সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শিরোনামহীন
    তত্কালে লোকে বিজ্ঞাপন বলিতে বুঝাইতো সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় শ্রেণীবদ্ধ সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন, এক কলাম এক ইঞ্চি, সাদা-কালো খোপে ৫০ শব্দে লিখিত-- পাত্র-পাত্রী, বাড়িভাড়া, ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চলিতেছে (ঢাকাই ছবি), আসিতেছে (ঢাকাই ছবি), থিয়েটার (মঞ্চ ...
  • Take love
    জন্মদিনে সবার আগে যেটা হয় সেটা হচ্ছে টাইমলাইন আর ইনবক্স জুড়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছাগুলোর জবাব দিতে দিতে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। রিপ্লাই দিতে দিতে একপর্যায়ে নিজেকে মানসিক রোগী মনে হতে থাকে।যাইহোক,সবাই ভালোবেসে শুভেচ্ছা জানায় জবাব না দেয়াটাও বেয়াদবি ভেবে ...
  • রাতের ঢাকা শহর
    ঢাকা শহরের নানা সমস্যা। দুই একদিন আগে দেখলাম সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিয়ায় ওপরের দিকে নাম ঢাকা শহরের। যারা ঢাকা শহরে থাকে বা থেকেছে তারা জানে নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা আষ্টেপিষ্টে জরিয়ে আছে। বাতাস শুধু দূষিত না এ শহরের, আরও কত কী যে দূষিত তার কোন হিসেব নেই। ...
  • মাইনাস তিন ডিগ্রি
    মাইনাস তিন ডিগ্রি ▶️প্রতি সন্ধ্যায় শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে মাত্র কয়েক ফার্লং দূরে যশোর রোডের ডানদিকে দেড়তলা বাড়িটা অন্ধকারেই থাকে। রাত ন'টা নাগাদ পুট করে গেটের আলোটা জ্বলে ওঠে। কোলাপসিবল গেটে চাবি তালার খুট খুট ধাতব শব্দ। সিঁড়ির আলো জ্বলে। ডাইনিং ...
  • যে হাতে জ্বলেছিল আলোর শিখা - ডঃ বিভা চৌধুরী
    বিভা চৌধুরীকে নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক দিনের। আগ্রহের সুচনা কেন্দ্র অবশ্যই তাঁর বিজ্ঞানচর্চা । বৈজ্ঞানিককে তার বিজ্ঞান ছাড়া ধরা যায় না। তবে তিনি যখন বিজ্ঞান সাধনায় নামেন , তখন সে জগত এক অবিচ্ছিন্ন জ্ঞানের জগত, আমার বিজ্ঞানের যে সীমিত জ্ঞান তাই দিয়ে তাঁকে আবছা ...
  • পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র
    পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র সৌরভ মিত্র ধরা যাক, অতি খাজা একখানা প্রবন্ধ পড়তে পড়তে মুখ থেকে অজান্তেই একটি শব্দ বেরিয়ে এল, -‘জঘন্য’। বেজায় সমস্যা এই তৎসম শব্দটিকে নিয়ে। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কিনা ‘জঘনভব’ বা ‘জঘনতুল্য’ [জঘন + য (যৎ)]। কিন্তু, সেই ...
  • শুভায়ু শুক্রবার
    প্রতিভা সরকারদিল্লীর রাজপথে শিরদাঁড়া সোজা করে বসে আছে একদল বাচ্চা ছেলেমেয়ে। স্কুলে না গিয়ে তারা এইখানে। হাতে প্ল্যাকার্ড "স্কুলে যাইনি, বড়দের শেখাব বলে"। ব্যাঙালুরুতে কিশোররা গম্ভীর মুখ। হাতে লেখা "পিতৃতন্ত্র নয়, প্ল্যানেট বাঁচাও"। বার্লিনে বাচ্চারা ...
  • নারীদের শ্রম-জীবন
    লোপামুদ্রা সরকারভদ্রলোক ব্যস্ত মানুষ। উচ্চপদস্থ। তাঁকে প্ল্যান্টে নিয়ে যেতে কোয়ার্টারের সামনে গাড়ি আসে। তিনি সকালে উঠে, চা খেয়ে, কিঞ্চিৎ স্বাস্থ্যচর্চা করে, ব্রেকফাস্ট সেরে, পোশাক পরিচ্ছদ পরে তৈরি হয়ে প্ল্যান্টের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন। এই সময় তাঁর হাতে ...
  • মেয়েবেলা
    ইন্দ-রানীএকটি অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে কঠোর পুরুষতান্ত্রিক পরিকাঠামোয়, হাজার নিয়ম ও বাধা নিষেধের বেড়ার ভেতর যেমন মেয়েবেলা কাটতে পারে, তেমনি ছিল মেয়েটির ছোটবেলা। মেয়েবেলার কথা ভাবতে বসলে সত্যি বলতে তেমন আনন্দের কোন উপাখ্যান অথবা সুখস্মৃতি তার মনে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৯)
    কাং ইয়াৎজে বেসক্যাম্প (০৯.০৯.২০১৮) ____________________...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পাতিহাঁস

অভিষেক ভট্টাচার্য্য

ছোটবেলা থেকেই ইতিহাসে আমার হেবি ভয় ছিল, চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশীর নাম শুনে ভাবতাম সিওর হয় ওর চুল ধরে কেউ টানত, নয় ও কারুর চুল ধরে টানত, তাই ঐরকম নাম। তার ওপরে বুদ্ধদেবের বংশপরিচয় আর সুকুমার রায় মাথায় মিলেমিশে এরকম একটা ছড়া হয়ে গেছিল -

শাক্যরাজা শুদ্ধোদন
সাতসকালে দিতেন ডন,
শ্যাম লাহিড়ী বনগ্রামের
কী যেন হয় গঙ্গারামের…

ইত্যাদি।

এর ওপরে আবার যখন জানলাম আমাদের ছবি বিশ্বাসের পূর্বপুরুষ ছিল গৌড়রাজ শশাঙ্ক, তখন পুরোই ঘেঁটে গেলাম। মানে 'সুদখোরের টাকায় আমার একমাত্র ছেলের উপনয়ন হতে পারে না তারাপ্রসন্ন'-র দাদুর দাদুর দাদুর দাদুর…দাদুর দাদু ছিল প্রভাকরবর্ধনের ছেলে রাজ্যবর্ধনকে হত্যা করা শশাঙ্ক! হোলি ফাদার! কী ভয়, কী ভয়! তার ওপরে আবার ইউরোপের ইতিহাসও পড়তে হত! শালা, ওখানকার রাজাগুলোর নামও জুটত না ছাই, সেই কোন আদ্যিবুড়োর বদ্যিকালে (কেউ ভুল ধরবে না - ইচ্ছে করে লিখেছি) হেনরি, চার্লস এইরকম গুটিকতক নাম শালারা আবিষ্কার করেছিল, তারই সামনে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় গুঁজে গুঁজে শালারা বংশকে বংশ কাটিয়ে গেছে! কোনও কোনও শালা এতই ঢ্যামনা ছিল যে ষোড়শ, সপ্তদশ অবধি উঠেছিল! কোনও মানে হয়? আমাদের নাম যদি চতুর্থ অনিরুদ্ধ কি সপ্তম প্রিয়াঙ্কা হত তা'লে কেমন লাগত?? তার ওপরে আরেক পাবলিক হচ্ছে রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়। দিব্যি সব ঠিক চলছিল, দুম করে হরপ্পা-মহেঞ্জোদাড়ো আবিষ্কার করবার কী ছিল? একে বলে চুলকুনি ওঠা! পোড়ামাটির গয়না, পুঁতির হার, জলনিকাশী ব্যবস্থা হ্যানোত্যানো! যত্তসব! এই অবধি তবু একরকম চলেছিল, কলেজে উঠে আবার শুনলাম কার্ল মার্ক্স নাকি বলেছে ইতিহাস-ফিতিহাস এতকাল যা পড়েছি সব মিথ্যে, ওগুলোকে সব গঙ্গার জলে বিসর্জন দিতে। সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে মানুষের আসল ইতিহাস হল নাকি শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস। মানে 'শ্রেণিতত্ত্ব ও পুঁজিবাদ' না ঐরকম কী একটা নামের একটা পাতলা চটি বই কোত্থেকে তুলে এনেছিলাম যেন৷ পড়ে আরও ঘেঁটে গেলাম। দেখলাম লেনিন হাত তুলে চীৎকার করছে। আর বলছে "…একটি মিথ্যা বারবার বলা হলে তা সত্যে পরিণত হয়।" শুনে ভাবতে লাগলাম আমি ছোটবেলা থেকে কী কী মিথ্যে বারবার বলেছি আর তা সত্যে পরিণত হয়েছে কি না। সে কী ভয়, কী ভয়! তারপর পড়লাম রেনেসাঁস ও প্রাচীন গ্রীক সমাজ। দেখি সক্রেটিস খালি গায়ে একটা লুঙ্গি টাইপের কী একটা পরে শুয়ে শুয়ে একটা পেয়ালা থেকে বিষ খাচ্ছে আর প্লেটো তার পায়ের কাছে বসে আছে। সক্রেটিসের সে কী বডি মাইরি! পুরো সিক্স-প্যাক অ্যাবস! যাই হোক, কলেজটা এর'ম করে করেই কেটে গেল। অনেক কিছু জানলাম-টানলাম। যেমন, দ্বারকানাথ ঠাকুর হেবি মদ খেত আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাদম্বরীকে ঝাড়ি মারত। পড়ে পড়ে যখন সব জেনে গেছি ভাবছি, তখনই হঠাৎ সেদিন দুম করে দেখি রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় শেক্সপিয়ারকে পাকড়েছে। বলছে সত্যি কথা বলো। আরও বলছে খুনের দায়ে অভিযুক্ত মহাকবি। পাশে একটা সেক্সি মেয়ে আর একটা বালিঘড়ি। দেখেই এমন ঘাবড়ে গেলাম যে ফেসবুক বন্ধ করে দিলাম। কী ভয়, কী ভয়!

201 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: পাতিহাঁস

আঁ!! 😝😝😝


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন