সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দুই বাংলায় এক সাথে নববর্ষ পালন করা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া :
    গত ১৪ এপ্রিল তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুক পেজে নববর্ষ পালন নিয়ে একটা পোস্ট লিখেছেন। উনার দেশের বাইরে থাকা নিয়ে আহাজারি আছে, থাকাটা খুব স্বাভাবিক। দেশে আসতে না পারার তীব্র বেদনা অনুভব করা যায় উনার প্রায় লেখাই। উনার এই কষ্ট নিয়ে কিছু বলার নাই। আশাবাদ করতে পারি ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৫
    বিংশ শতকের শুরুতে সম্ভ্রান্ত বাঙালির অন্দরমহলে আরো অনেক কিছুর সঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে কেন্দ্র করে একটা অন্য ধরনের সামাজিক মন্থনও শুরু হয়েছিলো । অমলা দাশ ছিলেন বিখ্যাত দুর্গামোহন দাশের ভাই ভুবনমোহন দাশের কন্যা ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের ভগ্নী। এছাড়া তিনি ...
  • নোতরদাম ক্যাথিড্রালে অগ্নিকাণ্ড, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি, এর স্থাপত্য ও সংস্কারের কিছু ইতিহাস এবং একটি দার্শনিক প্রশ্ন
    https://cdn.iflscien...
  • ফেক আইডি
    ‍ছয়মাস ফেসবুকে প্রেম করার পর আজ প্রথম দেখা করতে এসেছি। রেস্টুরেন্টে বসে বসে পানি খাচ্ছি আর পাশের মেয়েটার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছি। আমার মতো সেও কারোর জন্য অপেক্ষা করছে। আমার নীল ড্রেস পরে আসার কথা ছিল। আমি একটা নীল রঙের কামিজ পরে এসেছি। ছেলেটার সাদা শার্ট ...
  • মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু
    মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্ত্তী সারা জীবনভর একদণ্ড সুস্থির ছিল না - কেবলই খুরপি কিনিতেছে! তাহার বদ্ধমূল বিশ্বাস ছিল তাহার পিতামহ, প্রপিতামহ, তস্য পিতা, তস্য পিতা, তস্য পিতা কেহ না কেহ তাহার ভিটামাটির কোন এক স্থানে বহু-বহু বৎসর পূর্বে অনেকটা গুপ্তধন পুঁতিয়া রাখিয়া ...
  • ছাতুমাখা, সাদা টেপজামা আর একলা বৈশাখ
    চৈত্র সংক্রান্তি মানেই যেমন ছাতুমাখা ছিল, তেমনি পয়লা বৈশাখ মানেই ছিল সাদা নতুন টেপজামা, সুতো দিয়ে পাখি, ফুল, দুই একটা পাতা বা ঘাস সেলাই করা। চড়কতলায় মেলা বসত চৈত্র সংক্রান্তির দিন থেকে, কিন্তু একে তো সে বাড়ী থেকে অনেক দূর, চৈত্র বৈশাখের গরমে অতদূরে কে ...
  • নববর্ষের এলোমেলো লেখা আর আগরতলার গল্প
    খুব গরম। দুপুরের ঘুম ডাকাতে নিয়ে গেছে। মনে পড়লো গতকাল অর্থাত্ হারবিষুর দিনে তেতো খাওয়া। আগের দিন বিকেলে আমার বিশালাক্ষী, চোপায় খোপায় সমান ঠাকুরমা আমাকে ভীষ্ম আর হারুকে নিয়ে সরজমিন তদন্তে নেমেছেন,--- গাঙ্গের তলে (চৈত্রের গরমে জল নেমে যাওয়া নদীর ...
  • পয়লা বৈশাখ : একটি অনার্য অডিসি
    প্রশ্নটা উঠতে দেখেছিলুম যখন বাংলা ১৪০০ সন এসে দুয়ারে কড়া নাড়ছিল। সিকি শতাব্দী আগে। তখন আমরা মত্ত ছিলুম কুসুমচয়নে। নব নব অনুষ্ঠান চারিদিকে। সঙ্গীত-সাহিত্য-ইতিহা...
  • শঙ্খ নদী: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা...
    এক.পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণা ধারায় নয়নাভিরাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ৫,০৯৩ বর্গমাইল। বাংলাদেশের এক কোনে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান– এই তিন জেলা নিয়ে গড়ে ওঠা পার্বত্যঞ্চালে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় ১৫ লাখ লোক বাস ...
  • করবেটের ইন্ডিয়া
    ছেলেবেলার কোন ইচ্ছে বড়বেলায় পূর্ণ হলে অনেক সময়েই তার স্বাদ খুব মুখরোচক হয়না। ছেলেবেলা থেকে ক্যাভিয়ারের নাম শুনে বড়বেলায় বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ে যখন খেতে পেলাম, তখন মনে হল, "এ বাবা, এই ক্যাভিয়ার!" সবারই বোধহয় এরকম কোন-না-কোন অভিজ্ঞতা আছে। আকাঙ্খা আর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

প্রাগৈতিহাসিক কাঁকড়া ও স্টিফেন স্পিলবার্গ

অভিষেক ভট্টাচার্য্য

ভোরবেলা সমুদ্রের ধারে বেড়াতে বেরিয়ে প্রদীপ্ত একটা বিশাল কাঁকড়া দেখেছে। একথা শুভম, অঙ্কিতা, সহেলিরা কেউই বিশ্বাস করতে চাইছে না। বিশাল মানে বিশাল। সেই অতিকায়, রাক্ষুসে কাঁকড়ার এক দাঁড়া থেকে আরেক দাঁড়ার বিস্তার প্রায় মাইলখানেক। মানে সেই গোটা কাঁকড়াটা প্রায় কয়েক কিলোমিটার লম্বা ও চওড়া। এত বড় কাঁকড়া হয় নাকি? প্রদীপ্ত বলছে হয়। কারণ সে নিজের চোখে দেখেছে। ভোরবেলা সে সমুদ্রের ধারে সূর্য ওঠা দেখতে গেছিল। তখনই সেই মহাজাগতিক কাঁকড়া মাইলখানেক দূরে সমুদ্রের মাঝখানে ভুউউস করে ভেসে ওঠে। সেই বিরাআআআট কাঁকড়ার দাঁড়াদু'টো দু'দিকে সমুদ্রের জল ছাড়িয়ে ওপরে কয়েকশো মিটার পর্যন্ত উঠেছিল। তখনই প্রদীপ্ত দেখেছিল এক দাঁড়া থেকে আরেক দাঁড়ার বিস্তার প্রায় মাইলখানেক। সেই বিশাল কাঁকড়াকে আর কেউ দেখেনি, কারণ সেই সময়ে সমুদ্রতটে আর কেউ ছিল না। শুধু নুলিয়াদের কালো কালো নৌকোগুলো সার বেঁধে রাখা ছিল। প্রদীপ্ত বলছে ঐ মহাকাঁকড়া কয়েক সেকেন্ড ভেসে থেকেই আবার সমুদ্রে ডুবে যায়। মনে হয় মহাসাগরের কোনও মহীসোপানের অতল খাত থেকে সে উঠে এসেছে। সমুদ্রের তলায় এখনও এমন অনেক জায়গা আছে যা মানুষের অজানা। ভোরবেলা সে মাইলখানেক দূর থেকে জমজমাট দীঘা শহরকে দেখে নিয়েছে। রাতে আঘাত হানবে৷ একথা শুনে শুভম, অঙ্কিতা, সহেলিরা হাসছে। বলছে প্রদীপ্ত কাল রাতে ফুলকপি ভাজা দিয়ে মালটা বেশি খেয়ে ফেলেছে। অঙ্কিতা হাসতে হাসতে বলেছে 'আমার বরটা পাগল হয়ে গেছে রে! টোটাল ম্যাড!' এই শুনে প্রদীপ্ত রেগে গেছে। বলেছে 'ফাজলামি মেরো না।' এইরকম সব হয়েছে।

এখন দুপুর। কাকার হোটেলে সকলে খাচ্ছিল। প্রদীপ্ত তিনবার ঝুরো-ঝুরো আলুভাজা চেয়ে নিয়ে খেয়েছে এবং থালায় আঙুল দিয়ে আঁকিবুঁকি কেটেছে। ভোরবেলা সেই মহাকাঁকড়া দেখার পর সকালে সে আর কিছু খায়নি। এমনকি বাকিরা যখন রাস্তার ও-ফুটে টুকটাক কেনাকাটা করছিল তখনও সে সঙ্গে যায়নি। সে মনে মনে বুঝতে পারছিল সন্ধ্যেবেলা যখন সী-বিচে পরের পর ডুম আর হ্যাজাক জ্বালিয়ে দোকানগুলো বসে যাবে, চারদিকে থিকথিক করবে ভিড়, তখনই সেই কালরূপী কাঁকড়া জল থেকে উঠে আসবে। প্রথমে একটা সুনামি হবে। মানে অত বড় জিনিসটা জলের তলা দিয়ে দীঘা শহরের দিকে এগিয়ে আসবে বলে। তারপরে কাঁকড়াটা জল থেকে উঠে আসবে। তার বিশাল বিশাল পা তার বডিটাকে মাটি থেকে কয়েকশো ফুট ওপরে তুলে রাখবে…তার বিরাট দাঁড়াগুলো আকাশে গিয়ে মেঘেদের গায়ে ঠেকে যাবে…

খেয়েদেয়েই প্রদীপ্ত হোটেলে দৌড়ল ভাতঘুম দেবে বলে। কাঁকড়া আসছে। শুভম, অঙ্কিতা, সহেলিরা গেল না। অঙ্কিতা খানিক রাগারাগি করে শুভমদের সঙ্গে ঝিনুকের তৈরি দরজায় ঝোলানোর পর্দা কিনতে গেল। কাঁকড়া আসছে। প্রদীপ্ত কম্বলমুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল। বিকেলে সবাই মিলে শঙ্করপুর যাবে বলেছে।

প্রদীপ্ত শুয়ে শুয়ে দেখল কাঁকড়াটা সমুদ্রের তলায় ডুবে-থাকা টাইটানিকটা নিয়ে লোফালুফি খেলছে। ঘুম এল না। কেমন যেন হাত-পা ম্যাজম্যাজ করছে। ঘন ঘন হাই উঠছে। প্রদীপ্ত ভাবল চা খাবে। জানলা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখল কাঁকড়াটা আসছে কি না। সী-বিচে বারমুডা পরে লোকজন ঘোরাঘুরি করছে। কেউ কেউ চটি খুলে জলে পা ভেজাতে ভেজাতে হাঁটছে। সোয়া চারটে নাগাদ অঙ্কিতারা ফিরে এল। শুভমরা ওদের ঘরে চলে গেল একটু রেস্ট করতে। অঙ্কিতা কাগজে মোড়া ঝিনুকের পেনস্ট্যান্ডগুলো খুলে দেখাল। এগুলো তিরিশ করে নিয়েছে। পর্দাও দেখাল। এটা দু'শো। প্রদীপ্ত কম্বলের তলা থেকে মুন্ডু বের করে করে দেখল। তারপর একটা হাই তুলল।

ছ'টা নাগাদ সবাই শঙ্করপুর বিচে। শুভমরা বিয়ার দিয়ে কাঁকড়া খেতে বসে গেছে। আর প্রদীপ্তকে তুলে তুলে দেখাচ্ছে। বলছে 'এই দ্যাখ তোর কাঁকড়া…খাচ্ছি!' অঙ্কিতাও ওদের সঙ্গে বসেছে। অঙ্কিতা খুব রেগে গেছে। বিশেষ কথা বলছে না। শুভমদের ফাজলামিতে জোর করে কৃত্রিম হাসি হাসছে। আড়চোখে প্রদীপ্তকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। প্রদীপ্ত খালি পায়ে জলের ধারে গিয়ে দীঘার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকার হয়ে এসেছে। এখান থেকেও দীঘার বিচের আলোগুলো দেখা যাচ্ছে। কাঁকড়াটাকেও দেখা যাবে। ঢেউ যখন আসছে পায়ের পাতা জলে ডুবে ডুবে যাচ্ছে। ঢেউ ফিরে যাবার সময়ে গোড়ালির তলা থেকে ভেজা বালি সিরসির করে সরে যাচ্ছে। আচমকা শেকড়বাকড়ের মত কী একটা জিনিস এসে পায়ে ছোঁয়া লাগতেই প্রদীপ্ত চমকে উঠে পা ঝাড়তে গেছিল। তারপরেই কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীঘার সমুদ্রতটের মাটি ফাঁক হয়ে গেছিল। সেই মহাকাঁকড়ার একটা দাঁড়া বালির তলা থেকে উঠে এসে পায়ে ঠেকেছিল। আর ওদিকে এক মাইল দূরে সমুদ্রের ওপরে ভেসে উঠেছিল আর একটা দাঁড়া। সে কি বিশাল প্রাগৈতিহাসিক মহাকাঁকড়া! পৌরাণিক যুগে এমন ছিল। একথা মুনিঋষিরা জানতেন।

প্রদীপ্ত চীৎকার করছে, আর সবাই চীৎকার করছে, এমন সময়ে বালির ওপর দিয়ে মেগাফোন হাতে স্টিফেন স্পিলবার্গ দৌড়ে এসেছিলেন। বলেছিলেন, 'কাট! কাট! হচ্ছে না প্রদীপ্ত, হচ্ছে না! আরও ভয় পেতে হবে। মুখে আরও এক্সপ্রেশন আনতে হবে। যাও, আবার থেকে শুরু করো!'

প্রদীপ্ত বলেছিল, 'যাব স্যার?'

- আলবাৎ যাবে। ব্লকবাস্টার বলে কথা! এমনিতেই এমন বাজে শুটিং আমি করি না। আমার ধাত তো জানো প্রদীপ্ত।

স্টিফেন স্পিলবার্গ এসব বলছেন, এমন সময়ে সেই বিশাল মহাকাঁকড়াটা স্টিফেন স্পিলবার্গকে খেয়ে ফেলেছিল। প্রদীপ্তকে খেয়ে ফেলেছিল। আর সবাইকে খেয়ে ফেলেছিল। তারপরে তাই ব্লকবাস্টার শেষ হয়ে গেল।

458 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: রিভু

Re: প্রাগৈতিহাসিক কাঁকড়া ও স্টিফেন স্পিলবার্গ

এটা পড়ে ভালোই ট্যান খেলাম। কাঁকড়া বলতে কি লেখক গণ অভ্যুত্থান বোঝাচ্ছেন আর স্পিলবার্গ কঞ্জিউমারিজমের দ্যোতক? অথবা এসব কিছুই নয় পুরোটাই ফক্কা? কেউ একটু মানে বই লিখে দিলে ভালো হয় ।
Avatar: $

Re: প্রাগৈতিহাসিক কাঁকড়া ও স্টিফেন স্পিলবার্গ

এগ্রোলাম, মানে বই চাই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন