশব্দ। কিছুক্ষণ পরে বয়োজ্যেষ্ঠ সর্দারের গলা পাওয়া গেল। অন্য সর্দারদের বলছে, "তোমরা ঘরে যাও। আমি সাহেবের সঙ্গে কথা বলছি।" করবেটের খাওয়া শেষ হলে সর্দার ঘরে ঢোকে। বলে, "সাহেব, আমরা বলতে এসেছিলাম এই ভুখা শরীরে আর কাজ করা যাচ্ছে না। কাল থেকে কাজ বন্ধ। কিন্তু এসে দেখলাম তোমার অবস্থাও আমাদেরই মতন। তাই কাজ আমরা থামাব না। শরীর যতক্ষণ দেবে, কাজ করে যাব। তুমি খালি দেখ মজুরির ব্যবস্থা করতে পার কিনা।"


সেই রাতেই করবেট গেলেন টেলিগ্রাফ অফিসে। গোরখপুরের হেড অফিসে তার করলেন যে পয়সা না পেলে আগামীকাল দুপুর থেকে কাজ বন্ধ। পরেরদিনই খবর এল, টাকা আসছে। আর তারও পরেরদিন পুলিশ পাহারায় এসে পৌঁছল বারো হাজার টাকা - কুলিদের মজুরী আর সাড়ে চারশো টাকা, করবেটের দক্ষিণা। করবেট এই বলে লেখা শেষ করছেন -


কাজেই আসুক বা আনন্দ করতে, ভারতে আগমনকারীদের কেউই কখ্নও সত্যিকারের ভারতবাসীর সংস্পর্শে আসার সুযোগ পায়না - যে ভারতবাসীর বিশ্বস্ততা আর একনিষ্ঠতার ওপর ভর করে মাত্র গুটিকয়েক মানুষের পক্ষে এই লাখ-লাখ মানুষের উপমহাদেশ শাসন করা সম্ভব হয়েছিল। সেটা প্রশাসনের পক্ষে হিতকর হয়েছিল না যে ভারতীয়দের সঙ্গে আমি পাঠকদের পরিচয় করালাম, তাদের পক্ষে, তা' নির্ণয় করার ভার আমি পক্ষপাতশূন্য ঐতিহাসিকদের হাতেই ছেড়ে দিলাম।


(Those who visit India for pleasure or profit never come in contact with the real Indian - the Indian whose loyalty and devotion alone made it possible for a handful of men to administer, for close on two hundred years, a vast subcontinent with its teeming millions. To impartial historians I will leave the task of recording whether or not that administration was beneficial to those to whom I have introduced you, the poor of my India.)

936 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 12 -- 31
Avatar: b

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

কালাপাথ্থর নয়, কালাঢুঙ্গি। গার্নি হাউসেই করবেটদের আদি নিবাস।
ম্যান ইটার্স অফ ৎসোভো থেকেই সেই বিখ্যাত সিনেমাঃ দ্য ঘোস্ট অ্যান্ড দ্য ডার্কনেস। বইটা অনলাইনেও আছে। পড়লে বোঝা যায়, কোথায় করবেটের সাথে অন্য শিকারীর তফাৎ। অন্যদের কাছে শিকার শুধুই একটা ট্রফি, তার চেয়ে বেশি কিছু নয়, অথবা একটা কঠিন টেকনলজিক্যাল সমস্যার সমাধান। করবেট, যাঁর দেখা বাঘেদের মতো তিনিও এক large hearted gentleman with boundless courage, লিখবেন
"The shooting of a man eater gives one a feeling of satisfaction. Satisfaction at having a job done that badly needed doing. Satisfaction at having outmanouvered, on his own ground, a very worthy antagonist. And, the greatest satisfaction of all, at having made a small portion of earth safe for a brave little girl to walk on."
(The Muktesar Man Eater)
Avatar: খ

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

আমার কাছে একেবারে ছোটোবেলায় কয়েকটা বই য়ের মধ্যে ঐ বর্ন ফ্রি, দেব সাহিত্য কুটির এর কি একটা যেন রোমাঞ্চ কর শিকার কাহিনী ইত্যাদি, জেরাল্ড ডারেল এর কি একটা যেন এসব ছিল। আর জেন গুডল এর ছবি লেখা সহ ন্যাশনাল জিওগ্রাফি পড়া র অভ্যেস ছিল লাইব্রেরী তে গিয়ে। তো একদিন হঠাৎঅ বাবার মাথায় ঢোকে , ছেলের শিক্ষায় অসংগতি থাকছে। কোন একটা নববর্ষে আমি মহাশ্বেতার মাই ইন্ডিয়া অনুবাদ আর আর্জান সর্দার বোধ হয় উপহার পাই। সেই সব কথা মনে পড়ে গেল। বাবা এখন বছর কয়েক হল,প্র্যাক্টিকালি জীবিত মাত্র, বছর চল্লিশেক আগেকার কথা, এটা যে আমার মনে ছিল সেটাই আমার মনে ছিল না ঃ-))) থ্যাংক্স ন্যাড়া/সৈকত/সিংগল কে/বি। বুদ্ধ দেব গুহ ঃ-)))))))))))))
Avatar: সৈকত

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

b আর i -কে,

হ্যাঁ, ওটা কালাঢুঙ্গী। আর সিনেমাটা, মনে পড়ল, হ্ঠাৎ করে ক'মাস আগে টিভিতে কোন চ্যানেলে দেখেছিলাম, পুরোটা নয়। ওম পুরি ছিলেন একটা চরিত্রে, রেল শ্রমিকদের নেতা মনে হয়।

করবেটকে নিয়ে লিখতে গিয়ে মনে হচ্ছিল, কিপলিঙ-এর কথাও। দুজনের দেখা হয়নি, হলে হয়ত দুজনেই ভারত দেশটাকে নিয়ে কথা বলে কাটিয়ে দিতেন কারণ দুজনেই অনেকটাই কাছ থেকে ভারতবর্ষকে দেখেছিলেন, সাধারণ মানুষের দেশটা। যদিও কিপলিঙের একটা সিমলা পর্ব ছিল, সমালোচিতও হয়েছেন 'হোয়াইট'স ম্যানস বার্ডেন ' লেখার পরে কলোনিয়ালিস্ট বলে, যদিও পরে এলিয়ট সাহেব কিপলিঙের কবিতা সম্পাদনা করার সময়ে সেরকম কিছু পাননি, 'জাঙ্গল বুক'-এর একটা ক্রিটিসিজম আছে যে মোগলি(মানুষ)/জঙ্গলের পশু, এই দ্বৈতটা মূলতঃ সাদা মানুষ/নেটিভদের সম্পর্ক যেখানে মোগলি জঙ্গলেই থাকে কিন্তু সে সেখানকার অধিবাসীদের থেকে ওপরে - তো এসব মিলিয়ে কিপলিঙ হয়ত করবেটের ঢের কম 'ভারতীয়' যদিও জন্ম এখানেই, মাঝে লন্ডন হয়ে আবার কৈশোরে বোম্বে ফিরে আসা, পুরোনো বম্বেকে পেয়ে আনন্দিত হওয়া, পরবর্তী বেশ কয়েক বছর ভারতেই থাকা, মূলতঃ উত্তর ভারতেই।

তো, এসব কথা এইজন্যই লেখা কারণ কিপলিঙ বললেই আমার কিম উপন্যাসটির কথা মনে হয়। ইংরেজ আর রাশিয়ানদের মধ্যে উনিশ শতকের শেষের দিক থেকে তৈরী হওয়া 'গ্রেট গেম' - আফগানিস্তান অঞ্চলের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে- যার মধ্যে গরীব ইংরেজ দম্পতির সন্তান, অনাথ, রাস্তায় বেড়ে ওঠা কিমের জড়িয়ে পড়া, এইসব কিছু নিয়ে উপন্যাসটি ছড়িয়ে আছে তখনকার উত্তর ভারতেই, লাহোর-আম্বালা-সাহারাণপুর-নাকলো(লক্ষ্ণৌ)-বেনারস-সিমলা-মুসৌরি পেরিয়ে আরও উত্তরে চলে যাওয়া, ছড়িয়ে আছে এই সব অঞ্চলের রাস্তা আর ট্রেনযাত্রা আর বিবিধ মানুষের মধ্যে। কারণ কিমকে এইসব পরিবেশ মুক্তির স্বাদ এনে দেয়, যদিও তাকে লক্ষ্ণৌর ইংরেজী স্কুলে ভরতি হতে হয়, মনে মনে বলে যে তাকে ইংরেজ হয়ে উঠতে হবে কিন্তু মন পড়ে থাকে ঐ সব রাস্তা আর অনর্থক হাঁটাহাঁটিতে। হ্যাঁ, এই সব নিয়ে যে লেখাটা লেখা হচ্ছে সেটা ছাপা হচ্ছে ইংলণ্ডের পত্রিকাতেই, পাঠক মূলতঃ সাহেবরাই, ফলে সব মিলিয়ে একটা এক্সোটিক কিছু দাঁড়াচ্ছে হয়ত, কিন্তু ছড়িয়ে থাকা ভারতের প্রতি খুব একরকমের টান বোধ না করলে মনে হয় না ঐরকম পরিবেশের মধ্যে চরিত্রটিকে হাজির করা যায়, সঙ্গী হিসেবে দেওয়া যায় এক তিব্বতি লামাকে যে একটা নদী খুঁজে বেড়াচ্ছে যেটা পেয়ে গেলে সে সংসারচক্র থেকে মুক্তি পাবে ! কিপলিঙের নিজের দ্বন্দটাও হয়ত ফুটে উঠছে কিমের মধ্যে, একই সাথে ইংরেজ হয়ে উঠতে হবে, সেই সমাজ যেরকম চায় সেরকম, আবার ভারতবর্ষের মানুষজনের মধ্যেও মিশে থাকার ইচ্ছে, যে ইচ্ছেটা জিম করবেটের ক্ষেত্রে কমবেশী চরিতার্থ হয়ে উঠবে, কিপলিঙের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে যেটা হয়ত হয়ে ওঠেনি।

(এই উপন্যাসটিতে, হরি চন্দর মুখার্জী নামের বাঙালী স্পাই চরিত্রটির মধ্যে - ইংরেজী জানা বাবুশ্রেণীর কিঞ্চিৎ ক্যারিকেচার যে অথচ সাহসী আর অনেক কিছু জানাশোনা যার এবং গ্রেট গেম-এ যে যুক্ত - হয়ত শরৎচন্দ্র দাসের আদল, দুজনের চেনাজানা না থাকলেও কিপলিঙ জানতেন শরৎচন্দ্র দাসের অভিযানগুলির কথা ?)


Avatar: r2h

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

আমি এক বাক্যে, মাই ইন্ডিয়া, তবে আমি সব বাংলা অনুবাদ - আমার ভারত।

সিংগলকেদা লিখেছেন 'মানুষকে এতটা ভালবাসতে পারা লোক খুব একটা বেশী নেই। করবেট (কি ইংরাজী, কি বাংলা) পড়তে গেলে আমার তো চোখে জল চলে আসে।' - হ্যাঁ।

এই লেখাটার জন্যে ন্যাড়াদাকে থ্যাংকিউ, আবার জিম করবেট পড়বো।

গোস্ট অ্যান্ড দা ডার্কনেস দেখতে গিয়ে টেনশন সামলাতে না পেরে আমাদের রাজাদা বলেছিল, দুর্দুর, এর থেকে অমিতাভ বচ্চনকে হিরো করলে এতক্ষনে আরো পাঁচটা সিংহ মেরে দিত।
Avatar: b

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

থ্যাংকু সৈকত। কিপলিঙের মধ্যে একটা দ্বিধা ছিলো এটা আমারো মনে হয়েছে। তর কারণ এইটা কি নয় যে, কিপলিঙ খাঁটি ইঙরেজ পরিবারে জন্ম, বাবা মা দুজনেরই ওখানে জন্ম। বাবা বম্বের বিখ্যাত আর্ট স্কুলের প্রফেসর। সে যুগের অন্য পরিবারের ঐতিহ্য মেনেই কিপলিং ইংল্যান্ডের স্কুলে পড়াশুনা করেছেন।
আর করবেট একে আইরিশ, তার ওপর তিন পুরুষ ধরে ভারতে। এতটাই হত দরিদ্র যে, আঠারো বছরের পরে প্র্যাক্টিকালি রেল-এ যেকোনো কাজ করেছেন। প্রিভিলেজের পর্দাটা ছিলো না।

Avatar: de

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

আমি সব করবেট বাংলা অনুবাদে পড়েছি - গত বছর বইমেলায় অক্সফোর্ড থেকে একটা করবেট অমনিবাস কিনেছিলাম, ইংরাজীতে। সেটাকে ধুলো ঝেড়ে বুকর‌্যাক থেকে নামিয়ে পড়তে শুরু করেছি। কিন্তু তাতে এই "মাই ইন্ডিয়া" টা নেই। এটা কি আসল করবেট অমনিবাস নয়?
Avatar: :)

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

করবেটের লেখায় প্রথম 'হ্যাপি হান্টিং গ্রাউন্ড' শব্দটা পাই। :)

৯২-৯৩ সালে যখন পড়েছি ঠিক সেসময়তেই একদিন ক্রিকেট খেলার ধারাবিবরনীতে শুনছিলাম ওনার নামটা ভুলে গেছি টেকো এক অস্ট্রেলিয়ান শারজাহর মাঠের ওয়াসিম আকরামের বোলিং সম্বন্ধে বলছিলেন 'ইটস অলওয়েজ হ্যাজবিন হিজ হ্যাপি হান্টিং গ্রাউন্ড' আর আমি ভাবলাম করবেটের বই পড়েই বলছে বুঝি!

অনেক পড়ে জেনেছি হ্যাপি হান্টিং গ্রাউন্ড আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের আফটারলাইফ কনসেপ্ট। Lakota people believe that after death, the spirit of the deceased person goes to the happy hunting ground. This belief corresponds with the general Sioux belief that everything has a spirit; including trees, rocks, rivers and almost every natural entity. This therefore leads to the existence of an afterlife. The Indian tribes had many spiritual dances such as the sun dance and the ghost dance, which directly refers to the spirits of the dead returning to life.

এনিওয়েল কেনেথ এন্ডারসনের লেখাও ভালো (১৯১০-১৯৭৫) লাস্ট অভ দোজ গ্রেট হান্টারস। অনলাইনে চোখ বুলিয়ে দেখতে পারেন।



Avatar: দ

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

দে মনে হয় সেকেন্ড পার্ট কেনো নি। সেকেন্ড পার্টে মাই ইন্ডিয়া, জাঙ্গল লোর এইগুলো আছে

https://www.amazon.in/Second-Jim-Corbett-Omnibus-Jungle/dp/019562968X/
ref=sr_1_2?keywords=Jim+corbett+omnibus&qid=1555570946&s=gatew
ay&sr=8-2


Avatar: b

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

অ্যান্ডরসন পড়েছি। পড়ে মনে হয়েছে, উনি শুধুই হান্টার। কিন্তু করবেট, শিকারি নন, তার ওপরে আরো এক ফোর্থ ডাইমেনশন আছে।
(বলতে পারেন আপনি মশায় করবেটের ওপরে বেশি বায়াসড। তা এক রকম বটি)।
Avatar: aranya

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

সৈকতের পোস্টগুলো ভাল লাগছে, অন্যদের মন্তব্য-ও
Avatar: aranya

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

বুদ্ধদেব গুহ তেমন ক্ষমতাশালী লেখক তো নন, প্রচুর পুনরাবৃত্তি, হামবড়া ভাব - এ সব দোষ আছে।
তবে ভারতের জঙ্গল, পশু পাখি, গাছ পালা, জঙ্গলের বাসিন্দা আদিবাসী গ্রামীণ মানুষ - এ সবের প্রতি অগাধ ভাল বাসা দেখেছি তার লেখায়। বু গু মানেই শুধু চানঘরে গান নয়, 'অন্য শিকার', ;বাজা তোরা রাজা যায়', ঋজু-দার প্রথম দিকের লেখাগুলো, উড়িষ্যার সাতকোশিয়া গন্ডের চারপাশের জঙ্গল, সেখানকার মানুষজন নিয়ে কিছু লেখা - অল্প বয়সী অনেক ছেলেমেয়ে অরণ্য-কে ভালবাসতে শিখেছিল তার লেখা পড়ে -সেটা কিছু কম অর্জন নয়
Avatar: aranya

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

বস্তুত বাংলায় জঙ্গল নিয়ে লিখলই বা কে, প্রবাদপ্রতিম বিভূতিভূষণ-এর পর একমাত্র বুদ্ধ দেব গুহ। আর কিছুটা শিবশংকর মিত্র
Avatar: ন্যাড়া

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

অরণ্যর সঙ্গে বুগু নিয়ে একমত হলাম। হামবড়া একটু ছেঁকে নিলে বুগু পড়তে আমার দারুণ লাগে। আমাদের মতন ৯৯%-দের একটু ক্ষেমাঘেন্না করে নিন। ঋজুদা তো ক্লাসিক। বাংলা কিশোর সাহিত্যে এত দাদার মধ্যে একদম ইউনিক।
Avatar: র২হ

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

আমার অন্যতম প্রিয় একটা উপন্যাস ঋভুর শ্রাবণ। সেটা এখানে প্রাসঙ্গিক নয় যদিও, বুগুর কথা হচ্ছে বলে মনে পড়ে গেল।
Avatar: Atoz

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

নারায়ণ সান্যালও কিছু কিছু লিখেছেন অরণ্য নিয়ে, প্রধানতঃ দন্ডকারণ্যের আদিবাসীদের নিয়ে। দন্ডক শবরী, অরণ্য দন্ডক ।
Avatar: সৈকত

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

b কে, দেরীতে=

হ্যাঁ, কিপলিঙ প্রিভিলেজড তো বটেই। তা না হলে, সিমলার সামার ক্যাপিটাল সমাজে প্রবেশ পাওয়া, নাট্ক ইত্যাদি করা, সেসব ঘটেনা। যদিও কম বয়স থেকেই লেখালেখির জন্য শ্রম কম করেননি ! পরবর্তীতে, ভারত থেকে চলে গিয়ে বিলেত-আমেরিকা ভ্রমণ, রাজনৈতিক মতামত ইত্যাদি নিয়ে সম্পূর্ণ অন্য জীবন। তো এই সব নিয়েই কনফ্লিক্টটা, যেটা থাকবেই একজন লেখকের ক্ষেত্রে, অন্তত প্রবল রক্ষণশীল না হলে।

আর প্রিভিলেজড শব্দটা পড়ে ইদানীংকালে হাতে আসা দুটো শিকার কাহিনীর বইয়ের কথা মনে হল। একটা বই, প্রমথ চৌধুরীর দাদা, পাবনার জমিদার বংশের সন্তান কুমুদনাথ চৌধুরীর শিকার কাহিনীর সংকলন আর অন্যটি মিসেস বেইলী নামে এক আইরিশ মহিলার লেখা শিকার অভিজ্ঞ্তা - বিবাহসূত্রে যার ভারতে থাকা, মোটামুটি ঐ সময়েই, এবং মেয়ে হিসেবে সরাসরি শিকারের সাথে যুক্ত থাকার কারণে বইটির অন্য একটু মূল্য আছে। তো এই দুটো বই ছুঁয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে এখানে।


Avatar: সৌমিত্র

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

"বস্তুত বাংলায় জঙ্গল নিয়ে লিখলই বা কে, প্রবাদপ্রতিম বিভূতিভূষণ-এর পর একমাত্র বুদ্ধ দেব গুহ। আর কিছুটা শিবশংকর মিত্র"
- 'বনের খবর', প্রমদারঞ্জন রায় চৌধুরী, লীলা মজুমদারের পিতৃদেব। অতীব সুখপাঠ্য।
Avatar: de

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

কিনে নিলাম, থ্যাংকু, দমদিকে -
Avatar: anag

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

সে কি - করবেট সাহেবের লেখা এতো জন পড়েননি দেখে অবাক হলাম। আমার তো করুণা প্রকাশনীর এডিশন থেকে অক্সফোর্ড সব ভাল লাগে। একটা ছবি ওয়ালা এডিশনও আছে। এখানে দেওয়া মাই ইন্ডিয়ার পার্টটা খুবই বিখ্যাত - আর ওটা বইতে পড়তে আরো ভাল লাগে। জাভো আমি কয়েক বছর আগে কিনেছি - ফ্লিপকার্ট থেকে। সবাই কিনে ফেলুন।
Avatar: কতজন

Re: করবেটের ইন্ডিয়া

কতজন পড়েনি? সকলেই তো প্রায় পড়েছে বলে লিখেছে

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 12 -- 31


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন