Suvendu Debnath RSS feed

Suvendu Debnathএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শিরোনামহীন
    তত্কালে লোকে বিজ্ঞাপন বলিতে বুঝাইতো সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় শ্রেণীবদ্ধ সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন, এক কলাম এক ইঞ্চি, সাদা-কালো খোপে ৫০ শব্দে লিখিত-- পাত্র-পাত্রী, বাড়িভাড়া, ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চলিতেছে (ঢাকাই ছবি), আসিতেছে (ঢাকাই ছবি), থিয়েটার (মঞ্চ ...
  • Take love
    জন্মদিনে সবার আগে যেটা হয় সেটা হচ্ছে টাইমলাইন আর ইনবক্স জুড়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছাগুলোর জবাব দিতে দিতে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। রিপ্লাই দিতে দিতে একপর্যায়ে নিজেকে মানসিক রোগী মনে হতে থাকে।যাইহোক,সবাই ভালোবেসে শুভেচ্ছা জানায় জবাব না দেয়াটাও বেয়াদবি ভেবে ...
  • রাতের ঢাকা শহর
    ঢাকা শহরের নানা সমস্যা। দুই একদিন আগে দেখলাম সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিয়ায় ওপরের দিকে নাম ঢাকা শহরের। যারা ঢাকা শহরে থাকে বা থেকেছে তারা জানে নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা আষ্টেপিষ্টে জরিয়ে আছে। বাতাস শুধু দূষিত না এ শহরের, আরও কত কী যে দূষিত তার কোন হিসেব নেই। ...
  • মাইনাস তিন ডিগ্রি
    মাইনাস তিন ডিগ্রি ▶️প্রতি সন্ধ্যায় শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে মাত্র কয়েক ফার্লং দূরে যশোর রোডের ডানদিকে দেড়তলা বাড়িটা অন্ধকারেই থাকে। রাত ন'টা নাগাদ পুট করে গেটের আলোটা জ্বলে ওঠে। কোলাপসিবল গেটে চাবি তালার খুট খুট ধাতব শব্দ। সিঁড়ির আলো জ্বলে। ডাইনিং ...
  • যে হাতে জ্বলেছিল আলোর শিখা - ডঃ বিভা চৌধুরী
    বিভা চৌধুরীকে নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক দিনের। আগ্রহের সুচনা কেন্দ্র অবশ্যই তাঁর বিজ্ঞানচর্চা । বৈজ্ঞানিককে তার বিজ্ঞান ছাড়া ধরা যায় না। তবে তিনি যখন বিজ্ঞান সাধনায় নামেন , তখন সে জগত এক অবিচ্ছিন্ন জ্ঞানের জগত, আমার বিজ্ঞানের যে সীমিত জ্ঞান তাই দিয়ে তাঁকে আবছা ...
  • পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র
    পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র সৌরভ মিত্র ধরা যাক, অতি খাজা একখানা প্রবন্ধ পড়তে পড়তে মুখ থেকে অজান্তেই একটি শব্দ বেরিয়ে এল, -‘জঘন্য’। বেজায় সমস্যা এই তৎসম শব্দটিকে নিয়ে। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কিনা ‘জঘনভব’ বা ‘জঘনতুল্য’ [জঘন + য (যৎ)]। কিন্তু, সেই ...
  • শুভায়ু শুক্রবার
    প্রতিভা সরকারদিল্লীর রাজপথে শিরদাঁড়া সোজা করে বসে আছে একদল বাচ্চা ছেলেমেয়ে। স্কুলে না গিয়ে তারা এইখানে। হাতে প্ল্যাকার্ড "স্কুলে যাইনি, বড়দের শেখাব বলে"। ব্যাঙালুরুতে কিশোররা গম্ভীর মুখ। হাতে লেখা "পিতৃতন্ত্র নয়, প্ল্যানেট বাঁচাও"। বার্লিনে বাচ্চারা ...
  • নারীদের শ্রম-জীবন
    লোপামুদ্রা সরকারভদ্রলোক ব্যস্ত মানুষ। উচ্চপদস্থ। তাঁকে প্ল্যান্টে নিয়ে যেতে কোয়ার্টারের সামনে গাড়ি আসে। তিনি সকালে উঠে, চা খেয়ে, কিঞ্চিৎ স্বাস্থ্যচর্চা করে, ব্রেকফাস্ট সেরে, পোশাক পরিচ্ছদ পরে তৈরি হয়ে প্ল্যান্টের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন। এই সময় তাঁর হাতে ...
  • মেয়েবেলা
    ইন্দ-রানীএকটি অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে কঠোর পুরুষতান্ত্রিক পরিকাঠামোয়, হাজার নিয়ম ও বাধা নিষেধের বেড়ার ভেতর যেমন মেয়েবেলা কাটতে পারে, তেমনি ছিল মেয়েটির ছোটবেলা। মেয়েবেলার কথা ভাবতে বসলে সত্যি বলতে তেমন আনন্দের কোন উপাখ্যান অথবা সুখস্মৃতি তার মনে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৯)
    কাং ইয়াৎজে বেসক্যাম্প (০৯.০৯.২০১৮) ____________________...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বেনারসী বিবি

Suvendu Debnath




বেনারসী বিবি
শুভেন্দু দেবনাথ

এক

জেরুজালেম, কনস্তান্তিনোপল এবং অন্যান্য প্রাচীন শহরের সম্মিলিত কীর্তির চেয়েও এ-শহরের মহিমা বড়ো৷ এ-শহর কিংবদন্তির চেয়েও প্রাচীন৷ এমন ধারণা মার্ক টোয়েনের৷ গোটা দুনিয়া ঘুরে বেনারসের প্রেমে তিনি আক্রান্ত হন৷ উপায় ছিল না৷ এমন শহর আর নেই৷ তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এক জীবন্ত শহর৷ যে-শহরে গৌতম বুদ্ধ, মহাবীর, আদি শংকর হেঁটেছেন এবং যে-শহরে আধুনিকতার চাপের আড়ালে নিজের আদি স্বভাব লালন করে চলেছে৷ কী যেন আছে বেনারসে৷ সব পেয়েছির দেশ৷ তন্ত্র চাইলে তন্ত্র৷ স্বর্গে যাওয়ার সরাসরি সিঁড়ি নিয়ে বসে রয়েছে মণিকর্ণিকা ও হরিশচন্দ্র ঘাট৷ আধ্যাত্মিক ঝামেলায় না যেতে চাইলে হোন ঘোর সংসারী৷ শুরু হোক বেনারসির বিবাহপ্রস্তাব৷ যা-ই দেখুন না কেন, বেনারসি শাড়িটি আমার চাই৷ রোমাঞ্চকর দাম্পত্যজীবনের সবচেয়ে জরুরি পাসওয়ার্ড, দাম্পত্য পুরোনো হয়ে এলে যা কিনা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠবে সুখের স্মৃতির জরুরি মোটিফ৷ অনিশ্চিত বিবাহে যা-ই ঘটুক না কেন ওটুকু আমাদের চাই-ই চাই৷

খাদ্যরসিকদের কাছে যেমন স্বাদে-গন্ধে-বনেদিয়ানায় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পেয়েছে বিরিয়ানি, শাড়িপ্রিয় নারীর কাছে বেনারসির সূক্ষ্ম কারুকাজ, জমকালো ডিজাইন আর বনেদিয়ানার জন্য চিরকালই পেয়েছে অগ্রাধিকার৷ বেনারসি শাড়ির বিষয়ে ভারতীয়, বিশেষ করে বাঙালি মেয়েদের সবচেয়ে সুখকর স্মৃতি হয়তো-বা বিয়ের দিন৷ কোথায় হয় এই বেনারসি? কোথায় আবার, বেনারসে!
বেনারস শহরটি বাঙালি বিয়েতে বহু দিন ধরেই অনুপ্রবেশ করে বসে আছে৷ উস্তাদ বিসমিল্লা খানের সানাই আর বেনারসের শতকরা নববই শতাংশ মুসলমান তাঁতির হাতে-বোনা বেনারসি শাড়ি ছাড়া গড়পড়তা মধ্যবিত্ত বাঙালির বিয়ে প্রায় অসম্ভব৷
বেনারসের মতন, বেনারসি শাড়ির ইতিহাসও বহু প্রাচীন৷ বেনারসের লিখিত ইতিহাস পাওয়া গেলেও সেখানকার শাড়ির লিখিত ইতিহাস সেভাবে পাওয়া যায় না৷ পুরাণ ও বৈদিক এবং বৌদ্ধ সাহিত্যে কিছু কিছু উল্লেখ পাওয়া যায় মাত্র৷ তাই বেনারসি শাড়ির উৎস খঁুজতে অগত্যা তার গলিগলতায় চক্কর লাগানো ছাড়া উপায় নেই৷ মায়াবী গোলোকধাঁধায় ঢুকে পড়তে হয়৷ গলির ভেতর গলি, তার ভেতরে গলি৷ সেইসব গলির রস আর রহস্যের মধ্যে তাঁতিদের সম্ভ্রান্ত এলাকা--- মদনপুরা৷ চারপাশে ঘরে ঘরে হ্যান্ডলুম আর পাওয়ারলুম৷ সমস্ত গলিজুড়ে একতালে এক ছন্দে খটাখট আওয়াজ৷ তাঁতে কাতানের ওপর নকশা ফোটার শব্দের মাঝে আলাপ বিখ্যাত হোলসেল ব্যবসায়ী জামাল আখতারের সঙ্গে৷ জানা গেল, আগে বাংলা-বিহার-ওড়িশায় শাড়ি তৈরি হত দুই খণ্ডে৷ নীচের ও ওপরের অংশ আলাদা৷ পরে বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অখণ্ড শাড়ির প্রচলন হয়৷ বেনারস পরে এই শাড়ির ওপর সূক্ষ্ম কারুকাজ করে একে আরও মোহময় করে তোলে৷ স্বাভাবিকভাবে কদর বেড়ে যায় বেনারসের শাড়ির৷ শুধু যে বেনারস এই ধরনের শাড়ির জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তা নয়, লাগোয়া মুবারকপুরও এই ধারার শাড়িকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যায়৷ জামাল সাহেবের কাছেই জানলাম, তাঁদের হাতের কাজ এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে স্বাধীনতার আগে তাঁর ঠাকুরদাকে কলকাতার মেছুয়ায় একটি বাড়ি কিনতে হয়৷ তিনি বেনারস থেকে শাড়ি নিয়ে কলকাতায় যেতেন, শাড়ি চালান করে একেবারে তাগাদা সেরে বাড়ি ফিরতেন৷ তবে এখন মেশিনের তাঁতের জনপ্রিয়তায় হাতে-বোনা তাঁত মার খাচ্ছে৷ মুবারকপুরে এখন যে-ধরনের শাড়ি তৈরি হয়, তার দাম বাজারে বড়োজোর পনেরো থেকে কুড়ি হাজার টাকা৷ শাড়ির দাম শুরু তিন হাজার থেকে৷ বেনারসের যেসব জায়গা শাড়ি তৈরির জন্য জনপ্রিয় ছিল, সেই মদনপুরা, পিলিকোঠি, চওকাঘাট পানি ট্যাঙ্কি, সারনাথ, জৌরিতালাও--- সমস্ত জায়গারই এক হাল৷
কিন্তু তিনিও ঠিক জানেন না বেনারসির আসল হদিশ৷ যে-কারণে বেনারসি শাড়ি বিখ্যাত, মিহি রেশমের ওপর সোনা-রুপোর জরি দিয়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ৷ এক-একটা শাড়ির ওজন চার থেকে প্রায় কুড়ি কেজি হত৷ জামাল সাহেব জানালেন, ‘বাবুসাহাব, আপ বেনারস কি বাজার ডিহা ইলাকা মে চলা যাইয়ে, ইয়া ফির মুবারকপুর৷’

দুই

মুবারকপুর৷ উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার এক বড়ো কসবা বা জনপদ৷ আজমগড় থেকে কুড়ি কিমি৷ সরকারি বাস বলতে সকাল-সন্ধ্যে মিলিয়ে মাত্র দু-টি৷ মুবারকপুর গ্রামের পত্তন করেছিলেন মানিকপুর কাড়ার অঞ্চলের এক সুফিসাধক রাজা মুবারক শাহ৷ কিন্তু কেউ জানেন না, কীভাবে এখানে শাড়ি বোনার কাজ শুরু হয়৷ বৌদ্ধ সাহিত্যে উল্লেখ আছে, চোদ্দো শতকে এখানে কাপড় বোনার সূত্রপাত৷ পুরোনো সরকারি দস্তাবেজ ও লোকমুখের গল্প থেকে জানা যায়, মুবারক শাহের সঙ্গে আসা অনুগামীদের মধ্যে কিছু তাঁতি ছিলেন৷ মুবারক শাহের অনুপ্রেরণায় বেনারস থেকে বেনারসি শাড়ি তৈরির পদ্ধতি শিখে এসে এখানে চালু করেন৷ বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবন বতুতার রচনায় পাওয়া যায়, এখানে উন্নত মানের বেনারসি শাড়ি তৈরি হত, সেই শাড়ি দিল্লি হয়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রপ্তানি হত৷ সমস্ত তথ্যপ্রমাণ আর লোককথা থেকে অনুমান করতে অসুবিধা হয় না, বেনারসি শাড়ির উদ্ভবকেন্দ্র ছিল পুরোনো বারাণসী৷ বেনারসি শাড়ি তৈরির পদ্ধতি বাংলা-বিহার-ওড়িশায় চালু হলেও জনপ্রিয়তায় বেনারসকে হার মানাতে পারেনি৷ সেটা শুধু বেনারসের কারিগরদের হাতযশের ফলেই নয়, খানিকটা জলবায়ুর কারণও আছে৷ বেনারস অঞ্চলের আবহাওয়া রুক্ষ৷ বাংলার মতো ভিজে নয়৷ এ ছাড়া বাংলা-বিহার-ওড়িশার তাঁত মাটির উপর বসানো থাকে৷ সেই তাঁত চালাতে শুধু হাত আর কাঁধের জোর লাগে৷ বেনারস ও মুবারকপুরের তাঁতের একটা অংশ মাটির তলায় গর্তের মধ্যে থাকে৷ এই তাঁত চালাতে হাত, পা আর শরীরের পুরো শক্তি লাগাতে হয়৷ শাড়ির বুনোট হয় ঘন আর শক্তপোক্ত৷ জেল্লাদার৷
এক লাখ লোকের বাস৷ প্রায় নববই শতাংশ মুসলমান৷ এদের প্রধান জীবিকা তাঁত৷ সে-দিন ছিল মঙ্গলবার৷ বেনারসি শাড়ির বাজার বন্ধ৷ বিকেলে এক রিকশাওয়ালার কাছে হদিশ মিলললালচকের৷ ওখানে কয়েক ঘর বাঙালি থাকে৷ সাহায্য করতে পারে৷ হাতে তখন লটারি পাওয়ার অবস্থা৷ লালচকের একটি গলিতে দেখা কয়েক জন বাঙালি ছেলের সঙ্গে৷ তারকেশ্বর থেকে সোনার কাজ করতে এসেছে৷ তাদের সাবধানবাণী--- এখানে হুটহাট কারও বাড়িতে ঢোকা যাবে না৷ ছবি তুললে খুনোখুনিও হতে পারে৷ এত সব সতর্কতার পর পাশের বাড়ির এক চেনা তাঁতিকে হাজির করল৷ মহম্মদ জাভেদ, ডাক নাম পাপ্পু৷ সে করদ তাঁতি, অর্র্থৎ শুধু মহাজনের হয়ে বোনে৷ ভোর চারটে থেকে রাত দশটা অবধি কাজ করলে ছয় থেকে আট দিনে একটা শাড়ি বুনতে পারে৷ শাড়ি-পিছু মজুরি সাত-শো থেকে বারো-শো টাকা৷ অর্র্থৎ মাসে গড়পড়তা রোজগার চার থেকে পাঁচ হাজার৷ শাড়ি বোনার সুতো, ডিজাইন আর পাঞ্চকার্ড মহাজনের৷ তাঁত নিজের৷ এই পাঁচ হাজার টাকায় তার গোটা পরিবার এবং তাঁতের রক্ষণাবেক্ষণ চালাতে হয়৷ বারো বছর বয়স থেকে এই কাজ করছে৷
একটা আসল রেশমের বেনারসি শাড়ি তৈরিতে লাগে প্রায় ছাপ্পান্ন-শো সুতো৷ প্রায় চবিবশ থেকে ছাবিবশ মিটার লম্বা আর পঁয়তাল্লিশ ইঞ্চি চওড়া হয় শাড়ি৷ বোনার জন্য তিন জনের একটি দল লাগে৷ এক জন সুতো কাটে এবং নলিতে সুতো জড়ায়৷ অন্য দু-জন বোনে৷ এক জন শাড়ির জমিন বোনে, অন্যজন প্রত্যেক বার বোনার সঙ্গে সঙ্গে ডিজাইনের সুতো-প্যাঁচানো নলিটি জমিনের ফাঁক দিয়ে গলিয়ে তুলে আনে৷ এভাবেই ফুটে ওঠে অপূর্ব নকশা৷
নকশা কীভাবে ফোটে? সবার আগে তৈরি হয় নকশার মোটিফ৷ একজন আর্টিস্ট গ্রাফপেপারে সেই নকশা আঁকেন৷ নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর এক জন কারিগর পিচবোর্ডের ওপর ফুটো করে সেই নকশাকে ফুটিয়ে তৈরি করেন পাঞ্চকার্ড৷ এই পাঞ্চকার্ডের ভেতর দিয়েই সুতো গলিয়ে জোড়া হয় তাঁতের সঙ্গে৷ নকশামাফিক সঠিক রঙের সুতো যাতে বোনা হয়, সেটা নিশ্চিত করতেই এই পাঞ্চকার্ড৷ শাড়ির জমিন ও নকশার ক্ষেত্রে প্রধান দু-জন কারিগরের মধ্যে তালমেল হওয়াটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷
পরে বেনারসে ফিরে আলাপ হয়েছিল পাঞ্চকার্ড তৈরির কারিগর ফকরউদ্দিনের সঙ্গে৷ চল্লিশ বছর ধরে তিনি এই কাজ করছেন৷ তাঁর কথায়, এই পাঞ্চকার্ডের ছিদ্র আগে অনেক ‘মহিন’ অর্র্থৎ মিহি হত৷ তাতে খুব সূক্ষ্ম ডিজাইন বোনা যেত৷ এখন সস্তা কাজের বড়ো বড়ো সহজ ডিজাইন হয়, ফলে পাঞ্চকার্ডের ছিদ্রও অনেক বড়ো৷ সবথেকে কমদামি ডিজাইনের পাঞ্চকার্ডের মজুরি আড়াই-শো টাকা৷ এক-শো পাতার একটি পাঞ্চকার্ডের মজুরি এক-শো ষাট টাকা থেকে দু-শো টাকা অবধি৷
তাঁতের সঙ্গে তাঁতির সম্পর্ক ঘাম-রক্তের৷ কিন্তু এই ঘাম-রক্ত চেটেপুটে খায় মহাজনরা৷ একদল মহাজনের বন্দোবস্তয় একেক এলাকায় তৈরি হয় একেকটা সোসাইটি৷ শাড়ি তৈরির লাভের গুড় খেয়ে নেয় সোসাইটির লোকজনই৷ গরিব তাঁতশ্রমিকদের জন্য যেসমস্ত সরকারি সুযোগসুবিধা আসে, সেসবও সোসাইটি মারফত চলে যায় মহাজনদের হাতে৷ পাপ্পুর ভাই হাবিব কিছুটা লেখাপড়া জানে৷ হাবিব জানায়, লালওয়ালা রেশন কার্ডের (বিপিএল কার্ডকে এই নামেই জানে তারা) জন্য তারা আবেদন করেও পায়নি৷ মহাজনরা সেইসমস্ত কার্ড ভুয়ো সাক্ষী সাজিয়ে আত্মীয়দের মধ্যে বিলি করেছে৷ সরকারি লোকজন এলে মহাজনদের সোসাইটিতেই তাঁতিদের ডাক পড়ে৷ তাঁতিরা মহাজনদের শেখানো বুলি আওড়াতে বাধ্য হয় কাজ হারাবার ভয়ে৷ গরিব তাঁতিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী গৃহযোজনার টাকাও আসে এইসব সোসাইটিতে৷ আর তার সবটাই যায় মহাজনদের আত্মীয়স্বজনের কাছে৷ এমনকী সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিলেও ঋণের প্রায় চল্লিশ শতাংশ টাকা ঘুস দিতে হয় ব্যাঙ্ক ম্যানেজার আর মহাজনদের৷ সুদ-সহ শোধ কিন্তু দিতে হয় পুরোটাই৷ ফলে ঋণ নেওয়ার কথা ভাবতেই পারে না তারা৷ একদিকে পাওয়ারলুমের দৈত্য, অন্যদিকে মহাজনের পেষণে এদের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা৷

তিন

একই কথা বেনারসের বাজারডিহা অঞ্চলের আহাদ হাজির৷ মদনপুরার জামাল সাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী বাজারডিহা অঞ্চলে গিয়েছিলাম আসল সোনা-রুপোর জরি দিয়ে তৈরি বেনারসির খোঁজে৷ আহাদ ভাইয়ের বয়স প্রায় পঁয়ষট্টির কাছাকাছি৷ তিনি জানান, এই মহাজন ও মহাজনি সোসাইটির জাঁতাকলে পড়ে বেনারসে হাতে-টানা তাঁতকর্মীদের সংখ্যা কমে আসছে৷ অধিকাংশ তাঁতিই চাকরি নিচ্ছে পাওয়ারলুম কারখানায়৷ শুধু মহাজন নয়, বাজারের নকল সিল্ক আসল বেনারসি শিল্পকে প্রায় নষ্ট করে ফেলেছে৷
বেনারসি শাড়ির বৈশিষ্ট্য হল জটিল নকশা, যেমন প্যাঁচানো ফুল ও পাতার কারুকাজ, কলকা, বেল ইত্যাদি৷ এই ধরনের নকশার বিশেষত্ব হল--- নকশার বাইরের দিকে দড়ির কাজের বর্ডার৷ পাতার নকশার ভেতর পাতার শিরা-উপশিরাগুলোকে হুবহু ফুটিয়ে তোলা৷ এই ধরনের কাজের নাম ‘ঝল্লারাত’৷ এ ছাড়াও বেনারসি শাড়ির আরও বৈশিষ্ট্য হল ভারী সোনার কাজ, ঠাস বুনন, ছোটো ছোটো ফুলপাতার ছবি, মেটালিক ভিসুয়াল এফেক্ট, পাল্লু, জাল (নেটের প্যাটার্ন) ও মিনাকারির কাজ৷ অথেন্টিক বেনারসি শাড়ির নকশার ঘোরপ্যাঁচ ও জটিলতার ওপর নির্ভর করে একটি শাড়ি তৈরি করতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে৷ জটিল নকশাবিশিষ্ট সোনা-রুপোর জরির কাজওয়ালা বেনারসি শাড়ি তৈরিতে সময় লাগে পনেরো দিন থেকে এক মাস৷ কখনো কখনো প্রায় ছয় মাসও লেগে যায়৷
কথা হচ্ছিল আহাদ ভাইয়ের তাঁতঘরে বসে৷ ততক্ষণে আহাদ ভাইয়ের সমবয়সি অনেকেই প্রায় চারপাশে ভিড় জমিয়েছেন৷ কথায় কথায় প্রশ্ণ করি--- আগেকার দিনে দেখা যেত বেনারসি শাড়িতে রাধাকৃষ্ণের মিলনদৃশ্য, অথবা নানা ধরনের পশুপাখি, মানুষের ফিগার৷ আপনারা এখন সেসব তৈরি করেন না? উপস্থিত প্রায় সকলেই জিভ বার করে কানে হাত দেন৷ আমাকে অবাক হতে দেখে আহাদ ভাই বলেন, ‘গুস্তাকি মাফ বেটা৷ ইয়ে সব হাম মুসলমানোকে লিয়ে হারাম হ্যায়৷’ তারপর বিড়ি ধরিয়ে বলেন, এইসব ফিগারের কাজ হত অনেক আগে৷ কিন্তু সেসব করত হিন্দু কারিগররা৷ কোরানমতে আমরা পশু-পাখির চেহারা বানাতে পারি না৷ কারণ এইসব চেহারা বানাবার পর তাতে জান আনব কী করে? যার মধ্যে প্রাণ আনতে পারব না, সে জিনিস বানাবার অধিকারও আমার নেই৷
শুনতে শুনতে মনে পড়ে যাচ্ছিল দূর মুবারকপুরের ইশরাত বিবির কথা৷ ভেঙে-পড়া মাটির বাড়ির তাঁতঘরে বসে চল্লিশেই ষাটের চেহারা পেয়ে যাওয়া ইশরাত বলেছিলেন, একমাত্র জোয়ান ছেলে তাঁত চালায়৷ রোজগার বলতে মাসে চার কি পাঁচ হাজার৷ ঘরে তিন সোমত্ত মেয়ে৷ তিনি নিজে অসুস্থ৷ পেটে ভাত নেই৷ স্বামী তাঁত চালাতে চালাতেই মুখে রক্ত উঠে মারা গেছে অনাহারে৷ মাটির দোতলা বাড়ির উপরের অংশ ভেঙে নেমে এসেছে৷ ঘরে দরজা-জানলার পাল্লা নেই৷ দুই মেয়েকে অতি কষ্টে গ্র্যাজুয়েট করিয়েছেন, কিন্তু চাকরি নেই৷ তাঁত চালাতে যে-পরিমাণ শক্তি ও পরিশ্রম লাগে সেই আন্দাজে ছেলের মুখে পুষ্টি তুলে দিতে পারেন না৷ কুড়ি বছরে সরকারি সাহায্য পেয়েছেন মোটে পাঁচ-শো টাকা৷ মুবারকপুরের জোয়ান ছেলেরা একে একে কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছে সৌদি আরবে৷

চার

বেনারসি শাড়ির মূল জমি কাতানের৷ তবে অন্য ক্ষেত্রের মতো এখানেও ভেজাল মিশে গেছে৷ আর সেগুলো এত নিপুণ যে আসলের সঙ্গে ফারাক করা দুষ্কর৷ সিল্ক, তসর, পাটোলা এবং অন্যরকম জমির ওপরও হচ্ছে জমকালো বেনারসি৷ ফুটে উঠছে বুটি, পুতলি, সাইফুন, ইস্কট, ফুলপাত্তি, আড়া ইত্যাদি৷ আগে বেনারস ও মুবারকপুরের শাড়ি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানে রপ্তানি হত৷ এখন সরকার বন্ধ করে দিয়েছে৷ ফলে বাজার মন্দা৷ বছর কয়েক আগেও এমন দশা ছিল না৷ সেইসঙ্গে বিজ্ঞানের উন্নতিও হ্যান্ডলুম বেনারসি শাড়িকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে৷ আগে তাঁতিরা মন থেকে নকশা বানাত৷ এখন কম্পিউটারে ডিজাইন হয়৷ আগে রেশমগুটির সুতো থেকে শাড়ি তৈরি হত৷ এখন নানা ধরনের নকল রেশমের সুতো বাজারে এসেছে৷ এসেছে চাইনিজ সিল্ক, প্লাস্টিক মেশানো সিল্ক৷ তাঁতের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুন প্রযুক্তি৷ হাতে-টানা তাঁতে একটা শাড়ি তৈরি করতে সময় লাগে সাত থেকে আট দিন৷ সেখানে পাওয়ারলুমে তৈরি হয় দিনে প্রায় চার থেকে পাঁচটি শাড়ি৷ ফলে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে হস্তচালিত তাঁতের বাজার৷ পঁচাশি বছরের বৃদ্ধ বেনারসির তাঁতি মুবারকপুরের সাবিবর আহমেদের মুখেই শোনা গেল একটি জাকার্ত (তাঁত) তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় কুড়ি থেকে তিরিশ হাজার টাকা৷ একজন তাঁতি যা মজুরি পায়, তা দিয়ে তার সংসার চালানো ছাড়াও নিজের তাঁতের রক্ষণাবেক্ষণও করতে হয়৷ এর জন্য আলাদা করে মহাজন কোনো টাকা দেয় না৷
এইসব হতদরিদ্র তাঁতিদের বোনা শাড়ি দিয়েই বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনাররা নানা ধরনের পোশাক তৈরি করে দেশে-বিদেশে প্রচুর সম্মান ও টাকা রোজগার করেন৷ র্যাম্পে হাঁটেন দেশের বিখ্যাত সব সুন্দরী মডেলরা৷
যে-শাড়ি উড়িয়ে সুপার মডেলরা র্যাম্প কাঁপায়, সেইসব শাড়ি কোথায় মেলে? হাতে-বোনা রেশমের সুতোর ওপর সোনা-রুপোর জরির কাজ করা বেনারসি খুঁজতে খুঁজতে পাওয়া গেল সেই আলিবাবার গুহা--- তাজ এস্টেট! বেনারসের নামকরা বেনারসি শাড়ির গদি৷ মেঝেতে তোশক, তাকিয়া৷ মালিক কলিম উর রহমান৷ কলিম ভাই হাসলেন--- অথেন্টিক বেনারসি? গত পনেরো-কুড়ি বছর আসলি বেনারসি নিয়ে এত হইচই ছিল না৷ ফেব্রিক আর নতুন ফ্যাশনের কাজে বাজার ছেয়ে গেছিল৷ বছর দুই ধরে ফের বেনারসির দিকে মানুষের মুখ ফিরেছে৷ সবাই এসে খোঁজ করছে অথেন্টিক বেনারসির৷
অথেন্টিক বেনারসি কী? এর বুনন আলাদা৷ আগে বেনারসির জমিনটা হাতে-বোনা হত৷ তার ওপর সোনা-রুপোর জরি দিয়ে হাতেই বোনা হত নকশা, যাতে নষ্ট না হয়৷ সে-শাড়ি তৈরির মজুরিও অনেক বেশি৷ তা ছাড়া তার জরি তৈরি হয় অন্যভাবে৷ রুপোর সরু সুতো তৈরির পর আসল সোনার জলে চুবিয়ে তাতে সোনার জেল্লা আনা হয়৷ এই ধরনের শাড়ি তৈরির কারিগর খুবই কম৷ একটা শাড়ি বুনতেই সময় লাগে প্রায় এক মাস৷ তা ছাড়া তাঁতিদের ধৈর্যও কমে গেছে৷
কলিম মাদ্রাসায় পড়া শেষ করে চোদ্দো বছর বয়সেই তাঁতঘরে ঢুকে পড়েন৷ প্রথমে তাঁর কাজ ছিল তাঁতঘর ঝাঁট দেওয়া,পরিবারের অন্য তাঁতিদের সাহায্য করা, বাড়ির ভেতর মেয়েদের চরকা কাটার জায়গা থেকে নলিতে গোটানো সুতো আনা৷ সুতো আর রং সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয় এভাবেই৷ তারপর তাঁত চালানো দেখতে হত৷ দুপুরে বিশ্রামের সময় কোনো তাঁতি শুয়ে পড়লে লুকিয়ে-চুরিয়ে দু-একবার তাঁতের হাতল টানা৷ ভুল হলেই জুটত চড়চাপাটি৷ আজকাল কাউকে এভাবে শিক্ষা দিলে বাড়ির লোক তেড়ে আসবে৷
এহেন কলিম উর রহমানের কাছে এখন বিভিন্ন ফ্যাশন ডিজাইনাররা আসেন বেনারসি দেখতে, কিনতে৷ হাজার শাড়ির মধ্যে হয়তো বাছাই করে তাঁরা আট-দশটা শাড়ি নিয়ে যান৷ সেই শাড়ি দিয়ে তৈরি হয় নানান ডিজাইনের লেহেঙ্গা, ঘাগরা, সালোয়ার, ধুতি, শেরওয়ানি ইত্যাদি৷ ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় তাঁর একজন নিয়মিত ক্রেতা৷ জানালেন, সব্যসাচীর সবচেয়ে বড়ো গুণ তাঁর চোখ৷ এতটাই নিখুঁত যে কয়েক-শো শাড়ি ঘেঁটে বেছে নেন মোটে আট-দশটা৷ তা ছাড়া কলকাতার অনেক নামিদামি দোকানও তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত শাড়ি নিয়ে যায়৷ তিনি পুরোনো অথেন্টিক বেনারসির কাজ আবার ফিরিয়ে আনতে চান৷ যাতে সেইসব বেনারসি বর্তমান প্রজন্ম পরতে পারে৷ কিন্তু তেমন শাড়ি পাওয়া খুব মুশকিল৷ কারণ এই ধরনের শাড়ি কুড়ি-পঁচিশ বছর ব্যবহারের পর অনেকেই বাড়ির কাজের লোককে দিয়ে দেন অথবা পুড়িয়ে রুপো আর সোনাটুকু বিক্রি করে দেন৷ কাজের লোকেরা সেইসব শাড়ি বেচে দিয়েছে৷ অনেকেই তেমন শাড়ি সংগ্রহ করে রেখেছেন৷ চাইলেও তাঁরা দেখতে দেন না৷ তবে তিনি চেষ্টায় আছেন৷
তবে কি রূপকথার রাজকন্যেদের সেই শাড়ি কোথাও আর নেই? আছে৷ কলিম ভাইয়েরই তাঁতঘরে৷ তাঁর এক কর্মচারী আসল জরির শাড়ি সযত্নে ভাঁজ খুলে খুলে অন্য বেনারসির সঙ্গে পার্থক্য বুঝিয়ে দিলেন৷ দাম? শুরু দেড় লাখ থেকে৷
প্রতিদিন গড়ে প্রায় পনেরো হাজার শাড়ি বেনারস থেকে কলকাতায় যায়৷ বেনারসি শাড়ির বাজার মূলত তামিলনাড়ু, অন্ধ্র, গুজরাতের সুরাট আর বরোদায়৷ তুলনায় চাহিদা কম দিল্লি-মুম্বাইয়ে৷ তাজ এস্টেট থেকে সারা ভারতে, এমনকী বিদেশেও যায় বেনারসি৷
সন্ধ্যে নেমে আসছে৷ আলো জ্বলে ওঠায় আঁকাবাঁকা গলির রহস্যময়তা বাড়ছে৷ দশাশ্বমেধ ঘাটে পৌঁছে দেখি, সন্ধ্যারতি শেষ হব-হব করছে৷ ঘাটে বসে সন্ধ্যারতির শেষটুকু চোখে পড়ছিল৷ গঙ্গাবন্দনা শেষ হতেই মাইকে ভেসে এল--- ‘জো লোগ বাবা বিশওয়ানাথজিকে দর্শনকে লিয়ে আয়ে হ্যাঁয় ঔর বনারসি শাড়ি খরিদনা চাহতে হ্যাঁয় ঔর বানতে দেখনা চাহতে হ্যাঁয়, উহ ঘাটকে পাস হামারে ইস দুকান মে আইয়ে ঔর আপনে আঁখো সে বনারসি শাড়ি তৈয়ার হতে দেখিযেঁ, ঔর খরিদেঁ৷ বাবা বিশওয়ানাথজি কি জয় হো৷’


454 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: i

Re: বেনারসী বিবি

দারুণ লাগল। পরে আরও লিখছি।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: বেনারসী বিবি

বেনারসি শাড়ির আদ্যপান্ত জেনে ভাল লাগলো। বেশ রিপোর্টাজ ধাঁচের লেখা।

*একটি তথ্যঃ ঢাকার মিরপুরে উর্দুভাষী অবাংগালী তাঁতিরা বংশ পরম্পরায় নিপুণ বেনারসি শাড়ি বোনেন। দেশবিভাগের সময় বেনারস থেকে কয়েকঘর তাঁতি এপারে এসে বসত গড়েছিলেন, এঁরা তাদেরই উত্তরসূরি।

মিরপুরের বেনারসি শাড়িরও খুব কদর। বেশ আগে সেখানে গড়ে উঠেছে রীতিমতো "বেনারসি পল্লী।"
Avatar: দ

Re: বেনারসী বিবি

কি দরুণ লেখাটা। বেনারসে এখনও যাওয়া হয় নি, শীগগিরই একবার গিয়ে দেখতে হবে।

পৈঠানীও খানিকটা এরকম। সোনারূপোর সুতো অ্যাফোর্ড করতে না পেরে প্রায় উঠেই গেছিল। সরকারি সাহায্যে আর কিছু মানুষের উৎসাহে আসল পৈঠানী আবার ফিরছে।

Avatar: সুকি

Re: বেনারসী বিবি

চমতকার লেখা
Avatar: pi

Re: বেনারসী বিবি

হ্যাঁ, দারুণ! চেনা শাড়ি, কত অচেনা জীবন।
পুরো অচেনাও বলব না।
কান্জিভরম সিনেমাট মনে পড়ে গেল।
Avatar: hu

Re: বেনারসী বিবি

খুব ভাল লেখা। হ্যান্ডলুম শাড়ির কারিগরদের অবস্থা সত্যিই খারাপ। সরকার যেমন ঋণ দিয়ে, মজুরি বেঁধে দিয়ে সাহায্য করতে পারেন; ক্রেতা ও সমঝদারেরাও চেষ্টা করুন ন্যায্যমূল্যে সরাসরি কারিগরের থেকে শাড়ি কেনার। যাঁদের তাঁতির বাড়ি গিয়ে নেওয়ার সুবিধে আছে তাঁরা সেভাবে নিন। তাছাড়াও gocoop.com নামে একটি ওয়েবসাইট থেকে আমি গত দেড়বছর ধরে শাড়ি নিচ্ছি। এই প্রতিষ্ঠানটি তাঁতিদের কোঅপেরাটিভের সাথে সরাসরি ক্রেতার যোগাযোগ করায়। প্রতিবারেই আমি খুব ভাল মানের শাড়ি পেয়েছি। দামও খুব বেশি নয়। অনেক শাড়ির ক্ষেত্রেই যে কারিগর শাড়িটি বুনেছেন তাঁর নামও জানতে পারি।




Avatar: hu

Re: বেনারসী বিবি

GoCoop সম্পর্কে একটি প্রতিবেদনও দিয়ে যাই
http://www.forbesindia.com/article/social-impact-special/gocoops-busin
ess-model-is-connecting-rural-artisans-to-global-buyers/45413/1

Avatar: pi

Re: বেনারসী বিবি

বাহ, দারুণ তো! এই সাইটে প্রফিট মূলত শিল্পীরাই পেলে এখান থেকেই কেনার চেষ্টা করব, বাকিদেরো বলব। অন্য এত সাইটে, ওই জয়পোর, আজিও, আরো কী কী,হস্তশিল্পীদের কথা তো বলে কিন্তু এত দামের কতটা তাঁ্রা পান, সন্দেহ। আমি নানা রাজ্যের হসশিল্প প্রদর্শনীতে শিল্পীসমবায়ের স্টলগুলো থেকে কেনার চেষ্টা করি, গতবার ত্রিপুরায় আসা মুর্শিদাবাদ রেশম শিল্পী সমবায়ের সংগে কথা হচ্ছিল, এখন সমবায় করে ওঁদের অবস্থা কিছুটা ভাল হয়েছে বলছিলেন। নিজেরাই বোনেন, মেলায় মেলায় বিক্রি করেন বলছিলেন।

বিশ্ববাংলায় এত্ত দাম, শুনি শিল্পীরা তার সিকিভাগও পাননা!!
Avatar: hu

Re: বেনারসী বিবি

জয়পোর সম্পর্কে খুব ভালই জানি ডিজাইনার সিকিভাগও পান না। তারপর তো তিনি তাঁর কারিগরদের মজুরি দেবেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন