Prosenjit Bose RSS feed

Prosenjit Boseএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • একটি বই, আর আমার এই সময়
    একটি বই, আর আমার সময়বিষাণ বসুএকটি আশ্চর্য বইয়ে বুঁদ হয়ে কাটলো কিছু সময়। দি রেড টেনডা অফ বোলোনা।প্রকাশক পেঙ্গুইন মডার্ন। দাম, পঞ্চাশ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকা।বোলোনা ইতালির এক ছোটো শহর। শহরের সব জানালার বাইরে সানশেডের মতো করে মোটা কাপড়ের ...
  • রবি-বিলাপ
    তামুক মাঙায়ে দিছি, প্রাণনাথ, এবার তো জাগো!শচীন খুড়ার গান বাজিতেছে, বিরহবিধুর।কে লইবে মোর কার্য, ছবিরাণী, সন্ধ্যা রায়, মা গো!এইক্ষণে ছাড়িয়াছি প্রিয়ঘুম, চেনা অন্তঃপুর।তুহু মম তথাগত, আমি আজ বাটিতে সুজাতা।জাগি উঠ, কুম্ভকর্ণ, আমি বধূ, ভগিনী ও মাতা।তামুক সাজায়ে ...
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...
  • আমি সংখ্যা লঘুর দলে...
    মানব ইতিহাসের যত উত্থান পতন হয়েছে, যত বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তার মধ্যে বর্তমানেও যা প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে এমন কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরণার্থী সমস্যা। হুট করে একদিন ভূমিহীন হয়ে যাওয়ার মত আতঙ্ক খুব কমই থাকার কথা। স্বাভাবিক একজন পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে ...
  • প্রহরী
    [মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .......................


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সতী

Prosenjit Bose

সতী : প্রথম পর্ব
প্রসেনজিৎ বসু

মেয়েটা মাসতিনেক হল এসেছে এই পাড়ায়।
মেয়ে ? এই হয়েছে শালা এক মুশকিল ! বিয়ের পর মেয়েরা বউ হয়, কিন্তু ডিভোর্সের পর তারা কি বউই থাকে ? নাকি ফের মেয়ে বনে যায় ? জল জমে বরফ হয়। বরফ গললে আবার জল। কিন্তু এক্ষেত্রে ? ডিভোর্সি মহিলারা ঠিক কী শালা ? কুমারী নয়, কারণ ফুলশয্যা হয়ে গেছে। সধবা নয়, কারণ বর্তমানে বর নেই। আবার বিধবাও নয়, কারণ বর মরেনি। তাহলে ? ধ্যার ওয়াড়া ! ছেলেদের নিয়ে এসব ঝামেলা নেই। ছেলে ছেলেই। জল-বরফ-বাষ্প কিস্যু নয়। ছেলে।

তো কথা হচ্ছিল এই ডিভোর্সি মেয়েছেলেটাকে নিয়ে। সারা পাড়া জুড়েই হয়। কালভার্টের মধ্যে একটা সবে-জন্মানো বাচ্চা পাওয়া গেল যেদিন, সেদিন সেটাকে নিয়েও এতটা কথা হয়নি, যতটা হয় এই মহিলাটাকে নিয়ে। একে মহিলা, তায় যুবতী, তায় সুন্দরী ও তায় ডিভোর্সি। লোকে এমন জিনিসকে নিয়ে জাবর কাটবে না তো কি বাবা রামদেবকে নিয়ে কাটবে !

কিন্তু কথাটা তা নয়। কথা হল, সারা পাড়া একে নিয়ে গুলতানিতে মশগুল হলেও এদের তিনজনের চুলকুনিটা একটু বেশি। বিরু, বিষ্টু, ভোলা। প্রথম জন 'বীণাপাণি প্রাথমিক বিদ্যালয়'-এর ঘণ্টিদার। পরের জন 'কমলা চাউল ভাণ্ডার'-এ মোট বয়। ভোলাটা তেমন কিছু এখনও পায়নি। 'কালীমাতা বিড়ি-বাংলা ঠেক'টায় পাকা হাজিরাদার মূলত সেই।

প্রথম খবরটা এনেছিল বিষ্টু। কে-এক মাল নাকি চাল কিনতে এসেছিল দোকানে, হাত-কাটা ব্লাউজ পরে। খোঁপা ঠিক করতে ডানহাতটা একটু তুলতেই দেখা গেছে পরিষ্কার কামানো বগল। মাইরি ! তখনই বিষ্টুর জিভ সুড়সুড় করে উঠেছে। তারপর তো বুক, কোমর, পাছা। যা চোখে চেখে দেখল আর যা মনেমনে দেখল -- দুয়ে মিলে পুরো এইচ ডি।

শোনা ইস্তক অন্য দুটোও তক্কে-তক্কে আছে। হাতকাটা ব্লাউজ আর নাভির নীচ অব্দি শাড়ির থেকে ভাল ট্রেলার আর হয় ?

কোথায় যেন চাকরি করে মহিলাটি। নাকি ব্যবসা ? এ পাড়ায় ঘরভাড়া নিয়েছে মাসতিনেক। তিন, না আড়াই ? তিনই হবে। কালভার্টে মরা বাচ্চা তো মিলল মেয়েটা আসার পরেই। তবে না, ওসব পাপ এই মালটার নয়। প্রথম যারা ঢুকতে দেখেছে মেয়েটিকে, পাড়ার চ্যাংড়ার দল, প্রত্যেকেই তার 'কটিলি কমরিয়া'র হুদা তারিফ করেছে। আসলে মেয়ে বাচ্চা নর্দমা-ফর্দমায় মরে পড়ে থাকলে কেউ পুঁছত না। নেহাত ব্যাটাছেলে বাচ্চা, তাই পাবলিক একটু বমকেছিল।

যা হোক, বিষ্টুর কথামতো বিরু আর ভোলাও একদিন দেখেই ফেলল ওই কামানো বগল আর খোঁদল নাভি। তিনজনেরই ওয়াড়া নালেঝোলে অবস্থা। তারপর থেকে বিড়ি-বাংলার ঠেকে এই মেয়েটিই মদের টাকনা। এর শরীরের মাপজোকের কথা উঠলে আধ গেলাসেও দেড় গেলাসের চটকা আসে।

।। ২ ।।

ফিরতে-ফিরতে রাত সাড়ে-ন'টা। সময়টা দেখে নিয়েছে ওরা। ন'টা সাতে হাসনাবাদ লোকাল ঢোকে। মেয়েটা নেমে টুকটাক কিছু সব্জি-টব্জি কেনে রেললাইনের ধারের মাসিগুলোর থেকে। তারপর স্টেশন থেকে বাসা অব্দি হেঁটে আসতে যেটুকু সময়। দিনকয়েক চুপচাপ ফলো মারার পর বেপরোয়া ভোলা একদিন ডেকেও ফেলল -- "কী ম্যাডাম ? থলিদুটো বয়ে দেব নাকি ? অত ভারী থলি, আমরা ধরলে আরাম পাবেন !"

লাভ হয়নি। যে মেয়েরা ছেলেদের দেওয়া আওয়াজ শুনে গায়ের কাপড় ঠিক করে না/ ফিরে তাকায় না/ খিস্তি করে না/ হাঁটার গতি বাড়ায় না/ রাস্তা পাল্টায় না -- তাদের আওয়াজ দিয়ে সুখ নেই। এ শালি যেন বদ্ধ কালা মাইরি ! যেমনকার পিছন-দুলুনি -- তেমনই রইল। বাড়লও না, কমলও না। দিব্যি হেঁটে বাড়ি চলে গেল।

আওয়াজ দেওয়া কিন্তু তারপরও বেড়েছে। কী জানি, সব তাওয়া কি একই সময়ে গরম হয় ? ধৈর্য চাই বাওয়া, ধৈর্য। ভাষা আরও চাঁছাছোলা আর জোরালো হয়েছে। "আবার দাম দিয়ে বেগুন কিনতে গেলেন কেন ম্যাডাম ? তিনটে তো ফ্রিতেই পাচ্ছিলেন !" ইত্যাদি।

নাঃ। তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। ডালও গলেনি। ঐ বেগুনই পুড়েছে খালি। ফলে হতাশা। কেসটা ঝুল হয়ে যাচ্ছে।

ঠিক এমন সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?"

(আগামীকাল)

9 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: সতী

খাইছে! কী হইল পরে?

[কিস্তিগুলা এট্টু বড় কইরা লেইখেন কর্তা, খেদ থেইকা যায়। ]

উড়ুক। 👌


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন