Bishan Basu RSS feed

Bishan Basuএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সেন্সরের হাত থেকে বাঁচার সহজ উপায়
    অনেকেই বুঝতে পারছেননা, ভবিষ্যতের ভূত বাতিল হয়েছে স্রেফ শিল্পগত কারণে। বাংলায় এখন শিল্পী একজনই, ভুল করলে তিনি কান মলে দেবেনই। কেউ সেটা না বুঝলে তার একমাত্র কারণ, তিনি মাননীয়ার কবিতা খুঁটিয়ে পড়েনি। পুরোটাই শিক্ষার অভাব। মাননীয়া তাঁর 'নামতা' শীর্ষক কবিতায় ...
  • জঙ্গিবাদ প্রবণতা তৈরির ক্ষেত্রে অনেকাংশেই দায়ী সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধ
    জঙ্গিবাদ বর্তমান বিশ্বের একটি অন্যতম সমস্যা ও সব থেকে উত্তপ্ত টপিকগুলোর মধ্যে একটি। জঙ্গিবাদকে ঠেকানোর জন্য সব সময়ই নতুন নতুন পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, নেয়াও হচ্ছে। কিন্তু কোন সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে সেই সমস্যার কারণ জানাটা আবশ্যক। আর সেই ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৬)
    মারখা – থাচুংসে (০৬.০৯.২০১৮)--------...
  • শেষ অস্ত্র
    ইঁদুরের উপদ্রব এতোই বেড়েছে যে, তাদের যন্ত্রণায় বেঁচে থাকাটা দায় হয়ে পড়েছে। আব্দুর রহমান সাহেব তার এই পঞ্চাশ বছরের জীবনে এমন ইঁদুরের বিস্তার দেখেন নি। সারা বাড়িতে ইঁদুর আর ইঁদুর। দিনে দুপুরে দেখা যায় ইঁদুরেরা দলবল নিয়ে ঘোরাঘোরি করছে। এতোসব ইঁদুরকে ...
  • জার্ণাল ২০১৯ - ২
    জার্ণাল ২০১৯ লেখা শুরু হয়েছিল বছরের গোড়ায়। যেমন হয়, বাকি পড়ে, কিছু লেখাও হয়। আগের লেখার নিচে পর পর জুড়ব ভেবেছিলাম, তা আর হচ্ছে না, তার বদলে আগের লেখার লিঙ্ক রইল। http://www.guruchand...
  • শ্রীপঞ্চমী: পুণ্য মাঘ মাস
    "যায় অন্তরীক্ষেতে অঙ্গদ ডাকাবুকা।বায়ুভরে উড়ে যেন জ্বলন্ত উল্কা।।লঙ্কাপুরী গেল বীর ত্বরিত গমন।পাত্রমিত্র লয়ে যথা বসেছে রাবণ।।"গল্পটি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক সৌমেন্দ্রনাথ পালের কাছে শোনা। সৌমেনবাবু আমার বাবারই বয়েসী ছিলেন। স্যারের জন্মদিন বোধহয় 11ই মার্চ, বাবার 5ই ...
  • অভাজনের ভারত ভ্রমণ
    ছোটবেলায় একবার আমার প্রায় ভারত ভ্রমণ হয়েই গিয়েছিল। আমার ছোটবেলা বলতে ১৯৯৭ সালের কথা। ক্লাস সিক্সে পড়ি। স্কুল থেকে পিকনিকের আয়োজন করা হল। আমাদের শেরপুরের গজনীতে যাওয়া হবে। গজনীর পাস দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরেখা। একটু বেখেয়ালে একটু বেশি হাঁটলে নিজের অজান্তেই ...
  • শ্রীপঞ্চমী
    তখন চন্দ্র সূর্য উঠত, দু'শো ছয় সারা কলকাতা ঘুরে করুণাময়ী পৌঁছত। অনেকটা যেন, সারা দিন সারা রাত মিউজিকাল চেয়ার খেলার মতো — কে তোমাকে স্কুলে নিয়ে যেতে পারে, কে আবার ফেরাবে বিকেলে, যখন রোদ্দুরের তাত কিছুটা উতপ্ত হয় তোমার কপালে হাত রেখে। যে তোমাকে পেত, সেই ...
  • বাস্তুহারা
    ।। ০।। সেদিন সদর শহরের কাছের ক্যান্টনমেন্টে এক ছোকরা অফিসার ছুটতে ছুটতে এসে তার লাঞ্চরত সুপারভাইজারকে খবর দিল, স্যার আকাশে একটা ইউ এফ ও র মত কি দেখা যাচ্ছে। স্যর যখন ন্যাপকিনটি নামিয়ে, সেটি প্লেটের পাশে গুছিয়ে রেখে হাত মুখ ধুয়ে ধীরে সুস্থে এসে টেলিস্কোপে ...
  • হৃদয়হীন
    টনটনে একটা ব্যথায় ঘুম ভেঙে গেলো নাটার। গত পরশু রেললাইনের পাশে ঝুপড়িতে পেটো বাঁধতে গিয়ে বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল আর তর্জনী উড়ে গ্যাছে। বছর দশেক বয়স থেকে পেটের ধান্ধায় হাত সাফাই, পকেটমারি, পেটো বাঁধা চালাচ্ছে। এই তেরো বছর বয়েসে প্রথম বিপদ। শালা বেশি টাইট করে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

একটি বই, আর আমার এই সময়

Bishan Basu

একটি বই, আর আমার সময়

বিষাণ বসু



একটি আশ্চর্য বইয়ে বুঁদ হয়ে কাটলো কিছু সময়। দি রেড টেনডা অফ বোলোনা।

প্রকাশক পেঙ্গুইন মডার্ন। দাম, পঞ্চাশ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকা।

বোলোনা ইতালির এক ছোটো শহর। শহরের সব জানালার বাইরে সানশেডের মতো করে মোটা কাপড়ের ছাউনি। সেই ছাউনির রঙ লাল। সব বাড়িতেই। সময়ের প্রভাবে, কোনোটি উজ্জ্বল, কোনোটি বা ফিকে হয়ে আসা লাল। স্থানীয় ভাষায়, সেই ক্যানভাস কাপড়ের ছাউনির নাম টেনডা। টেন্ট শব্দটি কি একই সূত্র থেকে এসেছে? জানিনা। লেখক প্রশ্ন করেন নি। আমারও প্রশ্ন জাগে নি পড়ার মুহূর্তে। এখন মনে হলো।

লেখক জন বার্জার। গত শতকের দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে, তিনি আমাদের দেখার চোখ বা পড়ার মনকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন, তার জুড়ি মেলা ভার।

এটাকে বই বলা যায় কি না, বলতে পারবো না। মাত্র ছাপ্পান্ন পাতা। কোনো কোনো পাতায় মাত্র দুটি কি চারটি লাইন।

কাকার সাথে বার্জারের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ। বোলোনা শহরের গল্প। ছাড়া ছাড়া।

শুরুতেই লেখক বলে নেন, প্রথমেই জানিয়ে দিতে চান, তিনি তাঁর কাকাকে কেমনভাবে ভালোবাসতেন, কীভাবে ভালোবাসতেন, ঠিক কতোখানি না বোঝা মিশে ছিলো সেই ভালোবাসায়। প্রথাগত অর্থে ব্যর্থ সেই কাকাকে কৈশোরে পা রাখা বার্জারের ভালোবাসা, যাঁর ছায়া রয়ে যাবে বার্জারের পরবর্তী জীবনভর।

এ এক আশ্চর্য সম্পর্কের গল্প। ফেলে আসা সময়ের স্মৃতিচারণ। যখন মানুষ বেড়াতে যেতেন, কিন্তু পর্যটন শিল্পের জন্ম হতে পারেনি। শেষ লাইনটা বার্জারের, আমার নয়।

অব্যর্থভাবে আসে বোলোনা। বোলোনা, যে শহরে ফিরে যাওয়া যায় বারবার, ফিরতেই হয়।

বোলোনা অবশ্য জর্জিও মোরান্দি-রও শহর। বিগত শতকের এক অনন্য শিল্পী। যিনি বাড়ি ছেড়ে, বাড়ির শহর ছেড়ে, আজীবন নড়বেন না প্রায় কোথাও-ই। আর, সামান্য কয়েকটি রঙের ব্যবহারে, ফুটিয়ে তুলবেন কিছু স্টিললাইফ, প্রায় একই কিছু সামগ্রী ফিরে আসবে বারবার তাঁর ছবিতে। লেখকের কাকার ভাষায়, এক অত্যন্ত নীরব চুপচাপ মানুষ এই মোরান্দি। না, তিনি মোরান্দিকে দেখেন নি। তাঁর বোলোনা যাত্রার আগেই মোরান্দি মারা গিয়েছেন। কিন্তু, মোরান্দির ক্যানভাস থেকেই তো চেনা যায় তাঁকে।

কাকার সাথে বার্জার বোলোনা যেতে পারেন নি। তিনি যান, পরে, কখনো।

রাস্তায় ঘুরে, চার্চে, বোলোনার বড়ো চত্বরে, টেনডা কাপড়ের দোকানে, স্মৃতিসৌধের সামনে বার্জারের অনুভবের ঠিক কোনখানে মিশে সহচর থাকেন সেই কাকা।

একটি বড়ো দেওয়ালের গায়ে কয়েক হাজার মানুষের সাদাকালো ছবি, নামসহ রাখা থাকে। তাঁরা শহীদ। এই শহরে, ফ্যাসিজম বিরোধী আন্দোলনে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের এক চতুর্থাংশই নিহত হন। কয়েক হাজার শহীদ। একটি ছোটো শহরে।

আমাদের চিন্তার স্বাধীনতা, ইচ্ছেমত কথা বলার স্বাধীনতার মূল্য তো কম নয়!!

শহরে ঘুরতে ঘুরতে বার্জারের কানে আসে, কাকার সাথে কথোপকথন।

দ্যাখ, শহীদরা কিন্তু খুব সাধারণ মানুষ। তাঁরা ক্ষমতাধর নন। হ্যাঁ, মৃত্যুর পর কিছু ক্ষমতা হয়তো তাঁদের নামের সাথে জড়িয়েই যায়, কেননা, তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন।

আর, শহীদরা ঈর্ষনীয়ও। হ্যাঁ, তাঁদের যে যন্ত্রণা পেতে হয় শেষ মুহূর্তে, সেইটা খুব কষ্টকর, আর সহানুভূতির যোগ্য। কিন্তু, শহীদরা জানতে পেরেছেন, কীভাবে স্পর্শ পেতে হয়, যেটা বাকি লড়িয়েরা জানতে পারেন না। সেইজন্যেই, শহীদেরা ঈর্ষনীয়।

আর হ্যাঁ, মৃত্যুর আগে, শহীদেরা জানতে পারেন, তাঁদের জীবন কোনো একটা উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে নিয়োজিত হলো। হ্যাঁ, সেই উদ্দেশ্য যদি ভুল হয়, তা-ও শহীদের জীবন ঈর্ষনীয়।

শহীদের মৃত্যুর উদ্দেশ্য, যাতে তাঁরা সর্বত্র আবাস পান, সবার গৃহে, সকলের অন্তরে। যখন শহীদপূজা শুরু হতে থাকে অট্টালিকা প্রাসাদে, সেইখানেই শহীদের প্রস্থান।

ছোটো ছোটো প্রাত্যহিকতা নিয়ে ছোটো ছোটো মানুষের বেঁচে থাকার সাথে তাই শহীদ হওয়ার খুব মিল। দুটোই, মৃত্যু নয়, বেঁচে থাকার সাথেই মিলেমিশে যায়।

বার্জারের ছাড়া ছাড়া অনবদ্য কথনের রেশ রয়ে যায় বই শেষ করার পরেও, বহুদূর পর্যন্ত।

একসময় ঘোর কাটে।

তাকিয়ে দেখি, আমি রয়েছি, এই পশ্চিমবঙ্গে, কলকাতা শহরে।

অনেক লাশের পাহাড় আমাকে ঢেকে ফেলেছে। এক সেতুর ভেঙে পড়ার অব্যবহিত কাল পরেই এক বাজারে আগুন। উর্দুর পরিবর্তে বাংলাভাষার শিক্ষক চেয়ে খুন হয় ছাত্র। সব সাধারণ মুখ শহীদ হলে, তাঁরা কি ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন? নিদেনপক্ষে, ক্ষমতার্জনের পথে অনিবার্য বোড়ে?

আর, সব শহীদই কি ক্ষমতার ঘটা করে শোকপালনের শেষে পাগলু ড্যান্স ড্যান্স নাচ দেখে গৃহত্যাগী হতে পারেন?

শহীদের কথা বলতেই, অনিবার্যভাবে, বার্জারের মনে পড়ে যায়, ক্যারাভেজিও অঙ্কিত শেষ ছবি, উরসুলার শহীদ হওয়া। মিথের চরিত্র উরসুলা, নিজের প্রাণ বাঁচানোর শর্তে এটিলার পত্নী হতে চান নি। পরিণামে, এটিলার হাতেই নিহত হন তিনি।

উপস্থিত বাকিদের চোখে মৃত্যুর আকস্মিকতার অভিঘাত আর উরসুলার চোখে আত্মুমর্যাদামিশ্রিত বিস্ময় অমর হয়ে গিয়েছে ক্যারাভেজিও-র তুলিতে।

কিন্তু, ব্রীজের তলায় সঙ্গীদের জন্যে রান্না করছিলেন যিনি? বা, ইসলামপুরের সেই ছাত্ররা? তাঁরাও কি অমর হতে পারবেন?

তাঁরা কিসের জন্যে শহীদ হলেন? নাকি, এ শুধু মরে যাওয়া, শহীদ হওয়া নয়?

তাঁরা কি উন্নয়নের বলি? রাজনীতির বোড়ে? শিকার রাষ্ট্রীয় ঔদ্ধত্যের? প্রশাসনিক অপদার্থতার?

আর, আগুনে পুড়ে যাওয়ার জন্যে রুটিরুজি হারালেন যে কয়েকশো, নাকি কয়েক হাজার, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করা মানুষ? তাঁদের ভোটে নির্বাচিত সরকার আঠাশ কোটি টাকা পুজোর চাঁদা দিতে পারেন, কিন্তু তাঁরা তো মূলস্রোতে ইনভিজিবল।

আর, আমাদের এই ছোটো ছোটো ভালো লাগা নিয়ে ছোটো ছোটো বেঁচে থাকা? এও কি এক সম্মিলিত প্রতিরোধ?

এও কি বেঁচে থাকা?

নাকি শুধুই, নিস্পৃহ আত্মকেন্দ্রিকতা?


583 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: একটি বই, আর আমার এই সময়

প্রশ্নগুলো খুব জ্বালাচ্ছে আজকাল!
Avatar: Bishan Basu

Re: একটি বই, আর আমার এই সময়

বেড়াতে যাওয়া শিল্প হলেও, আমার কখনো ইতালি যাওয়া হবে না। বিষাণ বাসুর উল্লেখিত বইটিও পড়িনি। কিন্তু বোলোনাকে আমি দেখেছি, দেখেছি আমার দেশে। উত্তরবঙ্গের একটি ছোট্ট শহর। যার উত্তরে নজর দিলে নজরে আসে নীল পাহাড়, বরফের মুকুট তার মাথায়। সবুজ, নির্জন শহরের একটি থানায় ঘটলো এমনই একটি ফ‍্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলন। কাঞ্চনজঙ্ঘার সাদা বরফ আর সবুজ চায়ের বাগান আর তার সাথে শালের জঙ্গলে লাগলো আগুনের রঙ। বহু যুবক কিশোরের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে সে আন্দোলন ছড়িয়ে পরলো দেশের দূর প্রান্তে।
বোলোনার মানুষ একসময় হয়তো তাদের লড়াইয়ে জিতে গেছে, কিন্তু এ দেশের একই মতাদর্শের স্বৈরাচারী শাসকেরা সাংবিধানিক বাহুবলী ভাড়াটে সৈনিক দিয়ে দমিয়ে রেখেছে, সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়া।
বিষাণ বাসুকে ধন্যবাদ এমন চমৎকারভাবে একটি বইয়ের প্রসঙ্গে দেশের অরাজক অবস্থার বর্ণনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।
Avatar: Bishan Basu

Re: একটি বই, আর আমার এই সময়

খুব ভালো লাগল


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন