Sumon Ganguly Bhattacharyya RSS feed

Sumon Ganguly Bhattacharyyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • রাতের ঢাকা শহর
    ঢাকা শহরের নানা সমস্যা। দুই একদিন আগে দেখলাম সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিয়ায় ওপরের দিকে নাম ঢাকা শহরের। যারা ঢাকা শহরে থাকে বা থেকেছে তারা জানে নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা আষ্টেপিষ্টে জরিয়ে আছে। বাতাস শুধু দূষিত না এ শহরের, আরও কত কী যে দূষিত তার কোন হিসেব নেই। ...
  • মাইনাস তিন ডিগ্রি
    মাইনাস তিন ডিগ্রি ▶️প্রতি সন্ধ্যায় শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে মাত্র কয়েক ফার্লং দূরে যশোর রোডের ডানদিকে দেড়তলা বাড়িটা অন্ধকারেই থাকে। রাত ন'টা নাগাদ পুট করে গেটের আলোটা জ্বলে ওঠে। কোলাপসিবল গেটে চাবি তালার খুট খুট ধাতব শব্দ। সিঁড়ির আলো জ্বলে। ডাইনিং ...
  • যে হাতে জ্বলেছিল আলোর শিখা - ডঃ বিভা চৌধুরী
    বিভা চৌধুরীকে নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক দিনের। আগ্রহের সুচনা কেন্দ্র অবশ্যই তাঁর বিজ্ঞানচর্চা । বৈজ্ঞানিককে তার বিজ্ঞান ছাড়া ধরা যায় না। তবে তিনি যখন বিজ্ঞান সাধনায় নামেন , তখন সে জগত এক অবিচ্ছিন্ন জ্ঞানের জগত, আমার বিজ্ঞানের যে সীমিত জ্ঞান তাই দিয়ে তাঁকে আবছা ...
  • পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র
    পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র সৌরভ মিত্র ধরা যাক, অতি খাজা একখানা প্রবন্ধ পড়তে পড়তে মুখ থেকে অজান্তেই একটি শব্দ বেরিয়ে এল, -‘জঘন্য’। বেজায় সমস্যা এই তৎসম শব্দটিকে নিয়ে। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কিনা ‘জঘনভব’ বা ‘জঘনতুল্য’ [জঘন + য (যৎ)]। কিন্তু, ...
  • শুভায়ু শুক্রবার
    প্রতিভা সরকারদিল্লীর রাজপথে শিরদাঁড়া সোজা করে বসে আছে একদল বাচ্চা ছেলেমেয়ে। স্কুলে না গিয়ে তারা এইখানে। হাতে প্ল্যাকার্ড "স্কুলে যাইনি, বড়দের শেখাব বলে"। ব্যাঙালুরুতে কিশোররা গম্ভীর মুখ। হাতে লেখা "পিতৃতন্ত্র নয়, প্ল্যানেট বাঁচাও"। বার্লিনে বাচ্চারা ...
  • নারীদের শ্রম-জীবন
    লোপামুদ্রা সরকারভদ্রলোক ব্যস্ত মানুষ। উচ্চপদস্থ। তাঁকে প্ল্যান্টে নিয়ে যেতে কোয়ার্টারের সামনে গাড়ি আসে। তিনি সকালে উঠে, চা খেয়ে, কিঞ্চিৎ স্বাস্থ্যচর্চা করে, ব্রেকফাস্ট সেরে, পোশাক পরিচ্ছদ পরে তৈরি হয়ে প্ল্যান্টের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন। এই সময় তাঁর হাতে ...
  • মেয়েবেলা
    ইন্দ-রানীএকটি অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে কঠোর পুরুষতান্ত্রিক পরিকাঠামোয়, হাজার নিয়ম ও বাধা নিষেধের বেড়ার ভেতর যেমন মেয়েবেলা কাটতে পারে, তেমনি ছিল মেয়েটির ছোটবেলা। মেয়েবেলার কথা ভাবতে বসলে সত্যি বলতে তেমন আনন্দের কোন উপাখ্যান অথবা সুখস্মৃতি তার মনে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৯)
    কাং ইয়াৎজে বেসক্যাম্প (০৯.০৯.২০১৮) ____________________...
  • আমাদের বর্ণ-বিদ্বেষ
    নিউজিল্যান্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমাদের কে সুযোগ করে দিয়েছে প্রশ্ন করার। সুযোগ করে দিয়েছে গলা বাজি করে বলার যে খালি আমাদেরই সব দোষ? দেখ, তোমাদের ওখানেও কত রক্ত ঝরল! খুব করে বলার সুযোগ এসেছে জঙ্গিদের কোন দেশ ধর্ম জাত হয় না। আমরাও বলছিও এসব গলা উঁচু করে। ...
  • অলসের শাস্তি
    গত কয়দিন বাড়িতে কোন লোক নেই। সবাই মিলে আত্নীয়ের বিয়েতে গেছে। আমার এ বিষয়ে এলার্জি আছে বিধায় চোখমুখ উল্টে অসুস্থ হ‌ওয়ার অভিনয় করে বেঁচে গেছি। আমাকে রেখেই সবাই চলে গেছে। কাজের মেয়েটা শেষ ভরসা ছিল বাড়ি ফাঁকা দেখে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে আর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

চলো এগিয়ে চলি

Sumon Ganguly Bhattacharyya

#চলো এগিয়ে চলি
#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য
বেশিরভাগ অটিস্টিক মানুষদের রেসপন্স একটু ধীরে হয়।মানুষের মস্তিষ্কের সিগন্যাল এর কাজটি সাধারণত আলোর গতিতে হয়ে থাকে।যেকোন কিছু কথোপকথন ,ভাবের আদানপ্রদান বিদ্যুতের গতিতে করি আমরা নিজেদের অজান্তেই।যেমন আমরা ফোনে কথা বলি সেটাও তো আলোর গতিতে যায় তাই "হ্যালো" বলার সাথে সাথে উত্তর আসে, আলোচনা এগিয়ে চলে।
একজন অটিস্টিক মানুষের ক্ষেত্রে সিগন্যাল গুলি মানে বাইরের জগতের সমস্ত কিছু স্পর্শ, গন্ধ,স্বাদ,শব্দ ইত্যাদির মাধ্যমে যাওয়া সিগন্যাল যদি যায় আলোর গতিতে কিন্তু অনেক সময় তার প্রসেসিং হয় শব্দের গতিতে ,সেই ফাঁক টি পূরণ হয় তো হয় না,অনেক সময় সিগন্যালিংও ঠিক মত যায় না,তারা যেটা দেখছে,সেটা অন্য কিছুর সাথে গুলিয়ে ফেলতেই পারে।একটা ভারসাম্যের জটিলতা শুরু হয়।
একদম আলো আর শব্দের গতি।আমরা ভাগ্যবান আমাদের মাথায় সিগন্যাল আসা যাওয়া করে আলোর গতিতে, অটিস্টিক মানুষ দের ক্ষেত্রে সিগন্যাল গুলি বহু রাজপথ,গলি, মাঠ ঘাট পেরিয়ে আসা যাওয়া করে মানে মস্তিষ্কের বিভিন্ন নিউরোনে ধাক্কা খেতে খেতে চলে ।
আমি একজন স্পেশাল মম।"স্পেশাল"শব্দ টি জুড়ে গেছে সেই মুহূর্তে যখন আমার সন্তান শ্রীমান বিনায়করুকুর অটিজম আছে বলে Diagnosed হয়।
সময় টা আজ থেকে প্রায় 14 বছর আগে।আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়। রুকুর অসুবিধে যা আমরা খেয়াল করেছিলাম তা হলো,...এক কথা বার বার বলা,প্রশ্ন বুঝে উত্তর দিতে দেরি হওয়া,কোন পছন্দের জিনিস (তা খেলনার ক্ষুদ্র অংশ হোক বা পোষা বিড়ালের/কাক,শালিখ,চড়ুই পাখির অনুপস্থিতি,পুরোনো ব্যবহার করা চটি জোড়া,বা কফির কাপ)হারিয়ে গেলে অস্থির কান্নাকাটি,দূরেকোথাও বেড়াতে গেলে, কিছুক্ষন আমাকে দেখতে না পেলে উচ্চস্বরে কান্না , এই অবস্থা সামলানো প্রাথমিক ভাবে আমাদের প্রায়োরিটি হয়ে ওঠে।সমস্ত ছোট খেলনা,ভঙ্গুর জিনিস ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলি।পরিবর্তে ব্যাট বল,ট্যাব,বড় গামলা,রাবার হাতুড়ি,
'Hit me' পুতুল,দোলনা, কাগজ,রং,ম্যাগনিফাইং গ্লাস,মোটা বাঁধানো বই যা চকচকে কাগজের এবং ছবি আঁকা,নকল মাটি,এবং একটু বড় সাইজের বিভিন্ন জন্তুর মডেল রুকু কে দিতে থাকি।
একটা ঢাউস গামলা দি সাথে খেলার পর গুছিয়ে রাখবে বলে।গামলা টি নির্দিষ্ট ভাবে তার ঘরে রাখার অভ্যেস করাই।বাড়িতে অন্য ছোট বাচ্চা অতিথি আসলে রুকুর খেলনা যাতে নষ্টনা হয় তা আমাদের দেখতে হোত।কারণ কিছুখোয়া গেলে বা ভেঙে গেলে রুকু কে সামলানো যেত না। রুকুর কোন পুরোনো খেলনা আমাকে সামলিয়ে রাখতেহোতো।পুরোনো চটি রেখে দিতাম,কফি/দুধের কাপ প্ল্যাস্টিক এর করে দিয়েছিলাম।
কোথাও বেড়াতে যাওয়ার থাকলে দিন তিনেক আগে অন্ততঃ না বললে রুকু আজও যেতে চায় না।কোথায় যাবো,কেন যাবো,কে কে থাকবে,সম্ভাব্য পরিবেশ বলে রাখা এবং দেখিয়ে রাখি আজ ও। এবং সম্ভাব্য কথোপকথন কি হতে পারে তাও বলে রাখি।
পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে।পাড়ার বেশ কয়েকটি কুকুর কে ,পাড়ার দু চারটে বিড়াল একত্রে, দেখাতে থাকি।কাক,চড়ুই,শালিখ সব সময় এক সাথে থাকে ওদের জ্বর হয়েছে তাই আসিনি ,এই ভাবে বোঝাতে থাকি।যেহেতু ছোট শহর পাখির অভাব খুব একটা হয় নি তখন।কোন একটা কিছুর বদলে গ্রুপ এ পশু পাখি দেখাতে থাকি এই আর কি।
রুকুর লোডশেডিং হলে খুব অস্থির লাগতো, কিন্তু সেটা চেনা জায়গায়। কখনো অচেনা জায়গা তে অপরিচিতের বাড়িতে পাওয়ার কাট হলে অস্থির করে না। আমি সোশ্যাল স্টোরি দেখিয়ে যা আমাকে করে দিয়েছেন আমার বন্ধু Sandip Goonসন্দীপ গুন মহাশয়
অনেক ফল পেয়েছি।লোডশেডিং এখন সমস্যা নয়। আশা রাখি ধীরে ধীরে ও সমস্ত অন্ধকার কে জয় করবে।
মাঝে মাঝে রুকু অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে ,আমরা সাধ্যমত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি।যেমন ঝড়ে তার ছিঁড়ে গেছে কারেন্ট এর কিন্তু রুকুর মনে হয় চোর এসে চুরি করেছে,।এবং রুকু তার যে কোন ধারণা তে অটল থাকে,সব সময় যে সেই ধারণা ঠিক তা নয় কিন্তু তাকে ওই চিন্তা থেকে সরানো যায় না। তাই কিছু ব্যাপার ম্যানেজ করার চেষ্টা
করি।সব পারিনা।পাড়া -প্রতিবেশী সকলেই জানেন আমাদের সন্তানের একটা অসুবিধে
আছে ,তারাও সাহায্য করেন।রুকু একা একা দোকান বাজার করে,মামাবাড়িতে ,পড়তে যায়।পাড়া তে সবাই রুকুর সাথে কথা বলে।রুকু একা কোথাও গেলে আমাকে তৎক্ষণাৎ ফোনে খবর দেয়, আমি জানি কিনা।আমরা কৃতজ্ঞ সবার কাছে।
পৃথিবী বোধকরি এখনও বাসযোগ্য আছে।মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি জানেন এই বিষয়ে আমার মনে হয় প্রচার আরো উপকার করবে।
রুকু নার্ভাস হলে ওর পাপার হাত ধরতে চায়।তাই আমরা যেখানেই যাই তিন জন যাই।আমরা একটা unit হিসেবে কাজ করি।একে ওপরের সমস্ত প্রয়োজন,চাহিদা বুঝতে পারি।বিশেষ করে রুকু কে বুঝতে পারি।যে বাচ্চা উঁচু স্লিপে উঠতে চাইতো না তাকে নিয়ে আমরা হলঙ এ হাতির পিঠে চেপেছিলাম।
বেড়াতে যাওয়ার কিছুদিন আগে চিড়িয়াখানা দেখিয়ে আর ছবি, সিনেমা দেখিয়ে।এবং প্রতি মুহূর্তে তার পাপা বোঝাতো আমরা এক সাথে আছি।"আফ্রিকান সাফারি"সিনেমা টি দেখিয়ে
জঙ্গলের একটা ধারণা দিয়েছিলাম।দিগন্ত বিস্তৃত ঘাস জমির জঙ্গল বা 'সাভানা" এবং তার আড়ালে বন্য প্রাণী ইত্যাদি তাকে দেখানো
শুরু করেছিলাম প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে।
একজন অটিস্টিক মানুষের ক্ষেত্রে অনেকেই একটা প্রশ্ন করেই ধৈর্য হারিয়ে পরের প্রশ্নে চলে যান বা সিম্পলি অবজ্ঞা করেন,কারণ এর সব কিছু একটু ধীরে ধীরে করে। অনেক অটিস্টিক মানুষের রাগ শুরু হয়, কোথাও রাগ মিশ্রিত বিরক্তি।সে মাথা নাড়তে শুরু করে অথবা হাত মুঠো করে গালে ঘষে।এদের বোঝাবার এবং বোঝানো একটু আলাদা কিন্তু অনুভূতি আলাদা নয়।চেনা পরিবেশ,নিজের জিনিসপত্র আমাদের ও প্রিয় কিন্তু আমরা অভাব বোধ মেনে নিতে পারি এরা পারেনা।এই সত্য আমাদের মত মা -বাবার জীবনের বাস্তব।
আমার সন্তানও ব্যতিক্রম নয় রুকু সব পারে এবং পারবে হয় তো একটু সময় বেশি নেবে।
এরা যোদ্ধা, সাথে সাথে অটিস্টিক মানুষ দের সাথে যারা থাকেন তারাও।
আমি বিশেষজ্ঞ নই, জীবন থেকে কিছু শিখেছি যদি আপনাদের কাজে লাগে।
আমার মনে হয় আমাদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা খুব দামি।
সর্বপরি আমাদের মা এবং বাবা কে ভালো থাকতে হবে।বেশির ভাগ বাবা ,মা প্রথমে মানতে পারেন না ।তারপর বাচ্চার autism মানতে বাধ্য হন।তারপর চলে মনখারাপের
মহাকাব্য।তারপর বিভিন্ন চিকিৎসা, অকূপেশনাল থেরাপি, school ইত্যাদির চাপ।
সময় দিতে হয় প্রচুর ,আমাদের বাচ্চাদের এই সময় টাই পথ্য বলতে পারেন।
বাবা এবং মা পরস্পরের পরিপূরক হলে যুদ্ধ টা সহজ হবে অনেক।
"অটিজম শাট ডাউন"বলে এই ভয়ঙ্কর শব্দ টি
আমাদের হয় তো খেয়াল রাখতে হবে।বাচ্চা কিছু পারছে বলে তাকে দিয়ে কলুর বলদের মত তেল বার করতে শুরু করলে সমূহ বিপদ।
বাচ্চা একদম চুপচাপ এবং নিজের মধ্যে গুটিয়ে যাবে হাজার চিকিৎসা হলেও আর ফেরাতে পারবো না ।
এরা যদি কিছু পারে তা হলেই অনেক।এরা এদের নিজেদের মত নিজেদের লেবেল অনুযায়ী বড় হবে।
সবাই ভালো থাকুন।
সবাই কে এক নীল সমুদ্র ভালোবাসা।
সুমন।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10215064429035894&id=15857
35784


319 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন