RSS feed

দ'এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সাধু কালাচাঁদ, ট‍্যাঁপা-মদনা, পটলা ও রুনু
    'ভালো লাগছে না রে তোপসে' বা 'ডিলাগ্রান্ডি' বললে বাঙালি মননে এক ধরনের রিফ্লেক্স অ্যাকশন কাজ করে যেন। ফেলুদা/তোপসে, টেনিদা, ঘনাদা ইত্যাকার নামগুলি বাঙালির আড্ডার স্বাভাবিক উপাদান। এই অনুষঙ্গগুলি দিয়ে বাঙালি তার হিউমারের অভ্যাস ঝালিয়ে নেয়, কিছুটা আক্রান্ত হয় ...
  • যম-দুয়ারে পড়ল কাঁটা
    অন্য লোকের স্বপ্নে আসে ভগবান, সিনেমা স্টার, ছেলেবেলার বন্ধু নিদেন ইশকুল-কলেজের কড়া মাস্টারমশাই। কবি হলে প্রেমিকা-টেমিকা, একেবারে কবিতাশুদ্ধু। " বাসস্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ ..." ইত্যাদি। আর আমার স্বপ্নে আসেন যমরাজ। যমরাজ মানে ...
  • আমার বাড়ির বিজয় দিবস...
    মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি প্রভাব আমার পরিবারের ওপরে পড়েনি। বলা যেতে পারে আশপাশ দিয়ে চলে গেছে বিপদ আপদ। কিন্তু আশপাশ দিয়ে যেতে যেতেও একদিন যমদূতের মত বাড়িতে হাজির হয়েছিল পাকিস্তানী সৈন্যরা। আমার বাবা ছিল তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিমান সেনা। যুদ্ধের সময় ...
  • রান্নাঘর ও রাজ্যপাট
    কিছুদিন যাবৎ চেষ্টা করছিলাম লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবন্টনের চিত্রটা বুঝতে।যত পুরোনো হচ্ছি কাজের বাজারে তত দেখছি ওপরের দিকে মহিলাদের সংখ্যা কমতে থাকছে। কর্পোরেট সেক্টরে প্রায়শই সংখ্যা দিয়ে দেখানো হয় অনেক মেয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও মাঝপথে ছেড়ে যাচ্ছেন বা কোনো রকমে ...
  • শকওয়েভ
    “এই কি তবে মানুষ? দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর ফিসফাস করে ওঠে যেন -আমাকে দয়া করে সাহায্য কর! এই, এই তো এক মানুষ এই ...
  • ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা
    নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত ...
  • একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প
    পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । ...
  • বসন্তকাল
    (ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন) 'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love' একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,ঢাকলো আকাশ,সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।রঙ ...
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)
    (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)----------১৯৪...
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
    ১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই দেশ সেই সময়

#পার্টিশানের_অজানা_কাহিনী ৩

১৯৪৭ এর ডিসেম্বর মাসে হুমায়ুনস টুম্ব রিফিউজি ক্যাম্পে একদিন দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য। ৫০০০ রিফিউজির একটি দল খাটিয়া , বড় বড় শস্যের বস্তা, টুকিটাকি ঘর গেরস্থালির জিনিষপত্র, মায় ছাঁকনি পর্যন্ত যাবতীয় গৃহস্থালির জিনিষপত্র সঙ্গে করে এসে ঢুকছে। যথেষ্ট সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান এই দলটিতে মেয়েরাও বেশ পরিপাটি গয়নাগাঁটিতে সেজেগুজে এসে হাজির। এঁরা কেন রিফিউজি ক্যাম্পে এসেছেন বোঝা যাচ্ছে না, কারণ এঁরা লুন্ঠিত, দাঙ্গাবিধ্বস্ত যে নন সে তো দেখেই বোঝা যাচ্ছে। জিগ্যেস করে এক অভিনব গল্প জানা গেল। ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ, মিস্টার এম এস রনধাওয়া মুলতান এবং সিন্ধ-এ তাঁর এবং তাঁর আত্মীয় বন্ধুদের ফেলে আসা ৪০,০০০ বিঘে জমির সাথে তিহারগাঁওয়ের জনৈক বদ্রে আলমের ১৩০০০ বিঘে জমি সম্পত্তি বিনিময় করেছেন, এর ফলে সেই জমিতে বিভিন্নভাবে কাজ করে জীবিকা নিরবাহ করে ৫০০০ মুসলমান ও ২০০০ হরিজনের জীবন ও জীবিকা ধ্বংস হতে বসেছে। তাই এঁরা পাকিস্তানে সেই বিনিময় হওয়া জমির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। ঘটনার আকস্মিকতা ও নুতনত্বে বিহ্বল হয়ে সুভদ্রা যোশী, আনিস কিদওয়াই প্রথমেই গেলেন বাপুজির কাছে, ‘এ কেমন করে সম্ভব? বিনিময়ের নিয়মকানুন তো সরকার থেকে এখনো কিছু স্থির হয় নি! আর একজন সরকারী কর্মচারী কীভাবে এই বেআইনী বিনিময় করতে পারে?' বাপু প্রশাসনিক স্তরে খোঁজ করে জানতে পারেন রনধাওয়াকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেলের দপ্তর থেকে! সুভদ্রা রাগে প্রায় পাগল হয়ে যান - এক্ষুণি ওদের চাকরি যাওয়া দরকার’। বাপু অসহায়ভাবে বলেন ‘নতুন যে আসবে সে কি আর কোন দেবদুত হবে! এখন মানুষ উন্মাদ হয়ে গেছে, শুভবোধ আর অবশিষ্ট নেই কারো।‘ এরপরে বাপুর নির্দেশে সুভদ্রা যান ওঁদের বুঝিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে ফেরাতে, কিন্তু তাঁরা এত বেশি ভীত সন্ত্রস্ত যে গ্রামে ফিরতে আর রাজী হন না, গ্রামে না ফিরতে পারলে তাঁদের পক্ষে পাকিস্তানই সবদিক থেকে ভাল এই কথাই বলেন তাঁরা বারেবারে। সুভদ্রা একা ও ইন্দিরা, জওহরলালের কন্যাকে নিয়ে বেশ কয়েকবার যান বোঝাতে। কিন্তু কিস্যু লাভ হয় না। শেষ পর্যন্ত বাপুও আসেন বোঝাতে, কিন্তু অসীম আতঙ্কে এঁরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। যেখানে সুভদ্রা বা আনিসের মত মহিলারা দাঙ্গায় ভাঙা দিল্লির মন্ডি থেকে রিফিউজি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের খাবার দাবার কিনে আনছেন সেখানে এই তিহারগাঁঅ থেকে সুস্থ সবল পুরুষগুলি ক্যাম্পের ভিতরে বসেও ভয়ে কাঁপছেন – আনিস বোঝেন কতটা আতঙ্ক আর অসহায়তা গ্রাস করেছে এঁদের।

অল্প কিছুদিন বাদেই সুভদ্রা জানতে পারেন ঐ একই তিহারগাঁও থেকে ২০০০ হরিজনকেও বার করে দেওয়া হয়েছে কারণ দিল্লির সরকার ওখানে পাকিস্তান থেকে আসা রিফিউজি পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তুলবে। সুভদ্রা আনিসকে বলেন ‘একটা জিপ সবসময় তোমার জন্য থাকে না? চল তো আমরা ঘুরে আসি একবার ওখান থেকে।‘ দিল্লি থেকে দশ মাইল দূরে তিহারগাঁও যাওয়ার পথে গাঁওয়ের অল্প খানিক আগে একটি শিবিরে স্বাস্থ্যবান তরুণদের শরীরচর্চা করতে দেখে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয় আনিসের। সুভদ্রাকে জিগ্যেস করে জানতে পারেন এটি রাষ্ট্রীয় স্বংসেবক সঙ্ঘের অ্যাকটিভিস্টদের শিবির। এরা দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য মহামিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রসঙ্গত এখানেই লিখে রাখা যাক, দিল্লির ঐ মহামিছিল সত্যিই এক বিশাল জাঁকজমকপূর্ণ মিছিল হয়। বিভিন্ন প্রিন্সলি স্টেটের মহারাজারা দিল্লি এসেছিলেন শুধুমাত্র মিছিলে যোগ দেবার জন্য। মহারাজা অব পাটিয়ালা, যাঁর এলাকায় বর্বরতম গণহত্যা দেখা গেছে , অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। দিল্লির শুভবুদ্ধিসম্পন্ন উদারচেতা মানুষজন অবাক হয়ে যান খাস দিল্লির বুকে আরএসএস-এর এই মিছিল ও তাঁর জাঁকজমক দেখে। অনেক পরে আনিসরা জানতে পেরেছিলেন সর্দার প্যাটেল মিছিল ও সভায় শুধু যে উপস্থিত ছিলেন তাই নয়, তথাকথিত ‘নায়ক’দের আশীর্বাদও করেন।

তিহারগাঁওএর সীমানায় পৌঁছে সুভদ্রা ও আনিস দেখেন তিন বৃদ্ধ গ্রামের ভিতরে নিজেদের ফেলে আসা বাড়ির দিকে উৎসুক করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। তাঁরা সুভদ্রাদের বলেন ‘বহেনজি দেখুন কি ভয়ানক অন্যায় অবিচার করা হচ্ছে আমাদের সাথে। আমাদের পৈত্রিক বাসস্থান, জমি কেড়ে নিয়ে উদ্বাস্তুদের দেওয়া হবে! আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছে গ্রামের বাইরে, গবাদি পশুগুলি পাশের গ্রামে নিয়ে বেঁধে রেখেছে। আমাদের বাচ্চারা, পশুগুলি এই শীতে বাইরে খোলা জায়গায় অভুক্ত রাত কাটিয়ে মরতে বসেছে।আজ দেখুন গোটা গ্রাম পরিস্কার করা হচ্ছে, শীঘ্রই এখানে ---“ বলতে বলতে অঝোরে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধেরা। সুভদ্রা জিগ্যেস করেন কে করাচ্ছে এইসব কাজ? কে দায়ী? উত্তর আসে ‘সরকার করাচ্ছে’ উত্তরটা প্রায় সাররিয়্যাল ঠেকে আনিসদের কাছে, অত্যাচারী ও অত্যাচারিত উভয়ের কাছেই ‘কে করেছে’ কার আদেশে হয়েছে’র একটাই উত্তর ‘সরকার’। বৃদ্ধেরা তাঁদের দুঃখের কাহিনী শুনিয়েই চলেন। ‘আমাদের গ্রাম ছিল এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় , সরকার প্রথমে এখানে একটা উদ্বাস্তু ক্যাম্প বসিয়ে বাইরে থেকে মুসলমান পরিবার এনে সেখানে রাখল। আমরা পছন্দ করি নি, তাদের সাথে কিছু কিছু কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। তবে আমাদের গ্রামের মুসলমানদের সাথে আমাদের কোন অসদ্ভাব ছিল না। এরপর একদিন সরকারি তেহশিলদার এল পুলিশ নিয়ে, বলল সরকারের আদেশে সব মুসলিমকে শহরের ক্যাম্পে চলে যেতে হবে। গ্রামের সব মুসলমান তখন বাধ্য হয়ে নিজেদের লাঙল বলদ বেচে দিয়ে যতটা পারা যায় অস্থাবর সম্পত্তি সঙ্গে নিয়ে ট্রাকে চড়ে চলে গেল। তার দুই একদিনের মধ্যেই আমাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে গ্রামের বাইরে তাড়িয়ে দিল। এখন দেখো গ্রামটা শরনার্থী উদ্বাস্তুদের বসবাসের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমাদের বাড়িগুলো ওদের দিয়ে দেওয়া হবে। আমরা একবার দেখতে গেলেও মার মার করে তাড়িয়ে দেয়।‘

গ্রামে ঢুকে দেখা গেল গ্রামটি বেশ সম্পন্ন ছিল, বেশ কিছু পাকা দোতলা বাড়ি ও বাকি সব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কুঁড়ে। সুভদ্রাদের পায়ের আওয়াজে কয়েকটি বাড়ি থেকে কিছু কুকুর খাবার না পেয়ে পেয়ে চিমসে পেট আর টলমলে পায়ে এগিয়ে এসে উঁকি মেরে ওঁদের দেখছিল। ওঁরা টহলরত এক পুলিশকর্মীর সাহায্যে প্রকল্পের জিম্মাদার পরিদর্শকের সামনে উপস্থিত হন পুরো ব্যপারটা বুঝতে। পরিদর্শক তখন একটি গাছের তলায় বসে বাড়িগুলি খালি করা দেখছিল, বাড়িগুলি থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহার্য্য জিনিষপত্র টেনে এনে এক জমিদারবাড়ির উঁচু বারান্দায় স্তুপ করে রাখা হচ্ছিল। পরিদর্শক মহাশয় সুভদ্রাদের দেখে উঠে দাঁড়িয়ে ওঁদের সঙ্গের তিন বৃদ্ধকে দেখেই ‘আবার এসেছ তোমরা! যাও যাও এখান থেকে শিগগির’ বলে চেঁচিয়ে উঠতেই আনিস বাধা দেন। শান্তকন্ঠে বলেন এই বাড়িগুলি, গ্রামটি ওঁদেরই, ওঁদের ভিটে থেকে ওঁদের এইভাবে তাড়ানো! এ কেমন ব্যবহার? কেন এই অকারণ হিংস্রতা? পরিদর্শক বলে ‘আপনি জানেন না ম্যাডাম এরা চোর। একটু চোখ ফেরালেই এরা চুরি করে নেয়।‘ বৃদ্ধদের বলে যাও যাও তাড়াতাড়ি যাও এখান থেকে’, চোখ মুছতে মুছতে চলে যান তাঁরা। ইচ্ছা করেই নিজেদের পরিচয় না দিয়ে ওঁরা দুজন একটা চারপাই টেনে বসেন কথা বলতে। জিগ্যেস করেন ‘আপনি তাহলে গ্রামটা পরিস্কার করাচ্ছেন? খুব নোংরা ছিল তাই না? শরনার্থীরা আসবে এখানে?’ লোকটি উত্তর দেয় ‘হ্যাঁ এই গ্রাম আর তার চারপাশের জমি শরনার্থীদের জন্য মঞ্জুর করা হয়েছে। সুভদ্রারা জিগ্যেস করেন এই জমিগুলো এখন তাহলে কাস্টডিয়ান অব ইভ্যাকুইয়ি প্রপার্টি’র অধীনে? উত্তর আসে হ্যাঁ তাই। এছাড়া এখানে একটি কৃষি মহাবিদ্যালয় ও তৎসংলগ্ন খামার তৈরী হবে স্থির হয়েছে, সরকারের মস্তবড় পরিকল্পনা আছে এই এলাকা নিয়ে। মাথা ঠান্ডা রেখে ঘনিষ্ঠভঙ্গীতে জিগ্যেস করেন ‘কিন্তু ভাই হিন্দুদের জমিবাড়ি কী করে উদ্বাস্তু সম্পত্তির আওতায় গেল বলত?’ লোকটি বলে কেন সমস্যা কী? কত হিন্দুও তো বাড়িঘর ফেলে পালিয়েছে। আনিসরা তাও বলেন ‘কিন্তু ভাই মুসলিমরা এখানে বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে পাকিস্তানে গিয়ে জমিবাড়ি পাবে, সেখানে খেতি করবে। এখানকার চাষীরা কী করবে? জমি ছাড়া ওরা তো না খেতে পেয়ে মরে যাবে’। লোকটি নির্বিকারভাবে বলে ‘সে ওদের নাহয় এখানে যে খামার তৈরী হবে, সেখানে অল্প কিছু জমি দেওয়া যাবে। আর নয়ত যে সব শরনার্থীরা এখানে বাস করতে আসবে তাদের বাড়ি বা জমিতে ওরা কিছু কাজ ফাজ করবেখনে’। এবারে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে --- ঠান্ডা কঠিন গলায় সুভদ্রা বলেন ‘ এই গোটা ব্যপারটায় কোন অন্যায় দেখতে পাচ্ছ না? নিজেদের জমিতে ওঁরা জনমজুর হিসেবে খাটবেন? ওঁদের যেখানে কোথাও পালাতে হয় নি, কোন দাঙ্গার শিকার হন নি, সেখানে নিজেদের মালিকানাভুক্ত জমি অন্যে নিয়ে নেবে এবং সেখানেই তাঁরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করবেন?’ এতেও কোন বিকার নেই, কোন হেলদোল নেই পরিদর্শক মশাইয়ের – ‘আরে সেরকম মরীয়া হলে ওদের এটাই মেনে নিতে হবে তাই না?’ আনিস কঠিন কন্ঠে জানতে চান ‘ঠিক কার আদেশে এইসব হচ্ছে? তোমার নাম কী?’ ‘কার আদেশের কোন উত্তর লোকটির কাছে ছিল না, থতমত খেয়ে নিজের নামটি জানায় মাত্র।

ফেরার পথেই দুজনে আলোচনা করে স্থির করেন সুভদ্রা যাবেন বাপুর কাছে আর আনিস প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করবার চেষ্টা করবেন। বাপু এবং প্রধানমন্ত্রী দুজনেই যেমন বিস্মিত তেমনি ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ। জওহরলাল বলেন ‘কিন্তু গ্রামবাসীরা বাড়ি ছাড়ল কেন? আমি আর আমার মেয়ে তো গিয়ে পরিস্কার বলে এসেছিলাম হিন্দু মুসলমান যাঁরাই গ্রামে থাকতে চান অবশ্যই থেকে যাবেন। জওহরলাল বোধহয় জানতেন না ‘রাজা যত বলে পারিষদ দলে বলে তার শতগুণ।’দুটো সমান্তরাল প্রশাসন চলেছে। ন্যায় ও সত্যের পথে নিতান্ত মুষ্টিমেয় কিছু লোক, বেশীটাই মিথ্যা ও অন্যায়ের পথিক। যাই হোক এর পরে আর তেমন কিছু নেই। বাপু ও নেহেরু দুজনেই স্থানীয় প্রশাসনের কৈফিয়ৎ তলব করেন। বাপু সুভদ্রাকে বলেন প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে সুভদ্রা ও আনিস যেন আবার গিয়ে গ্রামবাসীদের যার যার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন। তা ওঁরা যানও। এবারে আর পরিদর্শক ও তার কর্মচারীরা কেউ একটাও কথা বলতে সাহস পান না।

এ তো একটি গ্রামের কথা আমরা জানতে পারছি আনিস কিদওয়াইয়ের মেমোয়ার্স 'আজাদি কি ছাঁও মে'র ইংরাজী অনুবাদ 'ইন ফ্রিডম'স শেড' থেকে। আরো কত এরকম হয়েছে তার বোধহয় কোন হিসেব কোথাও নেই। 'হরিজন' শব্দটা অনেকদিন বাদে চোখে পড়ল। এই ঘটনাটি পড়েছি প্রায় দশ বারো দিন আগে, অদ্ভুত অস্বস্তি যাচ্ছে না তার পর থেকে। 'হরিজন' দের জমি, মুসলমানদের জমি (সীমানার ওপারে হিন্দুদের জমি) দোখল করার ঐতিহ্য অনেক পুরানো, যা দেখছি ঐ ঘোর ক্রান্তিকালেও তার কোনও ব্যতিক্রম হয় নি।

674 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: এই দেশ সেই সময়

যাঃ ব্লগে বিষয়ভিত্তিক ট্যাগ দেওয়া যাচ্ছে না।
Avatar: স্বাতী রায়

Re: এই দেশ সেই সময়

সেই রাজা যত বলে .....

কাল মান্টো দেখতে গিয়েছিলাম. দেখতে দেখতে দ র লেখার কথাই ভাবছিলাম. বিট্রেয়াল পর্ব মনে পড়ল. দ কে একটু মনে পড়িয়ে দিলাম সেটাও লেখার কথা
Avatar: i

Re: এই দেশ সেই সময়

১,২ কোথায়?
Avatar: দ

Re: এই দেশ সেই সময়

স্বাতী, হ্যাঁ লিখছি তো। আসবে আসবে। সিজন-১ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

i,
এটা আসলে ৪, ভুল করে ৩ লিখেছি। নিজেই কমেন্ট করে ফেলায় আর ঠিক করতে পারি নি। ২ আর ৪ এখানেও আছে। ১ থেকে ৪ সবকটাই ফেবুতে আছে। নিজের ব্লগেও। তবে নিজের ব্লগেরটা পাবলিক করা নেই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন