Sutapa Das RSS feed

Sutapa Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ফেসবুক একাউন্ট
    ঘর ঝাঁট দিতে এসে কাজের মেয়ে নিচু গলায় বললো, আপা! আমার রিকোয়েস্টটা এক্সেপ্ট করেন। আমি হতভম্ব গলায় বললাম, কিসের রিকোয়েস্ট?-ফেসবুক। রিকোয়েস্ট পাঠাইছি।: ও আচ্ছা! নাম কি?-ড্যাডিস প্রিন্সেস শাপলা!আমি নিজেকে সামলালাম।‌ এত অবাক হ‌চ্ছি কেন? কিছুদিন আগেই তো ...
  • ব্যালেন্স
    ছুটতে ছুটতে বাসের দরজার হাতলে হাত পেয়ে গেল স্মিতা। পাদানিতে পা রেখে আস্তে ছুঁড়ে দিল নিজেকে ভেতরে। জানলা থেকে রে রে করে ওঠা মুখগুলো এবার সোচ্চার, " এমনি করে কেউ ওঠে? বাড়িতে কেউ নেই নাকি?" মাথা নিচু করে সামনের দিকে এগিয়ে যায় স্মিতা। ড্রাইভারের পেছনের দরজায় ...
  • রুপচর্চা
    প্রোফাইল পিক আপডেট দেয়ার কিছুক্ষণ পর‌ই এক নামকরা বিউটিশিয়ান ফেসবুক ফ্রেন্ড আপু আমাকে নক দিলেন,-হ্যালো! একটা কথা জানতে পারি?আমি রিপ্লাই দিলাম, শিওর আপু,বলেন।আপু-কি ক্রিম ইউজ করোআমি একটা চশমাপরা ইমোজি দিয়ে রিপ্লাই দিলাম, ফেয়ার এন্ড লাভলী।আপু মেসেজ সিন ...
  • সমাজ গঠনের জন্য নৈতিক ঈশ্বরের প্রয়োজন হয়নি, সমাজের জটিলতাই নির্ধারণ করেছে ধর্মকে
    ধর্মের গুরুত্ব কী - এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলে থাকেন সমাজের স্থিতিশীলতা ও নৈতিকতা রক্ষা করা, অনেকে বলেন যদি ধর্ম না থাকে তবে মানুষ অনৈতিক কাজ করা শুরু করবে। কেউ খারাপ কাজ করলে ইহকালে বা পরকালে তার শাস্তি হবে, আর ভাল কাজ করলে তিনি পুরস্কৃত হবেন এটা ...
  • সাইকো
    কয়েকদিন ধরে আমি প্রচন্ড আতঙ্কে আছি। ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না।‌ সারাটা দিন অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করে নিজের মধ্যে। কেন‌ জানিনা আমার মন বলছে আমার বর আমাকে খুন করবে। এটা মনে হ‌ওয়ার পেছনে কোনো যুক্তি নাই। আমার বর খুব ভালো একজন মানুষ।‌ নরম-সরম,কখনো‌ কোনো ...
  • জুম চাষ: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
    [ও ভেই যেই বেক্কুনে মিলি জুম কাবা যেই/পূব ছড়া থুমত বর রিজেভ' টুগুনোত/ পুরান রাঙ্গা ভূঁইয়ানি এবার বলি উত্যে হোই চেগার/ সে জুমোনি এ বঝরত মিলিমুলি খেই।...চাকমা কবিতা...ও আমার ভাই বন্ধুরা চল চল সকলে মিলে জুম কাটতে যাই/ বড় বড় পাহাড়ের চূড়ায়/ দূরের পূর্ব ...
  • দুটি বই
    ইতিহাসে যদি প্রশ্ন আসত, "অ্যামেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের প্রভাব আলোচনা করো" আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফেল করতাম। কিন্তু এখন এলে এই লিখব - ১৭৫৭ সালে যুদ্ধ নামক প্রহসনে বাংলা চলে গেলে লর্ড ক্লাইভের হাতে। শাসনের থেকেও বড় কথা যথেচ্ছ শোষণের ভার ...
  • গুহাচিত্র
    গত এক বছর হল আমরা গুহাচিত্রের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা মানে আমাদের পাড়ার লোকেরা। আমরা ফ্ল্যাটের দেয়ালে গুহাচিত্র আঁকছি। আমরা ছাদের জলের ট্যাঙ্কে গুহাচিত্র আঁকছি। আমরা সর্বত্র গুহাচিত্র আঁকছি।এই গুহাচিত্র আঁকার সূচনাকালকে আমরা প্যালিওলিথিক ...
  • মৃত্যুর চার ঘণ্টা পরও মৃত শূকরের মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেন বিজ্ঞানীগণ! মৃত্যুর ধারণা নিয়ে শুরু হল নতুন বিতর্ক…
    https://ichef.bbci.c...
  • আমার ছেলেবেলার শবেবরাত
    ছেলেবেলার শবেবরাতগুলো ছিল বেশ আদরের। সকালে শীতের আমেজ। রোদ ঝলমল। বিকেলে হাল্কা ঠান্ডার উলের হাফ শোয়েটার। রমজান মাস আসছে।তারই আনন্দমুখর ট্রেলার শবেবরাত। স্মৃতি গুলো আজও মনে বাঁসা করে আছে। ক্ষনে ক্ষনে ঝিলিক দেয়। মনের অতল গভীরে কিজানি আবার মিলিয়েও যায়। মধুর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কেস জন্ডিস

Sutapa Das



অর্ধশতাব্দীর দোড়গোড়ায় এসে বড় অঙ্কের ইনসিয়োরেন্স করতে গিয়ে টেলিফোনিক মেডিক্যাল চেকআপের চক্করে মেয়েবেলার অভিজ্ঞতা স্মৃতির নিস্তরঙ্গ পুকুরে বড় মাছের মত ঘাই মেরে উঠলো।

দুপুরবেলায় স্কুলের ব্যস্ত সময়ে সুদূর মুম্বাই থেকে এক ডক্টর ম্যাডামের কল। তাঁর 33তম প্রশ্নটির উত্তরে বলতে হলো তেরো বছরে একবার জন্ডিস হয়েছিল আমার, তারপরে মগজের ভাঁজ থেকে যে ক্যালাইডোস্কোপিক ছবি উঠে আসতে থাকলো তাতে কথোপকথন না থামাতে পারলে হিংলিশে আর বেশীক্ষন টানা যেতনা। মন ততক্ষনে আসন্নপ্রসবার শরীরের মত শব্দে ছবিতে ভারী হতে শুরু করেছে, ম্যাডামজীর এক প্রশ্নের উত্তরে তাই বলতে হলো, 1982 তে জন্ডিস হয়ে যাবার পর লিভার ফাংশন টেস্ট ডক্টররা অর্ডার করতেন না বলে হয়নি, আর অন্য কোন জ্ঞাতব্য আছে কি তাঁর? অবশেষে বিদায়জ্ঞাপন ও ক্ষান্তি।

যে সময় জন্ডিস ধরা পড়ে, সে সময় আমি সদ্য স্কুল পাল্টেছি, সেভেন থেকে এইটে উঠে রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয় ছেড়ে শিলিগুড়ি বালিকাদের সঙ্গে পড়বো বলে অ্যাডমিশন টেস্ট দিয়েছি (ভাগ্যিস আর টি ই বাবুরা ছিলেন না তখন, যোগ্যতা প্রমাণ করে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে 'সুকুমারমতি' দের মোটেও মানসিক চাপ হতনা সে আমলে, বরং সেটিই স্বাভাবিক ছিল) । সে ধান ভানতে শিবের গীত থাক, জন্ডিসে ফিরি।
মামাবাড়ী বিরাট একান্নবর্তী পরিবার তখন, পাঁচমামা তিনমামী, দাদু দিদা, খলবলে গোটাচার তুতো ভাইবোন, মাসী তার মেয়েসহ অবস্হিতা, 24*7 সব সামাল দেওয়া সহায়ক নাগিন্দার ভাই, দুইখান অ্যালশেসিয়ান হলো পরিবার। জুটলাম গিয়ে আমি , যার মা সেবাড়ীর বড় মেয়ে , অসময়ে লোকান্তরিতা। তো, ভর্তি পরীক্ষা দেবার পরই জ্বর, নামতে চায় না ঠ্যাঁটা রকম, সাথে বমিভাব কখনো বমি হয়ও, নিস্তেজ পান্ডুবর্ণ মেয়েটিকে বড়মামী নিয়ে গেলেন সেই থানামোড়ের মৃদুল ডাক্তারবাবুর কাছে, যার কথা আগে লিখেছিলাম, লাল/রানী রঙা তরল ওষুধের শিশিতে খাঁজ কেটে কাগজ মার্কা দিয়ে দিতেন, তিন চার বার খেলে মোটামুটি পেটছাড়া থেকে জ্বর সব পালাতো। পরীক্ষা টরীক্ষার বিশেষ বালাই ততকালে ছিলো না। তো, তিনদিন লাল ওষুধে জ্বর না ছাড়ায় রক্তপরীক্ষা , রক্ত দেবার ভয় সাহসীমুখোশে ঢেকে সে পর্বশেষে কনফার্ম হল কেস জন্ডিস। এরপর আসল গল্প।

আমার দাদু, মায়ের বাবা, প্রবল পরাক্রমী এক পুরুষসিংহ, বরিশালী নিয়ম মেনে রাতে ছোট বাইরে করতে যেতেন না, ঘরে রাখা থাকতো গামলা, পোলাপান যারা দাদু কি মাগো (দিদিমা)র বিছানায় শুতো , তারাও সক্কলে রাতে সেই গামলায় রাতভোর জলবিয়োগ করতো। পরপ্রভাতে দাদুর নৈমিত্তিক কাজ ছিলো সেখানি পরিষ্কার করে ফেলা। তো এহেন দাদু স্বপ্নাদিষ্ট ছিলেন জন্ডিসের ওষুধের। কোন পয়সা নিতেন না, একটি ওষধি দিতেন বিশেষভাবে খেতে, রোগ পালালে মা বিষহরির পুজো দিতে বলতেন পাড়ার কোন কালীবাড়ীতে। এবার তিনি কেন ডাক্তারের রেগনির্নয় মানবেন? বাড়ীর লোকের ক্ষেত্রে তার নির্নয়পদ্ধতি ছিল বড়ই বিচিত্র!
সারারাতের ভরা গামলায় জন্ডিস সন্দেহ করা হচ্ছে যার, তাকে জলবিয়োগ করতে হবে, যদি সম্পূর্ন হলুদ করে ফেলতে পারে শেষজনের হিসু, অন্য লক্ষনগুলির উপস্হিতি সাপেক্ষে তবে অবশ্যই তার কেস জন্ডিস! এমনকি হসপিটাল থেকেও অনেকে আসতো ওষুধ খেতে, মাসে বারো থেকে পনেরো জন তো বটেই,সে ওষুধের প্রস্তুতিপ্রক্রিয়া বলছি পরে। দাদু কিনা ছবি হয়েছেন 1984 তে, আর লাঠির বাড়ি খাবার ভয় নাই, নিঃশঙ্কচিত্তে সে গূঢ়তথ্য জনসমক্ষে আনাই যায়।

আমার হিসুটেস্ট হয়ে যাবার পর , এক কেজি গরুর কাঁচাদুধ ফেলে রেখে দই জমানো হল জানুয়ারীর শীতে। বাড়ীতেই ছিলো কতক গরু, মাগোকেও কখনো সখনো গরু দুইতে দেখেছি সর্ষের তেলের বাটি পাশে নিয়ে দুই হাঁটুর মধ্যে বালতি ধরে বসে, তবে কালে ভদ্রে গোয়ালা না এলে। একটা অদ্ভুত ছন্দ দুধ বালতিতে পড়বার, নাহ্ সে এখন থাক। দই তো জমলো, সে সংবাদ দাদু পেয়ে পরের সকালে উঠেই হাত দাঁ নিয়ে গুটিগুটি রওনা শুঁড়বাড়ীর বাগানে, যাদের বাড়ীর চন্দ্রিমা পরে আমার স্কুল যাবার সঙ্গী ছিল টানা তিনটি বছর। খানিক যায় আর পিছু ফিরে চায়, কেউ পিছু নিলো কি না দেখে। যে গাছের ডালটি কেটে ভেতরের ছালটি কুচি করে কেটে বাটতে দেবে শিল নোড়ায়, সেটি স্বপ্নাদেশ সুতরাং গুপ্ত রাখা বাঞ্ছনীয়। এদিকে বাড়ীর লোক যে ও তল্লাটের বাকল ছাড়া গাছগুলি দেখতে দেখতে চিনে গিয়েছিল বিশেষ গাছটিকে, সে তথ্য সম্ভবত দাদুর ভান্ডারে ছিলো না। সে যাক, সেই ছালে প্রস্তুত অদ্ভুত কাষায় মন্ড, কলাপাতায় দই দিয়ে মেখে খেতে হল , পাশে বড় চামচ নিয়ে বসলে বাচ্চাদের কাছে যমস্বরূপা বড়মামী , যাতে বমি করে ফেললে আবার চালান করে দেওয়া যায় মুখে। চ্যাঁচামেচি কান্নাকাটি করে সে তো পেটে গেল!আধঘন্টা চিপ করে শুয়ে থাকা যাতে উঠে না আসে, আর সারাদিনে খাওয়া শুধু দই!

আশি শতাংশের এতেই সেরে যেত, কিন্তু আমি কিনা ঘাড়ে একজোড়া বিশেষ হাড় নিয়ে জন্মানো ঘাড়ট্যারা অনন্যা, আমি পড়লাম বাকী কুড়ি শতাংশে। তিনদিন পর আবার 'মূত্রবিসর্জন টেস্ট, আবার ছাল আর দই .... অবশেষে রোগমুক্তি ঘোষনা হল মূত্র ও রক্ত দুই পরীক্ষাতেই!আর ক্ষিদে যেন দিনদশেক না খেতে পারাকে পুষিয়ে নিলো, অমৃতসম কচ্ছপের ডিম, মাংস সব খেয়েছি সেরে ওঠার মাসখানেকের মধ্যেই!

জেনে নিয়েছিলাম ঐ ওষধি, উত্তরবাংলায় যত্রতত্র বেড়ে ওঠা সে বেড়া দেবার গাছের ভেতরের ছালের আশ্চর্য গুণ। নিজেও খাইয়েছি নিয়ম মেনে অন্যকে, ফলও পেয়েছি।সেরে উঠে সাতদিনের দিন বিয়ের পিঁড়ি আসীন হয়েছে মাসী, এমন ওষুধের মহিমা!

চলে গেছেন দাদু, বলেছি ওষধিগাছ নিয়ে যারা নাড়াচাড়া করেন তাদের অনেককে, কিন্তু গাছটা নিয়ে কাজ হয়েছে শুনিনি। দইয়ের সঙ্গে কি বিক্রিয়ায় যকৃত অত দ্রুত রোগমুক্ত হয় তাও অজানা রয়ে গেল।

তখন আমরা লিভার ফাংশন টেস্টের নামও শুনিনি, শিলিগুড়ির মত বর্ধিষ্ণু শহরে হোত কি না তাও জানা নেই।

তবে সেবার বাড়ীর মনসা পুজোয় আমার সেরে ওঠায় পুজো দেওয়া হয়েছিল নাম করে, মনে আছে।

আজ আর ভীড় করে আসেনা লোক, জন্ডিস নাকি সেরে ওঠে ন্যাবার মালায় নয়তো ডাক্তারী বিধি মেনে বিশ্রাম আর পথ্যে।

83 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন