Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • রাতের ঢাকা শহর
    ঢাকা শহরের নানা সমস্যা। দুই একদিন আগে দেখলাম সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিয়ায় ওপরের দিকে নাম ঢাকা শহরের। যারা ঢাকা শহরে থাকে বা থেকেছে তারা জানে নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা আষ্টেপিষ্টে জরিয়ে আছে। বাতাস শুধু দূষিত না এ শহরের, আরও কত কী যে দূষিত তার কোন হিসেব নেই। ...
  • মাইনাস তিন ডিগ্রি
    মাইনাস তিন ডিগ্রি ▶️প্রতি সন্ধ্যায় শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে মাত্র কয়েক ফার্লং দূরে যশোর রোডের ডানদিকে দেড়তলা বাড়িটা অন্ধকারেই থাকে। রাত ন'টা নাগাদ পুট করে গেটের আলোটা জ্বলে ওঠে। কোলাপসিবল গেটে চাবি তালার খুট খুট ধাতব শব্দ। সিঁড়ির আলো জ্বলে। ডাইনিং ...
  • যে হাতে জ্বলেছিল আলোর শিখা - ডঃ বিভা চৌধুরী
    বিভা চৌধুরীকে নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক দিনের। আগ্রহের সুচনা কেন্দ্র অবশ্যই তাঁর বিজ্ঞানচর্চা । বৈজ্ঞানিককে তার বিজ্ঞান ছাড়া ধরা যায় না। তবে তিনি যখন বিজ্ঞান সাধনায় নামেন , তখন সে জগত এক অবিচ্ছিন্ন জ্ঞানের জগত, আমার বিজ্ঞানের যে সীমিত জ্ঞান তাই দিয়ে তাঁকে আবছা ...
  • পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র
    পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র সৌরভ মিত্র ধরা যাক, অতি খাজা একখানা প্রবন্ধ পড়তে পড়তে মুখ থেকে অজান্তেই একটি শব্দ বেরিয়ে এল, -‘জঘন্য’। বেজায় সমস্যা এই তৎসম শব্দটিকে নিয়ে। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কিনা ‘জঘনভব’ বা ‘জঘনতুল্য’ [জঘন + য (যৎ)]। কিন্তু, ...
  • শুভায়ু শুক্রবার
    প্রতিভা সরকারদিল্লীর রাজপথে শিরদাঁড়া সোজা করে বসে আছে একদল বাচ্চা ছেলেমেয়ে। স্কুলে না গিয়ে তারা এইখানে। হাতে প্ল্যাকার্ড "স্কুলে যাইনি, বড়দের শেখাব বলে"। ব্যাঙালুরুতে কিশোররা গম্ভীর মুখ। হাতে লেখা "পিতৃতন্ত্র নয়, প্ল্যানেট বাঁচাও"। বার্লিনে বাচ্চারা ...
  • নারীদের শ্রম-জীবন
    লোপামুদ্রা সরকারভদ্রলোক ব্যস্ত মানুষ। উচ্চপদস্থ। তাঁকে প্ল্যান্টে নিয়ে যেতে কোয়ার্টারের সামনে গাড়ি আসে। তিনি সকালে উঠে, চা খেয়ে, কিঞ্চিৎ স্বাস্থ্যচর্চা করে, ব্রেকফাস্ট সেরে, পোশাক পরিচ্ছদ পরে তৈরি হয়ে প্ল্যান্টের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন। এই সময় তাঁর হাতে ...
  • মেয়েবেলা
    ইন্দ-রানীএকটি অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে কঠোর পুরুষতান্ত্রিক পরিকাঠামোয়, হাজার নিয়ম ও বাধা নিষেধের বেড়ার ভেতর যেমন মেয়েবেলা কাটতে পারে, তেমনি ছিল মেয়েটির ছোটবেলা। মেয়েবেলার কথা ভাবতে বসলে সত্যি বলতে তেমন আনন্দের কোন উপাখ্যান অথবা সুখস্মৃতি তার মনে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৯)
    কাং ইয়াৎজে বেসক্যাম্প (০৯.০৯.২০১৮) ____________________...
  • আমাদের বর্ণ-বিদ্বেষ
    নিউজিল্যান্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমাদের কে সুযোগ করে দিয়েছে প্রশ্ন করার। সুযোগ করে দিয়েছে গলা বাজি করে বলার যে খালি আমাদেরই সব দোষ? দেখ, তোমাদের ওখানেও কত রক্ত ঝরল! খুব করে বলার সুযোগ এসেছে জঙ্গিদের কোন দেশ ধর্ম জাত হয় না। আমরাও বলছিও এসব গলা উঁচু করে। ...
  • অলসের শাস্তি
    গত কয়দিন বাড়িতে কোন লোক নেই। সবাই মিলে আত্নীয়ের বিয়েতে গেছে। আমার এ বিষয়ে এলার্জি আছে বিধায় চোখমুখ উল্টে অসুস্থ হ‌ওয়ার অভিনয় করে বেঁচে গেছি। আমাকে রেখেই সবাই চলে গেছে। কাজের মেয়েটা শেষ ভরসা ছিল বাড়ি ফাঁকা দেখে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে আর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

Muhammad Sadequzzaman Sharif

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক অদ্ভুত দেশটার জন্ম হওয়ার পর সমস্ত পাকিস্তানের জনগণ যখন আবেগে ভেসে যাচ্ছিল নতুন একটা তরতাজা দেশ পেয়ে, বিশেষ করে এই দেশের পূর্ব অংশের বিপুল পরিমাণ মানুষের আনন্দের কোন সীমা ছিল না। কারন মূলত এই ভূখণ্ডের মানুষের আন্দোলনের চাওয়া পাওয়ার ফলে জন্ম নেয় পাকিস্তান নামক দেশটা। যদিও এর চেহারা ঠিক দেশের সংজ্ঞার সাথে যায় না, যদিও নিজেদের বড় একটা অংশকে ভিনদেশের সাথে রেখে আসতে হয়েছে তবুও এই জাতি খুশি ছিল। এই অংশের মানুষের কারনেই এই দেশটা জন্ম নিয়েছিল এই কথা বলা হচ্ছে কারন এই ভূখণ্ডের মানুষের সমান রাজনৈতিক সচেতন মানুষ পুরো ভারতবর্ষে ছিল কিনা সন্দেহ।

পূর্ব পাকিস্তানিদের আনন্দের জোয়ারে ভাটা পড়তে খুব বেশি দেরি হল না। ১৪ আগস্ট পাকিস্তান জন্ম নেওয়ার পরে ওই বছরের ডিসেম্বরেই এরা দেখতে পেল পশ্চিম অংশ থেকে ডাক টিকেট, মানি অর্ডারের ফরম, সরকারি কাগজ পত্র সব আসতেছে উর্দু আর ইংরেজি ভাষায় ছাপা হয়ে। সহজ সরল মনে হলেও পূর্বে যা বলেছিলাম, এদের মত রাজনৈতিক সচেতন মানুষ এই ভূভারতে আর নাই। তাই প্রতিবাদ শুরু হয়ে গেল।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত নামক এক বাঙ্গালী প্রস্তাব পেশ করেন যে, উর্দু আর ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে যেন গণপরিষদের ভাষা হিসেবে অধিকার দেওয়া হয়। ইতিহাসের পাঠ দিব না, আমি আজকে শুধু এই লোকটা সম্পর্কে কথা বলব যিনি অসীম সাহস আর বুক ভরা দেশপ্রেম নিয়ে এই দেশে জন্ম নিয়েছিলেন।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। রাজনীতিতে তিনি কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন। দারুণ ভাবে মানুষের কাছের একজন হতে পেরেছেন তিনি। জেল খেটেছেন তিনি কয়েকবার ব্রিটিশ আমলে। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে তিনি কংগ্রেস দলের পক্ষে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন।পরে পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্য ঐ বছর ডিসেম্বরে পূর্ববঙ্গ হতে তিনি পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এবং অধিবেশনে যোগ দিয়েই তিনি ইতিহাস রচনা করেন, বাংলা কে তার অধিকার দেওয়ার জন্য বলেন। তিনি বলেন “পাকিস্তানের পাঁচটি প্রদেশের ছয় কোটি নব্বই লাখ মানুষের মধ্যে চার কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ বাংলা ভাষাভাষী। সুতরাং বিষয়টিকে প্রাদেশিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলাকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে দেখা উচিত। তাই তিনি গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষাকেও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবি করেন।তুমুল বিতর্ক হয় এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে। স্বভাবতই ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সততা আদর্শ নিয়ে ব্যক্তি আক্রমণ করতেও পিছপা হয়নি নাজিমুদ্দিন সহ লিয়াকত আলিরা। ওই প্রস্তাব সেদিন পাস হয়নি। তবে সলতেতে আগুন ঠিকই লেগেছিল সেদিন। যে আগুন পরবর্তীতে শুধু বাংলা কে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি এনে দেয়নি, স্বাধীন একটা দেশও এনে দিয়েছিল।

পাকিস্তান আমলে উনাকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়।১৯৬০ সালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের উপর ‘এবডো’ (Elective Bodies Disqualification Order) প্রয়োগ কড়া হয়। ৬৫ সালের যুদ্ধের সময় গৃহবন্দী অবস্থায় ছিলেন তিনি।এরপর আসে একাত্তর। রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় তিনি বেশ ভাল করেই বুঝতে পারছিলেন যে বেশ বড় কিছু হতে চলেছে।বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর তিনি কুমিল্লায় তার নিজ বাস ভবনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। পরিস্থিতি খারাপ হওয়া শুরু হতেই তাকেও অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। তিনি সহজেই ভারতে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই জিনিস ছিলেন না, মৃত্যু ভয় কাকে বলে জানতেন না সম্ভবত। তিনি বলেন - এইটা আমার মাতৃভূমি, এইখানে আমার জন্ম, এইখানে কাটাইলাম পুরা জীবন। এই দেশ ছাইড়া কই যামু?

২৫ মার্চ ঢাকায় ম্যাসাকার হয়ে যাওয়ার পর তিনি পরিষ্কার বুঝতে পারছিলেন সামরিক জান্তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে যাচ্ছে। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সবাই কে ডেকে বললেন অবিশ্বাস কিছু কথা। তিনি বললেন -, ‘সময় খুবই কম। তোমাদের কিছু কথা বলা দরকার। আমার বেঁচে থাকার খুবই প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের জন্য, কিন্তু মনে হচ্ছে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। আমার বন্ধু কন্যার (ইন্দিরা গান্ধী) সাথে এই মুহূর্তে দেখা হওয়াটা খুবই প্রয়োজন ছিল- কিন্তু এখন যদি আমি এখান থেকে চলে যাই তাহলে মিলিটারিরা আমাকে খুঁজে না পেলে আশপাশের সব লোককে মেরে ফেলবে, আগুন দিয়ে সব জ্বালিয়ে দেবে। আমাকে না পেলে নিরপরাধ মানুষগুলির প্রাণ যাবে। সেটা তো হতে পারে না। আই অ্যাম ট্রাপড।’ সেদিন তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আমাকে নিতে এসে মিলিটারিরা দুটো জিনিস করতে পারে, তারা আমাকে ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে গিয়ে আমাকে দিয়ে বিবৃতি দেয়ানোর চেষ্টা করাতে পারে- আর তাই যদি করে তাহলে তাদের আমি একটা কথাই বলবো-To stop kill these unarmed people, তখন তারা আমার ওপর অত্যাচার করবে এবং মেরে ফেলবে ওখানেই। আরেকটা ব্যাপার হতে পারে- মিলিটারিরা আমাকে এখানেই গুলি করে মারতে পারে।’
সেদিন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উপস্থিত পরিবারের সবাইকে বলেছিলেন, ‘আমার অনুরোধ, তোমরা আমার মৃতদেহ বারান্দায় ফেলে রেখো যাতে সবাই আমার মৃতদেহ দেখে মনে সাহস পায়, বিদ্রোহ করবার জন্য।’ সাথে এটাও বললেন, ‘দেখো, ওরা আমাকে দুদিনের মধ্যে এসে নিয়ে যাবে।’ নাতনি আরমাকে কাছে নিয়ে বললেন, ‘পৃথিবীতে আর কেউ আমার জন্য কাঁদলেও তুই কাঁদবি না, তুই কাঁদলে আমি অনেক কষ্ট পাবো।’

২৯ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে। উনার কনিষ্ঠ পুত্রকেও ধরে আনা হয়। এই অশীতিপর বৃদ্ধর উপরে চালনা করা হয় অমানুষিক নির্যাতন। হাঁটু ভেঙ্গে দেওয়া হয় উনার, চোখ তুলে ফেলে পিশাচেরা। ১৪ এপ্রিল মারা যান এই মহান দেশপ্রেমিক। বুকের মাঝে কতখানি দেশপ্রেম থাকলে এমন ত্যাগ স্বীকার করা সম্ভব আমার জানা নেই, কিভাবে একজন মানুষ স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারে তা হয়ত কোন দিনই জানতে পারব না আমরা। স্বাধীনতার এত বছর পরে এক বুক ভালবাসা আর গভীর শ্রদ্ধা জানাতে পারি আমরা। যদিও তাও আর হয়ে উঠতে দেখি কই? আমরা যা করার তাই করছি। খুব যত্ন করে, সময় নিয়ে ভুলে যাচ্ছি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত নামক এই নায়ককে। যেমন বেমালুম ভুলে গেছি আজকে এই মহান পুরুষের জন্মদিন। ১৮৮৬ সালের আজকের দিনে মানে ২ নভেম্বর ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত জন্ম গ্রহণ করেন।





426 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: aranya

Re: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

ভাল লাগল, এই স্মৃতিচারণ।
দেশের সুসন্তান-দের আমরা ব্ড় দ্রুত ভুলে যাই..


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন