সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সাধু কালাচাঁদ, ট‍্যাঁপা-মদনা, পটলা ও রুনু
    'ভালো লাগছে না রে তোপসে' বা 'ডিলাগ্রান্ডি' বললে বাঙালি মননে এক ধরনের রিফ্লেক্স অ্যাকশন কাজ করে যেন। ফেলুদা/তোপসে, টেনিদা, ঘনাদা ইত্যাকার নামগুলি বাঙালির আড্ডার স্বাভাবিক উপাদান। এই অনুষঙ্গগুলি দিয়ে বাঙালি তার হিউমারের অভ্যাস ঝালিয়ে নেয়, কিছুটা আক্রান্ত হয় ...
  • যম-দুয়ারে পড়ল কাঁটা
    অন্য লোকের স্বপ্নে আসে ভগবান, সিনেমা স্টার, ছেলেবেলার বন্ধু নিদেন ইশকুল-কলেজের কড়া মাস্টারমশাই। কবি হলে প্রেমিকা-টেমিকা, একেবারে কবিতাশুদ্ধু। " বাসস্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ ..." ইত্যাদি। আর আমার স্বপ্নে আসেন যমরাজ। যমরাজ মানে ...
  • আমার বাড়ির বিজয় দিবস...
    মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি প্রভাব আমার পরিবারের ওপরে পড়েনি। বলা যেতে পারে আশপাশ দিয়ে চলে গেছে বিপদ আপদ। কিন্তু আশপাশ দিয়ে যেতে যেতেও একদিন যমদূতের মত বাড়িতে হাজির হয়েছিল পাকিস্তানী সৈন্যরা। আমার বাবা ছিল তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিমান সেনা। যুদ্ধের সময় ...
  • রান্নাঘর ও রাজ্যপাট
    কিছুদিন যাবৎ চেষ্টা করছিলাম লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবন্টনের চিত্রটা বুঝতে।যত পুরোনো হচ্ছি কাজের বাজারে তত দেখছি ওপরের দিকে মহিলাদের সংখ্যা কমতে থাকছে। কর্পোরেট সেক্টরে প্রায়শই সংখ্যা দিয়ে দেখানো হয় অনেক মেয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও মাঝপথে ছেড়ে যাচ্ছেন বা কোনো রকমে ...
  • শকওয়েভ
    “এই কি তবে মানুষ? দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর ফিসফাস করে ওঠে যেন -আমাকে দয়া করে সাহায্য কর! এই, এই তো এক মানুষ এই ...
  • ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা
    নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত ...
  • একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প
    পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । ...
  • বসন্তকাল
    (ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন) 'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love' একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,ঢাকলো আকাশ,সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।রঙ ...
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)
    (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)----------১৯৪...
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
    ১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সাধু কালাচাঁদ, ট‍্যাঁপা-মদনা, পটলা ও রুনু

কুশান গুপ্ত

'ভালো লাগছে না রে তোপসে' বা 'ডিলাগ্রান্ডি' বললে বাঙালি মননে এক ধরনের রিফ্লেক্স অ্যাকশন কাজ করে যেন। ফেলুদা/তোপসে, টেনিদা, ঘনাদা ইত্যাকার নামগুলি বাঙালির আড্ডার স্বাভাবিক উপাদান। এই অনুষঙ্গগুলি দিয়ে বাঙালি তার হিউমারের অভ্যাস ঝালিয়ে নেয়, কিছুটা আক্রান্ত হয় নস্টালজিয়াতেও।

তবে, এইসবের মধ্যে বাল্যবেলায় পড়া কিছু কিশোরচরিত্ররা হারিয়ে গেছে, কিছুটা উপেক্ষিতই যেন তারা। ক'জন আর নগণ্য সাধু কালাচাঁদকে মনে রেখেছে? ট্যাঁপা-মদনা বললে আমরা ক'জনই বা সহসা আবার ক্লাস ফোরের পূজাপ্রাক্কালে চলে যাই? এইসব চরি

আরও পড়ুন...

যম-দুয়ারে পড়ল কাঁটা

ন্যাড়া

অন্য লোকের স্বপ্নে আসে ভগবান, সিনেমা স্টার, ছেলেবেলার বন্ধু নিদেন ইশকুল-কলেজের কড়া মাস্টারমশাই। কবি হলে প্রেমিকা-টেমিকা, একেবারে কবিতাশুদ্ধু। " বাসস্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ ..." ইত্যাদি। আর আমার স্বপ্নে আসেন যমরাজ। যমরাজ মানে শমন, কৃতান্ত। ভাল্লাগে না মাইরি।

আর আসবেন তো আসুন, মোষের পিঠে চেপে স্টেজ লেফট দিয়ে ঢুকে ভয়-টয় দেখিয়ে স্টেজ রাইট দিয়ে বেরিয়ে গেলেন - সে একরকম। কিংবা যাত্রাদলের যমরাজের মতন বালা-হাতে আখাম্বা হাত কোমরে দিয়ে চোখ পাকিয়ে বুহাহাহা করে অট্টহাস

আরও পড়ুন...

আমার বাড়ির বিজয় দিবস...

Muhammad Sadequzzaman Sharif

মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি প্রভাব আমার পরিবারের ওপরে পড়েনি। বলা যেতে পারে আশপাশ দিয়ে চলে গেছে বিপদ আপদ। কিন্তু আশপাশ দিয়ে যেতে যেতেও একদিন যমদূতের মত বাড়িতে হাজির হয়েছিল পাকিস্তানী সৈন্যরা। আমার বাবা ছিল তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিমান সেনা। যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন। উনার পুরো ইউনিফর্ম পরা অবস্থার একটা ছবি বাড়িতে লাগানো ছিল। ওই এক ছবিই বাঁচিয়ে দেয় আমাদের পুরো পরিবার কে। পাকিরা এসেই ছবি দেখে, ছবিকেই একটা স্যালুট করে চলে যায়। সম্ভবত খুব বড় কোন অফিসার ছিল না তাদের সাথে, থাকলে এমন হয়ত

আরও পড়ুন...

রান্নাঘর ও রাজ্যপাট

Durba Mukherjee

কিছুদিন যাবৎ চেষ্টা করছিলাম লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবন্টনের চিত্রটা বুঝতে।

যত পুরোনো হচ্ছি কাজের বাজারে তত দেখছি ওপরের দিকে মহিলাদের সংখ্যা কমতে থাকছে। কর্পোরেট সেক্টরে প্রায়শই সংখ্যা দিয়ে দেখানো হয় অনেক মেয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও মাঝপথে ছেড়ে যাচ্ছেন বা কোনো রকমে চাকরি বজায় রাখতে পারলেই সন্তুষ্ট থাকছেন। নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন না বা বাড়তি দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। ফলে কর্মক্ষেত্রে তারা পিছিয়েই থাকছেন।

এদিকে মহিলারা কর্মক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। গত কয়েক বছরে যৌন হেনস্থা

আরও পড়ুন...

শকওয়েভ

সুকান্ত ঘোষ


“এই কি তবে মানুষ?
দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে
সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন
গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল
ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের
ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর
ফিসফাস করে ওঠে যেন -
আমাকে দয়া করে সাহায্য কর!
এই, এই তো এক মানুষ
এই তো এক মানুষের মুখ!”

হিরোশিমা বিস্ফোরণের থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তামিকি হারা, তখন তাঁর প্রায় চল্লিশ বছর বয়স। তামিকি কি ভাগ্যবান ছিলেন নিজের কাছে বা আমাদের মতে? জানি না – তবে এটা জানি ভা

আরও পড়ুন...

ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা

ফেকু পাঁড়ে

নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত রকমের কাজ যে তদারকি করতে হয় – কী আর বলি। তার মধ্যে আবার নির্বাচন – সে তো খুবই দুঃখজনক – আপনারা তো ভালই জানেন যে হিন্দু হিন্দুর ভালো চায় না – সবাই শুধু নিজের স্বার্থ দেখে। এই আমি এত সার্জিকাল পকেট – ইয়ে মানে স্ট্রাইক কল্লাম, আচ্ছে দিন এনে দিলাম, ঘ

আরও পড়ুন...

একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প

Samrat Amin


পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । কিন্তু পুরুষতন্ত্র একটা সিষ্টেম যা আদ্যিকাল ধরে চলে আসছে । নারীদের মতো পুরুষরাও এই সিষ্টেমের শিকার । পার্থক্যটা হল নারীরা পুরুষতন্ত্রের শিকার এটা সমাজসিদ্ধ, কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে নয় । নারীর লড়াইটা গোষ্ঠীর, পুরুষের লড়াইটা একার । বিংশ শতকের

আরও পড়ুন...

বসন্তকাল

কুশান গুপ্ত

(ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন)

'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love'

একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:
তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,
ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,
ঢাকলো আকাশ,
সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।
রঙ হারালো সবক'টি ঘাস।

সেই থেকে কেউ আর আসে না তার বাগানে।
সেই শিশুরা কোথায় গেলো কেউ কি জানে?
শীত চ'লে যায়, লাগল আগুন সব বনে তাই;
পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়ার পাতায় পাতায়।
কিন্তু দানোর সেই

আরও পড়ুন...

ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)

I

(সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)
----------

১৯৪৩-এর মে মাস নাগাদ রংপুর, ময়মনসিংহ, বাখরগঞ্জ, চিটাগং, নোয়াখালি থেকে অনাহারে মৃত্যুর খবর আসতে থাকল। 'বিপ্লবী' পত্রিকার ২৩ শে মে সংখ্যায় মেদিনীপুরে ৫টি অনাহারে মৃত্যু আর ৮টি ধান লুঠের খবর বের হল।জানানো হল-প্রতিদিন ছ' থেকে সাতশো মানুষ তমলুক থেকে রেলে চাপছে ওড়িশায় গিয়ে সস্তায় চাল কিনবে বলে। বহু মানুষ তাদের ঘটিবাটি বেচে দিয়ে কলকাতার দিকে রওনা হয়ে যাচ্ছে-স্রেফ দুমুঠো খেতে পাবে এই আশায়। পাবনা থেকে খবর এল জে

আরও পড়ুন...

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

Muhammad Sadequzzaman Sharif

১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে দিয়েছে তার খবর নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সার কে দিয়েছিলেন। শহিদুল্লাহ কায়সার বন্ধুর পরামর্শ অগ্রাহ্য করেনি। তিনি সেই দিনই সরে যাবেন ঠিক করলেন। কিন্তু নিয়তি বলে একটা ব্যাপার আছে। ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় মা স্ত্রীর কান্না ভেজা মুখ দেখে কিছুদূর গিয়েও

আরও পড়ুন...

কালচক্রের ছবি

সৈকত ভট্টাচার্য

বৃষ্টিটা নামছি নামছি করছিল অনেকক্ষন ধরে। শেষমেশ নেমেই পড়ল ঝাঁপিয়ে। ক্লাশের শেষ ঘন্টা। পি এল টি ওয়ানের বিশালাকৃতির জানলার বাইরে ধোঁয়াটে সব কিছু। মেন বিল্ডিং এর মাথার ওপরের ঘড়িটা আবছা হয়ে গেছে। সব্যসাচী কনুই দিয়ে ঠেলা মারল। মুখে উদবেগ। আমারও যে চিন্তা হচ্ছিল না, তা নয়। না না, বাড়ি যাওয়ার জন্য মোটেই চিন্তিত আমরা কেউ নই। চিন্তা এই বৃষ্টিতে সিনেমা হবে তো? কলেজের ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল চলছে। ছাত্র-সংসদ থেকে প্রতিবার হয় যেমন। এবারও নানা দেশ-বিদেশী ছবির মধ্যে চোখ আটকে গেছিল একটা নামে – ‘কিম-কি-দুক’।
ভদ্

আরও পড়ুন...

এয়ারপোর্টে

সুকান্ত ঘোষ


১।

আর একটু পর উড়ে যাব
ভয় করে
কথা ছিল কফি খাব
ফেরার গল্প নিয়ে
কত সহজেই না-ফিরে
ফুল হয়ে থাকা যায়
যারা ফেরে নি উড়ার শেষে
তাদের পাশ দিয়ে যাই
ভয় আসে
কথা আছে কফি নেব
দুজন টেবিলে
ফেরার পর

২।

সময় কাটানো যায়
শুধু তাকিয়ে থেকে
তোমার না বলা কথা
ওরা বলে দেয়
তোমার না ছুঁতে পারা
ওরা ছুঁয়ে দেয়
তোমারই রোমাঞ্চ
ওরা ভোগ করে
এভাবেই সময় কাটানো ভালো
দু-চার ঘন্টা
যতক্ষণ ডাক না আসে

৩।
আরও পড়ুন...

ভগবতী

ন্যাড়া

একদিন কিঞ্চিৎ সকাল-সকাল আপিস হইতে বাড়ি ফিরিতেছি, দেখিলাম রাস্তার মোড়ের মিষ্টান্নর দোকানের সম্মুখে একটি জটলা। পাড়ার মাতব্বর দু-চারজনকে দেখিয়া আগাইয়া যাইলাম। বাইশ-চব্বিশের একটি যুবক মিষ্টির দোকানের সামনের চাতালে বসিয়া মা-মা বলিয়া হাপুস নয়নে কাঁদিতেছে আর তাহাকে ঘিরিয়া বারো-তেরো জনের একটি জটলা গোল হইয়া সান্ত্বনা দিতেছে। কেহ বলিতেছে, "মা কী আর কারুর চিরদিন থাকে?" কেহ বলিতেছে, "ভাবছিস কেন, আমরা তো আছি।" কেহ বলিতেছে, "চল, চল, বাড়ি চল।" ইহার মধ্যে আবার একজনের রসিকতা পাইয়া গেল, "ভাবছিস কেন, আরেকটা মা আসব

আরও পড়ুন...

শীতের কবিতাগুচ্ছ

কুশান গুপ্ত


ফাটাও বিষ্টু

এবার ফাটাও বিষ্টু, সামনে ট্রেকার,
পেছনে হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসছে দিঘাগামী সুপার ডিলাক্স।
আমাদের গন্তব্য অন্য কোথাও,
নন্দকুমারে গিয়ে এক কাপ চা,
বিড়িতে দুটান দিয়ে অসমাপ্ত গল্প শোনাব
সেই মেয়েটার,
সেই যার
জয়া প্রদার মত ফেস কাটিং, রাখীর মত চোখ।
বাঁয়ে রাখো, বিষ্টুপদ, মেজাজ হারিও না,
যতক্ষন হারু আছে জমিয়ে চালাও,
সঙ্কেত শুনে নিও, কখন বলছি, 'আস্তে, লেডিজ'

এখন দুধারে ধানক্ষেত, পাগলা হাওয়া...
তোমার জন্য চালিয়ে দিচ্ছি, ' কি আশায়

আরও পড়ুন...

তঞ্চক প্রবঞ্চক - একটি নাটক দেখার অভিজ্ঞতা

Bishan Basu

ন্যায় কী? মর‍্যালিটিই বা কী?

বিশুদ্ধবাদীদের মতে, কিছু শাশ্বত সত্যি তো থাকবেই, এবং কিছু শাশ্বত মানবিক নীতিবোধ। যেমন, চুরি কোরো না, লোক ঠকিয়ো না বা মানুষ মেরো না।

কিন্তু, একজন মানুষ যদি লোক ঠকায়, মানুষকে শোষণ করে, অত্যাচার করে - তাকে পাল্টা ঠকানো, বা তাকে হত্যা করাও কি অন্যায়?

মর‍্যালিটি কী বলে?

ইউটিলিটেরিয়ানরা বলবেন, যাতে বেশীরভাগ মানুষ খুশী হন, তা-ই মর‍্যাল। কিন্তু, তা-ই কি শেষ সত্য?

এইসব জটিল কথা মাথায় এলো একটি আপাতনিরীহ নাটক দেখতে গিয়ে। রাসবিহারী শৈ

আরও পড়ুন...

কুহু কেকা ডাকে

সুকান্ত ঘোষ

নিমো গ্রামের বাকি ছেলেদের মতন আমারও হৃদয়ে আপন করে নেবার ক্ষমতা ভালোই ছিল। কিন্তু একটা জিনিস বাদ দিয়ে, আর সেটা আমি অনেক পরে বুঝতে পেরেছিলাম – সেগুলি ছিল সো কলড্‌ প্রফেশ্যানাল লাইফে ‘সফট স্কিল’ জাতীয় ট্রেনিং। আগে এমন ট্রেনিং-এর শুরুতে বেশ ফালতু টাইপের জিনিস পত্র করতে হত – এখন তা আবার ‘সফট’ থেকে ডিফিউজ করে হার্ডকোর টেকনিক্যাল ট্রেনিংতেও ঢুকে গেছে। মাঝে মাঝে তাকে বলা হয় – ‘আইস ব্রেকিং’। আরে ভাই যদি বুঝতে, এই আইস ব্রেক হবার নয় – পুরো হিমবাহ স্বরূপ শীতলতা জমা আছে আমার বুকে।

বিশাল কিছু অ্যাম্

আরও পড়ুন...

মায়ের কাজ

Durba Mukherjee

আমি একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত স্বনির্ভর মহিলা। অন্য পরিচয় আমি একজন স্কুল পড়ুয়া শিশুর মা। রাজনীতিতে আগ্রহ থাকলেও সক্রিয়ভাবে কখনো কিছু করে ওঠা হয়নি। তবে বামপন্থী বাড়িতে বড় হবার সুবাদে শ্রেণী সংগ্রাম শব্দবন্ধটির সঙ্গে বেশ পরিচিত। যত বয়স বাড়ছে তত বেশি করে রাজনীতির গুরুত্ব বুঝতে পারছি। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার শ্রেণীর মানুষজনের মধ্যে কাজকর্ম, সুযোগ সুবিধা, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই দুচার কথা লিখতে বসা।

আমাদের দেশে মেয়েদের বড় করা হয় শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর জন্য। না, শহুরে শিক্ষ

আরও পড়ুন...

ক্রিকেট ক্রিকেট

ন্যাড়া

আমি না ক্রিকেটে ওপেন করতাম আর উইকেট-কিপিং করতাম। এবং স্কুল-পাড়া লেভেলে খুব খারাপ করতাম না। সিএবির ইন্টার-স্কুল ক্রিকেট - যাকে সামার ক্রিকেট বলা হত - সেই টুর্নামেন্টে একবছর শুধু খেলিইনি, একটি গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে ক্রিটিকাল টাইমে মিড-অনে দাঁড়িয়ে একটি হাই-ক্যাচ ফেলে টিমকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেবার কৃতিত্বও অর্জন করেছিলাম। যদিও তার বদলে সিএবি আমাদের বিনি-পয়সায় কি অতি-অল্পমূল্যে টেস্ট ক্রিকেটের টিকিট দিয়েছিল। সেই একবারই রঞ্জি স্টেডিয়ামে বলে খেলা দেখেছি। কিন্তু বাবারও বাবা থাকে। পাড়ার ক্রিকেটে পিকলু

আরও পড়ুন...

ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৪)

I

'একটা কোনো দেশকে ছাড় দিলেই হয়ে গেল- আর দেখতে হবে না; সবাই মিলে একেবারে 'দাও' দাও' বলে চীৎকার জুড়ে দেবে'- ৪৩'এর ১০ই মার্চ ওয়ার ক্যাবিনেটের এক মেমোতে মন্তব্য করবেন চার্চিল, কলোনিগুলিতে যুদ্ধকালীন খাদ্যসরবরাহ নিয়ে কথা বলছিলেন তখন তিনি-'আমাদের ('ব্রিটেন'-মন্তব্য আমার) দেখে শিখুক সবাই; নিজেদের বন্দোবস্ত নিজেরাই করে নিক গে!' (1)

মাস তিনেক ধরেই লিনলিথগো ভারতের খাদ্য-সংকটের কথা বলে আসছিলেন। ভারতকে খাওয়ানোর মত খাদ্যশস্য যে নেই তা নয়,অস্ট্রেলিয়াতেই যথেষ্ট গম মজুদ আছে। কিন্তু সেখান থেকে ভার

আরও পড়ুন...

ফেসবুক সাহিত্য

Samrat Amin


মুখস্থ বিদ্যাটা বরাবরের কম। তবুও ক্লাস সেভেনে হেগেমেতে কোনরকমে শক্তির সংজ্ঞাটা মুখস্থ করেছিলাম -- শক্তি অবিনেশ্বর, ইহার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, শক্তি এক শক্তি থেকে অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় মাত্র । সংজ্ঞাটিকে এবার ফেসবুকে পোষ্ট করা কোনো আপাত "মৌলিক" লেখার ক্ষেত্রে খাপে খাপে বসিয়ে দেন । ফেসবুকের পোষ্ট করা লেখা অবিনেশ্বর, ইহার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই , এক টাইমলাইন থেকে অন্য টাইমলাইনে স্থানান্তরিত হয় মাত্র । ধরুন, আপনি অনেক ভেবে ভেবে আপনার সৃষ্টিশীল স্বত্বা দিয়ে একটি চমৎকার মনোগ্রাহী কিছু লিখলেন । প

আরও পড়ুন...

বি ই কলেজ ও রাষ্ট্রভাষা

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

একদা যে কলেজটিতে পড়তাম, তার নাম বিই কলেজ। নাম বদলে যদিও এখন আই আই ইএসটি। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু তাতে কিছু এসে যায়না। আমাদের কাছে এখনও বিই কলেজই। সেখানে যে সরকারি উদ্যোগে একটি হিন্দি সেল তৈরি হয়েছে জানতামই না, যদিনা আমার বন্ধু গৌরব ফেসবুকে একটি পোস্ট করত। তার পোস্টের সূত্র ধরে কলেজ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখি, সেখানে ইংরিজির পাশে একটি হিন্দি সংস্করণও আছে। এবং হিন্দি সেলকে সরকারি ভাবে একটি আলাদা ওয়েবসাইট (সাবডোমেন) ও দান করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে নানা মণিমুক্ত দেখা গেল। পুরোটাই

আরও পড়ুন...

“কিছুটা থাক আলগোছেতে কিছুটা থাক কাছে কিছু কথা ছড়িয়ে পড়ুক চেনা আলোর মাঝে”

Nahar Trina

চেনা আলোয় ছড়িয়ে পড়া কথাগুলো জড়ো করার গভীর মনোযোগ আর গল্পের মুখগুলো চিনে নেবার একবুক তাগিদ নিয়ে পাঠক শুরু করেন গোরা নকশাল।
পূর্ব বাংলা থেকে আগত এক পরিবার, বলা ভালো উদ্বাস্তু তকমা এঁটে যাওয়া এক পরিবার, যাদের ঠাঁই পশ্চিম বাংলার উত্তর পাড়ার বালি এলাকায়। সেই তাদের নিয়েই শীতের একটা সকালের বর্ণনার মাধ্যমে গল্পের উড়ান।

উত্তম পুরুষে লেখা এই আখ্যানের কথক ছোট্ট টুকুনের দেখা পাবেন পাঠক প্রথম অধ্যায়েই। সে পরিবারের কনিষ্ঠ জন। ভীষণ ঘুম কাতুরে, নানান ফন্দিতে পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়া, ঠাম্মার খাবারে ভা

আরও পড়ুন...

ওর কথা

সুকান্ত ঘোষ

অমৃতা জীবন ভালোবাসত – অফুরন্ত জীবনীশক্তি নিয়ে সে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছিল জীবনের সাথে। আরো সহজ করে বলতে গেলে সে বড় ভালোবাসা ভালোবাসত। স্বাভাবিক ভাবেই তার কবিতায় ঘুরে ফিরে এসেছে ভালোবাসার কথা আর তার সাথে লেগে থাকা জীবনের কথা।

“নারী পরাজিত হতে ভালবাসে
লতিয়ে থাকে ভালো থাকার
ঘন সবুজ আস্তানায়”

একমাত্র ভালোবাসার কাছেই পরাজিত ছিল সে। সেই স্বেছা পরাজয়ের পর খুঁজে নিয়েছে সে নিজের আস্তানা – যেখানে আস্তানা মানে ঘর, আস্তানা মানে আশ্রয়, আস্তানা মানে নিজের একান্তের প্রকাশ। এক সময় কব

আরও পড়ুন...

কবিতা শ্রীরামপুর

Subhendu Chattopadhyay


অদ্রিশদা যখন মারা গেলেন , কাগজে বেরোয় জনৈক পৌড় , সেই কাগজে যেখানে অদ্রিশদা অনেকদিন কাজ করেছেন, কবে যে পৌড় হয়ে গেলে আমার তো জানা হয় নি । অদ্রিশদা বললে আমার এখন মনে পড়ে মউ দি কে সামনে বসিয়ে সাইকেল করে আসছেন শ্রীরামপুর স্টেশনে । নিয়ম করে দেখা হত , আমি তখন কিছুই লিখতে পারি না , শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি এই অপরূপ দম্পতির দিকে । আর একবার লক্ষ্মীঘাটে কবিতা পাঠের আয়োজন হল , রমাদির একক কবিতা পাঠ , পাঠ শেষে , মউদি গান গাইল , প্রদীপের আলোই তার মুখে অন্ধকার খেলে বেড়াচ্ছে , কি করে জানব , কত ঝড় বৃষ্টি

আরও পড়ুন...

শীতকাল কবে আসবে, সুপর্ণা?

কুশান গুপ্ত

শীতের সেই শিহরিত সন্ধেগুলো মনে পড়ে, আশিস?

হাড়জমানো বাঘের মত জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ত দক্ষিণবঙ্গের ডিসেম্বর-অধ্যুষিত 'মাওয়া' গ্রামে। বাঁদর টুপি, রঙিন মাফলার ও ধূসর চাদরে ঢেকে যেত নানাবয়সের মুখ, কান, নাকসকল। সন্ধে থেকে রাত শীতকালীন গ্রামবাংলা মেতে উঠত পাঁচদিন ব্যাপী যাত্রানুষ্ঠানে। এ সেই সুসময়, যখন খেজুর রসের মৌতাত ও শস্যফলনের হাসি বাংলার ঘরে ঘরে, আপামর বাংলার গ্রামীণ জীবনের এ এক ঐকান্তিক উদযাপন। গ্রামের, গঞ্জের আবালবৃদ্ধবনিতাকে জাপটে ধরত শীতের বিশ্রুত যাত্রাজ্বরের তাড়স।

ক্লাস ফোরে দে

আরও পড়ুন...