Debasis Bhattacharya RSS feed

Debasis Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • একটি বই, আর আমার এই সময়
    একটি বই, আর আমার সময়বিষাণ বসুএকটি আশ্চর্য বইয়ে বুঁদ হয়ে কাটলো কিছু সময়। দি রেড টেনডা অফ বোলোনা।প্রকাশক পেঙ্গুইন মডার্ন। দাম, পঞ্চাশ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকা।বোলোনা ইতালির এক ছোটো শহর। শহরের সব জানালার বাইরে সানশেডের মতো করে মোটা কাপড়ের ...
  • রবি-বিলাপ
    তামুক মাঙায়ে দিছি, প্রাণনাথ, এবার তো জাগো!শচীন খুড়ার গান বাজিতেছে, বিরহবিধুর।কে লইবে মোর কার্য, ছবিরাণী, সন্ধ্যা রায়, মা গো!এইক্ষণে ছাড়িয়াছি প্রিয়ঘুম, চেনা অন্তঃপুর।তুহু মম তথাগত, আমি আজ বাটিতে সুজাতা।জাগি উঠ, কুম্ভকর্ণ, আমি বধূ, ভগিনী ও মাতা।তামুক সাজায়ে ...
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...
  • আমি সংখ্যা লঘুর দলে...
    মানব ইতিহাসের যত উত্থান পতন হয়েছে, যত বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তার মধ্যে বর্তমানেও যা প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে এমন কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরণার্থী সমস্যা। হুট করে একদিন ভূমিহীন হয়ে যাওয়ার মত আতঙ্ক খুব কমই থাকার কথা। স্বাভাবিক একজন পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে ...
  • প্রহরী
    [মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .......................


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

প্রহরী

Debasis Bhattacharya

[মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .....................


বাড়ি থেকে পঞ্চাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরের এক গ্রহের মাটিতে কর্তব্যরত সে, জলে-কাদায় যতটা মাখামাখি, খিদে আর শীতে তার চেয়ে কিছু কম নয় ।

এখানে আলোটা পাওয়া যায় এক বিদ্‌ঘুটে নীল রঙের সূর্য থেকে, আর মাধ্যাকর্ষণের যা দশা সে আর বলে কাজ নেই । সে যাতে অভ্যস্ত তার দ্বিগুণ মাধ্যাকর্ষণ এখানে, নড়াচড়া করাই দায় ।

যুদ্ধের এমন কতকগুলো মৌলিক ব্যাপার আছে, লাখো বছরেও যার কোনও পরিবর্তন হয়না । যারা আকাশে উড়ে উড়ে যুদ্ধ করে তারা তোফা আছে, নিজেদের ছিমছাম মহাকাশযান আর ঝিন্‌চ্যাক অস্তরশস্তর নিয়ে । কিন্তু সময় যখন খারাপ আসে তখন স্রেফ নিজের পায়ে ঠায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রক্ত ঘাম ঝরিয়ে ঘাঁটি আগলাতে হয়, এক পা এক পা করে এগোতে হয়, তখন যে এই পদাতিক শর্মারা ছাড়া আর গতি নাই হে ! এই যে এক অজানা তারার এই জঘন্য গ্রহটা, যার কথা এখানে এসে নামবার আগে সে কোনওদিন শোনেইনি, সেখানেও তো ঠিক সেই ব্যাপারটাই ঘটছে । এই গ্রহ এখন এক পবিত্র লড়াইয়ের স্থান হয়ে উঠেছে, কারণ, এখানেও এসে পৌঁছেছে ওরা । ‘ওরা’, মানে সেই দেখলেই-গা-ঘুলিয়ে-ওঠা নিষ্ঠুর কুৎসিত ভিনগ্রহী দানবগুলো, এ গ্যালাক্সির অন্য আর একমাত্র বুদ্ধিমান জাত ।

খুব ধীরে ধীরে বহুকষ্টে হাজার কয়েক গ্রহ দখলে আনার পর ওদের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি জায়গায়, আর তারপর থেকে দেখা হয়েছে কি যুদ্ধ । শান্তি চুক্তি আপস রফা এ সবের তোয়াক্কা করেনা ওরা, দেখতে পেলেই সটান অস্ত্র চালিয়ে দেবে ।

কাজেই, একের পর এক গ্রহের মাটিতে শুধু তিক্ত লড়াইটা লড়ে যাওয়া, এ ছাড়া আর পথ নেই ।

একেই জলেকাদায় চুপচুপে শরীর, তার ওপর খিদে আর শীত, আর তারও ওপরে এক তীব্র কঠিন বাতাস উঠেছে আজ, তার ঘষা খেয়ে চোখ জ্বালা করছে তার । কিন্তু, চুপিসারে ঢুকতে চাইছে ভিনগ্রহীরা, কাজেই প্রহরীর প্রতিটা গুমটিই এখন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ।

উদ্যত অস্ত্র হাতে হুঁশিয়ার আছে সে, পঞ্চাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরের এই অদ্ভুত রণাঙ্গনে । বেঁচে বাড়ি ফেরা, সে কি আর হবে কোনওদিন ?

ওই যে, ওই যে, গুঁড়ি মেরে এগোচ্ছে একজন । নিখুঁত লক্ষ্যে অস্ত্র চালাল সে । ভিনগ্রহী দানব এক বীভৎস আওয়াজ তুলেই নিথর হয়ে পড়ে গেল । মরার সময়টায় ঠিক ওই রকমই করে ওরা ।

দানবটার আর্তনাদ আর ওই পড়ে থাকা দেহটায় একটু শিউরে উঠল সে । অনেকদিন ধরেই তো হচ্ছে, এতদিনে তার এইসব সয়ে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সে আর কোনওদিন পেরে ওঠা হল না তার । উফ, এত কুৎসিতও হতে পারে কোনও জীব ! মাত্রই দুটো করে হাত আর পা, ভয়ঙ্কর ফ্যাকাশে চামড়া, এবং, এবং, এবং ............... তাদের শরীরে কোনও আঁশ নেই !



10 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: প্রহরী

আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি অনুবাদকের দক্ষতায় লেখার শৈল্পিক গুন বেড়ে যাওয়া টাই বড় প্রাপ্তি।
তৃপ্ত হলাম।
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: প্রহরী

ধন্যবাদ । কিন্তু, মন্তব্যটা আমার নামেই এল । কে বললেন ?
Avatar: pi

Re: প্রহরী

আবার সেই বাগঃ( লেখকের নামে চলে আসছেঃ(। এটা কী আসে দেখি।
Avatar: b

Re: প্রহরী

ইয়ে, এগুলো টুকরো টুকরো করে না করে, ব্লগে পর পর দিলে হয় না?
সিরিজটা দারুণ হচ্ছে।
Avatar: দ

Re: প্রহরী

এটা তো ব্লগই, টই তো নয়। লেখক পরপর অ্যাপেন্ড না করে আলাদা আলাদা লিখছেন এই যা।
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: প্রহরী

না, এবার আর মন্তব্য আমার নামে আসেনি, ঠিকঠাকই এসেছে । উৎসাহ দেবার জন্য সবাইকেই ধন্যবাদ । গোটাতিনেক মাত্র ছোট্ট ছোট্ট অনুবাদ দিয়েছি, একে 'সিরিজ' আখ্যা দেবার সময় বোধহয় এখনও আসেনি । তবে, আরও কয়েকটা করার ইচ্ছে আছে, নিজের লেখা গল্পও হয়ত দুয়েকটা দেব, যদি শেষপর্যন্ত তা পেরে উঠি তখন এটা 'সিরিজ' আখ্যা পেলেও পেতে পারে । একসঙ্গে কয়েকটা দিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু সেক্ষেত্রে পরপর সব দ্রুত নামাতে হবে, টানা অতটা সময় পাই না, একটু অনিয়মিতভাবেই করি ব্যাপারটা । আর, বিভিন্ন লেখকের ঠিক ওই রকম উচ্চমানের কল্পবিজ্ঞান অণুগল্প খুঁজে খুঁজে বার করাও একটা সমস্যা । তার ওপর আবার, এর মাঝে মাঝে প্রবন্ধ-নিবন্ধ গোছের কিছু কিছু গদ্যও ঢুকে যাবে । ফলত, কিঞ্চিৎ উস্কোখুস্কো ভাব অনিবার্য বলেই মনে হচ্ছে । আশা করি, আপনাদের তরফ থেকে শুধু উৎসাহ নয়, সুচিন্তিত সমালোচনা ও মূল্যবান পরামর্শও পাব ।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন